এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • গুরুর সাথে আটটি বছর 

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ৫৯৮ বার পঠিত | রেটিং ৪.৭ (৩ জন)
  • সম্ভবতঃ ২০১৮’র শুরু থেকে গুরুতে মাঝে মধ্যে ঢুঁ মারলেও ২৮.১০.১৮ থেকে মজলাম গু৯তে‌। তার জন্য দায়ী শিবাংশু। উনি মার্চ ২০২১ থেকে গুরু থেকে দূরে আছেন - মানে নিজের লেখা পোস্ট করার ক্ষেত্রে। তবে এখনও মাঝেমধ্যে গুরুতে অন্যের লেখার ওপর তাঁর সুললিত মন্তব্য দেখা যায়। যেমন ওনার মন্তব্য‌টি রয়ে গেল গু৯ প্রকাশিত অমলেন্দু বিশ্বাসের সেই দিন সেই মন ব‌ই‌য়ের জ্যাকেটে। শুনেছি তিনি এখন সিরিয়াস লেখালেখি নিয়ে নিমগ্ন, যেগুলি ব‌ই হ‌য়ে প্রকাশিত হচ্ছে।
     
    কর্মজীবনে সাড়ে পঞ্চান্নয় স্বেচ্ছায় ইতি টেনে ২০১৬ থেকে ২২ - ছয়টি বছর কর্ণাটকে‌র উদুপীর কাছে মণিপালে আক্ষরিক অর্থে সম্পূর্ণ নির্বান্ধব জীবন তিনজনে কাটিয়েছি সপরিবারে (স্ত্রী ও এক পূত্র)। এমন বন্ধু‌বান্ধবহীন জীবনযাপনে অনেকে হাঁফিয়ে উঠতে পারে। আমার কোনো অস্বস্তি ছিলনা, হয়তো আত্মসঙ্গে নিত্যানন্দ পাবলিক বলে‌ই।
     
    তো সেই সময় ২৮.১০.১৮ সন্ধ্যা থেকে একঠায়ে পড়ে গেলাম শিবাংশু‌র ১১ হাজার শব্দের‌ একটি বড় লেখা “আমাকে তুই আনলি কেন..”‌। কবিতার মর্মার্থ আমার মর্মে প্রবেশ করে না। সেই লেখাটির শিরোনাম, লেখা‌র মাঝে মাঝে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা‌র অংশ ও চাইবাসায় শক্তি‌র কিছু প্রসঙ্গ এসেছে। তবে লেখাটি কবিতা নয়। কাব্যিক গদ্য যা পড়ার অদ্ভুত এক ভালোলাগার অনুভবের রেশ রয়ে গেছে আজ‌ও।
     
    শিবাংশু‌র আরো কিছু লেখা মন ছুঁয়ে গেছে - অন্য মেয়েটা, বসন্ত মুখারী:, ক্লোরোফিলগাথা, ...যেন হেঁটে যেতে পারি ইত্যাদি। কালী এক অনার্য ওডিসি বা বুদ্ধকথা গোছের বেশ কিছু লেখা‌ও আছে। ওগুলো সিরিয়াস ঘরাণার। ওসব ঋদ্ধ পাঠকদের Atkins diet. আমার মতো পাতিরাম পাঠুরের রসনায় টকডাল, আলুপোস্ত, ভাত‌ই লাগে অপূর্ব। তাই ওনার যাঃ…, স্বপনে তাহারে বা বাসুকি‌র ব্যাথা লাগে খাসা।
     
    গু৯তে পড়া কিছু প্রিয় লেখকের কথা আগেও বলেছি, আবার বলি। কিছু ভালো‌লাগা একবার ব্যক্ত করে আশ মেটেনা।
     
    হীরেন সিংহরায় - ওনার ৪৩ পর্বের “দূরে কোথায়" আমায় মজিয়ে রেখেছিল বলবো না কারণ লেখাটি‌র মূল প্রসঙ্গ এবং আন্ডারটোন মরবিড - রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ। তবে ধরে রেখেছিল শেষ অবধি। তেমনি ওনার কিছুক্ষণ, বৈঠকী আড্ডায়, পবিত্র ভূমি, তবিলদারের দুনিয়াদারি ইত্যাদি সিরিজ বেশ লেগেছে। হীরেনদার লেখার USP আমার মনে হয়েছে ইতিহাস, বহু অজানা তথ্য এবং বর্ণনা সুস্বাদু ভঙ্গিতে পরিবেশন। মাঝে মধ্যে তাতে থাকে মজানো আচারের সরসতা।
     
    রঞ্জন রায় - অদ্বৈত বেদান্ত ও মায়াবাদ নিয়ে এ্যাকাডেমিক টোনের লেখা যে লেখক লেখেন তিনি‌ই আবার “হারানো কলকাতার” গল্প বা “ছত্তিশগড়ে‌র গেঁয়ো ব্যাঙ্কের স্মৃতি‌” র মতো অত্যন্ত সরস বা “যে আঁধার আলোর অধিক”-এর গোত্রের ভাবানোর মতো লেখা‌ও লেখেন। রঞ্জনবাবুর এই ভার্সাটালিটি এবং ক্যাসুয়াল এ্যাপ্রোচ বেশ টানে।
     
    অমর মিত্র - পেনসিলে লেখা জীবন। সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার‌প্রাপ্ত এই প্রখ্যাত লেখকের গুরুতে প্রথম প্রকাশিত বাস্তব অভিজ্ঞতা আধারিত মাটিঘেঁষা ঐ সিরিজ‌টি বেশ লেগেছিল।
     
    যোষিতা - এল ডোরাডো। লেখিকার দেশে বিদেশে নিজের জীবনের কঠিন কিছু সময় এবং গোল্ডিজীর মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডে প্রথাগতভাবে না আসা ভারতীয় অভিবাসীর জীবনের কঠিন কিছু আখ্যা‌ন বিশেষ‌ভাবে ছুঁয়ে গেছে। এসব আমার অজানা ছিল।
     
    সাদেকুজ্জামান শরীফ - বাঙালের রোমানিয়া গমন। যোষিতার মতো শরীফভাইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা‌র অকপট‌ভাষণ মুগ্ধ করেছিল।
     
    কল্লোল - কারাগার বধ্যভূমি ও একঝাঁক স্মৃতি বুলেট। মন বিবশ হয়ে গেছিল এ লেখা পড়ে।
     
    অমলেন্দু বিশ্বাস- সম্প্রতি একটানা পড়ে শেষ করলাম ৩৩ পর্বের সেই দিন সেই মন। বিরাট ক্যানভাসে লেখা এক বৈচিত্র্যময় জীবনের সুলিখিত আখ্যা‌ন। এটার ওপর পরে আরো কিছু মনোভাব ব্যক্ত করার ইচ্ছা আছে। বস্তুত ওনার লেখাটি‌ আজ শেষ করেই গুরুর সাথে আটবছরের সম্পর্ক নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছে করলো। কারণ গুরুসঙ্গ না করলে এগুলি হয়তো আমার অজানা‌ই থেকে যেতো।
     
    এছাড়াও আরো কয়েকজনের লেখা ভালো লেগেছে যেমন সুকান্ত ঘোষ (চেনা মানুষ অজানা কথা সিরিজ), প্যালারামের রাসেলের পশ্চিমা দর্শনের অনুবাদ, স্বাতী রায় অনুদিত হেনরি মর্টন স্ট্যানলের ডেভিড লিভিংস্টোনের খোঁজে ইত্যাদি।
     
    আমার মনে হয়েছে গুরুর কিছু বিশেষ ধরণের লেখা অনুধাবন করতে গেলে পাঠকেরও বিশেষ লেভেলের মননশীলতা, পড়াশোনা‌, বৌদ্ধিক চর্চা‌র প্রয়োজন। আমি আমার সীমাবদ্ধতা জানি। তা অতিক্রম করার সাধ এবং সাধ্য‌‌ও নেই। আমি বুঝি সবকিছু সবার জন্য নয়। যা কিছু আমার পাচন ক্ষমতার উপযুক্ত, তা‌ও পড়ে উঠতে পারিনা। কারণ আমি খুব ধীরগতির পাঠক।
     
    গু৯র আর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য - ভাটিয়ালি। এই দরিয়ার প্লাবনে আমি ভাসতে আসিনা। মাঝেমধ্যে এসে পাড়ে বসে দেখি। কখনো মনে হয় কোনো আকর্ষণীয়, বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনাচক্রের দর্শকাসনে বসে আছি। যেমন জুলাই ২০২৫এ হয়েছিল সত্যজিৎ কমলকুমার নিয়ে বা হালে হোলো দলিত সাহিত্য নিয়ে।
     
    কখনো মনে হয় যেন কপিল শর্মার কমেডি শো দেখছি। তখন আপন মনে মন খুলে হাসি। অক্সিজেন শরীরের পক্ষে সব বয়সে‌ই উপকারী।
     
    কখনো কোনো প্রসঙ্গে সুচিন্তিত, ফোকাসড, বিশ্লেষণাত্মক মন্তব্য ভাবায়। কখনো তাতে কিছু পজিটিভ টেক‌এ্যাওয়ে পাওয়া যায়। তেমন দেখেছি kk, lcm, অরণ্য, যদুবাবু, অরিন, অমিতাভ চক্রবর্তী, রমিত চট্টোপাধ্যায় এনাদের মধ্যে।
     
    মন্তব্য বুদ্ধি‌দীপ্ত কিন্তু নির্দোষ রম্যসময় হলে‌ও সুপাচ্য লাগে। যেমন dc, :|:, র২হ
     
    মন্তব্য হিটিং বিলো দ্য বেল্ট না হলে বর্ডারলাইন শ্লেষাত্মক পর্যন্ত মেনে নেওয়া যায় কারণ - শ্লেষ, বক্রোক্তি, তির্যক উক্তি এগুলি‌ও ব্যাকরণে অলঙ্কার বিশেষ।
     
    কিন্তু কখনো মন্তব্য / প্রতিমন্তব্য এমন নিকৃষ্ট পর্যায়ে চলে যায় যে মনে হয় কিছু নেড়ি কুকুর পেঁকো নর্দমায় নেমে খেয়োখেয়ি করছে। দেখে মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। তখন যা ভাষার ব্যবহার হয়, তা দেখে একটি‌ই শব্দ মনে আসে - ছিঃ।
     
    এসবের মুখ্য কারণ গুরুর ঘোষিত দর্শন - গুরু ব্যব‌কারকারী লেখক, পাঠক, ভাটুরে - কারুর‌ই আত্মপরিচয় দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে আত্মপ্রকাশ না করে নিকের আড়াল থেকে, ঘনঘন IP Address বদলে কিছু মানুষের (!) চলে চূড়ান্ত অসভ্যতা‌র কদর্য প্রদর্শন।
     
    তো এস‌ব নিয়েই গুরু। গুরুর ক্যাবিনেটে অনেক আরশোলা। হিট স্প্রে করার ইচ্ছা‌ কারুরই নেই। শুনেছি রাজহাঁস দুধজলের মিশ্রণ থেকে কেবল দুধ ছেঁকে খেতে পারে। তাই আমিও আট বছর ধরে গোবিন্দ‌ভোগ চাল থেকে আরশোলার নাদি বেছে‌ খাই। নাদির জন্য চাল তো আর ফেলে দিতে পারি না। যখন কিছুদিন ভাত ভালো লাগেনা, রুটি খাই। সে আটায় নাদি নেই।‌

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ৫৯৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
    আরও পড়ুন
    জলছবি  - Chandan Ghosh
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:১৬740121
  • এসব করলে চলবে না সমরেশবাবু। বেড়ানোর গপ্পো কই?
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২০740122
  • সমরেশবাবু, আরও কয়েক বছরের পুরনো কিছু টই ঘেঁটে দেখতে পারেন। ডিডিদা অনেকদিন হলো লেখেন না, কিন্তু যখন লিখতেন, তখন এক অসাধারন ব্যপার হতো। কুমুদির লেখা, মন্তব্য ইত্যাদিও দেখতে পারেন, সারাদিন ধরে হাসবেন। তাছাড়া আগে বর্ন ফ্রি, মিঠুন ইত্যাদিরা নানান বিষয় নিয়ে লিখতেন, সেগুলো দেখতে পারেন।
     
    আমি এমনিতে পুরানো সেই দিনের কথা নিয়ে কখনো বসে থাকিনা, তবে এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে একসময়ে গুরুতে যে মানের আলোচনা হতো এখন তার অর্ধেকও হয়না। আমি গুরুতে অনেকের লেখা পড়ে অনেক কিছু শিখেছি, তার থেকেও বড়ো কথা নতুনভাবে চিন্তা করতে শিখেছি। এখন আর সেরকম হয়না, তবে পুরনো টইগুলো আছে, সেগুলো পড়ে দেখতে পারেন :-)
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:২৭740123
  • আরেকজনের নাম না করলেই নয়, ন্যাড়াবাবু। তাছাড়া আরও অনেকে ছিলেন। পুরনো টইতে গেলে পেয়ে যাবেন।
  • kk | 2607:*:*:*:*:*:*:* | ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩৩740124
  • সমরেশ লান,
    এত সব সুজনের সঙ্গে আমার নামও নিলেন... অনেক ধন্যবাদ! গুরুতে আমার ভালোলাগা জিনিষগুলোর মধ্যে আপনার বেড়ানোর গল্পও থাকবে। আমি কিন্তু অপেক্ষায় আছি আবার কবে লিখবেন।
  • সমরেশ মুখার্জী | ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩৩740125
  • যেহেতু কেকে ওর গু৯তে ফেলা বয়স ও লিঙ্গ নিরপেক্ষ লান শলাটার পেটেন্ট নেয়নি তাই ওটাই হু৯য়ে ইউস করছি কেমন:
     
    ডট-লান - যতো জায়গায় গেছি, তার মধ্যে আরো কয়েকটি একাকী বা দলীয় ভ্রমণ একটু হঠকে, বেশ আকর্ষণীয় লেগেছিল। সেসব বেত্তান্ত স্মৃতি‌তে ধূসর হয়ে যাওয়ার আগে খুব ইচ্ছে করে লিখতে, শেয়ার করতে। আচ্ছা এবার সিরিয়াস৯ চেষ্টা করবো লিখতে।
     
    ডিসি-লান - আপনার শলার জন্য ধন্যবাদ।
  • সমরেশ মুখার্জী | ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫৬740126
  • ঐ যাঃ, ডট-লানকে লিখে‌ই দেখি, আপনি‌ও ঐ এক‌ই কথা বলেছেন। এবার তো তাহলে লিখতেই হয় আরো দু একটা পর্ব।
     
    আর একটা কথা, কাউকে অযথা হাওয়া দেওয়া আমার কুষ্টিতে নেই। যাদের ভাবনা, আচরণ আমায় মুগ্ধ করে, অন্তর থেকে উৎসারিত সেই মুগ্ধতা আমি মুক্ত কণ্ঠে বলি। যাদের আচরণ, কথায় মন ভারাক্রান্ত হয়, তাদের কথা চেপে যাই। তবে দোষেগুণে মানুষ - তাই কখনো তাদের বিরক্তিকর মন্তব্য পড়ে তিক্ততা প্রকাশ হয়ে পড়ে। পরে নিজের‌ই খারাপ লাগে।
     
    সর্বসমক্ষে স্বীকার করছি - আপনাকে আমার অত্যন্ত পজিটিভ পার্সন বলে মনে হয়েছে। বিগত আট বছরে - আপনার মন্তব্যে কখনো অপমানজনক বা বিদ্রুপাত্মক কটূক্তি দেখিনি। কোনো বিষয়ে আপনার অভিমত‌ও সর্বদা গঠনমূলক। এটা খুব বড় গুণ। এ জিনিস স্বভাবে মজ্জাগত না হলে চেষ্টা করে ধারাবাহিকতার সাথে পালন করা সম্ভব বলে মনে হয় না।
     
    আন্তরিক শুভেচ্ছা নেবেন। ভালো থাকবেন।
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০১:০৫740127
  • প্রিয় স্যাম, নিতান্তই অবরে সবরে কিছু কথা বলে ফেলি বটে, পছন্দের লেখায় তুলনায় বেশি করে। আপনার লেখাতেও প্রিয়তা জানিয়েছি, আমার কুঁড়েমির কারণে আরো অনেক বার জানানো থেকে দূরে থেকে। সে দু'-চার কথার ছোঁয়া আপনার স্মৃতিতে জায়গা পেয়েছে, এ আমার জন্য খুবই আনন্দের।
     
    বেড়ানোর গল্প শোনানোর দাবিতে আমিও গলা মিলিয়ে গেলাম।
  • সমরেশ মুখার্জী | ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৭740137
  • অমিতাভ লান - কেবল কখনো আমার লেখায় প্রিয়তা জানিয়েছেন বলে যে আপনার নামোল্লেখ করেছি, তা নয়। অন্যের লেখার ওপর বা ভাটে কোনো প্রসঙ্গে মন্তব্যে‌র ক্ষেত্রে - কেকের মতো আপনার মধ্যেও ধারাবাহিক‌ভাবে সুচিন্তিত (গ্ৰহণযোগ্য) ভাবনা ও মার্জিত রুচির প্রকাশ দেখেছি।
     
    যেমন ১৪ই এপ্রিল ০৬:১২ ভাটে দলিত সাহিত্য নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য‌টি লেগেছিল বেশ - এরা গল্পের চরিত্র। এদের উত্তরণ হয়নি। এবার কেন হয়নি এই প্রশ্ন যার মনে এল, এই ভাবনা যিনি ভাবলেন, উত্তরণ হল তার। এবার এই ভাবনা তিনি যদি আর কারো মনে চারিয়ে দিয়ে তার মনে প্রশ্নের বীজ বুনে দিতে পারেন তখন সেই অন্য কারও কাছেও উত্তরণের ডাক আসে। লেখক যে ছবি আঁকলেন প্রশ্নটা এল সেই ছবি থেকে।
     
    শৈশব থেকে যে পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা (upbringing), পরবর্তীতে জীবনের নানা ওঠাপড়া থেকে শিক্ষা নেওয়া, জীবনে কিছু বিশেষ মানুষের গভীর প্রভাব - এসবের সাথে সচেতন তাগিদ ও আন্তরিক প্রয়াসে মানুষ তার আচরণে রপ্ত করতে পারে ভদ্রতা‌বোধ। এটা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না।
     
    দুঃখের বিষয় - অশালীন আঙ্গিকে অতিচালাকের মতো কথাবার্তা কিছু মানুষের কাছে স্মার্টনেসের সংজ্ঞা। আপনি এবং আরো যে ক'জনের উল্লেখ করেছি - তারা এর উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।
     
    ভালো থাকবেন।
     
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫৪740153
  • সমরেশলান, আপনি এই আট বছরের যে ফিরে দেখা লিখেছেন, পড়ে খুব ভালো লাগল। ছোটো ছোটো মুহূর্ত, ধারাবাহিকগুলো যখন প্রকাশ পাচ্ছিল সেই সব সময়গুলো মনে পড়ে গেল আবার। তালিকায় নাম দেখতে পেয়েও বেশ আনন্দ পেলাম। অনেকগুলো থ্যাঙ্কু আপনার জন্য।
     
    তবে বাকিদের সাথে একই সুরে এটুকু বলতেই পারি, আপনার আরো ভ্রমণ বৃত্তান্ত আসুক গুরুর পাতায়। ভালো থাকবেন।
  • syandi | 159.*.*.* | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৩৭740166
  • সমরেশলান,
    আপনার ভ্রমণকাহিনীগুলি পড়েছি এবং আপনার লেখার প্রসাদগুণে আমার ঐ না যাওয়া জায়গাগুলিতে মানসভ্রমণও করে ফেলেছি। গুরুর সাথে আপনার জার্নিটাও একটা ভ্রমণ এবং এটা নিয়ে আপনি যে ভ্রমণকাহিনীটা লিখেছেন সেটাও বেশ সুন্দর। গুরুর লেখকদের মধ্যে আপনি দময়ন্তীর লেখা পড়েছেন? ওঁর লেখা 'সিজনস অফ বিট্রেয়াল', 'সেই মেয়েটা ভেলভেলেটা' বা 'ভাগাড়পাড়া স্কুল' অদ্ভূত রকমের লেখা এবং আলাদা রকমের লেখা।
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৩740167
  • Syandy লান
     
    এটা বেশ বলেছেন - গুরুর সাথে আটটি বছর - এও এক যাত্রা। গুরু একটি মহাসাগর, আমি ভালো সাঁতার জানি না, দম‌ও কম, তাই গভীর জলের থেকে দূরে থাকি।
     
    বাল্যবিধবা বড়পিসির অকালমৃত বর নদীয়া জেলার এক অজ গ্ৰাম ভেবোডাঙায় কাঠা দশেক জমির ওপর একটি তিন মহলা বাড়ি করেছিলেন। ছোটবেলায় সেই বড় জমির ওপর বাড়িটি‌তে এক বছর মুক্ত বিহঙ্গের মতো কাটিয়েছি‌লাম।
     
    বর্ষা‌য় জমির একটা বড় গর্ততে জমা টলটলে জল জলে নিমগাছের পাতার ঝিরিঝিরি ছায়া পড়তো। বড় জমির এককোনে একটি ছোট্ট বালক সেই জলে কাগজের নৌকা, মেলা থেকে কেনা প্লাটিকের সাদা হাঁস ভাসিয়ে পাটকাঠি দিয়ে ঠেলতো। গুরগুর করে ভেসে চলতো ওগুলো। বালকটি মুগ্ধ হয়ে দেখতো। কী ভাবতো এখন ভেবে পাইনা।
     
    নয় দশ বছর বয়সে সাঁকরাইলের গঙ্গায় একবছর দাপিয়েছি, পঁয়ত্রিশে ওড়িশা‌য় সুড়সুড়ি ঝর্ণার জলে সৃষ্ট জলাশয়ে দাপিয়েছি, পঞ্চাশে ঋষিকেশের গঙ্গায় করেছি একটু হোয়াইট ওয়াটার র‌্যাফটিং। জলের সাথে আমার সরাসরি সম্পর্ক বলতে এরকম‌ই কিছু সুন্দর সময়।
     
    সাগর আমি দূর থেকে দেখি।
     
  • বিপ্লব রহমান | ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৩740255
  • বাপ্রে! রীতিমতো গুরুর গুরুতর মুর্দাফরাশ!
     
    "কিন্তু কখনো মন্তব্য / প্রতিমন্তব্য এমন নিকৃষ্ট পর্যায়ে চলে যায় যে মনে হয় কিছু নেড়ি কুকুর পেঁকো নর্দমায় নেমে খেয়োখেয়ি করছে।"
     
    সত্যিই খুব পীড়াদায়ক।
    আরও ভ্রমণ কাহিনী লিখুন প্লিজ। শুভ
  • হেহেহে | 2001:*:*:*:*:*:*:* | ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৩740256
  • এ হ্যাজ মালটা আবার হ্যাজ নামিয়েছে। আরে যারা এর হ্যাজে কি ভাল কি ভাল করেছে তাদের থ্যাংকসগিভিং হ্যাজ এটে। গুরুরা খামোখাই নানা সাজেশান দিচ্ছে। ওই লোকেরা এর পিঠ চুল্কাতে এলে তখন দেখা যাবে।
  • Bratin Das | ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১৪740263
  • বহুত খুব
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৯740277
  • কেকে লান
     
    এখন খেয়াল করলাম ২১.৪/২৩:৫৬ পোষ্টে আপনার নামোল্লেখ করতে ভুলেছি। ওটা ছিল আপনার ২১.৪/২৩:৩৩ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে। তবে আপনি খুঁটিয়ে পড়েন, তাই হয়তো বুঝতে‌ই পেরেছেন, তবু ....
  • Bratin Das | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:২৪740280
  • সমরেশ বাবু আমার নাম লেখেন নি sad
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২১740283
  • ব্রতীন লান
    আপ ভী লিজিয়ে - মেরা সুক্রিয়া heart
     
  • kk | 2607:*:*:*:*:*:*:* | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৩740288
  • সমরেশ লান,
    না না, সে আমি ঠিকই বুঝতে পেরেছি :-)
    পান পরাগের এই পুরোনো অ্যাডটা অনেকদিন পরে দেখে মজা লাগলো।
  • Bratin Das | ০৯ মে ২০২৬ ১৯:৩৫740586
  • সমরেশ বাবু আপনার ভৌগলিক অবস্থান কোথায় ? কলকাতায় এলে একদিন জমিয়ে আড্ডা হবে কিন্তু
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন