এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  পরিবেশ

  • একটি সিনেমা, যোগেশ পাতিলের কিছু প্রশ্ন ও খাদ্য সুরক্ষা।

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | পরিবেশ | ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ২১৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • একটি সিনেমা,যোগেশ পাতিলের কিছু প্রশ্ন ও খাদ্য সুরক্ষা।
     
     
    খুব সম্প্রতি একটি ফিল্ম প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। নাম – দি ইন্ডিয়া স্টোরি - স্লো পয়জন ইন প্রোগ্রেস। সবুজ বিপ্লবের ফলে আধুনিক কৃষির অনিবার্য উপকরণ হিসেবে আমাদের খাবার পাতে প্রতিদিন মিশছে প্রাণঘাতী বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ - কখনো সার বা পুষ্টিবর্ধকের আকারে, আবার কখনও বা কীটনাশক হিসেবে রোগ পোকা দমনের নামে প্রয়োগ করা হয় কৃষিক্ষেত্রে। কৃষি - ফসল - খাদ্যের পথ ধরে এইসব ক্ষতিকর পদার্থ এসে জমা হচ্ছে আমার আপনার শরীরে। বিপন্ন হচ্ছে আমাদের শরীর, স্বাস্থ্য, জীবন। এমন‌ই এক গম্ভীর বিষয় নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন পরিচালক ডি.কে. চেত্তন। এই সিনেমার গল্পকার ও প্রযোজক হলেন সাগর বি সিন্ধে।প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজল আগর‌ওয়াল এবং শ্রেয়স তালপাড়ে সিনেমার দুই মুখ্য চরিত্র যথাক্রমে অর্চনা পাতিল এবং যোগেশ পাতিলের ভূমিকায়। ১৩০ মিনিটের এই ছবিটি এক কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের।
     
    আমাদের এই পোড়া দেশে ভেজালের অন্ত নেই। সব কিছুতেই নানান অনুপাতে মেশানো হয় ভেজাল দ্রব্য। যারা এই কাজটি করেন তারা জেনেশুনেই করেন বাড়তি মুনাফার আশায়। অথচ এই ভেজালের প্রতিক্রিয়া কতোটা মারাত্মক আকার ধারণ করে সে বিষয়ে চোখ উল্টিয়ে থাকেন তারা। চেত্তনের সিনেমায় একটি ছোট্ট মেয়ে পরী, এই মারাত্মক বিষক্রিয়ার প্রভাবে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। পাতিল দম্পতি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকার কারণেই তাঁদের ফুটফুটে মেয়ে পরী ক্যান্সারের শিকার হয়ে মারা যায়। শুরু হয় লড়াই আইনি লড়াই - battle for justice, ন্যায়বিচারের লড়াই। কাহিনি এগিয়ে চলে এই আইনি প্রক্রিয়ার পথ ধরে। এই কাহিনির মাধ্যমে পরিচালক একে একে উন্মোচিত করেন কীভাবে ক্ষতিকর কীটনাশক, কর্পোরেট লোভ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থাবা বসাচ্ছে আমাদের খাবারের পাতে, বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে আম আদমির স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রগতির মহার্ঘ্য প্রশ্নটিকে।বলা বাহুল্য দি ইন্ডিয়া স্টোরি নিছকই বিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়নি, এ এক নির্মম কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের সকলকে।
     
    একটু ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যাক্। গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই গোটা দুনিয়া জুড়ে গ্রীন রেভেলিউশন বা সবুজ বিপ্লবের ডঙ্কা বাজানো শুরু হয় বিখ্যাত রকফেলার ফাউন্ডেশন ও তাদের সহযোগী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দৌলতে। দেশে দেশে স্বপ্ন ফেরি করার পর্ব শুরু করে এইসব কোম্পানির কর্মকর্তারা – অনগ্রসর সাবেকি কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য সবুজ বিপ্লবের শরিক হতে হবে, ব্যবহার করতে হবে রাসায়নিক সার, ফসল সুরক্ষার জন্য কীটনাশক, নতুন উচ্চফলনশীল বীজের ব্যবহার, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির প্রয়োগ,কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন ইত্যাদি ইত্যাদি। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সেই সময় ভারতসহ বিশ্বের পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর সামনে ছিল খাদ্য সংকটের তীব্র ভ্রুকুটি। ফলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিছানো ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হলাম আমরা।
    একরকম অজান্তেই এক মারাত্মক বিষক্রিয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে প্রভাবিত হ‌ওয়া শুরু হলো সেই দিন থেকেই। আরও বেশি উৎপাদন, আরও বেশি মুনাফার আশায় আমরা জেনেশুনে বিষপান শুরু করলাম। প্রশ্ন জাগে, সরকার কি সেদিন উন্নয়নের নেশায় বুঁদ হয়ে নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নটিকেই বিপন্ন করেছিল? বিকল্প কিছু কি ছিলনা ?
     
    আজ এতো বছর পরেও প্রশ্নগুলো সমান প্রাসঙ্গিক হয়ে আমাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। সিনেমার মুখ্য চরিত্র যোগেশ পাতিল সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। তাঁর সুখের সংসারে নেমে এলো এক চরম বিপর্যয় যখন জানা গেল যে যোগেশের সাত বছরের ফুটফুটে মেয়ে পরী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে কোনো কার্পণ্য করেনি যোগেশ কিন্তু মেয়েটি মারা যায়। এভাবে অসময়ে মেয়ের চলে যাওয়াকে কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারেনি যোগেশ। মৃত মেয়ের শোকে ভেঙে না পড়ে যোগেশ নতুন করে লড়াই শুরু করে। কেন এমন অসময়ে মেয়ে পরী চলে গেল তার নেপথ্যে থাকা কারণ খুঁজে বের করতে সে উদ্যোগী হয়ে ওঠে।
     
    অনুসন্ধানের সূত্রে বিপুলসংখ্যক তথ্য প্রমাণ জোগাড় করে যোগেশ। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সাধারণ বৈজ্ঞানিক তথ্য বিচার বিশ্লেষণ করে সে বুঝতে পারে যে তার মেয়ের অপরিণত বয়সে মৃত্যু কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয় বরং তার পেছনে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং ভেজাল খাবার খেতে বাধ্য হ‌ওয়া যা খাদ্যের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন নিঃশব্দে শরীরে প্রবেশ করে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের।
     
    মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাইতে যোগেশ প্রথমে পুলিশ প্রশাসন ও সরকারি আমলাদের দ্বারস্থ হলেন। তারা এদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নীরবতা পালন করতে অভ্যস্ত, সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগ সম্পর্কে তাদের নিস্পৃহ মনোভাব সর্বজন বিদিত। যোগেশ বাধ্য হয়ে আদালতের কড়া নাড়েন।আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমে তিনি পাশে পেলেন এক উদ্যমী আইনজীবী অর্চনা পাতিলকে। যোগেশ একযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বহুজাতিক কীটনাশক কোম্পানি, দেশের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে যা রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।
     
    গ্রীন রেভেলিউশনের হাত ধরে এদেশে আমদানি করা হয়েছে কৃষিক্ষেত্রের এক ব্যথা করুণ পরিণতির কাহিনি। দি ইন্ডিয়া স্টোরিতে কেবলমাত্র স্ক্রিপ্টেড বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরা হয় নি, বরং তা একেবারে বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় আমাদের। এই সিনেমার পরিচালক প্রেক্ষাপটে রেখেছেন সবুজ বিপ্লবের শরিক হতে গিয়ে পঞ্জাবের ভয়ানক পরিণতির কথা। ভারতের মাটিতে সবুজ বিপ্লবের বীজ প্রথম বোনা হয়েছিল এই পঞ্জাবের মাটিতেই সেই ১৯৬০ এর দশকে। প্রারম্ভিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সেখানে ঢাকঢোল পিটিয়ে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হলো,ফলন বাড়লো, অচিরেই পঞ্জাবের মাথায় উঠলো নতুন শিরোপা – ভারতের রুটির ঝুড়ি। পঞ্জাবের সাফল্যের কাহিনির পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ অন্ধকার। পঞ্চতন্ত্রের সেই সোনার ডিম পাড়া হাঁসের গল্পের কথা মনে করুন। লাভের লোভ সামলাতে গিয়ে উজাড় হয়ে গেল রাজ্যের কৃষি। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার আর লাগামছাড়া কীটনাশকের প্রয়োগের ফলে পঞ্জাবের কৃষি জমি আজ অনুৎপাদনশীল বন্ধ্যা জমিতে পরিণত হয়েছে। ভৌম জলের যথেচ্ছ উত্তোলনের ফলে মাটি আজ উষর লবণাক্ত। পঞ্জাবের কৃষি আজ ধুঁকছে। এটাই বাস্তবতা।
     
    ডি কে চেত্তনের ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে আরও এক ভয়াবহ পরিণতির কথা – ক্যান্সার রোগীদের নিয়ে ভাতিন্দা ও বিকানীরের মধ্যে প্রতিদিন ছুটে চলা ক্যান্সার ট্রেনের কথা দর্শকদের শিহরিত করে। রোজ শয়ে শয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসার আশায় হাসপাতালের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। এই ঘটনা জানিয়ে দেয় যে মাটি একসময় বহু মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করেছে, বিষভারে আজ তাইই ঘরের মানুষদের বিষের ছোবল মারছে। হায়রে সবুজ বিপ্লব!
     
    চেত্তন তুলে ধরেছেন কেরলমের কাসাড়গড় জেলার ভয়ানক পরিণতির কথাও। একসময় কেরলম - কাসাড়গড় - কীটনাশক এন্ডোসালফান সমার্থবোধক হয়ে উঠেছিল। এলাকার কাজুবাদামের বাগিচায় সরকারি অনুমোদনে এই কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। কয়েক দশক ধরে এই প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা রেখেছে কাসাড়গড়ের কাজু বাগিচা পরিচালকরা। এর প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেল এলাকার শিশুরা জন্মের সময় শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মাচ্ছে, দেখা যাচ্ছে স্নায়ুতন্ত্রের জটিল সমস্যা, ক্যান্সার এবং জেনেটিক্যাল অসংলগ্নতা যা কয়েক প্রজন্ম ধরে বয়ে নিয়ে চলছে এই এলাকার লোকজন। এসব তো সিনেমার বানানো কাহিনি নয়, বাস্তব জীবনের ঘটনা। পরিচালক বাস্তবতা ও শিল্প ধারাকে সুসংহত ভাবে জুড়ে দিয়েছেন দি ইন্ডিয়া স্টোরির প্রতিটি ফ্রেমে। এসব দৃশ্য দর্শকদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে যায়, উদ্বিগ্নতা বাড়তে থাকে। একসময় তা থেকেই হয়তো জন্ম নেয় এক অসহায় ক্ষোভের, যেই ক্ষোভ আর বেদনার কারণেই সদ্য সন্তানহারা এক পিতা আদালতের দরজায় ঘা দিয়ে বলে উঠেছিলেন – আর কতকাল এই অসহনীয় বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ব‌ইতে হবে নিরপরাধ মানুষকে ?
     
    আসলে এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক,প্রযোজক, শিল্পী কলাকুশলীরা একটা গভীর সত্যকে তুলে ধরেছেন আমাদের সকলের কাছে – মানুষের লোভ আজ আমাদের মনুষ্যত্বকে ছাপিয়ে যাচ্ছে অবলীলাক্রমে। এই চলচ্চিত্র আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে অনিয়ন্ত্রিত লোভ আর মুনাফা অর্জনের তাগিদ তিল তিল করে মানুষের মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে নষ্ট করে ফেলেছে, কীভাবে আমরা সমস্ত নীতি নৈতিকতা আর মানুষী অনুভূতিগুলোকে হেলায় দূরে সরিয়ে রেখে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছি।
    এই ছবিতে চেত্তন দেখিয়েছন কৃষি রাসায়নিক উৎপাদনকারী এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না প্রকাশ করেই দিনের পর দিন সেগুলোর বিপণন করেছে। বাজারের ওপর অবাধ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কায়েম রাখতে গিয়ে তারা গোপন করেছে ল্যাবরেটরি রিপোর্ট, নির্বাক রেখেছে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের, জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে ঠাঁই দিয়েছে নিজেদের মুনাফার অনেক নিচে। এই সময়ের দুনিয়ায় কর্পোরেট মুনাফার কাছে মানুষের সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার দাবি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। লাভের লোভের মাত্রা বেড়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে কমছে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা।
     
    দি ইন্ডিয়া স্টোরিতে কেবলমাত্র কর্পোরেট সংস্থার নীচতা নয় উঠে এসেছে সরকারের অধীনস্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মেরুদন্ডহীন আত্মসমর্পণের বহু প্রচলিত কাহিনি। এদেশে জনস্বাস্থ্য উপেক্ষিত হয় রাজনৈতিক লাভালাভের হিসেবনিকেশের কাছে। মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে জেনেও প্রশাসনিক কর্তারা চোখ বন্ধ করে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগের ঢালাও অনুমোদন দিয়ে যায় কেবল কর্পোরেট বাবুদের কাছ থেকে উপঢৌকন প্রাপ্তির আশায়। হায়রে মানুষ!
     
    এই ছবিতে বাদ যায়নি কৃষকদের অসহায়তার কথাও। বাজারের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে কীভাবে তারা বাধ্য হয়ে বহুজাতিক ব্যবস্থাপনার অংশীদার হতে বাধ্য হচ্ছে, উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে যথেচ্ছভাবে রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগ করতে গিয়ে নিজেরা যেমন সর্বস্বান্ত হচ্ছে তেমনভাবে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে ক্রেতা সাধারণকে এসব‌ও উঠে এসেছে এই ছবির ক্যানভাসে। জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে আজ সকলেই এই দুষ্টচক্রের শিকার। কিছু পেতে হলে কিছু ছাড়তে হয় – এই সত্যটি এখানে নিদারুণ অভিজ্ঞতা হয়ে ফিরে এসেছে। এক শূন্যতার হাহাকারে ভরে উঠেছে আমাদের প্রতিবেশ। আর কতো মায়ের কোল খালি হলে আমরা সচেতন হবো?
     
    এই ছবিতে যোগেশ আদালতে দাঁড়িয়ে উচ্চকন্ঠে প্রশ্ন তুলেছেন – “আর কতো বিষভারে আমরা জর্জরিত করবো আমাদের ধরিত্রী মাকে? একটা সময় যা ছিল আমাদের বাধ্যবাধকতা, আজকেও কেন আমরা তাকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে হাত গুটিয়ে বসে থাকবো?” যে প্রশ্নগুলো ‘দি ইন্ডিয়া স্টোরি : স্লো পয়জন ইন প্রোগ্রেস’ আমাদের সামনে তুলে ধরেছে তার সত্যতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন সেগুলোর প্রতিবিধান করতে হবে তৎপরতার সঙ্গে কেননা এর মধ্যেই জড়িয়ে আছে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার গভীর প্রশ্নটি।
     
     
     
    তথ্যসূত্র
    ডাউন টু আর্থ পত্রিকা।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ২১৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Subrata Kumar Pal | ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৪৫742290
  • অত্যন্ত গুরুতর এক বিষয় সম্পর্কে মর্মস্পর্শী লেখা। আমাদের জেগে ঘুমানো বন্ধ হোক। সত্যটা প্রকাশিত হোক সকলের কাছে।
  • Somnath mukhopadhyay | ১৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:৫৭742295
  • নিজের সন্তানের অকাল মৃত্যু সবসময়ই অত্যন্ত দুঃখজনক, অপূরণীয় ক্ষতি। ছায়াছবির চরিত্র হলেও যোগেশ পাতিলের প্রতিবাদী চেহারা এক গভীর সত্যকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। গ্রীন রেভেলিউশনের প্রাথমিক সুবিধাটুকুকে বাদ দিলে বাকিটা সম্পূর্ণভাবে গ্রীড রেভেলিউশন বা লোভের বিপ্লবে পর্যবসিত হতে খুব বেশি সময় নেয়নি। সেই কর্পোরেট পাপের বোঝা আজ‌ও বয়ে চলেছি আমরা।
  • Ranjan | ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৬:১৭742298
  • আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ l
  • Somnath mukhopadhyay | ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৮742300
  • ধন্যবাদ কেন রঞ্জন দা? আমি বাড়তি কিছু করিনি তো!
  • সৌমেন রায় | ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১৬:২৯742302
  • গুরুতর বিষয়। দ্রুত জৈব কৃষিকে উৎসাহিত না করলে গোটা দেশের অবস্থা পাঞ্জাবের মত হবে।
     
    লেখককে ধন্যবাদ।বিভিন্ন পত্রপত্রিকার খবরগুলো তার সংবেদনশীল কলমে মূর্ত হয়ে উঠে। আমরা অনেক কথা জানতে পারি।
  • Somnath mukhopadhyay | ১৮ আগস্ট ২০২৬ ২৩:৩৭742308
  • এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পেতে হলে জৈব কৃষিকেই এই মুহুর্তে একমাত্র বিকল্প পথ বলে মনে হ‌ওয়াটা খুব স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে বটে কিন্তু সেখানেও ভাবনার অবকাশ রয়েছে। এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে হলে রাতারাতি সবটাকে বদলে ফেলা সম্ভব নয়। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধৈর্যসহকারে অনুশীলনের প্রয়োজন। সরকারি ঘোষণার দ্বারা এই বদল আনতে গেলে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে। ঘরের পাশের শ্রীলঙ্কা তার বড়ো প্রমাণ।
    এইসব ব্যাপারে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা হয়তো কম,তাই এখন আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড স্থায়ী আসন লাভ করে। একটা চলচ্চিত্র যদি এমন সংবেদনশীল বিষয়কে তুলে ধরতে পারে, তাহলে সরকারি আধিকারিক তথা কৃষি বিজ্ঞানীরা কী করেন? আজ মাসানবু ফুকোওকার কৃষি দর্শনের কথা মনে পড়ছে।
  • অভ্রদীপ | ২৩ আগস্ট ২০২৬ ২০:৫৯742364
  • কেবল ব্যবসায়িক মুনাফার লোভে ভয়ংকর পরিণতির দিকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে। ভারতের কথা তো বলাই বাহুল্য। এই সিনেমাটা খুঁজে দেখবো পাই কিনা। কেমন যেন অসহায় লাগে এসব ভাবতে গেলে। কিছুদিন আগেই সবুজ বিপ্লবের কুফল নিয়ে একটা ছোটো ভিডিও চোখে পড়েছিলো -

    অনেকটা এই লেখারই প্রতিধ্বনি।
  • Somnath mukhopadhyay | ২৩ আগস্ট ২০২৬ ২২:০১742365
  • অভ্রদীপ মন খোলা মতামতের জন্য ধন্যবাদ। গ্রীন রেভেলিউশনের এই পরিণতির পেছনে রয়েছে মুনাফার লোভ। তাই অচিরেই তা Greed Revolution হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার মাটির স্বাভাবিক উর্বরতাকে নষ্ট করে ফেলেছে। সেচের প্রয়োজনে ভৌম জলের অবাধ উত্তোলন মাটিকে করেছে লবণাক্ত। মুনাফার আশায় এই কাজ করতে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছি আমরা। বহিরাগত কৃষি যাপন আমাদের চিরচেনা ব্যবস্থাকে বাতিল করে দিয়েছে। আমাদের কৃষি সংস্কৃতি বিলকুল বদলে গেছে এই বিপ্লবের হাত ধরে। অনেক কিছুর বিনিময়ে আমরা সবুজ বিপ্লবের শরিক হয়েছি। বিশ্বপথে সবার সাথে পা মেলাতে গিয়ে পিছলে গিয়েছি আমরা। যা পেয়েছি তার থেকে হয়তো হারিয়েছি অনেক অনেক বেশি। একেই বোধহয় বলে নাকের বদলে নরুণ পাওয়া। কি আর করা যাবে?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন