
২০১৩ সালে কুম্ভলগড় কেল্লা UNESCO World Heritage Monument এর স্বীকৃতি পায়। তবে আমি ওখানে একাকী ভ্রমণে গেছিলাম তার দু’বছর আগে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে। ১৫ বছর আগে শীতের সুন্দর, শান্ত, নির্জন পরিবেশে ১৭ কিমি পদব্রজে কুম্ভলগড় ভ্রমণে অপূর্ব আনন্দ পেয়েছি। মনে হয় এখন ওখানে গেলে সেই নির্জনতার স্বাদ আর পাওয়া যাবে না। ... ...

এই সিরিজের আগের দুটি পর্ব ছিল শিবের গাজন। এই পর্ব থেকে থাকবে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা। এই পর্বের ভ্রমণের সময়কাল - ৬ ও ৭ই অক্টোবর - ২০১২ - শনিবার ও রবিবার ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ৩৫। রাস্তায় আড্ডারত স্থানীয় তিন তরুণকে শুধোই, আউলিকা প্যায়দল মার্গ কিধর? ওরা বলে, মত যাইয়ে। আমি বলি, কিঁউ? বিজ্ঞের মতো ওরা জানায়, চড়াই বহুত হ্যায় আঙ্কল, থক জায়েঙ্গে। কথা না বাড়িয়ে একটু এগিয়ে অন্যজনকে শুধোই। তিনি রাস্তা বুঝিয়ে দেন। জিজ্ঞাসা করি, খুব চড়াই, পারবো না? তিনি বলেন, চড়াই ভালোই, তবে না পারার মতো কিছু নেই। আমরা স্থানীয়, তাই সোয়া ঘন্টা লাগে। আপনার না হয় দ্বিগুণ লাগবে। ইচ্ছে যখন হয়েছে, ঘুরে আসুন। অসুবিধে হলে ফিরে আসবেন। এই হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গির তফাৎ। ... ...

সলিলদার কথায়, সুরে ও অনুপদার অনুপম গায়কীতে শুনেছি - এমনি চিরদিন তো কভু যায় না। তবে সে গানে দিনগুলি ছিল সর্বনাশা নিরাশার। জামনগরে আমার আটটি বছর কেটেছিল তার বিপরীত - অতীব আনন্দময়। তবে তাও তো আর চিরকাল কপালে সয় না। তাই ঘটলো ছন্দপতন - দু মাসেই অনেকটা ঝরে গেল আট বছরের সঞ্চিত স্নেহ। ... ...

কর্মসূত্রে নভী মুম্বাইয়ের খারঘরে থাকার সময় ১০/১২ থেকে ০২/১৪ সময়কালের মধ্যে সহ্যাদ্রি অঞ্চলে স্থানীয় মারাঠি ট্রেকমেটদের সাথে ১৭টি হিল ফোর্ট ট্রেকিং করেছি। একটু তাড়াহুড়ো হয়েছিল কারণ জানতাম না কবে বদলি হয়ে যাবো। গেলামও হয়ে বদলি - হুবলী - ০৮/১৫। তবে যাওয়ার আগে বহুদিন ধরে লালিত আশার আশ মিটিয়ে নিয়েছি। ঐ অঞ্চলেই আমার গাড়িতে তিন পূর্বপরিচিত কলকাতার বঙ্গ-দাদা-বন্ধুর সাথে করেছিলাম ৮দিনের ১১০০কিমির এক স্বপ্নীল ভ্রমণ - যা আজও স্মৃতিতে অমলিন। একবার অধূনা মুম্বাইবাসী আদতে বিহারের নিবাসী এক ট্রেকমেটের সাথে দুজনে ওর গাড়িতে ঘুরে এলাম সুন্দর কোঙ্কন উপকূলের কিছু জায়গায়। মারাঠি ট্রেকমেটদের সাথে ১৫জনের দলে চারদিন ঘুরেছি অফবিট গোয়া। একাকী ভ্রমণের সিরিজ তো চলছে, তবে এই মিনি সিরিজে সেই অন্যরকম দলগত ভ্রমণের কিছু কথা আসবে ... ...

গাড়ি পিছনে রেখে আমরা শুকনো ঘাসে ঢাকা মেঠো পথ দিয়ে এগিয়ে চললাম, সামনে সামান্য দূরে একটা বিরাট গাছ, যার নিচ থেকে নাকা আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কাছে গিয়ে দেখলাম কিনারায় এসে গেছি, সামনে গভীর খাদ সোজা নেমে গেছে নিচের দিকে, আর তার ওপারে নীলাভ সবুজ পাহাড়ের সারি - ডাইনে, বাঁয়ে, সামনে যতদূর দৃষ্টি যায়। শৃঙ্খলাপরায়ন সেনাবাহিনীর মত তারা যেন অপেক্ষা করছে আদেশের অপেক্ষায়। এইবার বোঝা গেল কেন এর নাম ব্লু মাউন্টেন। মাথার ওপরে ঝকঝকে নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে বাংলার শরৎ কালের মত কয়েক টুকরো সাদা মেঘ, যদিও এখন ডিসেম্বর মাস। সামনে পাহাড়ের কিনারায় একটা প্রশস্ত পাথরের চাতাল, তার পাশেই একটা লোহার বেঞ্চ। চাতালে বা বেঞ্চে বসে সামনের পাহাড়ের শোভা দেখতে দেখতে কাটিয়ে দেওয়া যায় দীর্ঘ সময়। ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ৩০… দেখা হোলো দুটি আকর্ষণীয় সেতু। আলাপ হোলো দুটি আকর্ষণীয় মানুষের সাথে। একাকী ভ্রমণ তো করেই থাকি তবে ঐ ভ্রমণের সূত্রে পরবর্তীতে হয়েছে কয়েকটি দলগত ভ্রমণ। তার আনন্দ আবার অন্যরকম ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ২৯…।করোনাকালে দুরে না হোক, কাছেপিঠে কোথাও, ঘর হতে শুধু তিন পা ফেলিয়া মোডে মৃদুমন্দ ভ্রমণ তো হতেই পারে। ২০২১ এর মার্চে কর্ণাটকের মনিপাল থেকে কলকাতায় আসার আগে তেমন একটা ব্যবস্থা করে এসেছিলাম। এটা ঠিক একাকী ভ্রমণ বৃত্তান্ত নয়, ফোনালাপ ও হোয়াচ্যাটের মাধ্যমে অদেখা কিন্তু বিশেষ পরিচিত সুজনবাবুর সুবাদে সম্পূর্ণ অচেনা কিছু মানুষের সাথে বাস্তবে আলাপ, আশপাশে টুকুন ঘোরাফেরা, এই সবের আলুনী পাঁচালী। তবু, কলকাতায় এসে যেহেতু ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম একাই, আলাপ যা তা হয়েছিল পথে, তাই এটাও রাখলাম এই সিরিজে ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ২৮ … দুবার একই ভুল করে একটি জনশ্রুতির মর্মার্থ উপলব্ধি করেছি কাঁপতে কাঁপতে - ছাগল দিয়ে লাঙ্গল দেওয়া গেলে চাষা বলদ কিনতো না। সেবার উত্তরাখণ্ড ভ্রমণে পঞ্চকেদারের দুটি কেদারে গেছিলাম। একাকী যোশিমঠ থেকে কল্পেশ্বর। ছ জনের দলে তুঙ্গনাথ। দলটি হয়েছিল গুপ্তকাশীতে আলাপ পাঁচটি উত্তরপ্রদেশের তরুণের সাথে। তুঙ্গনাথ, দেওরিয়া তালে দুটি রাত কাটিয়ে উখিমঠ থেকে ওরা হরিদ্বার চলে যেতে আবার আমি একা ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ২৭ … পরিচিত সঙ্গীর সাথে হপ্তা দুয়েক অবধি ভ্রমণ ঠিক আছে। তার বেশী হলে নানা কারণে ছানা কাটতে শুরু করে। কিন্তু দু মাসের একাকী ভ্রমণেও কখনো সঙ্গীহীনতার চাপ অনুভব করিনি। সেলফ ড্রাইভ করে বেড়াতে গেলে বাস্তবিক কারণে সাথে একজন থাকলে সুবিধা হয়। কারণ পথে গাড়ি খারাপ হতেই পারে। জনবাহনে গেলে সে প্রয়োজন নেই। একাকী ভ্রমণে সঙ্গীর অভাব বোধ না করলেও চলার পথে স্থানীয় মানুষের সাথে গল্পগুজব করতে ভালোই লাগে। যাদের সাথে আর কখনো দেখা হবেনা তাদের সাথে ক্ষণিকের আলাপ স্মৃতিতে রয়ে যায় বহুদিন ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ২৬ … এই সিরিজের ৪নং পর্বে জনৈক নীল ২১.১০.২৩ লিখেছিলেন - “অনসূয়া দেবী যাত্রার কথা লিখবেন না?” বলেছিলাম - “লিখবো। সেও বেশ আনন্দময় অভিজ্ঞতা”। আরো নানা বিষয়ে লিখতে গিয়ে সময় হয়নি। এতোদিনে নীলের অনুরোধ রাখতে পারলাম। তবে আমার ছড়িয়ে ফেলা স্বভাব অনুযায়ী এই যাত্রা পথেও আসবে কিছু পার্শ্বপ্রসঙ্গ ... ...

অষ্টম পর্ব: বুডাপেস্ট ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ২২. পরদিন সকালে শৈলেশকে পয়সাকড়ি মিটিয়ে দিয়ে বলি, ইচ্ছে তো করছে এখানেই থেকে যাই আরো দিন দুয়েক। এমন নির্জনতা বহুদিন পাইনি কোথাও। কিন্তু আরো কিছু জায়গা দেখার বাসনা নিয়ে বেরিয়েছি বাড়ি থেকে, তাই আজ এগারোটা নাগাদ বেরিয়ে পড়বো। শৈলেশ বলে, তিনদিন থাকলেন এখানে, একদিনও খেলেন না আমাদের কাছে। আমার বৌয়ের মাথার গণ্ডগোল হলেও রান্নাটা কিন্তু খারাপ করে না। আপনি বুজুর্গ ব্রাহ্মণ, একটু অতিথি সেবার সুযোগ অন্ততঃ দিন। এতে গৃহস্থের মঙ্গল হয়। ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ২১. বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে। আহা রে - মরে গেছে নাকি! তার শুয়ে থাকার ভঙ্গি - পিছনে ঘুরঘুর করা কুকুর দেখে আচমকা মনে পড়ে যায় সুদানের দুর্ভিক্ষের ওপর তোলা, দক্ষিণ আফ্রিকার ফটো-জার্নালিস্ট কেভিনের ছবিটির কথা - The Struggling Girl. ছবিটি ১৯৯৪ সালের মার্চে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিল। কেভিনের জন্ম আমার দশদিন আগে কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সে স্বেচ্ছায় চলে গেছে এই ধরাধাম ছেড়ে। পুরস্কৃত হওয়ার চারমাস পরেই সে আত্মহত্যা করে। ব্যক্তিগত দারিদ্র্যর সাথে সুদানের মর্মান্তিক দুর্ভিক্ষ প্রত্যক্ষ্য করার মর্মপীড়া হয়তো তাকে ঠেলে দিয়েছিল জীবনের কিনারায়। ছবিটি দেখলে আমার একটাই ক্যাপশন মাথায় আসে - The waiting vulture. তবে কেভিনের ছবিটির মতো ধৈর্য্যসহকারে অপেক্ষারত মরা মাসখেকো হুডেড ভালচার নয় - সমাজে চতুর্দিকে ছড়িয়ে আছে নানা পোষাক পরা শকুন, তাদের তীক্ষ্ম নির্মম ঠোঁটে বহুকিছু ছিঁড়ে খেতে - জীবিকা - জীবন - সম্মান। তাদের কেউ কেউ দৃশ্য - অনেকেই অদৃশ্য ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ২০. পরিচিত ভ্রমণের জায়গা হিসেবে - উত্তরে কালিঞ্জর কেল্লা, পূবে পূণ্যতীর্থ মৈহার, দক্ষিণে কাটনী এবং পশ্চিমে খাজুরাহো আর পান্না জাতীয় উদ্যান। এসবের মাঝে রয়েছে, মধ্যপ্রদেশের এক অখ্যাত প্রান্তিক গ্ৰাম কছগাঁও। এরই কাছে রয়েছে একাদশ তীর্থংকর শ্রেয়াংসনাথজীর নামানুসারে জৈনতীর্থ শ্রেয়াংসগিরি। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছেও স্থানটির বিশেষ গুরুত্ব আছে সপ্তম খ্রীস্টাব্দের প্রাচীন চৌমুখনাথ মহাদেব মন্দিরের জন্য - যেটি ASI এর অধীনে থাকলেও আজও নিয়মিত সেখানে পূজার্চনা হয়। সেবার পথে নামার আগে ঘরে বসে গুগল ম্যাপ ঘাঁটাঘাঁটি করছিলুম। আচমকা পেয়ে গেলুম সন্ধান - মায়াবী নির্জন নাচনার। বেঁচে থাক গুগল ম্যাপ। এর দৌলতে খুঁজে পেয়েছি প্রচলিত ট্যূরিস্ট সার্কিটের বাইরে এমন বেশ কিছু অখ্যাত খাজানা যা ভরিয়ে দিয়েছে আমার একাকী ভ্রমণের আনন্দের ডালি - যেমন এই নাচনা ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ১৯. এ লেখাটি ‘রিয়াবুতু’ নামক ত্রিপুরার একটি ওয়েবজিন প্রকাশ করেছিল ২৪.১.২৪. তবে সেখানে লেখাটি পাঠিয়েছিলাম সংক্ষিপ্ত আকারে। এখানে রইলো বিশদে। বেতয়া নদীর তীরে উত্তরপ্রদেশের ললিতপুর জেলার একটি প্রান্তিক গ্ৰাম দেবগড়। স্থানটি জৈন ও হিন্দু ধর্মের প্রেক্ষিতে পুরাতাত্ত্বিকদের কাছে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ওখানকার পুরাকীর্তিগুলি আছে ASI এর তত্ত্বাবধানে। দেবগড় পাহাড়ে রয়েছে ভগবান মহাবীর বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। ২০১৯ এর ৭ ও ৮ই মার্চ পর্যটকবিরল নির্জন সুন্দর সেই স্থানে দুটি রাত ছিলাম। সেখানে কয়েকজন স্থানীয় মানুষের সাথে আলাপচারিতার অভিজ্ঞতা, ধর্মশালার ম্যানেজার ও এক কর্মী পরিবারের সহৃদয়তা এবং সর্বোপরি এক নির্লোভ অটোচালক রামুর আচরণ আমায় অভিভূত করেছিল। তাই পাঁচবছর পরেও স্মৃতিতে তা অমলিন। এ লেখার প্রোটাগনিস্ট - রামু ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ১৮. এ লেখাটি “ভ্রমণ আড্ডা” বার্ষিক সংখ্যা ২০২০ তে প্রকাশিত হয়েছিল। ওটা এক অন্য গোত্রের পত্রিকা। বিগত ২৫ বছর ধরে ভদ্রেশ্বর থেকে বছরে একবার বেরোয়। বইয়ের মতো আকার। ১৭০-৮০ পাতার পরিসর। ছবিছবা থাকে না। তবে এখানে ছবি রাখায় বাধা নেই - তাই কয়েকটি ছবি রইলো পুনশ্চের পরে ... ...

সপ্তম পর্ব : বুডাপেস্টের পথে ... ...


গ্যোর......হাঙ্গেরিয়ান রাপসডি ... ...