এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  ইতিহাস

  • পুনর্নবীকরণের ইতিহাস (History of Renormalisation)

    ঋক্ ধর্মপাল বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ইতিহাস | ২৭ জুলাই ২০২২ | ১৫১১ বার পঠিত
  • প্রথম সমস্যা : ইলেক্ট্রনের আত্মশক্তি 
     
    রিনর্মালাইজেশান শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন রবার্ট সার্বার, ১৯৩৬ সালে। ডিরাক থিওরিতে ভ্যাকুয়াম পোলারাইজেশান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার সময়ে। শব্দটা জনপ্রিয়তা পায় ১৯৪৭এর শেল্টার আইল্যান্ড কনফারেন্সের পরে। তবে রিনর্মালাইজেশানের সর্বপ্রথম ধারণা বোধহয় কিছুটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই হাজির হয়েছিলো উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে, ক্লাসিকাল হাইড্রোডিনামিক্সের আলোচনায়। কীকরে কোনো তরলের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা কোনো বস্তুর উপর লাগু হওয়া বলের মান বার করতে হয়, তা বিজ্ঞানীদের অবগত ছিলো। একই ফর্মালিজম দিয়ে সিস্টেমের টোটাল গতিশক্তি'ও নির্ধারণ করা যেতো। এখানেই বাধলো গেরো'টা! গতিশক্তিকে যে (1/2)MV^2 আকারে লেখা যায়, এখানে Mটা ঐ বস্তুর ভর(M°) নয়, বরং M = M° + M'। এই M' সিস্টেমের জ্যামিতিক আকার, তরলের ঘনত্ব ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। এই Mএর ধারণাকে'ই বহুবছর পরে আমরা রিনর্মালাইসড মাস বলে ডাকবো। এই রেজাল্টটা একদমই জেনারেল। এর দ্বারা যেটা দাঁড়ালো যে, কন্টিনিউয়াস ম্যাটেরিয়াল মিডিয়ামের মধ্যে দিয়ে যেকোনো মোশানের জন্যেই, বস্তুর 'প্রকৃত ভর' কী, এই প্রশ্নটা আবছা হয়ে যায়। আমরা পরে হয়তো 'বেয়ার মাস' নিয়ে কিছু আলোচনা করবো, যেখানে দেখবো যে 'বেয়ার' ল্যাগ্রাঞ্জিয়ানে যে ভর লেখা হয়, তার কোনো বাস্তব মানে'ই নেই। শুধুমাত্র রিনর্মালাইজেশানের পরেই সেই মাস কো-এফিশিয়েন্ট'টি তাৎপর্য ফিরে পায়। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে শুরু হলো ইথার নামক মাধ্যমকে খুঁজে বার করার নিদারুণ প্রয়াস। ইথারসংক্রান্ত বিশদ গল্পে, এই আলোচনায় আর ঢুকছিনা। ১৮৮১ সালে জে.জে.থমসন প্রথম কোনো চার্জের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক মাসের ধারণা উত্থাপিত করলেন। তখন'ও তিনি ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করেন নি। তার এখনও ১৮ বছর দেরী আছে। ক্লাসিকাল হাইড্রোডিনামিক্সের এনালজি টেনে তিনি প্রস্তাব রাখলেন গতিশীল চার্জের একটি এডিশানাল ভরের কথা'র। ইথার'কে কন্টিনিউয়াস ইলাস্টিক মিডিয়াম ভাবলে, চার্জের একটা এডিশানাল ভর আসার কথা'ই বটে! এই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক মাস নিয়ে এরপর কাজ শুরু করলো লরেন্টজের বিদগ্ধ মস্তিষ্ক। লরেন্টজ, ঐ ক্লাসিকাল হাইড্রোডিনামিক্সের মতোই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ভর'কে লিখলেন m = m° + m'। m°এর নাম তিনি দিলেন মেটিরিয়াল মাস আর m' নির্ভর করলো চার্জ স্ট্রাকচারের উপর। লরেন্টজ ভেবেছিলেন এই মেটিরিয়াল মাসের মান শূন্য অর্থাৎ চার্জের ভর একটি তড়িৎচুম্বকীয় বৈশিষ্ট্য । কিন্তু পয়েন্ট চার্জের এই তড়িৎচুম্বকীয় ভর গণণা করার সময়ে ফুলেফেঁপে ডাইভার্জ করতে আরম্ভ করে দিলো। ১৮৯৭ সালে, থমসন যখন ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করলেন, স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠলো এই ইলেকট্রন জিনিশটা কী দিয়ে তৈরী! লরেন্টজ এই নিয়ে মারাত্মক সব কাজকর্ম করতে শুরু করে দিলেন। তিনি ইলেক্ট্রনকে একটা ইউনিফর্ম চার্জ ডিস্ট্রিবিউশান'ধারী গোলক ভাবলেন। বিভিন্ন গণণা করে এবং থমসনের কাজ থেকে সাহায্য নিয়ে তিনি ইলেক্ট্রনের সেল্ফ মাস বার করলেন (2e^2)/(3ac^2)। কিন্তু এই লরেন্টজিয়ান ইলেক্ট্রনের ব্যাসার্ধ যখনই শূন্যের দিকে যাবে, এই সেল্ফ মাস'ও ডাইভার্জ করে যাবে! ইলেক্ট্রনের এই সেল্ফ এনার্জি ডাইভারজেন্স'ই ছিলো দুনিয়ার সর্বপ্রথম অতিবেগুনী ডাইভার্জেন্স। সেটা কী,আমরা পরে জানবো। তবে প্রকৃতি-মা আমাদের তখনই সতর্ক করে দিলেন,"দেখো হে! ফান্ডামেন্টাল পার্টিকেল নিয়ে নাড়াচাড়া করতে হলে সাবধানে করো!" এবারে দেখা গেলো, ইলেক্ট্রনকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধ দিতে গেলেই তার কনফিগারেশান'টা হয়ে যাচ্ছে অস্থিতিশীল! পয়েনকেয়ার ১৯০৬ সালে এই ব্যাপারে প্রস্তাব রাখলেন যে হয়তো ইলেট্রনের মধ্যে কোনো অ-তড়িৎচুম্বকীর কোহেসিভ বল রয়েছে, যা কুলম্ব বলের প্রভাবটাকে নাকচ করে দিচ্ছে। পয়েনকেয়ারের ধারণাই প্রথম মানুষকে ভাবালো যে ইলেক্ট্রনের ভরের হয়তো তড়িৎচুম্বকীয় ব্যুৎপত্তি ছাড়াও অন্য কোনো আঙ্গিক আছে। পরবর্তীকালে, স্টুকেলবার্গ, বপ, পাইস, সাকাতা ইত্যাদিদের গবেষণায় পয়েনকেয়ারের এই ধারণাই ভাবতে সাহায্য করেছিলো। ১৯২২ সালে ফার্মি প্রথম দেখালেন যে পয়েনকেয়ার ইলেক্ট্রন'ও স্থিতিশীল নয়। ফ্রেঙ্কেল বললেন যেহেতু ইলেক্ট্রনের কোনো সাবস্ট্রাকচার নেই, ক্লাসিকাল কাঠামোয় ইলেক্ট্রনের আভ্যন্তরীণ সাম্যাবস্থা নিয়ে আলোচনা করাটাই অর্থহীন। কিন্তু একটি পয়েন্ট ইলেক্ট্রন এবং তার থেকে উদ্ভূত তড়িৎচুম্বকীয় ফীল্ডের 'সেল্ফ ইন্টার‍্যাকশান' ও সেলফ এনার্জির ডাইভার্জেন্সর সমস্যাটা রয়েই গেলো। ফ্রেঙ্কেলের ধারণাকে সম্বল করেই, এই সমস্যার সমাধানে কিছু বছর পর ময়দানে নামলো QFT
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ২৭ জুলাই ২০২২ | ১৫১১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • শালিনী মাজি | 42.***.*** | ২৭ জুলাই ২০২২ ১৮:০৭510417
  • সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় | 43.23.***.*** | ২৩ এপ্রিল ২০২৩ ২২:৪২518944
  • লেখাটা বড্ড বেশি টেকনিক্যাল। বাংলায় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখার অভাব প্রকট। পথিক গুহ, বিকাশ সিংহ এঁরা চেষ্টা করেছেন কিছুটা, তবে সেই লেভেলের লেখা নেই। এঁরা মূলত নেচার বা সায়েন্স এর প্রতিবেদনের চমৎকার বঙ্গীকরণ করেছেন। বিদেশে ওয়াটসন থেকে শুরু করে জর্জ গ্যামো, লেডারম্যান, ফাইনম্যান, হকিং তাবড় দিগগজেরা পপুলার সায়েন্স লিখেছেন। 
     
    এ ধরনের লেখার মূল দস্তুর হল, নিজে কতটা জানি সেটা না দেখিয়ে - ব্যাপারটা একদম সহজভাবে জনসাধারণকে বোঝানো। এবার লেখক যদি বিজ্ঞানরচনায় কমলকুমার হতে চান, তাহলে কিছু বলার নেই। পাঠক নিজে খুঁটে খাবে তাই যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তর্কের এখানেই ইতি।
     
    তবে আশা করি লেখক সমালোচনাকে গঠনমূলক ভাবেই নেবেন এবং একটি বড়সড় লেখা লিখবেন প্রতিটি বিষয়কে বুঝিয়ে। তার জন্য ভাষার মুন্সিয়ানা অবশ্যই দরকার। এগুলোর দিকে নজর দিলে ভালো হয়।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন