
মহর্ষি ভৃগুর চোখে চোখ রেখে বললেন, “এই আয়োজন ও অনুষ্ঠানের জন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ, মহর্ষিঠাকুর। এমন রাজসিক আয়োজন মহারাজ অঙ্গের প্রাসাদের উপযুক্ত। কিন্তু মহর্ষিঠাকুর, আমি জানি পৃথু ও অর্চ্চি কোন অবতার নয়, ওরা আমার পুত্র বেণের মানসপুত্রও নয়। এ সমস্তই আপনার বানিয়ে তোলা, সাজানো ঘটনা”। মহর্ষি ভৃগু কোন উত্তর দিলেন না, মহারাণি সুনীথার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। ... ...

অবশেষে শাস্ত্রবচনটি এইভাবেই রচিত হয়েছিল - "...প্রজাপিতা মহারাজ অঙ্গের পুত্র অরাতিমর্দন মহারাজ বেণের মানসপুত্র শ্রী পৃথু ভগবান বিষ্ণুর অংশ-অবতার এবং মানসকন্যা শ্রীমতী অর্চ্চি সনাতনী কমলার অংশ রূপে প্রবোধিণী একাদশীর পুণ্য তিথিতে ধরণীতে আবির্ভূত হইয়াছেন"। ... ...


মহর্ষি বললেন, “সেই চিহ্ন দুই তিন মাস স্থায়ী হলেই আমাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে। রাজা হিসাবে পৃথু একবার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে, কেউ তাঁর শরীরের চিহ্ন পরীক্ষা করতে আসবে না, বৎস”! ... ...


"গতানুগতিকতা ছেড়ে নতুন পরিবেশে গেলে অনেক সময় চমকপ্রদ ফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ওই উদ্যানবাটিকা ছিল মহারাজ বেণের স্বপ্ন! অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি অজস্রবার ওখানে গিয়েছেন, নির্মাণকাজের পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি তিনি নিজে হাতে সাজিয়েছেন! সেই স্বপ্নপূরণ নিজের চোখে দেখার অনুভূতি তাঁকে উদ্দীপিত করতে পারে”! ... ...





রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে বানিয়ে তোলা হচ্ছে গৃহহারাদের নতুন গৃহ। বিনাশের থেকে নির্মাণে অনেক বেশি সময় লাগে, তা লাগুক। অস্থায়ী বাসায় তারা নিশ্চিন্ত ধৈর্যে বাস করছে। কিছুদিন আগেও যারা গোপনে, মনে মনে রাজা বেণের মৃত্যু কামনা করত, এখন তারাই নতজানু হয়ে করজোড়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, “রাজমাতাকে আর কত কষ্ট দেবে, হে ঈশ্বর? করুণা করো, দয়া করো, সুস্থ করে তোলো তাঁর পুত্রকে”। ... ...









রাজাকে সরানোর আগেই ঠিক করে নেওয়া দরকার কে হবে পরবর্তী সঠিক নেতা - নচেৎ দেশ জুড়ে শুরু হবে মাৎস্যন্যায়। ... ...