
গড়িমসি দুঃখকষ্টে মন ভেঙে আছে। ধূপের ছোঁয়াচে আঁচ। ... ...

ক্রমশ চশমার কাচ, স্টোনওয়াশ জিনস, তুখোড় স্ট্রাইপ— আরও সব খুচরো মনীষা, আকাদেমির বানানবিধি নিয়ে ... ...

তবু, এ কাহিনি সবই কল্প কথকতা নাকাম কবির লেখা ওঁচা রূপকথা… ... ...

অতঃপর কালোজিরে, কাঁচালঙ্কা, থেঁতো রসুনপোড়ার মধ্যে নুন, মিষ্টি, হলুদের সুঘ্রাণে সবাই একজোট হয়। মুখরোচক সবার ভালো লাগে, ফিরে আনোয়ারা আজকেই বানাবে তমরেজের মেজাজ ঠান্ডা করতে, সীমী বানাবে মায়ের জন্য, কল্পনা ভাবলো নিজের জন্যই বানাবে। যারা আজ বানাবে না, তারা কাল বা পরশু বানাবে আলু, কুমড়ো, পেঁপে সহযোগে। ... ...

ফিরতে হবে, প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া দিনে, পুজোতে, পয়লা বৈশাখে, পৌষালী সন্ধ্যেয়, ফাগুন ভোরে, ফিরতে হবে শৈশবের খেলার মাঠে, যৌবনের দীঘল দীঘির সূর্যাস্তে। বেলায় ঘুম থেকে উঠে, আটপৌরে সে, চায়ের কাপ হাতে ঘাটের ধারে বসে গল্প করবে, বৌদির সাথে, মালার সাথে। সন্ধ্যের মুখে চুল বেঁধে, খোঁপায় গন্ধরাজ ফুল গুঁজে মন্দিরতলার দিকে হাঁটতে যাবে। বর্ষায় যাবে, মাঠের সবুজে চোখ ডুবিয়ে, ভরা পুকুরে ডুব সাঁতার কাটতে। শীতের সকালে ঘাসের শিশিরে পা মাড়িয়ে, দুরে কুয়াশা জড়ানো দিগন্ত পেরিয়ে, ধানের সোনালী ছুঁয়ে আসবে। ... ...

জালালুদ্দিম রুমির গুরু শামস এ তাব্রিজি একবার কোনিয়া থেকে উধাও হয়ে যান। পরে তাঁর খোঁজ পেয়ে দামাস্কাস থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চলে রুমির প্রিয় অনুগামী। পথে ফিরে আসতে আসতে শামস কত গল্প শুনিয়েছেন তাদের। সে সব গল্পগুলো গেল কোথায় ? উত্তর আসত পাগল শামসুদ্দিনের গল্প ? সে তো হাওয়ার গায়ে লেখা হয়েছিল ! ... ...

শ্লাম রিভিউ শুরুই করলেন একটা বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য দিয়ে। লিখলেন, “সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ আমাদের সতর্ক করেছেন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যাপারে নরম থাকতে। কিন্তু পেশাদার সততা আমাকে বাধ্য করছে জানাতে যে অ্যাডলফ হিটলার একজন নিম্নমানের লেখক।” এরপর লিখলেন, এই সাহিত্যিক সমালোচনা ওয়ারশর শিশুদের কাছে খুব একটা সান্ত্বনার কথা নয়। তবুও যা কাগজে ছাপা হয়েছে, মলাটের ভেতরে আছে, ওয়াশিংটনে কপিরাইট পেয়েছে, সেটা একটা বই-ই বলতে হবে, বইয়ের নাম ‘মাইন ক্যাম্ফ’ হলেও! ... ...

আসগর তার বাগানের একঢাল সবজি এনে হাজির করেছে ব্যাগ ভর্তি করে। নতুন কচি পটল, সজনে পাতা, সজনে ফুল, বেগুন, টসটসে পাকা লাল টমেটো আরও কতো কি! আসগরের আব্বাজান আফসরের সঙ্গে প্রিয়তোষের খুব খাতির ছিল। সেই দোস্তির ধারা এখনও বজায় আছে দেখে টিঙ্কা, পিঙ্কা অবাক হয়ে যায়। এখন রমজানের রোজা চলছে আসগরের, তাই এ বাড়ির কিছুই মুখে তোলার উপায় নেই। ... ...
তবে সবকিছু ছাপিয়ে এক তীব্র সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতিকে পশ্চিমবাংলার ভোটে কার্যকর করার প্রয়াস বিজেপির প্রচারের মূল দিক। এখানে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে মমতা ব্যানার্জির আর এস এস সম্পর্কে দ্বিধা জড়িত কিছু উচ্চারণ লোহার বাসরঘরে সিঁধ কাটার তুল্যই মনে হয়। তাঁর এই মতাদর্শহীন, যেখানে যেমন প্রয়োগবাদ কি শেষ বিচারে পশ্চিমবাংলায় আর এস এস – বিজেপির তীব্র মতাদর্শ গত – সাংগঠনিক – রাজনৈতিক প্রকল্পের সামনে প্রাচীর খাড়া করতে সমর্থ -এ প্রশ্ন উঠবেই। ... ...

জলের নিচে বাজা সুরের মতো — চেনা, অথচ দূরের ... ...

মহামন্ত্রী শাহুজি পড়েছেন গভীর ভাবনায়। চিন্তার চোটে তাঁর নাওয়া খাওয়া সব শিকেয় উঠেছে। মেজাজ তিরিক্ষে হয়ে রয়েছে, এই একটু আগে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র জয়দ্রথ দণ্ডগেন্ডুক খেলার কী একটা দুর্ঘটনা নিয়ে বলতে এসেছিল, তিনি চেঁচিয়ে উঠে বলেছেন, এই সব ছোটখাট বিষয়ে যেন সে কোনো নালিশ জানাতে না আসে ভবিষ্যতে। ভাগ্যিস মহামন্ত্রীপত্নী সেসময় সখীদের সাথে কোনো এক উদ্যান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তাই সেকথা সাথে সাথে জয়দ্রথ, মাকে নালিশ করতে পারেনি। ... ...

ছোটবেলায় মৌরি ভালই ছবি আঁকত, পরে কেন যেন কিছুতেই আর আঁকতে চাইত না। অনিতা যা যা নিয়ে প্রশংসা করেছে, গর্ব করেছে প্রতিটা জিনিষ মৌরি ছেড়ে দিয়েছে, দক্ষতা, ক্ষমতা আঙুলের ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে গেছে অবহেলায়। অথচ মেয়ে এমনিতে খুব বাধ্য ছিল, কোনোদিন কোন কথা অমান্য করে নি, কোনো অনুরোধ ফেলে নি শুধু অনিতার পছন্দের কাজগুলো জিনিষগুলো নষ্ট করেছে চুপচাপ। সুখের সংসারই তো ছিল ওদের, মৌরির এই অদ্ভুত আচরণের কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পায় না অনিতা। ... ...

দীনবালা সম্বন্ধে এইসব গল্প সত্যি না মিথ্যে, তা তার ছেলের বৌ তো দূরের কথা, নিজের ছেলেরাও জানে না। কারণ বড় ছেলের বয়স যখন পাঁচ বছর, দীনবালার স্বামীকে বাঘে খায়। এমন খাওয়া খেয়েছিল জন্তুটা, যে মানুষটার এক হাতের পাঞ্জা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি। শুধু রক্তমাখা লুঙি তুলে এনেছিল তার নৌকার সঙ্গীসাথিরা, সুন্দরবনের রীতি রেওয়াজ অনুযায়ী সেই কাপড়ের টুকরোটাকে সাক্ষী রেখেই তার বৌয়ের সিঁদুর মোছা, শাঁখা ভাঙা, শ্রাদ্ধ ইত্যাদি কাজকর্মগুলো সারা হয়েছিল। ... ...

নতুন ওষুধটা আশ্চর্য ভাবে কারুকে মেরে তো ফেললই না, বরঙ অনেক অসুস্থ লোকের ভেতরে একটা পরিবর্তন দেখা যেতে লাগল। প্রাথমিকভাবে তাদের যার যা সমস্যা ছিল সেগুলো কেমন যেন কমে যেতে লাগল। যে চোখ পিটপিট করত তার পিটপিটানি কমল। যার মুখ ফ্যাকাশে ছিল তার ঠোঁটে সামান্য রং দেখা দিল। যে সবকিছু হারিয়ে ফেলত সে সবকিছু খুঁজে পেতে শুরু করল। ... ...

মায়োপিক ভিশন আমার, মানে, দূর-দৃষ্টি দুর্বল। চশমা ছাড়া এমনিতেই চারপাশ ঝাপসা দেখি। তার ওপরে এখন চোখ ঝলসানো রোদ্দুর। চোখদুটোকে সরু করে বাইরের তাকাচ্ছি আর ভাবছি, কোনও কাজ তো হলো না আজ, তার মানে আবার একদিন আসতে হবে এই মনোরম অভিযানে? মনটা বিগড়ে যায়। সেই বিগড়ানো মন নিয়ে কলেজস্ট্রিটের মোড়ে নামি। বাড়ি যেতে হলে বাস পাল্টাতে হবে এখানে। ... ...

কেন এক অসম্পূর্ণ লেখা টেবিলে ঘুমিয়ে থাকে আমি ও আমরা উঠে যাই ... ...

আসলে কমলা পবনের বাপের চোখে সেই বেড়ালটাকে দেখতে পেয়ে গেছিল। যে বেড়ালটা এখন নাতির সঙ্গে টিভিতে দেখে। একটা বেড়াল আর একটা একটা ইঁদুর। একে অপরকে জব্দ করতে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। একবার বিল্লি মাত দিচ্ছে, পরক্ষণেই ইঁদুর তাকে হারিয়ে দিচ্ছে। নাতি বলেছিল, “দেখো দাদি, বিল্লিটা কেমন চুহাকে মারবে বলে দৌড় করাচ্ছে।” ... ...

নিউটন স্বয়ং বলে গেছেন অগ্নিকাণ্ডে আলোকবিজ্ঞান ও ক্যালকুলাসের সমস্ত পাণ্ডুলিপিগুলোই পুড়ে গিয়েছিল। তাহলে পিরামিড সংক্রান্ত লেখা অর্দ্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলো এল কোথা থেকে? তাহলে তো বলতেই হয়, অন্তত দু’বার অগ্নিকাণ্ডের সম্মুখীন হয়েছিলেন নিউটন। প্রথমটা ১৬৮০ সালে, দ্বিতীয়টা ১৬৯২ সাল। সদাবি’সের দাবি সত্য হলে কিন্তু অনেক কিছুই উলটপালট হয়ে যাচ্ছে। প্রথমত, এ কথা সত্য, ১৬৮০ সাল নাগাদ প্রিন্সিপিয়া রচনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন নিউটন। ... ...

এমনকি তাদের স্কুলেও নাকি অলৌকিক পুরুষের বইয়ের প্রতিটি খণ্ড লাইব্রেরিরুমে রাখা হয়েছে এবং কম্পিউটারেও আপলোডেড। নাম দিয়ে সার্চ করলে সবকিছু স্পষ্ট জানা যায়। মহান পুরুষের কাছে ভিড় ঠেকাতে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে ইদানিং। ইয়ান এবং তার বন্ধুরা সবাই সবার মৃত্যুর তারিখ জানে। বৈশালী জানে। এবং আমিও। জোহরা জানে, তাকে একটা দীর্ঘ সময় এই দুনিয়ায় কাটাতে হবে আমাদের তিনজনকে ছেড়ে। ... ...

সেই সংশোধনের কাজ চলছিলো। শরীর চলতে চায়না শফিকের। বুকে একটা চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে কয়েকদিন হল। আগের রাতে ভাত খেয়ে জল খাবার পর কাজে বসেই শফিকের দুচোখে ঝাঁপিয়ে এলো ঘুম। টেবিলে মাথা রেখে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লো। বৌ সকালবেলা চা দিতে এসে ফিরে গেলো। আহা, ঘুমাক একটু। ... ...