এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস (প্রথম অধ্যায় পঞ্চম অংশ )

    লেখক শংকর হালদার লেখকের গ্রাহক হোন
    ২২ মার্চ ২০২৬ | ১৭ বার পঠিত
  • 1 | | 4 | 5 | 6 | 3 | 7
    বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস (প্রথম অধ্যায় পঞ্চম অংশ )
     
    শান্তির দাবি বনাম ঐতিহাসিক বাস্তবতা (৬১০-৬৩৩ খ্রি.) : এক পৌত্তলিক সমীক্ষা
     
    "ইসলাম শান্তির ধর্ম" — আধুনিক যুগে প্রচারিত এই দাবির বিপরীতে ৬১০ থেকে ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং পৌত্তলিক (সনাতন) গবেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করলে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে। পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, এই ২৪ বছরে আরবের মাটিতে শান্তির বদলে যে রক্তক্ষয়ী বিবর্তন ঘটেছিল, তা নিচে ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করা হলো।
     
    পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, ইসলামের প্রথম দুই দশকের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি কোনো শান্তির বার্তা নিয়ে নয়, বরং একটি সুসংগঠিত 'সামরিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসন' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।
     
    ১. মক্কী জীবন (৬১০-৬২২ খ্রি.): অসহিষ্ণুতার বীজ বপন < ইসলামের প্রথম তেরো বছরে সরাসরি যুদ্ধ না হলেও, শান্তির কোনো পরিবেশ ছিল না।
     
    ◆ মানসিক আক্রমণ : মুহাম্মদ আরবের পূর্বপুরুষদের উপাস্যদের 'শয়তান' এবং 'অসার' বলে গালি দেওয়া শুরু করেন। পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, অন্যের গভীর বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে তুচ্ছজ্ঞান করা কখনোই শান্তির পথ হতে পারে না। এটি ছিল একটি শান্তিপূর্ণ বহুত্ববাদী সমাজের মধ্যে বিভেদ ও বিদ্বেষ তৈরির প্রাথমিক পর্যায়।
     
    ২. মাদানী জীবন (৬২২-৬৩০ খ্রি.): লুণ্ঠন ও হত্যার বৈধতা < মদিনায় হিজরতের পরপরই শান্তির বদলে 'জিহাদ' বা যুদ্ধের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
     
    ◆ গজওয়া ও সারিয়াহ : এই সময়ে প্রায় ৮০টিরও বেশি ছোট-বড় সামরিক অভিযান চালানো হয়। বদর, ওহুদ এবং খন্দকের যুদ্ধগুলো ছিল মূলত ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন করার প্রক্রিয়া।
     
    ◆ গণহত্যা : ৬২৭ খ্রিস্টাব্দে বনু কুরাইজা গোত্রের ৮০০ থেকে ৯০০ জন বন্দি ইহুদিকে খন্দক খনন করে হত্যা করা হয়। পৌত্তলিকদের মতে, নিরস্ত্র বন্দিদের এভাবে হত্যা করা কোনো শান্তির ধর্মের কাজ হতে পারে না।
     
    ৩. মক্কা বিজয় ও মূর্তি ধ্বংস (৬৩০ খ্রি.) : সাংস্কৃতিক জেনোসাইড < মক্কা বিজয়ের সময় মক্কাবাসীরা আত্মসমর্পণ করলেও, তাঁদের হাজার বছরের পুরনো ৩৬০টি মূর্তি ও শিল্পকর্ম গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
     
    ◆ বিবেচনা : শান্তির ধর্ম হলে ভিন্নমতের উপাসনা কেন্দ্র রক্ষা করার কথা ছিল, কিন্তু সেখানে চালানো হয়েছে 'সাংস্কৃতিক নির্মূলকরণ'। যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
     
     
     
    ৪. রিদ্দা যুদ্ধ (৬৩২-৬৩৩ খ্রি.) : জোরপূর্বক আনুগত্য < নবীজীর মৃত্যুর পর আরবের মানুষ যখন তাদের আদি পৌত্তলিকতায় ফিরে যেতে চাইল, তখন খলিফা আবু বকর 'শান্তি'র বদলে 'তরবারি' বেছে নিয়েছিলেন।
     
    ◆ ভয়াবহতা : ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলা এই রিদ্দা যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষকে কেবল ধর্ম ত্যাগের অপরাধে হত্যা করা হয়। ইয়ামামার যুদ্ধে যে রক্তবন্যা বয়ে গিয়েছিল, তা প্রমাণ করে যে ইসলামে 'প্রস্থান' বা 'স্বাধীন চিন্তার' কোনো সুযোগ ছিল না।
     
    ৫. পৌত্তলিক গবেষণার নির্যাস : "শান্তি" আসলে কার জন্য?
     
    পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, ইসলামের সংজ্ঞায় 'শান্তি' মানে হলো—পুরো বিশ্বকে ইসলামের পতাকাতলে নিয়ে আসা। যতক্ষণ কেউ ভিন্ন মতে বিশ্বাসী থাকবে, ততক্ষণ সে 'কাফের' এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা জায়েজ।
    ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ: * ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কোনো শান্তি ছিল না: এই সময়কালটি ছিল কেবল রক্তপাত, বন্দিত্ব, নারী হরণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতা।
     
    ◆ শান্তি বনাম আত্মসমর্পণ : ইসলামে শান্তির অর্থ হলো 'আত্মসমর্পণ' (Submission)। অর্থাৎ কেউ যদি মাথা নত করে ইসলাম গ্রহণ করে, তবেই সে নিরাপদ। এই শর্তযুক্ত নিরাপত্তা কখনোই প্রকৃত 'শান্তি' হতে পারে না।
     
    ◆ উপসংহার : ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইসলামের ইতিহাসে শান্তির কোনো বার্তা খুঁজে পাওয়া যায় না; বরং পাওয়া যায় একটি আরব্য সাম্রাজ্যবাদের উত্থান কাহিনী, যা পরবর্তীকালে ভারত ও পারস্যের মতো মহান পৌত্তলিক সভ্যতাগুলোকে ধ্বংস করার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
                                    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
     
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | | 4 | 5 | 6 | 3 | 7
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন