এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  আলোচনা   সমাজ

  • হিন্দুত্ববাদী(!!!) রামকৃষ্ণ মিশন 

    দীপ
    আলোচনা | সমাজ | ১৭ মার্চ ২০২৬ | ১৪ বার পঠিত
  • হিন্দুত্ববাদী (!!!) রামকৃষ্ণ মিশনের কিছু কাজকর্ম! 
     
    স্বামী সত্ত্বানন্দ দীর্ঘদিন রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম, বেনারসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুমুক্ষানন্দ। দুজনেই বর্তমানে প্রয়াত।
    সেই সাক্ষাৎকারের কিছু নির্বাচিত অংশ।
     
    আগ্রহী হলে মূল গ্রন্থ পড়ে নেবেন।
     
    -----------------------------------------------------------------
     
    স্বামী মুমুক্ষানন্দ—কাশীতে আপনারা নারায়ণ-জ্ঞানে যেসব রোগীর সেবা করতেন, তার দু-একটা ঘটনা বলুন। শুনেছি, কোনো এক পাগলরোগীকে সেবা করে আপনি তার জীবন পালটে দিয়েছিলেন।

    স্বামী সত্ত্বানন্দ—দীর্ঘ সাঁইত্রিশ বছর আমি সেবাশ্রমে কাটিয়েছি। প্রথম পর্বটাই ঘটনাবহুল বলা যেতে পারে। তারপর দ্বিতীয়বারে আমি In-charge হয়ে গেলাম। তখন তো আমাদের হাতেনাতে আর সেসব করবার সুযোগই চলে গিয়েছে। আমি কাশীতে join করি ১৯৪১ সালের ১০ মে। চারুবাবুর আমল থেকেই ওখানকার নিয়ম ছিল—যদি কেউ নতুন সাধু হতে সেবাশ্রমে আসে, তাকে minimum দেড় বছর ঐ indoor-এর দিকে নারায়ণের সেবা করতে হবে। ওখানেই খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তারপর আশ্রমের সাধুভাণ্ডারে আসবে, আর এখানে সকলের সঙ্গে খেতে পাবে। কারণ, অনেক ছেলে আবার বেশি দিন থাকত না। সেবা করতে এসে কেউ এক বছর থেকে চলে যেত, কেউ দু-বছর থেকে চলে যেত—এজন্য একটা trial period হিসেবে ওখানে তাদের রাখা হতো। আমার তো তখন প্রথমে duty পড়েছিল—ভোর ৫টায় উঠে রোগীদের, অর্থাৎ নারায়ণদের (তখন রোগীদের নারায়ণ বলা হতো) বিছানা ঠিক করতে হবে, তাদের মাজন দিতে হবে, তাদের কুঁজোতে জল ভরতে হবে, আর তাদের লোটা-গ্লাস মেজে দিতে হবে। আমার ওপর এরকম দু-তিনটি ward এর ভার পড়েছিল। আর আমার সঙ্গে থাকতেন গণেশ মহারাজ— যিনি আমাদের কাজগুলি distribute করতেন। তিনিও আমার সঙ্গে কাজ করতেন, ঘটি-বাটি মাজতেন—এরকমই ব্যবস্থা ছিল।

    স্বামী মুমুক্ষানন্দ—তখন কোনো নার্স ছিল কি?

    স্বামী সত্ত্বানন্দ—নার্স? কোনো paid worker-ই ছিল না। দু-চার জন চাকর ছিল। সমস্তই নিজেদের করতে হতো। এমনকী, আমার মনে আছে—দু-মাস sweeper ছিল না। এই ননীগোপাল মহারাজ, বঙ্কিম মহারাজ, মনোরঞ্জন ও আমি তখন পায়খানার পাট পরিষ্কার করেছি। তখন তো bed pan ছিল না। মাটির থালা উঁচু করা—আলকাতরা দিয়ে শুকিয়ে রাখা হতো। তাকে পাট বলা হতো—সেগুলি দেওয়া হতো। ড্রেন পরিষ্কার করতে হতো। অনেক dysentery রোগী ভর্তি হতো। অনবরত পায়খানা করছে। তাদের কাঁথা দেওয়া হতো। সেই কাঁথাগুলি আবার ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হতো। তখন মেথর না থাকায় এসব আমাদেরই করতে হয়েছে, আমরা gladly করেছি। এসব করে আনন্দ পেতাম আর প্রেরণা পেতাম। কেদারবাবা [স্বামী অচলানন্দ] খুব প্রেরণা দিতেন। বলতেন, এই তো সেবা—এই-ই নারায়ণসেবা, যার কথা স্বামীজী বলেছেন। এর মধ্যে কোনো ছোট-বড় ছিল না।

    শুধু তা-ই নয়, একটা team work ছিল। কারো হাতে যদি কাজ বেশি থাকত, অন্যের কাজটা হয়তো আগে হয়ে গিয়েছে, তখন সে আবার গিয়ে যার দেরি হচ্ছে তার কাজটা share করত। এটা একটা পুরোনো tradition. আমি সেবাশ্রমে যাওয়ার আগে থেকেই বনবিহারী মহারাজ, উমেশ মহারাজ এসব করতেন। আমরা গিয়েও এ-সমস্ত পেয়েছি। তখন সেবার একটা আনন্দ ছিল। আমি আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমি নিজে এটা feel করেছি। বাস্তবিক, কখনো কখনো মনের অবস্থা এমন হতো, যাতে এই সেবা সত্যিই সাক্ষাৎ ভগবানের সেবা—এই ভাবনাটা আসত।

    একদিনের একটা ঘটনা বলছি। তখন আমরা road side case (রাস্তায় পীড়িত রোগী) উঠিয়ে আনতাম। বনবিহারী মহারাজ আর আমি রাস্তায় খবর পেয়ে একসঙ্গে গিয়ে স্টেশনের দিক থেকে রোগীকে উঠিয়ে নিয়ে এসেছি। তখন ৩নং, ৪নং, ৫নং ward-গুলিতে ছিল low bed, আর অন্য ward-গুলিতে ছিল high bed, Low bed-এ রাখা হতো একেবারে যারা খুব weak patient—উঠে পায়খানা করতে পারে না—এরকম। তার কাছাকাছি ঐ নিচু চৌকি দেওয়া হতো, যার ওপর থালা রেখে রোগীরা খেতে পারত। আর যখন bed pan হলো, তখন আমরা attend করতে না পারলেও ওখানেই ওরা পায়খানা করত। আমরা সেটা বদলে দিয়ে আবার একটা দিতাম। পরে মেথর এসে ঐ bed pan-গুলো পরিষ্কার করত। এই system ছিল।

    অন্য সম্প্রদায়ের সাধুরা কেউ কেউ তখন আমাদের কাছে আসত। একজন পাঞ্জাবি সাধু আমার কাছে প্রায়ই আসত। একদিন সকালবেলা একটা road side case ৫নং-এ একটা low bed-এ ভর্তি করা হয়েছে, তার গায়েতে অনেক দিনের stool [পায়খানা] শুকিয়ে আছে। তা সেগুলিকে তো ঘষে ঘষে ওঠাতে হবে—আমি একটা বাটির মধ্যে সাবান-জল নিয়ে, একটা ন্যাকড়া দিয়ে ঘষে ঘষে তা ওঠাচ্ছি। Foul odour [দুর্গন্ধ] তো আছেই। তারপরে সেই young পাঞ্জাবি সাধু, যে আমার কাছে আসত, সে আমাকে খুঁজছে ওখানে, দেখা করবার জন্য। সে শুনেছে আমি ৫নং ward-এ আছি। ওখানে যখন ঢুকছে, সে নাকে হাত দিয়ে আস্তে আস্তে ঢুকছে। আর আমি তো দু-হাতে পরিষ্কার করছি। সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে আর বলছে, 'আপ লোককা জীবন ধন্য হ্যায়, আপ লোক ধন্য হ্যায়, এ তো সাক্ষাৎ দেবতাকা সেবা হো রাহা হ্যায়। স্বামীজী, ম্যায় ভি কর সাকতা হুঁ?' আমি বললাম, 'আপ ক্যায়সে করেঙ্গে, আপ তো নাক মে হাত লাগাকে খাড়া হুয়া হ্যায়, আপ ক্যায়সে করেঙ্গে?' তখন সে লজ্জিত হয়ে বলছে, 'না না ঠিক হ্যায়, ম্যায় ভি থোড়া করে।' তখন সে এক-দুই বার হাত লাগিয়ে তারপর সরে গেল।

    স্বামী সত্ত্বানন্দ
    শীর্ষ : কাশী রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমে নারায়ণ-সেবা
    মূলগ্রন্থ : প্রাচীন সাধুদের কথা — দ্বিতীয় খণ্ড 
    সম্পাদক : স্বামী চেতনানন্দ
    পৃ.: ২০৭-২০৯

     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন