এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • অচেনা শিবরাত্রি : হট্টমেলার দিবারাত্রি

    মালবিকা মিত্র
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪৪ বার পঠিত
  • শিব বা ভোলানাথের কথা বললেই আমাদের মনে পড়ে এক সাদামাটা সরল, পার্থিব জগতের ভোগবিলাস থেকে মুক্ত, এক ভোলে ভেলা সদাশিব। বাবা শ্মশানে থাকেন, গায়ে ভস্ম যে মাখেন। শিশু ভোলানাথ, যে ধুলো মাখা শরীর, সহজ সরল আচরণ। কবির ভাষায় ধুলা তারে করেনা মলিন, জরা তারে করে না অশুচি। আপন মনে এই বিশ্ব লয়ে খেলা করছেন। তিনি শিশু ভোলানাথ। প্রকৃতই সাদামাটা সরল নিরাশক্ত এক চরিত্র হলো শিব।
    শুধু সে মাঝেমধ্যে খুব রেগে যায়, ক্ষেপে যায়। আসলে সে পার্বতী উমাকে বড় ভালোবাসে তার কোন দুঃখ কষ্ট ব্যথায় সে রুদ্রমূর্তি নেয়। বাঙালির শিব একমাত্র উমার দেহত্যাগের পর রুদ্রমূর্তি ধরেছিল। সে এক ভয়ঙ্কর দক্ষযজ্ঞ কান্ড।

    বাংলায় শিব পার্বতীর সম্পর্কের রসায়ন টি বড়ই মধুর। মা মেনকা কন্যা উমার সংসারে অভাব অনটনের কথা জানে। সে তা নিয়ে দুশ্চিন্তাও করে। কিন্তু মেয়ের সামনে সেসব কথা বলতে গেলে, মেয়ের ভীষণ গোঁসা। কারণ সে জানে তার স্বামী শ্মশানে থেকে গায়ে ভস্ম মেখে নেশা ভাঙ করে বটে, কিন্তু উমার জন্য সে পাগল। উমাকে সে চোখে হারায়। এই শিব বাংলার চেনা পরিচিত। ফি বছর শিবরাত্রিতে বাংলার ঘরে ঘরে মেয়ে বউরা তাই উপোস করে, দলবেঁধে, শিব মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালে। রাত্রে উপবাস ভঙ্গ করে কিছু ফলমূল আহার করে। সারা রাত্রি অনিদ্রা যাপন করে। শিবরাত্রির প্রদীপ তারা নিভতে দেয় না। জ্বালিয়ে রাখে। এই অনিদ্রা ও জাগরণের উপকরণ হিসেবে তারা কিছু নাচ গান, কবিতা, অভিনয়, ব্রতকথা, এমনকি ছোটবেলায় দেখেছি এলাকায় এলাকায় প্রজেক্টার ভাড়া করে দুটো তিনটে সিনেমা দেখানো হতো রাত্রি জাগরনের জন্য।

    দেখেছি হুজুগে ছেলে ছোকরার দল আকন্দ ফুল, ঘেঁটুফুল, ধুতুরা ফুল, বেলপাতা, ধুতরা ফল, গাছের বেল, এসব বস্তা ভর্তি জুটিয়ে এনে ওই একদিনে খুব ব্যবসা চালাতো। এটা ছিল ক্ষেপ মারা বাণিজ্য। আর কিছু উঠতি তরুণ ছেলের দল, দোকানে, মোড়ের মাথায়, পাঁচিলে, মাঁচায় তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করত, কখন দলবদ্ধ এক একটা মেয়েদের গ্রুপ আসবে। তারা চুলে শ্যাম্পু করে, সাজুগুজু করে, শাড়ি পরে, পুজোর রেকাবি হাতে নিয়ে, ঘটিতে জল নিয়ে, অনেক দূরে পায়ে হেঁটে শিবের মাথায় জল ঢালতে চলেছে। নিষ্পাপ শুধুই দেখার স্বাদ মেটানো। একটু উদ্ধত সাহসী যারা, তারা কিছু মন্তব্য করত -- এই গরমে কষ্ট করে শিববাড়ি যাও কেন? শিব তো হেথায় হোথায় বাড়ির কাছে, রাস্তার ধারে ছড়িয়ে আছে। কোন কোন ছেলে ছোকরা তার বিশেষ বিশেষ কাঙ্ক্ষিত মেয়ের জন্য পথ চেয়ে থাকতো। এটাই ছিল দস্তুর। শিবরাত্রি ছিল সম্পূর্ণই মেয়েদের নিজস্ব অনুষ্ঠান। খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই অনুষ্ঠানে একটা সলজ্জ বিনম্র হই হাল্লা হীন শুচিতা বিরাজ করত।

    গত দু চার বছর ধরে দেখছি শিবরাত্রির দিন টা কেমন পাল্টে গেছে। সকাল থেকে বা আগের দিন রাত থেকেই, অর্থাৎ তিথি মেনে তারস্বরে মাইক বাজতে শুরু করে। নতুন কিছু উত্তরাখণ্ডের শিব সম্পর্কিত গান, আর ভোজপুরি গান বাজতে থাকে। শান্ত সমাহিত ভাবটা নেই। একটা হই হুল্লড়বাজ ঢিপ্ ঢিপ্ ঢিপ্ ঢিপ্ তালে, ডিজে বক্সে সেই গান বাজে। মোটা ভুঁড়িওয়ালা, বাগছাল জড়ানো, ভষ্ম মাখা শিব নয়, এই শিব সরু কোমর, চওড়া ছাতি, বাইশেপ ট্রাইসেপ ফুলিয়ে সিক্স প্যাকের শিব। এত বয়সেও রাস্তায় চায়ের দোকানে অনেকক্ষণ বসে থেকেও শিবের মাথায় জল ঢালতে যাওয়ার সেই পুণ্যার্থীদের, কিশোরী যুবতীদের, দেখতে পাইনি।

    বাংলার ঠাকুর দেবতাদের একটা আলাদা মাহাত্ম্য ছিল। আমরা আমাদের প্রাত্যহিক সাংসারিক অভাব অভিযোগ, ভালো লাগা মন্দলাগা, ঝগড়া বিবাদ, এইসব দিয়ে দেবতাদের কল্পনা করতাম ও সেই মত কাহিনী রচনা হতো। ফলে বাংলা সাহিত্যে দেবতারা মানবিক হয়ে উঠেছে। এমনকি মঙ্গলকাব্যের দেব দেবী তো পুরোদমে যেন রক্ত মাংসের মানুষ। শিবকে নিয়ে যেসব কাহিনী গল্প লোকো গান রচিত হয়েছে সেখানে বলা হচ্ছে :

    গিরিরাজ জানে নেশা ছাড়া জামাইয়ের এক মুহূর্ত চলে না। তাই মেনোকাকে বলছে --
    আসছে জামাই দিগম্বর...
    ওরে তুই গাঁজার জোগাড় কর,

    আহারে হৈমবতী শিব সোহাগী
    রাজারও নন্দিনী
    তার কপালে পাগলা ভোলা
    লোকে কি কবে...।

    মেনকা মাথায় দেলো ঘোমটা ।
    বেছে বেছে করলি জামাই,
    ও সে সারা জীবন ন্যাংটারে নেংটা।

    এতো শিবকে নিয়ে রঙ্গ রসিকতা। হ্যাঁ এটাই ছিল বাংলার শিব। নেশায় বুঁদ হয়ে, এ জগত বিস্মৃত হয়ে, সব ভুলে গিয়ে, একদম অন্য জগতে মগ্ন হয়ে থাকা। আমার হেড মাস্টার মশাই বলতেন, আক্ষরিকভাবেই শিব হল "Volatile Bholanath"। রাবণ, অসুর, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, সবাইকে বরদান করে। নাম শুনে, পদবী দেখে, খাদ্যাভ্যাস জেনে, কারো সুপারিশ দেখে বর দিতেন না।

    এই চেনা ছবিটা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গত কয়েক বছরে। এলাকায় অলিতে-গলিতে অজস্র শিব মন্দির, রাম মন্দির এবং হনুমান মন্দির গজিয়ে উঠেছে। এই মন্দির গুলোয় দেব মূর্তির মাথাটা আর লেজটা যদি বাদ দেন, চেহারায় দেখবেন সবাই একই রকম। ব্রিজভূষণের মতো স্বাস্থ্যবান কুস্তিগীর। মুখ না দেখলে বোঝা যায় না রাম, নাকি শিব, নাকি হনুমান। এরা শিবরাত্রির কদিন আগে থেকেই প্রবল আওয়াজে ডিজে বক্সে শিবের চর্চা শুরু করে। শুধু তো শিবরাত্রি নয়, রামনবমী হলেও একই কথা। আর শিবরাত্রি বা রামনবমী ছাড়াও, এখন তো প্রতিটি তিথিই নাকি পূর্ণ লগ্ন এবং কত শত বছর পরে আবির্ভাব হচ্ছে। সবই হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির প্রচার। সেই যুক্তিতে মহা সমারোহে পালিত হচ্ছে। সারা রাত্তির জগঝম্প আওয়াজ শুনতে পেয়েছি, লাঠি খেলা, ছোরা খেলা হয়েছে, রাতভর এক বিচিত্র শিবরাত্রির অনুভূতি।

    শুধু তাই না। ভোর রাতে, ভর দুপুরে, সন্ধ্যেবেলায়, শুনেছি গরুর গলার যে ঘন্টা, তার জ্যাম্বো সাইজের ঘন্টার শব্দ, খল্বল খল্বল করে যেন একশ গরুর পাল ছুটে আসছে। কাছে আসতে দেখলাম, চারটি ছেলে তারা মাথায় হর হর মহাদেব ফেট্টি বাঁধা। একটা প্রায় ৩০ ফুট লম্বা বাঁক কাঁধে নিয়েছে। সেই বাঁকে নানা প্লাস্টিকের উপকরণ দিয়ে সাজসজ্জা। আর শত শত ঘন্টা ঝুলিয়েছে বাঁকে। চারজন হতে পারে। কিন্তু শব্দের রণন শুনে মনে হবে ৪০০ জনের মতো।

    আমরা এই বাংলায় শুনেছি, ছোটবেলায় দুষ্টু নরেন্দ্রনাথ যখন অশান্ত হতেন, তখন তার মা তার মাথায় এক ঘটি জল ঢেলে দিতেন, শিব শিব নাম নিয়ে। নরেন শান্ত হয়ে যেতেন। শান্ত সমাহিত এমন একটা ধারণার সাথে শিবের ধারণা যুক্ত। এখানে আমরা বলি ভোলেবাবা পার করেগা, বোলে বোম তারক বোম। দেখেছি এই শব্দে রাস্তা দিয়ে অজস্র মানুষ যেতো তারকেশ্বরে শিবের মাথায় জল ঢালতে। কিন্তু এখন পৃথক ইউনিফর্ম তৈরি হয়েছে তারকেশ্বর যাত্রীদের। পৃথক অনুষঙ্গ, বাঁক, ঘন্টা, তার সাজসজ্জা, সবকিছু লুচ্চা লাফাঙ্গা রাউডি সংস্কৃতির বাহক হয়ে উঠেছে। অপরের মনে ভয় ধরানো, একটা জেহাদি, আগ্রাসী মনোভাব।

    বেশ মনে পড়ে, স্কুলে কাজী নজরুলের "পথের দিশা" পড়াতে গিয়ে কিছু পংক্তি ছিল --
    "নরনারী আজ কণ্ঠ ফেড়ে
    কুৎসা গানের কোরাস ধ'রে,
    ভাবছে তারা সুন্দরেরই
    জয়ধ্বনি করছে জোরে"।
    ওই কবিতাতেই আছে --
    "শ্মশান শবের ছাইয়ের গাদায়
    নটীনী আজ বীণাপাণি"।
    আর তারপরেই আছে --
    "ছুঁড়ছে পাথর, ছিঁটায় কাদা,
    কদর্যের এই হোরী খেলায়
    শুভ্র মুখে মাখিয়ে কালি
    ভোজপুরীদের হট্টমেলায় !
    বাঙ্‌লা দেশও মাত্‌ল কি রে ?
    তপস্যা তার ভুললো অরুন ?

    চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর, এখন কবিতার এই লাইনগুলো আমার কাছে খুব স্পষ্ট হচ্ছে। কারণ আমার বড়ির দুশো মিটার দুরত্বে জন বিন্যাস সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সকলে সেখানে আনন্দই করছে, কিন্তু সেই আনন্দের ভাষায় যে কুৎসিত কথাবার্তা, নিজের অজান্তেই সে উচ্চারণ করছে, গাইছে। কথাবার্তার মধ্যে তেরি মাইকি, তেরি বেহেনকি, অহরহ উচ্চারিত হচ্ছে, এমনকি বাঙালিদের মধ্যেও। পুরুষ মহিলা একসঙ্গে প্রচন্ড সোল্লাসে একটা গানের সাথে নাচছে। আমার চুল কাটতে কাটতে সেলুনের অবাঙালি কারিগর লালবাহাদুর দা বললো, জানেন তো, এই গানের কথাগুলো যদি বাংলায় আপনাকে বুঝিয়ে বলি, আপনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন। এত কুৎসিত খারাপ কথা। অথচ সেই গানে কি অবলীলায় বাচ্চা - বুড়ো, পুরুষ - মহিলা, সবাই নাচছে। আমি বললাম ওটা কি হিন্দি গান? সে বলল না, ওটা ভোজপুরি। লালবাহাদুর দার জন্ম পশ্চিম বাংলায়। চার পুরুষ ধরে এই বাংলায়। বললো ভোজপুরি গান কালচার সবটাই রাউডি, হই হট্টগোলের কালচার।

    Community and State in Public Arena প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে ঐতিহাসিক Sandria Freitag দেখিয়েছেন যে পাঞ্জাবে আর্য সমাজ যে হিন্দুত্ব রক্ষার আন্দোলন শুরু করেছিল তা পূর্বদিকে প্রসারিত হয়ে উত্তরপ্রদেশে বেরিলি, আগ্রা এই সমস্ত অঞ্চলে এসে একটি তাত্ত্বিক বিতর্কের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। একদিকে it abrasively put forth a radical vision of Hinduism, one that emphasized monotheism and the Vedas and condemned idolatry and Intercessional role of Brahmins. অর্থাৎ এটি হিন্দুধর্মের একটি মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছিল, যা একেশ্বরবাদের এবং বেদের উপর জোর দিয়েছিল এবং মূর্তিপূজা এবং ব্রাহ্মণদের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বিরোধিতা করেছিল। এর বিপরীতে আগ্রার সনাতন ধর্মের পন্ডিত শ্রদ্ধারাম প্রশ্ন তোলেন -- Even though all of us think we are firm Hindus only a person who accepts the teaching of Shruti and Smriti can be a firm Hindu and if he thinks that the Vedas and Dharm Shastras are the products of Brahmans and accepts this as Hinduism he cannot be a true Hindu. যদিও আমাদের সকলের ধারনা আমরা দৃঢ় হিন্দু, বাস্তবে কেবলমাত্র যে ব্যক্তি শ্রুতি এবং স্মৃতির শিক্ষা গ্রহণ করে সে-ই দৃঢ় হিন্দু হতে পারে এবং যদি সে মনে করে যে বেদ এবং ধর্মশাস্ত্রগুলি ব্রাহ্মণদের সৃষ্টি এবং একে হিন্দুধর্ম হিসাবে গ্রহণ করে, তবে সে সত্যিকারের হিন্দু হতে পারে না। অর্থাৎ বিতর্কটা ছিল তাত্ত্বিক, ব্রাহ্মণ্যবাদী এবং নগরকেন্দ্রিক।

    ওই আলোচনাতেই Sandria Freitag দেখান এটা ছিলো তাত্ত্বিক আলোচনা। যখন এটা আরো উত্তর-পূর্ব দিকে প্রসারিত হতে থাকে, উত্তরপ্রদেশের পূর্ব সীমান্তে অর্থাৎ বিহারের দিকে গাজীপুর বালিয়া আজমগড় এবং গোরখপুরে পৌঁছায় ১৮৯১ - ৯২ নাগাদ দেখা দেয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা। পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং পশ্চিম বিহার ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম ঝাড়খন্ড মূলত এই অঞ্চলটি হল ভোজপুরি ভাষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র। "...... first a dramatic contraction from Sabhas blanketing urban U.P to Sabhas activities concentrated in the east and then a further shift in 1893 to an almost exclusively rural areas in the eastern districts. Together with contiguous districts in Bihar. These districts were the center of Bhojpuri language and culture ...... Starting as an urban, broad based movement, cow protection in U.P became instead a rural, Bhojpuri phenomenon. প্রথমে শহুরে উত্তর প্রদেশে ছড়িয়ে থাকা সভা থেকে নাটকীয়ভাবে মোড় নেয়, পূর্বাঞ্চলে সভার কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত হওয়ার দিকে এবং তারপর ১৮৯৩ সালে পূর্ব জেলাগুলিতে প্রায় একচেটিয়াভাবে গ্রামীণ এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। বিহারের সংলগ্ন জেলাগুলির সাথে একত্রে, এই জেলাগুলি ভোজপুরি ভাষা এবং সংস্কৃতির কেন্দ্র ছিল ...... একটি শহুরে, ব্যাপক আন্দোলন হিসাবে শুরু করে, গো-রক্ষা উত্তর প্রদেশে একটি গ্রামীণ, ভোজপুরি চরিত্র হয়ে ওঠে। যে ভোজপুরি বৈশিষ্ট্য একমাত্র সত্য বলে মনে করে "বলম্ বলম্ বাহু বলম্"। দাঙ্গা - হাঙ্গামা -অগ্নিসংযোগ - পেশি শক্তি, সেই সংস্কৃতিতে রাম শিব হনুমান সবাই বাইসেপ ট্রাইসেপ প্রদর্শন করে। এই শিবকে বাঙালি চেনেনা।

    বাংলায় শুভ যাত্রাকালে,
    মা ঠাম্মা দুর্গা দুর্গা বলে।
    হেথা অচেনা হর হর মহাদেব,
    আমাদের ভোলা খেয়াল খোলা,
    শ্মশান বাসী ভষ্ম মাখে।
    চাল চুলো হীন নেশাখোর বটে সে,
    তবে পাগলের মত
    উমারে সে ভালোবাসে।

    বাঙালি এই শিবকে চেনেনা, জানেনা, মানেনা।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৪৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন