
দু’হাজার বছর আগে আলেকজান্দ্রিয়া প্রাসাদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভূমধ্যসাগরের নীল জলের পানে চেয়ে একদিন জুলিয়াস সিজার মিশরের রানি ক্লেওপাত্রাকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন গ্রিক ভাষায়, ‘সে আ গা পো, তোমায় আমি ভালোবাসি’, ল্যাটিনে নয়। কোইনে গ্রিক ক্লেওপাত্রার প্রথম ভাষা এবং উচ্চ বর্গের রোমান সমাজ গ্রিকে আলাপ আলোচনা করতেন, এই যেমন আজকের শিক্ষিত বাঙালি পরস্পরের সঙ্গে বাংলা নয়, ইংরেজিতে বাক্যালাপ পছন্দ করেন। ... ...

নীল রং নিয়ে কেতকী তুলে আনলেন আরও চমকপ্রদ কিছু তথ্য। রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গানে নীল রং অস্তিত্ব, আনন্দ এবং সৌন্দর্যের এক বিশেষ ভাষা তৈরি করছে। আকাশ, নীল, অনন্ত, রূপ, লাবণ্যকে তুলে ধরছেন। কিন্তু তাঁর ছবিতে নীলের ব্যবহার সেভাবে আসছে না। কেতকী এই বৈপরীত্যকেও colour perception-এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর মতে, যে রং রবীন্দ্রনাথের চোখে সবচেয়ে স্পষ্ট ও উজ্জ্বল ছিল, সাহিত্যে তিনি হয়তো সেটিকেই সবচেয়ে বেশি উদযাপন করেছেন। কিন্তু চিত্রকলার ক্ষেত্রে তাঁর আগ্রহ ছিল অন্যান্য রঙগুলির সীমা ও সম্ভাবনাকে পরীক্ষা করে দেখার। ... ...

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন হবে। সে কি আর যেমন তেমন ব্যাপার। সারা দেশে ৭০ লক্ষ প্রদীপ জ্বালানো হবে এমনটাই ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু করা হবে সরকারিভাবে কিছু দলগতভাবে। এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি থেকে শুরু করে ২১ টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সেই রাজ্যের সমস্ত মানুষকে এই নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্দান্ত পরিকল্পনা, দুরন্ত আবহ ভাবতেই কেমন একটা শিহরণ হচ্ছে গায়ে। ... ...

মনে আছে চেন্নাই এক্সপ্রেস সিনেমার সেই বিখ্যাত দৃশ্য যেখানে ট্রেন একটা রেলব্রিজের উপরে আচমকা থেমে যায়, শাহরুখ আর দীপিকা নেমে আসে, পিছনে সুবিশাল চার স্তরের এক জলপ্রপাত, যার জলের ধারা দেখে মনে হচ্ছে দুধের নহর গড়িয়ে আসছে। দুধসাগর ফলস। গোয়া আর কর্ণাটকের সীমানায় অবস্থিত এই মস্তবড় জলপ্রপাতের কাছাকাছি পৌঁছাতে গেলে যে এলাকার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় সেটাই হল মোলেম জাতীয় উদ্যান ও ভগবান মহাবীর অভয়ারণ্য। এই অভয়ারণ্যের ভেতরেই একটি ছোট গ্রাম ও তৎসংলগ্ন রেল স্টেশান হল কুলেম। গোয়ার দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে, কর্ণাটক সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত মোলেম জাতীয় উদ্যান ও ভগবান মহাবীর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য পশ্চিমঘাট পর্বতমালার অন্তর্গত ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল। ... ...

বাগড়োই গ্রামের মানুষরা বলছিলেন যে তাঁদেরই পঞ্চায়েত এলাকায়, অর্থাৎ, বাজারগাঁও-২ পঞ্চায়েত এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমানার দিকে আরো দুটো গ্রাম থেকে দুজন মাঝবয়সী মুসলমান পুরুষকে ধরে হোল্ডিং সেন্টারে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো। এই দুজনেরই বউ-ছেলে-মেয়ে ভয়ে কোথায় চলে গেছে তার কোনো হদিশ এখন নেই, সেই দুজনকে নাকি বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করে দেওয়া হয়েছে। ... ...
.jpg)
দেশের অন্যতম সেরা বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র আইআইএসইআর (IISER), পুণে। সম্প্রতি সেখানকার একটি ঘটনা শিক্ষামহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সমাজমাধ্যম ‘রেডিট’-এ একটি পোস্ট ঘিরে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ, সেমেস্টার পরীক্ষার সময় পড়ুয়াদের চরম যৌন ও মানসিক হেনস্থা করা হয়েছে। খোদ ডিন-এর নির্দেশেই এই কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনা প্রতিষ্ঠানের অন্দরে ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নগ্ন চিত্র তুলে ধরেছে। ... ...

২০২৫ সালের হরিয়ানা প্রশাসনের সমীক্ষা অনুযায়ী আরাবল্লির হরিয়ানা অংশে প্রায় ৭,০০০ বেআইনি স্থাপনা আছে, প্রধানত গুরুগ্রাম, তারপর ফরিদাবাদ ও নূহতে। একজন সমালোচকের দাবি অনুযায়ী অধিকাংশ সম্পত্তি রাজ্য কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদদের মালিকানাধীন অথবা জমিমাফিয়াদের পৃষ্ঠপোষকতায় চলে। ডাউন টু আর্থের এক প্রতিবেদনে পরিবেশবিদ ভাটনগরের বক্তব্য হল ফরিদাবাদ ও গুরুগ্রামে জমির দাম বাড়তে থাকায় জমি-মাফিয়া ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো তা দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে, আর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও আমলাতন্ত্র তাদের সমর্থন দেয়। ... ...

জনগণনা যদি নিছক পরিসংখ্যান সংগ্রহের প্রক্রিয়া হয় তার সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের তো কোনো সম্পর্কই নেই। এই কথাটি সরকারকে স্পষ্ট ব্যর্থহীন ভাষায় আইনি নিশ্চয়তা সহ বলতে হবে। যে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে অস্তিত্বহীনতা পরিচয়হীনতা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি করে সেই রাষ্ট্রকে কোন "দিমাগী নকশাল" যদি এইরকম প্রশ্ন করে তাহলে সেই প্রশ্নকর্তাকেই কাঠগড়ায় তুললে সন্দেহ আরো দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়। আর সেখানেই গণতন্ত্রের আসল বিপদ। ... ...

সংক্ষেপে, আইনি দিক থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিকল্প প্রস্তাবগুলোর চেয়ে কর্পোরেট খনি লিজের চুক্তিগত অধিকার এবং সরকারের উন্নয়ন নীতিই আইনি আদালতগুলোতে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। যেমন 'লেমরু হাতি রিজার্ভ'’এর কাগজ কলমে অস্তিত্ব থাকলেও, এর সীমানা এমনভাবে আইনি মারপ্যাঁচে ছোট করা হয়েছে যাতে আদানি গ্রুপের মতো বড় কর্পোরেট খনি অপারেটরদের বাণিজ্যিক স্বার্থে কোনো বড় আইনি বাধা তৈরি না হয়। বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আইনি সমীকরণ বিবেচনা করলে, আন্দোলনকারীদের প্রস্তাবিত বিকল্প উপায়গুলো সরকারের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়ার কোনো আশু বা নিকটবর্তী সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ... ...

কেন বেতোয়ার নদী সংযোগ প্রকল্পের কথায় ঢোকার আগে একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলি। মহারাষ্ট্রের পুণে শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থা মোটামুটি শহরের আশেপাশের কয়েকটি হ্রদে জমা বৃষ্টির জলের উপরে নির্ভরশীল। এই হ্রদগুলোর মধ্যে একটা ছাড়া বাকী সব কটাই মানুষের তৈরী। এর ফলে যে বছর বৃষ্টি খুব ভাল হয় সেবার পরের বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি অবধি মিউনিসিপালিটির নিত্য জল সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন থাকে, তার পরে শুরু হয় অনিয়মিত সরবরাহ এবং ট্যাঙ্কাররাজ। ... ...

খাজুরাহো,মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের এক মন্দিরশহর তথা বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র। ফি বছর দেশ বিদেশের অগণিত মানুষ ভিড় করেন ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে। তবে আজ আপনাদের এখানে নিয়ে এসেছি সম্পূর্ণ আলাদা এক উদ্দেশ্য নিয়ে। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর দিকে সকলের নজর, কেননা এখানেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন “কেন - বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের”। ... ...

সমবেত হাজার হাজার কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণী তাদের হাসি গানে কৌতুকে একটা দমকা হাওয়ায় আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেলেন কোনো অনির্দেশের উদ্দেশ্যে। এই জেনারেশন দিবারাত্র আইফোন, আইপ্যাডে নিবিষ্ট এমন অভিযোগ আমরা সর্বদা করে থাকি; যেমন অন্য ঘর থেকে রেডিওতে বুধবার রাত আটটায় বিনাকা গীতমালার গান শুনে বাবা বলতেন পড়াশোনা ফেলে ঐ লারে লাপ্পা গানই শোনো, তোমাদের কিসুই হবে না। গত দশ দিন আমার দীর্ঘ দিনের সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এরা অন্য রকম। ... ...

মহিলা সাংসদ চিৎকার করছেন, যে তিনি আক্রান্ত। তিনি যে জায়গায় তাঁর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন, সেই ঘরটা জাতীয় সড়কের ওপরে একটি বাড়ির তৃতীয় তলায়। তাঁর ফেসবুক লাইভ থেকে দেখা যাচ্ছিল, যে ঐ ঘরের জানলার বাইরে একদল মানুষ জড়ো হয়েছেন এবং তাঁরাই উস্কানি দিচ্ছে। তাঁদের মুখে সেই কুখ্যাত কিংবা বিখ্যাত ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগান এবং কারো কারো হাতে বিজেপির পতাকা। ... ...

রাজাগোপালের এই বয়ানটি হয়ত, অনেকেই পড়েছেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও নির্লিপ্ত থেকেছেন, ঠিক যেমনটা ভোটের আগে, কিংবা আসামের এনআরসি’র সময়ে ছিলেন। তখন হয়ত বেশীরভাগ মানুষ ভেবেছিলেন, এই সমস্যা শুধু মুসলমানদের বা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’দের নিয়ে হবে, তাই তখন খুব বেশী শোরগোল করেননি। সেই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোও খুব বেশী সোচ্চার হয়নি, তারা সবাই ব্যস্ত ছিল নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারে। ... ...

ইংল্যান্ডে টাং ইন চিক হিউমর কথাটা খুব চালু, তার বাংলা কি হতে পারে জানি না, তবে জার্মানিতে সেটি অমিল। প্রথমেই বলে রাখি, মানফ্রেড রোমেলের হাস্যরস কখনো অত্যন্ত শুষ্ক, কখনো ছুরির মত ধারালো। যে কোন পরিস্থিতিতেই অবহেলায় অফ দি কাফ মন্তব্য করেন, সে কৌতুক আপনার পছন্দ হোক বা নাই হোক; কোন পপুলারিটি পোলের ধার ধারেন না। মানফ্রেড একটু তোতলা ছিলেন, মাঝে মাঝে কথা জড়িয়ে যেতো, কিন্তু এই আপাত দুর্বলতাকে তিনি তাঁর ব্র্যান্ডে পরিণত করেন – ‘আমার নাম মানফ্রেড রোমেল, আমি তোতলা এবং কখনো ফিস ফিস করে কথা বলে থাকি’ এমন একটা প্রস্তাবনার পরে শ্রোতার প্রতিরোধ ভেঙ্গে যেতে বাধ্য! ... ...

এই ধরণের ঘটনা ভারতে এই প্রথম না। সত্যম কেলেংকারিতে রামলিঙ্গ রাজু ঠিক এই ভাবে ভুয়ো তথ্য দিয়ে ব্যবসার আয় ফাঁপিয়ে তুলেছিল। DHFL রাশি রাশি শেল কোম্পানির মধ্যে দিয়ে টাকা ঘুরিয়ে গোলক ধাঁধা বানিয়েছিল। রাজেশের আইপিও কেলেঙ্কারিরর ছায়া দেখা যায় ২০০১ সালের কেতন পারেখের কীর্তিতে। তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যৎ কি কেবল স্ক্যামড হওয়ার অপেক্ষায় থাকা? সেবির কি কিছুই করার নেই? ... ...

নিজে গরমে খুব কষ্ট পাই বলেই জানতে ইচ্ছে হয়েছিল, ভবিষ্যতের বাংলায় আমাদের সন্ততিরা কেমন থাকবে? কিছুটা আভাস মিলল সৌরভ বল ও ইংগো কির্খনারের ২০২৩ সালের পেপার থেকে। সৌরভরা কলকাতার জন্য ধরেছেন যে ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৫.৭ ডিগ্রি অবধি স্লাইটলি ওয়ার্ম (সামান্য গরম বলি?), ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪৩.৮৩ ডিগ্রি অবধি ওয়ার্ম (গরম) আর PET ৪৩.৮৩ ডিগ্রি ছাড়ালে সেটা হট (অসহ্য গরম বলি একে?)। ওঁরা বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ বাড়া মানে PET এর তার প্রভার পড়বে দ্বিগুণ। ... ...

কিন্তু আমার মত একজন ‘অকেশনাল ফ্লায়ার’, দুচোখে যার সর্বগ্রাসী খিদে, তার অমন ‘কম্প্রোমাইজড দেখা’-য় চলবে কেন? যেটার যে রঙ তাকে সেই রঙেই যে দেখতে হবে আমাকে। অতএব জানলার কাচ নীল করি না আমি। বিমানবালারা বার তিনেক এসে আমাকে ‘অনুরোধ’ করে যায় জানলা নীল রাখার জন্যে। কিন্তু নীল কাচের মধ্যে দিয়ে বাইরেটা দেখে সুখ হচ্ছে না বলে প্রতিবারই আমি কাচের রঙ ফের সাদা করে দিই। মনে মনে ঘুমন্ত লোকগুলোকে বলি, আর কত ঘুমুবি বাপু? ওঠ না এবার। মাটিতে থাকলে এখন তো কাজের জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতিস। ... ...

এখন আর সেই টিলাগুলো তেমন উঁচু দেখায় না। আমি মাথায় একটু, আর চওড়ায় বেশ অনেকটা ছড়িয়েছি বলে নয়, সেগুলি কাটা পড়েছে বলে। রাস্তা আর বাড়ী-ঘর তৈরিতে ওরা ধীরে ধীরে মাটিতে মিশে গেছে। ওদিকে রিং রোড হয়েছে। শান্তিনিকেতনের মত এখানেও এখন হাট বসছে। কিছু মাটির গয়না,গামছার সাথে চীনদেশের প্লাস্টিকের সস্তা পুতুল,গাড়ি, মাথার ক্লিপ ও পাওয়া যায়। জিলিপির পাশেই মস্ত বড় চিপসের প্যাকেটে র মালা ঝোলে। মোটর গাড়ি, মোটর সাইকেলে চড়ে অনবরত মানুষ ছুটে আসে ফি শনিবার। পথের ধারে বুনো ফুলের গন্ধ আর তাই তেমন পাওয়া যায়না। লাল ধুলোয় থার্মোকলের গুঁড়ি, ছেঁড়া প্লাস্টিকের টুকরো মিশে থাকে। ওদিকে নদীর ধারটি আলিশান সাদা পাথরে বাঁধিয়ে আলোর মালায় সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে গঙ্গা আরতি শুরু হবে কদিন পরেই--- যদিও নদীটি গঙ্গা নয়। তার মাসতুতো বোনও নয়। শহরের মোড়ে, রাস্তায় আলোচনা চলে এ নিয়ে। এই উন্নতি নিয়ে। তাহলে জাতে উঠল এ শহর --- উন্নয়নের পথে। ... ...

মিকেশের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়েছিলেন প্রয়াত নিখিল সরকার, শ্রী পান্থ নামে যিনি আপামর বাঙালির কাছে পরিচিত। দাদার বন্ধু শান্তিদার (ভৌমিক) সৌজন্যে ক্লাস টেনে পাঠরতা তাঁর ভাগ্নিকে পড়ানোর কাজটি জোটে। মায়ের সংসারে থাকি তখন। ধান বেচা, বাড়ি ভাড়ার টাকা থেকে হাত সাফাই করে বাজে খরচার টাকা জোগাড় করতাম; শান্তিদার কল্যাণে এই আমার প্রথম আইনি উপার্জন। নিখিল বাবু আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, তাঁর বাড়িওলা ছিলেন শৈলজা নন্দ মুখোপাধ্যায়, তাঁর সদানন্দ চেহারাটি আজও মনে ভাসে। এ বাড়িতে আগত অনেক সাহিত্যিক সাংবাদিকের সঙ্গে নিখিল বাবু আলাপ করিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে বইয়ের স্তূপ, তাঁর অধ্যয়ন ও মেধার কোন পরিসীমা ছিল না শুধু যে কোন বইয়ের রেফারেন্স দিতেন তাই নয়, বইয়ের গাদা থেকে পাতা খুলে দেখাতেন। মনে হয়েছে সত্যজিৎ রায় হয়তো তাঁরই আদলে সিধু জ্যাঠার রূপ দিয়েছেন। ... ...