
ছাঁচনপুরের আত্মবিশ্বাসের কথাই যদি উঠলো তবে আর একটা আত্মবিশ্বাসের গল্প শোনাই। ঘটনাটা আমার ভৌগোলিক জীবনে অনেক দিক থেকেই খুব স্পেশাল। প্রথম ব্যাপার হচ্ছে সেই প্রথম আমি নিজের কলেজের সঙ্গে না গিয়ে অন্য কলেজের ছাত্রীদের সঙ্গে ফিল্ডে গিয়েছিলাম ফিল্ড এক্সপার্ট হয়ে। দ্বিতীয়ত এই যাওয়াটার সঙ্গে আমার শৈশবের আশাপূরণের একটা যোগসূত্র ছিল। ... ...

গল্প বদলে যাচ্ছিলো বাড়ির। বদলে যাচ্ছিলো বাড়ির সন্ধ্যা। মাটির কোলে, যদি কিছু মনে না করেন, এইসব দিনরাত্রি, ছায়াছন্দ, পূর্ণ দৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি, দ্যা বিল কসবি শো, মাটি ও মানুষ---আমরা বড়ঘরকে পেছনে ফেলে একটু একটু করে অভ্যস্ত হচ্ছিলাম সেই অবাক সাদাকালো বাকশে। মেঝেয় পাতা পাটিকে একলা করে আমাদের চায়ের আড্ডা সীমিত হয়ে আসছিলো ঘড়ির কাঁটা সাতটার ঘরে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই। ... ...

আমাদের একান্ন উঠোনকে মাঝখানে রেখে চারপাশের ঘরগুলোর মধ্যে বড়ঘরই ছিল আমাদের অঘোষিত বৈঠকখানা। কেতাবিয়ানা ছিল না তাতে মোটেও। ঘরের মেঝেয় নেহাতই পাটি পেতে সকাল-সন্ধ্যায় চা মুড়ি খাওয়া অথবা জরুরি কোনো আলোচনার আটপৌরে আয়োজনে সে ঘরই ছিল আমাদের অব্যর্থ গন্তব্য। একখানা কালো রঙের নকশি কাঠের খাট, খুব সাধারণ একখানা টেবিলক্লথে ঢাকা টেবিল আর মাত্র একটা চেয়ার। সেই চেয়ার অবশ্য বাড়ির যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একমাত্র দাদুর দখলে থাকতো দায়িত্বশীলতার একমাত্র বাহক হয়ে। ... ...


অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন তখন অনেক দূরে, বিপদে পড়লে দমকল ভরসা, তারা বিপন্ন মানুষকে বড়জোর হাসপাতাল নয় বাড়ি পৌঁছে দেয়, গাড়ি সারায় না। ক্লেয়ারমন্ট অবাক হয়ে দেখলেন হেনরির গাড়ি দিব্যি পৌঁছুল নুটসফোর্ডে, বাড়ির সামনে কৌতূহলী জনতার ভিড়! হেনরির নিজের হাতে বানানো গাড়ি থেমে যায়নি। নতুন কিছু তিনি আবিষ্কার করেননি, যা পেয়েছেন তারই ওপরে খোদকারি করে বানালেন এমন গাড়ি যা চলে মসৃণ ভাবে। যে আমলে গাড়ি ছিল খাটারা, যার বিকট শব্দে পথচারী সন্ত্রস্ত হয়ে রাস্তা ছেড়ে দিতো সেই সময়ে হেনরির গাড়ি চলল, গাড়লের মতো না কেশে, লোককে জানান না দিয়ে! হেনরি আনলেন দশ হর্স পাওয়ার টু সিলিন্ডার সাইলেন্ট গাড়ি। ভবিষ্যতের রোলস-রয়েসের জন্ম হলো, সেদিন এপ্রিল ফুলস ডে, শুক্রবার, পয়লা এপ্রিল ১৯০৪। ... ...

ঝাড়বাগদায় ফিল্ড করার সময় আমরা ছিলাম মুকুটমণিপুর বাঁধ-এর কাছে। এই জায়গাটায় যতবার আসি, ততবারই নতুন করে ভালো লাগে, মন্দও লাগে। কংসাবতী নদীর ওপর তৈরি বিশাল জলাধারের নীলচে বিস্তার, দূরে মুকুটের মতো জেগে থাকা পরেশনাথ পাহাড়—সব মিলিয়ে যেন শান্ত সমুদ্রের ধারে এসে দাঁড়ানোর অনুভূতি হয়। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বাস্তবতা। গত শতকের পাঁচের দশকে জলাধার তৈরির সময় বিশাল বনভূমি, গ্রাম ও মানুষের বসতি জলের নীচে তলিয়ে গিয়েছিল। ... ...

বন দেবতা আর দেবীর থান দেখা হল, এবারে গাইড বাবুর নেতৃত্বে পাহাড়ে চড়ার পালা। আমরা সরু লাইন করে একে একে সেই বন্ধুর জঙ্গলের পথে পা বাড়ালাম। শাল, সেগুন, মহুয়া গাছগুলো আমার আন্দাজে তিন সাড়ে তিন ফুট দূরত্বে রয়েছে। মানে চারা যখন লাগানো হয়েছিল তখন ছয় সাড়ে ছয় ফুট দূরে দূরে হয়তো পোঁতা হয়েছিল। এখন গাছ বড় হয়ে গুঁড়ির বেড়গুলো বেড়ে গেছে, তাই কাছে মনে হচ্ছে। আর লম্বা গাছের মাঝে নিজে থেকেই ঝোপ ঝাড় লতানে গাছ গজিয়ে উঠে বনটাকে বেশ গহন করে তুলেছে। আর একটা জিনিস নতুন দেখলাম... ... ...

দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রাইভেট ক্রেডিটের বাজারে আজ নেমে এসেছে সঙ্কটের ছায়া। ফার্স্ট ব্র্যান্ডস, ট্রিকলর দেউলে হবার পরে গ্রিক ঋষি জেমি ডাইমন হঠাৎ ধ্যান নিদ্রা থেকে জেগে উঠে আবিষ্কার করেছেন এই সব লোন আরশোলার মতো নোংরা, ক্ষতিকর। আরও বিপদে পড়েছেন সেই সব নিবেশক যারা আপনার ধন হেজ ফাণ্ডকে দিয়ে সুখনিদ্রায় মগ্ন ছিলেন। তাঁরা জে পি মরগানের মন্তব্য শুনে আতঙ্কিত হয়ে ফান্ড ম্যানেজারকে ফোন করছেন, লাভ চাইনে, আমার জমা টাকাটা ফেরত দাও। প্রাইভেট ক্রেডিটের মুশকিল এইখানেই। ... ...

আমরা সকলে মিলে টোটোতে চড়ে রওনা দিয়েছি বনভৈরবীর থানের উদ্দেশে। গাইড ভদ্রলোকও সঙ্গে আছেন। পাশাপাশি বাইক নিয়ে চলেছে সেই নতুন পাওয়া বন্ধুরা। পাহাড়ের কোল ঘেঁসে পথ। জঙ্গলের একটা অদ্ভুত তীক্ষ্ণ কিন্তু অনুচ্চ গন্ধ আছে। বনপথে সেই সুবাস বাতাসে ভাসে। মাটির গন্ধ, বুনো লতার গন্ধ, গাছের বাকল, পাতা, ফুল, ফল সব মিলিয়ে কেমন একটা যে গন্ধ, কোন সুগন্ধীর বোতলে তা ধরা যায়না। ... ...

বিশ শতকের দুই মহাযুদ্ধের সবচেয়ে কম আলোচিত একটি দিক হলো — বেসরকারি পুঁজি সেখানে ঠিক কতটা ভূমিকা রেখেছিল। শুধু যুদ্ধের পরে পুনর্নির্মাণে টাকা ঢালার মাধ্যমে নয়, যুদ্ধ চলাকালীন তাদের টাকা ঢালার ব্যাপারটাও। এটা কোনো ষড়যন্ত্রের গল্প নয়। এটা নথিভুক্ত আর্থিক ইতিহাস — এবং এই ইতিহাস আগের তিনটি পর্বে বর্ণিত স্থাপত্যের সাথে অস্বস্তিকরভাবে মিলে যায়। বিশ শতকের শুরুতে রথসচাইল্ড পরিবার একশো বছর ধরে এমন এক আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল যা অনেকগুলি দেশ জুড়ে ছিল এবং অনেক দেশের সরকারের থেকেও সেই নেটওয়ার্ক বহুগুণে উন্নত ছিল। নাথান রথসচাইল্ডের সেই বিখ্যাত উক্তি, ইংল্যান্ডের সিংহাসনে কে বসল তাতে তার কিছু আসে যায় না, যদি ইংল্যান্ডের অর্থসরবরাহ তার নিয়ন্ত্রণে থাকে — এটা কোনো দম্ভোক্তি ছিল না। এটা ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু কোথায় সেটার একটি পদ্ধতিগত বিবরণ। ... ...

সরকার-ভজনা হল মূর্তিপূজার আধুনিক রূপ, আর এর বিপদ সাঙ্ঘাতিক। এখনো পর্যন্ত এর সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধক হিসেবে পাওয়া গেছে – দ্বিপাক্ষিক (two-party) ব্যবস্থা। আমি রুজ়ভেল্টের সময় আমেরিকায় থাকতাম। সেখানে যতজনের সঙ্গে মিশেছি, অধিকাংশের মতে লোকটি এক ভয়ঙ্কর উন্মাদ। আমি তাদের সঙ্গে একমত না হলেও, সরকারের মাথা-র সম্পর্কে লোকের এমন ধারণা – এ আমার খুবই স্বাস্থ্যকর এক অভ্যেস বলে মনে হয়েছিল। স্বাধীনতা একমাত্র টিকতে পারে, যখন দুই পক্ষের প্রভাবশালী মানুষজনের মধ্যে একটা ঠিকঠাক কার্যকরী মতপার্থক্য থাকে। পশ্চিমে এই বিরোধ শুরু হয়েছিল সন্ত অ্যাম্ব্রোজ় (Ambrose)-এর সময়, চার্চ ও রাষ্ট্রের বিরোধের মধ্যে দিয়ে। বর্তমানে, ইংল্যান্ডে এটি রক্ষণশীল ও সমাজবাদীদের দ্বন্দ্বের মাধ্যমে আর ওদিকে, আমেরিকায়, রিপাবলিকান ও ডেমোক্রাটদের বিভেদের মাধ্যমে টিকে আছে। প্রাশ্যা (Prussia)-র রাজকোষের বেতনভোগী স্তাবক হয়ে হেগেল যে ‘রাষ্ট্রই ঈশ্বরের পরিধেয়’ (State as the Garment of God) – এই তত্ত্ব কপচেছিলেন, গণতন্ত্র জোরদার হলে তেমন রাষ্ট্র-ভজনা মোটেই সম্ভব না। ... ...

সমাজের স্বার্থে করা যেসব কাজের গুরুত্ব আনাড়ি জনতার পক্ষে বোঝা মুশকিল, গণতন্ত্রে সেইসব কাজের স্বাধীনতা বজায় রাখাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। আনকোরা ধরনের বৌদ্ধিক কাজ সবসময় জনগণের অপ্রিয় হয়, কারণ তা মনের গভীরে লালিত কুসংস্কারগুলোকে বুড়ো আঙুল দেখায়, আর অশিক্ষিত মন সেই কাজগুলিকে দুশ্চরিত্রের নষ্টামি হিসেবে দেখে। লুথারের ধারণা ছিল – কোপার্নিকাস নেহাতই সাধারণ এক ঘোলাটে ধাঁধাঁপ্রেমী (paradox-monger) মানুষ, নিজের খামখেয়ালী চেহারাটিকে জনমধ্যে প্রচার করাই যাঁর মূল উদ্দেশ্য। কেলভিনেরও তা-ই মনে হয়েছিল, আর গ্যালিলিও-র ক্ষেত্রে চার্চও ঠিক একই কথা ভেবেছিল। গণতন্ত্র গ্যালিলিও-কে বাঁচাতে পারতো না। ... ...

গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্যে অনেকভাবেই সহিষ্ণুতা অবশ্য-প্রয়োজনীয়। মানুষ যদি তার নিজের আদর্শ এতটাই তীব্রভাবে আঁকড়ে ধরতে চায়, যার ফলে তার আদর্শের জন্যে মরতে বা মারতে ইচ্ছে করে, তবে প্রতিটি মতপার্থক্য হয় যুদ্ধে, নয় কু-দে-তা (coup d’état; অভ্যুত্থান)-য় শেষ হবে। গণতন্ত্র আসলে ব্যক্তিগত উদ্যোগ আর সংখ্যাগুরুর প্রতি আনুগত্যের এক জটিল মিশ্রণ দাবি করে। একদিকে তার দাবি – জোরালো রাজনৈতিক ধ্যানধারণা-ওয়ালা ব্যক্তির উচিত তার নিজের মতামতের সপক্ষে তর্ক করা, আর সংখ্যাগুরু যাতে সেই মত মেনে নেয় – সেই চেষ্টায় অবিচল থাকা; অন্যদিকে, সংখ্যাগুরু যদি তখনো অমত হয়, তবে ভদ্রভাবে সেই জনাদেশ মেনে নিতে হবে ... ...

সর্বকালে, সর্বত্র – ক্ষমতা যাদের হাতে, তারা ক্ষমতাহীনদের ভালোমন্দের ব্যাপারে উদাসীন; তাদের একমাত্র লাগাম টেনে রাখে ‘ভয়’। কথাটা খুব কর্কশ শোনাতে পারে। ভালো মানুষেরা অন্যদের ওপরে এক বিশেষ সীমা লঙ্ঘন করে অত্যাচার করবে না – এমনটা বলা যেতেই পারে। বলা হয়তো যায়, কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলে। নিজেদের সুখে রাখতে ঠিক কতটা নির্যাতন চালানো হচ্ছে – সে কথা ভালো মানুষেরা দিব্যি না জেনে, বা না জানার ভান করে থাকতে পারে। রানী ভিক্টোরিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, লর্ড মেলবোর্ন ছিলেন এইরকমই একজন ভালো মানুষ। .... ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যৎসামান্য অর্থের বিনিময়ে কয়লাখনির অন্ধকারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেটে তাঁর সম্পত্তির জোগান দিত। ওইসব শিশুদের যন্ত্রণাই ছিল তাঁর শহুরে জীবনের জিয়নকাঠি। তিনি যে ব্যতিক্রম ছিলেন, এমন নয় কিন্তু! .... যে অবিচার আমাদের পক্ষে লাভজনক, তাকে সর্বদাই কোনো না কোনো কথার মারপ্যাঁচে (sophistry) জায়েজ় বলে দেখানো সম্ভব ... ...

সেবার মানবাজারে থাকতে পারলে খুবই ভালো হত, কিন্তু আমাদের পুরো টীমকে রাখার মত অতগুলো ঘরওলা হোটেল পাওয়া গেলনা। তাই বাধ্য হয়ে মুকুটমণিপুরে থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। অসুবিধে খুব একটা হয়নি। হোটেল খুব সাজানো গোছানো, বেশ সুন্দর। পঞ্চাশ কিলোমিটারের মত দূরত্ব। আমাদের সঙ্গে বাস ছিল, রোজ সওয়া ঘন্টা যেতে, আর ঐরকমই ফিরতে। ফাঁকা পথের দুপাশে পাহাড় আর জঙ্গল। ... ...

আমাদের কাছে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার আর গণতন্ত্রের আন্তঃসম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ মনে হলেও, এমন যে হতেই হবে – তার কোনো কারণ নেই, কেননা, নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির ক্ষমতা খুবই সীমাবদ্ধ করে রাখা সম্ভব। আমাদের স্কটিশ বেরাদরেরা হাউস অব লর্ডসে নিজেদের প্রতিনিধি পাঠান, কিন্তু তাকে কোনোভাবেই গণতন্ত্র বলা যায় না। কিন্তু, প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ছাড়া এমন কোনো প্রক্রিয়া খুঁজে বের করা প্রায় কার্যত অসম্ভব, যার ফলে ভৌগোলিকভাবে আয়তনে বড় কোনো রাষ্ট্রের কোনো সাধারণ নাগরিক সরকারি নীতি নির্ধারণে অংশ নিতে পারেন। ... ...

পেট্রোডলার ব্যবস্থার প্রধান শর্ত হলো — সব গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস বাণিজ্য অবশ্যই ডলার-নির্ভর চুক্তির মাধ্যমে হতে হবে। এই শর্তটি কোনো আন্তর্জাতিক আইনে লেখা নেই। এটি ১৯৭৪ সালে তৈরি করা একটি কাঠামোগত ইনসেন্টিভ এর মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে—বিশেষ করে নিরাপত্তার গ্যারান্টির বিনিময়ে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন করার ব্যবস্থা। এর সাথে জড়িয়ে আছে একটি পরোক্ষ বোঝাপড়া যে, এর বিকল্প খোঁজা অনেক ব্যয়বহুল হবে এবং এই ব্যবস্থাটি বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটিয়েছে। ইরান এক্ষেত্রে একটি বিশেষ উদাহরণ। এটি দেখায় যে, যখন একটি রাষ্ট্র আদর্শের কারণে নয়, বরং প্রয়োজনের তাগিদে এই ব্যবস্থার বাইরে কাজ করার জন্য নিজেদের পরিকাঠামো তৈরি করে, তখন কি ঘটে। কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলার-ভিত্তিক আর্থিক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইরান বাধ্য হয়েছিল ডলারের বাইরে জ্বালানি কেনাবেচার কৌশলগুলো তৈরি করতে এবং সময়ের সাথে সাথে সেগুলোকে উন্নত করতে। ডিজিটাল ইউয়ান, চীনের ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম (CIPS), শ্যাডো ফ্লিট নেটওয়ার্ক এবং চীনের সাথে পণ্য বিনিময়ের মতো পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলো কোনো বৈপ্লবিক পরিকল্পনা নয়, বরং এটি হলো ব্যবস্থার বাইরে চলে যাওয়ার একটি খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা। ... ...

বড় রোড। গাড়িটার স্পিড্ বারবার কমে যাচ্ছে। ব্রেক চিপে দাঁড়িয়ে পড়ছে। রাস্তায় জ্যাম আজ বেশি। বৃষ্টি হচ্ছে রাত থেকে। চারিদিকে জল কাদা। কাদামাখা বৃষ্টির জল সাদা সুমো গাড়িটা কালছে করে ফেলছে। গাড়িটা এবার বড় রাস্তা থেকে ছোট একটা রাস্তায় ঢোকার চেষ্টা করে চলেছে। রোডের মুখের অনেকগুলো গাড়ি পরপর আটকে আছে। ভিড় ওখানটায় খুব। হর্ণ বেজে চলেছে নানারকম। ... ...

বন পাহাড়,পশু পাখির সঙ্গে তাদের আত্মিক যোগাযোগ নেই, ভালোবাসা নেই। তাই পর্যটকদের জন্য কোন ব্যবস্থাপনা দূরস্থান, পথ ঘাট থেকে শুরু করে হাসপাতালের শৌচাগার পর্যন্ত ভয়াবহ অপরিচ্ছন্ন। আমাদের মাঝারি দামী হোটেলের ফিল্টারের জলটুকু অবধি দূষিত ছিল। অবশ্য ভারতবর্ষে এ জিনিস তেমন অস্বাভাবিক নয়। ... ...

প্রযুক্তি দানবরা এখন ভূ-রাজনীতিতে এমন প্রভাব বিস্তার করছে যা প্রথাগত রাষ্ট্র বা ডিপ স্টেট খেলোয়াড়দের সমতুল্য। তাদের কনটেন্ট মডারেশনের সিদ্ধান্ত ঠিক করে দেয় কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধ, নির্বাচন বা জনস্বাস্থ্য সংকট নিয়ে কী তথ্য দেখবে। তাদের অ্যালগরিদমের পছন্দ নির্ধারণ করে কোন রাজনৈতিক বার্তাটি ছড়িয়ে যাবে আর কোনটি চেপে রাখা হবে। ফেসবুক বা গুগলের একটি মাত্র নীতি পরিবর্তন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শত শত দেশের কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করে—যার জন্য কোনো আইনি বিতর্ক, জনমত যাচাই বা গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের প্রয়োজন হয় না। এই কোম্পানিগুলো আসলে সরকারের কাজই করছে। কিন্তু তাদের কোনো সরকারি দায়বদ্ধতা নেই। ... ...