এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস  (প্রথম অধ্যায় অষ্টম অংশ)

    লেখক শংকর হালদার লেখকের গ্রাহক হোন
    ২২ মার্চ ২০২৬ | ২৪ বার পঠিত
  • 1 | 2 | 4 | 5 | 6 | 3 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18
    https://guruchandali.com/comment.php?topic=34566
     
    বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মের নিপীড়ন-ইতিহাস
     
                          প্রথম অধ্যায় অষ্টম অংশ
     
    কাশ্মীর ফাইলস : তোষণ নীতির চূড়ান্ত উদাহরণ ও হিন্দুদের বঞ্চনা
     
    পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, কাশ্মীর ছিল ভারতের একটি পবিত্র জ্ঞানপীঠ। কিন্তু স্বাধীনতার পর গান্ধীর তথাকথিত 'শান্তির ইসলাম' তত্ত্বকে খুশি করতে গিয়ে সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫-এ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে কাশ্মীরকে এক বিশেষ সুবিধাভোগী অঞ্চলে পরিণত করা হয়।
     
    ১. বিশেষ সুবিধা ও জনগণের অর্থের অপচয় (Freebies and Subsidy) : দশক পর দশক ধরে ভারতের সাধারণ করদাতার (যাদের অধিকাংশ হিন্দু) রক্ত জল করা টাকা কাশ্মীরে ঢালা হয়েছে।
     
    ◆ বিনামূল্যে আহার ও আবাসন : কাশ্মীরের একটি বিশাল অংশকে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে চাল, ডাল এবং জ্বালানি দেওয়া হতো। যেখানে ভারতের অন্যান্য প্রান্তের দরিদ্র হিন্দুরা লড়াই করছিল, সেখানে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতার মানুষদের তুষ্ট রাখতে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হতো।
     
    ◆ নিরাপত্তার নামে তোষণ : যে পাথর নিক্ষেপকারীরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ করত, তাদের নিরাপত্তা এবং আইনি সুরক্ষার জন্য সরকারের কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হতো। পৌত্তলিক গবেষকদের মতে, এটি ছিল "শত্রুকে নিজ হাতে দুধ-কলা দিয়ে পোষার" মতো।
     
    ২. হিন্দুদের উচ্ছেদ ও নিঃস্বকরণ (১৯৯০-এর ট্র্যাজেডি) : যখন কাশ্মীরের মুসলিমদের জন্য বিনামূল্যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই ১৯৯০ সালে কয়েক লক্ষ কাশ্মীরি পণ্ডিতকে (হিন্দু) তাঁদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করা হয়।
     
    ◆ অবিচার : সরকার মুসলিমদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যতটা সচেষ্ট ছিল, হিন্দুদের সুরক্ষায় ততটাই উদাসীন ছিল। হিন্দুদের বাড়িঘর দখল করা হয়, মন্দির ধ্বংস করা হয়, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার গান্ধীর 'অহিংসা' ও 'শান্তি'র দোহাই দিয়ে নীরব দর্শক হয়ে ছিল।
     
    ◆ শরণার্থী শিবিরে হিন্দুরা : নিজ দেশে হিন্দুরা শরণার্থী হিসেবে প্লাস্টিকের তাঁবুর নিচে দিন কাটিয়েছে, অথচ কাশ্মীরে তোষণ নীতির কারণে মুসলিমরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে গেছে।
     
    ৩. ৩৭০ অনুচ্ছেদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের চাষ : কাশ্মীরের জন্য আলাদা সংবিধান ও পতাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল কেবল মুসলিম তুষ্টির জন্য।
     
    ◆ বৈষম্য : ভারতের অন্য কোনো প্রান্তের মানুষ কাশ্মীরে জমি কিনতে পারত না, কিন্তু কাশ্মীরের মানুষ ভারতের সর্বত্র সমস্ত অধিকার ভোগ করত। এই বৈষম্যমূলক আইনের কারণে কাশ্মীর একটি ইসলামী উগ্রবাদের প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
     
    ৪. অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি তুলনামূলক চিত্র
     
    | বিষয় | কাশ্মীরের সুবিধাভোগী (মুসলিম প্রধান অংশ) | ভারতের সাধারণ হিন্দু নাগরিক |
     
    ◆ সরকারি অনুদান : কেন্দ্র থেকে মাথাপিছু সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও ভর্তুকি কিন্তু সাধারণ নাগরিক হিসেবে নূন্যতম সুযোগ।
    ◆ নিরাপত্তা ব্যয় : স্থানীয় উগ্রপন্থীদের 'মূলস্রোতে' আনতে বিশেষ প্যাকেজ কিন্তু সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার সাধারণ ব্যবস্থা।
    ◆ আইনি কবজ : ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে বিশেষ সুরক্ষা কিন্তু সাধারণ ভারতীয় আইন দ্বারা শাসিত।
    ◆ মানবাধিকার : বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার ছিল তোষণকারীরা কিন্তু হিন্দু গণহত্যার সময় মানবাধিকার নীরব ছিল।
     
    ◆ উপসংহার : তোষণ নীতির বিষফল : কাশ্মীরের এই বিশেষ সুবিধাগুলো আসলে ভারতের জাতীয় সংহতিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। ২০২০ সালে দাঁড়িয়ে এটি পরিষ্কার যে, "বিনামূল্যে খাওয়ানো এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া" কাশ্মীরি হিন্দুদের কোনো উপকার করেনি, বরং উগ্রবাদী মানসিকতাকে আরও উসকে দিয়েছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর আজ সেই ভুলের সংশোধন হচ্ছে, তবে গত সাত দশকে হিন্দুদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
                              ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    1 | 2 | 4 | 5 | 6 | 3 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে প্রতিক্রিয়া দিন