এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  লিঙ্গরাজনীতি

  • শাপমোচন  ( মূল লেখকঃ পুধুমাই পিঠান)

    স্বাতী রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    লিঙ্গরাজনীতি | ০৬ এপ্রিল ২০২২ | ১৬৩১ বার পঠিত | রেটিং ৩ (১ জন)
  • পথের পাশে একটি প্রস্তরমূর্তি। সুচারু ভাবে খোদাই করা। দেখলে যেন বুড়ো, দুর্বল শরীরেও নতুন করে জীবনের সঞ্চার হয়। এতো মুর্তি নয়, যেন পাথরের গায়ে খোদাই করা স্বপ্ন! এমন দক্ষ ভাস্কর যে এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছেন এটা ভেবেই দর্শক বিগলিত হন! তবে মুর্তির চোখদুটোতে অবর্ণনীয় বেদনা জমাট বেঁধে আছে – দর্শকের মর্মে গিয়ে বেঁধে - তাদের সকল জাগতিক লালসার সেখানেই অবসান। এ তো ভাস্করের অপুর্ব কল্পনা নয়, এ যেন ভয়ানক অভিশাপের ফল – অকল্যা।

    বনের মধ্যে পথের ধারে পাথরে খোদাই করা দুঃখ-মুর্তি – প্রকৃতির কোলে একধারে পড়ে আছে। আর প্রকৃতি যেন যোগীর মতন নির্বিকারে তার সকল দুঃখ-বেদনার সাক্ষী হয়ে রয়েছেন। সুর্য আলো ঢালে। তুষারপাত হয়। বৃষ্টি ঝরে পড়ে। ধুলো, ময়লা জমা হয়, শালিক- পেঁচা এসে বসে আর তারপর উড়ে যায়। তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন – যেন এক অচেতন, অনুতপ্ত –একটা পাথরের মতন।

    কাছেই একটা উইঢিপি। ধ্যানমগ্ন গৌতম সেখানে তপস্যায় বসেছেন। চেতন জগতের সীমার বাইরে, দুঃখ কষ্ট সব ভুলে। প্রকৃতি তার প্রতিও একই রকম উদাসীন।

    অবলম্বনের অভাবে তাঁদের পরিবারটি আজ বিচ্ছিন্ন। একমাত্র আশ্রয়স্থল কুটিরটির ছাদও তেমনই ধ্বসে পড়েছে। পোকায় খাওয়া খুঁটি আর নেই। অস্তিত্বহীন হয়ে বাতাসে মিশে গেছে। দেওয়ালগুলোরও পড়ো-পড়ো দশা। পড়ে আছে শুধু বালির ঢিপি। দেখে মনে হয় যেন এক হৃদয়ে গেঁথে যাওয়া যন্ত্রণা চিহ্ন।

    অল্প দূরে গঙ্গার কলকলধ্বনি শোনা যাচ্ছে। মা গঙ্গা। তাঁদের অন্তহীন দুঃখের কথা তার কানে পৌঁছায় নি। নাকি পৌঁছেছে?

    এমন বহু যুগ পেরিয়ে গেল। এই দম্পতির জন্য।

    একদিন…

    দ্বিপ্রহরের তখনও দেরি আছে - সেদিন সূর্য যেন একটু বেশিই তেজ-ঝরানো। তবু সবুজ লতাপাতারা, তাদের ছায়া ও মৃদু বাতাস আলতোভাবে যেন মনের উপর শীতল পরশ বোলানর চেষ্টা করছে। ধর্মকথা যেমন সমগ্র বিশ্বের সকল জ্বালা যন্ত্রণা হরণ করতে চেষ্টা করে, সকলকে মনের জোর যোগায়, আশা জাগাতে চেষ্টা করে।

    হাতের কাজ ভাল ভাবে শেষ হয়েছে। সেই আনন্দের কথা ভাবতে ভাবতে বিশ্বামিত্র সিংহের মতন রাজসিকভাবে পথ চলছিলেন। মারিচ আর শুভাগুর কোন খবর নেই। তাড়কা, সেই দীর্ঘদিনের শত্রু মরেছে। ধ্যান-চিন্তা, যাগ যজ্ঞের মাধ্যমে যাঁরা ধর্মচর্চায় রত থাকেন, তাঁদের শান্তি ফিরিয়ে দেওয়া গেছে! এই কাজে অনুঘটক হতে পেরে তিনি আনন্দিত।

    মাঝে মাঝেই তিনি পিছন ফিরে দেখছেন। তাঁর চোখদটোতে কিসের যেন মায়া! দুটি বাচ্চা খেলে বেড়াচ্ছে। শিশুদুটি যে সে না – স্বয়ং রাম আর লক্ষ্মণ, সাক্ষাৎ শিশু অবতার। অসুরনিধন পর্ব শেষ করে তারা এখন খেলে বেড়াচ্ছে। এই কাজের গুরুদায়িত্ব কি তারা আদৌ বুঝেছে?

    তাদের ছুটোছুটিতে ধুলো উড়ছে। লক্ষ্মণ সামনে সামনে ছুটছে। তার পিছনে পিছনে ধাওয়া করেছে রাম। পাথরের মুর্তির উপর ধুলো উড়ে এসে পড়ছে…

    কেমন ধারা কাজ এটা? বিশ্বামিত্র মুগ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আর তাকিয়ে রইলেন। চুপ করে দাঁড়িয়েই রইলেন আর চেয়েই রইলেন।

    মুর্তির উপর ধুলোর সর পড়ছে।
    এই হৃদয় একদা স্তব্ধ, প্রস্তরীভূত হয়ে গিয়েছিল। মূর্তির অন্দরে আবার সে ধুকপুক করে উঠল। শোণিতস্রোত একদা এক জায়গায় থেমে গিয়েছিল, জমাট বেঁধে গিয়েছিল - তা আবার বইতে শুরু করল। পাথরের গায়ে জীবনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল। প্রস্তর পরিণত হল মাংসপিন্ডে। চেতনার পুনঃসঞ্চার হল।

    অকল্যা চোখ বন্ধ করলেন, আবার খুললেন। তিনি চেতনা ফিরে পেয়েছেন। শাপমোচন, শাপমুক্তি!

    হে ভগবান! এই নোংরা দেহ পুনরায় পবিত্র হল!

    কে এই দেবতা, যার দয়ায় আমি নতুন জীবন ফিরে পেলাম? সে কি এই বালক?

    অকল্যা বালকের সামনে মাটিতে সাষ্টাঙ্গে প্রণত হলেন। রাম বিস্ময়ে মুনিবরের দিকে তাকিয়ে রইল।

    বিশ্বামিত্র অবশ্য গোটাটাই বুঝতে পারছিলেন। মেয়েটি অকল্যা। সেই নিষ্পাপ কন্যা, যাকে ইন্দ্র ছদ্মবেশ ধারণ করে ছলনা করেছিল। ঋষি গৌতমের স্ত্রী, স্বামীকে সে এতই ভালবাসত যে গৌতমের ছদ্মবেশে তাকে প্রতারণা করাতে, সে নিজেকে কলুষিত মনে করেছিল। রামকে তিনি সব কথা খুলে বললেন। সেখানেই রয়েছে সেই উইঢিপি, গৌতম সেখানে ধ্যানমগ্ন। উর্ননাভ-জালিকার কেন্দ্রে আটক পতঙ্গ যেমন নিঃশব্দে শাস্তি ভোগ করে, তিনিও আত্মবিস্মৃত হয়ে ধ্যানে ডুবে আছেন। আহ … ওই যে নিজেই ধ্যানভঙ্গ করে উঠছেন।

    দীর্ঘ তপস্যার পরে তার চোখদুটি সদ্য উন্মোচিত। ধারালো ছুরিকার মতন তার চাহনি, ঘুরে ঘুরে সব দেখছে। শক্ত বলশালী দেহখানি যেন কঠিন ব্যায়ামের ফললব্ধ। রাজকীয় ভঙ্গীতে তিনি কাছে এলেন, স্বীয় স্ত্রীর পতনের লজ্জা থেকে নিজেকে এখনও মুক্ত না করতে পারা পুরুষের দ্বিধাও কি ছুঁয়ে আছে তাঁর পদক্ষেপকে?

    পুনরায় সেই একই দুঃখের জীবন? কেমন হবে শাপমোচনের পরের জীবন? এখনও তা ভাবার সময় হয়নি। এখনও সে অভিসম্পাত বিশাল দুর্গপ্রাকারসমান তার মনকে ঘিরে আছে। অকল্যার মনও ভয়ে কাতর।

    রামের শিক্ষা তাকে সব কিছুই ন্যায়ের দৃষ্টিতে দেখতে শিখিয়েছে। তার দৃষ্টি স্বচ্ছ। তবে অভিজ্ঞতার কাজলে এখনও তার চোখ শাণিত হয়নি। বশিষ্ঠের শিক্ষায় জীবনের যাবতীয় জড়ানো-প্যাঁচানো জটিলতার সঙ্গে পরিচয় হলেও আবিলতার পাঠ তাদের আয়ত্ত্ব হয় নি। সেই শিক্ষাই তারা পেয়েছে যা তাদের ধী’কে জীবনে নতুন পথে হাঁটার শক্তি দেয়।

    এই পৃথিবীর স্বভাবই হল অন্যায়ভাবে পক্ষ নেওয়া আর সকলকে সমস্যায় ফেলা। কর্ম যদিও মনের নিয়ন্ত্রণে থাকে না্‌, দৈহিক তাড়নার শক্তিও মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, তখন কেনই বা শুধু শুধু একজনকে শাস্তি দেওয়া! ওহ! মা গো – রাম কেঁদে ফেলে অকল্যার পায়ে পড়ল।

    দুই সাধুর মধ্যে একজন সাহসকে জ্ঞান বলে ধরেন, আরেকজন সহানুভূতিকে ন্যায়ের মুল বলে মানেন। দুজনেই রামের এইরকম চিন্তাভাবনার প্রকাশে খুব খুশি হলেন। কী লঘুভার, প্রেমময় নির্ভীক সত্য!

    বিশ্বামিত্র মৃদুস্বরে বললেন, “ ওঁকে এভাবে গ্রহণ করা তোমারই যোগ্য কাজ – উনি তো অন্তর থেকে কোন অপরাধ করেননি।“

    তাঁর যুক্তির সূক্ষ্মতার অভাব যেন ভিজে বাতাসে হালকা গন্ধের তফাৎ!

    গৌতম, তার স্ত্রী আর সেই খুঁটিবিহীন বালির পাহাড় একই জায়গা স্থানু হয়ে আছে। একটুও নড়েননি। একদা প্রাণহীন প্রান্তরে আবার জীবনের লক্ষণ ফুটে ওঠার চেষ্টা করছে।

    ঘটনার পরে অনেক ঝড় উঠেছিল। কশাঘাত করে তারা ঘটনার অভিমুখ বদলাতে চেয়েছিল। এখন সে সব স্তব্ধ। ওঁদের কি, নিদেনপক্ষে আজ বিকেলের মধ্যে, মিথিলা যাওয়া উচিত নয়? দাম্পত্য বন্ধন দুহাত বাড়িয়ে আমাদের আমন্ত্রণ করছে।

    গৌতম আর আগের মতন মন খুলে অকল্যার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। সেদিন যেভাবে বেশ্যা বলে তাঁকে অসম্মান-আহত করেছিলেন, তাতে যেন নিজেরও জিভ পুড়ে গেছে। কী বলবেন? কিই বা বলবেন?

    “কিছু লাগবে?” গৌতম জানতে চান। তার সকল বুদ্ধি-শুদ্ধি যেন আবেগের তরঙ্গে ভেসে গেল। পরে রইল শুধু এই অর্থহীন কটা শব্দ।
    “খিদে পেয়েছে” – অকল্যা বাচ্চাদের মত বলে উঠলেন।

    কাছের ফলবাগান থেকে গৌতম কটা ফল এনে দিলেন। নতুন বিবাহের পরে যে বাসনা আর মায়াবোধ তাঁর প্রতিটা কাজে ছুঁয়ে থাকত, সেই অনুভব শুধু এখনও তার কর্মে ও অঙ্গুলির দ্বিধার মধ্যে প্রস্ফুটিত।

    মনে মমতার উদ্গমের পরেই যদিও বিবাহ-বন্ধন দুজনকে জড়িয়ে নিয়েছিল, তবু সে সবই তো ছলনার উপর দাঁড়িয়ে। পবিত্র গোমাতাকে প্রদক্ষিণ করার পরেও একজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া। গৌতমের চিন্তা আবার অন্য দিকে ঘুরে গেল আর জ্বলে-পুড়ে মরতে লাগল।

    অকল্যার ক্ষুন্নিবৃত্তি হল।

    দুজনের মনই করুণায় দ্রব – তবু তাঁরা যে যার নিজের ভাবনার জগতে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

    তিনি কি এখনও গৌতমের স্ত্রী হওয়ার যোগ্য – এই হল অহল্যার ভাবনা।

    আর গৌতম ভাবছেন যে তিনি কি এখনও অকল্যার স্বামী হওয়ার যোগ্য?

    পথের দুপাশে ফুটে থাকা ফুলেরা তাদের দিকে চেয়ে মিটিমিটি হাসছে।
    ****

    পর্ব ২
    অকল্যার ইচ্ছামত, তাঁর বাসনানুসারে গৌতম একটি কুটির বানালেন। অযোধ্যার দুর্গে ওঠার যে ঢালু রাস্তা, তার থেকে অল্প দূরে, সরযূ নদীর তীরে। স্থানটি প্রায় মনুষ্য যাতায়াত-হীন। সেখানে গৌতম নিজেকে ধর্মচর্চায় ডুবিয়ে দিলেন। এখন অকল্যার উপরে গৌতমের পূর্ণ বিশ্বাস। যদিও সে ইন্দ্রের অঙ্কশায়িনী হয়েছিল, তবু তিনি তাঁর আনুগত্যে আর একটুও অবিশ্বাস করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, অকল্যা সতী। আর খুব ভাল করেই জানেন যে অকল্যা সংসারের খুঁটিনাটি না সামলালে তিনি মোটেই নির্বিঘ্নে ধর্মচর্চা করতে পারবেন না।

    অকল্যাও গভীর ভালবাসা দিয়ে ঘিরে রেখেছেন স্বামীকে। অতল ভালবাসা। তাঁর কথা ভাবলেই অকল্যার তনুমনে ভালবাসার ঢল নামে। নববধূবেলার মতনই। তবে বুকটা সেই যে পাথর হয়ে গিয়েছিল, এখনও সেই পাথর পুরো সরেনি। অকল্যা এমনভাবে থাকতে চান যাতে তাঁর উপর কারোর সন্দেহ না জাগে, অনবধানবশতঃও কেউ যেন তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখার সুযোগ না পায়। ফলে তার স্বাভাবিক চালচলন পালটে গেছে, ধরণধারণও বদলেছে। চারপাশের সবাইকেই যেন ইন্দ্র বলে মনে হয়। তাঁর মনে ভয় ঢুকেছে। আগের বাচনভঙ্গী, স্বাভাবিক চঞ্চলতা সবই উধাও। এখন একটা কথা বলার আগে তিনি হাজারবার বলা অভ্যাস করেন, মুখস্থ করেন, বিভিন্ন দিক দিয়ে বার বার কথাটাকে খুঁটিয়ে দেখেন আগে। এমনকি গৌতম একটা সাধারণ কথা বললেও তিনি চিন্তায় পড়ে যান, যদি সেকথার কোন অন্তর্নিহিত অর্থ থাকে!

    তাঁর জীবন যেন নরক!

    একদিন মারীসি এলেন। তার আগের দিন থাথেসি এসেছিলেন। বারাণসী যাওয়ার পথে মাধাঙ্কাও এসেছিলেন, গৌতমের সঙ্গে দেখা করতে। তাঁরা যতই সহানুভূতি ভ’রা, দরদ-মাখা কথা বলুন না কেন, অকল্যা কুঁকড়ে থাকেন। তাঁর নিজেকে খালি ছোট মনে হয়। এমনকি যেন অতিথির পরিচর্যার কথাও তাঁর মাথায় থাকে না। অন্য সকলে তাঁর দিকে স্বাভাবিকভাবে চাইলেও তিনি কারোর মুখের দিকে তাকাতে লজ্জা পান। কুঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকেন।

    গৌতমের দার্শনিক চিন্তাভাবনা এক নতুন মোড় নিল। ধর্মপথের সকল অন্তরায় তাদের জন্য, যারা নিজের অন্যায় কর্ম সম্বন্ধে সচেতন, অজান্তে করা কোন অপরাধ তো পাপ নয়। এমনকি যদি তার দরুণ মনুষ্য জাতি নিশ্চিহ্নও হয়ে যায়, তাও তো সেই কর্ম পাপ নয়। কর্মের সঙ্গে মনের সংযোগ থাকলে, সচেতন-ভাবে কৃত কর্মই একমাত্র অপবিত্রতার কারণ হতে পারে। সম্মিলিত শ্রমে পুনর্গঠিত, একদা-ধ্বস্ত কুঁড়ের মধ্যে বসে গৌতম এইসব সাত-পাঁচ ভাবছিলেন। তাঁর মনের মধ্যে আবার অকল্যার নিষ্পাপ ছবিই ফুটে উঠছিল। বরং তিনিই তাঁর যোগ্য নন। তাঁর ক্রোধ-সঞ্জাত অভিশাপের আগুন অকল্যাকে কলুষিত করেছে। গৌতম ভাবতে থাকেন।

    রাম আর সীতা মাঝে মাঝে সেই পথে আসেন। রথে চেপে, প্রমোদ-ভ্রমণে। সেদিনের শিশু-অবতারটি এখন বহু-আকাঙ্খিত যৌবন-রাজ্যে অভিষিক্ত। তার হাসি, কৌতুক সবই যেন ধর্মপথের চিরন্তন আলোকবর্তিকা। এই তরুণ দম্পতির পারস্পরিক সম্পর্ক ঠিক কেমন? এঁদের দেখলে গৌতমের নিজের অতীতজীবনের কথা মনে পড়ে।

    অকল্যার কাছে সীতা যেন একটা উচ্ছ্বল পারাবত – তাঁর মনের দুঃখের বোঝা হালকা করার জন্যই সীতার আগমন। তার হাসি, তার কথা যেন অকল্যার মনকে নির্মল করে। সীতা এলেই শুধু অকল্যার ঠোঁট দুটি হেসে ওঠে। চোখ আলোয় ভেসে যায়।

    বশিষ্ঠের ছায়ায় বেড়ে ওঠা রাম-সীতা কি এই রাজ্যের সকল আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্র নয়? সরযূ নদীর তীরে, বর্তমানে দুই ভিন-জগতের দুই বাসিন্দার মনে তাঁরা পুর্বের আনন্দ-হাসিগানের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

    অকল্যা নানান জায়গায় ঘুরতে যেতে ভালবাসে না। শুধু এক সীতার সঙ্গই তাকে খানিকটা মনের জোর জোগায়, তার বুকজোড়া দুশ্চিন্তার বোঝা একটু কমায়।

    তিনি অযোধ্যায় অভিষেক-অনুষ্ঠানে যেতে রাজি হয়েছেন। তবে কী কান্ডটাই না ঘটল রাজপ্রাসাদে! এক লহমার মধ্যে যেন দশরথ মারা গেলেন, রামকে বনে পাঠিয়ে দেওয়া হল, অশ্রুসিক্ত ভরতকে নন্দীগ্রামে পাঠানো হল।
    আর সবকিছু এমন ভাবে ঘটল, এত দ্রুত সমাপ্ত হল যেন এক অদম্য শক্তি এক ঝটকায় দাবার চাল দিয়ে একেবারে মাত করে দিল। মানুষের সাধ্য কি সেই শক্তির তল খুঁজে পায়!
    বশিষ্ঠ নজরে নজরে রেখে এঁদের বড় করেছেন, নিজের সবটুকু দিয়ে। একটি ন্যায়রাজ্যের প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তাঁর সব হিসেব ভুল হয়ে গেল। প্রজ্জলিত আলোকমালার বদলে শুধু একটি প্রদীপের ক্ষীণ শিখা টিমটিম করে জ্বলতে থাকল নন্দীগ্রামে।

    এইসঙ্গে এও বলা যায়, সরযূর তীরের কুটিরগুলি আবার ধূলিস্মাৎ হয়ে গেল। গৌতমের সকল ধর্মচর্চাও যেন বিধ্বংসী ঝড়ে তছনছ হয়ে গেল। আশার বিনাশে মনও শূন্য।
    আর অকল্যার কী হল? তাঁর অপরিমেয় শোককে কি আর কথায় প্রকাশ করা যায়! তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। খুবই দুর্বল হয়ে পড়লেন, নিদারুণ ক্লান্তিবোধে তাঁর জীবন ছেয়ে গেল। রাম বনবাসে গেছেন। তাঁর ছোট ভাইও দাদাকে অনুসরণ করেছেন। সীতাও গেছেন তাঁদের সঙ্গে। প্রস্তর-জীবনের বুক-ভরা অন্ধকার আবার নামছে হৃদয় চুঁয়ে। বুকের কন্দরে অসহ্য বেদনা জমাট বাঁধছে।

    ঊষালগ্নে মন্ত্রপাঠ শেষ করে গৌতম নদীর থেকে উঠে এলেন, কুটিরে প্রবেশ করলেন।

    অকল্যা তাঁর পদপ্রক্ষালনের জন্য ঘটিতে করে জল এনে দিলেন, তাঁর ওষ্ঠ কম্পমান।

    “এখানে আর থাকতে পারছি না, মিথিলায় যাই না কেন আমরা?”

    “আচ্ছা। তাহলে তৈরি হয়ে নাও। অনেকদিন হল, সদানন্দের সঙ্গে দেখাও হয় না।” – বলে গৌতম বাইরে গেলেন।

    দুজনে মিথিলার উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলেন। মনটা ভারি হয়ে আছে। গৌতম এক মুহুর্তের জন্য স্থির হয়ে রইলেন।

    অকল্যা পিছুপিছু আসছিলেন। তাঁর হাতটা ধরলেন। তারপর আবার হাঁটতে শুরু করলেন। একবার শুধু বললেন, “ভয় পেও না।“

    দুজনে মিথিলার দিকে চললেন।
    ***

    পর্ব ৩

    ভোরবেলা। দুজনে গঙ্গার পার ধরে হাঁটছেন।

    একজন নদীর জলে দাঁড়িয়ে মধুর স্বরে গায়ত্রী মন্ত্র জপ করছেন।

    মন্ত্রপাঠ সমাপ্ত না হওয়া অবধি দম্পতি পারেই অপেক্ষা করলেন।

    “সদানন্দ …” গৌতম ডেকে উঠলেন।

    “বাবা! মা!” – সে যে কী খুশি তাঁদের দেখে! সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করল।

    অকল্যা তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। তাঁর বুকের মধ্যে দপদপ করছে। তার আদরের ধন, সদানন্দ কবে এত বড় হয়ে গেল? দাড়ি-গোঁফ-ওলা মুনিঋষিদের মত, যেন একজন বাইরের লোক?
    পুত্রের দেবোপম শোভা গৌতমকে সুখী করল।

    সদানন্দ তাঁদের দুজনকে ঘরের ভিতরে নিয়ে গেল।

    তাঁদের জলযোগের ব্যবস্থা করে, সদানন্দ তত্ত্বালোচনার উদ্দেশ্যে জনকরাজার প্রাসাদের দিকে রওনা দিলেন।

    গৌতমও চললেন, ছেলের সঙ্গে সঙ্গে। পুত্রটিও পিতৃসঙ্গলাভে খুশি। অবশ্য রক্তের সম্পর্ক তো, তাই সে পিতার জন্য চিন্তিতও। অনেকটা পথ হাঁটতে হবে আবার! দীর্ঘ তপস্যাতেও যদিও পিতার পেশির জোর কমে নি, তবু আবার এতটা পথ হাঁটা! পথশ্রম কি তাঁকে ক্লান্ত করবে? পিতা অবশ্য তবুও চললেন, ছেলের সঙ্গে। পুত্র পিতার নতুন দর্শন ভাবনার বিষয়েও জানতে ইচ্ছুক।
    মিথিলার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন গৌতম। বুঝলেন, অযোধ্যাতে যে মানসিক অবসাদ ও শোক অনুভব করেছিলেন, সেই একই ক্লান্তিবোধ এখানেও কৃষ্ণছায়া ফেলেছে। তাঁর চেপে-রাখা দীর্ঘশ্বাস সবার অলক্ষ্যে বাতাসে মিশে গেল।

    লোকজন আসছে, যাচ্ছে। কাজকর্মের দেখাশোনা করছে। সবই চলছে নিখুঁত যন্ত্রের মতন। কোনকিছুকেই আঁকড়ে ধরা নেই, কোন আসক্তিও নেই।

    পুণ্যসলিল-বাহক হস্তিদের চলায় কোন ছন্দ নেই। তাদের সঙ্গী পুরোহিতের মুখেও কোন দৈবী আনন্দের প্রকাশ নেই।

    দুজনে রাজার বিতর্কসভায় প্রবেশ করলেন। দরবারকক্ষে যেন জনসমুদ্র। এই হট্টমেলায় কিভাবে দার্শনিক আলোচনা সম্ভব? গৌতম ভাবতে লাগলেন। যদিও তার ভাবনাটি ভুল।

    জনকরাজা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দুজনকে দেখতে পেলেন।

    তিনি দ্রুত তাঁদের নিকটে এলেন, সমাদর সংবর্ধনা জানিয়ে, নিজের পাশে তাঁকে বসতে আহ্বান করলেন।

    জনকের মুখেও দুঃখের ইশারা। তবে তার কথায় বেদনার ছোঁয়া নেই। বোঝা যাচ্ছে, তাঁর মন এখনও ভারসাম্য হারায়নি।

    গৌতম একটু দ্বিধায় পড়লেন, কী নিয়ে যে কথা বলবেন!

    “সাম্রাজ্যের পত্তন করেছেন যখন, বশিষ্ঠ সেখানে আবেগের বহিঃপ্রকাশের কোন জায়গা রাখেননি।“ জনক মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললেন।

    জনকের কথাগুলো মন ছুঁয়ে গেল।

    “আবেগের ঘূর্ণিপাক থেকেই সত্য জন্ম নেয়” – গৌতম বললেন।

    “এমনকি দুঃখও জন্ম নেয় আবেগ থেকে, যখন মানুষ আর বোঝে না যে আবেগকে কিভাবে কাজে লাগাবে। রাজ্য তৈরির কালে, সেই আবেগের জন্যও কিছুটা জায়গা রাখা প্রয়োজন। নাহলে রাজত্ব টেঁকে না। “ জনক নিজের মতামত জানালেন।

    “এই রাজ্য আপনার?” গৌতম কৌতূহল প্রকাশ করলেন।

    “আমি শাসক নই - শুধু শাসন-পদ্ধতিটি বোঝার চেষ্টা করি।” জনক উত্তর দিলেন।

    দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

    “দর্শনমার্গের কোন পথটি আপনার?” জনক মৃদুস্বরে জানতে চাইলেন।

    “আমি এখনও যাত্রা শুরু করিনি। এইবার বোঝার চেষ্টা করব। জীবনের ধাঁধা সকল বোধকে আবছা করে বড্ড বাধা তৈরি করে।“ – বলে গৌতম উঠে দাঁড়ালেন।

    পরের দিন থেকে আর তিনি জনকের দরবারে গেলেন না। তার ভাবনাগুলো পর্বতপ্রমাণ ধন্দের মধ্যে দিনরাত ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই জট ছাড়াতে নির্জনতা প্রয়োজন। তবে তিনি তো এখন একাকীত্বের সন্ধানে যাত্রা করতে পারবেন না। অকল্যাকে তিনি কোনওরকম আঘাত দিতে চান না।

    পরের দিন, জনক কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলেন, “মুনীশ্বর কোথায়?”

    “তিনি আমার গৃহের সম্মুখের অশোকবৃক্ষের ছায়ায় বসে সময় অতিবাহন করছেন।” সদানন্দ উত্তর দিলেন।

    “ধ্যান করছেন?”

    “ না, ভাবছেন।“

    “এখনও ঢেউ ওঠা বন্ধ হয়নি।“ জনক শান্তভাবে নিজের মনেই বিড়বিড় করলেন।
    **
    নদীতে স্নান করতে অকল্যা বড় ভালবাসেন। ভোরবেলায় কলস কাঁখে নদীতে যাওয়াই তাঁর অভ্যাস। আশা করেন যে সেসময় গঙ্গার ধারে শান্তি বিরাজমান থাকবে।
    স্নান সেরে জল নিয়ে ঘরে ফেরেন। মনকে প্রবোধ দেন যে আগামী কটা দিন অন্তত একটু শান্তিতে কাটবে। এই ক’দিন অন্তত তাঁর ভাবনাচিন্তাগুলি ডালপালা মেলে যেদিকে খুশি পাড়ি জমাক – তাদের আর বেঁধে বেঁধে রাখতে হবে না।

    সে আশার মেয়াদ অবশ্য বেশিদিনের না।

    স্নানান্তে মাথা নিচু করে নিজের মনে একথা ওকথা ভাবতে ভাবতে অকল্যা বাড়ি ফিরছিলেন।

    সামনে নূপুরের শব্দ কানে এল। নিশ্চয় কোন ঋষিপত্নী হবেন - স্নান করতে নদীতে যাচ্ছেন। অকল্যাকে দেখেই তাঁরা ছুটে পালালেন, যেন তিনি একজন অচ্ছূৎ। কড়া চোখে তাঁর দিকে তাকিয়েই সবাই দ্রুত চলে গেলেন।

    “সেই যে সেই মেয়েটা… অকল্যা” – দূর থেকেও তাদের কথা শোনা গেল। সেই দিন গৌতমের অন্তরে যে অভিশাপের আগুন জ্বলে উঠেছিল, তাতে তিনি জ্বলেপুড়ে গিয়েছিলেন। তবু সে যন্ত্রণার থেকেও বেশি জ্বালা এইসব কথায়।

    তাঁর মনে যেন শ্মশানের চিতা জ্বলে উঠল। ভাবনাচিন্তা লোপ পেল। “হায় ভগবান, অভিশাপের থেকে মুক্তি পেয়েছি বটে, পাপের থেকে কি আর কোনদিন মুক্তি পাব? “ – কাঁদতে কাঁদতে ভাবলেন অকল্যা।

    যন্ত্রমানবীর মত গৌতম আর সদানন্দকে খাবার পরিবেশন করলেন। “পেটের ছেলে পর হয়ে গেছে, পরেরা হয়েছে শত্রু। তাহলে কেন মরতে এখানে রয়েছি? “ এই কথাটাই বার বার তাঁর মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগল।

    এদিকে গৌতমও মাঝেমাঝে একেক দানা খাবার মুখে দিচ্ছেন আর বাকিটা গভীর চিন্তায় ডুবে আছেন- মাঝে মাঝে শুধু যেন চেতনা ফিরে পাচ্ছেন।

    তাঁদের দুজনের মনের অশান্তি পরিবেশকে ভারি করে তুলল। সদানন্দেরও যেন দমবন্ধ হয়ে আসছে।

    সেই ভার লঘু করার জন্য সদানন্দ বলে উঠলেন, “অত্রি ঋষি এসেছেন জনকের সঙ্গে দেখা করতে। অগস্ত্য মুনির সঙ্গে দেখা করে তারপর এখানে এসেছেন। তিনি তো হিলাময়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। রাম সীতা অগস্ত্যকে ভক্তি করেন। অগস্ত্য তার আশ্রমেই রাম সীতাকে থাকতে বলেছেন, সে বেশ ভাল আশ্রম। এখন তাঁরা ওখানেই আছেন, যা বুঝলাম।“

    “আমরা কি তীর্থযাত্রায় যেতে পারি না?” অকল্যা মৃদু কন্ঠে প্রশ্ন করল।

    “চলো” গৌতম হাত ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।

    সদানন্দ জানতে চাইল, “এখনই?”

    “এখন কি অন্যক্ষণ, তাতে কী-ই বা আসে যায়?” গৌতম নিজের কমন্ডলু গুছিয়ে সদর দরজার দিকে তাকালেন।

    অকল্যা তাঁকে অনুসরণ করলেন।

    সদানন্দের মন দুঃখে ভরে গেল।
    ***

    পর্ব ৪

    সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। দিনের ছায়া ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিশে যাচ্ছে। সরযূর তীর ধরে তাঁরা দুজনে অযোধ্যার দিকে চলেছেন।

    ইতিমধ্যে চৌদ্দটি বছর চলে গেছে, কালের অনন্ত প্রবাহে মিশে গেছে। এমন কোন সাধু নেই যাঁর সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি। এমন কোন পবিত্র জায়গা নেই যা তাঁরা দর্শন করেননি। তবু তাঁরা শান্তি পাননি।

    তুষারাবৃত শৃঙ্গে দাঁড়িয়ে কৈলাশ পর্বতকে পুজো করেছেন, অশক্ত মানুষের পক্ষে সে স্থান দুরধিগম্য। শৈবদর্শন-আশ্রয় যেমন স্বল্পধী জনের অনায়ত্ত।

    অসীম হতাশা-জড়ানো মরুভূমি পেরিয়েছেন – তাঁদেরই দুঃখভার যেন সে প্রান্তরের প্রতি বিন্দুতে লেখা।

    লাভাবর্ষী আগ্নেয়গিরি পড়েছে পথে, অনন্ত দহনের আসন সেখানে, তাঁদের হৃদয়ের মতনই।

    সমুদ্র দেখে এসেছেন। একের পর এক ক্লান্তিহীন ঢেউ এসে তটের উপর আছড়ে পড়ছে –তাঁদের মনের মতন অশান্ত।

    ঢেউ খেলান প্রান্তর পেরিয়েছেন – তাদের জীবনের পথের মতনই বন্ধুর সেই স্থান।

    “আর কদিন পরেই রাম ফিরবে। তারপর আমরা আবার নতুন জীবন ফিরে পাব” – শুধু এই আশা এই দম্পতিকে এখানে নিয়ে এসেছে।

    তাঁরা ফিরে এলেন। যেখানে তাঁদের কুঁড়েটি ছিল। চৌদ্দ বছর আগে এখানেই তাঁরা ঘর বেঁধেছিলেন। এখন কুটিরটি ভগ্ন, ধূলিশয়ান।

    গৌতম কোনক্রমে ঘরটি সারিয়ে নিলেন, অন্তত রাতটুকু কাটানর মত একটা ব্যবস্থা করে নিলেন। কাজ যখন শেষ হল, তখন আকাশে শুকতারা ফুটে উঠেছে।

    দুজনেই সরযূ থেকে স্নান করে এলেন।

    অকল্যা পতিসেবা শুরু করলেন। আর সেইসঙ্গে রাম সীতার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা। দুজনেই অনেকদিন ধরে উন্মুখ হয়ে আছেন। তবু কালের আখরে লেখা বিধানকে কি অতিক্রম করা যায়!

    একদিন অকল্যা ঊষালগ্নে স্নানে গেছেন।

    তার উল্টোমুখে এক বিধবা স্নান সেরে ফিরছেন। কে তা ঠিক ঠাহর করতে পারলেন না। তবে উল্টোদিকের মানুষটি তাঁকে চিনতে পারলেন। দ্রুতপদে তাঁর সামনে এসে মাটিতে দন্ডবত শুয়ে প্রণাম করলেন।

    আরে! এ যে রানী কৈকেয়ী! কোথায় গেল তাঁর সখিবাহিনী! এখন তিনি এক একাকিনী সন্ন্যাসিনী।

    মাটিতে কলস নামিয়ে রেখে তিনি কৈকেয়ীকে তুলে ধরলেন। কৈকেয়ীর কাজের হেতু তিনি বুঝতে পারছেন না।

    “ন্যায়রাজ্য প্রতিষ্ঠার নেশায় ভরত আমাকে তার মনের মধ্যে স্থান দিতে ভুলে গেছে। “ কৈকেয়ী বললেন।

    তার গলায় কোন রাগের চিহ্ন নেই। ক্ষিপ্ত ক্রোধও নেই। তিনি যে কৈকেয়ীকে চিনতেন, সে অন্য মানুষ। আর এই কৈকেয়ী, যাকে তিনি এখন দেখছেন, সে অন্যজন। অকল্যা শুধু দেখতে পেলেন, অবলম্বনহীন লতার মতন এক হৃদয়।

    দুজনে দুজনকে জড়িয়ে ধরেই নদীর দিকে চললেন।

    “ন্যায়পরায়ণতার প্রতি ভরতের এরকম একগুঁয়ে মনোভাবের জন্য কে দায়ী? “ অকল্যা প্রশ্ন করলেন। তাঁর ঠোঁটের কোণে একটা হালকা সদয় হাসি ফুটেই মিলিয়ে গেল।

    “যদি কোন শিশুর হাতে জ্বলে ওঠা আকস্মিক আগুনে একটা গ্রাম পুড়ে যায়, তাহলেও কী আমরা শিশুটিকে মেরে ফেলতে পারি?”

    অকল্যা মনে মনে ভাবলেন যে শিশু আর আগুনের মধ্যে একটা বেড়া তো থাকা দরকার। মুখে বললেন, “যা পুড়ে গেছে সে তো পুড়েই গেছে।“ “পোড়া জায়গাটা পরিষ্কার না করে, সেই ছাই এর গাদার পাশেই বসে থাকা কি ঠিক কাজ?” কৈকেয়ী প্রশ্ন করলেন।

    “ছাই সরান’র মানুষ তো আর ক’দিনের মধ্যেই আসবে, তাই না? “ অকল্যা বললেন।

    “হ্যাঁ” – কৈকেয়ী বললেন। তার গলায় পরিপুর্ণ প্রশান্তির ছোঁয়া। শুধু যে ভরত একা রামের অপেক্ষায় আছে, তা না। কৈকেয়ীও তাঁর আশায় আছেন।

    পরের দিন যখন অকল্যার সঙ্গে তাঁর দেখা হল, তাঁর মুখ শুকনো। বিষণ্ণ মন।

    “রামের খোঁজে চারিদিকে চর পাঠান হয়েছিল। তার কোনও খবর নেই। কেমন করে তারা চল্লিশ দন্ডের মধ্যে এসে পৌঁছাবে? ভরত বলেছে, সে আগুনে ঝাঁপ দেবে। অগ্নিকুন্ড তৈরি হচ্ছে। “, কৈকেয়ী বললেন।

    রাজ্যের প্রতি নিজ বাসনার প্রায়শ্চিত্ত-স্বরূপই ভরত অগ্নিতে আত্মাহুতি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে, এটাই তাঁর দৃঢ় ধারণা। তাঁর কথা শুনেই সেটা বোঝা গেল।

    অল্পক্ষণ নীরব থাকলেন কৈকেয়ী, তারপর আবার বললেন, “ আমিও আগুনে ঝাঁপ দেব। তবে একা, চুপিচুপি”। প্রতিজ্ঞার তেজে দীপ্তিময় তাঁর মন।

    চৌদ্দ বছর পরেও সেই একই আবেগের চোরাটান! অযোধ্যার উপর নেমে আসা অভিশাপের মেঘ কি তাহলে এখনও সরেনি?

    অকল্যার বুকের মধ্যে যেন একশ ঢেঁকি পাড় পাড়ছে – তবে কি এইসব তারই অভিশাপের ফল? তার সন্দেহ আর ঘোচে না!

    “বশিষ্ঠকে বললে হয় না, ভরতকে থামানর জন্য?” অকল্যা জানতে চাইলেন।

    কৈকেয়ী উত্তর দিলেন, “ভরত শুধু ন্যায়ধর্ম মানে, বশিষ্ঠকেও নয়।”

    “যে ন্যায়ধর্ম মানুষকে ধর্তব্যের মধ্যে আনে না, সে তো মানুষের পরম শত্রু।“ অকল্যা রাগে ফুঁসে উঠলেন।

    একটাই আশা যদি ভরত তাঁর স্বামীর কথা শোনে! তাঁর ভয় যে মনোকষ্টের রথের চাকায় অযোধ্যা যেন দলিত না হয়।

    গৌতম ভরতের সঙ্গে কথা বলতে রাজী হলেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হল না।

    তবে ভরতকে গ্রাস করার ইচ্ছে অগ্নিদেবেরও ছিল না। হনুমান এসে পৌছাল। আগুন নেভান হল। সকল দুঃখচিহ্ন মুছে গেল। উল্লাসময় উন্মাদনায় দশ দিক মেতে উঠল। সর্বত্র ন্যায়ের জয় ঘোষণা হল।

    বশিষ্ঠের গোঁফের ফাঁকে এক অদৃশ্য হাসি নেচে উঠল – চৌদ্দ বছর পরে হলেও অবশেষে তাঁর স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার পথে।

    আনন্দের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে গৌতম ফিরলেন, ভাবলে ভাবতে এলেন যে তাঁর আর কিছু করণীয় নেই।

    অকল্যার মনে খুশির অন্ত নেই – রাম সীতা তার সঙ্গে দেখা করতে আসবে। সব উত্তেজনা, হৈচৈ থিতিয়ে এলে রাম-সীতা তার কাছে এলেন। সঙ্গীসাথী, দলবল ছাড়াই।

    রথের থেকে তাঁরা নামলেন। রামের কপালে অভিজ্ঞতার রেখা আঁকা। সীতাও অভিজ্ঞতায় প্রস্ফুটিত কুসুমের মত ঝলমল করছেন। দুজনের হাসি যেন এক্সুরে বাঁধা – স্বর্গের সুধা মাখা।

    গৌতম রামকে নিয়ে হাঁটতে গেলেন।

    অকল্যা সীতাকে ঘরের ভিতর নিয়ে গেলেন। গর্ভজাত কন্যার জন্য মায়ের মনে যত স্নেহ থাকে, সেই সবটুকু ভালবাসা সীতার উপর ঝরে পড়ছে। দুজনে সহাস্যে মুখোমুখি বসলেন।

    সীতা তাঁকে সবকিছু বললেন- রাবণ কেমন করে তাকে অপহরণ করেছিল, তাঁর যন্ত্রণা, তাঁর উদ্ধারপর্ব – তবে খুব একটা করুণরস নেই সেই বিবরণে। রামের কাছে ফিরে আসতে পেরেছেন, আর সীতার কিসের দুঃখ!

    সীতা অগ্নিপ্রবেশের ( আগুনে ঝাঁপ দেওয়া) কথা বললেন। অকল্যা ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন।

    “ও তোমাকে বলেছিল? তুমি এটা কেন করলে?” তিনি সীতাকে প্রশ্ন করলেন।

    সীতা শান্ত ভাবে উত্তর দিলেন, “উনি বলেছিলেন। তাই।“

    “রাম বলেছে?” অকল্যা চেঁচিয়ে উঠলেন। তার চোখের সামনে কান্নকিকে (১) নিয়ে পাগলামো ভেসে উঠল।

    অকল্যার জন্য এক রকম বিচার আর গৌতমের জন্য? অন্য রকম?

    এটা কি ছলনা নয়? তাই গৌতমের অভিশাপ এক রক্তমাখা বিচার। তাই না?

    দুজনে অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন।

    “আমারই তো পৃথিবীর কাছে প্রমাণ দেওয়ার ছিল, তাই না? “ সীতা আবছা হেসে বললেন।

    “হৃদয় যদি সত্যিটা জানে, সেটাই তো যথেষ্ট। নয় কি? সত্য কি আমরা কেউ বিশ্বের সবার সামনে কখনো প্রমাণ করতে পারি?” অকল্যা ফুঁসে উঠল। আর কোন কথা নেই।

    “আর যদি তুমি এমনকি কিছু প্রমাণও করো, সেটাই কি সত্যি হবে, এমনকি যদি সেই সত্যি তোমার অন্তরের অন্তঃস্থল অবধি না পৌঁছায়? যাক গে, বাদ দাও। সেই পৃথিবীটাই বা কারা, যাকগে”, অকল্যা শুধালেন।

    বাইরে গলার স্বর শোনা গেল। গৌতম আর রাম ফিরেছে্ন।

    সীতা বেরিয়ে এলেন, প্রাসাদে ফিরতে হবে। অকল্যা বাইরে এলেন না।

    রামের বুক জ্বলে যাচ্ছে। তার পায়ের উড়ে আসা ধুলোকণাও যেন জ্বালা ধরাচ্ছে।

    রথ চলতে শুরু করল। চাকার শব্দ ক্রমশঃ ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হল।

    গৌতম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চিন্তায় ডুবে গেলেন। ত্রিশঙ্কুদের দেশ দেখতে পাচ্ছেন, নিরালম্ব ভাবে ঝুলেই আছে।

    বিদ্যুৎচমকের মতন একটা নতুন ভাবনা তাঁর মাথায় দেখা দিয়েই মিলিয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে। মনের বেদনা কমিয়ে আগেকার নৈকট্য ফিরিয়ে আনার জন্য আরেকটি সন্তানের জন্ম দিলে কেমন হয়? সন্তানের কচি আঙ্গুলের ছোঁয়ায় কি মায়ের মনের যন্ত্রণা কমবে না?

    তিনি ঘরে ঢুকলেন।

    অকল্যা চেতনা হারিয়ে পড়ে আছেন। আবার ইন্দ্রের আখ্যানের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত, সেই ইন্দ্রের ঘটনা – যা ভুলে যাওয়ার কথা। তাঁর মনের মধ্যে সেই নাটকই অভিনীত হয়ে চলেছে।

    গৌতম তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন।

    তাঁর মনে হল যেন ইন্দ্রই এসেছেন, গৌতমের ছদ্মবেশে। তার হৃদয় আরও পাষাণ হয়ে গেল। কী শান্তি!

    একটি প্রস্তরমূর্তি পড়ে রইল গৌতমের আলিঙ্গনে।

    অকল্যা আবার পাথর হয়ে গেছেন।

    অবশেষে হৃদয়ের সব জ্বালা জুড়লো।
    ****
    একজন মানুষ কৈলাশ পাহাড়ের দিকে হেঁটে চলেছেন, বরফের মরুভূমি পেরিয়ে। তার চরণদুটি বিষাদের নির্মমতায় কঠিন।

    তিনি গৌতম।

    তিনি পুণ্যবান হয়ে গেছেন।




    ১) কান্নকি, তামিল মহাকাব্য সিলাপ্পাধিকরম (Silappadikaram) এর কেন্দ্রিয় চরিত্র। ইনি 'মহাসতী' ছিলেন। স্বামীর সব রকম বিশ্বাসহীনতা সত্ত্বেও তাঁকে ছেড়ে যাননি। স্বামীকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়ার জন্য এঁর অভিশাপে মাদুরাই নগর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বলাই বাহুল্য ভারতীয় পিতৃতান্ত্রিক সমাজে কান্নকির মতন 'সতী' মেয়েরাই রোলমডেল। অন্তত এই গল্প যে সময়ে লেখা সেই সময়ে তো বটেই।
    অনুবাদকের কৈফিয়ত ঃ সি ভিরুথাচলম। ১৯০৬- ১৯৪৮। অবশ্য এই নামে ওঁকে কম লোকই চেনে। ইনি বরং পরিচিত পুধুমাইপিঠান নামে। তামিল সাহিত্যের এক বিশিষ্ট লেখক। স্বল্পস্থায়ী জীবনে প্রায় শতখানেক ছোটগল্প লিখেছেন। সেই সঙ্গে প্রবন্ধ ইত্যাদি। সাহিত্য একাদেমি ওঁর ছোটগল্পের একটি সংকলন বার করেছে। সেটি দেখার সৌভাগ্য হয়নি। Saba Vimochana ওঁর লেখা একটি বিখ্যাত ছোটগল্প। ইন্টারনেটে এই গল্পের একটি K Sarvanan কৃত অনুবাদ পড়ে অসম্ভব মুগ্ধ হই। গল্পের জোরালো বক্তব্য ভাষার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে এসেছে। সেই ইংরাজি অনুবাদের থেকে বাংলায় অনুবাদের চেষ্টা এই গল্প। দুধের স্বাদ অবশ্যই ঘোলে মেটে না। তাই এই অনুবাদের অনুবাদ পড়ে যদি কেউ এই লেখকের সৃষ্টি সম্বন্ধে উৎসুক হন সেটাই এই অনুবাদকের প্রাপ্তি হবে।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • লিঙ্গরাজনীতি | ০৬ এপ্রিল ২০২২ | ১৬৩১ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    Jealousy  - Srimallar Speaks
    আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০৬ এপ্রিল ২০২২ ১৬:২৬506073
  • সেই গল্পটা
  • Amit | 49.*.*.* | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ০৯:১০506100
  • আপনার লেখা আমার বরাবরই ভালো লাগে।
    এটা যেহেতু তামিলের অনুবাদ তাই কয়েকটা টিপিক্যাল ব্যাপার জানাই। তামিলদের উচ্চারণ একটু অন্যরকম।
    প্রথমত ওদের ক, খ, গ, ঘ এগুলো সবই 'ক'। মানে প্রথম বর্ণ। একই ভাবে চ, ছ, য, ঝ - সব 'চ', ত, থ, দ, ধ - সবই 'ত'। তাই আমাদের গোমাতা ওখানে ইংরিজি বানানে 'কোমাতা' লেখা হয়। অমিত কে ওরা লিখবে AMITH. T কে 'ট' উচ্চারণ করে আর TH কে 'ত'। তাই এই লেখকের নাম 'পুদুমাইপিতান'। DU হল 'ডু' আর DHU হল 'দু'। হিন্দি দিল হয়ে যায় DHIL। 'ঢিল' নয়। ঘোষ বা নাদ বর্ণ উচ্চারণ করতে পারেনা। 'খানা খাও' কে 'কানা কাও' বলাই হয়।
    আরেকটা মজার জিনিস হল শব্দের মাঝখানে H থাকলে উচ্চারণ করে 'গ' বা 'ক'। রাহুল হল রাগুল, মহেশ হল মগেশ, 'সুহানা' সফর গান গায় 'সুগানা' সফর বলে। সেইভাবে ওরা অহল্যা কে 'অগল্যা' বা 'অকল্যা' বলবে।
  • Swati Ray | 117.*.*.* | ০৭ এপ্রিল ২০২২ ১৪:০৭506110
  • থ্যাংক ইউ অমিত। এই ভুল মূল ভাষা আর তার চলন না জানার ফল!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন