এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস (প্রথম অধ্যায় চতুর্থ অংশ) 

    লেখক শংকর হালদার লেখকের গ্রাহক হোন
    ২২ মার্চ ২০২৬ | ১৬ বার পঠিত
  • 1 | | 4 | 5 | 6 | 3 | 7
    বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস (প্রথম অধ্যায় চতুর্থ অংশ) 
     
    শব্দতত্ত্বের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতারণা : ‘ইসলাম’ ও ‘শান্তি’র গোলকধাঁধা
     
    আরবি ‘ইসলাম’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ এবং এর ঐতিহাসিক প্রয়োগের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক প্রবন্ধ নিচে উপস্থাপন করা হলো।
     
    ইসলামিক প্রচারকরা প্রায়ই দাবি করেন যে, ‘ইসলাম’ শব্দটি ‘সালাম’ (Salam) থেকে এসেছে যার অর্থ ‘শান্তি’। সুতরাং ইসলাম মানেই শান্তির ধর্ম। কিন্তু শব্দতত্ত্ব (Etymology) এবং ১৪০০ বছরের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই দাবিটি মূলত একটি সুপরিকল্পিত ভাষাগত ধোঁকা বা ‘সেমান্টিক ডিসেপশন’।
     
    ১. শব্দতাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ : ‘শান্তি’ নাকি ‘আত্মসমর্পণ’?
    আরবি ভাষার ব্যাকরণ অনুযায়ী, ‘ইসলাম’ (Islam) শব্দটি এসেছে ‘আস-লা-মা’ (As-lama) মূল ধাতু থেকে।
     
    ◆ প্রকৃত অর্থ : এর আভিধানিক অর্থ হলো ‘আত্মসমর্পণ করা’ (To Submit/Surrender) বা নিজেকে সঁপে দেওয়া।
     
    ◆ পার্থক্য : ‘সালাম’ (শান্তি) এবং ‘ইসলাম’ (আত্মসমর্পণ) একই মূল অক্ষর (S-L-M) থেকে উৎপন্ন হলেও এদের অর্থ ও প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন বিজয়ী যখন পরাজিতকে বলে “ইসলাম কবুল করো”, তার প্রকৃত অর্থ হয় “আমার কাছে আত্মসমর্পণ করো”।
     
    ◆ ধোঁকা : প্রচারকরা ‘আত্মসমর্পণ’ শব্দটিকে ‘শান্তি’ হিসেবে চালিয়ে দেয় যাতে অ-মুসলিম বা পৌত্তলিক সমাজ তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে না পারে।
     
    ২. ঐতিহাসিক প্রয়োগ: শান্তির বদলে তলোয়ার (৬১০-৬৩৩ খ্রি.) : মুহাম্মদের জীবন ও তাঁর পরবর্তী খলিফাদের শাসনামলে এই ‘আত্মসমর্পণ’ বা ‘শান্তি’র স্বরূপ কেমন ছিল, তা ঐতিহাসিক তথ্যে স্পষ্ট:
     
    ◆ জিজিয়া ও জিম্মি : অ-মুসলিমদের বলা হতো— হয় ইসলাম গ্রহণ করো (আত্মসমর্পণ), নয়তো যুদ্ধ করো, অথবা ‘জিজিয়া’ (ঘৃণ্য কর) দিয়ে অপমানিত হয়ে বেঁচে থাকো। এই বাধ্যতামূলক বশ্যতাকে তারা ‘শান্তি’ বলে অভিহিত করে।
     
    ◆ মূর্তিপূজারীদের ওপর শান্তি : ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর কাবার ৩৬০টি মূর্তি ধ্বংস করাকে তারা ‘শান্তির প্রতিষ্ঠা’ বলে দাবি করে। কিন্তু পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, এটি ছিল একটি স্বাধীন সংস্কৃতির ওপর আধ্যাত্মিক ও মানসিক দাসত্ব চাপিয়ে দেওয়া।
     
    ৩. ‘দারুল ইসলাম’ বনাম ‘দারুল হরব’ : ইসলামিক তত্ত্ব অনুযায়ী বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত:
     
    ◆ দারুল ইসলাম : যেখানে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠিত (শান্তির ঘর)।
    ◆ দারুল হরব : যেখানে ইসলামের শাসন নেই (যুদ্ধের ঘর)।
    ◆ তাত্ত্বিক ধোকা : যতক্ষণ না পুরো পৃথিবী ‘দারুল ইসলাম’ হচ্ছে এবং সবাই আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করছে, ততক্ষণ ‘জিহাদ’ বা যুদ্ধ চলবে। অর্থাৎ, তাদের সংজ্ঞায় ‘শান্তি’ তখনই আসবে যখন পৃথিবীর সমস্ত পৌত্তলিক ও ভিন্নমতাবলম্বী বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
     
    ৪. ড. আম্বেদকরের সতর্কবার্তা ও ঐতিহাসিক দলিল : ড. বি আর আম্বেদকর তাঁর 'Pakistan or The Partition of India' গ্রন্থে এই ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন যে, ইসলামের শান্তিবাদ কেবল তার নিজ সম্প্রদায়ের জন্য।
     
    > “ইসলাম একটি বদ্ধ কর্পোরেশন। 
    এর বাইরে যারা আছে তাদের জন্য শান্তি নয়, 
    বরং আছে কেবল তরবারি বা ঘৃণা।”
     
    ৫. বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০২৬): আধুনিক ধোঁকাবাজি : ২০২৬ সালের বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও দেখা যায়, যেখানেই ইসলাম সংখ্যাগুরু হচ্ছে, সেখানেই ‘কাফের’ বা পৌত্তলিকদের জীবনের নিরাপত্তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রচার মাধ্যমগুলোতে ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম’ স্লোগানটি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের চোখ বেঁধে রাখা হচ্ছে।
     
    ◆ লাভ জিহাদ ও অনুপ্রবেশ : এগুলোকেও অনেক সময় ‘সামাজিক উন্নয়ন’ বা ‘মানবিক’ আবরণ দেওয়া হয়, যা মূলত শব্দতাত্ত্বিক ধোঁকারই আধুনিক সংস্করণ। 
     
    [Image showing the transition of Islam's territorial expansion from 7th century to modern geopolitical influence]
     
    ◆ উপসংহার : পৌত্তলিক গবেষণার নির্যাস : ‘ইসলাম’ শব্দের বাংলা অর্থ ‘শান্তি’ করাটা ভাষাগতভাবেও ভুল এবং ঐতিহাসিকভাবেও মিথ্যা। এটি মূলত একটি ‘রাজনৈতিক বশ্যতাসূচক’ শব্দ। যারা এই শব্দের দোহাই দিয়ে ইসলামকে শান্তির আধার বলে প্রচার করেন, তারা আসলে ইতিহাসের রক্তক্ষয়ী পদচিহ্নগুলোকে আড়াল করতে চান। প্রকৃত শান্তি তখনই সম্ভব যখন অন্যের অস্তিত্ব এবং মূর্তিপূজার মতো আদিম ঐতিহ্যকে ঘৃণা না করে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা থাকে—যা ইসলামের মৌলিক দর্শনে অনুপস্থিত।
     
    তথ্যসূত্র : 
    ◆ Hans Wehr Dictionary of Modern Written Arabic (S-L-M মূল ধাতুর অর্থ)।
    ◆ The Life of Mohammad (A. Guillaume), পৃ. ৬৬৭ (মূর্তিপূজা ও আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে)।
    ◆ Pakistan or The Partition of India (Dr. B.R. Ambedkar), Chapter 13.
     
                                 ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
     
          
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | | 4 | 5 | 6 | 3 | 7
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন