এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • সংবিগ্ন পাখীকূল

    ইন্দ্রনীল ঘোষদস্তিদার
    আলোচনা | বিবিধ | ২০ ডিসেম্বর ২০০৬ | ২১২২ বার পঠিত | রেটিং ৩ (১ জন)
  • আমি আর সন্দীপ কোনো এককালে সাইকেল করে এয়ারপোর্ট দেখতে আসতাম। ভি. সি. কলেজে পড়ি তখন। কলেজ কেটে, বলাই বাহুল্য। মাঝেমধ্যে সুবর্ণও আসতো।

    সাইকেল চেপে ঘুরতাম, সে তো কত জায়গাতেই। ক্লাশ না পালিয়েও আসতাম পরের দিকে। যেমন শীতের ভোর ভোর কুয়াশায়, যখন নীলগঞ্জ রোডের ধারে চায়ের দোকানে সবে উনুনে আঁচ পড়ছে, বাসিমুখ দোকানী হাই তুলতে তুলতে প্রাণপণে হাওয়া দিচ্ছে; ধোঁয়া আর কুয়াশায় মিলিয়েমিশিয়ে জট পাকিয়ে একাকার। দাওয়ায় মাদুর পেতে পড়তে বসেছে বাচ্চা ছেলে, গায়ে নস্যি রং চাদর না আলোয়ান কেবা জানে; উঠোনে রোগাভোগা বেড়াল-ছানার মত ফালি রোদ ডুরে শাড়ির পায়ে পায়ে ঘোরে।

    কিংবা কালবৈশাখী আসি-আসি করছে গ্রীষ্মকালের বিকেলে, নারকেল গাছগুলো নিথর, যেরকম নিথর গাছপালা হতে জানে ঝড়ের আগে; মাথার ওপরের আকাশ ইস্পাত-নীল, আর নারকেল পাতাগুলো একরকম রূপোয় মোড়া। দূরের মাঠ বেয়ে ভয়ঙ্কর এক বৃষ্টি ছুটে আসছে, মাথা বাঁচানোর জন্য একটা শুকনো কচুপাতাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা; আমরা আপাদমস্তক ভিজলাম, অতএব। আহা, কলেজ কাট মেরে দিগন্ত চিনবার সেইসব দিন আমাদের !

    দুপুরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম একবার, হেমন্তকাল, গ্রাম-ঘরগুলো ঘুমে থমথম করছে; মোড় ঘুরতেই অচেনা বাড়ির দোতলা থেকে গীটারে রবীন্দ্রসঙ্গীত - আঘাত সে যে পরশ তব... - আর অমনি মেয়েলী হাসির রেলকম ঝমাঝম ভেঙে পড়া; মন যে কেমন করে তাহা মনই জানে। মনে রাখতে হবে আমাদের বয়স তখন সতেরো সবে, আর বাংলাদেশের ছায়াভরা গ্রামগুলি হেমন্তের বিকেলের একটুখানি আভাস পেলেই কি গভীর কলসপত্রী ঘিরে নেয় অচিন সাইকেল আর তার মানুষজনদের। বাঁশবনের ভিতর দিয়ে হাওয়া চলে সোঁ সোঁ, আর নীচে পড়ে থাকা শুকনো বাঁশপাতার অন্ধকার তলা দিয়ে কেউটে আর কালাজের অনর্গল যাতায়ত।

    এ সবই ছিল, ফুলেল সর্ষেক্ষেতও ছিল আমাদের, নারকোলি কুলের বাগান থেকে কুল পেড়ে খাওয়া ছিল। কিন্তু আমাদের রাজার রাজা ছিল এয়ারপোর্ট। রানওয়ে। দশতলা কেকের ওপরে যেন মহিমাণ্বিত একলা চেরীর লাল টপিংটি, "রাজা, আমার প্রাণের রাজা!" বলে শম্ভু মিত্র যেভাবে জড়িয়ে ধরেন উত্তমকুমারকে, "বৌঠাকুরাণীর হাট" সিনেমায়।

    প্লেন দেখতাম যশোর রোডের ধারে - লিখে ফেলে দেখলাম কবিতার মত শোনাচ্ছে। হ্যা, তা পয়ারে লেখাই যেত আমাদের সেইসব মফ:স্বলী হাঁ, ভাঙা পাঁচিলের দমদম বিমানবন্দরে যখন ঘন্টায় একটাও প্লেন ওঠা-নামা করত কিনা সন্দেহ। একদিন আমিও প্লেনে চড়ে চলে যাবো-না-বলা এইসব কথা কি আমরাই বিশ্বাস করতাম তখন !

    এই দমদম রানওয়ের ধারেই আমি প্রথম কাশফুল দেখি, অবশ্য ঢ্যাঙাবাবুটির আম-আঁটির ভেঁপুজনিত বায়োস্কোপি বিভ্রম বাদ দিলে। পাঁচিলের ওধারে বহুদূরে বেশ দিব্য ফুলবাবুর মত গোলমেলে হাওয়াতে মাথা নাড়ছে, যখন শরতের বেমক্কা দুপুরে কেউ কোত্থাও নেই। একটা রূপোলী প্লেন অন্তত: থাকা উচিৎ ছিল না?

    রানওয়ে জিনিষ ভালো নয়, একথা জানা দরকার ছিল অথচ। কিশোরী মেয়েটির তো জানা জরুরী ছিল খুবই, তাহলে সে আর ঐ শালবনে ঘেরা ভাঙা রানওয়ের ওপর দিয়ে একলা হেঁটে যেত না। একটা বিশ্বযুদ্ধের ফেলে-যাওয়া উপোসী রানওয়ে, হাশিখুশী মেয়েরা সেখানে আনমনা হাঁটতে গেলেই জিভ-বার করা ভয়ংকরী মায়েদের সামনে পড়ে যায়; করাল মাতৃকা, তাদের হাতের খাঁড়াটিতে বড় বেশী সন্তানরক্ত লেখা।

    এরা, এই সংহারমূর্তি মায়েরা - কেউ বলে-সত্যি নয়। ভুষোকালি, সস্তা রূপোলী রং, ঘাম, তেল আর আর আলতার কারসাজি। ছোটদের মিথ্যে কথা বলতে নেই - বলে, ক্ষয়ে যাওয়া লোকে। আর বলে হিতোপদেশে।

    হয়তো। অথবা হয়তো দুরকমই মেশানো থাকে, সত্যি ও মিথ্যে, আসল আর নকল-যার কপালে যা জোটে। হয়তো নকল ভয়েই জীবন কেটে যায়, একটা গোটা জীবন-ছোট্ট জীবন, মিথ্যে জীবন।

    সত্যি হোক, মিথ্যে হোক, সে বড় সুন্দর। ঐ ভয়াল রানওয়ে আর তার করাল মায়েরা। তার খপ্পরে, পথিক, হে পথহারা, তোমাকে পড়তেই হবে।

    সন্দীপ একদিন উড়ে গেল। আর ফিরল না। সুবর্ণও, একদিন। তারপর শান্তনু। পার্থ কালো ও পার্থ সাদা, সৌম্য, শুভ্রদীপ, প্রসূণ, অভিরূপ।

    একদিন দেখলাম, শনি-রোববার বিকেলে আমাকে বাইক কিংবা সাইকেলের পিঠে চাপাতে কেউ আর আসে না। শুভ্রদীপদের রহড়ার বাড়ি খালি পড়ে থাকে, পিকাদার চায়ের দোকানে আমরা আর বসিনা, এইচ.বি.-র পূজামন্ডপেও না। খড়দা স্টেশনের চারনম্বর প্ল্যাটফর্ম, আহা, আমাদের ছাড়া কেমন থাকছে, কে জানে।

    অবাক হবার ঘোর কাটতে না কাটতেই দেখলাম, আমিও কোন ফাঁকে প্লেনে চড়ে বসেছি টুক করে। জানলার ধারেই সিট পেলাম, দেখলাম কেমন করে রাস্তা-পুকুরঘাট-মসজিদ-সাইকেলভ্যান-ট্রাফিক পুলিশ সমেত আস্ত বাংলাদেশটাই চোখের সামনে দিয়ে হাওয়া হয়ে যায়। অচেনা আকাশের মেঘ কেটে গেলে হিহি বরফের পাহাড়, মাঝ-মহাদেশের বালি আর ভূমধ্যসাগরের নীল জল আসে-যায় মেটান্যারেটিভের স্বত:সিদ্ধতায়; কিন্তু আমার তাতে কি-ই বা আসে-যায় !

    ডকুমেন্টেশনের খাতিরে লিখে রাখতে হবে রঞ্জিত জেমসের কথাও, টিপটিপে বৃষ্টিমাখা গোমড়া ইস্ট লন্ডনের মাথার ওপর দিয়ে জেট প্লেন উড়ে যেতে দেখে যে ঠেঁট ভোজপুরীতে বলে - বোম মেরে উড়িয়ে দিতে হয় এইসব যন্ত্রপাতিদের, এতদূরে এনে ফেলেছে। রাজীব তো ডাকাবুকো আর্মিম্যান ছিল, প্রত্যেকবার বাড়ি থেকে মেয়ের ফোন এলে সে-ও কেমন ভ্যাবলা মেরে যেত, ঘন্টাখানেক কথা বলত না কারো সঙ্গেই।

    মাঝরাত্তিরে হাড়ে কাঁপুনি লাগে, সকাল দশটার আগে ঘুম ভাঙতে চায় না কিছুতেই, সকাল দশটার আগে তো সূর্যের আলো-ও ফোটে না শীতের মাসগুলোতে। এইসবই হয় অসতর্ক কোনো সময়ে অসন্দিগ্ধ কোনো সবুজ মানুষ রানওয়ের পাশে কাশফুল দেখে দাঁড়িয়ে গেলে, তৃতীয় বিশ্বের এদেশে-ওদেশে। যেমন রাত্রির মধ্যযামে দিগন্তলীন বিলের মধ্যে নেশারুর মত ঘুরে বেড়ায় ধাঁধা লেগে যাওয়া মুসাফির, বিলের আত্মা যাদের ধরেছে, আর নীহার পড়ছে টুপটাপ।

    এখনো নীলগঞ্জ রোড ধরে তিনটে ছেলে কলেজ কেটে সাইকেল চেপে নারকোলি কুল পাড়তে যায় নিশ্চয়ই; বর্ষায় তেমনি ঝরঝর করে বাঁশঝাড়ে দাঁড়িয়ে ভেজে নিশ্চয়ই তারা, আর কানের পাশ দিয়ে অগণন মশা গুণগুণ করে উড়ে যায়। বন্ধুরা, তোমাদের জন্য রানওয়ে প্রতীক্ষা করে বসে আছে। নিশ্চিন্ত, তার তাড়া নেই।

    তাহলে রানওয়ের কাছেই ফিরে যাওয়া যাক। দমদমে। এমন একটুকরো খন্ড সময়ের স্লাইস নিশ্চয়ই কেটে বের করে নেয়া যাবে এখনো, যখন নেতাজী সুভাষচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যস্ততা নেই কোনো - হাজার হোক, দমদম তো আর জে. এফ. কে. কি হিথরো হয়ে যায় নি - যখন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অফিসার নিশ্চিন্তমনে মিনিট পাঁচেকের জন্য কফি খেতে খেতে সুন্দরী কোলিগের সঙ্গে ফ্লার্ট করতে পারে একটু। দিনের বরাদ্দ সব আন্তর্জাতিক উড়ানই ডানা মেলে ছেড়ে গেছে দমদম বিমানবন্দরের মাটি। যখন ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে যাচ্ছে এক আনমনা বেভুল, বেয়াক্কেলে হাওয়া।

    রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু কেউ - নেই শূন্যতা।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ২০ ডিসেম্বর ২০০৬ | ২১২২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • হুনপঁচাশ | 2607:fb90:ea0c:cd31:fc71:213d:589b:***:*** | ১৭ নভেম্বর ২০২৩ ০৫:২৯526171
  • আর এই লেখাটাও। কী মায়াময়, কী সুরেলা, বিষন্ন, অপূর্ব সুন্দর।
  • &/ | 151.14.***.*** | ১৭ নভেম্বর ২০২৩ ০৭:৫৩526172
  • হুনপঁচাশ, কত প্রত্নযুগের লেখাপত্র খুঁজে পাচ্ছি!!!!! :-)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন