

মানুষ যাযাবর। রুটি কাপড় বাসস্থানের সন্ধানে মানুষের ধারা বয়ে চলেছে হাজার হাজার বছর ধরে। আদিম আফ্রিকা থেকে প্রথম মানব এশিয়া প্রবেশ করেন সে অনেক বছর আগে। সাত হাজার বছরেরও আগে থেকে ভূমধ্যসাগরের পুবের বন্দরে বন্দরে টহল দিত যাদের নৌ বহর বাইবেল তাদের নাম দেয় সমুদ্রের রাজকুমার। তাদের আমরা জানি ফিনিশিয়ান নামে। তাঁরা আমাদের অক্ষর পরিচয় করিয়ে অআকখ লিখতে শেখালেন, দিয়ে গেলেন প্রথম ধাতুর মুদ্রা। আজকের টাকা ফিনিশিয়ানদের অবদান। এমনকি কাঁচ তৈরি করার রহস্য তাদের জানা ছিল। জাহাজ বানাতে। এমন এক বাসভূমি তাদের যার একদিকে পাহাড় অন্য দিকে সমুদ্র। পাহাড়ের দেওয়াল না ডিঙ্গিয়ে তাঁরা এগুলেন জলপথে। তাঁরা যে চারটি বন্দর শহর স্থাপনা করেন তাদের তিনটি এখন অবধি বর্তমান, আজকের লেবাননে-অন্তত নয় হাজার বছরের পুরনো বিবলস (একদা প্যাপিরাস তৈরির জন্য খ্যাত-যা থেকে বই হত বলে গ্রিকরা বইকে বললেন বিবলস তা থেকে এলো বাইবেল শব্দ আক্ষরিক অর্থে বই), সিডন এবং টায়ার। বাইবেলে এদের নাম পাওয়া গেছে বহুবার। স্বামী নিহত হলে টায়ারের রাজকুমারী ডিদো বা এলিসা পালিয়ে আসেন ভূমধ্যসাগরের আরও পশ্চিমের এক বন্দরে। কার্থেজ শহর স্থাপনা করেন-কার্থেজ মানে নতুন শহর, পিউনিক ভাষায়। এটি মাত্র তিন হাজার বছর আগের কথা। রোম তখন দূর অস্ত।
ভারত আর আমেরিকার উদ্দেশ্যে জাহাজ ভাসানোর পথে প্রথমে একসময় এলোমেলো, তারপর অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠকে সুসম্বদ্ধ করতে ১৮৮৪ সালে বিসমার্কের নেতৃত্বে চোদ্দটি রাষ্ট্রের বার্লিন কনফারেন্স। লেগো খেলার মত শুরু ইউরোপের আফ্রিকাকে নিজেদের মত করে ভাগ বাঁটোয়ারা। লুডেরিটজ ইত্যাদি শহর গড়ে ওঠা। ইম্পিরিয়াল ব্রিটিশ ইস্ট আফ্রিকা কোম্পানি ইত্যাদিদের আবির্ভাব ও তিরোধান।
হীরেন সিংহ রায়ের অন্যান্য বইয়ের থেকে কিছুটা আলাদা এই বই আদতে এক বিপুল ক্যানভাস, যেখানে পুরোভূমিতে থাকেন বর্তমানের আন্তর্জাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত বিবিধ কুশীলবরা, আফ্রিকার নানা দেশে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় ডায়াস্পোরা আর প্রেক্ষাপটে উঁকি দিয়ে যান অতীতের দাসব্যবসা, সিসিল জন রোডস, অ্যাপার্থেইড, কঙ্গো এবং হেরেরো গণহত্যা, বুয়র যুদ্ধ, আফ্রিকানাররা। যে ক্যানভাস স্বপ্ন দেখে চাঁদ ডুবে চলে যাবে অদ্ভুত আঁধারে কিন্তু এই বঞ্চিত লুণ্ঠিত মহাদেশ একদিন জগৎ সভায় উঠে দাঁড়াবে আপন গর্বে, সম্মানে। এই আফ্রিকা। আমাদের সকল মানুষের বিশ্ব মাতা। আফ্রিকার উন্নয়ন হবে আফ্রিকানদের দিয়ে। একদিন।
বই: আমার আফ্রিকা
লেখক: হীরেন সিংহরায়
প্রকাশক: গুরুচণ্ডা৯
প্রকাশ: ২০২৬
প্রচ্ছদ: হিরণ মিত্র
যাঁরা গুরুর বইপ্রকাশের পদ্ধতিটা জানেন, তাঁরা অবগত আছেন, যে, গুরুর বই বেরোয় সমবায় পদ্ধতিতে। যাঁরা কোনো বই পছন্দ করেন, চান যে বইটি প্রকাশিত হোক, তাঁরা বইয়ের আংশিক অথবা সম্পূর্ণ অর্থভার গ্রহণ করেন। আমরা যাকে বলি 'দত্তক'। এই বইটি যদি কেউ দত্তক নিতে চান, আংশিক বা সম্পূর্ণ, জানাবেন। এই লেখার নিচে। অথবা guruchandali@gmail.com -তে ইমেল করে।
দত্তক প্রসঙ্গে - কী ও কেন >> (https://www.guruchandali.com/comment.php?topic=28892)