

ঠিক ভুল
প্রথম প্রশ্নটা ভালো। কিন্তু উত্তরটা? কি ঠিক?
প্রশ্ন -- হু ক্রিয়েটেড দ্য ওয়ার্ল্ড?
উত্তর -- গড।
শমিতের ক্লান্ত লাগছিল। কিন্তু তিতলির উত্তেজনার মূল্য তার কাছে অনেক বেশি দামী। তাই যখন তিতলি লাফাতে লাফাতে এসে বলল,
- বাপ্পি, এই দ্যাখো, আমার কোশচেন পেপার।" সে হাত পেতে না নিয়ে পারল না। সে তখন সবে মাত্র বাড়ি ফিরেছে।হাঁপাচ্ছে। হাত পা ধুয়েও পারে নি। কিন্তু তিতলি উত্তেজিত। রাত জেগে বসে আছে। এটুকু দেখেই তার ক্লান্তি থমকেছিল।কিন্তু আবার তা শীতের কুঁয়াশার মত ঘিরে ধরল। কাগজটা সোফার ওপর রেখে ঘরে যেতে গেল শমিত। তখনই মিতু বিরক্ত স্বরে বলল, "সব রাইট করে ১০০ তে ১০০ পেল। আর তুমি কিছু বললে না ! ডিপ্রেস করে দিলে ওকে? কেনো?"
রাতে শোবার সময়ও ছাড়ল না মিতু। "কত কষ্ট করে পড়াতে হয় জানো! বোরিং লোক একটা তুমি।" শমিত সিগারেট টানছিল। কোনো উত্তর দিল না। খাটে শব্দ তুলে মিতু শুয়ে পড়ল।
রাইট উত্তর লিখেছে নাকি! বিরক্ত লাগে শমিতের। কাকে বলবে। এই পৃথিবী ঈশ্বরের সৃষ্টি। ওকে। কিন্ত ঈশ্বর কার সৃষ্টি? আর জগৎটাই বা কার অলৌকিক হাতে নির্মিত? কোন অলৌকিক অস্তিত্ব ? ঈশ্বর? গড? না আল্লা? কিন্তু পৃথিবী তো একটাই। ব্রহ্মাণ্ডও একটা। তাহলে গড যে বানালেন তা ঈশ্বরের ভক্তরা মানছে কী করে? আল্লার বান্দারাই বা নীরব কেনো?
অফিসে গিয়ে কথায় কথায় শমিত দত্তদাকে বলছিল। কীসব পড়ানো হয় বাচ্চাদের স্কুলে আজকাল। বলে কালকের তিতলির কথাগুলো বলছিল। হঠাৎ সুদীপ বলে উঠল,
- কী ভুলটা কী বলেছে ? ভগবানই তো এই জগতটা বানিয়েছেন।
শমিত বলল,
- কোন ভগবান? তোদের ভগবানের তো শেষ নেই।
- মনু তো ব্রহ্মার কথা বলছে। এই জগতের ভৌত জৈব মানুষ প্রাণী জীবানু সব তার সৃষ্টি।
শমিত বলল, "প্রমাণ আছে কোনো?"
সুদীপ বলল, " তা তোর উত্তর কী?"
- আমি নই, বিজ্ঞান বলছে। বলছে এ সবই প্রকৃতির বিষয়। কেউ আলাদা করে কোনো কিছু সৃষ্টি করে নি। সৃষ্টি হয়েছে।
- প্রমাণ দে।
- চাঁদ বলে একজন দেবতা আছে। আছে কি সত্যি? মানুষ তো চাঁদে গিয়ে দেখে এসেছে আসলে সেটা কী।
সুদীপ অধৈর্য হয়ে বলেন, "দূর, আমি বলছি, সেই চাঁদটাই বা এল কোথা থেকে? তুই কি জানিস এই বিশ্বজগত কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে?"
- কিছুটা তো নিশ্চয় জানি। পদার্থ আর গতির খেলা। শক্তি বিভিন্নরূপে পরিবর্তিত হয়ে এসব করছে। বিগ ব্যাং এর কথা শুনিসনি?
- শুনব না কেনো দাদা, কিন্তু ওসব থিওরিই কি ঠিক? বিতর্কও অনেক আছে।
- বিতর্ক মানেই তো জীবন্ত চলমান বিষয়। তোমাদের সব তো থেমে আছে, পুরানে, স্মৃতিশাস্ত্রে, মহাকাব্যে। যাকে তোমরা এখন ইতিহাস বলছ।
- তোমরা? তোমরা মানে কী? রাজনীতির কথা বলবেন না কিন্তু।
ছেলেটির নাম নীল। সেও মুখিয়ে উঠে বলল, "সবই তো ঠিক ছিল। সংবিধান রয়েছে দেশে। মনুর কথা তুমিই তুললে ভাই। মনুসংহিতায় বলা হচ্ছে যে, ব্রহ্মা তার অণ্ডকে দুইভাগে বিভক্ত করে স্বর্গ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। মাঝখানে হল আকাশ, আটদিক ও সমুদ্র। আকাশ থেকে বায়ু এবং বায়ু থেকে আলো,তা থেকে হয় জল আর জল থেকে পৃথিবী সৃষ্টি করেন। জলকে তো ব্রহ্মার আগে সৃষ্টি হতে দেখা গিয়েছে ওই মনুসংহিতাতেই। জলের অপর নাম নারা। কারন সে প্রথমে নর বা মানুষের আশ্রয়ে ছিল। তাহলে ব্রহ্মার সৃষ্টিকর্তা কি মানুষ ছিলেন ?" সবাই হাততালি দিয়ে উঠল। নীল আবার বলল, "বর্তমান বিজ্ঞান মহাবিস্ফোরন তত্ত্বকেই এখনও পর্যন্ত প্রধান সৃষ্টিতত্ত্ব হিসাবে মান্যতা দিয়েছে। পৃথিবী প্রথমে ছিল গলিত তরল লাভার ভিতর ধুলোকণা, গ্যাস, ধাতু মিশ্রিত মেঘের মত নীহারিকা বা নেবুলা। গ্যাসগুলো ছিল মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। পরে অক্সিজেন আসে। এবং হাইড্রোজেনের সাথে মিশে জল তৈরি হয়। তা হলে সবার প্রথমে জল তৈরি হতে পারে না।"
তো তো করে সুদীপ এর পরও বলে,
- সে যাইহোক একটা মহাশক্তি তো কাজ করছে।
- সে শক্তিটার নাম কি? বলতে পারবে ? তবে বিজ্ঞানে শক্তির নাম আছে। পরিমাপ আছে। সঠিক পরিমাপ প্রমাণিত হয়েছে বলেই তো আজ এত স্যাটেলাইট নির্দিষ্ট কক্ষপথে নির্দিষ্ট বেগে ভ্রমণ করতে পারছে।
আজ একটু হালকা লাগছিল শমিতের। বাড়ি ঢুকে ধীরে সুস্থে হাতমুখ ধুলো। তারপর এককাপ চা নিয়ে তিতলিকে কাছে টানল। জিজ্ঞাসা করল,
- মাম্মা, গড কে?
তিতলি হাত উলটে ঘাড় কাৎ করে সুর করে বলল,
- জেসাস।
- জেসাসের কি মা ছিল?
- হ্যাঁ, মেরী।
- ওদের বাড়ি ছিল?
- ছিল হয়ত।
- কোথায় ছিল?
তিতলি মায়ের দিকে তাকালো। মিতু বলল,
- কোথায় আবার! বেথলেহেমে জন্মেছিলেন। ন্যাজারাথে বড় হয়েছেন।
শমিত নিশ্চিত স্বরে জোর দিয়ে বলল,
- মানে পৃথিবীতে তো!
- হ্যাঁ নিশ্চয়। মিতুও জোরের সাথে বলল।
শমিত হাসিমুখে বলল, তাহলে সেই পৃথিবীটা কে তৈরি করেছিল? জেসাস? মানে যিশু। তার জন্মের আগেই?
মিতু চুপ। সেই সময় ঠাম্মু ডাক দিল, "দিদিভাই, এদিকে এসো, বাবাকে জ্বালাতন কোরো না। " একটা বড় ক্যাডবেরি বের করে মেয়ের হাতে দিয়ে শমিত বলল, "১০০ তে ১০০ পাবার জন্য।" "থ্যাঙ্কু বাপ্পি", বলে তিতলি লাফাতে লাফাতে চলে গেল।
মিতুকে বাঁহাতে জড়িয়ে কাছে টানল শমিত।
"তা মানুষ কে সৃষ্টি করে তার রাইট অ্যানসারটা জানা আছে তো ম্যাডাম! না জানলে এই বোরিং লোকটাই কিন্তু জানিয়ে দিতে জানে ! "
হীরেন সিংহরায় | ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১২:০৪742266
বর্ণালী রায় | ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৩৬742268
kk | ১৬ আগস্ট ২০২৬ ২০:১৫742270
হীরেন সিংহরায় | ১৭ আগস্ট ২০২৬ ০১:৪৯742275