
যে কৌশলেই হোক তারা নিজেদের ন্যায়ের পক্ষের লোক, সৎ লোক হিসেবে উপস্থাপন করতে পারছে। অনেক মানুষের মনে ঢুকাতে পারছে এইটা ধর্মীয় দল, হারলে ধর্ম হেরে যাবে। এত এত আকাম কুকামের খবর সামনে আসে তবুও দেখবেন নিরেট মাথার লোকজনের মনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই এই সব নিয়ে। যুদ্ধে সব জায়েজ বলে সব আকামকে জায়েজ বলে দিচ্ছে! আমি একদম চাক্ষুষ দেখে বলছি, জামাতের অনেকেই এইটাকে জিহাদ মনে করে। মনে করে ইসলাম কায়েম করার জন্য তারা এখন জিহাদ করছে। তাই এতে অনেক কিছুই করা হবে যা অস্বাভাবিক লাগবে! এই যে জামাতে ভোট দিলে বেহেশত, জামাতে ভোট দিলে ধর্মের সেবা করা হবে এমন নানা উদ্ভট প্রলাপ যে তারা বকে, আপনার কী মনে হয় এইটা ওরা জানে না যে এইটা উদ্ভট প্রলাপ? জানে, তারপরেও কেন বলে? কারণ বলতে বলতেই বহু মানুষের মনের উপরে চাপ তৈরি করে ফেলতেছে ওরা এই ব্যাপারে। এইটাই কৌশল, ধর্ম আর দলকে এক করে ফেলা। এবং এরপরে দলের বিরুদ্ধে কিছু বললে তাকে ধর্মের বিরুদ্ধে বলা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া। ... ...


টানাটানির মধ্যেই কারা হেফাজতে মারা গেছেন সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। এই নিয়ে অন্তত একশজনের উপরে মারা গেলেন লীগের কর্মী কারা হেফাজতে! রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে মির্জা ফকরুল শোক বার্তা দিয়েছেন। তার বাড়িতে গিয়েছে। অথচ সত্য হচ্ছে এই লোকে ভুয়া মামলায় জেলেও পাঠিয়েছেন মির্জা সাহেবই! এইটাই হচ্ছে আইরনি! এই আইরনি সব জায়গায়ই হচ্ছে। আমার আসনে যে এখন পিপি, আইনজীবী সমিতির সভাপতিকে সাথে নিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন যে লীগের কর্মীদের মামলা তুলে নেওয়া হবে, কাওকে ধরবে না পুলিশ, তিনি নিজেই এই সমস্ত মামলার ব্যবস্থা করেছেন, উচ্চ হারে চাঁদা খেয়েছেন! লীগের লোকজন এখন কী খেয়ে মাতাল হলে এদের কথায় নাচবে? সব জায়গায় একই অবস্থা। ... ...

জামাতের আমির সরাসরিই বলছে যে তাদের দলে নারীরা কোনদিন ক্ষমতার শীর্ষে যেতে পারবে না। তাদের নিয়মেই নাই। এইটা ভালো হল না? ভনিতা না করে বলেই দিছে যে এগুলা এখানে চলবে না। জামাতের নারী শাখার একজন, নাকমুখ কঠিন করে কাপড় দিয়ে প্যাচ মেরে আমাদেরকে জানাল যে তারাও এইটা মেনেই জামাতের রাজনীতিতে আসছে। আল্লা নারীদেরকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তৈরি করে নাই। পুরুষ নারীকে চালায় নিয়ে যাবে এইটাই হচ্ছে নারীর নিয়তি! পরিচিত লাগে এগুলা? আমাদের অতি পরিচিত আফগান জিলাপির মত লাগে? এক সময় এগুলা বহুদূরর মনে হত। এখন আর তা মনে হয় না। কারণ দূরে আর নাই। এখন প্রতিনিয়ত শরিয়া আইনের আলাপ শুনি চায়ের দোকানে! মানুষের মুখে মুখে এই সব কথাবার্তা। এক সময় এই দেশের মানুষ মিছিল করছে আমরা সবাই তালিবান, দেশ বানাব আফগান! তখন হাসছি হা হা করে। এখন নিজেদের হাসি আমাদের দিকেই ব্যাঙ্গ করছে সকাল বিকাল! ... ...

ভারতে বাংলাদেশী সন্দেহে ভারতীদেরই ধরে ধরে মারা হচ্ছে। সত্যিকারের বাংলাদেশীদের পাইলে কিছুই করবে না? আমার পরিচিত একজন চিকিৎসা নিতে চেন্নাই গিয়েছিল। প্ল্যান ছিল ফেরার সময় কলকাতা হয়ে ফিরবে, শপিং করে টরে ফিরবে। রীতিমত দৌড়ানই খেয়ে জান হাতে নিয়ে চলে আসছে তারা! সেখান থেকেই বিমানে চলে আসছে দেশে। আমার বোন ভগ্নীপতি চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সমস্ত পরিকল্পনা করেছিল, তাদের এই কাহিনী শুনে তারা এখন পিছাচ্ছে। হয়ত অন্য কোথাও যাবে। তো, এইটা একটা বাস্তব সমস্যা। এর সমাধান কী দেওয়া হয়েছে? আইসিসি তো শুধু খেলোয়াড় আর অফিসিয়ালদের দায়িত্ব নিত, সাংবাদিক, সমর্থকেরা নিরাপদ থাকত? এই বিষয়টা কি ভেবে দেখা হয়েছে? এর জবাব কী দিয়েছে তারা? এখন সাংবাদিকদেরও প্রবেশ অধিকার দিচ্ছে না আইসিসি! এইটা কেমন? যাই হোক, আমার মনে হয় ঠিকঠাক পদক্ষেপ নিলে এগুলারও নিশ্চয়ই সমাধান বের করা যেত। ... ...

আমাকে এখন বলা হচ্ছে আমার এই অনুভূতির কোন দাম নাই। আপনি এগুলা ভুলে গিয়ে নতুন করে সব শিখুন! অথচ মানুষ চাইলেও নিজের জাতিসত্তাকে বদলে দিতে পারে না। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন "আমরা হিন্দু-মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য যে আমরা বাঙালি। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। মা-প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারা ও ভাষায় বাঙালির এমন ছাপ মেরে দিয়েছেন যে মালা-তিলক-টিকিতে এবং টুপি-লুঙ্গিতে দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই।" এই পরিচয় মুছে ফেলতে হবে এখন? পাকিস্তানীরা বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে ধর্মকে টেনে এনেছিল। কাজ হয় নাই। যে মোস্তাক মীরজাফরের মত ঘৃণিত সেই মোস্তাকও তার সেই স্বল্প রাষ্ট্র পরিচালনার সময় সংবিধানের চার মূল স্তম্ভে হাত দেওয়ার সাহস পায় নাই। এখন অবলীলায় ছুঁড়ে ফেলতে হবে সব কিছু? আপনরা যারা অবলীলায় ছুঁড়ে ফেলে দিতে চাচ্ছেন, স্বাগত জানাচ্ছেন সরকারের সিদ্ধান্তকে তারা আমিন বলতে পারেন, আমি বরং অপেক্ষা করি, দেখি আপনাদেরকে। ... ...

আমাদের যে গড় বুদ্ধিমত্তার থেকে বুদ্ধি কম এইটা অনেক আগেই আমার সন্দেহ হয়েছিল। কত আগে? এইটা বলা মুশকিল আসলে। এখন মনে পড়ছে যখন পদ্মা সেতুর কাজ চলছিল তখনকার কথা। তখন অনেকের মাথার খুলি নিয়ে সন্দেহ করল। বলল এগুলা ভুয়া কথা। অথচ এইটা তো সাইন্স যে মাথার খুলিতে ম্যাগনেট থাকে, তা ব্রিজের খুঁটি দিতে লাগে, খুঁটির নিচে খুলি দিলে তা মজবুদ হয় বেশি। এইটা তো মিথ্যা না রে ভাই। এইটা অনেকেই না জেনে নানা মন্তব্য করতে থাকল! আমি আশ্চর্য হয়ে গেছিলাম সেইদিন। মানুষের এত বুদ্ধি কম? কীভাবে দেশ আগাবে? আরে এই দেশে অনেক শিক্ষিত মানুষ বিবর্তনে বিশ্বাস করে, বুঝচ্ছেন অবস্থা? কই নামছে আমাদের বুদ্ধিমত্তা? ... ...

এই লেখাটি ইরানের চলমান গণবিক্ষোভকে একটি বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সংকট হিসেবে তুলে ধরে, যেখানে মেহনাজের মতো তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ ও অস্তিত্বের লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নির্বাসিত রাজপুত্র রেজা পাহলভীর ভূমিকা, রাজতন্ত্রের স্মৃতি, এবং আমেরিকা–ইজরায়েলের মতো বিদেশি শক্তির কৌশলগত স্বার্থ। একদিকে প্রতিক্রিয়াশীল, ধর্মীয় মোল্লাতন্ত্রের দমন-পীড়ন; অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপের আশঙ্কা—এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ওঠে আন্দোলনের শুদ্ধতা, সময় ও পরিণতি নিয়ে। ইতিহাস দেখিয়েছে, গণআন্দোলনের ফলাফল প্রায়শই আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না; তবু ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও মানুষ বর্তমানের অসহনীয় বাস্তব বদলাতেই রাস্তায় নামে। ইরানেও তাই সংগঠিত বিরোধী শক্তির অভাব, দেশি-বিদেশি নানা প্রভাব এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক শূন্যতার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তরুণরা পথে নেমেছে—কারণ না নামার আর কোনো উপায় তাদের সামনে নেই, এবং ইতিহাস বারবার শিখিয়েছে, এই প্রয়োজনবোধই গণআন্দোলনের আসল চালিকাশক্তি। ... ...

১০ তারিখ ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। মুক্তিযুদ্ধের পরে বঙ্গবন্ধুর এই দেশে ফেরার তাৎপর্য নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। কোন লেখায় বা কোনভাবেই এর তাৎপর্য কমে নাই। পাকিস্তান থেকে ইংল্যান্ড, ইংল্যান্ড থেকে ভারত হয়ে দেশে ফেরা। প্রতিটা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কথা ভাষণ লিপিবন্ধ হয়েছে। প্রতিটা জায়গায় জনসমুদ্র দেখা গেছে। সারা দুনিয়ার মানুষ তখন তাকিয়ে থেকেছে এই একটা লোকের দিকে। এমন একটা দিন নীরবে পার হয়ে গেল দেশে! এতদিন পরে এই আলাপ করার কোন মানে নাই বা এমন কিছু আশা করার কোন অর্থ নাই জানি। তবুও করলাম। কারণ খুব শক্ত করে প্রশ্ন করলে ইউনুস সরকার, এনসিপির নেতারা বলে তারা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের যোগ্য জায়গা দিবে। যতখানি পাওনা ততখানি দিবে। এইটা বলে কিন্তু আজ পর্যন্ত ওরা কেউই এমন কোন কিছু করে নাই যে মনে হয় তারা যথাযথ জায়গায় সম্মান দিবে! বরঞ্চ আমরা দেখছি প্রধান উপদেষ্টা ১৫ আগস্টের মিথ্যা জন্মদিনে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অথচ তার একবারের জন্যও মনে হয় নাই স্বাধীনতার স্থাপতির এমন মৃত্যুদিনে তাদের কিছু বলার আছে বা করার আছে! সত্য হচ্ছে এগুলা হয়ও নাই হবেও না এদের দ্বারা। তাই বঙ্গবন্ধুর হলের নাম পরিবর্তন করে হাদির নামে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এই দাবি করেছে! দারুণ! ... ...

কেরানীগঞ্জের এক মাদ্রাসার দুইটা দেওয়াল উড়ে গেছে জাস্ট! শক্তিশালী বোমা বানাচ্ছিল সেখানে। ভাগ্যভাল যে কেউ মারা যায় নাই, চারজন আহত হয়েছে। বাংলাদেশের মিডিয়ার এখন সেই সাহস নাই যে প্রকাশ করবে যে মাদ্রাসায় বোমা ফুটেছে। প্রথম আলো এইটা প্রকাশ করার পরে আস্তেধিরে আরও কয়েকটা জায়গায় নিউজ হয়। এখন একবার ভাবুন এই সংবাদের তাৎপর্যটা। মাদ্রাসায় বোমা বানাচ্ছে কারা? কেন? তাদের উদ্দেশ কী? সুষ্ঠু তদন্ত হবে? গলায় আটকে যাওয়ার মত খবর না? অন্য কোথাও হলে না হয় লীগের ঘাড়ে ফেলে দেওয়া যেত দোষটা। এখন মাদ্রাসায় কে বোম বানাতে যাবে? এই খেলা বাংলাদেশ খেলে আসছে। যাকে বীরোচিত সম্বর্ধনা দেওয়া হল তার আমলেই হয়েছে। লীগের আমলে জঙ্গি ধরতে গেলেই বলা হয়েছে লীগের নাটক। তো সেই নাটকের অবস্থা এখন ক্যামন? ঢাকায় তালেবান নেতাদের ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে প্রকাশ্যে। তারা মিটিং করছে, বিভিন্ন মাদ্রাসায় যাচ্ছে, নেতাদের সাথে দেখা করছে। এবং আমাদের ভাব দেখে মনে হচ্ছে এ তো হতেই পারে, খুব স্বাভাবিক ঘটনা! ... ...

এবার হাদির কথা কই। সে গণজাগরণ মঞ্চের বিপরীতে ইনকিলাব মঞ্চ বানিয়েছে। শাহবাগে দাঁড়িয়ে খুব অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য দিয়ে জনপ্রিয় হয়েছে। কুৎসিত গালিগালাজ করে সে তার বক্তব্যে। সে মনে করে মুক্তিযুদ্ধ ভারতের চাল, সে মনে করে লীগ আর ভারত মিলে ষড়যন্ত্র করে পাকিস্তান থেকে আলাদা করেছে দেশ। সে মনে করে ভারত তার সীমান্ত সুরক্ষিত করতেই দুই পাকিস্তান ভাঙে। সে নিজেই তার এক সাক্ষাৎকারে বলেছে কাদের মোল্লার ফাঁসির পরে সে মেঝেতে গড়াগড়ি খেয়ে কান্না করেছে। কাদের মোল্লার মত নিষ্পাপ একজনকে ফাঁসি দেওয়ায় সে খুব কষ্ট পেয়েছিল! এই হল হাদি! যার জন্য রাষ্ট্র শোক দিবস ঘোষণা করেছে। যার জন্য বিক্ষুব্ধ জনতা ভারতের দালাল বলে প্রথম আলো ডেইলি স্টারে আগুন দিয়েছে! এই মহান নেতার নামে শাহবাগের নামকরণ করা হবে, কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে কবর দেওয়া হবে। আরেক আবরার কেস! ছাতামাতা লিখে লীগের পুলাপানের হাতে জীবন যায় আবরারের। ফলে এখন তার নামে রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে! হাদির জানাজার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ দিক নির্দেশনা দিয়েছে। বুঝা যাচ্ছে বিশাল বড় জানাজা হবে। এগুলা দেখতে হবে বেঁচে থাকতে হলে! ... ...

অবধারিত ভাবেই প্রশ্ন আসে এখন কী বুঝতেছে তাঁরা? মুক্তিযুদ্ধকে যে খেয়ে ফেলছে তাঁদের ক্যামন লাগে? জানি রুঢ় হয়ে যায় কিন্তু তবুও জিজ্ঞাস করলাম। তাঁর মেয়ে বলল দেখেন ওই যে একটা স্মৃতিস্তম্ভ, সরকার এইখানের এই ঘটনার স্মরণে বানায় দিছিল। আমারে কন তো এইটা কার কী ক্ষতি করছিল? এইটা কেন ভাঙল? এইটা কী দোষ করছে? এইটা চোখের সামনে ভাঙল, আমাদের খারাপ লাগে না? তিনি বললেন কয়েকদিন আগে কে জানি ওই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে দিয়ে জোরে জোরে বলতেছিল এগুলা সব চোর ডাকাত ছিল তাই মারছে সবগুলাকে! তিনি শেষ করলেন এই বলে যে এত বছর বুকটা এই বড় বলে দুই হাত প্রসারিত করে দেখালেন, এই বড় ছিল, বড় করে ঘুরছি, এখন হাতটা ছোট করে বললেন এখন এই ছোট হয়ে গেছে, সাহস পাই না, ডর করে! এবং আমিও উনার কথার সাথেই একমত! এইটাই প্রকৃত চেহারা বাংলাদেশের। মুক্তিযোদ্ধারা মাথা নিচু করেই টিকে আছেন এই দেশে। এই লজ্জা রাখার জায়গা আছে? কত বড় আহাম্মক হলে এইটা সম্ভব? ফিরতি পথে অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে ফিরলাম। উনার বাড়ি যাওয়ার আগে আমিও সেই ভাঙা স্মৃতিসৌধ দেখে গেছি। এইটা যখন উদ্বোধন হয় তখন পত্রিকায় পড়েছিলাম। এর নাম দিছিল ‘সৌরজায়া স্মৃতিসৌধ’। কার এত রাগ এই সৌরজায়া স্মৃতিসৌধের উপরে? কেন? ... ...

দিনের কাজের শেষে ক্লিন ক্যাশ বুক সম্পূর্ণ করা একটি সাংবিধানিক কর্তব্য কিন্তু , জলপাইগুড়ি ব্রাঞ্চের ইতিহাসে সেদিন একটি দুর্ভাগ্যজনক রেকর্ড স্থাপিত হল । দুলালদার সৌম্য মুখে কোন বিরক্তির চিহ্ন নেই, বললেন , আজ আর নয় কাল সকাল সকাল অফিসে আসুন , আমি ঠিক করে দেব, আপনি দেখে নেবেন। আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন , ট্রেনিঙের সময় সকলেই ভুল ভ্রান্তি করে , তবে আপনার ভুলগুলির কোন লজিক খুঁজে পাচ্ছিলাম না । মেঘনা মিলের ক্ষেত্রে আমি অঙ্কে গোলমাল করে ফেলায় তাদের ক্রেডিট লিমিট বা ড্রইং পাওয়ার নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে যায় । নিমাই বাবু যখন ভুলটা ধরিয়ে দিলেন কদিন বাদে , প্রথম চিন্তা হল কাজ যাবে না তো ? আমার হৃদয় বিদারক স্বীকারোক্তি শুনে বললেন, এ হে , কী যে করেন! একটু দেখবেন তো ? ওদের নতুন ক্রেডিট লিমিট অবধি অ্যাডভাইজ করা হয়ে গেছে । আচ্ছা, মেঘনার প্রাণকেষ্ট বাবুকে একবার আমার নাম করে অফিসে আসতে বলুন তো। ওঁকে বলে সেটা সামলে নেওয়া যাবে । তবে বম্বেতে আমাদের বোর্ডকে জানিয়ে তাদের পারমিশন নেওয়ার ব্যাপারও আছে । সেটা একটু শক্ত, তবে দেখছি। ... ...

চালুক্যদের সময় এই ছোট গ্রামের মন্দিরগোষ্ঠীগুলি ব্যবহার হত রাজ অভিষেকের সময়। টলেমির ভূগোলে এর নাম আছে - পেট্রিগাল। জায়গাটা বাসে বাদামি থেকে আধঘন্টা দূরে। গ্রামে আছে মূলত বাসস্টপ আর বড় জায়গা জুড়ে এএসআই ঘেরা এই মন্দিরগুলো। মন্দিরগুলোকে মূলত দুভাগে ভাগ করা যায় - প্রথমদিকে তৈরি পুরোনো শিখর স্টাইল আর পরের দিকে তৈরী দ্রাবিড় বিমান ঘরানা। ... ...

মোট এই চারটিই গুহা। এবার পাহাড় থেকে নেমে উল্টোদিকে যেতে যেতে ভাবছিলাম এই হ্রদের নাম অগস্ত্য হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ জায়গার নাম বাতাপী। বাতাপী আর ইল্বল সেই দুই রাক্ষস ভাই ছিল। বাতাপী ছাগল হয়ে যেত আর ইল্বল পথিকদের তার মাংস রান্না করে খাওয়াত। খাওয়া শেষ হয়ে গেলে বাতাপীর নাম ধরে ডাকলেই বাতাপী বেরিয়ে আসত পথিকদের পেট চিরে। একদিন অগস্ত্য যাচ্ছিলেন সে রাস্তায় [সম্ভবত বিন্ধ্য পেরিয়ে অগস্ত্য যাত্রায়]। বাতাপীকে খেয়ে হজম করে ফেললেন। দুই ভাইয়ের গল্পের ঐখানেই ইতি। ... ...


নির্বাচনের হাওয়া নিয়ে লিখে শেষ করি। বাতাসে লীগ আর জামাত এক হয়ে মাঠে নামবে এমন একটা খবর ছড়ানো হয়েছে। আমি শুনে হাসলাম। এই মুহূর্তে এই দেশে যারাই লীগের নাম নিচ্ছে তারা হচ্ছে কট্টর আওয়ামীলীগ পন্থি। এরা মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু প্রশ্নে আপোষ করতে রাজি না দেখেই চরম বৈরি সময়েও লীগের নাম নিয়ে যাচ্ছে। এদেরকে কীভাবে জামাতের সাথে এক করবেন? শেখ হাসিনা ঘোষণা দিলেও তো এরা জামাতের সাথে যাবে না! তবে ভিন্ন একটা খেলাও শুরু হয়েছে। পলাতক লীগের কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করছে দুই পক্ষ থেকেই। নানা আজাইরা মামলা খেয়ে বসে আছে এমন কর্মীদের লোভ দেখানো হচ্ছে তোমরা এলাকায় আস, নির্বাচন কর আমাদের, মোটর সাইকেল দেওয়া হবে, খরচ দেওয়া হবে। প্রশাসন কোন ঝামেলা করবে না। তোমরা আস। আমার ধারণা এই টোপ অনেকেই খাবে। দলে দলে ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে। এতে দুই পক্ষেরই লাভ। এরা দিনের পর দিন বাহিরে থাকতে থাকতে ক্লান্ত। একবার এলাকায় তাদের অবস্থান স্বাভাবিক করে নিতে পারলে এরপরে আর বিপদ হবে না। ... ...

বিজাপুরের সেনার প্রধান সম্পদই ছিল বিরাট আকারের সব কামান। তুরস্ক থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের অফিসাররা এসে এখানে কামান বানাতেন , সেনাকে শেখাতেন কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। ... ...

হরিহর আর বুক্ক রায় বলে দুই ভাই বানিয়েছিলেন এই বিজয়নগর সাম্রাজ্য। ~১৫০০ সালে কৃষ্ণদেবরায়ের আমলে সেটা শীর্ষে পৌঁছয়। তার কিছুদিন আগেই ভাস্কো দ্য গামা নেমেছেন কালিকুটে। ডমিংগো পেজের মত পর্তুগিজ, অন্যান্য ইতালিয়ান পর্যটকরা বিজয়নগরের কথা লিখে গেছেন। তাদের লেখায় বিজয়নগর রোমের চেয়েও বড় শহর ছিল। ... ...
