এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  সমাজ

  • আজকের ব্রাহ্মণ্যধর্মের চৌপদী - পর্ব নয়

    রঞ্জন রায়
    আলোচনা | সমাজ | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৬৫ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • মনুস্মৃতি, মায়াবাদ, ভগবদ্গীতায় যুদ্ধের নৈতিকতা ও হিন্দুত্বের তত্ত্ব



    ৪.০ উত্তরপক্ষঃ মায়াবাদের মডেলটির ধারণাগত অবস্থান(ontological status)

    ৪.১ মায়াবাদের দার্শনিক কাঠামোঃ কিছু সমস্যা

    শংকরাচার্য্য নির্মিত অদ্বৈত বেদান্ত বা মায়াবাদের তাত্ত্বিক কাঠামোটি দেখা যাক। এতে আছে ব্রহ্ম, জীব, বাহ্যজগত, মায়া এবং অবিদ্যা। এদের পারস্পরিক সম্পর্কটি কীরকম?
    প্রথমে রয়েছে পরমাত্মা বা পরব্রহ্ম। তিনি নির্গুণ, নামরূপের অতীত। তাঁকে কোনও বিশেষণে বাঁধা যায় না। তিনি বাক্য ও মনের অতীত। কিন্তু তিনি সর্বব্যাপী, অথচ দেশকালের সীমার বাইরে। তিনিই একমাত্র অস্তিত্ব বা সৎ, তাঁকে ছাড়া আর কিছুই নেই।

    তাহলে বাকিরা?

    বাহ্যজগতের অস্তিত্বই নেই। যা অনবরত প্রত্যক্ষ করা যায় অর্থাৎ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুজগত আসলে মায়ার খেলা। এই মায়া কি ব্রহ্মের শক্তি? না, এ হোল চেতনায় অবিদ্যার মালিন্যের ফলে সাময়িক বিভ্রম। সঠিক জ্ঞানের বোধ হলে অনিত্য দুনিয়া অস্তিত্বহীন হবে।

    তাহলে এই দুনিয়া বাস্তবে ছিল না?এর অস্তিত্ব কেবল কারও চেতনানির্ভর? প্রশ্ন ওঠে কার চেতনা? অবশ্যই জীবের। ব্যক্তি আত্মার চেতনায়।

    তাহলে অসংখ্য জীবের চেতনায় অসংখ্য মায়ার দুনিয়া? এবং যাদের তত্ত্বজ্ঞান হয় নি, তাদের চেতনায় বিশ্বব্রহ্মান্ড টিঁকে থাকবে আজীবন? এতে বেশ কিছু সমস্যা দেখতে পাচ্ছি।

    এক, অবিদ্যার বা মায়ার শক্তি হোল অদ্ভুত নতুন কিছু নির্মাণের, খানিকটা পি সি সরকারের ম্যাজিকের মত। কিন্তু অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন দেখছে তাজমহল, কুতুবমিনার বা আইফেল টাওয়ার। কয়েক দশক বা শতক ধরে কোটি কোটি মানুষ এদের অবিকৃত একই চেহারায় দেখছে। এদের স্বতন্ত্র বাহ্য অস্তিত্ব স্বীকার না করে পারা যায়?

    দুই, জীবাত্মার সংখ্যা বিগত তেরশ’ বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে -শংকরাচার্যের জন্মভূমিতে, গোটা ভারতবর্ষে এবং সমগ্র বিশ্বে। তাহলে কি এতগুলো বছর ধরে সমান্তরালে কয়েক’শ কোটি মায়ার বিশ্ব বা জগতও সৃষ্টি হয়ে চলেছে? কারণ ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ কোথায়? যদি থাকেনও, মানে যাদের চেতনায় অবিদ্যার ময়লা সরে গিয়ে ব্রহ্মান্ড লুপ্ত হয়েছে, তাদের সংখ্যা মাইক্রোস্কোপে দেখা যাবে কিনা সন্দেহ। অষ্টম শতাব্দীতেই শংকর আফসোস করেছিলেনঃ

    বালকাঃ সর্বে ক্রীড়াসক্তা,
    তরুণাঃ সর্বে তরুণীরক্তা,
    বৃদ্ধাঃ সর্বে চিন্তাবিলগ্ন
    পরম্ব্রহ্মপর কোঅপি মগ্নঃ।।

    বালকের দল মেতেছে খেলায়,
    তরুণ-তরুণী বালুকাবেলায়
    বুড়োদের দেখ ধরেছে মাথা,
    ব্রহ্মকে নিয়ে নেই কারও ব্যথা।।

    আর চেতন জগতের মধ্যে শুধু মানুষ কেন? মানুষ ছাড়াও অসংখ্য প্রাণী রয়েছে, তাদের চেতনায়ও রয়েছে বাহ্যজগত। তাদের খন্ডিত অনুভবের উপর ভিত্তি করে তারা খাদ্যসংগ্রহ করে বেঁচে থাকে এবং নতুন সদস্যদের জন্ম দিয়ে নিজেদের প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখে। শংকরাচার্যের মডেলে এদের অস্তিত্ব নিয়ে কোন কথা নেই, যেমন নেই উপনয়ন না থাকার ফলে বেদ অধ্যয়নের অধিকার থেকে বঞ্চিত জনসংখ্যার অধিকাংশ সদস্য শূদ্র ও নারীদের কথা।

    তিন, আর এই মডেলে শংকরাচার্য নিজে কোথায় দাঁড়িয়ে? স্পষ্টতঃই এই স্ট্রাকচারের বাইরে এক স্বতন্ত্র মানুষ বা জীব হিসেবে। নইলে উনি কী করে দেখছেন সর্বব্যাপী ব্রহ্মকে এবং অসংখ্য জীবাত্মাকে আর সন্দেহ প্রকট করছেন বাহ্যদুনিয়ার অস্তিত্ব নিয়ে? উনি ব্রহ্মের সঙ্গে একাত্ম বা লীন হয়ে গেলে ব্রগ্মসূত্রের ভাষ্য ও শিবাষ্টক স্তোত্র লিখতে পারতেন না।

    ‘লুনের পুতুল সাগর মাপতে গিয়েছিল। ফিরে এসে খপর দেয় নাই’ (কথামৃত)।

    চার, ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপে আধুনিক দর্শন চিন্তার জনক ফরাসী দার্শনিক রনে দেকার্ত যেমন বলেছিলেন— Cogito ergo sum (I think, therefore I exist.)! আমি চিন্তা করছি মানে আমি আছি, আমার অস্তিত্ব আছে। নইলে চিন্তা করছি কী করে? একই ভাবে শংকরাচার্য বিচার করছেন—ব্রহ্ম নিয়ে, জীবের ও বাহ্যদুনিয়ার অস্তিত্ব নিয়ে, মায়ার খেলা নিয়ে। এটাই প্রমাণ যে ওঁর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে। ফলে ব্রহ্মের সাথে অভেদ হওয়ার তত্ত্ব, একাত্ম হওয়ার তত্ত্ব ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছে। অস্তিত্বের প্রশ্নে এক নয়, বহুর অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে।

    সৎ বা অস্তিত্বের অদ্বৈতরূপ বা ব্রহ্মের সঙ্গে অভেদের ধারণার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রমাণ শংকরাচার্য নিজে। যদি শঙ্গকরাচার্যের অস্তিত্ব মায়াবদ্ধ জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়, তবেই তিনি স্বতন্ত্র অস্তিত্বের অধিকারী হতে পারেন। অন্য ভাবে দেখলে বলা যায়, জগৎ মায়াময় কথাটি সিদ্ধ বাক্য্ হতে পারে তখনই যখন দ্রষ্টা নিজে এই মায়াময় জগতের উর্ধে বিরাজমান হন। মায়ার জগতে দাঁড়িয়ে "এই জগৎ মায়াময়" তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা যুক্তি হিসাবে বিফল হতে বাধ্য (negation of negation)।

    পাঁচ, প্রশ্ন ওঠে—উনি নিজে কতখানি বিশ্বাস করতেন নিজের তৈরি ‘ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা’ মডেলটিকে? ব্যক্তিজীবনে উনি কিন্তু আদৌ ব্যবহারিক সত্যের এই দুনিয়াকে তাচ্ছিল্য করেননি। চষে বেরিয়েছেন ভারতবর্ষের এ’মাথা ও’মাথা; স্থাপন করেছেন চার-চারটে মঠ, গড়ে তুলেছেন সন্ন্যাসীদের মধ্যে শ্রেণীবিভাগ করে দশনামী সম্প্রদায়। তারপর মাত্র ৩২ বছর বয়সে চলে গেছেন এই ‘মায়ার ভুবন’ ছেড়ে।

    দেকার্ত আরও বলেছিলেন—মানুষ চিন্তাশীল জীব। মানুষের অস্তিত্ব ততক্ষণই আছে যতক্ষণ সে চিন্তা করছে। একই ভাবে শংকরাচার্য যেই অল্প বয়সে তাঁর মায়ার ভুবন ছেড়ে চলে গেলেন তখন তাঁর মায়ার ভুবন এমনিতেই অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ল। আলাদা করে ব্রহ্মজ্ঞানের মাধ্যমে অবিদ্যা দুর করা অর্থহীন হয়ে পড়ল। অর্থাৎ দেহের অবসানেই চেতনারও(তার অবিদ্যাজনিত মালিন্য সমেত) অবসান হচ্ছে। এটি শংকরের মডেলে অনুপস্থিত। কারণ তাহলে দেহের বাস্তব অস্তিত্ব এবং বাহ্যজগতের বাস্তব অস্তিত্ব স্বীকার করতে হয়। এও স্বীকার করতে হয় যে জীবের দেহধারণের সঙ্গে তার চেতনা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।

    শংকরের প্রতিদ্বন্দ্বী দ্বৈতবাদী ও বিশিষ্টাদ্বৈতবাদীরা দেহ ও বাহ্যজগতের অস্তিত্ব স্বীকার করে এই ফাঁদে পড়েননি।

    ছয়, অবিদ্যা- এই তত্ত্বটি শংকরের মডেলে অ্যাকিলিস হীল। এ ব্রহ্মের মতই অনাদি। কিন্তু যখন কোন জীবের ব্রহ্মজ্ঞান হয় তখনই তার নাশ হয়। কিন্তু জীব তো গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে ব্রহ্মজ্ঞানী ক’জন? বাকি কোটি কোটি মানুষের জীবৎকালে তাদের চেতনার সঙ্গে ওতপ্রোত এই অবিদ্যা যে ভাইরাসের মত বেঁচে রয়েছে এবং ধ্বংস হবার বদলে মিউটেট করে টিকে রয়েছে। তাহলে নিত্যনতুন সৃষ্টি করার ক্ষমতায় এ তো প্রায় ব্রহ্মের প্রতিদ্বন্দ্বী।

    অতএব, যেমন ‘গো করোনা, গো’ বলে যজ্ঞ করলে বা থালা বাজিয়ে শাঁখ ফুঁকে নিশ্চিন্ত হলে করোনা যায় না, বরং দ্বিগুণ বেগে ফিরে আসে তেমনই সর্বং খলু ইদং ব্রহ্ম বলে ভেবে নিলেই বাহ্যজগত এবং তার দৈনন্দিন সমস্যাগুলো উবে যায় না বরং আরও করাল রূপ নেয়।

    মোদ্দা কথা, অষ্টম শতাব্দীতে কেরালার কালাড়ি গ্রামে জন্মানো আদি শংকরের নিজস্ব ভুবন ছিল অত্যন্ত সীমিত। তাঁর দর্শনের মডেল এই বিশাল ডায়নামিক বিশ্বের প্রকৃতিকে বুঝতে অক্ষম হয়ে সোজাসুজি তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করেছে। কিন্তু চেতনাসম্পন্ন অসংখ্য জীব, শংকর নিজেও যার অংশ, তার সংখ্যাবৃদ্ধি এবং লাগাতার বৈচিত্র্যময় বিস্তারের মাধ্যমে জাহির করেছে যে জীব ও বস্তুজগত দস্তুরমত বাস্তব।

    বাস্তব জীবনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হোল প্রয়োগ। যদি আমরা অতীতের অনুভব থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তার ভিত্তিতে বর্তমানে কোন প্রয়োগ করে ভবিষ্যতে ফল পাই তাহলে মানতেই হবে বাহ্যজগত আছে, তার অনুভব মিথ্যে নয়। নইলে স্বপ্নভঙ্গের বেদনাই সার হত।

    মানুষ আজ চাঁদের বুকে পা রেখেছে। এ জিনিস স্পষ্টতঃ শংকরের কল্পনার বাইরে। ব্রহ্মের অস্তিত্ব দার্শনিক স্পেকুলেশনের বিষয়, শাস্ত্রবচন ছাড়া কোন স্বতন্ত্র বা যুক্তিসিদ্ধ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু বাহ্যজগতের স্পন্দনকে তেরশ’ বছর আগের তুলনায় আজ অনেক বেশি করে টের পাওয়া যাচ্ছে এই প্রয়োগের মাধ্যমে।

    স্পেকুলেটিভ ফিলজফির তত্ত্ব প্রয়োগের কষ্টিপাথরে বারবার যাচাই করে শোধন না করলে তা’ অসার প্রকল্প বা বুদ্ধিবিলাস (sophistry)হয়ে যায়। শংকরের মায়াবাদের মডেলেও নির্গুণ ব্রহ্ম, অসংখ্য জীব, অনাদি অবিদ্যা এবং মায়া তাদের আপাত স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নিয়ে প্রকট। তাদের এড়িয়ে গিয়ে সমস্তই ব্রহ্মময় প্রকল্পটি দার্শনিক স্তরে একটি জোড়াতালির বেশি মনে হচ্ছে না।

    দার্শনিকেরা প্রশ্ন তুলেছেন—যদি সেই এক পরব্রহ্মই সত্য, তাহলে আমরা এই চারপাশের বৈচিত্র্যময় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যে জগতকে দেখি তার অস্তিত্বকে উড়িয়ে দিই কী করে? সত্য কী করে আমাদের বাহ্যজগতের সম্বন্ধে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিনিয়ত অনুভবকে খারিজ করে দেবে? এই বিরোধাভাসকে শংকর কী করে মেলাবেন?

    শংকর মেলালেন বাহ্যজগতের অস্তিত্বকেই নাকচ করে দিয়ে। ওঁর মতে বাহ্যজগতের বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই। যা দেখছি বা অনুভব করছি তাহল মায়া, ভ্রম, স্বল্পস্থায়ী। যেমন জাদুকরের ইন্দ্রজাল।যেই সঠিক জ্ঞানের ফলে মোহ কেটে যায় তখনই দেখতে পাই ব্রহ্মের আসল স্বরূপ। যেন কুয়াশা সরে গিয়ে রোদ উঠল, আর মায়ার দুনিয়াটা ‘কোথায় বা কি ভুতের ফাঁকি মিলিয়ে গেল চট করে’।

    অথবা আলো-আঁধারিতে যেমন ‘রজ্জুতে সর্পভ্রম’ হয়। আমরা ভয় পাই, কিন্তু কাছে গেলে বা ঠিকমত আলো পড়লে ভ্রম কেটে যায়, ভুল ভেঙে যায়।

    প্রশ্ন ওঠে অমন হয় কেন? কেন আমরা জন্মের সময় থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিদিন এই মায়ার সৃষ্ট সংসারকে বাস্তব দেখি? কেন বিশ্বসংসার একবারও মিলিয়ে যায় না? শংকর এই সমস্যার ব্যখ্যা করতে আমদানি করেন আরেকটি ধারণা বা ক্যাটেগরি –অবিদ্যা।

    এই অবিদ্যার কারনেই আমাদের দৃষ্টি আবিল হয়, আমরা রিয়েলিটি বলতে চৈতন্যস্বরূপ এক এবং অদ্বিতীয় ব্রহ্মকে দেখার বদলে ব্রহ্ম এবং বস্তুজগত –এই দুই বাস্তবের চক্রে ফেঁসে যাই। অতএব, আসল দোষী হল ওই ‘অবিদ্যা’। এই অবিদ্যাও ব্রহ্মের মতন ‘অনাদি’। কেউ কেউ ‘অবিদ্যা’ এবং ‘মায়া’কে একই মনে করেন। দেবীপ্রসাদও কখনও কখনও এই দুটি পদকে একে অপরের বদলে পালা করে ব্যবহার করেন।

    তবে আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল দুটোকে আলাদা করে দেখা। ‘অবিদ্যা’ হচ্ছে কারণ বা কারক তত্ত্ব যার অধিষ্ঠান আমাদের চেতনায়, আর তার ফলে আমরা যে অবাস্তব ক্ষণভঙ্গুর দুনিয়াকে দেখি সেটা হল মায়া।

    ধরুন, আপনার চোখের পাওয়ার বদলে গিয়েছে, ফলে আপনি সবকিছু ঝাপসা বা ভুল দেখছেন। অথবা এলএসডি খেয়ে চোখের সামনে গোলাপি হাতি দেখছেন।

    এই দুই উদাহরণে ভুল পাওয়ারের চশমা বা এলএসডি হল অবিদ্যা, আর ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিতে যা দেখছেন—ঝাপসা বা গোলাপি হাতি সেটা হল মায়া।

    তবে শংকর সবচেয়ে বেশি যে উদাহরণটি দিয়েছেন তাহল—রজ্জুতে সর্প ভ্রম। মানে দড়ি দেখে সাপ বলে ভয় পাওয়া। এছাড়া যাদুকরের মায়ায় হাতির উদাহরণও দিয়েছেন বা শামুকের শুক্তিকে রজত বা রূপো ভেবে ধোঁকা খাওয়া।

    (চলবে)


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৬৫ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    মাংস - অরিন
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Mridha | 2601:803:8081:5e50:34b0:c431:8e11:***:*** | ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৪২736797
  • ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা
    - এক অন্ধের হস্তী দর্শন 

    ভারতীয় দর্শন আধ্যাত্মিকতা নিয়ে একটু লিখতে ইচ্ছে হল। ধৰ্ম আর  ভগবানকে  নিয়ে  এত  বিশৃখলার মধ্যে আমার একটা জিনিস খুব মনে হয়, আমরা সবাই যেন  অন্ধের হস্তিদর্শন করছি আর সেই  দর্শন নিয়েই  মারামারি  করে চলেছি । খুব ভালকরে স্মরণ করে যে , নিজের এই বিষয়টায়  পড়াশুনা, জ্ঞান দুটো ই সামান্য , এখান ওখান থেকে যতটুকু ভাল লেগেছে এক জায়্গায় করার চেষ্টা করলাম ।

    আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতির ঈশ্বর সন্ধানের সর্বপ্রথম সোপান  হচ্ছে নিজেকে জানা।ভগবান খোঁজার  প্রথম ধাপ হচ্ছে আমি কে তাকে খোঁজা ? আর তা শেষ হয় ভগবান কে নিজের মধ্যে  উপলব্ধি  করা দিয়ে। ঈশ্বরকে বোঝার  ( understand করা ) অনেক রকম হতে পারে কিন্তু উপলব্ধি  স্থান কাল পাত্রে অভিন্ন, শুধু তাই নয় সমস্ত ধর্মেও একই ।  আর সমস্ত ধৰ্ম নিয়ে মারামারির মূল কারণ যখন উপলব্ধির চেয়ে আমার বোঝা বা আমি যাকে নিজের ধর্ম মানি তার বোঝানোটাই প্রাধান্য পেয়ে যায়। ব্যাপারটা আরও  মারাত্ম্যক হয়ে ওঠে যখন সেটা নিয়ে দলতন্ত্র ( politics ইচ্ছে করেই রাজনীতি লিখলাম না ) শুরু হয়ে যায়। কিন্তু ধৰ্ম চর্চার অবহেলিত সত্য এই যে , ঈশ্বরকে উপলব্ধির মধ্যেই যে কোনো ধর্মের সার্থকতা , অন্যথা সব  ধৰ্মই  অপ্রাসঙ্গিক। 

    অন্যভাবে বলা যায় আমাদের সবার মধ্যেই ভগবান আছে। অথবা এই জীব জগতের সবার আমিই হচ্ছে ভগবান।তাই যদি হবে তাহলে দুটো প্রাণীর মধ্যে বক্তিত্যর ভিন্নতা কেন ? জন্তু জনোয়ার তো দূরে দুটো মানুষ এক রকম নয় কেন ?
    তার করণ, আমাদের উপরে প্রকৃতির  প্রভাব আছে, সেই আমির উপরে প্রকৃতির আবরণ পড়ে গেছে ।  এই আবরণ প্রত্যেক প্রাণীর unique , আমাদের সবার মধ্যের ভগবান সেই প্রকৃতির আবরনের ভেতর দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করছে। তাই বাইরে থেকে সবাই আমার প্রকৃতি কেই আমি বলে জানে, আরও আশ্চর্যের ব্যাপার আমি নিজেও সেই প্রকৃতিকেই আমি বলে মনে করি। তো সেই প্রকৃতি কি জিনিস এলই বা কোথা থেকে ? খুব সরল ভাবে বল্লে , পূর্বে ক্রিত কর্ম থেকে। এখন  আমদের মধ্যে যে প্রবনতা ( এই মুহূর্তে কিছু করার ইচ্ছা ) তৈরী হয় বা  আমার এই মুহুর্তে কি করার ইচ্ছে জাগবে তার অনেকটাই প্রভাবিত হয় আমার প্রকৃতির দিয়ে। 

    কিন্তু একটু পর্যবেক্ষণ করলেই দেখব , আমার  ইচ্ছে জাগলেই যে আমি নিজেকে তাই করতে দেব তাই কিন্তু নয়। তাহলে  আমার প্রকৃতিই যে আমি তা তো নয়। আরেকটু এগোলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে , এক জীব থেকে আরেক জীবের বা মানুষের মধ্যেও গুনগত পার্থক্য, বা চেতনার বিকাশের পার্থক্য হচ্ছে কে প্রকৃতির তাড়নাতেই চলে আর কে কতটা  নিজের  প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ  করতে পারে।

    আবার সময় এর সঙ্গে সমস্ত  প্রানীর ( মানুষ, জন্তুজনোয়ার সবার ) প্রকৃতি বদ্লায়। তবে প্রশ্ন হল আজ আমার  যে প্রকৃতি এটা এলো কোথা থেকে। একটু ভাবলেই দেখা যাবে এর বড় অংশ  এসেছে আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতা  থেকে। আমাদের পরিবারের , আমাদের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সংশ্রব  থেকে। কিন্তু কিছুটা যেন এর বাইরের, যেটাকে ধারণা করা হয় আমাদের পূর্ব জন্ম থেকে প্রাপ্ত । 

    আমাদের জাগতিক কর্ম জীবনের লক্ষ, যা একসময়  ( Graduation Party) উপনয়ন এর সময় কানে কানে স্মরন করিয়ে দেওয়া হত তা ছিল सो हम्  (সোহম ),  in other word express your inner god for others and realize your inner god for yourself। আর আমদের আধ্যত্মিক জীবনের লক্ষ হচ্ছে আমাদের প্রকৃতিকে বিলিন করে দেওয়া সেই ঈশ্বর এর প্রকাশ নিজেদের ভিতর থেকে করা ।

    জীব আর ঈশ্বর এর ব্যাখ্যার এই শ্লোকটা আমার খুব পছন্দের , এটা দিয়েই লেখাটা শেষ করি 
    ॐ पूर्णमदः पूर्णमिदम् पूर्णात् पूर्णमुदच्यते |
    पूर्णस्य पूर्णमादाय पूर्णमेवावशिष्यते ||
    ॐ शान्तिः शान्तिः शान्तिः ||

    Om Poornamadah, Poornamidam
    Poornaad Poornamudachyate;
    Poornasya Poornamaadaaya
    Poornamevaavashisyate
    Om, Shanti, Shanti, Shanti !

    - Om, whatever we are seeing ( here seeing may not be very correct word, it is not what we are seeing outside, it is something what we see as me) is complete, whatever is beyond of our comprehension ( what people describe as God) is also complete, 

    যাঁকে আমরা সম্পূর্ণ ধারণা করে উঠতে পারিনি এখনো অর্থাৎ ঈশ্বর তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ , কিন্তু আমরা যাকে আমি বলে জানি , সেও  স্বয়ং সম্পূর্ণ...আমার মনে হয় আধ্যাত্ম জগতের the  most powerful statement is this.......ওই অনন্তের অংশ আমরা, আমাদের মধ্যে অনন্তের সমস্ত গুন  ঠিক ততটা পরিমান বিরাজমান যতটা সেই ঈশ্বর, যাঁকে সমস্ত আস্তিক বিশ্বাস আরাধনা করে  এমনকি সমস্ত নাস্তিক বিশ্বাস ব্যক্তিগত ভাবে  যেই গুনের অধিকারীকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করে , তা আমাদের নিজের মধ্যেই আছে ......... পার্থক্য শুধু অনুভূতি আর প্রকাশে  ...... অন্য ভাবে বললে  আমাদের  মধ্যে আছে তবে   সুপ্ত ....তাঁকে জানা আর প্রকাশ করাতেই জীবনের সার্থকতা।

    From that completeness only this completeness appeared.This completeness is like infinity in mathematical concept, no matter whatever way we distribute it, only completeness remains. And then finally it reminds..
    Om, Peace peace peace
  • Ranjan Roy | ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:২২736814
  • মৃধা
    প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই মন খুলে নিজের চিন্তাকে গুছিয়ে পেশ করার জন্যে। 
    কিন্তু এরপরই কিঞ্চিৎ অনুযোগ।
     
     ভারতীয় দর্শন এবং ঈশ্বরচিন্তার জগত ও পরিধি বিশাল, কয়েক হাজার বছরে গড়ে ওঠা।
    বর্তমান প্রবন্ধটির বিষয় কেবলমাত্র শংকরাচার্যের  অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন --যা কিনা ষড়দর্শনের অন্যতম উত্তর মীমাংসা বা বেদান্ত দর্শনের অনেকগুলো ব্যাখ্যার মধ্যে একটি। নিঃসন্দেহে বর্তমান ভারতে এরই প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
     
    দার্শনিক আলোচনার একটা কাঠামো থাকে। 
    আপনাকে অনুরোধঃ নীচের তিনটি বিষয় বা কোন একটিকে নিয়ে আপনার বক্তব্য পোস্ট করুন। তাহলে আলোচনাটা এগিয়ে যাবে, নইলে থেমে থাকবে।
     
    এক, শংকরাচার্যের মায়াবাদ কী? --আপনার যা উপলব্ধি। 
     
    দুই, আমি মায়াবাদ বলতে যা বুঝেছি/লিখেছি তাতে কোন ভুল আছে কিনা, শংকরের বক্তব্য বিকৃত করেছি কিনা। করলে ঠিক কোথায়? 
     
     
    তিন,  মায়াবাদ নিয়ে শংকরের যুক্তিকাঠামোয় আপনি কোন ফাঁক দেখতে পাচ্ছেন কিনা। না পেলেও বলুন। 
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন