এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস (প্রথম অধ্যায় সপ্তম অংশ)

    লেখক শংকর হালদার লেখকের গ্রাহক হোন
    ২২ মার্চ ২০২৬ | ২৪ বার পঠিত
  • 1 | | 4 | 5 | 6 | 3 | 7
    https://guruchandali.com/comment.php?topic=34566
     
    বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস
                                   প্রথম অধ্যায় সপ্তম অংশ
     
    গান্ধীর তোষণ নীতি ও ভারতীয় সংবিধান : হিন্দুদের ওপর আইনি অবিচারের দলিল
     
    মহাত্মা গান্ধীর 'তোষণ নীতি' এবং তাঁর প্রচারিত 'শান্তির ইসলাম' তত্ত্ব কীভাবে ভারতের সংবিধান নির্মাণে হিন্দুদের স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করেছে, তার একটি চুলচেরা বিশ্লেষণ। পৌত্তলিক (সনাতন) গবেষকদের মতে, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের রক্তক্ষয়ী অভিজ্ঞতার পরেও ভারতীয় সংবিধানে হিন্দুদের সুরক্ষার চেয়ে মুসলিম তোষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নেহরু এবং তৎকালীন নীতিনির্ধারকরা এমন কিছু ধারা অন্তর্ভুক্ত করেন যা হিন্দুদের কার্যত নিজ দেশে 'দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে' পরিণত করার পথ প্রশস্ত করে।
     
    ১. অনুচ্ছেদ ২৫ থেকে ৩০: সংখ্যালঘুদের বিশেষ সুবিধা বনাম হিন্দুদের বঞ্চনা : সংবিধানের ২৯ এবং ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদে সংখ্যালঘুদের (মূলত মুসলিম ও খ্রিস্টান) নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানো এবং ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার অবারিত অধিকার দেওয়া হয়েছে।
     
    ◆ বৈষম্য : হিন্দুরা তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গীতা বা উপনিষদ পড়াতে গেলে তা 'সাম্প্রদায়িক' বলে গণ্য হয়, কিন্তু মাদ্রাসাগুলোতে সরকারি অনুদানে কোরআন পড়ানোকে 'ধর্মনিরপেক্ষতা'র তকমা দেওয়া হয়।
     
    ◆ গবেষকদের মত : এটি ছিল হিন্দুদের সাংস্কৃতিক শিকড় কেটে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত, যা গান্ধীর 'সর্বধর্ম সমভাব' নামক ভুল তত্ত্ব থেকে উদ্ভূত।
     
    ২. অনুচ্ছেদ ৪৪ ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (UCC) অবহেলা : গান্ধীর তোষণ নীতির কারণে সংবিধানে সকল নাগরিকের জন্য সমান আইন বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
     
    ◆ ফলাফল : হিন্দুদের জন্য 'হিন্দু কোড বিল' এনে কঠোর সংস্কার করা হলেও মুসলিমদের জন্য মধ্যযুগীয় 'শরিয়া আইন' বজায় রাখা হয়। এর ফলে বহুবিবাহ এবং তালাকের মতো প্রথাগুলো ভারতে বৈধতা পায়, যা একটি আধুনিক রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী।
     
    ৩. 'সেক্যুলারিজম' বা ধর্মনিরপেক্ষতার ভ্রান্ত ব্যাখ্যা : ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে হয়ে দাঁড়িয়েছে—হিন্দুদের অধিকার খর্ব করে মুসলিমদের তুষ্ট রাখা।
     
    ◆ হজ ভর্তুকি বনাম মন্দির নিয়ন্ত্রণ : সরকার হিন্দুদের মন্দিরগুলো দখল করে তার অর্থ কোষাগারে নেয়, কিন্তু সেই অর্থ দিয়েই মুসলিমদের হজে যাওয়ার জন্য ভর্তুকি দেওয়া হতো (যা পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে)। গান্ধীর সেই 'শান্তির ধর্ম'কে খুশি করার মানসিকতা থেকেই এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার জন্ম।
     
    ৪. ওয়াকফ বোর্ড আইন (Waqf Act) : একটি সমান্তরাল ক্ষমতা : গান্ধী-পরবর্তী কংগ্রেস সরকারগুলো এমন আইন তৈরি করেছে যার মাধ্যমে 'ওয়াকফ বোর্ড' যে কোনো সম্পত্তিকে নিজেদের দাবি করতে পারে। এটি ভারতের সার্বভৌমত্ব ও হিন্দুদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারের ওপর এক বিরাট আঘাত। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আজ এই আইনের ভয়াবহতা ভারতবাসী মর্মে মর্মে উপলব্ধি করছে।
     
    ৫. ঐতিহাসিক চার্ট : তোষণ নীতির প্রভাব
    | আইনি ক্ষেত্র | হিন্দুদের অবস্থা | মুসলিমদের অবস্থা (তোষণ নীতিতে) |
     
    ◆ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও শাস্ত্র পড়ানো নিষিদ্ধ কিন্তু স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় শিক্ষা বৈধ
    ◆ ব্যক্তিগত আইন : আধুনিক সংস্কারকৃত (একবিবাহ বাধ্যতামুলক) কিন্তু শরিয়া ভিত্তিক (বহুবিবাহ ও তিন তালাক বৈধ ছিল) 
    ◆ ধর্মীয় অর্থ : মন্দির থেকে সরকার ট্যাক্স নেয় কিন্তু মাদ্রাসা ও হজ ভ্রমণে সরকার অনুদান দেয়।
    ◆ রাজনৈতিক পরিচয় : 'সেক্যুলার' হওয়ার দায় এককভাবে হিন্দুদের কিন্তু 'সংখ্যালঘু' হিসেবে বিশেষ অধিকার প্রাপ্ত।
     
    ◆ উপসংহার : পৌত্তলিক গবেষণার নির্যাস < গান্ধীর তোষণ নীতি ভারতকে একটি 'হিন্দু রাষ্ট্র' হওয়ার স্বাভাবিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে। এর ফলে সংবিধানে যে ছিদ্রগুলো তৈরি হয়েছিল, তা ব্যবহার করে আজ ইসলামী উগ্রবাদ ভারতের ভেতরেই শক্তি সঞ্চয় করছে। ২০২০ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংবিধান সংশোধন করে হিন্দুদের সমান অধিকার এবং ভারতের হারানো পৌত্তলিক পরিচয় ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান জাতীয় দাবি।
     
                            ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
     
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | | 4 | 5 | 6 | 3 | 7
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভ্যাবাচ্যাকা না খেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন