এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  গপ্পো

  • ছোটো গল্প - সম্বর্ধনা 

    Kishore Ghosal লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | গপ্পো | ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ | ১০৭০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  •  
    আজ সকাল থেকেই রজতশুভ্রবাবু বাড়িতে একেবারে হুলুস্থূল কাণ্ড শুরু করে দিয়েছেন। গিন্নিকে ব্যতিব্যস্ত করে দিচ্ছেন, এমন কী মেয়েকেও ছাড়ছেন না। বারোটা পঞ্চান্নর কাটোয়া লোকালটা তাঁকে ধরতেই হবে। বারোটা পঞ্চান্নয় হাওড়া থেকে ট্রেন ধরা মানে তাঁকে অন্ততঃ সোয়া একঘন্টা আগে বেরোতে হবে। চিল্কা, তাঁর মেয়ে একবার বলেছিল, “আজ রোববার বাবা, আজকে তো আর অন্যদিনের মতো জ্যাম হবে না, পঁয়তাল্লিশ মিনিট আগে বেরোলেই চলবে। তাছাড়া চিন্তা করো না, আমি তোমাকে ওলা বা উবর বুক করে দেবো...সাঁ সাঁ করে হাওড়া পৌঁছে যাবে”। মেয়ের কথাটা মনঃপূত হয়নি রজতশুভ্রবাবুর, দাড়ি কামাতে কামাতে বললেন, “তোমাদের মতো আমি শিরে সংক্রান্তি করতে পারবো না, বাপু। আমি একটু ধীরস্থির, হাতে সময় নিয়েই বেরোতে চাই। তোর মাকে বল, পঞ্চব্যঞ্জন কিচ্ছু রান্না করতে হবে না, দুটো ভাতে-ভাত ডিমসেদ্ধ করে দিক, আমি সোয়া এগারোটা নাগাদ খেতে বসবো”। অন্যদিন রজতশুভ্রবাবু একবার সোজা আর একবার উল্টো রেজারে শেভ করেন, আজ তিনবার করলেন, সোজা দুই, উল্টো এক। গালে মাছি বসলে, নির্ঘাৎ পা পিছলে যাবে!
     
    মেয়ের মুখে বাবার লাঞ্চের অর্ডার শুনে, খুন্তি হাতেই শুক্লা, রজতশুভ্রবাবুর গিন্নি, বেরিয়ে এলেন রান্নাঘর থেকে, বললেন, “তোমার কী মাথা-টাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি? যাচ্ছো একটা শুভ কাজে, তার আগে অলক্ষুণে ওই জিনিষটার নাম না বললেই চলছিল না?” রজতশুভ্রবাবু অবাক হয়ে গিন্নি এবং মেয়ের মুখের দিকে তাকালেন, অলক্ষুণে বস্তুটা কী সেটাই বুঝতে পারছিলেন না। গিন্নির পেছনে দাঁড়ানো মেয়ে ঠোঁট নেড়ে ফিসফিস করে বলল, “পাখিরা যে বস্তুটি তাদের বাসায় পাড়ে, সেটি গোল তাই অলক্ষুণে”। ভ্রূকুটি করে ঘাড় ঘুরিয়ে একবার মেয়ের দিকে তাকিয়ে গিন্নি আবার বললেন, “ভাত-মুগের ডাল, ঘি, পটলভাজা আর চারাপোনা ভাজা। শুভ কাজে মৎস্যমুখ করে যাওয়াটাই দস্তুর...”! রজতশুভ্রবাবু আর কথা বাড়ালেন না, সুবোধ বালকের মতো শ্বাস ফেলে বললেন, “বেশ, তা না হয় হল, কিন্তু সোয়া এগারোটা মানে এগারোটা পনের”।
     
    গিন্নি তাড়াহুড়ো করে রান্নাঘরে ঢুকতেই, রজতশুভ্রবাবু কাবার্ড থেকে জামা প্যান্ট গেঞ্জি রুমাল বের করতে লাগলেন। তাঁর পেছন পেছন মেয়েও এসে দাঁড়াল। বলল, “বাবা, আজকের দিনে রোজ অফিসে পরে যাওয়া একঘেয়ে জামা-প্যান্টগুলো পরো না, প্লিজ। ধুতি-পাঞ্জাবি না পরো, অন্ততঃ পাজামা-পাঞ্জাবি পরো”। কথাটা রজতশুভ্রবাবুর মাথাতেও এসেছিল, কিন্তু একটু লজ্জা-লজ্জা করছিল বলে, ও পথে হাঁটেননি। তিনি মেয়ের দিকে সস্নেহে তাকিয়ে প্রশ্রয়ের মৃদু ধমক দিয়ে বললেন, “ধুস্‌, এ কি বিয়েবাড়ি যাচ্ছি নাকি? অত সাজগোজ দেখলে লোকে বলবে কী?”
    “কী আবার বলবে? যাঁরা তোমাকে ডেকেছেন, তাঁরা কী তোমাকে অফিসের কাজের জন্যে ডেকেছেন?”

    “তা না... ইয়ে... তা অবিশ্যি ঠিক। তবে...ওসব পরে আমার কেমন যেন মনে হচ্ছে, একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে”!

    “কিচ্ছু হবে না। আচ্ছা, তুমি এক কাজ করো, তুমি এখন চান করতে যাও, ততক্ষণে আমি সব বের করে রাখছি। আজকে চুলে একটু শ্যাম্পু দিও, বাবা। শ্যাম্পু করে আবার মাথায় গুচ্ছের তেল দিও না যেন, তোমার যা মাথা ঠাণ্ডার বাতিক...জুলপি দিয়ে তেল গড়ালেই হয়েছে আর কী!”

    মেয়ের ভালোবাসা ও আদরে রজতশুভ্রবাবুর মনটা বেশ একটু মাখোমাখো হয়ে উঠল, খুব দুর্বল স্বরে তিনি প্রতিবাদ করে উঠলেন, “তোরা আমাকে কী পেয়েছিস বল তো? মা আর মেয়ে, যা নয় তাই বলে চলেছিস তখন থেকে। বলি, আমি কী তোদের হাতের পুতুল, যেমন সাজাবি, তেমন সাজতে হবে”! ফিক করে হেসে মেয়ে বলল, “তা নয় তো কী! যাও, যাও চানটা সেরে এস দেখি, ওদিকে পৌনে এগারোটা বাজতে চলল, সে খেয়াল আছে?” রজতশুভ্রবাবু কিছুটা চমকে উঠে বললেন, “ওঃ তাই তো! তোদের পাল্লায় পড়ে আমার যাওয়াটাই না ভেস্তে যায়। বললে তো আর শুনবি না, যা পারিস কর, আমি চানে চললাম”।
     
    গল্পটি সম্পূর্ণ পড়তে হলে নীচের লিংকে ক্লিক করুন - তাতে এই গল্পটি ছাড়াও অন্যান্য সাহিত্যিকের  আরো ভালো ভালো গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ...পড়ে নিতে পারবেন। 
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ | ১০৭০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • :|: | ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ০৪:০৫540831
  • বাঃ! মিষ্টি গল্প। ধন্যবাদ।
  • Kishore Ghosal | ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:০৬540835
  • অনেক ধন্যবাদ, চতুর্ভুজবাবু।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন