
মিকেশের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়েছিলেন প্রয়াত নিখিল সরকার, শ্রী পান্থ নামে যিনি আপামর বাঙালির কাছে পরিচিত। দাদার বন্ধু শান্তিদার (ভৌমিক) সৌজন্যে ক্লাস টেনে পাঠরতা তাঁর ভাগ্নিকে পড়ানোর কাজটি জোটে। মায়ের সংসারে থাকি তখন। ধান বেচা, বাড়ি ভাড়ার টাকা থেকে হাত সাফাই করে বাজে খরচার টাকা জোগাড় করতাম; শান্তিদার কল্যাণে এই আমার প্রথম আইনি উপার্জন। নিখিল বাবু আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, তাঁর বাড়িওলা ছিলেন শৈলজা নন্দ মুখোপাধ্যায়, তাঁর সদানন্দ চেহারাটি আজও মনে ভাসে। এ বাড়িতে আগত অনেক সাহিত্যিক সাংবাদিকের সঙ্গে নিখিল বাবু আলাপ করিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে বইয়ের স্তূপ, তাঁর অধ্যয়ন ও মেধার কোন পরিসীমা ছিল না শুধু যে কোন বইয়ের রেফারেন্স দিতেন তাই নয়, বইয়ের গাদা থেকে পাতা খুলে দেখাতেন। মনে হয়েছে সত্যজিৎ রায় হয়তো তাঁরই আদলে সিধু জ্যাঠার রূপ দিয়েছেন। ... ...

রাজনীতি এক বিরাট প্রাঙ্গন। সেখানে খেলা অনেকরকম, তাদের নিয়মও রকমারি। এখানে শুধুই আলোচনা হল, সে মাঠে কাদের খেলতে দেবেন না, বা কোনো দলটিকে কখনোই সমর্থন করবেন না – তা নিয়ে। এর পরের স্তরে আসে ‘কাকে সমর্থন করবো?‘ সেই প্রশ্ন। তার সঙ্গেই আসে – দেওয়ালে যাদের পিঠ ঠেকেছে, তারা কী গণের অংশ নয়? ... ...
তবে সবকিছু ছাপিয়ে এক তীব্র সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতিকে পশ্চিমবাংলার ভোটে কার্যকর করার প্রয়াস বিজেপির প্রচারের মূল দিক। এখানে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে মমতা ব্যানার্জির আর এস এস সম্পর্কে দ্বিধা জড়িত কিছু উচ্চারণ লোহার বাসরঘরে সিঁধ কাটার তুল্যই মনে হয়। তাঁর এই মতাদর্শহীন, যেখানে যেমন প্রয়োগবাদ কি শেষ বিচারে পশ্চিমবাংলায় আর এস এস – বিজেপির তীব্র মতাদর্শ গত – সাংগঠনিক – রাজনৈতিক প্রকল্পের সামনে প্রাচীর খাড়া করতে সমর্থ -এ প্রশ্ন উঠবেই। ... ...

ঐতিহাসিকভাবে ভারত হরমুজ প্রণালীকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে, কারণ পশ্চিম এশিয়ার নৈকট্যের কারণে এখানে মাল পরিবহনের খরচ সবচেয়ে কম। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ফলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য নতুন পরিবর্তিত পথের কথা ভাবতে হচ্ছে। পথ পরিবর্তন করলে মাল পরিবহনের খরচ ২০-৩০% বেশি হয়(বিশেষ করে কেপ অফ গুড হোপের মতো দীর্ঘ পথে), ট্রান্সপোর্ট বীমা অনেক বেড়ে যায় বলে। ... ...
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর ফলে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যার প্যাটার্ন বিষয়ে (আরো) দু-চার কথা। মূলতঃ দু-দফায় বিভিন্ন বিধানসভা আসনে বাদ যাওয়া নামের সংখ্যার সঙ্গে ওই সব আসনে জনগোষ্টীগত বিন্যাসের কোন সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখার একটি প্রয়াস। ... ...
এটা ভবানীপুর কেন্দ্রে তথাকথিত নির্বাচন কমিশনের অবিশ্বাস্য অনাচারের গল্প। এবং একই সঙ্গে সেই অনাচার খুঁড়ে বার করার অভিযানেরও গল্প। গল্পের শেষে অনুসন্ধানের ফলাফলও থাকবে, কিন্তু তার আগে পুরোটা পড়বেন, কারণ যে পাহাড়গুলো আমাদের ডিঙোতে হয়েছে, সেই পাহাড়গুলো আকাশ থেকে পড়েনি, ইচ্ছে করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে টপকানো না যায়। সেটা প্রতিটি মানুষের জানা দরকার। ভবানীপুর এবং আরও কয়েকটা কেন্দ্র নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম অনেকদিন আগে। অল্ট নিউজ এবং সবর ইনস্টিটিউট এই কেন্দ্র নিয়ে তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান ইতিমধ্যেই পেশ করেছে। আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানও তাদের সঙ্গে মেলে। তার পরেও কেন আলাদা করে প্রকাশ করছি, এবং কেন এত দেরি হল, তার উত্তরও এই লেখাতেই পাবেন। উত্তর একটাই, আমরা শুধু প্রাথমিক অনুসন্ধান নয়, কাজটা সম্পূর্ণ নিখুঁত ভাবে করতে চেয়েছিলাম। এখন মোটামুটি ৯৯% নিখুঁতভাবে শেষ হয়েছে এই কাজ। এবং সেই কারণেই অল্ট নিউজ বা সবরের থেকে এর ফলাফল খানিকটা আলাদা। বিপদ ওঁরা বা আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান যা আঁচ করেছিল, তার চেয়েও বেশি, লেখাটা পড়লেই বুঝতে পারবেন। কিন্তু তার আগে আমাদের পাহাড় ডিঙোনোর যাত্রাপথের গল্প। ... ...

আমাদের বা অন্যদের বিশ্লেষণেও এই এক-ই কথা ধরা পড়েছে বারংবার, যে এই এস-আই-আর প্রক্রিয়া আসলেই আমাদের যাবতীয় কাঠামোগত বৈষম্যকে আরও একটু বাড়িয়েই তুলবে, সুবিধাবঞ্চিত, উপায়হীন, ভাগ্যতাড়িত মানুষকে আরও একটু ঠেলে দেবে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। নিবিড় সংশোধনীর অন্তিম মূল্য কী তবে আরও বেশি অসাম্য? আরও বিভেদ? কিন্তু এই যে বহু বহু মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি কোপে হারাবেন তাদের সংবিধান-স্বীকৃত অধিকার, তারা কারা, এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে কোনদিকে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের উপর তাদের আস্থা? এই সব প্রশ্নের আংশিক উত্তর আছে লোকনীতি-সিএসডিএসের ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের সমীক্ষায়। সার্ভের কভারেজ মাঝারি বলেই মনে হয় — অসম, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লি — এই ছয়টি রাজ্যের ৩,০৫৪ জন নাগরিক। সমীক্ষাটি দীর্ঘ, কিন্তু মূল বার্তাটি বেশ স্পষ্ট, মোদ্দা কথায়, এস-আই-আরের ফলে ভোটাধিকার হারানোর বিপদ সবার সমান নয়। সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক অংশটি, দরিদ্র, বৃদ্ধ, নিরক্ষর, পরিযায়ী, অথবা গ্রামীণ ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এবং, বিগত কয়েকটি বছরে কমিশনের প্রতি জনআস্থা ভয়াবহভাবে কমে গেছে, যে কমার হার সব রাজ্যে সমান নয়। পুরো সমীক্ষার তথ্য আমার হাতে নেই। আমি শুধু হাতে পাচ্ছি, লোকনীতির সাইটে প্রকাশিত এক-একটি প্রশ্নের সংক্ষিপ্তসার, এবং দ্য হিন্দু পত্রিকায় দুটি রিপোর্ট। এর মধ্যে কয়েকটি বেছে নিয়েছি আমি, যদিও সবকটিই প্রণিধানযোগ্য। ... ...

শুভদীপের সিনেমা নিতান্তই shoestring বাজেটে নির্মিত, অবশ্য সে কারণে পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবির বদলে শর্ট ফিল্ম বানানো, ব্যাপারটা এমন নয়, বরং শুভদীপ শর্টফিল্মকে এক স্বতন্ত্র মাধ্যম হিসেবে দেখেন। শর্ট ফিল্ম নিয়ে আরও এক্সপেরিমেন্ট করার পরিকল্পনা আছে ওঁর, সাম্প্রতিকতম প্রয়াস ওঁর পরিচালিত “অ্যাটম সিনেমা” সিরিজ, যেখানে একেকটি ছবি মিনিট দশেকের কমবেশি সময়কালের। সীমিত বাজেট, সীমিত সময় কিংবা প্রযুক্তিগত সংযম তাঁর জন্য কখনো প্রতিবন্ধকতা নয়, এতদসত্ত্বেও তাঁর ছবি শিল্পের পূর্ণতা পেয়েছে। ... ...

এবারের বাংলার নির্বাচন একেবারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় হবে। এমনটাই বলা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। বলা হচ্ছে নয়, দেখাও যাচ্ছে হাজার হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান আনা হয়েছে। গোদী মিডিয়ায় খবর পাওয়া গেছে যে ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি চলবে, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হবে নির্বাচন কেন্দ্র থেকে গণনা কেন্দ্র। কেউ এতটুকু বেগরবাই করলেই, সঙ্গে সঙ্গে রিপোল, অর্থাৎ পুনরায় ভোট নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে এত প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে সেই সমস্ত করার জন্য নিশ্চয় বেশ কিছু ক্যামেরা, বেশ কিছু কম্পিউটার এবং অন্যান্য জিনিষপত্রের প্রয়োজন হচ্ছে। কখনো কি কোনও একজন ভোটারের এই বিষয়ে প্রশ্ন জেগেছে এই এত এত সরঞ্জাম কোথা থেকে আসছে? কেউ কি এইগুলো কিনছেন? তাহলে সেই কেনার জন্য সঠিক পদ্ধতি নেওয়া হচ্ছে? ঠিকঠাক দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে তো? না এই প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে নেই। এই প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে বসলে তো নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দুর্নীতি বেরিয়ে আসতে পারে, কিন্তু বেশ কিছু মানুষের কাছে নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রের সরকার তো দুর্নীতি করতেই পারে না। তাঁদের মতো সৎ স্বশাসিত সংস্থা তো ভূ ভারতে আর খুঁজেই পাওয়া যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু এক্ষেত্রে যে বড় সড় দুর্নীতি হয়েছে, তা কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সম্প্রতি। ... ...

বিজেপি শাসিত রাজ্যে বহুদিন ধরেই দেখা যায় যে দাঙ্গায় সরাসরি বা পরোক্ষ মদত দিয়েছে যে সব পুলিশ অফিসার, তাদের কপালে জুটেছে পুরস্কার। এই দুই গবেষক স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর এফিডেভিট খুঁড়ে বের করে এনেছেন চাঞ্চল্যকর দুটি সংখ্যা। যে অঞ্চলে একটিও খুন হয়নি – সেখানে পদ হারানোর সম্ভাবনা ৪৩% আর উঁচু পদে যাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৪%। অন্যদিকে যে অঞ্চলে প্রাণ গেছে মানুষের? আমেদাবাদ, যে শহর দাঙ্গায় খুনোখুনির বিচারে একদম উপরেই থাকা একটি শহর, সেখানে এটা ঠিক উল্টো। উঁচু পদে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৫% আর পদ হারানোর সম্ভাবনা মাত্র ১%! ... ...

ভোটার তালিকায় আগে চুরি ছিল আর এখন যে তালিকা হয়েছে তা রীতিমত পুকুরচুরি। দেশের অন্যতম একটি স্বশাসিত সংস্থা, কীভাবে প্রধান শাসকদলের হয়ে কাজ করলো, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। গুজরাটেই প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেছে। ৩৪ লক্ষ মধ্যপ্রদেশে, ৩১ লক্ষ রাজস্থানে এবং ৩৪ লক্ষ ছত্তিশগড়ে। প্রাথমিকভাবে উত্তরপ্রদেশেই ২.৫ কোটি মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল। এই রাজ্যগুলোর প্রত্যেকটিই বিজেপি শাসিত। বিরোধী শাসিত রাজ্য তামিলনাডুতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৭৪ লক্ষ। দেশের গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ বেশ কিছুদিন আগে বলেছিলেন যে তারা আরো ৫০ বছর রাজত্ব করবেন। এই এসআইআর প্রক্রিয়া তার বক্তব্যকেই সিলমোহর দিল। বাংলায় কি হবে জানা নেই কতজন বাদ যাবেন জানা নেই, কিন্তু সারাদেশে বিরোধী ভোটারদের বাদ দেওয়ার এই চক্রান্তে সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকলো নির্বাচন কমিশন এবং তাকে সর্বতোভাবে সহায়তা করল চোখ বুজে থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ... ...

১৯০০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এক ধনী স্প্যানিশ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা লুই বুনুয়েল বড় হয়ে ওঠেন কঠোর জেসুইট শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে। ধর্মাচ্ছন্ন এক পরিবেশের মধ্যে তিনি বড় হন। কিন্তু পারিবারিক এই পরিবেশ তাঁকে প্রবলভাবে সংগঠিত ধর্মের ভণ্ডামি এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। জীবনের বাকি সময়জুড়ে তিনি গির্জা, রাষ্ট্র এবং প্রতিষ্ঠিত সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নিরন্তর আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে তথাকথিত ভদ্র সমাজের বাহ্যিক সৌজন্য আসলে একধরনের চাপিয়ে দেওয়া মুখোশ। এই মুখোশ মানুষের স্বাভাবিক মানবিক আকাঙ্ক্ষাগুলিকে দমন করে, যার ফলশ্রুতিতে সমাজে নানা বিকৃতি ও স্নায়বিক অসংগতির জন্ম হয়। ১৯১৭ সালে মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে বুনুয়েলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়। তিনি ছিলেন দর্শন-শাস্ত্রের ছাত্র। ... ...

যখন দেশের নানান প্রান্তে বাংলায় কথা বলার জন্যে বাংলাদেশী বলে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যখন বাংলার পার্শ্ববর্তী রাজ্যে বাঙালী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার চলছে, তখন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিস আরও বড় একটা ঘোষণা করেছেন, যা আরও ভয়ঙ্কর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নাকি এবার থেকে বাংলাদেশী চেনা হবে, সেইরকম প্রযুক্তি তাঁরা আনতে চলেছেন। বাংলায় কথা বললে, সেই ভাষার কথা এবং স্বর-নিক্ষেপকে বিশ্লেষণ করা হবে, তার মধ্যে দিয়েই নাকি চেনা যাবে কে ভারতীয় বাঙালি আর কে বাংলাদেশী। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে না গিয়েও বলা যায় প্রতিটি মানুষকে এই যে সন্দেহের তালিকায় রাখা, প্রতিটি মানুষকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ভাবা এবং সেই ভাবনাকে সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই আসলে ফ্যাসিবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট। ঠিক এই ভাবনাই জাড়িত করে দেওয়া হয়েছিল নাৎসি জার্মানিতে। ... ...

ভারত-পাক সংঘাত আবহে কিছু শব্দ জনপরিসরে আবার উঠে এসেছে- ব্ল্যাক আউট এবং যুদ্ধের সাইরেন বা যাকে বলা হয় এয়ার রেড সাইরেন। নাগরিক অভিজ্ঞতায় শেষ বারের মতো শোনা গেছিলো সেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন রাতের অন্ধকারেও যুদ্ধবিমান আঘাত হানতে সক্ষম সেক্ষেত্রে ব্ল্যাক আউট- এর তাৎপর্য কি? এ কি শুধুই একটি সামরিক কৌশল নাকি নাগরিক অভিজ্ঞতায় যুদ্ধ নির্মাণের একটি নিমিত্ত মাত্র? ... ...

এবারে হাফ-ছুটি। বছরে বাহান্নটা শনিবার। আর সঙ্গে যোগ করুন অন্তত আরও দিন দশেক – বিভিন্ন অজুহাতে। সেই অজুহাতের তালিকায় পড়ে --- অতিরিক্ত বৃষ্টি বা গরম, পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি, স্কুলের নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি অনেক কিছুই। এই অর্ধ-দিবসগুলোকে যোগ করে তার অর্ধেক পরিমাণকে পূর্ণদিবস হিসেবে ধরে নিলে হয় মোটামুটি তিরিশ দিন। হিসেবটা আর লম্বা করা বোধহয় ঠিক হবে না। শূন্য অথবা মাইনাসে চলে গেলে লজ্জার একশেষ হবে। ... ...

আজকের সময়টা রাজনীতিতে দৃশ্যকল্প তৈরী করার খেলা আর এই খেলাতে সবচেয়ে পারদর্শী যিনি, তিনি জানেন কী করে এই দৃশ্যকল্প তৈরী করতে হয়। বাংলার মূলধারার সংবাদমাধ্যম যতই দেখানোর চেষ্টা করুক, নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করেছে এবং সেটা যুক্তি সহকারে, বাংলার অলিতে গলিতে মানুষের মোবাইল ফোনে যখন ঐ ভিডিও ক্লিপটি ভেসে আসবে, যেখানে মমতা ব্যানার্জী বলছেন, তিনি নিজের পার্টির জন্য নয়, বাংলার জন্য বাঙালির জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সওয়াল করছেন, তখন প্রধান বিরোধী দল বুঝতে পারবে যে ঐ SIR তাঁদের কতটা ক্ষতি করেছে। যখন একদিকে মানুষ শুনবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার বক্তব্য যে ১ কোটি কিংবা দেড় কোটি মানুষের নাম এই SIR করলে উড়ে যাবে ভোটার তালিকা থেকে আর যখন শুনানির সময়ে নিজের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠাকে মেলাবেন, তখন তিনি ভোট দেওয়ার সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন তা এখনই বলে দেওয়া যায়। ... ...

ভোদু শেখ আদালতে তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন যে, তাঁর নিজের নামে জমি আছে এবং বাবা হাতিমতাই শেখের নাম পুরনো ভোটার তালিকায় রয়েছে। আদালতের কার্যবিবরণী থেকে জানা যাচ্ছে যে, ২৩শে জুন কে এন কাটজু মার্গ থা র্গ নায় একজন সাব-ইন্সপেক্টর এই আটককৃ তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাঁদের সব রেকর্ড এফআরআরও-তে পাঠানো হয়। এফআরআরও আবার এই আটককৃতদের একটি কমিউনিটি সেন্টারে পাঠায় ২৪ জুন। ২৬ তারিখ ডিপোর্টেশনের আদেশ জারি হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র পাঁচ দিনে শেষ। তারপর ওই ছয়জনকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ... ...


সাভারকর স্পষ্ট করছেন যে পূণ্যভূমির অর্থ একটি জাতির নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে উপজিত সংস্কৃতির উত্তরাধিকার, এবং মানসিক গঠনে সেই উত্তরাধিকারকে বহন করা। তাই শুধু ধর্ম নয়, ভাষা এবং ইতিহাস এর অন্যতম অঙ্গ। সেই সংস্কৃতিকেই উনি বলছেন ‘হিন্দুত্ব’। এর মুখ্য অঙ্গ হল ইতিহাস, তাতে বেদ এবং পুরাণকথাও সামিল। শুধু তাই নয়, বৈদিক সভ্যতা থেকে শুরু। এবং একই আইন-কানুন, আচার -অনুষ্ঠান, রীতি-রেওয়াজও এই সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ... ...

সাভারকরের মতে সমস্ত হিন্দুজাতি সেই সিন্ধুদেশ এবং বৈদিক কাল থেকে পিতৃপুরুষ ক্রমে একই রক্তধারার বন্ধনে আবদ্ধ। যদি কেউ প্রশ্ন করে যে সত্যিই কি সমস্ত হিন্দুদের শিরায় একই রক্তের ধারা বইছে? তাদের কি একটি জাতি বলা যায়? তো সাভারকরের উত্তর হল— আজকের বিশ্বে ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান বা চাইনিজদের রক্তও কি আগের মত শুদ্ধ রয়েছে? ওরা যদি জাতি হয় তো হিন্দু কেন নয়? ... ...