
বন দেবতা আর দেবীর থান দেখা হল, এবারে গাইড বাবুর নেতৃত্বে পাহাড়ে চড়ার পালা। আমরা সরু লাইন করে একে একে সেই বন্ধুর জঙ্গলের পথে পা বাড়ালাম। শাল, সেগুন, মহুয়া গাছগুলো আমার আন্দাজে তিন সাড়ে তিন ফুট দূরত্বে রয়েছে। মানে চারা যখন লাগানো হয়েছিল তখন ছয় সাড়ে ছয় ফুট দূরে দূরে হয়তো পোঁতা হয়েছিল। এখন গাছ বড় হয়ে গুঁড়ির বেড়গুলো বেড়ে গেছে, তাই কাছে মনে হচ্ছে। আর লম্বা গাছের মাঝে নিজে থেকেই ঝোপ ঝাড় লতানে গাছ গজিয়ে উঠে বনটাকে বেশ গহন করে তুলেছে। আর একটা জিনিস নতুন দেখলাম... ... ...

দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রাইভেট ক্রেডিটের বাজারে আজ নেমে এসেছে সঙ্কটের ছায়া। ফার্স্ট ব্র্যান্ডস, ট্রিকলর দেউলে হবার পরে গ্রিক ঋষি জেমি ডাইমন হঠাৎ ধ্যান নিদ্রা থেকে জেগে উঠে আবিষ্কার করেছেন এই সব লোন আরশোলার মতো নোংরা, ক্ষতিকর। আরও বিপদে পড়েছেন সেই সব নিবেশক যারা আপনার ধন হেজ ফাণ্ডকে দিয়ে সুখনিদ্রায় মগ্ন ছিলেন। তাঁরা জে পি মরগানের মন্তব্য শুনে আতঙ্কিত হয়ে ফান্ড ম্যানেজারকে ফোন করছেন, লাভ চাইনে, আমার জমা টাকাটা ফেরত দাও। প্রাইভেট ক্রেডিটের মুশকিল এইখানেই। ... ...

আমরা সকলে মিলে টোটোতে চড়ে রওনা দিয়েছি বনভৈরবীর থানের উদ্দেশে। গাইড ভদ্রলোকও সঙ্গে আছেন। পাশাপাশি বাইক নিয়ে চলেছে সেই নতুন পাওয়া বন্ধুরা। পাহাড়ের কোল ঘেঁসে পথ। জঙ্গলের একটা অদ্ভুত তীক্ষ্ণ কিন্তু অনুচ্চ গন্ধ আছে। বনপথে সেই সুবাস বাতাসে ভাসে। মাটির গন্ধ, বুনো লতার গন্ধ, গাছের বাকল, পাতা, ফুল, ফল সব মিলিয়ে কেমন একটা যে গন্ধ, কোন সুগন্ধীর বোতলে তা ধরা যায়না। ... ...

বিশ শতকের দুই মহাযুদ্ধের সবচেয়ে কম আলোচিত একটি দিক হলো — বেসরকারি পুঁজি সেখানে ঠিক কতটা ভূমিকা রেখেছিল। শুধু যুদ্ধের পরে পুনর্নির্মাণে টাকা ঢালার মাধ্যমে নয়, যুদ্ধ চলাকালীন তাদের টাকা ঢালার ব্যাপারটাও। এটা কোনো ষড়যন্ত্রের গল্প নয়। এটা নথিভুক্ত আর্থিক ইতিহাস — এবং এই ইতিহাস আগের তিনটি পর্বে বর্ণিত স্থাপত্যের সাথে অস্বস্তিকরভাবে মিলে যায়। বিশ শতকের শুরুতে রথসচাইল্ড পরিবার একশো বছর ধরে এমন এক আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল যা অনেকগুলি দেশ জুড়ে ছিল এবং অনেক দেশের সরকারের থেকেও সেই নেটওয়ার্ক বহুগুণে উন্নত ছিল। নাথান রথসচাইল্ডের সেই বিখ্যাত উক্তি, ইংল্যান্ডের সিংহাসনে কে বসল তাতে তার কিছু আসে যায় না, যদি ইংল্যান্ডের অর্থসরবরাহ তার নিয়ন্ত্রণে থাকে — এটা কোনো দম্ভোক্তি ছিল না। এটা ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কোথায় সেটার একটি পদ্ধতিগত বিবরণ। ... ...

সরকার-ভজনা হল মূর্তিপূজার আধুনিক রূপ, আর এর বিপদ সাঙ্ঘাতিক। এখনো পর্যন্ত এর সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধক হিসেবে পাওয়া গেছে – দ্বিপাক্ষিক (two-party) ব্যবস্থা। আমি রুজ়ভেল্টের সময় আমেরিকায় থাকতাম। সেখানে যতজনের সঙ্গে মিশেছি, অধিকাংশের মতে লোকটি এক ভয়ঙ্কর উন্মাদ। আমি তাদের সঙ্গে একমত না হলেও, সরকারের মাথা-র সম্পর্কে লোকের এমন ধারণা – এ আমার খুবই স্বাস্থ্যকর এক অভ্যেস বলে মনে হয়েছিল। স্বাধীনতা একমাত্র টিকতে পারে, যখন দুই পক্ষের প্রভাবশালী মানুষজনের মধ্যে একটা ঠিকঠাক কার্যকরী মতপার্থক্য থাকে। পশ্চিমে এই বিরোধ শুরু হয়েছিল সন্ত অ্যাম্ব্রোজ় (Ambrose)-এর সময়, চার্চ ও রাষ্ট্রের বিরোধের মধ্যে দিয়ে। বর্তমানে, ইংল্যান্ডে এটি রক্ষণশীল ও সমাজবাদীদের দ্বন্দ্বের মাধ্যমে আর ওদিকে, আমেরিকায়, রিপাবলিকান ও ডেমোক্রাটদের বিভেদের মাধ্যমে টিকে আছে। প্রাশ্যা (Prussia)-র রাজকোষের বেতনভোগী স্তাবক হয়ে হেগেল যে ‘রাষ্ট্রই ঈশ্বরের পরিধেয়’ (State as the Garment of God) – এই তত্ত্ব কপচেছিলেন, গণতন্ত্র জোরদার হলে তেমন রাষ্ট্র-ভজনা মোটেই সম্ভব না। ... ...

সমাজের স্বার্থে করা যেসব কাজের গুরুত্ব আনাড়ি জনতার পক্ষে বোঝা মুশকিল, গণতন্ত্রে সেইসব কাজের স্বাধীনতা বজায় রাখাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। আনকোরা ধরনের বৌদ্ধিক কাজ সবসময় জনগণের অপ্রিয় হয়, কারণ তা মনের গভীরে লালিত কুসংস্কারগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখায়, আর অশিক্ষিত মন সেই কাজগুলিকে দুশ্চরিত্রের নষ্টামি হিসেবে দেখে। লুথারের ধারণা ছিল – কোপার্নিকাস নেহাতই সাধারণ এক ঘোলাটে ধাঁধাঁপ্রেমী (paradox-monger) মানুষ, নিজের খামখেয়ালী চেহারাটিকে জনমধ্যে প্রচার করাই যাঁর মূল উদ্দেশ্য। কেলভিনেরও তা-ই মনে হয়েছিল, আর গ্যালিলিও-র ক্ষেত্রে চার্চও ঠিক একই কথা ভেবেছিল। গণতন্ত্র গ্যালিলিও-কে বাঁচাতে পারতো না। ... ...

গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্যে অনেকভাবেই সহিষ্ণুতা অবশ্য-প্রয়োজনীয়। মানুষ যদি তার নিজের আদর্শ এতটাই তীব্রভাবে আঁকড়ে ধরতে চায়, যার ফলে তার আদর্শের জন্যে মরতে বা মারতে ইচ্ছে করে, তবে প্রতিটি মতপার্থক্য হয় যুদ্ধে, নয় কু-দে-তা (coup d’état; অভ্যুত্থান)-য় শেষ হবে। গণতন্ত্র আসলে ব্যক্তিগত উদ্যোগ আর সংখ্যাগুরুর প্রতি আনুগত্যের এক জটিল মিশ্রণ দাবি করে। একদিকে তার দাবি – জোরালো রাজনৈতিক ধ্যানধারণা-ওয়ালা ব্যক্তির উচিত তার নিজের মতামতের সপক্ষে তর্ক করা, আর সংখ্যাগুরু যাতে সেই মত মেনে নেয় – সেই চেষ্টায় অবিচল থাকা; অন্যদিকে, সংখ্যাগুরু যদি তখনো অমত হয়, তবে ভদ্রভাবে সেই জনাদেশ মেনে নিতে হবে ... ...

সর্বকালে, সর্বত্র – ক্ষমতা যাদের হাতে, তারা ক্ষমতাহীনদের ভালোমন্দের ব্যাপারে উদাসীন; তাদের একমাত্র লাগাম টেনে রাখে ‘ভয়’। কথাটা খুব কর্কশ শোনাতে পারে। ভালো মানুষেরা অন্যদের ওপরে এক বিশেষ সীমা লঙ্ঘন করে অত্যাচার করবে না – এমনটা বলা যেতেই পারে। বলা হয়তো যায়, কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলে। নিজেদের সুখে রাখতে ঠিক কতটা নির্যাতন চালানো হচ্ছে – সে কথা ভালো মানুষেরা দিব্যি না জেনে, বা না জানার ভান করে থাকতে পারে। রানী ভিক্টোরিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, লর্ড মেলবোর্ন ছিলেন এইরকমই একজন ভালো মানুষ। .... ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যৎসামান্য অর্থের বিনিময়ে কয়লাখনির অন্ধকারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেটে তাঁর সম্পত্তির জোগান দিত। ওইসব শিশুদের যন্ত্রণাই ছিল তাঁর শহুরে জীবনের জিয়নকাঠি। তিনি যে ব্যতিক্রম ছিলেন, এমন নয় কিন্তু! .... যে অবিচার আমাদের পক্ষে লাভজনক, তাকে সর্বদাই কোনো না কোনো কথার মারপ্যাঁচে (sophistry) জায়েজ় বলে দেখানো সম্ভব ... ...

সেবার মানবাজারে থাকতে পারলে খুবই ভালো হত, কিন্তু আমাদের পুরো টীমকে রাখার মত অতগুলো ঘরওলা হোটেল পাওয়া গেলনা। তাই বাধ্য হয়ে মুকুটমণিপুরে থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। অসুবিধে খুব একটা হয়নি। হোটেল খুব সাজানো গোছানো, বেশ সুন্দর। পঞ্চাশ কিলোমিটারের মত দূরত্ব। আমাদের সঙ্গে বাস ছিল, রোজ সওয়া ঘন্টা যেতে, আর ঐরকমই ফিরতে। ফাঁকা পথের দুপাশে পাহাড় আর জঙ্গল। ... ...

আমাদের কাছে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার আর গণতন্ত্রের আন্তঃসম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ মনে হলেও, এমন যে হতেই হবে – তার কোনো কারণ নেই, কেননা, নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির ক্ষমতা খুবই সীমাবদ্ধ করে রাখা সম্ভব। আমাদের স্কটিশ বেরাদরেরা হাউস অব লর্ডসে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠান, কিন্তু তাকে কোনোভাবেই গণতন্ত্র বলা যায় না। কিন্তু, প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ছাড়া এমন কোনো প্রক্রিয়া খুঁজে বের করা প্রায় কার্যত অসম্ভব, যার ফলে ভৌগোলিকভাবে আয়তনে বড় কোনো রাষ্ট্রের কোনো সাধারণ নাগরিক সরকারি নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে পারেন। ... ...

পেট্রোডলার ব্যবস্থার প্রধান শর্ত হলো — সব গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস বাণিজ্য অবশ্যই ডলার-নির্ভর চুক্তির মাধ্যমে হতে হবে। এই শর্তটি কোনো আন্তর্জাতিক আইনে লেখা নেই। এটি ১৯৭৪ সালে তৈরি করা একটি কাঠামোগত ইনসেন্টিভ এর মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে—বিশেষ করে নিরাপত্তার গ্যারান্টির বিনিময়ে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন করার ব্যবস্থা। এর সাথে জড়িয়ে আছে একটি পরোক্ষ বোঝাপড়া যে, এর বিকল্প খোঁজা অনেক ব্যয়বহুল হবে এবং এই ব্যবস্থাটি বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটিয়েছে। ইরান এক্ষেত্রে একটি বিশেষ উদাহরণ। এটি দেখায় যে, যখন একটি রাষ্ট্র আদর্শের কারণে নয়, বরং প্রয়োজনের তাগিদে এই ব্যবস্থার বাইরে কাজ করার জন্য নিজেদের পরিকাঠামো তৈরি করে, তখন কি ঘটে। কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলার-ভিত্তিক আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইরান বাধ্য হয়েছিল ডলারের বাইরে জ্বালানি কেনাবেচার কৌশলগুলো তৈরি করতে এবং সময়ের সাথে সাথে সেগুলোকে উন্নত করতে। ডিজিটাল ইউয়ান, চীনের ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম (CIPS), শ্যাডো ফ্লিট নেটওয়ার্ক এবং চীনের সাথে পণ্য বিনিময়ের মতো পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলো কোনো বৈপ্লবিক পরিকল্পনা নয়, বরং এটি হলো ব্যবস্থার বাইরে চলে যাওয়ার একটি খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা। ... ...

বড় রোড। গাড়িটার স্পিড্ বারবার কমে যাচ্ছে। ব্রেক চিপে দাঁড়িয়ে পড়ছে। রাস্তায় জ্যাম আজ বেশি। বৃষ্টি হচ্ছে রাত থেকে। চারিদিকে জল কাদা। কাদামাখা বৃষ্টির জল সাদা সুমো গাড়িটা কালছে করে ফেলছে। গাড়িটা এবার বড় রাস্তা থেকে ছোট একটা রাস্তায় ঢোকার চেষ্টা করে চলেছে। রোডের মুখের অনেকগুলো গাড়ি পরপর আটকে আছে। ভিড় ওখানটায় খুব। হর্ণ বেজে চলেছে নানারকম। ... ...

বন পাহাড়,পশু পাখির সঙ্গে তাদের আত্মিক যোগাযোগ নেই, ভালোবাসা নেই। তাই পর্যটকদের জন্য কোন ব্যবস্থাপনা দূরস্থান, পথ ঘাট থেকে শুরু করে হাসপাতালের শৌচাগার পর্যন্ত ভয়াবহ অপরিচ্ছন্ন। আমাদের মাঝারি দামী হোটেলের ফিল্টারের জলটুকু অবধি দূষিত ছিল। অবশ্য ভারতবর্ষে এ জিনিস তেমন অস্বাভাবিক নয়। ... ...

প্রযুক্তি দানবরা এখন ভূ-রাজনীতিতে এমন প্রভাব বিস্তার করছে যা প্রথাগত রাষ্ট্র বা ডিপ স্টেট খেলোয়াড়দের সমতুল্য। তাদের কনটেন্ট মডারেশনের সিদ্ধান্ত ঠিক করে দেয় কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধ, নির্বাচন বা জনস্বাস্থ্য সংকট নিয়ে কী তথ্য দেখবে। তাদের অ্যালগরিদমের পছন্দ নির্ধারণ করে কোন রাজনৈতিক বার্তাটি ছড়িয়ে যাবে আর কোনটি চেপে রাখা হবে। ফেসবুক বা গুগলের একটি মাত্র নীতি পরিবর্তন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শত শত দেশের কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করে—যার জন্য কোনো আইনি বিতর্ক, জনমত যাচাই বা গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের প্রয়োজন হয় না। এই কোম্পানিগুলো আসলে সরকারের কাজই করছে। কিন্তু তাদের কোনো সরকারি দায়বদ্ধতা নেই। ... ...

বহু বছর আগে ঝরিয়ার বাড়ির চিলে কোঠায় সঞ্চিত বাঁধানো মাসিক বসুমতীতে রিও দে ঝানেইরোর দুটি চমকপ্রদ সাদা কালো ছবি দেখেছিলাম- জল থেকে জেগে ওঠা কোণাকৃতি একটি পাহাড় এবং তার ঠিক উলটোদিকে প্রায় আকাশে দাঁড়িয়ে দু হাত বাড়ানো যিশুর মূর্তি- এক সরলরেখায়। পর্তুগিজ নাবিকেরা সেই পাহাড়ের নাম দিয়েছিলেন পাঁও দে আজুকার, চিনির রুটি, ইংরেজিতে যার হুবহু অনুবাদ সুগার লোফ, কিন্তু তার সঙ্গে ইংরেজ কোন বুদ্ধিবলে দেওঘরের ত্রিকূটের থেকেও ছোট এই সুগার লোফকে মাউনটেন আখ্যা দিয়েছে বুঝে ওঠা ভার। কলা গাছের মোচার মতো দেখতে এই মনোলিথের আকারের কোন রুটিও তো আজ অবধি কোথাও দেখিনি। তবে এ নাম এলো কোথা হতে? ... ...

ব্রেটন উডস ব্যবস্থা এবং পেট্রোডলারের বিন্যাস, যা আমরা একটু পরে আলোচনা করব, সেগুলো ছিল অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই খেলার কাঠামো পরিবর্তনের এক একটি চেষ্টা — যাতে সহযোগিতার জন্য উৎসাহ এবং দলত্যাগের জন্য ক্ষতি বা ব্যয়ের ব্যবস্থা করা যায়। তারা আংশিকভাবে সফল হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো তৈরি করা হয়েছিল এমন এক পৃথিবীর জন্য যেখানে আমেরিকান আধিপত্য ছিল নিরঙ্কুশ, বাণিজ্যিক ধরণ ছিল সরল এবং আদর্শগত বিভাজন ছিল স্পষ্ট। কিন্তু সেই পৃথিবী এখন মুছে যাচ্ছে। ... ...

যেমন ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিক: ব্রিটিশ অ্যাথলিট ডেরেক রেডমন্ড দৌড়ুচ্ছিলেন চারশ মিটার সেমি ফাইনালে, দুশো মিটারের মাথায় হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে যায়। তবু থামলেন না, ফিনিশ লাইনে তাঁকে পৌঁছুতে হবেই, কোনমতে এক পায়ের ভরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চললেন, মেডিকাল সাপোর্ট ছুটে এলে তিনি তাঁদের নিরস্ত করেন। এমন সময় সিকিউরিটির রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে তাঁর বাবা জিম রেডমণ্ড ছেলের পাশে দাঁড়ালেন, ছেলেকে ধরে ধরে হাঁটিয়ে নিয়ে চললেন, চারশ মিটারের রেসের শেষ টেপ পার হলে স্টেডিয়ামের সব মানুষ উঠে দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্বর্ধনা জানান। অলিম্পিকের ইতিহাসে সেটি এক আইকনিক মুহূর্ত। জানতাম না রিওতেও এমনি কিছু অপেক্ষা করে আছে। ... ...

মিদুবান্দাকে পিছনে রেখে সেই বেহাল পথে নেচে নেচে বাস চললো পরের গন্তব্যে। কিছুটা পরে পাকা রাস্তা। চার পাঁচ কিলোমিটার যাওয়ার পরে, আবার বাঁদিকে লাল ধুলোয় ঢাকা পথ, তবে আগের বারের থেকে ঢাল কম, অনেকটা সোজা। একটু পরেই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে হাঁটা শুরু হল। এখানে পাহাড়ের গা রুক্ষ, গাছপালা কম, আর বিশাল বিশাল বোল্ডার। আচ্ছা সামনে নদী আছে তাহলে। বোলপুরের কাছে মামা ভাগ্নে পাহাড়ের মতো বড় বড় পাথর রয়েছে ছড়িয়ে। ওমা সৌরভ কই? ... ...

এতদিন পর্যন্ত কোন অচেনা অজানা কারবারে কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করতে যে আম জনতা ইতস্তত করছিলেন তাঁরাও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের খাতায় নাম লেখালেন; রোজ সকালে বিকেলে ডাউ জোনস/ নাসডাক ইনডেক্সের ডলার সাইন দেখা শুরু করলেন। নিতান্ত তথ্যের খাতিরে বলা ভালো ১৯২৯ সালের গ্রেট ডিপ্রেশন বা ওয়াল স্ট্রিট ক্র্যাশের সময়ে মাত্র ৭ শতাংশ আমেরিকান সরাসরি শেয়ার কিনেছিলেন, তাতেই সেই মহা সঙ্কট। ১৯৯৪ সালে চল্লিশ শতাংশ আমেরিকান শেয়ার বাজারে সরাসরি খেলছেন, মাত্র সাত বছরের ভেতরে তাদের সংখ্যা বেড়ে হল ষাট শতাংশ বা আট কোটি। ... ...

রিওর বিচে স্নান ও সঞ্চরণরতা সুন্দরীদের পানে চোখ মেলে থাকার বা দূর থেকে শিষ দেবার অধিকার কোন বয়সে সীমাবদ্ধ নয়, ছেড় ছাড় অবশ্যই অসামাজিক ও বেআইনি। যোবিম ও ভিনিসিউস ভেলোসো বারে বসে গল্প করেন, চাকাও (আখের রস, লেবু মেশানো ব্রাজিলের জাতীয় ড্রিংক যাকে আমরা কাইপিরিনিয়া নামেও জানি) পানীয় সেবন করে খোলা জানলা দিয়ে বাইরে চেয়ে থাকেন। একদিন বিকিনি পরিহিতা এক তন্বী শিখর দশনা তরুণীকে দেখে দু জন বাক্যিহারা হয়ে গেলেন; পরপর কয়েকদিন তাকে দেখলেন। সে কখনো বিচে যাচ্ছে কখনো বা দোকান বাজার করে ফিরছে। রুয়া মনতেনেগ্রো এবং প্রুদেন্তে দে মোরেসের ঠিক কোণায় এই বারে বসে তাঁরা দুজন মেয়েটির গতিবিধি লক্ষ করেন, কোনদিন শিষ দিলেন, মাঝে মধ্যে কথাও বললেন, তাঁদের সঙ্গে বসে এক পাত্তর পান করার আবেদন জানালেন। মেয়েটি সে দরখাস্ত নাকচ করে দেয়। ... ...