
সবচেয়ে দুর্দান্ত লেগেছে তাঁর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভরসা দেখে। চব্বিশ সালের পরে যখন মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অপমান স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠেছিল, তখন তিনি নিয়মিত এই সব অন্যায়ের সংবাদ প্রকাশ করেছেন। যখন সবাই হাত ছেড়ে দিচ্ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রতি, তখন তিনি প্রকাশ করেন তিন খণ্ডের বিশাল এক বই, নাম—‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’। তিন খণ্ড মিলিয়ে এর আয়তন হলো ১ হাজার ৪৯৬ পৃষ্ঠা! মুক্তিযুদ্ধের ওপরে দারুণ একটা কাজ। প্রথম খণ্ডে আছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালির সংগ্রাম, গৌরব, বেদনা এবং শিকড়ের ইতিহাস। দ্বিতীয় খণ্ডে করা হয়েছে ‘শেষ রণক্ষেত্র’ স্মরণে রেখে বাঙালির বহুমাত্রিক জনযুদ্ধের ইতিহাস। তিন নম্বর খণ্ডে আছে ছবি। দুর্লভ সব ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে এই খণ্ড। এমন একটা বই এই সময়ে প্রকাশ করা যে কত বড় সাহসের কাজ এইটা যারা এই বাংলাদেশে থাকছে তারাই সম্ভবত একটু আধটু বলতে পারবে, বুঝতে পারবে। ... ...

এগুলো কেন লিখলাম তাই বলা হয় নাই আসলে। লিখলাম এই কারণে যে, লালনসংঘ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় মিলে কবীর-লালন উৎসব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ২৫ সেপ্টেম্বর শেরপুর শিল্পকলা একাডেমিতে ময়মনসিংহ বিভাগের আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গা থেকে। নানান রঙের যে ভণ্ড আছে দেশে, তারা প্রশ্ন তুলছে কেন লালন উৎসব কবীরকে সাথে নিয়ে করতে হবে? এর মধ্যে তারা ভারতীয় আধিপত্য দেখছে, আগ্রাসন দেখছে, দেশ নিয়ে গেল ইন্ডিয়া দেখছে! কিছু কুযুক্তি তোলা হয়েছে। দেশের এত এত বাউল সাধক রয়েছেন, তাহলে কেন তাঁদেরকে বাদ দিয়ে ভারতের কবীরকে নিয়ে উৎসব করতে হবে? এগুলো হচ্ছে কুযুক্তি। মনে হবে, তাই তো, এ আবার কোন কথা? কিন্তু প্রশ্নটাই যে ভুল, তা আর কেউ বলবে না। প্রশ্নটা কেন এইটা হচ্ছে, তা না হয়ে হওয়া উচিত ওগুলো কেন হচ্ছে না! সেগুলো কেন হচ্ছে না তা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন তোলেন, তোলা উচিত। কিন্তু এটা কেন হচ্ছে, এইটা গোলমেলে আলাপ। আমি যতদূর জানি, এইটা হওয়ার জন্য দেশের লালনভক্তরা বেশ লম্বা সময় ধরেই চেষ্টা করে যাচ্ছিল। লালন বিশ্বসংঘের সাথে খুব ভালোভাবে জড়িত অনেকেই আমার কাছের বন্ধু হওয়ায় এইটা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে। এতদিন পরে তাদের চেষ্টা সাফল্যের মুখ দেখল। ... ...

এক কালের বোরিং ব্যাঙ্কিং ব্যবসা ক্রমশ নিচ্ছে আরেক চেহারা - টাকা জমা নেওয়া এবং ধার দেওয়াতে সীমিত নয়, তার রঙ রূপ বদলায় দ্রুত গতিতে। ধার মানে এখন শুধুই ডেবিট ক্রেডিট এন্ট্রি নয়, সেটি কখনো ক্রেডিট ডেরিভেটিভ, কারেন্সি ফরওয়ার্ড কখনো ইউরোপিয়ান অপশন, মেয়াদি জমার নাম স্টিকি ডিপোজিট, বেশি টাকা জমা দেন যারা তাঁরা হাই নেট ওয়ারথ ইনডিভিজুয়াল, তাঁদের সম্পত্তির দেখভাল করেন ওয়েলথ ম্যানেজার। এই সম্পত্তি আহরণের জন্য ছুটোছুটি, খদ্দেরকে পান ভোজনে, উইম্বলডন টেনিসে, লর্ডসে ক্রিকেট ম্যাচে আমন্ত্রণ করতে হয়। পাল্লায় পড়লে যতদূর সম্ভব তাকে কাটুন, ভাব বাচ্য ( প্যাসিভ ভয়েস) এড়িয়ে চলুন, স্বল্প চেনা বিদেশি শব্দের মার প্যাঁচ দেখাবেন না। যে শব্দালঙ্কার আপনার পাঠক চেনেন না সেগুলি টেনে এনে বিদ্যে জাহির না করাই ভালো। অনেককাল পরে বিজ্ঞাপন জগতের অবিসম্বাদিত সম্রাট ডেভিড অগিলভি তাঁরই প্রতিধ্বনি করেছেন। কিন্তু দিন বদলেছে ; এই বাজারে টিকে থাকতে হলে পছন্দ হোক না হোক জারগনের সঙ্গে বিরোধ নয়, তাকে জেনে শুনে চিনে সেই দলেই নাম লেখানোর দিন। ইফ ইউ কান্ট বিট দেম, জয়েন দেম ! ... ...

আজ ৫-ই সেপ্টেম্বর। আজ শিক্ষক দিবস। আজ গৌরী লঙ্কেশের চলে যাওয়ার দিন। ২০১৭ সালের ঠিক এই দিনেই সন্ধ্যে আটটার একটু পরেই, খুন হন গৌরী লঙ্কেশ। সেই মুহূর্তের বর্ণনা বহুলপঠিত। তবুও বইটি পড়তে পড়তে শিউরে উঠি পড়ে, কল্পনাপ্রবণ বলেই হয়তো স্পষ্ট দেখতে পাই, "সিঁড়ির প্রথম ধাপে তিনি হুমড়ি খেয়ে পড়লেন। তাঁর হালকা নীল কুর্তায় রক্ত ছড়িয়ে পড়ল। তাঁর নড়বড়ে চটিটা তখনো তাঁর পায়ে সেঁটে ছিল।" ... ...

কেন্দ্রীয় সরকারের সবচেয়ে বড় দক্ষতা-প্রশিক্ষণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা, সংক্ষেপে PMKVY বা স্কিল ইন্ডিয়া। ২০১৫ থেকে ২০২২, তিন পর্বে সরকার এই প্রকল্পে ছেড়েছে ১০,১৯৪ কোটি টাকা, আর সার্টিফিকেট দিয়েছে ১ কোটি ১০ লক্ষ জনকে। খাতায় কলমে এর উদ্দেশ্য - দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে রুজিরুটির একটা ব্যবস্থা করা। যদিও আসল উদ্দেশ্য ব্যাপক দুর্নীতি ও চুরি। ২০২৫ সালে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহাগণনা পরীক্ষক, অর্থাৎ CAG, এই প্রকল্পের একটা পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করেন, রিপোর্ট নম্বর ২০। সেই রিপোর্টে অল্প চোখ বোলালেই বোঝা যায়, হিসেবের খাতায় এল-এইচ-এস আর আর-এইচ-এসের মধ্যে আর ইজুকালটু নেই। এক বাঁও মেলে না, দো বাঁও মেলে না, আসলে বিশ বাঁও জলে আমাদের তরুণের স্বপ্ন। তিনটে উদাহরণ দিলেই ছবিটা মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যায়। ... ...

এই সব কাওমি মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি পড়ে কারা? গরীব এতিম বাচ্চারা। এখন একবার ভাবেন, একটু মাথাটা চুলকিয়ে চিন্তা করেন কবে আপনি শুনছেন মাদ্রাসায় ছেলে শিশু ধর্ষণ হয়েছে আর সে এতিম ছিল? মনে পড়ে? কোনদিন শুনছেন এমন ঘটনা? তার মানে কী? এতিম বাচ্চাদের কেউ ধর্ষণ করে নাই আজ পর্যন্ত? উত্তরটা চিন্তা করে কি এখন শিউরে উঠছেন? ঠিক তাই! এতিম বাচ্চাদের ধর্ষণের খবর প্রকাশই হয় না। এদেরকে নিকট আত্মীয় যারা আছে তারা দায় সারার জন্য এগুলা মাদ্রাসায় দিয়ে যায়। এদের দেখার কেউ নাই, শোনার কেউ না। এদের মত অসহায় কেউ নাই। যাদের মা বাবা আছে তারা একটা সময় ধরতে পারে যে তার বাচ্চার কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে, আদরেই হোক যেভাবেই হোক তারা শেষ পর্যন্ত ধরতে পারে। যদিও এদের মধ্যেও অনেক গল্পই প্রকাশ পায় না। আর এতিম বাচ্চাদের ক্ষেত্রে? কে প্রকাশ করবে? রক্ষক হচ্ছে ভক্ষক সেখানে, রক্ষা করবে কে? এখন একবার চিন্তা করেন তাহলে, মাদ্রাসায় নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিমাণ কত তাহলে? কত শতাংশ প্রকাশ পায়? কত বড় একটা কুৎসিত দিক আমরা দেখেও না দেখার ভান করে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছি? লজ্জা ঘৃণায় বমি আসে আমার এই সব চিন্তা করলে। ... ...

যে রিজভি ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে নিজের স্ত্রীর শাড়ি পুড়িয়ে ফেলেছিল সাংবাদিকদের সামনে সেই রিজভি এখন চুপ। কেউ আদানি বা লীগের এমন একটা চুক্তি নিয়েও কথা বলে না যেটা প্রমাণ করে লীগ দেশ ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। কত অপেক্ষা করলাম এমন একটা চুক্তি দেখব যে দেশের সার্বভৌমত্ব দিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতকে বা দেশের সমস্ত খনিজ সম্পদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতকে বা এমন ধরণের কিছু। কিন্তু উল্টা দেখলাম ভারত আমাদের নানা সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে বিপদে ফেলে! আমাদের পণ্য নাকি ভারতের পোর্ট থেকে রপ্তানি হত! সেই সুবিধা বন্ধ। এদিকে আলু পেঁয়াজ তো আছেই, না আসলেই বিপদ। এই সব বিপদে থাকব আবার সুযোগ পাওয়া মাত্র চিনেক নেক, সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ডর দেখানোর চেষ্টা করব! এই হল আমাদের অবস্থা। ... ...

ব্রিটেনের ডেভিড ম্যাকেঞ্জি অগিলভিকে পশ্চিমের আধুনিক বিজ্ঞাপন এবং ব্র্যানডিঙের পিতা বলে মান্য করা হয়ে থাকে। এক টেক ওভার টেক ওভার লড়াইয়ের সময়ে ডেভিড অগিলভির মতন এক প্রখর ব্যক্তিত্বকে অন্তত একটু দূর থেকে দেখার, তাঁর কথা শোনার সৌভাগ্য হয়েছে। মনে আছে কোন প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, অ্যাডভারটাইজিং ইজ কমিউনিকেশন উইথ দি মাসেস। ইয়োর বিজনেস ইজ কমিউনিশন উইথ এ ফিউ অ্যাট এ টাইম‘। তাঁর বইতে তিনি লিখেছেন, ‘ আমাদের ব্যবসায় নির্বোধের ছড়াছড়ি, এঁরা মনে করেন দুর্বোধ্য জারগন দিয়েই দুনিয়া জয় করা যায়। আপনি যদি কিছু বিক্রি করতে চান বা মানুষকে মুগ্ধ করতে অথবা বোকা বানাতে চান তাদের ভাষায় লিখুন, জারগনের কেরামতি দেখাবেন না। চেনা শব্দে মোচড় দিয়ে নতুন ফ্রেজিওলজি বানানোর পেছনে কি কোন গভীর উদ্দেশ্য নিহিত আছে ? জর্ডান কনরাড নামক নিউ ইয়র্কের এক সাইকো থেরাপিস্ট হালে বলেছেন আমাদের দৈনন্দিন শব্দ ও বাক্যাংশ চয়নের মুখ্য উদ্দেশ্য দুটি : বার্তা বিনিময় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সুরক্ষা। হয়তো এই দ্বিতীয় কারণে আমরা শব্দ চয়নের সময়ে তার সম্ভাব্য ঘাত প্রতিঘাতের বিষয়টি মাথায় রাখি। কথাটা ভেবে দেখার মতন। ... ...

রাহুল আনন্দ লিখেছেন - "পেছন ফিরে তাকাতে ভয় হয়... কদাকার সব কথা আর কাহিনী ভেসে ওঠে... তোমাদের আন্দোলনের স্লোগান ছিল - "দাবায়া রাখতে পারবা না", "বঙ্গবন্ধুর বাংলায়—বৈষম্যের ঠাঁই নাই।" সেই তোমরাই ৫ আগস্ট পাশবিক উল্লাসে আগুন দিয়েছো বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে !খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মুছে ফেলেছো মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতিচিহ্ন! তখনই আমি জেনে গেছি... বুঝে গেছি... পেয়ে গেছি আমার প্রাপ্যটুকু! আমার, নাকি তোমার প্রাপ্য? কে জানে? আজ তোমার সুখের দিন হলেও, আমার জন্য বেদনার... শোকের... শক-এর... সব হারানোর... সত্যের মুখোমুখি হওয়ার... কারও প্রতি কোনো অভিযোগ করিনি। বিচার চাইনি...ক্ষতিপূরণ দাবী করিনি। কোনো দুঃখ নেই। বলিনি ন্যায় কিংবা অন্যায়ের কথা। সবকিছু সামলে উঠতেই সময় লেগেছে ঢের! এখনো পোড়া ঘা-এর জমে উঠা হলদে-সাদা পুঁজের দুর্গন্ধে নিজেরই বমি পায়। যা হারিয়েছি, তাও শুধুই আমার নয়। দুষ্প্রাপ্য হাজারো অচেনা বাদ্যযন্ত্রগুলো তোমারও ছিল। শাহ আব্দুল করিম আর উকিল মুন্সী, অবিনাশ শীলের দোতারা ফেরত আসবে না আর কোনদিন! আমার শিক্ষক আইয়ুব বাচ্চুর দেয়া Korg Karma কিবোর্ডটা, আমার গুরু বারী সিদ্দিকীর নিজের হাতের বানানো বাঁশিগুলো...আরো কতো কি... ! সংগ্রহটা বাংলাদেশের ছিল। আগামী প্রজন্ম ছিল এর উত্তরাধিকারী। সারাজীবনের সব সংগ্রহ বা সঞ্চয়, যা হারিয়েছি, তাতে কোনো দুঃখ নেই আর... আছে শুধু অভিমান। আমার গানেও আছে... "শিরার শিরায় স্বপ্ন আমার- ভীষণ অভিমান" ... ...

ঘটনাবহুল বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ শেষ হচ্ছে আজকে। ফুটবল বিশ্বকাপ সব সময়ই অন্য এক আমেজ। এই ভূগোলকে এর সাথে তুলনা হয় এমন আর কিছুই সম্ভবত নাই। পুরো বিশ্ব এক সময়ে, এক দিকে তাকিয়ে থেকে কাঙ্ক্ষিত দলের জয় কামনা করে। এ এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড না? আমাদের ছোট্ট শহর শেরপুর, এখানে এই মধ্য রাতে খেলা দেখার কত আয়োজন! বিশাল বড় স্ক্রিন লাগান হয়েছে। যার যার দলের সমর্থকেরা এসে হাজির হচ্ছে। খেলা দেখতে গিয়ে তুমুল ঝগড়াও হচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে এক এক বিশাল আয়োজন। ঢাকার আয়োজন তো ইতোমধ্যেই সারা পৃথিবীর বুকে আলোড়ন তৈরি করেছে। আর্জেন্টিনা থেকে আর্জেন্টিনাবাসি আসছে ঢাকায় খেলা দেখার জন্য! অবিশ্বাস্য না? ব্রাজিলের চ্যানেল লাইভ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির মাঠ থেকে। সবাই অবাক হয়ে দেখছে এ কেমন উম্মাদনা! গতকাল দেখলাম এক আর্জেন্টাইন টুরিস্ট কাপল থাইল্যান্ড ঘুরতে আসছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে গেছে ভিসার জন্য, ফাইনালটা তারা ঢাকায় দেখতে চায়! এই সবই বিশ্বকাপ ফুটবলকে এমন এক মাত্রা দেয় যা অন্য কোনকিছু দ্বারা সম্ভবই না। ... ...

উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাসে বাংলা প্রবাদ, ইংরেজি ফ্রেজ ইডিয়ম এবং তার প্রয়োগ অবশ্য পাঠ্য ছিল। ‘ তুমি যে ডুমুরের ফুল ‘ লিখলেই হবে না, তাকে মাত্র কখনো সখনো দেখা যায় বলেই যে সে এই কৌলীন্য অর্জন করেছে বাক্যের মধ্যে সেটি বোঝাতে হবে। নইলে মাথায় দুটি চাঁটি অবধারিত। বাংলা ইংরেজির প্রবাদ প্রচলনে জানা গেল কিছু বাক্যাংশ দু ভাষাতেই মেলে, একটু অন্য চেহারায় যেমন ‘ নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা ‘ আর ‘ এ ব্যাড ওয়ার্ক ম্যান কোয়ারলস উইথ হিজ টুলস’, যেমন ‘ অমাবস্যার চাঁদ’ আর ‘ ব্লু মুন’। ব্যতিক্রমও পেলাম – ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি নামক শহরে কেউ যেতে চাইতেই পারে কিন্তু জানতে হয়েছে কোনো মানুষকে সেখানে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া মানে তাকে দূর করে দেওয়া ( সেন্ড হিম টু কভেন্ট্রি )। টার্ন অফ ফ্রেজ শুধু কথার মার প্যাঁচ নয়, তার মধ্যে আছে সুপ্ত কৌতুকের আভাস। একটি কথাকে অন্যভাবে বলা, তার অর্থকে নিয়ে খেলা করাটা বুদ্ধির মধুর ব্যায়াম। কিন্তু তারও ভোল বদলাতে থাকল নয়ের দশকে। ইন্টারনেট টেকনোলজি কেবল এক নতুন যুগের সূচনা করে নি, তার প্রয়োগশালা অ্যাংলো কলা কৌশল সম্বলিত বাচন যার ভেতরে অনেক চেষ্টা করেও কোন বুদ্ধিদীপ্ত ভাবনার ইঙ্গিত খুঁজে পাই নি। কিছু নামি সি ই ও যেমন কালো টারটল নেক পরা স্টিভ জবস, অনেক মাথা মুণ্ডুর মালিক, ইনহিউমান রিসোর্সের সঞ্চালকবৃন্দ এমন স্টাইলিস্ট কেতায় তার যথেচ্ছ ব্যবহার করলেন যে অনুগামীবর্গ, , প্রেস, পাঠক এবং বৃহত্তর কর্ম জগত নির্দ্বিধায় তাকে মেনে নিলো। আহা বেশ, এই বুঝি নতুন বিজনেস ল্যাঙ্গুয়েজ, এই তব নব মেঘদূত ! অপূর্ব অদ্ভুত ! অন লাইনে চলিয়াছে অলক্ষ্যের পানে। ... ...

যে ভিডিওর কথা বলছি সেখানে যে রণ সঙ্গীত বাজানো হচ্ছিল তা কোন নিরীহ রণ সঙ্গীত না। ওইটা ছিল আইএসের তৈরি করা একটা সঙ্গীত। সাবির নিজেকে আমির বলে দাবি করত। সে উপরে যে লিখলাম কলেমার পতাকা দিয়ে দেশ ভরতি করে ফেলেছে সেই দলেরই লোক। সে গণতন্ত্রকে কুফরি বলছে, হারাম করছে, খেলাফতের জন্য সবাইকে আহবান করছে। গত বছর যশোরে এক লোকের ইজি বাইক চুরি হয়, ভুক্তিভুগি থানায় অভিযোগ করলে জানা যায় এইটা সাবিরের লোকের কাজ। সাবির এর পক্ষে যুক্তি দেয় এইটা সারিয়া! সারিয়া কী? নবীর আমলে যে সব সামরিক অভিযানে নবী অংশ নিতো না তাকে সারিয়া বলা হত! বুইঝেন কিসের সাথে কী মিলাচ্ছে এরা। কেন এইটা সারিয়া? কারণ যার ইজি বাইক চুরি করছে সে হিন্দু ধর্মের অনুসারী, নাম কমল বিশ্বাস!! হিন্দুদের জিনিস কেড়ে নেওয়া যায় আবার ওইটাকে ধর্মের নামে জায়েজ করা যায়। আচ্ছা, এখানেই শেষ না, সাবির আটক হওয়ার পরে সবচেয়ে যে জোরেশোরে আওয়াজ তুলে তিনি কে? বিক্রমপুরই নামের চিহ্নিত জঙ্গি। একে ইউনুস সরকার মুক্তি দিয়েছে। সে মুক্তি পাওয়ার পরদিন থেকেই তার কাজ শুরু করে দিয়েছে। একদিনও বিশ্রাম নেয়নি। সেইই কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে সোজা বলেছেন যে এখন ছেড়ে দিতে হবে জামাতের নেতাদের, জঙ্গি হিসেবে যারা আটক আছে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। কোন কাগজপত্র নাই, আইন কানুন নাই, এখন ছাড়তে হবে নাহ হলে সেখানে যে পুলিশ ছিল তাদেরকে দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকিও দিয়েছে! এই পুতপবিত্র মালটা যে সাবিরকে বাঁচাতে আওয়াজ তুলবে তা তো জানা কথাই, তাই না? একদিকে পুলিশ জঙ্গি সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে অন্য দিকে ক্রমাগত বলে যাচ্ছে দেশে কোন জঙ্গি, উগ্রবাদী নেই! বিক্রমপুরি এগুলা দেখে আর হাসে সম্ভবত। ... ...

ইংরেজির ভাণ্ডারে বিবিধ রতন এবং তার শোভা দেখে মাথা ঝিম ঝিম করছে। এমন সব শব্দের দেখা পাই, অবস্থান ও প্রয়োগ বিচারে যাদের অর্থ বদলে যায়। ভাষা এক জীবন্ত প্রাণী; একই শব্দ, ফ্রেজ ব্যবহারের গুণে আনে নতুন ব্যঞ্জনা। যতদিন না জনসনের বসওয়েল বা সুনীতি চাটুজ্যের মতন কোন মনীষী অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফ ফাইনান্সিং পারলান্স নামক একটি থান ইট প্রস্তুত করছেন ততদিন এই শব্দ সম্ভারের কপি রাইট বিতর্কিত থেকে যাবে, কেবল মাত্র ওয়াল স্ট্রিট বা লম্বারড স্ট্রিটকে সেটি দেওয়া যাবে না। কিন্তু মেনে নিতেই হয় এই জিতা জাগতা জুবান একদিন ব্যাঙ্ক, ষ্টক মার্কেট, আই টি এবং কর্পোরেট মহলের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে ঢুকে পড়েছে জেনটেলমেন্স ক্লাবে, হাউসেস অফ পার্লামেন্টে, এম সি সি প্যভিলিয়নের হর্ম্য মণ্ডিত হলে। প্রতি বছর কনসাইজ অক্সফোর্ড ডিকশনারির কাজ বাড়ে। আজকের সামাজিক মাধ্যমের গতি তীব্র ও ব্যাপ্তি বিশাল হলেও দেশ ভেদে ইংরেজি ভাষার শব্দ চয়নে ও অর্থে বিস্তর ফারাক থেকে গেছে। বাংলা সাহিত্যের ক্লাসে অর্থ বিস্তার পড়েছি ; যেমন গঙ্গা একটি নদীর নাম, তা থেকে পেয়েছি গাঙ, গ্রামের এলে বেলে জলধারাকে সে নামে ডাকা যায়। হয়তো এমনটা ঘটেছিল শিল্প বিপ্লবের আমলেও। গত চার দশকে তারই পুনরাবৃত্তি দেখি, অর্থনীতিক, বাজারি জগতে। সেখান থেকে উদ্ভূত শব্দ অথবা বাক্যাংশ চালু হল মুখে মুখে। তারই গৎ পরের পর্বে। পরিশেষে একাকি কথকের এ নহে তো আসর ; তাই পাঠকের সক্রিয় সংযোজনা, পরামর্শ, সম্যক এবং যে কোন আলোচনা একান্ত প্রার্থনীয়। ... ...

৮১ ফিট উচ্চতার রাম মূর্তি বানানো হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল এইটা এশিয়ার সবচেয়ে বড় রাম মূর্তি। এই মন্দির প্রাঙ্গণে শিব ও কৃষ্ণের মূর্তি আগে থেকেই ছিল, এখন রামের মূর্তি বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু কাজ স্থিগত করা হয়েছে। এই জিনিস আর আলোর মুখ দেখবে না। অন্তত এখনই দেখার কোন সম্ভবনা নাই। বাংলাদেশের সুশীল সমাজ ফুল পাখি লতাপাতা নিয়ে ব্যস্ত আছে। কেউ একটু মৃদু গলা খাকড়ি দিয়ছেন।ভালো হচ্ছে না কিন্তু বলে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছেন তারা। সংসদ চলছে, সেখানে অন্য সবার সাথে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনও আছেন। তারা কেউ একটা শব্দ পর্যন্ত করে নাই এখন পর্যন্ত। সংসদে তো নাইই সংসদের বাহিরেও কোন উচ্চবাচ্য নাই। সংসদে দেখলাম কোন শিবির নেতা গার্ল ফ্রেন্ডকে প্রেগন্যান্ট করে পালিয়েছিল, তাকে গুম করা হয়েছে বলে জামাতের আমিরও চিল্লাফাল্লা করেছেন। এখন সেই পোলা ধরা খাইছে। এইটা নিয়া সরকারি আর বিরোধী দল ব্যাপক তর্ক করে চলছে।এই ফাঁকে বগুড়ায় তিনটা মন্দির ভাঙা হয়েছে, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় নাই। ... ...

রামিসা হত্যাকাণ্ডের পরে নানা জায়গা থেকে দেশে শরিয়া আইন চাওয়া শুরু হয়ে গেল! বেশ কয়েকজন হুজুর মতবাদ দিয়ে দিলেন শরিয়া চালু হলেই এগুলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হুজুরদের সাথে সাথে ভণ্ড গুলো সব একই স্বরে হুক্কাহুয়া শুরু করে দিল। এক উৎকৃষ্ট ছাগল, যার নানান কিচ্ছা অনলাইন অফলাইনে সয়লাব হয়ে আছে, সেও শরিয়া আইন চায় দেশে! গোলাম মাওলা রনি তাকে নিয়ে মজা করে বলেছেন জেনা করলে শরিয়া আইন অনুযায়ী একশ বেতের বাড়ি দিতে হয়। যে ছাগল শরিয়া চাইছে তার কথা তিনি বলছেন যে তাকে এই অপরাধে বেত মারা শুরু করলে কেয়ামতের সময় হয়ে যাবে, ইসরাফিল ফেরেশতা এসে তাগদা দিবে ওর বেত মারা দ্রুত শেষ করার জন্য, বলবে তাড়াতাড়ি শেষ করেন, শিঙ্গায় ফু দিতে হব! ... ...

সেদিন কিছুক্ষণ পরে পরেই শুনি এই যে আসতেছে হেফাজতে ইসলাম শাহবাগের দিকে। আমি কোনদিন মিটিং মিছিলে যাই নাই। মারামারি করার ছেলে আমি না। জীবনে দুই একবার মারামারির যে ঘটনা তা হচ্ছে আমিই মার খেয়ে বাড়ি ফিরেছি! সেই আমি বসে আছি রাস্তায়। রোড ডিভাইডারের মধ্যে গাছ লাগানো ছিল, কাছের সাথে বাঁশ দিয়ে খুঁটি দেওয়া ছিল। আমি দৌড়ে এগুলা একটা বাঁশ নিলাম, আমার সাথে আরেকজন, আমরা দুইজন একটা বাঁশ ভেঙে দুই টুকরা করে নিলাম। একবার হেঁটে মৎস্য ভবনের দিকে যাই, আবার হেঁটে শাহবাগ আসি। এসে বসে থাকি, উত্তেজনায় টগবগ করে রক্ত ফুটছে। আবার টিএসসির দিকে যাই। আবার শাহাবাগ। এই চলল সারাদিন। মঞ্চে কে কী বলছে তা ঠিকমত শুনিইও নাই। পুরো বিষয়টা ছিল অস্তিত্বের প্রশ্ন। বিকালের দিকে পাকা খবর আসল তারা আগানো শুরু করছে এদিকে।এক সাংবাদিক মোটর সাইকেলে করে এসে খবর দিল এইটা। তারা এদিকে আসতেছে। পুলিশ সামনে আমরা পিছনে। আমরাও আগানো শুরু করলাম। মৎস্য ভবনের দিক থেকে আসতেছে। আমরা আগাচ্ছি। পুলিশ সামনে থেকে কিছু টিয়ার শেল মারল। হুট করেই কী হল জানি না, সবাই দৌড় দিল, মানে আক্রমণ! পুলিশকে অতিক্রম করে আমরা রমনা পার্কে ঢুকে গেলাম। হেফাজতের কর্মীরা শেষ মুহূর্তে সাহস হারায়। তারা শাহবাগে না এসে কাকরাইলের দিকে চলে যেতে চাচ্ছিল সম্ভবত। আমাদের শুরু ধাওয়া দেওয়া। এখন অনেকেই বলে যে ওরা আসলে আক্রমণ করতে আসে নাই, এদিক দিয়ে চলে যেতে চাচ্ছিল! মানে যুক্তির কোন আগামাথা নাই আর কী! এখানে, এই শাহবাগকে ঘিরেই ওদের এই আন্দোলন, এর উপর দিয়ে ওরা চলে যাওয়ার জন্য আসতেছিল? সারাদিন তাণ্ডব চালিয়ে এখন এই পথে বাড়ি ফিরতে চাচ্ছিল ওরা? ... ...

আর তো কয়েক ঘণ্টা। তারপরেই বোঝা যাবে বাঙালির আসল মিরজাফর কে? সেটা কি বিজেপিতে আস্থা রাখা বাঙালি নাকি বামের ভোট রামে দেওয়া সিপিএম। ... ...

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের বৈজ্ঞানিক গবেষণা-ভিত্তিক ওয়েবসাইট সায়েন্সের বরাদ দিয়ে ডেইলি স্টার লিখেছে যে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সেই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে বলেছিলেন, "দয়া করে… ঈশ্বরের দোহাই, এটা করবেন না,” কিন্তু না, তার কথায় কাজ হয়নি। সরকার কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই টিকা কেনা বাতিল করে। এবং দরপত্র আহবানেও দেরি করে। যতদিনে দরপত্রসহ নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা শেষ হতে যায় ততদিনে দেশ টিকা শূন্য হয়ে যায়। এই ঘাটতি আর পূরণ হয় না, এখন পর্যন্ত না! এবং এত বড় একটা নির্মম ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিকার থেকে যায় সেই সময় সরকার। মানুষ এর কথা জানা শুরু করে যখন শিশু মৃত্যু শুরু হয়। মানুষ বিশ্বাসই করতে পারছে না হামের মত রোগে প্রাণ যাচ্ছে প্রাণের চেয়ে প্রিয় সন্তানের! ... ...

তো এইসব নিয়েই গুরু। গুরুর ক্যাবিনেটে অনেক আরশোলা। হিট স্প্রে করার ইচ্ছা কারুরই নেই। শুনেছি রাজহাঁস দুধ জলের মিশ্রণ থেকে কেবল দুধ ছেঁকে খেতে পারে। তাই আমিও আট বছর ধরে গোবিন্দভোগ চাল থেকে আরশোলার নাদি বেছে খাই। নাদির জন্য চাল তো আর ফেলে দিতে পারি না। যখন কিছুদিন ভাত ভালো লাগেনা, রুটি খাই। সে আটায় নাদি নেই। ... ...

আমাদের হাউসিং সোসাইটির একটি বিষয়ে কথা বলতে সেদিন গেছিলাম পাশের টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাটে। দরজা খুললেন সুরঞ্জনা। ওনার স্বামী অমিতবাবু তখন নয়ডাতে শুনে চলে আসছিলাম। উনি বলেন, আসুন না, আমায় বলতে পারেন কী ব্যাপার, আমিও এই ফ্ল্যাটের জয়েন্ট ওনার। রাতে ওকে ফোনে বলে দেবো। ঘরে বসে কথা বলছি, দুটি সমবয়সী ছেলেমেয়ে - বছর পাঁচেক বয়স হবে - খেলছিল। বয়সের এত কম ব্যবধানে দুটি সন্তান হয় কি? জিজ্ঞাসা করি, ওরা কি যমজ ভাইবোন? সুরঞ্জনা হেসে বলেন, হ্যাঁ। ঐ ছোট্ট স্ফূলিঙ্গ থেকে নেটসাগরে মানবজন্ম নিয়ে কৌতূহলের জাল ফেলতে গিয়ে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছিলাম জটিলতায়। মনে মনে প্রণাম করছিলাম অচেনা সেইসব বিজ্ঞানীদের যাঁদের বহুদিনের অন্বেষণে ক্রমশ উন্মোচিত হচ্ছে মানবশরীরের নানা বিষ্ময়কর কার্যকলাপ। শারীরবিদ্যা আমার ক্ষেত্র নয়। তাই জাল ফেলে প্রাপ্ত ধারণার কিছুটা ধরতে চাইলাম রম্যরসময় আঙ্গিকে। এটা সিরিয়াস অ্যাকাডেমিক নিবন্ধ নয় - নিছক শখের মজদুরী। ... ...