বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস
প্রথম অধ্যায় : একাদশ অংশ
ড. বি. আর. আম্বেদকরের দৃষ্টিতে গান্ধী ও ইসলাম : এক নির্মম সত্যের উন্মোচন
ড. বি. আর. আম্বেদকরের কালজয়ী গ্রন্থ 'Pakistan or The Partition of India'-এর আলোকে মহাত্মা গান্ধী এবং ইসলামের রাজনৈতিক চরিত্রের ওপর তাঁর করা বিশ্লেষণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
ভারতের সংবিধান প্রণেতা ড. বি. আর. আম্বেদকর তাঁর গবেষণায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দেখিয়েছেন যে, মহাত্মা গান্ধীর 'তোষণ নীতি' এবং ইসলামের 'একেশ্বরবাদী আগ্রাসন' কীভাবে ভারতের অস্তিত্বকে সংকটে ফেলেছিল।
১. ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধ ও কাফের তত্ত্ব : আম্বেদকর তাঁর বইতে লিখেছেন যে, ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধ কেবল মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
> "ইসলামের ভ্রাতৃত্ব মানুষের বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব নয়। এটি কেবল মুসলিমদের জন্য মুসলিমদের ভ্রাতৃত্ব। যারা এই মণ্ডলীর বাইরে (অ-মুসলিম/পৌত্তলিক), তাদের জন্য আছে কেবল ঘৃণা এবং শত্রুতা।" —
(সূত্র: Pakistan or The Partition of India, Chapter 13)
২. গান্ধীর তোষণ নীতির সমালোচনা : আম্বেদকর গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, গান্ধী মুসলিমদের প্রতিটি অন্যায় আবদার মেনে নিয়েছেন কেবল এই আশায় যে তারা একসময় শান্ত হবে। কিন্তু আম্বেদকরের মতে, এটি ছিল একটি ভুল কৌশল।
◆ পর্যবেক্ষণ : আম্বেদকর মনে করতেন, মুসলিমরা ভারতকে তাদের দেশ মনে করে না, তারা মনে করে এটি 'দারুল হরব' (যুদ্ধের ভূমি), যতক্ষণ না এটি 'দারুল ইসলাম' হচ্ছে। গান্ধী এই সত্যটি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বা সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন।
৩. মোপলা গণহত্যা নিয়ে গান্ধীর নীরবতা : ১৯২১ সালের মোপলা দাঙ্গায় হিন্দুদের ওপর পৈশাচিক অত্যাচারের পর গান্ধী যখন একে "মুসলিমদের ধর্মপরায়ণতা" বলে প্রশংসা করেছিলেন, তখন আম্বেদকর এর কঠোর নিন্দা জানান। তিনি লিখেছিলেন যে, হিন্দুদের রক্ত ঝরার পরেও গান্ধীর এই তোষণ নীতি ভারতের হিন্দু সমাজকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
আম্বেদকরের সতর্কবার্তা : ড. আম্বেদকর সতর্ক করেছিলেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি বিশেষ ধর্মগ্রন্থের আইন (শরিয়া) দেশের সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান পাবে, ততক্ষণ ভারতে প্রকৃত শান্তি আসবে না। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ভারতের হিন্দুরা আম্বেদকরের সেই দূরদর্শী সতর্কবার্তার সত্যতা প্রতি পদে পদে অনুভব করছে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।