এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • চাকরি গেল ২৬০০০ 

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২৭১ বার পঠিত
  • রায়টা পুরোটা পড়লাম। সারসংক্ষেপ বলতে তিনটে পয়েন্ট। এক, দুর্নীতি এবং বেনিয়ম হয়েছে। এই নিয়ে রায়ে এবং পড়ার পর আমার কোনো সন্দেহ নেই।  দুই,  এই রায়টা ন্যাচারাল জাস্টিসের যে নীতি (নির্দোষরা যেন শাস্তি না পায়), সেই ​​​​​​​নীতি ​​​​​​​মেনে ​​​​​​​হয়নি। ​​​​​​​এটা ​​​​​​​আগে সমাজমাধ্যমেই ​​​​​​​​​​​​​লিখেছিলাম। তিন, মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে যে তথ্যটা দিয়েছেন, যে, কাউকে টাকা ফেরত দিতে হবেনা, সেটা ভুল। 

    এবার, ​​​​​​​আরেকটু ​​​​​​​গভীরে ​​​​​​​ঢুকে ​​​​​​​দেখা ​​​​​​​যাক, ​​​​​​​কেন ​​​​​​​দুর্নীতি। ​​​​​​​২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষার কোনো ওএমআর শিট পাওয়া যায়নি, ওগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়ম মেনেই, এসএসসি বলেছে, আদালতও আংশিকভাবে একমত হয়েছে। এসএসসির সার্ভারে স্ক্যানড কপিও পাওয়া যায়নি। তাহলে দুর্নীতি বোঝা গেল কীকরে? এসএসসির দুই ভেন্ডার, তাদের কাছে আলাদা করে স্ক্যানড কপিগুলো পাওয়া গেছে। মিলিয়েও দেখা হয়েছে। এসএসসিও সেখান থেকেই ডেটা নিত (এটা আইনী না বেআইনী  বলা নেই, ধরে নিচ্ছি আইনী বা ধূসর এলাকায় পড়ে)। এই স্ক্যানড কপি এবং এসএসসির সার্ভারে থাকা নম্বর মিলিয়ে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে গরমিল আছে। এই মেলানোর কাজটা এসএসসিই করে কোর্টে দিয়েছে। এর অনেকগুলো সারণী আছে রায়ে। আমি সারসংক্ষেপটা দিলামঃ 
    ১। প্যানেলের বাইরের ১৪৯৮ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। 
    ২। ৯২৬ জনের র‌্যাঙ্ক বদলানো হয়েছে। 
    ৩। ৪০৯১ জনের ওএমআরে গরমিল ধরা পড়েছে। 
    সব মিলিয়ে ৬২৭৬ জন। এর মধ্যে বেশিরভাগ অংশটাই কিন্তু অশিক্ষক কর্মচারী। যেমন, ওই ৪০৯১ এর মধ্যে ২৫২৩ জনই অশিক্ষক।ফলে ২৬০০০ নিয়োগের মধ্যে ৬২৭৬ টা কেসে, যার বেশিরভাগ অংশটাই অশিক্ষক, দুর্নীতি, বেনিয়ম অবশ্যই হয়েছে। 

    কিন্তু তার পরেও বিচারটা ন্যাচারাল জাস্টিসের নীতি মেনে হয়নি। কেন হয়নি? বিচার এবং তদন্তটা কেমন হবার কথা ছিল? খুবই সাধারণজ্ঞান বলে, ৬২৭৬ টা গরমিল থেকে শুরু করা উচিত। অবশ্য হিসেবটা এসএসসি দিয়েছে, তারা কিছু ঢেকেচেপে দেখাতেও পারে। তদন্তকারী সংস্থার উচিত, ২৬০০০ ওএমআর স্ক্যান ধরে মিলিয়ে দেখা, কোথায় কোথায় গরমিল। তারপর সেটা থেকে কারা এই গরমিলে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করা। কেন খুঁজে বার করা, এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা। এটাকেই বলে তদন্ত এবং ন্যাচারাল জাস্টিসের প্রক্রিয়া, যাতে করে প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পায় এবং কোনো নির্দোষ সাজা না পায়। 

    এর কোনোটাই হয়েছে বলে রায়ে দেখলাম না। পুরো আলোচনাটাই হয়েছে, প্যানেল বাতিল করা হবে কি হবেনা, সেটুকু নিয়ে। আদালত বহু পুরোনো কেস নিয়ে আলোচনা করে কয়েকটা নীতিতে পৌঁছেছে, যার ভিত্তিতে এই বিচারঃ 
    ১। যদি নিয়োগে পদ্ধতিগত জালিয়াতি হয়, পদ্ধতিটার ইন্টিগ্রিটি আন্ডারমাইন করা হয়, তাহলে পুরো ফলাফলটাই বাতিল করে দিতে হবে।  যদিও যতটা সম্ভব, স্বচ্ছতার সঙ্গে অসৎ এবং সৎদের আলাদা করতে হবে। (এর কোনো লক্ষণ রায়ে নেই)
    ২। পুরো প্রক্রিয়াটাই বাতিল করে দেবার জন্য স্বচ্ছ এবং পুঙ্খানুঙ্খ তদন্ত করে সন্তোষজনক মালমশলা প্রয়োজন। কিন্তু  পদ্ধতিগত বেনিয়ম যৌক্তিক সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণিত হবার দরকার নেই। মোটামুটি ঠিক হলেই হবে। এবং প্রোবাবিলিটি টেস্ট প্রয়োগ করা যেতে পারে। (সংশয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রমাণের দরকার নেই, আর প্রোবাবিলিটি টেস্ট, এই দুখানাই ন্যাচারাল জাস্টিসের উল্টো। সংখ্যাতাত্ত্বিক ভাবে গরীব লোকেরাই চুরি করে, অতএব গরীব হওয়াটা চুরির পক্ষের যুক্তি, এটা ন্যাচারাল জাস্টিস নয়) 

    এর পর আরও দুটো নীতি আছে, লিখলাম না। যেটা লিখলাম, সেটাও আমার ভাষায়, আসলটা দরকার হলে রায় খুলে পড়ে নেবেন, ১৭ আর ১৮ পাতা। তা, এই নীতিমালার উপর দাঁড়িয়ে পুরো প্রক্রিয়াটা হয়েছে। সংশয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পদ্ধতিগত দুর্নীতি, বেনিয়ম প্রমাণিত হয়নি, বিচারক মোটামুটি একটা ধারণায় পৌঁছেছেন, এবং গোটা প্যানেল বাতিল করেছেন। এটা ন্যাচারাল জাস্টিস নয়। আমি বলছিনা, রায়ের সিদ্ধান্তের ঠিক আগেই বলা আছে, যে, জালিয়াতিকে ভ্যালিডেট করার জন্য, এই কেসে, ন্যাচারাল জাস্টিস প্রয়োগ করা যাবেনা। ইংরিজি বাক্যটা এরকমঃ In light of the facts of this case, we are of the opinion that the principles of natural justice cannot be invoked to validate the fraud that has occurred.  

    এই ঘোষণার পর বিচারক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, ১। অসৎ চাকুরেদের চাকরি যাবে, এবং মাইনে ফেরত দিতে হবে। ২। সৎ চাকুরেদের চাকরি যাবে কিন্তু মাইনে ফেরত দিতে হবেনা, এমনকি আগে যদি কোনো সরকারি চাকরি করতেন, সেখানে জয়েনও করতে পারেন। ক'জন অন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে ইশকুল মাস্টারি করতে এসেছেন, সেটা অবশ্য জানা নেই। এগুলো সারসংক্ষেপে, এছাড়াও আরও কটা সিদ্ধান্ত আছে,  ইচ্ছে হলে রায়ে পড়ে নিন, কিন্তু মোদ্দা কথা এইটুকুই। সৎ আর অসৎ অবশ্য আমার অনুবাদ। ইংরিজিতে বলা আছে টেইন্টেন্ড অর্থাৎ কিনা কলঙ্কিত এবং অকলঙ্কিত। রায় জানে কারা কলঙ্কিত এবং কারা অকলঙ্কিত, কিন্তু তার পরেও সকলেরই চাকরি গেল। এটা ন্যাচারাল জাস্টিসের নীতি নয়, রায়েই লেখা আছে। তার জন্য প্রচুর পরস্পরবিরোধী রেফারেন্সও দেওয়া আছে। তার থেকে উনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়, সকলকেই মানতে হবে। কিন্তু তার মানে এই না, যে, সবাই এতে একমত হবেন। এই আমিই যেমন, মনে করি, আইন যেহেতু অন্ধ, তাই প্রিন্সিপল অফ ন্যাচারাল জাস্টিস সমস্ত ক্ষেত্রে অন্ধভাবে প্রয়োগ করা উচিত। আমরা একবিংশ শতকে প্রবেশ করেছি। এখানে একজন নির্দোষও যেন সাজা না পায়। 
     
    মুজতবা আলির দেশে-বিদেশেতে এক অদ্ভুত কয়েদির গল্প আছে। মা খু চিহল পঞ্জম হস্তম। সবাই সেই গপ্পো জানেন, আর বললাম না। এখন সেই গপ্পোটা মনে পড়ছে। ৬২৭৬ জনের বেনিয়ম নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাতে যারা জড়িত তাদেরকে তদন্তকারী সংস্থা, আদালত চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে পারেনি। দেওয় উচিত ছিল, পারেনি। তার পরিবর্তে পেল অন্য হাজার-কুড়ি লোক। তারা ওই পঞ্জম হস্তম। এই সৎ চাকরিহারাদের প্রতি সম্পূর্ণ সমবেদনা রইল। যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, করব, যদিও কীভাবে জানিনা। 
     
    পুঃ 
    অনেকেই দেখছি, আবার পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবেন বলছেন। উদ্দেশ্য সৎ, কিন্তু সেটা সম্পূর্ণ অলীক একটা ব্যাপার। আমাকে তিনমাস পড়ে মাধ্যমিক দিতে বললেও এখন ফেল করব। আট বছর আগে এমএসসি করেছে যারা তাদের আবার দিতে বললে সেই ফল আরেকবার করে দেখাতে পারবেনা। কাজেই ওটা রাস্তা না। অনেকে দেখছি হেবি ফূর্তি পেয়েছেন। বিকাশবাবু বললেন মিষ্টি খাওয়াব, এই শিক্ষকরা পচা আম। সে ফূর্তি ধ্বনিত হচ্ছে টুকটাক। কিন্তু চারদিকে তাকিয়ে দেখুন, আপনাদের চারদিকেই সৎ প্রার্থী দেখতে পাবেন। বেশিরভাগ অংশটাই চুরি করে চাকরি পায়নি। তাদের ঘটি হারিয়েছে। যাঁরা ফূর্তি পেয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ আবার হাওয়া ঘুরে গেছে দেখে কাউন্সেলিং-ফেলিং করবেন বলছেন। এও সম্পূর্ণ ঢপের কথা। আসলে চাই প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি এবং ন্যাচরাল জাস্টিসের পক্ষে দাঁড়ানো। যাঁরা এতটুকু দুর্নীতি করেছেন তাঁদের প্রত্যেকের শাস্তি এবং একই সঙ্গে এই দানবিক রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। তবে কাজ হবে। এতে ডাম-বাম কারোরই আপত্তি থাকার কথা না। 

    এবং মুখ্যমন্ত্রী। কাল তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে সম্পূর্ণ ভুল কথা বললেন। "অসৎ" প্রার্থীদের সমস্ত মাইনে ফেরত সত্যিই দিতে হবে। আদালতের রায় তাইই। এটাও ভয়াবহ, কিন্তু উনি জানেননা। দুর্নীতি তো খানিক হয়েছে বটেই, সেটা উনি ঠেকাতে পারতেন, ঠেকাননি। হতেই পারে, এতে রাজনীতি আছে, ত্রিপুরায় এই করেই সরকার বদল হয়েছিল, কিন্তু ব্যাপারটা এই দিকে গড়াতই না, এই বিপর্যয়ের সামনে পড়তেই হতনা, ঠিক সময়ে রাশ ধরলে। এবং এখন এই পরিস্থিতিতেও উনি দিশেহারার মতো মিস ইনফর্মড। আজ থেকে ২৬০০০ লোকের চাকরি নেই, ইশকুলগুলোতে কে পড়াবে তার ঠিক নেই, শিক্ষাব্যবস্থাটাই উঠে যাবার মুখে। স্কুলে ছুটি দিয়ে লাভ নেই, তিনমাস পরে ফিরিয়ে নেব ভেবেও লাভ নেই, ওসব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। আইনজ্ঞরা কী পরামর্শ দিচ্ছেন জানিনা, একটাই উপায় আছে বলে আমার মনে হয়, দুর্নীতি যতটা হয়েছে, তার দায় নেওয়া, এবং সৎদের আবার চুক্তিতে নিয়োগ করা। তিনমাস দেরি না করে, এখনই। এইটা নিয়ে রাজ্যসরকারকে চূড়ান্ত চাপ দেওয়া উচিত।  

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২৭১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • π | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৮:০০542092
  • আজকাল কোন পোস্ট আর কর‍তে ইচ্ছে করে না, কিন্তু কালকের রায়ের পর এতটাই রাগ, বিরক্তি, অক্ষম অসহায়তার বোধ হচ্ছে, এটুকু ভেন্ট আউট করাটা একেবারে নিজের জন্যেই বলা যায়। হয়তো স্বগতোক্তিই। উক্তিও তো না, প্রশ্ন। হয়তো তার মধ্যে বেশ কিছু রেটরিকাল প্রশ্ন। মনে পড়ে গেল, ঋতেন বলত, আমাকে রেটরিকাল প্রশ্ন করা নিয়ে। সেসব থাক।

    কালকের রায়, সেনিয়ে কিছু মানুষের উল্লাস দেখে একটা কথা মনে হচ্ছিল। যারা নানা জায়গায় আজ স্থায়ী চাকরি করছেন,  নিজের যোগ্যতার নিরিখেই নিযুক্ত হয়ে, কোনরকম দুর্নীতি, অনিয়ম, বেনিয়মের আশ্রয় না নিয়ে, যদি বলা হয় সেই চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কেউ কেউ বেনিয়ম, দুর্নীতি করে পেয়ে গেছে, তাই আপনার চাকরি কাল থেকে চলে যাবে আর আপনাকে আবার সেই আগের মত সব পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে চাকরি পেতে হবে, সেটা কেমন হবে?  মানে, যেকোন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এরকমটাই হতে পারে। লোকজনকে নিজেদের যোগ্য শিক্ষকদের জায়গায় বসিয়ে দেখতে বলছিনা, নিজেদের জায়গায় বসেই দেখতে, ভাবতে বলছি। কী মনে হয়? 

    এবার পরের প্রশ্ন, যেভাবে আর যখন বোঝা গেল, অযোগ্যরা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছে, আর সেটা ভেন্ডারের ওএমআর আর এসএসসি সার্ভারের নাম্বারে গরমিলে যখন সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত, তাদের কেন জেরা করে এই দুর্নীতির মাথাদের সামনে আনা হয়নি বা এখনো আনা হচ্ছে না বা এদের শাস্তির কথা বলা হচ্ছেনা?  যারা যারা যেভাবে এই দুর্নীতির সঙ্গে যেকোনভাবে যুক্ত, এই শৃঙ্খলের গোড়া থেকে আগা অব্দি সবাইকে সামনে এনে শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া এতদিনে কেন হয়নি, আজও কেন হচ্ছেনা,  সেই নিয়ে রায়েও কোন নির্দেশ নেই কেন? এই শাস্তিপ্রক্রিয়ার দাবি অবিলম্বে আসা দরকার, মনে করি।

    এই ৬০০০ কে যদি অযোগ্য বলে প্রমাণাতীত ভাবে চিহ্নিত করাই যায়,  তাহলে বাকিরা বাই ডিফল্ট  অযোগ্য নন, এটা কেন বলা যাচ্ছেনা, কেন তাঁদের চাকরি যাবে, কেন তাঁদের যোগ্য বলে প্রমাণ করা যাবে না, কেন এস এস সিকে সেটা প্রমাণ করতে বাধ্য করা যাবেনা, আর এস এস সি কেন ছাড় পেয়ে যাবে, রায় পড়েও এসব প্রশ্নের কোন যুক্তিযুক্ত উত্তর পাইনি।

    এই ২০০০০ জনকে আবার সেই একই এসএসসি পরীক্ষার মত কিছুতে বসতে হবে?  অনেককেই দেখছি, লিখছেন যে এঁদের বিনা পারিশ্রমিকে আগামী কয়েক মাস কোচ করবেন, তাঁদের সদিচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি এই দশ বছর বাদে ওই ধরণের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে মেধাতালিকায় নাম তুলতে বলা অবাস্তব। আবসার্ডও বলা চলে। যদি কোনভাবে যোগ্যতা প্রমাণ করতেই হয় ( যদিও আগেই লিখেছি, কেন করতে হবে সেটাই যুক্তিবুদ্ধিতে বোধগম্য নয়), তাহলে যাঁর যাঁর নিজের বিষয় ভিত্তিক, ক্লাসে পড়ানো ভিত্তিক, অশিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাঁদের কাজ ভিত্তিক মূল্যায়ন হোক। এতদিনের পারফরম্যান্স রিপোর্ট, ছাত্রদের ফিডব্যাক এরকম কিছু থাকলে সেসবও মূল্যায়নের অংশ হিসেবে আনা হোক। যদি না থাকে, সেসব অবিলম্বে চালু করা দরকার, এই ঘটনা না ঘটলেও এই দাবি থাকত।

    আজ থেকে চাকরিহারাদের জন্য যেভাবে সম্ভব, সরকারের দায়িত্ব নেওয়া উচিত।  এই ঘটনার দায় সরকারের, এঁদের ভরণপোষণেরও, নয় কি? 

    আর সবশেষে, সবচেয়ে জরুরি কথা। সবচেয়ে আশঙ্কার কথা। যাদের পড়ানোর জন্য এই পদগুলি, সেই পড়ুয়াদের  কী হবে?  এমনিতেই শিক্ষা, সরকারি শিক্ষা, বাংলা মাধ্যমের শিক্ষা প্রায় ধ্বংসের মুখোমুখি বলে গত বেশ কিছু বছর ধরে একটা অসম্ভব হতাশা আর বিরক্তিতে থাকি, বহু লোকজনের সঙ্গে এনিয়ে কথাবার্তা হয়েছে, কিছুই কাজের কাজ না হওয়া হতাশা বাড়িয়েছে   মাত্র, কিন্তু এটা সেই বোঝার উপরে শাকের আঁটি বা মরার উপরে খাঁড়ার ঘা তো নয়, এটা মোটামুটি মৃত্যুঘ্ণটাই বাজিয়ে দেওয়া।  কালকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সের বহু কিছু ভুলভাল তথ্য দেওয়া দেখে তাজ্জব বনতে বনতে ওই ৩০ এপ্রিল থেকে গরমের ছুটি দিয়ে দেওয়া আর তদ্দিন অব্দি চালিয়ে নেওয়ার নিদান শুনে বেবাক বেকুব বনে গেছি!  ছুটি ছুটিতে ছয়লাপ করে এম্নিতেই তো পড়াশুনাব্যবস্থাটাকেই ছুটি তুলে লাটে পাঠানোর ব্যবস্থা চলছে বহুদিন ধরে, আবারো তারই আশ্রয়!  অবিলম্বে এই ছুটি বাতিলের ব্যবস্থা করা উচিত আর পড়াশুনা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার দায়িত্ব সরকারের।  আবারো, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু লোকের ফ্রিতে কোচ করা সেই সমস্যা মেটাতে পারেনা।  সরকার এর দায়িত্ব নিক, উপায় বের করুক, যতদিন না স্থায়ী উপায় বের হয়, দরকারে এই শিক্ষকদেরই নিযুক্ত রাখুক,  যেকোন পদ্ধতিতে, যাতে সরকারি স্কুলের উপরে নির্ভরশীল পড়ুয়াদের এই কারণে আর কোন বেশি ক্ষতি না হয়। শিক্ষাব্যবস্থার স্থায়ী ক্ষতগুলো সারানো নিয়ে কথা চলুক। কিন্তু এখন আপাতকালীন পরিস্থিতি। দুয়ারে সংক্রান্তি।
  • দীপ | 2402:3a80:198b:8ed2:678:5634:1232:***:*** | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ১১:৪৪542093
  •  সরকার এতোদিন দায়িত্ব নিয়েছিলো বুঝি?
  • দীপ | 2402:3a80:196c:495d:778:5634:1232:***:*** | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:২৫542098
  • একটা দুঃখ প্রকাশ অব্দি নেই, একটা বক্তব্য নেই নিজেদের ভুলটা স্বীকার করে? জানি না আর কতদিন মিথ্যের বেসাতি দেখবো। চেনা পরিচিত যাদের চাকরি আজ চলে গেছে, তাকাতে পারছি না তাদের দিকে। যারা সুপ্রিম কোর্ট কে গালি দিচ্ছে, হয় আইন বোঝে না, নইলে আবেগে চলে। আইন আবেগ বোঝে না। আজ অভয়া কেসে কিছু করার যাচ্ছে না, তথ্য প্রমাণ লোপাট হয়ে যাওয়ায়। ঠিক তেমনটাই ঘটেছে যোগ্যদের ক্ষেত্রে। তারা যে যোগ্য তার কোন প্রমাণ নেই। কে ভালো ছাত্রী তাই দিয়ে কিছু হয়না আদালতে। একজন নিরপরাধ যেন অযথা শাস্তি না পায় এই কথার ও কোন দাম সত্যিই নেই আদালতে। কে যোগ্য আর কে অযোগ্য তার কোন পরিষ্কার ভাগ হাজারবার বলা সত্ত্বেও হাই কোর্ট কিংবা সুপ্রিম কোর্টে দিতে পারেনি এস এস সি। ফলে এটা যে হবেই একদিন জানা ছিল। খুব সচেতন ভাবেই এটা করা হয়েছে যাতে যোগ্য অযোগ্য খুঁজে না পাওয়া যায়। তথ্য প্রমাণ সব হওয়া। উল্টে এবার ক্যাবিনেটে পাস সুপার নিউমেরিক নিয়ে তদন্ত হবে। এবার আসল খেলা। এসব কুচদের মেরে ভয় দেখিয়ে আসল ড্রিল হবে সেটিং করবি কিনা বল। এখন অনেক বিল পাস করতে হবে। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলু খাগড়ার প্রাণ যায়। আরে জনসাধারণ তো বলি প্রদত্ত। বিজেপির তো অনেক টাকা আছে, কালকেই হাজার পাঁচেক করে ভাতা দেবে বললেই কী হিন্দু, কী মুসলমান সব খেলা ঘুরে যাবে। বলবে? ভুলেও বলবে না। এখানে তারা আসতেও চায়না আবার বামেরা আসুক সেটাও চায়না। অতএব এই অরাজকতা চলতেই থাকবে। ২৬ হাজার চাকরি গেছে তো হয়েছে টা কী, লাখে লাখে সাপোর্টার আছে, ভাতাজীবি আছে, বুদ্ধিজীবী আছে। অনেকে তো বেশ খুশি দেখলাম! একটা জায়গা বলুন যেখানে স্বচ্ছ নিয়োগ হয়েছে। রেট চার্ট আছে সব চাকরির। অতীতে বামেরা ও দুর্নীতি করেছে কিন্তু এভাবে লার্জ স্কেলে , প্রাতিষ্ঠানিক সত্যিই দেখিনি। যেখানে ক্যাবিনেটে সুপার নিউমেরিক পোস্ট তৈরির সিদ্ধান্ত হয়, এস এস সি আদালতে বলে যোগ্য অযোগ্য সবাইকে রাখতেই এই ব্যবস্থা তারপর এর দায় শুধু সেই সময়ের শিক্ষামন্ত্রীর? এর পরেও বলবো ভুল? এগুলো ভুল? রাজ্যের ভিসি, উপদেষ্টা, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সব জেলে, এই লজ্জা রাখবো কোথায়। কী মরতে যে শিক্ষকতার লাইনে এসেছিলাম ভাবলে এখন নিজের গালে নিজেকে চড় মারতে ইচ্ছে করে। এরপরেও জাস্টিফিকেশন শুনছি। এর পরেও গলাবাজি শুনছি। অভয়া হাসছে। ঠিক আর কতটা নীচে এই জাতি নামতে পারে দেখার জন্য বসে আছি। আত্মঘাতী বাঙালি হাততালি দিয়ে লাইন করে হা হা রিয়েক্ট করে যান।
    #ভেনোচরিতকতা
  • দীপ | 2402:3a80:196f:d26f:878:5634:1232:***:*** | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ১৪:৪৩542099
  • কোলকাতা হাইকোর্টের বহু পুরোনা রায়ে বলা ছিলো যে ৭-৮ হাজার জালি ক্যান্ডিডেট পাওয়া গিয়েছে SSC দায়িত্ব নিয়ে এদের বাছাই করে বাদ দিয়ে দিক, তাহলে বাকি প্যানেল বাতিল করা দরকার পড়বেনা। তখন ইগো দেখাতে গিয়ে আর রাজনৈতিক অভিসন্ধি করতে গিয়ে SSC সেই দায়িত্ব নিতে চায়নি। পুরো ম্যাটারটি ঘেটে দেওয়ার পেছনে SSC মূল দায়ী। ওরা নামেই অটোনমাস বডি, সরকারের কথা ছাড়া একটাও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা অপদার্থ প্রধানগুলি।
  • mulo | 167.103.***.*** | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ১৭:২৮542101
  • "দুর্নীতিতো খানিকটা হয়েছে" -এখন মুলোদের সমর্থন  চলেছে 
  • r | 2405:8100:8000:5ca1::350:***:*** | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ১৭:৫৯542102
  • mulo,
    তৃণমূল সরকারকে চোখের মণির মতো রক্ষা করতে হবে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন