এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • দূরে কোথায় ৩৭ 

    হীরেন সিংহরায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০২ আগস্ট ২০২২ | ২৬১৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • দূরে কোথায় ৩৭

    বিকল্প

    স্কুলের এগারো ক্লাসে চাহিদা এবং যোগান তত্ত্ব পড়াতে গিয়ে সুখময় দত্ত সার বলেছিলেন সবেরই বিকল্প আছে। আর্থিক সাধ্যে না কুলোলে আমরা সস্তার কিছু খুঁজি - সেটাই বিকল্প। তত্ত্ব বলে দাম বাড়লে চাহিদা কমে, দাম কমলে চাহিদা বাড়ে। প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ দ্রব্যের দাম বাড়লে সেটি কিনি না, আমরা তার তুল্য কিছু খুঁজি যেটি কেনার মতো রেস্ত আমাদের পকেটে আছে।

    শাস্ত্রীয় উদাহরণ দিয়েছিলেন – মধুর অভাবে পুজো আচ্চায় গুড় ব্যবহারের নির্দেশ আছে শাস্ত্রে, ঘি না পেলে তেল। দুধের বদলে পিটুলি গোলা জল কেউ খাইয়েছিলেন, মহাভারতে এমন কাহিনি আছে। পকেটের জোর মোতাবিক সেকালের ট্যাক্সি আজকের ওলা উবার থেকে মিনি বাস, মিনি বাস থেকে বাস, ট্রাম – দামের কারণেই সৃষ্টি হয় এক অর্থনৈতিক বিকল্প ব্যবস্থার শৃঙ্খলা।

    নিকোলাস কলডর ভারতে গিফট ট্যাক্স চালু করার প্রস্তাব দিলে পরে সার বললেন সে তো আমাদের দেশে নতুন নয় ! গিফট ট্যাক্স এ দেশে চালু আছে। চাল কলা মুলো ধুতি দান করার পরেও গেরস্থকে যে দক্ষিণা দিতে হয়, সেটাই তো গিফট ট্যাক্স !

    ল অফ ডিমান্ড পড়ানোর সময়ে সার বলেছিলেন মনে রেখো অর্থনীতি কোন অভ্রান্ত প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নয়। মানুষের আচরণের বিষয়ে অনুমান করা যেতে পারে, সঠিক ভবিষ্যতবাণী করা যায় না। দাম বাড়লেও যে চাহিদা কমে না তার দৃষ্টান্ত দিয়েছিলেন। এক ধরণের ফাঙ্গাসের আক্রমণে ১৮৪৫ /১৮৪৬ সালে আয়ারল্যান্ডে আলুর উৎপাদন ভীষণ ভাবে কমে যায়। আয়ারল্যান্ড তখন ব্রিটিশ কলোনি, নিতান্ত দরিদ্র। আমিষ কেনার সামর্থ্য নেই তাই আইরিশ চাষিরা আলু খেয়ে শক্তি সঞ্চয় করতেন। এবার যে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিলো তার নাম মহা দুর্ভিক্ষ ( গ্রেট ফ্যামিন )। বলাই বাহুল্য সদাশয় ব্রিটিশ সরকার আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ডে আলুর রপ্তানি কমালেন না -ঠিক যেমনটি করবেন একশ বছর বাদে বাঙলার মন্বন্তরে ( অন্তত টোনি ব্লেয়ার তার জন্য আয়ারল্যান্ডের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সরকারি প্রয়াসে সৃষ্ট বাংলার সেই পঞ্চাশের মন্বন্তরের জন্য ব্রিটেন আজও ক্ষমা চায় নি )।


    আয়ারল্যান্ডের এই দুর্ভিক্ষে একটি বিচিত্র ব্যাপার দেখা গেলো। আলুর দাম বাড়ছে কিন্তু তার চাহিদা কমছে না। অর্থনীতিবিদরা বেপাকে পড়লেন – একি এমন তো কথা ছিল না ? আমাদের চাহিদা যোগান তত্ত্ব মিলছে না যে! দাম যাই হোক চাষিরা আলু কিনেছেন কেন না বিকল্পের নাম মৃত্যু। পরিণামে দশ লক্ষ আইরিশ মারা যান, দেশত্যাগ করেন সম সংখ্যক মানুষ। বেশির ভাগ গেলেন আমেরিকা। এই মহা দুর্ভিক্ষের কারণেই হয়তো প্রবাসী আইরিশরা দলে দলে সে দেশে গিয়ে আমেরিকানদের ইংরেজি অ্যাকসেন্ট বদলে দিলেন – নির্দ্বিধায় বলা যায় আমেরিকান ইংরেজি উচ্চারণ আইরিশ প্রভাবিত, যেমন অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণ লন্ডনের ককনি দ্বারা দূষিত।



    আইরিশ আলু দুর্ভিক্ষের কাহিনি শেষ করে জিজ্ঞেস করেছিলেন: আমাদের গ্রামের মানুষ লন্ঠন জ্বালায় কেরোসিন তেলে। যদি সেই তেলের দাম খুব বেড়ে যায় তাহলে তাঁরা কি করবেন ? কেরোসিনের বিকল্প কি ?

    আমাদের নিশ্চুপ দেখে নিজেই উত্তর দিলেন – কেরোসিনের বিকল্প অন্ধকার।

    আজ ইউক্রেন প্রসঙ্গে সুখময় সারের কথা ভীষণ ভাবে মনে পড়ছে।

    রাশিয়ানরা সম্প্রতি উত্তরের নরডস্ট্রিম পাইপ লাইনের কল বন্ধ রেখেছিলেন কি সব যন্ত্রপাতি সারাবেন বলে। দিন দশেক বাদে কল খুলেছেন কিন্তু গ্যাস আসছে খুব কম। মহামতি পুতিন জানেন ইউরোপের বাতি, ইউরোপের ঘরের গরম জল তাঁর নিয়ন্ত্রণে। খেলা এই তো সবে শুরু। এখন এই গ্রীষ্মকালে সূর্যদেব উষ্ণতা বিতরণ করে যাচ্ছেন। তবে মাঘ মাস খুব দূরে নেই। মিত্র দেশ জার্মানির অবস্থা সবচেয়ে জটিল – রাশিয়ান গ্যাসের অভাবে তাদের কল কারখানা অবধি বন্ধ হতে পারে। এস্টোনিয়া থেকে রোমানিয়া অবধি যখন পারা শূন্যের অনেক নিচে নেমে যাবে তখন মহামতি পুতিন তাদেরও সিধে করে দেবেন। ইউক্রেন নিয়ে আর বাঁদরামি করো না।



    পুতিন এটাও দেখে নিয়েছেন ইউক্রেনে রাশিয়ান সামরিক অপারেশনের প্রতিবাদে গোটা ইউরোপ সঙ্ঘবদ্ধ হতে পারে নি। জার্মানির প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী উরসুলা ফন ডের লাইয়েনের চেয়ে অপদার্থ কেউ হয়তো এতাবৎ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেতৃ পদে অভিষিক্ত হন নি। দীর্ঘদিন যাবত মেরকেলের সেবা করার পুরষ্কার এই চাকরি। তার হয়তো আরেকটি অলিখিত শর্ত মেরকেল তাঁর কানে কানে বলে গেছেন - পুতিন আমার বন্ধু।

    বালটিকের তিন দেশ, পোল্যান্ড, বুলগারিয়া রাশিয়ান গ্যাস কিনব না বলে যতই পাঁয়তারা করুক, হাঙ্গেরির অরবান অন্য দিকে হাঁটেন। এদের নিয়ে পুতিনের চিন্তা কম। জার্মানির নেতৃত্ব কোনদিকে হাঁটবেন সেটা তাঁর ভাবনা।

    গত বিশ বছর তিনি জার্মানির চ্যান্সেলর শ্রীমতী মেরকেলকে মোয়া নাড়ু খাইয়েছেন। প্রসন্না মেরকেল বলেছেন বাণিজ্যে লক্ষ্মী বাস করেন অতএব রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা চালু রাখলে তাদের হৃদয় পরিবর্তন হবে ( ওয়ানডেল দুরখ হানডেল )। তিনি সরাসরি রাশিয়া /জার্মানি পাইপলাইনের অনুমোদন দিলেন। ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে নরডস্ট্রিম এক চালু হলো। প্রাক্তন চ্যান্সেলর শ্রয়েডার ধন্য ধন্য করলেন – তাঁকে পুতিন পুষছেন দু দশক যাবত। যে পরিমাণ বেতন ও বোনাস পান তা দিয়ে শ্রয়েডার চার প্রাক্তন স্ত্রীর ভরন পোষণ করেন । এই যে গত দশ বছর জার্মানিতে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট ও ক্রিস্টিয়ান ডেমোক্র্যাট কোয়ালিশন চলল তাতে পুতিনের পোয়া বারো হয়েছে – রাজনীতিক মতভেদ যাই থাক না কেন পুতিনের পরম বন্ধু, গাজপ্রমের আধিকারিক শ্রয়েডারের এবং ক্ষমতাসীন চ্যান্সেলর মেরকেলের দল মিল জুলকে কাজ করলেন। পুতিন আমাদের বন্ধু এ কথাটা যেন ভুলবেন না বন্ধুগণ ! মনে রাখা দরকার এই পারস্পরিক সম্প্রীতি অত্যন্ত নিবিড় – পুতিন একটি মাত্র বিদেশি ভাষায় স্বচ্ছন্দ, তিনি জার্মানে শ্রয়েডারের সঙ্গে আলাপ করেন। মেরকেল একটি মাত্র বিদেশি ভাষায় জ্ঞানের জন্য স্কুলের পুরস্কার অবধি পেয়েছেন, সেটি রাশিয়ান। পুতিনের সঙ্গে মোলাকাতের সময়ে তিনি দোভাষী বর্জন করতেন।

    বর্তমান চ্যান্সেলর ওলাফ শলতস পড়েছেন ফাটা বাঁশের মাঝখানে। গদির মালিক হবার বাসনায় সবুজ দল এবং মুক্ত ডেমোক্র্যাট দলের সঙ্গে ঘর করেন। এই দুটি দল অন্য রাস্তায় চলে, মেরকেলের অনেক দূর দিয়ে। অতএব একান্ত অনিচ্ছুক হলেও শলতসকে একটু নড়ে বসতে হচ্ছে। এয়াও হয় ওয়াও হয় বলে কাজ চালানো শক্ত। ভাইস চ্যান্সেলর, সবুজ দলের হাবেক ইতিমধ্যেই শাওয়ারে স্নানের কাজটি পাঁচ মিনিটে সেরে নেবার প্রস্তাব দিয়েছেন - গ্যাস খরচ কমান, দেশ বাঁচান!

    উত্তর জার্মানির তৃতীয় বৃহত্তম শহর হানোভার ( জনসংখ্যা পাঁচ লক্ষ) এগিয়ে এসেছে দেশ বাঁচাতে ! হানোভারের মেয়র জানিয়েছেন সমস্ত সরকারি অফিস, সুইমিং পুল, স্পোর্ট হল এবং জিমনাসিয়ামে এপ্রিল হতে সেপ্টেম্বর গরম জল বন্ধ। হাত ধোয়ার কাজ ঠাণ্ডা জলে সারুন। বাইরের তাপমান যাই হোক না কেন, সরকারি অফিস বাড়িতে কোন ঘরের উষ্ণতা কুড়ি ডিগ্রীর বেশি রাখা হবে না। শহরের সকল ফোয়ারার ধারা আকাশের পানে আর ধাবিত হবে না, তাতে বিজলি বাঁচে। পোর্টেবল এয়ার কন্ডিশনার হিটার ব্যবহার বারণ। সূর্য ডুবে গেলে হানোভারের বিখ্যাত প্রাসাদ এবং অট্টালিকাগুলি আর সরকারী বিদ্যুতের আলোকের ঝরনাধারায় ধুয়ে যাবে না।

    হানোভার টাউন হল- আকাশের আলো মিলিয়ে যাবার আগেই জ্বলে ওঠে বিজলি



    দক্ষিণের কিছু শহর, যেমন আউগসবুরগ, তাদের ফোয়ারার কল রুদ্ধ করেছে।



    হারকিউলিস ফোয়ারা আউগসবুরগ

    মনে আছে একবার লন্ডন টাওয়ার ব্রিজের ওপরে ওয়াকওয়ে বরাবর আমরা সিটি ব্যাঙ্কের একটি সমারোহের আয়োজন করেছিলাম। সেপ্টেম্বর মাস কিন্তু সন্ধে বেলা হঠাৎ তুষার পাত শুরু হল। প্রচন্ড ঠান্ডা। কয়েকটি হিটার জ্বালাতেই বিজলি ফিউজ ! ওদিকে তাপস সেনের কায়দায় বাইরে থেকে তুখোড় আলোক সম্পাত চলেছে গোটা ব্রিজের ওপরে ! ক্ষিপ্ত হয়ে আমি কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম ওটা নিভিয়ে দিয়ে আমাদের হিটার জ্বালাতে দিন, খদ্দেরদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করুন। উত্তর পেলাম – আলোকিত লন্ডন টাওয়ার ব্রিজ এ শহরের উজ্জ্বল প্রতীক, এ আলো নেভানো যাবে না !

    টাওয়ার ব্রিজের মাথায় ওয়াকওয়ে

    হানোভার দেখিয়ে দিলো সময় খারাপ হলে আলোক সম্পাত বন্ধ করা যায় !

    হানোভারের দেখাদেখি বার্লিনের দুশো অট্টালিকা এমনকি বিজয় স্তম্ভ ( জিগেসসয়লে), ব্রানডেনবুরগার টোর, কাইজার ভিলহেলম স্মৃতি গিরজের মতন ঐতিহাসিক মনুমেন্টের ওপরে রাতের বেলায় আর কোন আলোক বর্ষিত হবে না।


    বার্লিনের ল্যান্ডমার্ক - ব্রানডেনবুরগার টোর ইউক্রেনের পতাকার রঙে শোভিত

    জার্মানিতে এ বছর থেকে গ্যাস ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত লেভি দেয় - পরিবার পিছু বছরে হাজার ইউরো। ইংল্যান্ডে আমাদের বাৎসরিক বিজলির বিল এ বছর দ্বিগুণ হবে এই সুসমাচার পাওয়া গেলো গতকাল। লাটভিয়ার মতন বহু দেশে তিন গুণ। মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে দ্রুত বেগে – ব্রিটেনে দশ শতাংশ, ইউরোপের কিছু দেশে পনেরো শতাংশ বা তারও বেশি।

    গ্যাসের বিকল্প কি? শীতল অন্ধকার ?

    আগস্ট ৬, ২০২২

    পু: পরম শ্রদ্ধেয় সুখময় দত্ত সার আমার মাথায় অর্থনীতির ভূতটি চাপিয়ে দিয়ে নরেন্দ্রনাথ বিদ্যামন্দির ছেড়ে ব্যাংকিঙের জগতে চলে গেলেন ! ফলত স্কুলের শেষ পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েও কলেজে, কাঁটাকলে অর্থনীতি পড়েছি। তাঁরই মতন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াতে কর্মজীবন শুরু করি। শেষ দেখা বছর দশেক আগে ঢাকাতে, তিনি তখন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ঢাকা ব্রাঞ্চের প্রধান, আমি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কের কাজে বাংলাদেশে গেছি। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, এই আজকের মতো মাঝে মাঝে মনের ভেতরে দেখা দিয়ে যান। যতদিন বাঁচি ততদিন যেন তিনি আমার সঙ্গে থাকেন, এমনি করেই।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০২ আগস্ট ২০২২ | ২৬১৬ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Debanjan Banerjee | ০৫ আগস্ট ২০২২ ২২:৩৬510798
  • আপনি কি ekhon কোলকাতা তে হিরেনবাবু ?
  • হীরেন সিংহরায় | ০৬ আগস্ট ২০২২ ০০:৫৫510801
  • হ্যাঁ ! স্থানীয় নম্বর ৭০০৩৪৩৪১৪৪
    আগামী শনিবার ইহুদি রসিকতার উন্মোচন !
  • :|: | 174.*.*.* | ০৬ আগস্ট ২০২২ ০৪:৫২510802
  • সামনের শনিবার, তেরো তারিখ?
    দুইটা নিছক কৌতূহল -- তেরো নিয়ে ক্রিস্টানদের যে দৃষ্টিভঙ্গী ইহুদীদের সেই একই কারণে পছন্দের দিন হওয়া উচিৎ! এই সংখ্যা​​​​টি নিয়ে কোনও রসিকতা ​​​​​​​নাই?
    আর, বই উদ্বোধন শনিবার সূর্যাস্তের আগে না পরে? :)
  • :|: | 174.*.*.* | ০৬ আগস্ট ২০২২ ০৪:৫৩510803
  • যাই হোক -- অনেক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানবেন।
  • dc | 2401:*:*:*:*:*:*:* | ০৬ আগস্ট ২০২২ ০৮:২৪510805
  • "ল অফ ডিমান্ড পড়ানোর সময়ে সার বলেছিলেন মনে রেখো অর্থনীতি কোন অভ্রান্ত প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নয়। মানুষের আচরণের বিষয়ে অনুমান করা যেতে পারে, সঠিক ভবিষ্যতবাণী করা যায় না"
     
    এক্কেবারে খাঁটি কথা, বিহেভিয়রাল ইকোনমিক্সের আসল কথা। আর আলুর চাহিদা প্রসঙ্গে, আলু হলো গিয়ে নেসাসিটি, তাই ইহার ইলাসটিসিটি এক এর থেকে কম। নর্মাল গুড এর ইলাস্টিসিটি এক এর থেকে বেশী, তাই তার দাম বাড়লে চাহিদা কমে :-)
     
    আর মহামতি পুটিন যে কয়েকটি স্ট্র‌্যাটেজিক ব্লান্ডার করলেন সেগুলো ইতিহাস বইতে জায়গা পাবে। য়ুরোপ রাশিয়ান অরবিটে ঢুকে পড়েছিল, যা কিনা আমেরিকার মাথাব্যাথা হয়ে উঠছিল। ইউক্রেন আক্রমনের ফলে এখন য়ুরোপ আবার রাশিয়ান ইনফ্লুয়েন্সের থেকে বেরিয়ে তো আসছেই, নেটো আবারও রেলিভ্যান্ট আর শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সবচাইতে অবাক কান্ড হলো, ফিনল্যান্ড আর ডেনমার্কও নেটোর মেম্বার হতে চলেছে, ফলে মহামতি পুটিন যা চাইছিলেন তার ঠিক উল্টোটা হচ্ছে। রাশিয়ার ইমিডিয়েট ওয়েস্টার্ন বর্ডারে একটা দগদগে ঘা তৈরি হলো, যার নাম ইউক্রেন, যা বহুকাল ধরে রাশিয়াকে জ্বালাবে। এছাড়াও ফিনল্যান্ড নামে মাথাব্যথা তৈরি হলো, ফিনল্যান্ডের সাথে রাশিয়ার দীর্ঘ আটশো মাইলের বর্ডার। আর আগামী পাঁচ বছরে যদি য়ুরোপ রাশিয়ান গ্যাস আর তেল এর ওপর ডিপেনডেন্সি অনেকটা কমিয়ে ফেলতে পারে তাহলে রাশিয়ার ইকোনমির অবস্থা আরও খারাপ হবে।
  • guru | 160.*.*.* | ০৬ আগস্ট ২০২২ ১০:০৩510808
  • @ডিসি
     
    ইউক্রেইন্ এর সমস্যা এখন তাইওয়ানের ক্ষেত্রেও আসছে | আম্রিকা কি ন্যাটো কে এই লড়াইতে জড়াবে ? আম্রিকা একই সময়ে কতগুলি ফ্রন্ট খুলবে ?
     
    পুতিন সাহেবের খুবই সুবিধা হলো যে এখন চীনের এতো বড়ো (পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মার্কেট ) টি এখন অনেকটাই পুতিন সাহেবের |
     
    ইউরোপের মার্কেটটি চলে গেলেও পুতিন সাহেব এখন লড়ে যেতে পারবেন |
  • হীরেন | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৬ আগস্ট ২০২২ ১০:৫৬510809
  • গুরু
     
    আমার স্থানীয় নম্বর ভুল দিয়েছিলাম
     
    ৭০০৩৪৩৪১৪৪
    এখন কলকাতায আছি।
  • guru | 160.*.*.* | ০৬ আগস্ট ২০২২ ১১:২৩510810
  • অনেক ধন্যবাদ হীরেনবাবু |
  • হীরেন | 2405:*:*:*:*:*:*:* | ০৬ আগস্ট ২০২২ ২২:৩৮510822
  • শ্রী চতুষকোণ
     
    ইহুদি মননে বা ধর্মে তেরো অশুভ সংখ্যা নয়।
     
    আমাদের অনুষ্ঠান সূর্যাস্তের পূর্বে। তবে ইয়েরুভের অধীন
  • Ranjan Roy | ০৬ আগস্ট ২০২২ ২২:৫৫510823
  • হীরেনবাবু
    অনেক অভিনন্দন ও শুভেছা!
    এবার কোলকাতায় নেই বলে যেতে পারছি না। আমি নিশ্চিত আগামী বছর আপনার ইউরোপ নিয়ে বই বেরোবে। তখন শিওর অনুষ্ঠানে হাজির হব।
    ভালো থাকুন।
  • হীরেন সিংহরায় | ০৭ আগস্ট ২০২২ ১০:০২510832
  • আমার জার্মান স্মৃতি নিয়ে বই মেলায় হাজির হবার বাসনা আছে। আশা করি দেখা হবে।
  • Kishore Ghosal | ০৮ আগস্ট ২০২২ ২০:৫২510880
  • আপনার সুখময় স্যার কে প্রণাম। অর্থনীতির কিস্সুই জানতাম না, ছোট্ট একটা তত্ত্ব অন্ততঃ মাথায় ঢুকল - দুধের বদলে পিটুলিগোলা।
    মহাভারতে কুরুপাণ্ডবদের অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য প্রথম জীবনে এতই দরিদ্র ছিলেন, যে তাঁর বালক পুত্র কোনদিন নাকি দুধ খাননি। ছেলেকে ভোলাতে বালক অশ্বত্থামার মাতৃদেবী পিটুলিগোলা খাইয়েছিলেন, এবং তাই খেয়ে বালক অশ্বত্থামা আনন্দে নাকি নৃত্য করেছিল, "দুধ খেয়েছি" "দুধ খেয়েছি" বলে। সেই করুণ দৃশ্যই হয়তো আচার্য দ্রোণের জীবন-দর্শনকেই পালটে দিয়েছিল।
     
    তের তারিখ দেখা হচ্ছে, স্যার।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল প্রতিক্রিয়া দিন