বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস
(খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ – ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ)
প্রথম অধ্যায় প্রথম অংশ
ইসলামের অশান্তি ও পৌত্তলিকদের রক্তক্ষয় ১৪১৬ বছর (৬১০–২০২৬) : রক্ত, তলোয়ার এবং একাধিপত্যের এক দীর্ঘ সমীক্ষা।
৬১০ খ্রিস্টাব্দে হেরা গুহায় প্রথম বার্তার দাবি থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট পর্যন্ত—ইসলামের ইতিহাসের ১৪১৬ বছরের এক দীর্ঘ সমীক্ষা নিচে উপস্থাপন করা হলো। পৌত্তলিক (সনাতন) এবং ঐতিহাসিক গবেষণার ভিত্তিতে এই সমীক্ষাটি প্রমাণ করে যে, 'শান্তি'র আবরণের আড়ালে এই ধর্মটি মূলত একটি নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্যবাদের নাম।
এই সমীক্ষাটিকে আমরা প্রধান কয়েকটি কালখণ্ডে বিভক্ত করে আলোচনা করব:
◆ ১. সূচনা ও সংঘাতের বীজ (৬১০ – ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ)
◆ ৬১০-৬২২ (মক্কী যুগ) : অসহিষ্ণুতার শুরু। মক্কার বহুত্ববাদী সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি। মূর্তিপূজাকে 'জাহেলিয়াত' বা মূর্খতা বলে চিহ্নিত করে আরবের সুপ্রাচীন সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণা ছড়ানো।
◆ ৬২২-৬৩২ (মাদানী যুগ) : 'শান্তি'র প্রচারক থেকে 'সেনাপতি'তে রূপান্তর। বদর, ওহুদ, খন্দক এবং খায়বারের মতো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। ৬২৭ খ্রিস্টাব্দে বনু কুরাইজা গোত্রের ৮০০ ইহুদিকে গণহত্যা।
◆ ৬৩০ (মক্কা বিজয়) : কাবার ৩৬০টি মূর্তি ধ্বংস। এটি ছিল আরব্য স্থাপত্য ও শিল্পের ওপর প্রথম সংগঠিত আঘাত।
২. খিলাফতের আগ্রাসন ও সাম্রাজ্য বিস্তার (৬৩২ – ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ)
◆ ৬৩২-৬৩৩ (রিদ্দা যুদ্ধ) : নবীজীর মৃত্যুর পর আরবের যেসব পৌত্তলিক গোত্র স্বাধীন হতে চেয়েছিল, তাদের ওপর খলিফা আবু বকরের পৈশাচিক দমন-পীড়ন।
◆ পারস্য ও রোম বিজয় (৬৩৩-৬৫১) : পারস্যের মহান স্যাসানিড সাম্রাজ্য ধ্বংস এবং জরাথ্রুস্টবাদীদের অগ্নি-মন্দিরগুলো ধূলিসাৎ করা। লক্ষ লক্ষ মানুষকে দাসে পরিণত করা।
◆ ভারত আক্রমণ (৭১২) : মোহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযান। ভারতের মাটিতে প্রথম বড় মাপের মন্দির ধ্বংস এবং জিজিয়া কর প্রবর্তন। দেবল মন্দিরের গণহত্যা ছিল ভারতীয় পৌত্তলিকদের জন্য প্রথম অশনি সংকেত।
◆ ক্রুসেড ও মধ্যযুগ : ইউরোপ ও বাইজান্টাইনদের সাথে নিরন্তর যুদ্ধ। 'শান্তির' দোহাই দিয়ে উত্তর আফ্রিকা ও স্পেনের প্রাচীন সংস্কৃতিকে সমূলে উৎপাটন।
৩. মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও অটোমান শাসন (১২৫৮ – ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ)
◆ ভারতে সুলতানি ও মুঘল শাসন : গজনীর মাহমুদ কর্তৃক ১৭ বার ভারত লুণ্ঠন এবং সোমনাথ মন্দির ধ্বংস। তৈমুর লং, খিলজি এবং ঔরঙ্গজেবের শাসনামলে কয়েক লক্ষ মন্দির ধ্বংস এবং কোটি কোটি হিন্দুর ওপর অত্যাচার।
◆ অটোমান সাম্রাজ্য : ইউরোপের বলকান অঞ্চলে খ্রিস্টান শিশুদের জোরপূর্বক ধরে এনে 'জানেসারি' সৈন্য বানানো। ১৯১৫ সালের আর্মেনীয় গণহত্যা, যেখানে ১৫ লক্ষ খ্রিস্টানকে হত্যা করা হয়।
৪. আধুনিক যুগে উগ্রবাদ ও বৈশ্বিক সন্ত্রাস (১৯২৪ – ২০০০ খ্রিস্টাব্দ)
◆ ১৯৪৭ : ভারত বিভাজন এবং ধর্মের ভিত্তিতে লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখের ওপর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও দেশান্তর।
◆ জিহাদি উত্থান : আফগানিস্তান, ইরান এবং আরবে উগ্র ওহাবী ও সালাফী মতবাদের প্রসার। ১৯৭৯-এর ইরান বিপ্লব এবং পরবর্তীকালে তালেবান ও আল-কায়েদার উত্থান। বুদ্ধ মূর্তি (বামিয়ান) ধ্বংসের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করে যে তাদের সেই মূর্তি ধ্বংসের আদিম প্রবৃত্তি আজও অক্ষুণ্ণ।
৫. একবিংশ শতাব্দী ও বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০০০ – ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ)
◆ ৯/১১ এবং আইএসআইএস (ISIS) : ইরাক ও সিরিয়ায় 'ইসলামিক স্টেট' গঠন করে ইয়াজিদি ও খ্রিস্টান নারীদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার। এটি ছিল সপ্তম শতাব্দীর সেই 'গণিমতের মাল' প্রথার আধুনিক সংস্করণ।
◆ ২০২০-২০২৬ (সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট) : আফগানিস্তানে তালেবানদের পুনরায় ক্ষমতা দখল এবং নারীদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া। ২০২৪-২০২৬ এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীদের দ্বারা মুক্তমনা লেখক এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা।
◆ সাংস্কৃতিক আগ্রাসন : ইউরোপের দেশগুলোতে (ফ্রান্স, সুইডেন, ব্রিটেন) জনমিতি পরিবর্তন এবং শরিয়া আইন চালুর দাবি, যা পশ্চিমা উদার সভ্যতার ওপর সরাসরি আঘাত।
◆ সমীক্ষার নির্যাস : কেন শান্তি নেই?
পৌত্তলিক ( সনাতন) গবেষকদের মতে, ইসলামের তত্ত্বে 'শান্তি' (Salam) শব্দটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হয় যখন সামনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকে না। অর্থাৎ:
◆ একচেটিয়া অধিকার : যতক্ষণ পুরো পৃথিবী 'দারুল ইসলাম' (ইসলামের ঘর) না হবে, ততক্ষণ তারা 'দারুল হরব' (যুদ্ধের ঘর)-এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আদর্শিক বাধ্যবাধকতা রাখে।
◆ ভিন্নমতের অসম্মান : অন্য ধর্মের অস্তিত্বকে 'ভ্রান্ত' এবং তাদের উপাস্যদের 'শয়তান' মনে করার যে দর্শন কোরআনে দেওয়া হয়েছে, তা কখনোই একটি টেকসই বৈশ্বিক শান্তি নিশ্চিত করতে পারে না।
◆ ইতিহাসের সাক্ষী : ৬১০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিটি শতাব্দীতে ইসলাম কোনো না কোনো বড় যুদ্ধ বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সাথে যুক্ত ছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্রাজ্য বিস্তার এবং ভিন্ন সংস্কৃতির বিনাশ।
◆ উপসংহার : গত ১৪১৬ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে ইসলাম শান্তির কোনো উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং এটি বারবার প্রমাণ করেছে যে, এটি একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ যা ধর্মীয় আবরণে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে চায়। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও পৃথিবী যখন এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন ইতিহাসের এই ট্র্যাজেডিই আমাদের বারবার সতর্ক করে দিচ্ছে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।