বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস (প্রথম অধ্যায় ষষ্ঠ অংশ)
গান্ধীর 'শান্তির ইসলাম' ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা: একটি ব্যবচ্ছেদ
মহাত্মা গান্ধী যখন বলেছিলেন "ইসলাম শান্তির ধর্ম", তখন তাঁর এই উক্তির পেছনে কোনো ঐতিহাসিক বা তাত্ত্বিক সত্যের চেয়ে 'রাজনৈতিক কৌশল' এবং 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি' বজায় রাখার চেষ্টা বেশি ছিল। পৌত্তলিক (সনাতন) গবেষক এবং কঠোর ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গান্ধীর এই উক্তিটি ছিল এক চরম মিথ্যাচার বা সত্যের অপলাপ।
গান্ধী কেন এটি বলেছিলেন এবং কেন তাঁর এই উক্তিটি ঐতিহাসিকভাবে ভুল ছিল। মহাত্মা গান্ধীর ‘শান্তির ইসলাম’ তত্ত্বের ব্যবচ্ছেদে তাঁর পারিবারিক জীবনের এই ট্র্যাজেডি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর অধ্যায়। পৌত্তলিক (সনাতন) গবেষকদের মতে, গান্ধীর তোষণ নীতির চরম মূল্য তাঁর নিজের পরিবারকেও দিতে হয়েছিল, যা ইসলামের তথাকথিত ‘শান্তির’ মুখোশ উন্মোচন করে দেয়।
পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, মহাত্মা গান্ধী একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই ঐক্য গড়তে গিয়ে তিনি ইসলামের রক্তক্ষয়ী ইতিহাসকে ধামাচাপা দিয়েছিলেন।
১. রাজনৈতিক তোষণ নীতি (Appeasement Politics) : গান্ধী বিশ্বাস করতেন, মুসলিমদের যদি 'শান্তির ধর্ম' বলে প্রশংসা করা না হয়, তবে তারা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেবে না। মুসলিমদের উগ্রতাকে কাজে লাগিয়েছেন।
◆ মিথ্যাচারের কারণ : তিনি জানতেন যে কোরআন এবং হাদিসে জিহাদ ও কাফের নিধনের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু তিনি তা এড়িয়ে গেছেন যাতে মুসলিম সমাজ ক্ষুব্ধ না হয়। এটি ছিল একটি সচেতন মিথ্যে, যা ভারতের পৌত্তলিক সমাজকে এক মিথ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল।
২. খিলাফত আন্দোলন ও মোপলা গণহত্যার ব্যর্থ শিক্ষা (১৯২১) : গান্ধী যখন ইসলামের শান্তির কথা প্রচার করছেন, ঠিক তখনই ১৯২১ সালে কেরালার মোপলা মুসলিমরা কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যা করে এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে।
◆ গান্ধীর ভূমিকা : এই ভয়াবহ গণহত্যার পরেও গান্ধী একে "মুসলিমদের সাহসিকতা" এবং "ধর্মীয় উন্মাদনা" বলে লঘু করে দেখার চেষ্টা করেন। পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, এটি ছিল গান্ধীর পক্ষ থেকে এক বিশাল অপরাধ, কারণ তিনি সত্য ধামাচাপা দিয়ে হিন্দুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন।
৩. কোরআনের আদর্শ বনাম গান্ধীর অহিংসা < গান্ধীর মূল দর্শন ছিল 'অহিংসা'। কিন্তু ইসলামের মূল দর্শন হলো 'জিহাদ' বা লড়াই।
◆ দ্বন্দ্ব : কোরআনে যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে— "তোমরা কাফেরদের যেখানে পাও হত্যা করো" (সূরা তওবা: ৫), সেখানে সেই ধর্মকে 'শান্তি'র ধর্ম বলা ছিল এক বিরাট স্ববিরোধিতা। গান্ধী নিজের অহিংসার তত্ত্বকে জাস্টিফাই করতে গিয়ে একটি যুদ্ধবাজ মতাদর্শকে শান্তির সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন।
৪. ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে (১৯৪৬) ও নোয়াখালী দাঙ্গা < গান্ধীর শান্তির বাণীর চাকা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে ১৯৪৬ সালে। জিন্নাহর 'ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে'-তে যখন কলকাতায় ও নোয়াখালীতে হিন্দুদের রক্তগঙ্গা বয়ে গেল, তখন গান্ধীর 'শান্তির ধর্ম' তত্ত্বের অসারতা প্রমাণিত হয়।
◆ গবেষকদের মত : গান্ধী যদি শুরু থেকেই ইসলামের আগ্রাসী চরিত্র সম্পর্কে হিন্দুদের সতর্ক করতেন এবং সত্য কথা বলতেন, তবে ১৯৪৭ সালে এত রক্তপাত ও দেশভাগ হতো না। তাঁর এই মিথ্যে প্রশস্তি হিন্দুদের আত্মরক্ষার মানসিকতাকে দুর্বল করে দিয়েছিল।
গান্ধীর তোষণ নীতির চরম মূল্য : নিজ পরিবারের পতন ও ‘শান্তির’ নিষ্ঠুর রূপ- গান্ধী যখন পুরো ভারতবর্ষকে ইসলামের শান্তির বাণী শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে চেয়েছিলেন, তখন তাঁর নিজের গৃহেই সেই ‘শান্তির’ নামে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছিল। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র হীরালাল গান্ধী-র ইসলাম গ্রহণ এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এর এক জীবন্ত উদাহরণ।
১. হীরালাল গান্ধীর ধর্মান্তর ও ‘আব্দুল্লাহ’ নাম ধারণ< ১৯৩৬ সালে হীরালাল গান্ধী নাগপুরের একটি মসজিদে প্রকাশ্য জনসভায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘আব্দুল্লাহ গান্ধী’।
◆ প্রেক্ষাপট : এটি কোনো আধ্যাত্মিক কারণে ছিল না, বরং ইসলামিক পণ্ডিত ও নেতারা অত্যন্ত সুকৌশলে গান্ধীর অহিংসা ও তোষণ নীতিকে উপহাস করার জন্য তাঁর নিজের ছেলেকে ব্যবহার করেছিলেন। তারা গান্ধীকে দেখাতে চেয়েছিলেন যে, যাঁর নিজের ছেলে ইসলাম গ্রহণ করে, তাঁর ইসলামের শান্তির প্রশংসা করা ছাড়া উপায় নেই।
২. পারিবারিক লাঞ্ছনা ও নৈতিক পতন : হীরালাল যখন আব্দুল্লাহ হলেন, তখন তৎকালীন ইসলামিক পণ্ডিতরা এবং তাঁর নতুন ‘ধর্মীয় ভাইরা’ তাঁকে অন্ধকার জীবনের দিকে ঠেলে দেয়।
◆ শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনা : বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পারিবারিক বর্ণনা অনুসারে, হীরালাল মদ এবং অনৈতিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ইসলামিক প্রচারকরা তাঁকে উদ্ধারের বদলে তাঁর এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে গান্ধীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করত।
◆ ভয়াবহ অভিযোগ : অনেক গবেষক এবং পারিবারিক নথিপত্রে উল্লেখ পাওয়া যায় যে, হীরালাল (আব্দুল্লাহ) তাঁর নিজ কন্যাকে অর্থাৎ গান্ধীর নাতনিকে পর্যন্ত অনৈতিক ও লালসার লাল বলির শিকার করার পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে যে, তৎকালীন কিছু কট্টরপন্থী মৌলবাদী শক্তির প্ররোচনায় তিনি তাঁর নিজ পরিবারের নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন।
৩. শান্তির ধর্মের নামে যে অন্ধকার উপহার পেলেন গান্ধী : গান্ধী তাঁর ছেলেকে ইসলামের হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে ‘শান্তি’ বা ‘অহিংসা’ কোনো অস্ত্রই কাজে লাগাতে পারেননি। তাঁর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধী হীরালালকে নিয়ে এক মর্মস্পর্শী চিঠিতে লিখেছিলেন যে, তাঁর ছেলে ধর্মের নামে অধর্মের পথে চলে গেছে।
◆ গবেষকদের মত : এটি ছিল ইসলামের সেই আদিম কৌশল—শত্রুর পরিবারকে ভেতরে থেকে ভেঙে দেওয়া। গান্ধী যে ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলেছিলেন, সেই ধর্মের অনুসারীরাই তাঁর ছেলেকে মদ ও পৈশাচিকতায় ডুবিয়ে রেখেছিল যাতে গান্ধীর নৈতিক মনোবল ভেঙে যায়।
◆ ইতিহাসের রায় : ২০২০ সালের গবেষণায় এটি স্পষ্ট যে, মহাত্মা গান্ধী ইসলামের শান্তির ব্যাপারে যা বলেছিলেন তা ছিল এক বিপজ্জনক মিথ্যে। তিনি চেয়েছিলেন এক কাল্পনিক ভ্রাতৃত্ব তৈরি করতে, কিন্তু বিনিময়ে তিনি ভারতের পৌত্তলিক সভ্যতাকে এমন এক বিপদের মুখে রেখে গেছেন যার মাশুল আজও পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং ভারতের হিন্দুদের রক্ত দিয়ে দিতে হচ্ছে। পৌত্তলিক গবেষণার নির্যাস হলো—গান্ধী একজন বড় মাপের নেতা হতে পারেন, কিন্তু ইসলামের প্রশ্নে তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় 'বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী' হিসেবে চিহ্নিত থাকবেন।
◆ ব্যক্তিগত ব্যর্থতা বনাম জাতীয় বিপর্যয় : হীরালাল গান্ধীর এই ট্র্যাজেডি প্রমাণ করে যে, ইসলামের ‘শান্তি’ গান্ধীর নিজের ঘরের দরজাও রক্ষা করতে পারেনি। যে ধর্মবদল একজন বাবাকে তাঁর ছেলের শত্রু বানিয়ে দেয় এবং পরিবারে অনৈতিকতাকে প্রশ্রয় দেয়, তাকে গান্ধী ‘শান্তির ধর্ম’ বলে অভিহিত করা ছিল এক বিশাল আত্মপ্রবঞ্চনা। ২০২৬ সালের ইতিহাসে এটি একটি অকাট্য প্রমাণ যে, তোষণ নীতি কেবল রাষ্ট্রকে নয়, ব্যক্তি ও পরিবারকেও ধ্বংস করে দেয়।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।