এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  NRC/CAA

  • NRC-NPR-CAA -- বিদ্রোহের দ্বিতীয় দিন

    গুরুচন্ডা৯ লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | NRC/CAA | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২০৪ বার পঠিত
  • ছটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁরা নতুন নাগরিকত্ব আইন মানবেন না। আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও একধাপ এগিয়ে সরকারি নির্দেশাবলী জারি করে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে এন-পি-আর এর কাজকর্মে স্থগিতাদেশ জানানো হল। এখনও নিশ্চিত নয়, কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে, নবান্ন থেকে ঘোষণা করা হবে, পশ্চিমবঙ্গে কোনো ডিটেনশন ক্যাম্প হবেনা। 



    বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনও জনসমুদ্র অব্যাহত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং একটি বিরাট মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাতে জনসমাগম বিপুল। বিরোধী বামদের ডিটেনশন ক্যাম্প বিরোধী মিছিলেও বিপুল সাড়া। ধর্ণা চলছে দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে। হাজারো জনতা উপস্থিত সেখানে। উপস্থিত হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি। উত্তর-পূর্ব ভারতে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন তীব্রতর। আসামে যদিও আন্দোলনের চেহারা বাঙালি বিদ্বেষী, কিন্তু তার সঙ্গে এখথাও ঠিক, শাসক দল বিজেপির কোনো উপস্থিতি আছে বলে টের পাওয়া যাচ্ছেনা। 



    বিহারে আরজেডি ২১ শে ডিসেম্বর বন্‌ধের ডাক দিয়েছে। বাম দলগুলি দিন এগিয়ে এনে বন্‌ধ উনিশ তারিখ করার আবেদন করেছে, যাতে বাংলার মহামিছিলের সঙ্গে একই দিনে করা যায়। কেরালার শাসক সিপিএম এবং বিরোধী কংগ্রেস একযোগে দিল্লির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামছে। সেখানেও স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সামনে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিজেপির অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছেনা। 



    ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ অগণিত। প্রতি মুহূর্তে নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের খবর আসছে। আলাদা করে দেওয়া অসম্ভব। তবে বস্তুত ভারতবর্ষের প্রতিটি কোণে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে দিচ্ছে।  এরই মধ্যে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়, শোনা যাচ্ছে, এক আর-এস-এস কর্মী বিক্ষোভকারীদের হাতে ধরা পড়েছেন। তিনি মুসলমান সেজে ধ্বংসাত্মক কাজকর্মে উসকানি দিচ্ছিলেন। আর বহু জায়গায়ই এরকম চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা। তবে এইটুকুর বাইরে বাংলায় বিজেপির আর তেমন অস্তিত্ব চোখে পড়ছেনা। তাদের বিখ্যাত আইটি সেল ক্রমশ অকার্যকর হয়ে যাবার সম্ভানায় অবশ্য তীব্র প্রচার চালাচ্ছে। ছড়ানো হচ্ছে ভুয়ো খবর, ভিডিও, উত্তেজক বাণী। তা নিয়ে প্রতিবাদও হচ্ছে। প্রবল জনবিক্ষোভে মেঘালয়ের রাজ্যপালকে ছুটিতে যেতে হয়েছে। তিনি উত্তর কোরিয়ায় ছুটি কাটাতে গেছেন কিনা অবশ্য জানা যায়নি।



    এরই মধ্যে বাংলায় বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে। গতকাল, পনেরই ডিসেম্বর রবিবার, বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের ডাকে এনআরসি, সিএএ ( CAA) বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক সহমর্মী সংগঠন একত্রিত হয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে।  সম্মিলিত আলোচনায় বার বার উঠে  আসে ভারতীয় নাগরিকদের নাগরিকত্ব হারাবার  আশঙ্কা, সরকারের প্রতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি এবং সামনের দিনগুলোতে আন্দোলনের রূপরেখা কী হবে এইসব বিষয়। গুরুচণ্ডালি সহ, আওয়াজ, সহমন, যাদবপুরের মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আরো অনেক সংগঠন অংশগ্রহণ করে এই সভায়।  বিভিন্ন বিশিষ্ট বক্তা, ফুরফুরা শরিফের প্রতিনিধি সকলেই আবেদন জানান অহিংস উপায়ে এই গণ আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর রাশ না আলগা করতে। এর মধ্যেই আইনি লড়াই শুরু হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টে পিআইএল  করা হচ্ছে। 



    ১৯শে ডিসেম্বর ৬০ টি সংগঠনের ডাকে দেশব্যাপী যে বিক্ষোভ আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তাতে সাড়া দিয়ে এনার্সি ও ক্যা বিরোধী এক মহামিছিল মৌলালির রামলীলা ময়দান থেকে আয়োজন করা হয়েছে। এই বিরাট গণমিছিলের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। লক্ষাধিক জনসমাগমের আশা করা হচ্ছে ওইদিন।



    বাঙালি লড়ছে। সংখ্যালঘুরা লড়ছে। গোটা ভারতের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ লড়ছে। আন্দোলন এত দ্রুত ছড়াচ্ছে, যে, খবর প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে।  এই আন্দোলন চলছে দেশের বিরাট অংশে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত করে দেবার পরেও। মিডিয়ার একাংশের ব্ল্যাক-আউট সত্ত্ব্বেও। 



    এই আন্দোলন জাতিসত্ত্বার আন্দোলন। আঞ্চলিকতাকে রক্ষার আন্দোলন। হিন্দি-হিন্দু-হিন্দিস্তানকে প্রতিহত করার আন্দোলন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে রক্ষার আন্দোলন। শক্তিশালী কেন্দ্রীয় একনায়কত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন। বাঙালির জন্য এই আন্দোলন অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন। মিডিয়া ছাপুক না ছাপুক, আমরা খবর রাখছি। ১৯ তারিখ, পারলে, আসুন রামলীলা ময়দানে। আর খবর পেতে নজর রাখুন এই পাতায়। 


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২০৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত মতামত দিন