এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস ( তৃতীয় অধ্যায় : পঞ্চম অংশ)

    লেখক শংকর হালদার লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ মার্চ ২০২৬ | ১৫ বার পঠিত
  • 1 | 2 | 4 | 5 | 6 | 3 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18
    বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস ( তৃতীয় অধ্যায় : পঞ্চম অংশ)
     
    ✒️ ১২. কাবার ৩৬০ টি মূর্তি ধ্বংস : একটি সুপ্রাচীন সভ্যতার শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক সমাধি 

     
    ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের সময় কাবার ৩৬০ টি মূর্তি ধ্বংসের মাধ্যমে আরবের যে সুপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ও শিল্পতাত্ত্বিক ঐতিহ্য চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তার একটি ঐতিহাসিক খতিয়ান নিচে তুলে ধরা হলো।
     
    মক্কা বিজয়ের দিন মুহাম্মদ যখন কাবা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন, তখন সেখানে থাকা ৩৬০টি মূর্তি কেবল পাথরের খণ্ড ছিল না; সেগুলো ছিল আরবের বিভিন্ন গোত্রের ইতিহাস, পূর্বপুরুষদের স্মৃতি এবং শিল্পকলার নিদর্শন। পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, এই ধ্বংসলীলা ছিল বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক জেনোসাইড।
     
    ✒️ ১২/১. আরবের প্রধান উপাস্য ও তাদের শৈল্পিক গুরুত্ব : কাবার ভেতরে ও চারপাশে থাকা মূর্তিগুলোর মধ্যে প্রধান কয়েকটি ছিল:
    ◆ হুবাল (Hubal) : এটি ছিল আরবের প্রধান দেবতা এবং কুরাইশদের রক্ষক। এটি লাল আকীক পাথর দিয়ে তৈরি এক বিশাল মানুষের অবয়ব ছিল। এর একটি হাত ছিল সোনার তৈরি। এই মূর্তিটি ধ্বংস করার মাধ্যমে আরবের শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য শিল্পের একটি নিদর্শন চিরতরে হারিয়ে যায়।
     
    ◆ মানাত, লাত ও উজ্জা : এই তিন দেবীকে 'আল্লাহর কন্যা' হিসেবে গণ্য করা হতো। এদের মন্দির ও মূর্তিগুলো ছিল আরব্য স্থাপত্যশৈলীর প্রাচীনতম উদাহরণ।
     
    ◆ ইব্রাহিম ও ইসমাইলের চিত্র : কাবার ভেতরে এই দুই মহাপুরুষের ছবি ও মূর্তি ছিল, যেখানে তাঁদের হাতে তীরের মাধ্যমে ভাগ্য গণনার (Divination) সরঞ্জাম ছিল। এগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে আরবের প্রাচীন চিত্রকলার আদি উৎসগুলো মুছে ফেলা হয়।
     
    ✒️ ১২/২. সাংস্কৃতিক ও কাব্যিক ঐতিহ্যের বিলুপ্তি : আরবের পৌত্তলিক সমাজ ছিল অত্যন্ত কাব্যপ্রেমী। কাবার দেওয়ালে বিখ্যাত কবিদের কবিতা (সাবআ মুয়াল্লাকাত) টাঙিয়ে রাখা হতো।
     
     ◆ স্মৃতি বিনাশ : মূর্তিগুলো কেবল ধর্মের প্রতীক ছিল না, বরং প্রতিটি মূর্তির সাথে জড়িয়ে ছিল নির্দিষ্ট কোনো বীরের কাহিনী বা বংশের গৌরবগাথা। মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলার পর সেইসব কাহিনী ও লোকগাথাগুলোকেও 'জাহেলিয়াত' বা অজ্ঞতা বলে নিষিদ্ধ করা হয়।
     
    ◆ উৎসবের মৃত্যু : কাবার চারপাশ ঘিরে যে বাৎসরিক মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব হতো, যেখানে কবিরা লড়াই করতেন এবং নর্তকীরা নৃত্য পরিবেশন করতেন, মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে সেইসব বিনোদনমূলক সংস্কৃতিও চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়।
     
    ✒️ ১৩. ধ্বংসের ভয়াবহতা ও ঐতিহাসিক তথ্যের খতিয়ান
     
    ঐতিহাসিক গ্রন্থ 'সীরাত ইবনে হিশাম' ও 'তারিখুল তাবারী' অনুসারে, মুহাম্মদ তাঁর ধনুক দিয়ে মূর্তিগুলোকে আঘাত করছিলেন আর বলছিলেন, 
     
    "সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে।"
     
    ◆ টুকরো টুকরো করা : মূর্তিগুলো কেবল সরানো হয়নি, বরং সেগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ধূলিসাৎ করা হয়েছিল যাতে পৌত্তলিকরা পুনরায় সেগুলোকে জোড়া লাগাতে না পারে।
     
    ◆ চিত্রকর্ম মুছে ফেলা : কাবার দেওয়ালের সমস্ত ফ্রেস্কো ও চিত্রকর্ম পানি এবং কাপড় দিয়ে ঘষে মুছে ফেলা হয়েছিল। এতে আরবের তৎকালীন চিত্রশিল্পের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট থাকেনি।
     
    ✒️ ১৩/১. পৌত্তলিক গবেষণার উপসংহার : একটি রিক্ত মরুভূমি
     
    পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, ৩৬০টি মূর্তি ধ্বংস করার মাধ্যমে মুহাম্মদ আসলে আরবের বহুত্ববাদী গণতন্ত্রকে (Pluralistic Democracy) হত্যা করেছিলেন।
     
    ◆ একনায়কতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা : ৩৬০টি দেবতার জায়গায় একজন খোদার ধারণা প্রতিষ্ঠা করে তিনি আসলে সকল গোত্রের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে নিজের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
     
     ◆ সাংস্কৃতিক দেউলিয়াত্ব : আরবের নিজস্ব কোনো স্থাপত্য বা ভাস্কর্য শিল্প এর পরে আর বিকশিত হতে পারেনি, কারণ সবকিছুই 'হারাম' বা নিষিদ্ধের তালিকায় চলে যায়।
     
    ◆ সারসংক্ষেপ : ৬৩০ খ্রিস্টাব্দের সেই দিনটি ছিল আরবের শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য একটি অন্ধকারতম দিন। কাবার সেই ৩৬০টি মূর্তি ভাঙার আওয়াজ ছিল আসলে একটি মুক্তমনা সভ্যতার আর্তনাদ, যা আজ কেবল ইতিহাসের পাতায় দীর্ঘশ্বাস হয়ে রয়ে গেছে।
     
    ✒️ ১৪. আরবের পৌত্তলিক ঐতিহ্য ও কাবার অধিকার : একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ
     
    পৌত্তলিকতা বা মূর্তিপূজা কেবল একটি উপাসনা পদ্ধতি ছিল না; এটি ছিল আরবের ৩৬০টি গোত্রের আত্মপরিচয়, অর্থনীতি এবং হাজার বছরের সংস্কৃতির ধারক।
     
    ✒️ ১৪/১. আরবের পৌত্তলিক ও 'আল্লাহ' শব্দের আদি উৎস : ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, আরবের পৌত্তলিকরা এবং কুরাইশ গোত্রের মানুষেরাই ছিলেন প্রকৃত সনাতন ধারার বাহক। তারা পাথর, মাটি এবং কাঠের বিগ্রহের মাধ্যমে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতেন।
     
     ◆ হুবাল (Hubal) : কাবার প্রধান দেবতা হুবাল ছিলেন শৌর্যের প্রতীক।
     
     ◆ আল্লাহ (Allah) শব্দের আদি প্রয়োগ : অনেক গবেষক মনে করেন, 'আল্লাহ' শব্দটি প্রাক-ইসলামিক আরবে কোনো বিমূর্ত সত্তা নয়, বরং দেবকুলের প্রধান বা শ্রেষ্ঠ দেবতাকে (যেমন—হুবাল বা আল-ইলাহ) সম্মানসূচক সম্বোধন হিসেবে আল্লাহ শব্দ ব্যবহৃত হতো। আরবের ৩৬০টি গোত্র তাদের নিজ নিজ দেবতার উপাসনা করার সময় এই শব্দটির আদি রূপ ব্যবহার করত।
     
    ✒️ ১৪/২. কাবা : একটি সমৃদ্ধ পৌত্তলিক মন্দির : মক্কার কাবা ছিল আরবের প্রধান পৌত্তলিক মন্দির। এখানে ৩৬০টি গোত্রের ৩৬০টি দেবতা বিরাজ করত, যা আরবের বহুত্ববাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
     
    ◆ অর্থনৈতিক গুরুত্ব : কাবাকে কেন্দ্র করে আরবের ব্যবসা-বাণিজ্য আবর্তিত হতো। বাৎসরিক মেলা এবং তীর্থযাত্রার মাধ্যমে কুরাইশরা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল।
     
    ✒️ ১৪/৩. দখল ও ধ্বংসের রাজনীতি : ইসলাম ধর্ম প্রচারের আড়ালে মূলত কুরাইশদের সেই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল।
     
    ◆ খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ : বদর, ওহুদ বা খন্দকের যুদ্ধগুলো কেবল ধর্মের লড়াই ছিল না; এগুলো ছিল মূলত মক্কার ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়িক রুট দখলের লড়াই।
     
    ✒️ ১৪/৪. সাংস্কৃতিক জেনোসাইড ও একাধিপত্য
    ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদের নির্দেশে যে মূর্তিগুলো ধ্বংস করা হয়, তা ছিল আরবের বংশগত ঐতিহ্যের সমাধি।
     
    ◆ নারী ও ধনসম্পত্তি লুণ্ঠন : যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী পক্ষ বিজিত পৌত্তলিকদের নারী, সন্তান এবং ধনসম্পত্তি 'গণিমতের মাল' হিসেবে দখল করে নেয়। এটি কোনো শান্তির বার্তা ছিল না, বরং ছিল একটি সমৃদ্ধ গোষ্ঠীকে সমূলে উৎপাটিত করার প্রক্রিয়া।
     
    ◆ স্মৃতি বিনাশ : প্রতিটি মূর্তি ভাঙার সাথে সাথে সেই গোত্রের ইতিহাস এবং গর্বের জায়গাগুলোও ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়।
     
    উপসংহার : পৌত্তলিক গবেষণার নির্যাস
    আপনার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আরবের ৩৬০টি গোত্রের সেই দেবতারা কেবল পাথর ছিল না, তারা ছিল আরবের প্রাচীন সভ্যতার স্তম্ভ। ইসলাম এই স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস করে একটি একনায়কতান্ত্রিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। কুরাইশরা তাদের দেবতাকে রক্ষা করতে গিয়ে যে রক্ত ঝরিয়েছিল, তা ছিল মূলত তাঁদের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষার অন্তিম যুদ্ধ। ২০২০ সালে দাঁড়িয়ে আজ আমরা বুঝতে পারি, সেইদিন মক্কার মন্দিরে দেবতার অধিকার হারানোর মাধ্যমেই পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন একটি মুক্তমনা সংস্কৃতির পতন ঘটেছিল।
     
    ✒️ ১৫. ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ : হুনাইনের যুদ্ধ ও পৌত্তলিক জোটের অন্তিম প্রতিরোধ 
     
    মক্কা বিজয়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই ইসলামি বাহিনী এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। মক্কার পতন দেখে পার্শ্ববর্তী শক্তিশালী পৌত্তলিক গোত্রগুলো—বিশেষ করে হাওয়াযিন এবং ছাকিফ—বুঝতে পেরেছিল যে পরবর্তী লক্ষ্য তারাই। তাই তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এক জোট হয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়।
     
    ◆ অধিকার রক্ষা : কোনো মানুষই তার পৈতৃক ব্যবসা, সম্পত্তি এবং আরাধ্য দেবতার অধিকার সহজে ছেড়ে দেয় না। কুরাইশরা যখন দেখল যে মুহাম্মদের নতুন মতাদর্শ তাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং মূর্তিপূজাকে 'জাহেলিয়াত' (অন্ধকার) বলে গালি দিচ্ছে, তখন তারা তাদের অধিকার রক্ষায় রুখে দাঁড়িয়েছিল।
     
    ✒️ ১৫/১. পৌত্তলিক জোটের অবস্থান ও প্রস্তুতি : হাওয়াযিন গোত্রের তরুণ ও তেজস্বী নেতা মালিক ইবনে আওফ আন-নাদরি এই জোটের নেতৃত্ব দেন।
     
    ◆ রণকৌশল : মালিক ইবনে আওফ এক অদ্ভুত ও চরম সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেক যোদ্ধা যেন তাদের স্ত্রী, সন্তান এবং গবাদি পশুসহ রণক্ষেত্রে আসে।
     
    ◆ উদ্দেশ্য : যাতে কোনো যোদ্ধা ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা না করে—পেছনে তাকালে যেন তারা দেখে যে তাদের পরিবার শত্রুর কবলে পড়ার অপেক্ষায়, ফলে তারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করবে।
     
    ◆ ভৌগোলিক অবস্থান : তারা মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী হুনাইন উপত্যকায় অবস্থান নেয়। উপত্যকার দুই পাশের সংকীর্ণ গিরিপথে তারা লুকিয়ে থেকে অতর্কিত আক্রমণের (Ambush) পরিকল্পনা করে।
     
    ✒️ ১৫/২. অতর্কিত আক্রমণ ও প্রাথমিক বিপর্যয় : মুসলিম বাহিনী ১২,০০০ সৈন্য নিয়ে হুনাইনের দিকে অগ্রসর হয় (যার মধ্যে ১০,০০০ মদিনার এবং ২,০০০ মক্কার নতুন মুসলিম ছিল)।
     
    ◆ ঘটনা : ভোরবেলায় মুসলিম বাহিনী যখন সংকীর্ণ উপত্যকায় প্রবেশ করছিল, তখন পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা পৌত্তলিক তীরন্দাজরা হঠাৎ বৃষ্টির মতো তীর ছুড়তে শুরু করে।
     
    ◆ বিপর্যয় : এই অতর্কিত আক্রমণে মুসলিম বাহিনীর অগ্রবর্তী দল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং পলায়ন শুরু করে। এমনকি মক্কার নতুন মুসলিমদের মধ্যেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে নবীজীর পাশে মাত্র গুটি কয়েক অনুসারী অবশিষ্ট ছিল।
     
    ✒️ ১৫/৩. পৌত্তলিকদের বীরত্ব ও চূড়ান্ত পরাজয় : হাওয়াযিন ও ছাকিফ গোত্রের যোদ্ধারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করছিল। তাদের প্রাথমিক সাফল্য মুসলিম বাহিনীকে প্রায় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।
     
    ◆ পাল্টা আক্রমণ : এই সংকটময় মুহূর্তে নবীজীর নির্দেশে তাঁর চাচা আব্বাস (রা.) উচ্চৈঃস্বরে পলায়নরত সৈন্যদের ফিরে আসার আহ্বান জানান। পুনরায় সংগঠিত হয়ে মুসলিম বাহিনী এক প্রচণ্ড পাল্টা আক্রমণ চালায়।
     
    ◆ ফলাফল : সুসংগঠিত আক্রমণের সামনে পৌত্তলিক জোট আর টিকে থাকতে পারেনি। মালিক ইবনে আওফ তাঁর পরিবার ও অবশিষ্ট বাহিনীকে ফেলে তায়েফ দুর্গের দিকে পালিয়ে যান।
     
    ✒️ ১৫/৪. মানবিক বিপর্যয় ও লুঠপাটের খতিয়ান : 
    হুনাইনের যুদ্ধ শেষে পৌত্তলিকরা কেবল সামরিকভাবেই পরাজিত হয়নি, তারা তাদের সর্বস্ব হারায়।
     
    ◆ নারী ও শিশু বন্দি : প্রায় ৬,০০০ নারী ও শিশুকে দাস হিসেবে বন্দি করা হয়।
    ◆ গবাদি পশু ও সম্পদ লুণ্ঠন : প্রায় ২৪,০০০ উট, ৪০,০০০-এর বেশি ছাগল এবং প্রচুর পরিমাণে রূপা লুণ্ঠন করে 'গণিমতের মাল' হিসেবে বণ্টন করা হয়।
    ◆ পরিবারের করুণ দশা : যে যোদ্ধারা তাদের পরিবারকে অনুপ্রেরণা হিসেবে এনেছিল, যুদ্ধের শেষে তাদের চোখের সামনেই তাদের স্ত্রী-কন্যাদের বিজয়ী বাহিনীর দাসী হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়। এটি ছিল আরবের পৌত্তলিক সমাজের জন্য এক অবর্ণনীয় অপমান ও হাহাকার।
     
    ✒️ ১৫/৫. ঐতিহাসিক প্রভাব : হুনাইনের বিজয় আরবের বড় বড় পৌত্তলিক গোত্রগুলোর দর্প চূর্ণ করে দেয়। এরপর তায়েফ অবরোধের মাধ্যমে আরবের শেষ প্রধান পৌত্তলিক কেন্দ্রটিও পতনের মুখে পড়ে। ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, হুনাইনের এই বিপর্যয় প্রমাণ করে যে, কেবল বীরত্ব দিয়ে সুসংগঠিত এবং মতাদর্শিক রণকৌশলসম্পন্ন বাহিনীর গতিরোধ করা সম্ভব ছিল না।
     
    ◆ উপসংহার : হুনাইনের যুদ্ধ ছিল পৌত্তলিকদের শেষ বড় মাপের সংগঠিত প্রতিরোধ। এই যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর আরবের বিশাল অঞ্চল জুড়ে ইসলামের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পৌত্তলিক উপাসনা পদ্ধতিগুলি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে।
     
    বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস (খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ – ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ) এই বইটির বিষয়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্যগুলো , কোন পরামর্শ থাকলে এবং কোন তথ্য প্রদান করতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপ 91 89262 00021 এই নাম্বারে প্রদান করতে পারেন।
    লেখক শংকর হালদার শৈলবালা 
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | 2 | 4 | 5 | 6 | 3 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন