
১৮৬৫ সালের কথা – বিদ্যাসাগর একদিন দেখা করতে এলেন অক্ষয়কুমার দত্তের সাথে। এখনো মাঝে মাঝে গ্রামে যান তিনি, মা এখনো বেঁচে আছেন। এমনিতে বৌবাজারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে হেঁটে বাগবাজার যেতেন। বাগবাজার ঘাট থেকে খেয়া ধরে সালকিয়া (শালিখা) - সেখান থেকে পাকা সড়ক ধরে মশাট, তারপর একটানা পুরো বীরসিংহ পর্যন্ত হেঁটে। মাঝে চণ্ডীতলায় সরাইখানায় রাত্রিযাপন করে পরদিন রাজবল্লভহাট দিয়ে খেয়ায় দামোদর পার হতেন। কিন্তু ইদানিং হচ্ছে কি, কলেজ বা কলকাতার কাজকর্ম শেষ করে রওয়ানা দিয়ে যখন তিনি যাত্রার শেষ ধাপে এসে পৌঁছন, তখন প্রায়ই সমস্যা হচ্ছে। রাত হয়ে যায়, দামোদর পেরোনোর জন্য নৌকা পাওয়া যায় না। তাই তিনি ভাবছেন সাঁতারে পেরোনো সম্ভব কিনা। বিদ্যাসাগর যে সাঁতার জানেন, সেটা অক্ষয় কুমার দত্ত জানতেন, কারণ দুজনে একই সাথে বাগবাজারের কাছের গঙ্গায় মাঝে মাঝে সাঁতার কাটতে যেতেন। বিদ্যাসাগর ধুতি পরে সাঁতারের সমস্যার কথা জানালেন অক্ষয়কুমার দত্তকে। বাগবাজারের গঙ্গায় গরমের দিনে বিকেল বেলায় খানিকক্ষণ ধুতি পরে সাঁতার কাটা এক, আর বর্ষায় প্রবল ভয়ঙ্কর দামোদরে ধুতি পরে ঝাঁপানো আরেক ব্যাপার! ... ...

থোকায় থোকায় জ্বলতে থাকা জোনাই বা জোনাকির দেখা পাওয়া সত্যিই এক বিরল অভিজ্ঞতা। শহর প্রান্তিক এলাকার আবাসিক হবার কারণে এখনও এইসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার আনন্দ লাভের সুযোগ ঘটে যায়। এখনও মাঝে মাঝেই নিশুতি রাতের আঁধার চিরে আমার মশারির ওপর নেমে আসে এই আলোকবর্তিকাবাহী পতঙ্গেরা । তখন এক আশ্চর্য তৃপ্তি ও আনন্দের স্রোত বয়ে যায় শরীরে ও মনে। আপনাদের অভিজ্ঞতা শোনার জন্য কান পেতে রইলাম। ... ...

আমি হাতে ভর দিয়ে শুয়ে ডোমাকে দেখছিলুম। মেয়েটাকে কেমন সারসের মতো দেখাচ্ছে না! ওকে তো আমি, লোক না এলে, নিজে হাতে ময়লা কাউন্টার সাফা করতে দেখেছি। খদ্দেরের উলটি-ও। বাজারে দাঁড়িয়ে এস্পারাগাসের আঁটি ভেঙে কচি না বুড়ো পরখ করতে। ছুরপিওয়ালার সঙ্গে ঝগড়া করতে। বেঁটেখাটো পাওয়ারহাউস একখানা। সে কেমন এই নীল আলোর মধ্যে, হাল্কা পার্পল রঙের একটা সারসের মতো গলা উঁচু করে সবার থেকে পৃথক হয়ে গেছে হঠাৎ। আর প্রদীপ.... ... ...

SIR এর মোড়কে দেশব্যাপী NRC চলছে। কিন্তু, এই NRC র বিপদ ঠিক কতজন বুঝতে পারছি? কতটা অন্যায়, কতটা প্রতারণা একটা সরকার তার নাগরিকের সঙ্গে করছে, নাগরিক কি বুঝতে পারছে? এই পরিস্থিতিতে অসমের এনারসি একবার ফিরে দেখা... ... ...

এক অনন্য জীবন। নিকষ অন্ধকারে একফালি আলো। ... ...

আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে লেখালেখির জন্য আপনার সবচেয়ে প্রিয় বিষয় কী? আমি একবাক্যে স্বীকার করে নেব মানুষ হলো আমার সবথেকে প্রিয়। মানুষের মনোজমিন ঠিকঠাক আবাদ করলে সত্যিই সোনা ফলবে। এমনই কিছু মানুষের কথা নিয়েই আমার এবারের লেখালেখি । ... ...

যাইহোক, গল্পটা মোটেও সাঁতরাপাড়ার না। গল্পটা সাঁতরাপাড়া থেকে আরেকটু দূরে, দমদম জং স্টেশনের দিকে যাওয়ার রাস্তায় আরেকটা মাঠের। তখনকার দিনে সেটা ছিলো অমৃতলাল ওঝা স্কুলের মাঠ। সেখানে আরেক দল, আমাদের-ই বয়সী আরেকটি ছেলেমেয়ের দল খেলতো। আমরা মাঝেমধ্যে, মানে ন'মাসে কী ছ'মাস ওদের মাঠে খেলতে যেতাম, এবং প্রায়২ প্রত্যেকবারেই হেরে ভূত হয়েই ফিরতাম। তো সেই দলের যে সেরা খেলোয়াড়, তার নাম ছিল টুকটুকি। সেটা যে ডাকনাম, বলাই বাহুল্য, ভালো নাম জানি না। বয়সে আমার থেকে সামান্য বড়োই, তবে দিদি বলার চল ছিলো না। আর আমাদের দিকের সেরা খেলুর নাম ছিল পচা। যদিও, পচা শুধুই ব্যাটসম্যান - সেহওয়াগ-সম, আর টুকটুকি যদ্দূর মনে আছে, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি - বেসিক্যালি যা যা খেলা হ'ত সবেতেই সর্দার ছিল একপ্রকার। ... ...

মা আসছেন বৎসরান্তের সব কালিমা ঘুচিয়ে দিতে। উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে সর্বত্রই। এই উৎসবের ঢেউ এসে লাগবে আমাদের রান্নাঘরে। ঘরে ঘরে চলছে তারই প্রস্তুতি। বাঙালির রান্নাঘর মানেই হলো এক আশ্চর্য প্রয়োগশালা। বাড়ির মহিলারা পরম মমতায় আগলে রেখেছেন এই শিল্পের বহমান গরিমার অতুলনীয় পরম্পরাকে। এই নিবন্ধ ফেলে আসা সময়ের রান্নাঘরের ব্যস্ততার স্মৃতিচারণ। ... ...

শিক্ষক দিবস - শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা জানাতে এই দিনটির উদযাপন। উপলক্ষ অজানা নয়। মানুষের জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের দীর্ঘায়িত শৈশবের পর্ব থেকেই শুরু হয় তাঁর অভিজ্ঞতা অর্জন। প্রথমে একান্ত পারিবারিক আবহে এবং পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পরিমন্ডলে শিখনের তালিম চলতে থাকে। পরিবারের মতো বিদ্যালয় পরিবেশ তাঁকে মানুষ হিসেবে পরিপূর্ণতা অর্জনে সাহায্য করে। যতদিন বাঁচি, ততদিন শিখি এই আপ্তবাক্য স্মরণে রাখলে শেখার শেষ নেই।এই নিবন্ধটি এক অসাধারণ শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখা হলেও শ্রদ্ধাঞ্জলি সকলের প্রতি যাঁরা আমার নির্মাণের মুখ্য রূপকার। ... ...

কাল বাদে পরশু গণদেবতা আবার নতুন করে পথে নামবেন।উল্টোরথের দিন তিনি আবার মাসির বাড়ি থেকে ফিরে যাবেন তাঁর চেনা আস্তানায়। রথের মেলার সঙ্গে আমাদের ছেলেবেলার অগণিত স্মৃতি বিজড়িত। এই সময়ের বুকে দাঁড়িয়ে সেই সব ফেলে আসা সময়ের স্মৃতিচারণ এই নিবন্ধে। ... ...

এক বিস্মৃত চরিত্র হয়ে থেকে গেছেন বিভাগের প্রথম যুগের অন্যতম গবেষক ও অধ্যাপক বিধুভূষণ রায়। তাঁকে এখন কেউ মনে রাখেনি। পাদপ্রদীপের আলো তাঁর ওপরে পড়েনি, পদার্থবিদ্যা বিভাগের ইতিহাসে তিনি বরাবরই পঞ্চপাণ্ডবের ছায়ায় ঢাকা। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন ক্লাসঘরে বিধুভূষণের একখানা পোর্ট্রেট টাঙানো থাকতো, এখন সেই চিহ্নটুকুও নেই, হয়তো কোথাও ধুলোমাখা অবস্থায় অনাদৃতভাবে সেই তৈলচিত্রটি পড়ে আছে। উইকিপিডিয়ায় বিধুভূষণের সম্বন্ধে যে পাতাটি আছে, তাতে অবশ্য মাঝবয়সী মানুষটির সেই তৈলচিত্রের একটি ছবি পাওয়া যায়। বিস্মৃতির অন্ধকার থেকে সম্প্রতি জার্মানির ওল্ডেনবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজিন্দার সিং তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন... কিন্তু এই অন্ধকার একেবারেই বিধুভূষণের প্রাপ্য নয়। তাঁর গবেষণাজীবন যথেষ্ট উজ্জ্বল ছিল, এবং এ দেশে এক্স-রশ্মি বর্ণালীবীক্ষণের চর্চা তাঁর হাতেই শুরু হয়েছিল। ১৯৪৪ সালে মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে তাঁর অকালপ্রয়াণ হয়, সেই সময়ে তিনি পদার্থবিদ্যা বিভাগের খয়রা অধ্যাপক ছিলেন, এবং এক্স-রশ্মি বর্ণালীবীক্ষণ বিষয়ে ভারতের শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ... ...


জীবন ... ...


পোয়েটস কর্ণারটা একটু অন্যরকমের। এখানেও কবি ও কবিতা নিয়ে আলোচনা হত। তবে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হত অংশগ্রহণকারী কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠের উপর। এরকম আসরে আমি প্রায়ই যেতাম এবং মাঝে মাঝে অংশ নিতাম। একবার এমনই এক আসরে গিয়ে একটা নতুন কিছু পেলাম যা আমাকে চমক দিয়েছিল। এখানে কয়েকজন তরুণ তরুণী কবির সঙ্গে আলাপ হল। তাদের এক অভিনব কর্মকান্ড দেখে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। এদের নাম (মোবাইল পোয়েটস) ‘চলমান কবিচক্র’। এরা লন্ডনের হ্যামস্টেড অঞ্চলের এক রেস্টুরেন্টের সঙ্গে যুক্ত। এ রেস্টুরেন্টটা একটু আলাদা; এখানে যাঁরা আসেন তাঁরাও, বোধ করি, একটু আলাদা ধরণের মানুষ। চলমান কবিচক্র এই রেস্টুরেন্টে কফি বা ভোজ্যবস্তুর সঙ্গে কবিতা পরিবেশন করে। রেস্টুরেন্টের নাম ‘কাফে রুজ’। জরুরী চব্বিশ ঘণ্টার এই চলমান কবিচক্র আপনাকে নিয়ে যাবে এক আবেগময় ভ্রমণে, জাদুকরী আসরে, মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতায়, আশ্চর্য ইন্দ্রজালে ঘেরা কল্পনার রাজ্যে; যুগপথ স্তম্ভিত ও অনুপ্রাণিত করবে। ... ...

পুরনো বাড়ির কথা বলতে বলতে বড় বেশি সংপৃক্ত হয়ে পড়লাম হারানো দিনের সঙ্গে। সেই আঙিনায় ঝরে পড়া শিউলি সুবাস, সেই অড়হর গাছের সবুজ ডালে বসা সবুজ টিয়া পাখি, শঙ্খ সায়নের টলোমলো পায়ে প্রথম দাঁড়ানোর চেষ্টা, ওদের বাবার স্কুটারের কাঙ্খিত শব্দ পরতে পরতে মস্তিষ্কের পটভূমিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঝাঁকুনি দিতে লাগলো। সিদ্ধান্ত --থাক, আলোর ঝলকানিতে পেছনে তাকিয়ে মায়ার খেলা দেখে দরকার নেই। দরকার না থাকলেও দাবি থাকে, আব্দার থাকে। নিজের ইচ্ছাও নেই তা নয়। হারানো সুরে গাওয়া কঠিন তবুও যে টুকু পারা যায়। বলেছিলাম সংক্ষেপে লিখবো। লালির জোরদার দাবি, মানছি না মানবো না। সায়ন বলছে লেখা শেষ করা যায় না। নিজে নিজে শেষ হয়। অতএব সময় নিয়ে আস্তে আস্তে---। ... ...



লেখক বুদ্ধদেব গুহ। কিছু স্মৃতি। কিছু উচ্চারণ ... ...

সৈয়দ হাসান ইমাম। এক উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। দুই বাংলার মিলনের দূত। ... ...