এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  বইপত্তর

  • রাধিকা ও আর্শোলা

    যদুবাবু
    বইপত্তর | ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৮৭৩ বার পঠিত | রেটিং ৫ (৪ জন)
  • খেলা


    অযথা বিকেলে খেলা ফেলে
    চলে যায় দূরে, খামারের সীমানা আকুল
    কোলাহল এখনো প্রবল
    বিকেলে খোলামকুচি হাওয়া
    রাধিকা চলেছে দূরে রাধিকার পথভরা ভুল


    বিকেলের খেলা ফেলে, স্নান শেষে, পাড়ায় পাড়ায়
    রাধিকা চলেছে দুরে, দোলখেলা সেরে
    রাধাচূড়া পিচ ঢালা পথে
    অযথা রেখেছে এতো ফুল।


    এই কবিতাটা কার লেখা জানেন? বলছি, শুনুন।


    তার আগে বলি যে সে এক দিন ছিল যখন, প্রিয় কবিতা প্রিয় বন্ধুকে পাঠাতাম অহরহ। সেই এক হাতে বইয়ের পাতা, স্পাইনের উপর আঙুল রেখে সন্তর্পণে আরেক হাতের দ্রুত লিখে নেওয়া। “পড়েছিস? পড়িস! পড়লি?” … কখনো-সখনো এস-এম-এস - দুই আঙুলের সুচারু ট্র্যাপিজ। পাঠাই, উত্তর আসে, আসে না বা, ভুলে যাই, উঠে পড়ি, কোনোদিন উঠি না, কিছু দেরি হয়ে যায়। কবিতা পুড়িয়ে দিলে কী হয়? পাথর?



    হ্যাঁ, উত্তর আসতো সেই এক পুরনো গল্পদের দিনকালে, আমাদের ফোন ছিলো না পকেটে, তবু গুচ্ছ কবিতা ও মেঘ জমে ছিলো মাথায়, তাদের উড়িয়ে দিতে পারতাম কবুতরের মত যদৃচ্ছ, খামখেয়ালি, সুউচ্চ মিনার থেকে। “পরিপাটি বিষাদের টুপি” পরে তারা উড়ে যেতো অলৌকিক ঠিকানায়। মনে পড়ে সেই আমাদের ক্ষুদে ফোন, রোমান হরফে ফুটে ওঠা কিছু “অপয়া বিষাদ”, কিছু মন উচাটন, আর ঘর-বার, ঘর-বার। পাড়ার ক্লাবে-ক্লাবে ক্যারম বোর্ডের উপর ঠিক তখন জ্বলে ওঠে হলুদ আলো।


    মনে পড়ে, পড়ে না? আচ্ছা, আরেকটা কবিতা পড়ুন তাহলে।


    পাড়ার গল্প


    গল্পগুলি পুরনো আর ঘষা
    কাঁচের মত, একটু দেখা যায়
    আর বাকিটা কি'রম কারিকুরি
    সময় গেছে কষ্টনদীর ঢেউয়ে


    পাড়ার মোড়ে জোনাক জ্বলে নেবে
    পাড়ার মোড় আলোয় আলোময়
    গল্পগুলি হলুদ আলো মোড়া
    নিওনবাতি নেহাৎ অপচয়


    উঠোন জুড়ে জোছনা ঢলোঢলো
    লেবুর ফুলে আদর অভিমান
    জোছনা ঢলে শহরে আর গাঁয়ে
    স্মৃতির ঘরে ধূলার পরিমান


    চিকন শ্যাম নারিকেলের পাতা
    হাওয়ায় দোলে ঝাঁকিয়ে দিয়ে সুখ
    হাওয়ার ঝোঁকে পালক মায়াঘেরা
    পড়ার ঘর, আয়না ঘেরা মুখ


    তক্তপোশে মাদুর, স্বরলিপি
    দরজা ঘিরে অল্প আয়োজন
    জীবন কাটে বিকাল গুলি গুণে
    রাধার মনে কষ্টনদী, ঢেউ।



    পল ভ্যালেরি না মালার্ম না মেরি রুয়েফল কে যেন সেই লিখেছিলেন যে কোনো কবিতাই আসলে শেষ হয় না, কোনো এক সময় তাদের হাত ছেড়ে চলে আসি আমরা, ‘দে আর মিয়ারলি অ্যাবানডনড।’ অর্থাৎ, জীবনে যেমন ঠিক যতগুলো শুরুয়াৎ, ততগুলিই শেষ, কবিতার পৃথিবীতে শুরুয়াৎ-ই শুধু, শেষ কটিই বা? কোথায় যায় সেইসব কবিতারা? সব প্রেম কী অব্যয় হয়, সব ক্রিয়াপদ অসমাপিকা? জানি না। এর উত্তর এই ছোট্ট কবিতার বইটিতে অন্তত নেই। কী আছে তাহলে?


    আছে একটা সেপিয়া রঙের ছবি, যেন চেনা বায়োস্কোপ। একটানা কবিতাগুলি পড়তে হবে বিকেলে, তারপর বুকের উপর আর্ধেক ভাঁজ করে বইটি রেখে চোখ বুজলেই দেখা যাবে সেই অদ্ভুত ছবি। সেই ছবি আমার চেনা, তবু সেই ছবি যেন দূরে সরে যায়, ঘষা কাচের ওপারে। প্রত্যেকটি শব্দ যেন দাঁড় বেয়ে যেতে চেষ্টা করছে সেই ছবির কাছে, অথচ, প্রত্যেকটি শব্দই অবধারিত ভাবেই তাকে নিয়ে চলেছে আরও দূরে। স্রোত তাকে অপর করেছে। শহর থেকে, নদী থেকে, প্রায়ান্ধকার বাড়ি থেকে। সে চলেছে সেখানে, যেখানে তাকে কেউ চিঠি লিখবে না প্রত্যহ।



    কলকাতা


    কলকাতা তো অন্য লোকের।
    আমার শহর গুটিশুটি লোডশেডিঙের চাদর মোড়া রিক্সা প্রধান
    রেলগাড়িটা দিনের মধ্যে দুয়েকবারই ঘাই মেরে যায়
    উপকন্ঠে। আবোলতাবোল দালানকোঠা মঠ্মসজিদ মর্চে পড়া কামান
    এদিক ওদিক সবুজ সবুজ রাত্রিবেলা বেজায় রাত্রি।


    লম্ফ জ্বেলে গ্রামীণ লোকের হাট বসে ফাঁক ফোকর খুঁজে
    মাংসের চাট, ঝাল ছুঁয়ে যায় ব্রহ্মতালু।
    বাড়ি ফিরছে ট্রাফিক পুলিশ, অন্ধকারে
    পানের দোকান। গঙ্গা কিংবা পদ্মা নদী
    এই দিকে নেই। বুঢ়া লুঈয়ের আশীর্বাদী।


    বাঁধের বাঁধন এদিক ওদিক। ঠিক ধরেছো, রবীন্দ্রনাথ
    শহরজোড়া একের থেকে অন্যরকম সকল ঠাকুর
    মুর্তি গড়ার কারিগরে খেয়াল মত, শালপ্রাংশু
    ততটা নন, বেঁটেখাটো, মানুষ যেমন।
    শহর বাড়ছে। উপকন্ঠে, কিনার ঘেঁষে।


    উড়ালসেতু, ঝকঝকে মল, বাড়ছে এবং
    অপর হচ্ছে।
    কলকাতা তো তোমার শহর। 
    আমার কিসে
    উচ্চারণের আড়ষ্টতা, কফি হাউস।
    একটু তবু কিনার ঘেঁষে বসি আরকি
    ঠেলেঠুলে সাইড দিন না, এই যে লোকটা দাঁড়িয়ে আছে।
    আস্তিনে তার গোপন কথা। এই শহরটা আমার নয় তো।


    তোমার শহর। একটু আমি বসে পড়ছি
    আড়ষ্টতা চাপছি আরকি,
    উপকন্ঠে ঘাই মারছে শহর থেকে শহর বদল।
    ফিরছে না কেউ বাড়ির দিকে।
    আলো জ্বলছে সন্ধ্যেবেলা।



    কোনো এক বিখ্যাত কবির তত্ত্ব ছিলো যে কোনো কোনো ভাষায় নাকি মানুষ সারা জীবন ধরে যা কিছু বলে তার সবটাই একটা, মাত্র একটাই বাক্য - তার প্রথম অস্ফুট ডাক থেকে শেষ পারানির কড়ি  - মাঝের সমস্ত যতিচিহ্ন অজস্র সেমিকোলন। একটি মানুষ, সেই তত্ত্ব অনুসারে, আসলে একটিই বাক্য - হয়তো একটি দীর্ঘ কবিতা, যা সে সারা জীবন ধরে রচনা করে চলেছে নিজের অজ্ঞাতসারে।


    আমি তত্ত্ব বুঝি না, আমি বুঝি সায়নদার কবিতা আমার কাছে কী? এই কবিতাগুলি সূচিভেদ্য অন্ধকার জঙ্গলের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কানে আসা বহুদূরের কোনো এক ক্ষীণতনু মুখচোরা নদীটির স্বর। আমি এই অন্ধকার বন হাতড়ে হাতড়ে, ক্ষত ও ক্ষয় নিয়ে শুধুই পৌঁছতে চেষ্টা করছি সেই নদীটির দিকে। যতোই যাই ততো অন্ধকার ঘন হয়, তবু মনে হয় এইসব শীতের নীরবতা ঠেলে একদিন সেই একলা তীরে দু-দণ্ড বসতে পারলে বড্ড শান্তি পাই আমি।

    সায়নদার, হ্যাঁ, এই কবিতাগুলি সায়নদার। সায়ন কর ভৌমিকের। বইয়ের নাম আপাতত "রাধিকা ও আর্শোলা"। বইটি বেরুবে বইমেলায়। গুরুচণ্ডা৯-র তরফে। আমার কাছে অবশ্য হুতোদা। হুতোদার বই বেরুচ্ছে, খুব মজা।


    এই লেখাটা আসলে দত্তকের ডাক, তবু, এ আমার প্রিয় কবিতার বই। একটু অভিমান লেগে আছে আস্তিনে - কিনে ঠকবেন না, উপকৃত হবেন, না চুল পড়া অথবা অগ্নিমান্দ্য সেরে যাবে অথবা বুদ্ধি খুলে যাবে এইসব কিছুই বলতে আমি অপারগ। তবে, বলতে পারি যে এই চটি কবিতার বইটিতে একটি লুকোনো জাদুকরী বীজ আছে কোথাও, একদিন সে আলোর দিকে মাথা তুলে ডালপালা মেলে দাঁড়াবেই এইটুকু প্রতিশ্রুতি আমি দিতেই পারি।



    পুনশ্চ – গুরুর এই বইপ্রকাশের পদ্ধতিটা জানেন, তাঁরা এ-ও নিশ্চয়ই জানেন যে, গুরুর বই বেরোয় সমবায় পদ্ধতিতে। যাঁরা কোনো বই পছন্দ করেন, চান যে বইটি প্রকাশিত হোক, তাঁরা বইয়ের আংশিক অথবা সম্পূর্ণ অর্থভার গ্রহণ করেন। আমরা যাকে বলি দত্তক। এই বইটি যদি কেউ দত্তক নিতে চান, আংশিক বা সম্পূর্ণ, জানাবেন guruchandali@gmail.com  এ মেল করে।
     


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • বইপত্তর | ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৮৭৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • aranya | 2601:84:4600:5410:b8d6:5e3c:f459:***:*** | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০০:৪৮736361
  • বড় প্রিয়, এই সব কবিতা। এই বইটি এবং ভবিষ্যতে যদি হুতোর আরও কিছু কবিতার বই প্রকাশ হয়, সেগুলো দত্তক নিতে চাই । 
    বইএর নামটা, "রাধিকা ও আর্শোলা" - প্রথম শুনে / দেখে, ভাল লাগছে না । আশা করি, নাম নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা হবে 
  • r2h | 134.238.***.*** | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:৩২736362
  • অরণ্যদা, আহা, আর্শোলারা হল চির নিপীড়িত। এমন একটা লোকও দেখেছো, যে আর্শোলা ভালোবাসে? খাঁটি মানুষ হিসেবে কি আমাদের আর্শোলাদের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত না?
    আর ধর দু'দিন পর যদি একটা নিক্লিয়ার অ্যাপোক্যালিপস হয়, রাজা গজারা তো হয় বাঙ্কারে ঢুকবে, না হয় মহাকাশে পালাবে। আমাদের মত পাঁচপেঁচি লোকেদের তো আর্শোলাদের কাছ থেকেই লাইফ স্কিল শিখতে হবে, নাকি? সুতরাং রাধিকা ও আর্শোলা হল চিরায়ত প্রেম ও অদম্য জীবন। এইভাবে ভাবলেই দেখবে কেমন চমৎকার লাগছে, মনে হবে আর্শোলা তো না যেন শরতের আকাশে চতুর্দশীর চাঁদ।
  • kk | 2607:fb91:4c21:664d:985c:a917:2ace:***:*** | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:৪০736363
  • বাঃ, এইটা একটা ভালো খবর। আমিও আর্শোলাদের বিশেষ পছন্দ করিনা (আমার পোকাভীতির কথা পুরনো গুরুরা জানেন)। কিন্তু কবির এক্সপ্ল্যানেশনেও পয়েন্ট আছে!
    যদুবাবুর লেখা শেষ প্যারাটা পড়ে চুপ করে ভাবতে বসি...
  • r2h | 134.238.***.*** | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:৪৬736364
  • যদুবাবুর লেখা নিয়ে জনান্তিকে যা বলেছিলাম, প্রকাশ্যেও তাই বলি - এই দত্তককল এমন ভালো হয়েছে, যে এখানে পড়ে নিজের লেখাকে পরের লেখার মত উৎকৃষ্ট মনে হচ্ছে।
  • kk | 2607:fb91:4c21:664d:985c:a917:2ace:***:*** | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৪:৫২736365
  • ধুত, আমি একটা ভুল করেছি। আমি ঠিক 'শেষ' প্যারা বোঝাতে চাইনি। ছবির আগের শেষ প্যারা, অর্থাৎ "আমি তত্ত্ব বুঝিনা .... বড্ড শান্তি পাই আমি" এই প্যারাটার কথা বলছিলাম। বাজে টাইপের ভুল!
  • Ranjan Roy | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩৭736371
  •  আর্শোলার জন্যেই আমি "বিপ্লবী" হতে হতে হইনি, মানে পারি নি।
    লালবাজার আর লর্ড সিনহায় খবর ছিল যে আমাকে ধরে জামার ভেতরে এক ডজন আর্শোলা ছেড়ে দিলেই আমি জ্ঞান হারাবো এবং তারপর ওরা যা  জানতে চাইবে--নাম ধাম, শেল্টার সব বলে দেব!
     
    কয়েকটা আর্শোলা আমার গেঞ্জির ভেতরে কিলবিল করছে, কাঁটাওলা পা দিয়ে আমার গা বেয়ে উঠছে, শুঁড় দিয়ে গায়ে আদর করছে, আমার হাত পা নাড়ানোয় ওদের পেট ফেটে সিকনির মত সাদা সাদা পোঁটা বেরিয়ে আসছে। কয়েকটা মাটিতে চিত হয়ে হেলিকপটারের  মত পাখা ফরফর করছে, অথবা রামদেব বাবার মত ঠ্যাং নাড়াচ্ছে!
     
      আজও ভাবতে গেলে শিউরে উঠি।
    তবে সায়নের বইটা পড়ব। হতে পারে তারপর ভীতি কেটে যাবে। হয়ত ভাববো--আর্শোলা বলে কি মানুষ নয়!
  • ইমন ভাষা | 2401:4900:733e:a5c6:246b:14ff:fea5:***:*** | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৪৮736380
  • অসাধারণ লেখা। 
    কবিতার জন্য, কবির জন্য এবং এমন একটি কাব্যিক প্রচারণার জন্য দত্তক নিতেই হয়
  • কৌতূহলী | 103.249.***.*** | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:১৮736382
  • আপনারা মাকড়সা থাকতে আরশোলাকে এত ভয় পান?আমার তো মাকড়সার কাছে সবকিছুকেই লেসার ইভিল মনে হয়। মাকড়সা হল কীট পতঙ্গ জগতে বিজেপি। 
  • | ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:২৩736384
  • এইটে দারুণ খবর তো। অবশ্য উৎসব সংখ্যার কবিতার আলোচনা দেখেই আন্দাজ করেছিলাম। 
  • আর্শোলার কবি বা কবির আর্শোলা  | 2600:1002:b060:495e:61c5:aaa7:7eda:***:*** | ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:১৮736422
  • কমরেড আরশোলা তুমি বেঁচে থাকো অলিগলি বুঝে
    চটি থেকে রিসেশন দুনিয়ার ইকনমি সংগ্রামের অস্তিত্ত্ব
    দক্ষতর লাথি ঝাঁটা আরশোলাতর, করুন তক্ষক জাতশত্রু
    অরুণ নিশান, আলোকিত কোণে ফোঁটে আমাদের চ্যাপ্টা ব্যানাল
    লাশ বেড়ালেরা থাবাও চাটেনা, তবু স্যাঙাৎ আরশোলা দোসর
    বেড়ে ওঠো যেমন জলের স্বচ্ছ জেলিফিশ, সৈকতে খাবি খেয়ে
    মরে তবু বেড়ে ওঠে আকুল গভীরে। কমরেড জেলিফিশ 
    আমরা এমনি বাঁচি চটি জুতো বেল কার্ভ সালতামামির কোপ
    টিঁকে থাকা তিরিশের ঘরে, কোনমতে টিঁকে যাওয়া পুতিগন্ধ
    নিশ্চিত কৌণিক অন্ধকারে, দিকে দিকে বেড়ে ওঠে আরশোলাতর
    আর জাতশত্রু, আমাদের লাশ, প্রখর জিহ্বা নিয়ে সরীসৃপ তুমুল
    দক্ষতা তবু কমরেড আরশোলা, আকাশের আলো থেকে গ্রীষ্মকাল
    তুমুল আনন্দময় হোলিখেলা , করবীকুসুম থেকে দূরে টিঁকে থাকি
    শিহরণহীন বেঁচে থাকি শুধু, আরশোলা স্যাঙাৎ, আমি আর তুমি।
     
     
  • r2h | 165.***.*** | ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৫:২৭736576
  • বই বেরুচ্ছে, তাতে আমার উত্তেজনার অন্ত নেই। এমনিতে আমি মোটের ওপর স্থিতধী লোক, তবে একেবারে নিরুদ্বিগ্নমনাও থাকা যাচ্ছে না, মর্মপীড় মার্জনা করুন।
    পাখিয়ালের সময় বাঘা বাঘা আঠারোজন কবির পেছনে লাইন দিয়েছিলাম, তাই তত কিছু মনে হয়নি। কিন্তু এইবার অন্যরকম। জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার সময় হলভর্তি সিরিয়াস পড়াকুর মাঝে বসে খাতায় ছবি এঁকে বেরিয়ে এসেছিলাম, সেই বয়স তো আর নেই, এখন চাপ হয়।

    তো, বই নিয়ে গুরুতে নানান জন নানা সময় উৎসাহ দিয়েছে, দমদি, দে-দি এঁরা চটি বই চাই বলেছিলেন, সে কতকাল আগের কথা। ওমনাথ সহজে ছন্দ শিখুন টইয়ে এক বাক্যে বিপুল প্রশংসা করেছিল, সে আমি এখনও খুঁজে খুঁজে পড়ে এসে ইগো পালিশ করি। ডিডিদা বলেছিলেন এসব পদ্য কিংখাবের মলাট দিয়ে ছাপলে লোকে পড়ে টপাটপ অজ্ঞান হয়ে যাবে, কিংখাব না হোক কাগজের মলাটে হচ্ছে, লোকে অজ্ঞান না হোক, একটু ভুরুকুটি করলেও বর্তে যাবো। ঈপ্সিতা তো কতকাল থেকেই বলছিল, শুচিস্মিতা, মিঠুনও উৎসাহ দিয়েছে নানা সময়। তো, তাও আমার দ্বিধা কাটছিল না। কিন্তু বছর পাঁচ সাত আগে এককের সঙ্গে যখন মাঝে মধ্যে রাঁদেভু হত, তখন কী করে আমি আরেকটু ভালো কবিতা লিখতে পারি সে বিষয়ে ও কিছু পরামর্শ দিয়েছিল, পরামর্শ মন্দ ছিল না, কিন্তু বাইরে লোকে শুনলে মন্দ বলবে, আর বাড়িতে শুনতে পেলে অবশিষ্ট গৃহশান্তির বারোটা বেজে যাবে। ওটা কথা না, কথা হল, একক আরও বলেছিল, ছেলেপুলে বড় হলে তাদের চুল আঁচড়ে স্কুলে পাঠাতে হয়। তোমার কবিতাগুলি ন্যাড়া মাথা কাদামাখা নাকে পোঁটা পেছনে খোস নিয়ে পথে পথে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরছে, ওদের একটা বেঁধেছেঁদে ব্যবস্থা করো, না হলে আর নতুন কিছু লেখা হবে না। তাতে একটু গ্লানি হল, ভাবলাম আচ্ছা দেখাই যাক না। নতুন লেখা হয়তো তাও হবে না, তাও আরকি।
    তারপরেও বেশ ক'বছর কেটে গেছে, তা হোক।

    এবার কথা হল, বই হচ্ছে, একটু বিজ্ঞাপনও তো করতে হয়। কিন্তু নিজের কবিতার বইয়ের বিজ্ঞাপন করাও মুশকিল। উত্তম চালু অবস্থায় সুলভে রাধিকার ফটিক পোকা পাওয়া যাইতেছে - ওরকম বললে তো আর হবে না। আবার ওগো আমি খুব দরদ দিয়ে লিখেছি - তোমরা পড়ো - এরকম বললেও হবে না, নৃশংস পাঠক বলবে তোমার দরদে আমার কী ইসে হয় হে ডেঁপো বেয়াদব। তো, খুবই কঠিন কাজ।

    দেখা যাক কী করা যায়। বিজ্ঞাপন মকশো করতে গিয়ে এইসব হাবিজাবি লেখা হল, বই বেরুলে ফেসবুকে দেবো, তখন আপনারা সব দলে দলে গিয়ে লাইক লাভ কেয়ার ইত্যাদি দেবেন, ও আহা কী পড়িলাম জন্মজন্মান্তরেও ভুলিবো না- এইসব বলবেন যেন। গুরুর কবিকে গুরুর লোক না দেখিলে কে দেখিবে, বোঝেনই তো, যা দিনকাল।
     
    পুনশ্চঃ 
    * অদম্য বলশেভিক ঈপ্সিতার বনমহিষবিতাড়ন ছাড়া গুরুর অধিকাংশ বইয়ের মতই এটাও হত না, এ তো বলাই বাহুল্য।
    * প্রশংসাকারীর অল ইনক্লুসিভ লিস্টি দিলে আবার আপনারা ভাববেন বারফট্টাই করছি, তাই আর লিখলাম না। তবে অমিতাভদা এ বইয়ে কম্পোজিশন করতে গিয়ে যে লেভেলের চিন্তাভাবনা করেছেন আর আমার বায়নাক্কা ও পরিবর্তন সামলেছেন, তাতে আমি অভিভূত। তার আগে সঙ্কলকরা হাজার গণ্ডা মর্মবেদনা পড়ে বইযোগ্য পদ্য বাছাই করেছেন, এই কৃতজ্ঞতা রাখি কোথায়।
  • পাঠক | 104.248.***.*** | ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:০৯736579
  • বাংলাবাজারে অধিকাংশ বই প্রকাশিত না হলে কিছু ক্ষতি হতো না। গুরুর বাকিসব বইয়ের মতো এটিও না ছাপা হলে কিসু এসে যেত না। হুতোবাবুর "কবিতা" পড়ে এইটেই পাঠপ্রতিক্রিয়া।
  • r2h | 165.***.*** | ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৩৪736589
  • পড়তে শুরু করে মনে হল পাঠক এমন কিছু লিখতে চলেছেন যে বাংলাবাজারের বেশিরভাগ বই ফেলনা কিন্তু হুতোর বইটি সাগরছেঁচা রত্ন, শেষ করে একেবারে পতন হল, খুব দেরিও হয়নি, শীঘ্রই বলা চলে। কিন্তু কী আর করা যাবে, এখন যদি আমি অভিমান করে বলি না ভাই আমার বই ছেপো না ভাই তাহলে যদি লোকে আমায় দুটি কুবাক্য বলে তাও একরকম কিন্তু যদি সত্যিই বলে বসে যে আচ্ছা থাক ভাই তোমার বই ছাপবো না- তাহলে একেবারে বিড়ম্বনা। থাক গিয়ে, বিরূপ প্রতিক্রিয়া তো হয়েই থাকে। ছোটবেলায় ছড়া পড়েছি - 'যশস্বী এক কবির লেখা/ দুঃশাসনের শষ্যহরণ/ কাব্য পড়ে প্রশংসাতে/ পঞ্চমুখ হয় চণ্ডীচরণ/ .... / নৃশংস এক পাঠক কেবল বললো কবির হয় না মরণ'।
  • r2h | 134.238.***.*** | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:১৬736777
  • শনৈঃ শনৈঃ এগিয়ে আসছে, দেখবেন, ঋষিবাক্য মিথ্যে হতে দেবেন না যেন।
     
    • dd | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ১২:০২
    • ভুবন কবি হুতোর রাধিকা সংবাদ (২০১২-১৩)ছাবার অক্ষরে বেড়োতেই পাঠক সমাজে যে হুলুস্থুলু পরে যায় সে তো সবাই জানে। কোন্নোগড় থেকে কানসাস, সবাই সে আনন্দে ভেসে যান। সব কটি শীল্ড,গোল্ড মেডাল, কাপ হুতোদেব জিতে নেন।

      হুতোদেব এরপর আলাস্কায় রিটায়ার করেন। মাঝে মধ্যে বানী দেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন