
জনগণনা যদি নিছক পরিসংখ্যান সংগ্রহের প্রক্রিয়া হয় তার সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের তো কোনো সম্পর্কই নেই। এই কথাটি সরকারকে স্পষ্ট ব্যর্থহীন ভাষায় আইনি নিশ্চয়তা সহ বলতে হবে। যে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে অস্তিত্বহীনতা পরিচয়হীনতা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি করে সেই রাষ্ট্রকে কোন "দিমাগী নকশাল" যদি এইরকম প্রশ্ন করে তাহলে সেই প্রশ্নকর্তাকেই কাঠগড়ায় তুললে সন্দেহ আরো দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়। আর সেখানেই গণতন্ত্রের আসল বিপদ। ... ...

সংক্ষেপে, আইনি দিক থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিকল্প প্রস্তাবগুলোর চেয়ে কর্পোরেট খনি লিজের চুক্তিগত অধিকার এবং সরকারের উন্নয়ন নীতিই আইনি আদালতগুলোতে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। যেমন 'লেমরু হাতি রিজার্ভ'’এর কাগজ কলমে অস্তিত্ব থাকলেও, এর সীমানা এমনভাবে আইনি মারপ্যাঁচে ছোট করা হয়েছে যাতে আদানি গ্রুপের মতো বড় কর্পোরেট খনি অপারেটরদের বাণিজ্যিক স্বার্থে কোনো বড় আইনি বাধা তৈরি না হয়। বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং আইনি সমীকরণ বিবেচনা করলে, আন্দোলনকারীদের প্রস্তাবিত বিকল্প উপায়গুলো সরকারের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়ার কোনো আশু বা নিকটবর্তী সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ... ...

কেন বেতোয়ার নদী সংযোগ প্রকল্পের কথায় ঢোকার আগে একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলি। মহারাষ্ট্রের পুণে শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থা মোটামুটি শহরের আশেপাশের কয়েকটি হ্রদে জমা বৃষ্টির জলের উপরে নির্ভরশীল। এই হ্রদগুলোর মধ্যে একটা ছাড়া বাকী সব কটাই মানুষের তৈরী। এর ফলে যে বছর বৃষ্টি খুব ভাল হয় সেবার পরের বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি অবধি মিউনিসিপালিটির নিত্য জল সরবরাহ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন থাকে, তার পরে শুরু হয় অনিয়মিত সরবরাহ এবং ট্যাঙ্কাররাজ। ... ...

খাজুরাহো,মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের এক মন্দিরশহর তথা বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র। ফি বছর দেশ বিদেশের অগণিত মানুষ ভিড় করেন ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে। তবে আজ আপনাদের এখানে নিয়ে এসেছি সম্পূর্ণ আলাদা এক উদ্দেশ্য নিয়ে। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর দিকে সকলের নজর, কেননা এখানেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন “কেন - বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পের”। ... ...

সমবেত হাজার হাজার কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণী তাদের হাসি গানে কৌতুকে একটা দমকা হাওয়ায় আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেলেন কোনো অনির্দেশের উদ্দেশ্যে। এই জেনারেশন দিবারাত্র আইফোন, আইপ্যাডে নিবিষ্ট এমন অভিযোগ আমরা সর্বদা করে থাকি; যেমন অন্য ঘর থেকে রেডিওতে বুধবার রাত আটটায় বিনাকা গীতমালার গান শুনে বাবা বলতেন পড়াশোনা ফেলে ঐ লারে লাপ্পা গানই শোনো, তোমাদের কিসুই হবে না। গত দশ দিন আমার দীর্ঘ দিনের সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এরা অন্য রকম। ... ...

মহিলা সাংসদ চিৎকার করছেন, যে তিনি আক্রান্ত। তিনি যে জায়গায় তাঁর দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন, সেই ঘরটা জাতীয় সড়কের ওপরে একটি বাড়ির তৃতীয় তলায়। তাঁর ফেসবুক লাইভ থেকে দেখা যাচ্ছিল, যে ঐ ঘরের জানলার বাইরে একদল মানুষ জড়ো হয়েছেন এবং তাঁরাই উস্কানি দিচ্ছে। তাঁদের মুখে সেই কুখ্যাত কিংবা বিখ্যাত ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগান এবং কারো কারো হাতে বিজেপির পতাকা। ... ...

রাজাগোপালের এই বয়ানটি হয়ত, অনেকেই পড়েছেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও নির্লিপ্ত থেকেছেন, ঠিক যেমনটা ভোটের আগে, কিংবা আসামের এনআরসি’র সময়ে ছিলেন। তখন হয়ত বেশীরভাগ মানুষ ভেবেছিলেন, এই সমস্যা শুধু মুসলমানদের বা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’দের নিয়ে হবে, তাই তখন খুব বেশী শোরগোল করেননি। সেই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোও খুব বেশী সোচ্চার হয়নি, তারা সবাই ব্যস্ত ছিল নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারে। ... ...

ইংল্যান্ডে টাং ইন চিক হিউমর কথাটা খুব চালু, তার বাংলা কি হতে পারে জানি না, তবে জার্মানিতে সেটি অমিল। প্রথমেই বলে রাখি, মানফ্রেড রোমেলের হাস্যরস কখনো অত্যন্ত শুষ্ক, কখনো ছুরির মত ধারালো। যে কোন পরিস্থিতিতেই অবহেলায় অফ দি কাফ মন্তব্য করেন, সে কৌতুক আপনার পছন্দ হোক বা নাই হোক; কোন পপুলারিটি পোলের ধার ধারেন না। মানফ্রেড একটু তোতলা ছিলেন, মাঝে মাঝে কথা জড়িয়ে যেতো, কিন্তু এই আপাত দুর্বলতাকে তিনি তাঁর ব্র্যান্ডে পরিণত করেন – ‘আমার নাম মানফ্রেড রোমেল, আমি তোতলা এবং কখনো ফিস ফিস করে কথা বলে থাকি’ এমন একটা প্রস্তাবনার পরে শ্রোতার প্রতিরোধ ভেঙ্গে যেতে বাধ্য! ... ...

এই ধরণের ঘটনা ভারতে এই প্রথম না। সত্যম কেলেংকারিতে রামলিঙ্গ রাজু ঠিক এই ভাবে ভুয়ো তথ্য দিয়ে ব্যবসার আয় ফাঁপিয়ে তুলেছিল। DHFL রাশি রাশি শেল কোম্পানির মধ্যে দিয়ে টাকা ঘুরিয়ে গোলক ধাঁধা বানিয়েছিল। রাজেশের আইপিও কেলেঙ্কারিরর ছায়া দেখা যায় ২০০১ সালের কেতন পারেখের কীর্তিতে। তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যৎ কি কেবল স্ক্যামড হওয়ার অপেক্ষায় থাকা? সেবির কি কিছুই করার নেই? ... ...

নিজে গরমে খুব কষ্ট পাই বলেই জানতে ইচ্ছে হয়েছিল, ভবিষ্যতের বাংলায় আমাদের সন্ততিরা কেমন থাকবে? কিছুটা আভাস মিলল সৌরভ বল ও ইংগো কির্খনারের ২০২৩ সালের পেপার থেকে। সৌরভরা কলকাতার জন্য ধরেছেন যে ২৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৫.৭ ডিগ্রি অবধি স্লাইটলি ওয়ার্ম (সামান্য গরম বলি?), ৩৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪৩.৮৩ ডিগ্রি অবধি ওয়ার্ম (গরম) আর PET ৪৩.৮৩ ডিগ্রি ছাড়ালে সেটা হট (অসহ্য গরম বলি একে?)। ওঁরা বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ বাড়া মানে PET এর তার প্রভার পড়বে দ্বিগুণ। ... ...

কিন্তু আমার মত একজন ‘অকেশনাল ফ্লায়ার’, দুচোখে যার সর্বগ্রাসী খিদে, তার অমন ‘কম্প্রোমাইজড দেখা’-য় চলবে কেন? যেটার যে রঙ তাকে সেই রঙেই যে দেখতে হবে আমাকে। অতএব জানলার কাচ নীল করি না আমি। বিমানবালারা বার তিনেক এসে আমাকে ‘অনুরোধ’ করে যায় জানলা নীল রাখার জন্যে। কিন্তু নীল কাচের মধ্যে দিয়ে বাইরেটা দেখে সুখ হচ্ছে না বলে প্রতিবারই আমি কাচের রঙ ফের সাদা করে দিই। মনে মনে ঘুমন্ত লোকগুলোকে বলি, আর কত ঘুমুবি বাপু? ওঠ না এবার। মাটিতে থাকলে এখন তো কাজের জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতিস। ... ...

এখন আর সেই টিলাগুলো তেমন উঁচু দেখায় না। আমি মাথায় একটু, আর চওড়ায় বেশ অনেকটা ছড়িয়েছি বলে নয়, সেগুলি কাটা পড়েছে বলে। রাস্তা আর বাড়ী-ঘর তৈরিতে ওরা ধীরে ধীরে মাটিতে মিশে গেছে। ওদিকে রিং রোড হয়েছে। শান্তিনিকেতনের মত এখানেও এখন হাট বসছে। কিছু মাটির গয়না,গামছার সাথে চীনদেশের প্লাস্টিকের সস্তা পুতুল,গাড়ি, মাথার ক্লিপ ও পাওয়া যায়। জিলিপির পাশেই মস্ত বড় চিপসের প্যাকেটে র মালা ঝোলে। মোটর গাড়ি, মোটর সাইকেলে চড়ে অনবরত মানুষ ছুটে আসে ফি শনিবার। পথের ধারে বুনো ফুলের গন্ধ আর তাই তেমন পাওয়া যায়না। লাল ধুলোয় থার্মোকলের গুঁড়ি, ছেঁড়া প্লাস্টিকের টুকরো মিশে থাকে। ওদিকে নদীর ধারটি আলিশান সাদা পাথরে বাঁধিয়ে আলোর মালায় সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে গঙ্গা আরতি শুরু হবে কদিন পরেই--- যদিও নদীটি গঙ্গা নয়। তার মাসতুতো বোনও নয়। শহরের মোড়ে, রাস্তায় আলোচনা চলে এ নিয়ে। এই উন্নতি নিয়ে। তাহলে জাতে উঠল এ শহর --- উন্নয়নের পথে। ... ...

মিকেশের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়েছিলেন প্রয়াত নিখিল সরকার, শ্রী পান্থ নামে যিনি আপামর বাঙালির কাছে পরিচিত। দাদার বন্ধু শান্তিদার (ভৌমিক) সৌজন্যে ক্লাস টেনে পাঠরতা তাঁর ভাগ্নিকে পড়ানোর কাজটি জোটে। মায়ের সংসারে থাকি তখন। ধান বেচা, বাড়ি ভাড়ার টাকা থেকে হাত সাফাই করে বাজে খরচার টাকা জোগাড় করতাম; শান্তিদার কল্যাণে এই আমার প্রথম আইনি উপার্জন। নিখিল বাবু আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, তাঁর বাড়িওলা ছিলেন শৈলজা নন্দ মুখোপাধ্যায়, তাঁর সদানন্দ চেহারাটি আজও মনে ভাসে। এ বাড়িতে আগত অনেক সাহিত্যিক সাংবাদিকের সঙ্গে নিখিল বাবু আলাপ করিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে বইয়ের স্তূপ, তাঁর অধ্যয়ন ও মেধার কোন পরিসীমা ছিল না শুধু যে কোন বইয়ের রেফারেন্স দিতেন তাই নয়, বইয়ের গাদা থেকে পাতা খুলে দেখাতেন। মনে হয়েছে সত্যজিৎ রায় হয়তো তাঁরই আদলে সিধু জ্যাঠার রূপ দিয়েছেন। ... ...

রাজনীতি এক বিরাট প্রাঙ্গন। সেখানে খেলা অনেকরকম, তাদের নিয়মও রকমারি। এখানে শুধুই আলোচনা হল, সে মাঠে কাদের খেলতে দেবেন না, বা কোনো দলটিকে কখনোই সমর্থন করবেন না – তা নিয়ে। এর পরের স্তরে আসে ‘কাকে সমর্থন করবো?‘ সেই প্রশ্ন। তার সঙ্গেই আসে – দেওয়ালে যাদের পিঠ ঠেকেছে, তারা কী গণের অংশ নয়? ... ...
তবে সবকিছু ছাপিয়ে এক তীব্র সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতিকে পশ্চিমবাংলার ভোটে কার্যকর করার প্রয়াস বিজেপির প্রচারের মূল দিক। এখানে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে মমতা ব্যানার্জির আর এস এস সম্পর্কে দ্বিধা জড়িত কিছু উচ্চারণ লোহার বাসরঘরে সিঁধ কাটার তুল্যই মনে হয়। তাঁর এই মতাদর্শহীন, যেখানে যেমন প্রয়োগবাদ কি শেষ বিচারে পশ্চিমবাংলায় আর এস এস – বিজেপির তীব্র মতাদর্শ গত – সাংগঠনিক – রাজনৈতিক প্রকল্পের সামনে প্রাচীর খাড়া করতে সমর্থ -এ প্রশ্ন উঠবেই। ... ...

ঐতিহাসিকভাবে ভারত হরমুজ প্রণালীকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে, কারণ পশ্চিম এশিয়ার নৈকট্যের কারণে এখানে মাল পরিবহনের খরচ সবচেয়ে কম। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ফলে ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য নতুন পরিবর্তিত পথের কথা ভাবতে হচ্ছে। পথ পরিবর্তন করলে মাল পরিবহনের খরচ ২০-৩০% বেশি হয়(বিশেষ করে কেপ অফ গুড হোপের মতো দীর্ঘ পথে), ট্রান্সপোর্ট বীমা অনেক বেড়ে যায় বলে। ... ...
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর ফলে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যার প্যাটার্ন বিষয়ে (আরো) দু-চার কথা। মূলতঃ দু-দফায় বিভিন্ন বিধানসভা আসনে বাদ যাওয়া নামের সংখ্যার সঙ্গে ওই সব আসনে জনগোষ্টীগত বিন্যাসের কোন সম্পর্ক আছে কি না তা খতিয়ে দেখার একটি প্রয়াস। ... ...
এটা ভবানীপুর কেন্দ্রে তথাকথিত নির্বাচন কমিশনের অবিশ্বাস্য অনাচারের গল্প। এবং একই সঙ্গে সেই অনাচার খুঁড়ে বার করার অভিযানেরও গল্প। গল্পের শেষে অনুসন্ধানের ফলাফলও থাকবে, কিন্তু তার আগে পুরোটা পড়বেন, কারণ যে পাহাড়গুলো আমাদের ডিঙোতে হয়েছে, সেই পাহাড়গুলো আকাশ থেকে পড়েনি, ইচ্ছে করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে টপকানো না যায়। সেটা প্রতিটি মানুষের জানা দরকার। ভবানীপুর এবং আরও কয়েকটা কেন্দ্র নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম অনেকদিন আগে। অল্ট নিউজ এবং সবর ইনস্টিটিউট এই কেন্দ্র নিয়ে তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান ইতিমধ্যেই পেশ করেছে। আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানও তাদের সঙ্গে মেলে। তার পরেও কেন আলাদা করে প্রকাশ করছি, এবং কেন এত দেরি হল, তার উত্তরও এই লেখাতেই পাবেন। উত্তর একটাই, আমরা শুধু প্রাথমিক অনুসন্ধান নয়, কাজটা সম্পূর্ণ নিখুঁত ভাবে করতে চেয়েছিলাম। এখন মোটামুটি ৯৯% নিখুঁতভাবে শেষ হয়েছে এই কাজ। এবং সেই কারণেই অল্ট নিউজ বা সবরের থেকে এর ফলাফল খানিকটা আলাদা। বিপদ ওঁরা বা আমাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান যা আঁচ করেছিল, তার চেয়েও বেশি, লেখাটা পড়লেই বুঝতে পারবেন। কিন্তু তার আগে আমাদের পাহাড় ডিঙোনোর যাত্রাপথের গল্প। ... ...

আমাদের বা অন্যদের বিশ্লেষণেও এই এক-ই কথা ধরা পড়েছে বারংবার, যে এই এস-আই-আর প্রক্রিয়া আসলেই আমাদের যাবতীয় কাঠামোগত বৈষম্যকে আরও একটু বাড়িয়েই তুলবে, সুবিধাবঞ্চিত, উপায়হীন, ভাগ্যতাড়িত মানুষকে আরও একটু ঠেলে দেবে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। নিবিড় সংশোধনীর অন্তিম মূল্য কী তবে আরও বেশি অসাম্য? আরও বিভেদ? কিন্তু এই যে বহু বহু মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি কোপে হারাবেন তাদের সংবিধান-স্বীকৃত অধিকার, তারা কারা, এবং এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে কোনদিকে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের উপর তাদের আস্থা? এই সব প্রশ্নের আংশিক উত্তর আছে লোকনীতি-সিএসডিএসের ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের সমীক্ষায়। সার্ভের কভারেজ মাঝারি বলেই মনে হয় — অসম, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লি — এই ছয়টি রাজ্যের ৩,০৫৪ জন নাগরিক। সমীক্ষাটি দীর্ঘ, কিন্তু মূল বার্তাটি বেশ স্পষ্ট, মোদ্দা কথায়, এস-আই-আরের ফলে ভোটাধিকার হারানোর বিপদ সবার সমান নয়। সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক অংশটি, দরিদ্র, বৃদ্ধ, নিরক্ষর, পরিযায়ী, অথবা গ্রামীণ ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এবং, বিগত কয়েকটি বছরে কমিশনের প্রতি জনআস্থা ভয়াবহভাবে কমে গেছে, যে কমার হার সব রাজ্যে সমান নয়। পুরো সমীক্ষার তথ্য আমার হাতে নেই। আমি শুধু হাতে পাচ্ছি, লোকনীতির সাইটে প্রকাশিত এক-একটি প্রশ্নের সংক্ষিপ্তসার, এবং দ্য হিন্দু পত্রিকায় দুটি রিপোর্ট। এর মধ্যে কয়েকটি বেছে নিয়েছি আমি, যদিও সবকটিই প্রণিধানযোগ্য। ... ...

শুভদীপের সিনেমা নিতান্তই shoestring বাজেটে নির্মিত, অবশ্য সে কারণে পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবির বদলে শর্ট ফিল্ম বানানো, ব্যাপারটা এমন নয়, বরং শুভদীপ শর্টফিল্মকে এক স্বতন্ত্র মাধ্যম হিসেবে দেখেন। শর্ট ফিল্ম নিয়ে আরও এক্সপেরিমেন্ট করার পরিকল্পনা আছে ওঁর, সাম্প্রতিকতম প্রয়াস ওঁর পরিচালিত “অ্যাটম সিনেমা” সিরিজ, যেখানে একেকটি ছবি মিনিট দশেকের কমবেশি সময়কালের। সীমিত বাজেট, সীমিত সময় কিংবা প্রযুক্তিগত সংযম তাঁর জন্য কখনো প্রতিবন্ধকতা নয়, এতদসত্ত্বেও তাঁর ছবি শিল্পের পূর্ণতা পেয়েছে। ... ...