যোগ্য vs অযোগ্য।
ইনডোরের সামনে তুমুল বুঝে নেওয়ার লড়াই।
শহীদ মিনার ময়দানে পাস বিলি করছিলেন নবান্ন অ্যাপয়েন্টেড এজেন্টরা। তারাও মার খেলেন। পথে পাস ছিনতাই হল।
ওদিকে ইনডোরের সামনে বেধড়ক মার খেলেন বেশ কিছু শিক্ষক। কে যোগ্য কে অযোগ্য, বোঝা গেল না। একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, সবাই বলছেন "আমরা যোগ্য"।
এই খেলাটাই খেলেছেন মমতা ব্রাত্য। সারা রাত অনেকেই শহীদ মিনার ময়দানে রাত কাটিয়েছেন। যাঁরা পাস পাননি, রোদে ঠায় দাঁড়িয়ে চেচাচ্ছেন " আমরা কারা ? যোগ্য যাঁরা।"
ওদিকে সোয়া ১২ টায় আসব বলে সোয়া ১১ টায় চলে এসেছেন মঞ্চে, অবস্থা বেগতিক বুঝে। পৌনে ১২ টায় শুরু করে দিলেন সভা। যাতে বাইরের ক্যামেরায় সব দৃশ্য আড়ালে চলে যায়।
এদিকে অভিযোগ ভুয়ো নথি নিয়ে পাস জোগাড়ের চেষ্টা, তাড়া খেলেন তিনি, আটক হলেন পুলিশের হাতে। অভিযোগ করলেন কেউ কেউ "পাস" বিক্রি হচ্ছে।
নোট : শিক্ষা মন্ত্রীকে অনেকদিন বাদে পাওয়া গেছে, ইনডোরে। মঞ্চে। সেজে গুজে হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে।
নোট : কয়েকজন যোগ্য শিক্ষকদের দিয়ে বক্তৃতা দেওয়ানো শুরু। বেশ বোঝা যাচ্ছে। হোমওয়ার্ক করানোর কাজটি সুনিপুণ ভাবে করেছেন ব্রাত্য।
একজনকে ( মেহবুব, তৃণমূলী চাকরি হারা শিক্ষক ) দিয়ে বলানো হল এই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে রিভিউ পিটিশন দেব না। অর্থাৎ প্রধান বিচারপতির দিকে আঙুল তোলানো হল। বলেই দিলেন "ষড়যন্ত্র হয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে"।
আর ঘোষণা যিনি করছিলেন সেই তৃণমূলী শিক্ষক বলে দিলেন " আইন আমরা মানি না" ( আদতে মুখ্যমন্ত্রীর মনের ডায়লগ )।
সাজানো চিত্রনাট্যে একজন রাণী রাসমনির উপাচার্যকে দিয়ে এবার "মমতাকে তেলবাজি" শুরু হল।
আবুল বাশারকে এরপর মাইক্রোফোনে আনা হল। মমতা বন্দনা করানোর জন্য। শুরু করলেন
" বিচার ব্যবস্থার ওপর আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। পুলিশের মানবিক মুখ তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। "
চেয়ারের জল মোছা কবি সুবোধ সরকারকে আনা হল মাইক্রোফোনে। দেদার তেল দিলেন মমতাকে। বললেন "উনি নাকি রাতে ঘুমোতে পারছেন না, মমতা ভারতের শ্রেষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী। কন্যাশ্রী, লক্ষীর ভাণ্ডারের মুখ্যমন্ত্রী।"
নেতাজি ইনডোর তাতা শুরু হয়েছে।
অবস্থা বেগতিক বুঝে সোয়া বারোটায় বক্তৃতা শুরু করে দিলেন চুরির নেতৃত্ব দেওয়া মুখ্যমন্ত্রী।
"চাকরি খেকো দের ধিক্কার।
কেউ কিছু ভুল করে থাকলে তার দায়িত্ব আমরা কেন নেব ?
জানা সত্বেও সিপিএমের কারুর চাকরি খাইনি "
একটা দুটো কাজ করতে গেলে একটা দুটো ভুল হয়
আমাদের ভুল সংশোধনের সময় দেওয়া হয়নি।"
নেতাজি ইনডোরের ভেতরেই বিক্ষোভ শুরু।
তারই মধ্যে বলে চলেছেন মমতা, " ভুল করা আমাদের অধিকার। চন্দ্রচুড় আমাদের কথা বুঝেছিলেন।(খান্না সাহেব) সত্যিটা বোঝেন নি।
রায়ের পেছনে খেলা নেই তো ?"
# এরপর কবিতা আওড়াতে শুরু করলেন।
(এপ্যাং ওপ্যাং নয়)।
"আমরা লইয়ার কাদের দিয়েছিলাম শুনুন, অভিষেক মনু সিংভি....
এবার আমরা নিচ্ছি কপিল সিব্বল, রাকেশ দ্বিবেদি, কল্যাণ ব্যানার্জি। অভিষেক মনুও থাকবে।
শিক্ষা ব্যবস্থা বিরোধীরা ভেঙে দিয়েছে, ২০২২ থেকে নোংরা খেলা শুরু হয়েছে।
বিকাশ ভট্টাচার্যকে আইসোলেট করা উচিত।
জেলে ভরে দিলেও আই ডোন্ট কেয়ার।
যাত্রা পালার মাধ্যমে ভুল বোঝানো হচ্ছে।
প্ল্যান এ বি সি রেডি, আপনারা স্কুলে যান।
ভলেন্টিয়ার সার্ভিস যে কেউ দিতে পারে স্কুলে।
আপনাদের চাকরি ব্রেক হবে না।
কারা যোগ্য কারা অযোগ্য সুপ্রিম কোর্ট দিক।
( এস এস সি নয়, বিকাশ ভবন নয় সুপ্রিম কোর্টকে দিতে হবে!!!)
সুপ্রিম কোর্ট যদি ক্লারিফিকেশন না দেয় আমি
অন্য পথে বুঝে নেব।
যাঁরা যোগ্য ভরসা রাখুন। আপাতত ভলেন্টিয়ারি সার্ভিস দিন।
কেউ কারুর উস্কানি শুনে প্ররোচিত হবেন না। ( টাকা ফেরতের জন্য কালীঘাট প্লিজ যাবেন না)
আম (আমি) আর আমড়া এক নয়।
আগে আমাকে যোগ্যদেরটা ঠিক করতে দিন, তারপর অযোগ্যদেরটা দেখব।
কি এভিডেন্স আছে সেটা পরীক্ষা করে দেব। আলাদা করে বৈঠক করব। "
এরপর, ইনডোর তেতে ওঠার পালা... কাওতালি শুরু।
" আপনাদের (যোগ্যদের) চাকরি গেলে যেমন ক্ষতি, তেমনি অন্যদের (চোরদের ) চাকরি যাওয়া অন্যায়। "
# ইনডোর জুড়ে লালবাজারের বাউন্সাররা ঢুকে গেলেন দর্শক আসনে।
সময়ের আগেই মঞ্চ ছেড়ে পালালেন মুখ্যমন্ত্রী......
বিধ্বস্ত, স্তম্ভিত চাকরি হারা ছেলে মেয়ে গুলো তখন চোখ মুছে চলেছেন।
শেষ হল টুপি পরানোর শয়তানির সভা।
যাঁরা গিয়েছিলেন বুঝলেন কি ?
সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
(৯৮৩০৪২৬০৭৮)