
... একটা বিষয় মনে রাখবেন, এই যে সূর্যের ঘোরার কথা বলা হচ্ছে, এটা কিন্তু পৃথিবী থেকে যেমন দেখা যায়, সেটা, অর্থাৎ সূর্যের এই ঘোরাটা আসলে আপেক্ষিক। আমরা জানি, যে সূর্যের চারপাশে পৃথিবী ঘোরে, তাই আমাদের মনে হয় পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘুরছে। আর্যভটের হিসাব যেহেতু পুরোটাই অবজারভেশন নির্ভর, তাই সেখানে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময়কালকে বছর না বলে, সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরার হিসেবেই বছরের হিসেব করা হয়েছিল। এবার পরের অংশগুলোর একটু হিসেব করা যাক – ৪৩ লক্ষ ২০ হাজার দিয়ে এই পৃথিবী যতবার ঘোরে বলা হয়েছে , অর্থাৎ ১৫৮২২৩৭৫০০, সেই সংখ্যাটাকে ভাগ করুন। দেখা যাবে ভাগফল মোটামুটি ওই ৩৬৬.২৫৮৬৮-র কাছাকাছি হচ্ছে (দশমিকের পরের অংশ নিয়ে আপাতত ভাবতে হবে না, ৩৬৬ টা দেখুন)। এই ভাগফলটা মানে কী? এক sidereal year-এ পৃথিবী কতবার পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে, অর্থাৎ নিজের চারপাশে কতবার ঘোরে, সেটা। এই সংখ্যাটা হিসেব করে যা বেরোল, তা আমরা যে এক বছরের কথা জানি তার দিনসংখ্যার থেকে সামান্য আলাদা। কেন? সেটা বুঝতে গেলে sidereal year কে বুঝতে হবে, এ আসলে আমাদের হিসেবের এক বছর নয়। তবে আপাতত sidereal year-এর জটিলতায় যাচ্ছি না, বরং একটু সহজ হবে যা বুঝলে সেটায় যাই।... ... ...

“পারস্যে” ভ্রমণকাহিনীতে রবীন্দ্রনাথ গীতার নীতিবোধকে স্পষ্ট বিদ্রূপে বিঁধছেন—“গীতায় প্রচারিত তত্ত্বোপদেশও এইরকম একটি উড়োজাহাজ – অর্জুনের কৃপাকাতর মনকে সে এমন দূরলোকে নিয়ে গেল—যেখানে মারেই-বা কে, মরেই- বা কে, কেই-বা আপন কেই-বা পর। বাস্তবকে আবৃত করার এমন অনেক তত্ত্বনির্মিত উড়োজাহাজ মানুষের অস্ত্রশালায় আছে, মানুষের সাম্রাজ্যনীতিতে, সমাজনীতিতে, ধর্মনীতিতে । সেখান থেকে যাদের উপর মার নামে তাদের সম্বন্ধে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে এই যে, ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে”। ... ...

বাংলাসাহিত্যের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘পারাপার’ উপন্যাসে একটি চরিত্র বিমানের সন্দর্ভে বলেছেন যে গীতা হোল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কাব্য! গীতার বেশিরভাগটাই অনুষ্টুপ এবং অল্প একটু অংশ ত্রিষ্টুপ ছন্দে লেখা। কিন্তু কাব্যগুণ? ভিন্নরুচির্হিঃ লোকাঃ। ... ...

আমার প্রশ্ন যদি সবই ব্রহ্মময় হয়, যদি ব্রহ্মের সঙ্গে নম্বুদ্রিব্রাহ্মণ শংকরাচার্য্য ও শূদ্রের কোন ভেদ না থাকে তাহলে তাদের জ্ঞানপ্রাপ্তির প্রচেষ্টায় শাস্তি দেওয়ার বিধান কেন? তাহলে কি ব্যবহারিক দুনিয়া শংকরাচার্য্যের জন্যেও বিশেষভাবে অস্তিত্ববান? ... ...

দেখা যাচ্ছে বেদ ও স্মৃতির অনেক শ্লোক পরস্পরবিরোধাভাসী এবং তার ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদে অনেক দার্শনিক স্কুল গজিয়ে উঠেছে। এমনকি একই ব্রহ্মসূত্র এবং তৈত্তিরীয়, ছান্দোগ্য, শ্বেতাশ্বতর, বৃহদারণ্যক আদি উপনিষদে আস্থাশীল দার্শনিকেরাও নিরাকার ব্রহ্মের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন না। মহাভারতের বনপর্বে বকরূপ ধর্মের কঃ পন্থা প্রশ্নের উত্তরে যুধিষ্ঠির বলেছিলেন-“বেদাঃ বিভিন্নাঃ, স্মৃতয়োর্বিভিন্না, নাসৌমুনির্যস্য মতংনভিন্নম”। এককথায় নানা মুনির নানা মত। ... ...

শংকর বলছেন—অবিদ্যা সৎ-অসৎ কোনটাই নয়, এ হল অনির্বচনীয়। মানে অবিদ্যার অস্তিত্ব আছে কি নেই—সেটা বলা মুশকিল। এ হল এমন যা শব্দ দিয়ে বোঝানো মুশকিল। রামানুজ বলছেন—এসব ফালতু কথা। এই অবিদ্যাটি থাকেন কোথায়? একি জীবের ব্যক্তিচেতনায়, নাকি ব্রহ্মের অনন্তচেতনায়? ... ...

এই অবিদ্যার কারনেই আমাদের দৃষ্টি আবিল হয়, আমরা রিয়েলিটি বলতে চৈতন্যস্বরূপ এক এবং অদ্বিতীয় ব্রহ্মকে দেখার বদলে ব্রহ্ম এবং বস্তুজগত –এই দুই বাস্তবের চক্রে ফেঁসে যাই। অতএব, আসল দোষী হল ওই ‘অবিদ্যা’। এই অবিদ্যাও ব্রহ্মের মতন ‘অনাদি’। কেউ কেউ ‘অবিদ্যা’ এবং ‘মায়া’কে একই মনে করেন। দেবীপ্রসাদও কখনও কখনও এই দুটি পদকে একে অপরের বদলে পালা করে ব্যবহার করেন। ... ...

অবিদ্যার দুটো কাজ। এক, আসল রূপকে আবৃত করা। যেমন মেঘ এসে সুর্যকে ঢেকে দেয়। দুই, মায়াজালের মত কাল্পনিক কিছু সৃষ্টি করা। যেমন সর্প-রজ্জু উদাহরণে বিভ্রান্তির ফলে দড়ির আসল চেহারা আবৃত হয়। তারপর সেখানে সর্প বলে এক ইমেজ সৃষ্টি হয় যা আসলে ওখানে নেই, যা পুরোপুরি কাল্পনিক। অবিদ্যা ও মায়া একই প্রক্রিয়ার দুটো অংশ। অবিদ্যার ফলে ভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, সত্য আবৃত হয় আর তার জায়গায় যা দেখতে পাওয়া যায় তাই হল মায়া। ... ...

এই দর্শনটির নাম অদ্বৈত বেদান্ত বা উত্তরমীমাংসা। এর প্রবক্তা হলেন আদি শংকরাচার্য, যদিও এই দৃষ্টিভঙ্গী ওঁর আগে বেদবিরোধী বৌদ্ধদর্শনের মহাযানী শাখার দুটি স্কুল—শূন্যবাদ ও বিজ্ঞানবাদে বিকশিত হয়েছে।তাই ওঁর অদ্বৈত বেদান্ত মতকে অনেকে ‘প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধমত’ও বলে থাকেন। ... ...

আমরা দেখলাম মহর্ষি মনু কোথাও গরুকে মাতা বলেননি। গো-হত্যাকে মহাপাতক বলেননি, গোহত্যাকারীকে মৃত্যুদন্ডের বিধান দেননি।আবার বৃহদারণ্যক উপনিষদে দেখছি ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য গরুকে গোধন বলছেন। সর্বত্র দেখছি গরু সম্পত্তির একক। মহাভারতে বিরাট পর্বে ‘উত্তর গোগৃহ’ রণে গরু লুঠেরাদের থেকে বিরাট রাজার কয়েক হাজার গরুকে বাঁচাতে অর্জুন (বৃহন্নলা) গান্ডীব তুলে নিলেন। গরু মাতা হলে কি তাকে বিক্রি করা বা দান দেয়া যায়? এই রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ‘হিন্দুত্ব’ ধারণার প্রণেতা সাভারকর কখনই গরুকে মাতা বলতে রাজি হননি। বলেছেন চারপেয়ে পশুটি উপকারী, কিন্তু আমার মা হবে কি করে? তাহলে কোন শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে গরু গোমাতা হচ্ছে বা তার বধের জন্যে মানুষের প্রাণ নেয়া হচ্ছে? ... ...

কী মুশকিল! কূর্ম এবং বরাহও তো অবতার, একই লাইনে; মানে জয়দেবের দশাবতার স্তোত্রে। তাহলে ওদুটো খাওয়াও ছাড়তে হবে নাকি? এসবই নাকি শাস্ত্রে মানা রয়েছে। কোন শাস্ত্রে? বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত কোথাও গরুকে মাতা বলতে দেখলাম না। তাই মনুস্মৃতিতেই খোঁজ করা যাক। কারণ, আগেই বলা হয়েছে—যা আছে তা মনুস্মৃতিতেই আছে, এবং যা এতে নেই তা কোথাও নেই। ... ...

গোড়ায় সৃষ্টিতত্ত্বে বলা হচ্ছে স্রষ্টা নিজদেহ দ্বিধা বিভক্ত করে অর্ধভাগে পুরুষ হলেন, বাকি অর্ধে নারী। তার থেকে বিরাট পুরুষ সৃষ্ট হল, যিনি মনুর স্রষ্টা।(১/৩২)। তাহলে তো নারী পুরুষ সমান সমান, কোন পক্ষপাতের প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু পুরুষ যখন সামাজিক প্রথা, আইনকানুন বানাতে শুরু করল তখন নিজেদের দিকে টেনে খেলল। নারী আর সুখে দুঃখে সমান অংশীদার রইল না। ‘ওরা’ এবং ‘আমরা’র খেলা শুরু হয়ে গেল। ‘এ বাণী প্রেয়সী হোক মহীয়সী তুমি আছ, আমি আছি’ শুধু কবির ইচ্ছেয় রয়ে গেল। মনুসংহিতায় এবার সেই খেলাটাই পর্বে পর্বে দেখব। ... ...

অনেকে বলতেই পারেন এগুলো সব হেরোদের যুক্তি, অনেকে বলতেই পারেন বিরোধী জোটের অপদার্থতাই এই ফলাফলের জন্য দায়ী, কিন্তু যে নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি দলের জন্য সমান সুযোগ দেওয়ার কথা, তারা কি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন? নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার ৭ দিন আগে যখন বিহারের ১.৩০ কোটি ‘জীবিকা দিদি’দের জন্য ১০হাজার টাকা এককালীন অনুদান হিসেবে ঘোষিত হয়, তারপর সেই ‘জীবিকা দিদি’দেরই আবার নির্বাচনের কাজে নেওয়া হয়, তাহলে তাঁদের ভূমিকাকে কি নিরপেক্ষ বলা চলে? বহু মানুষ বলছেন, অন্য রাজ্যেও তো এই ধরনের প্রকল্প চলে, তাহলে সেটা নিয়েও তো প্রশ্ন তুলতে হয়। অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে, যদি কোনও ক্ষমতাসীন দল সারা বছর গরীবদের বিভিন্ন দাবী দাওয়াকে উপেক্ষা করে ভোট কেনার জন্য এই রকম কোনও অনুদান ঘোষণা করে, তাহলে তার অবশ্যই বিরোধিতা করা উচিৎ। সঙ্গে অবশ্যই বলতে হবে, নির্বাচন কমিশন কি অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে এইরকম চোখ বুজে নির্বিবাদে সব কিছু মেনে নেয়? রাজস্থানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের স্মার্ট ফোন প্রকল্পটি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তেলেঙ্গানায়, ২০১৮ সাল থেকে চলমান রাইথু বন্ধু প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নির্বাচনের আগে। অন্ধ্রপ্রদেশে, ওয়াইএসআর চেউথা ডিবিটি প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এমনকি উড়িষ্যার নবীন পট্টনায়েকের প্রকল্পটি ২০১৮ সালে যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেই উদাহরণ কিন্তু আছে। আগামী বছর বাংলার নির্বাচনের আগে চলতে থাকা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পও যে বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তার কোনও নিশ্চয়তা কি আছে? ... ...

মনু বলছেনঃ নিজধর্ম গুণবর্জিত হলেও ভাল, পরের ধর্ম সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হলেও ভাল নয় , অপরের ধর্মানুসারে জীবনধারণ করলে (মানুষ) তৎক্ষণাৎ জাতিভ্রষ্ট হয় (১০/৯৭)। খেয়াল করুন , ভগবদগীতাতেও ঠিক এটাই বলা হয়েছে। “শ্রেয়ান স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎস্বনুষ্ঠিতাৎ। স্বধর্মে নিধনং শ্রেয় পরধর্মো ভয়াবহঃ।। অর্থাৎ কোন ব্যক্তির জন্মসূত্রে প্রাপ্ত জাতিধর্ম যদি নিকৃষ্টও হয়, তবু অন্য জাতির উন্নত ধর্ম পালনের চেয়ে নিজের জাতিধর্ম পালনে মৃত্যুবরণ শ্রেয়স্কর। ... ...

আধুনিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির তত্ত্বের সূত্রপাত রবার্ট সোলোর মডেলের মাধ্যমে। এই মডেলে সোলো দেখান কীভাবে পুঁজি বিনিয়োগ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটায় এবং কখন গিয়ে মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধি থেমে যায়। এই মডেল দেখায় শুধু পুঁজি বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করলে মাথাপিছু আয়ের বৃদ্ধি এক সময়ে থেমে যাবে। এই থেমে যাওয়ার মূল কারণ পুঁজির ফেরত হা্রের (যা তার প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা দিয়ে মাপা হয়) ক্রমহাসমানতা। তাহলে বৃদ্ধির ঘড়ি জারি রাখার উপায় খুঁজতে এর পরবর্তী প্রজন্মের বৃদ্ধি মডেলগুলির সূত্রপাত। সোলো মডেল থেকেই এই সূত্র পাওয়া গেছিল যে ক্রমাগত উদ্ভাবন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিকে বজায় রাখা যেতে পারে। কিন্তু উদ্ভাবন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার উপায় কী? ... ...

একটা গল্প দিয়ে বিষয়টা বোঝানো যাক। পুরাণের গল্প। রাজা দক্ষের ২৭ কন্যার গল্প। কন্যারা বিবাহযোগ্যা হয়ে উঠলে তাদের সঙ্গে বিবাহের কথা বলতে গিয়ে দক্ষ পড়লেন মহা ফাঁপরে। কারণ এই ২৭ জনের প্রত্যেকেই মনে মনে চাঁদকে ভালোবাসেন। তা কন্যাদের তেমন দোষ দেওয়াও যায় না। অন্ধকার আকাশের প্রেক্ষাপটে চাঁদ দেখতে কার না ভালো লাগে! অগত্যা তেমনই বিবাহের ব্যবস্থা হল। এরপরেই সমস্যার সূত্রপাত। ... ...

মনুসংহিতাতে বাস্তবে কী বলা হয়েছে তা নিয়ে খতিয়ে না দেখেই বাজারে অনেক কথা বলা হয় । আমি চেষ্টা করব এই স্বল্প পরিসরে মনুসংহিতার স্বরূপের বর্ণনা করে তিনটি ভাগে খাদ্যাখাদ্য, জাতিপ্রথা এবং নারীর অবস্থান নিয়ে উনি কি বলেছেন তা তুলে ধরতে। মনে হয় জাতিপ্রথা নিয়ে আগে কথা বলা উচিত। কারণ, ওটাই আমাদের সমাজের প্রাচীন কাঠামো। খাদ্যাখাদ্য বা নারীর অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে ওই কাঠামোকে মেনে। ... ...

বর্তমান প্রবন্ধের উদ্দেশ্য এক এক করে চারটেকেই খুঁটিয়ে দেখা—আজকের আধুনিক ভারতের বিকাশে এগুলো কতটুকু উপযুক্ত। সবচেয়ে আগে জানা দরকার মনুস্মৃতিতে কী আছে? মায়াবাদের দার্শনিক ভিত্তি কতখানি মজবুত? শংকরাচার্য দলিতদের ব্যাপারে কী বলেন? গীতায় বর্ণাশ্রম নিয়ে কী বলা হয়েছে? এবং সাভারকরের হিন্দুত্বের তত্ত্ব আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কতখানি খাপ খায়। ... ...

নিউ ইয়র্কের ক্যারিওকস লিমিটেড লায়াবিলিটি নামের এক টেলিকম কোম্পানি তাদের প্রাপ্তব্য ইনভয়েস আগাম বেচে প্রভূত ঋণ গ্রহণ করেছিল, গুজরাত গান্ধীনগরের খ্যাতনামা টেলিকম এঞ্জিনিয়ার বঙ্কিম ব্রহ্মদত্ত তার প্রোমোটার। ইন্টারনেট ইউ টিউবে তাঁর যশগাথা গাওয়া হয়ে থাকে – পাঁচশ মিলিয়ন ডলার বাকি রেখে তিনি ফেরার হয়েছেন। ... ...

অতি সম্প্রতি দিল্লীর মহামান্য উচ্চ আদালত উমর খালিদ, শারজিল ইমাম সহ নয়জনের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এই আবেদন খারিজের স্বপক্ষে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের যুক্তি ছিল ... “অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিশেষত বিজ্ঞ সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্য বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, বর্তমান মামলাটি নিয়মিত প্রতিবাদ বা দাঙ্গার মামলা নয়; বরং ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ বেআইনি কার্যকলাপ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে একটি পূর্বপরিকল্পিত, সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার এবং জাতির স্বার্থের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আদালতের কাছে কঠিন কাজ হয়ে পড়ে। সেহেতু, জামিনের এই আবেদন গৃহীত হল না।” ... ...