দ,
ঠিক আছে। আজ থেকে বছর আগে গিয়েছিলাম আমাদের ইন্দোডাক্তারের বাড়ি। সঙ্গে ছিল মায়ের প্রেস্ক্রিপশন। সে ছিল এক সময়, গুরুর আড্ডা জমত কাবলিদার বাড়ি। যাকগে।
ইন্দ্রনীল বলল --মাসিমাকে অবশ্যই ইনফ্লোভ্যাক (ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন) এবং নিমোভ্যাক (নিমোনিয়ার ভ্যাকসিন) দেওয়াবেন।
তার আগে নামও শুনিনি। তখন আমি আর আমার ভাই কোলকাতার তাবড় তাবড় ওষুধের দোকানে হানা দিয়েও পাইনি। কারণ কী একটা গণ্ডগোলে প্রোডাকশন বন্ধ ছিল। ভুলে গেছলাম। ভেবেছিলাম ওসব সবার জন্যে নয়। কোভিডের এক বছর আগে দিল্লিতে হঠাৎ দেখলাম পরিচিত সব পরিবারে সবাই নিচ্ছে। পঞ্চাশ/ষাট পেরোনোরা দুটোই। তার কমবয়সের সবাই শুধু ইনফ্লোভ্যাক।
আমি মেদান্ত হাসপাতালে জিজ্ঞেস করলাম-। বলল--অবশ্যই নেবেন। এতদিন নেন নি? ওরা প্রেস্ক্রিপশনে লিখে দিলেন।
কোলকাতায় সমস্ত মেডিসিনের ডাক্তার বলছেন নিতে। এমনকি বাঙুরে আমার কাকিমার পাড়ার ডাক্তারও বলছেন এবং নিজে দিচ্ছেন। জানলাম সেই ভাইও বহুবছর ধরে নিচ্ছে, আমায় বলে নি। বিভীষণ কোথাকার!
ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস প্রতিবছর মিউটেট করে। তাই প্রতিবছর আগস্ট নাগাদ নতুন ভ্যাকসিন তৈরি হয়, গায়ে লেখা থাকে --২০২৬-২৭। একবার নিলে বারোমাসের আগে নেওয়া যায় না। নিমোভ্যাক লাইফে একবার।
লাভ?
আমার ছিল সর্দি ও হাঁচির ধাত। প্রতি সীজন পরিবর্তনের সময়, মানে বছরে অন্ততঃ তিনবার শুরু হত হাঁচি আর নাক চোখ দিয়ে জল পড়া। থামত না। রুমাল ভিজে যেত। তারপর সেটা ড্রাই হয়ে বুখে বসে গিয়ে ব্রংকো-অ্যাজমার শ্বাসকষ্ট শুরু হত।
হাতে তামা-তুলসী-গঙ্গাজল নিয়ে বলছিঃ ২০১৯ থেকে নেয়া শুরু করেছি, আজ অব্দি সর্দিজ্বর হয় নি। একবারও না। নাকদিয়ে জল পড়া আর প্রাণ বের করে দেয়া হাঁচি বন্ধ।
তোমার হাঁচিরবর্ণনা দেখে মনে হোল জিজ্ঞেস করি।
কিন্রতু আমি বলছি বলে নয়। বাড়ি ফিরে নিজের জিপি'র সংগে কনসাল্ট করে তবে নেবে।