
অলংকরণ: রমিত
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচক তালিকায় নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া, সারা ভারতবর্ষে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। বিজেপি বিরোধী দল সরকারে থাকার জন্য এবং সেই দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়টিকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যাওয়ার জন্য এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে সারা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সেই আলোড়ন কখনো মমতা ব্যানার্জির সাহসিকতার প্রশংসা করছে বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলি এবং দলগুলি ও বিরোধী মনোভাবাপন্ন মানুষেরা। অন্যদিকে সর্বশক্তিমান কেন্দ্রীয় শাসক দল, বিষয়টিকে পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার জন্য মরিয়া। তাদের প্রচার যন্ত্রে এ সংক্রান্ত প্রচারের মূলসুর কিন্তু ঘুষপেটিয়া ও রোহিঙ্গা মুক্ত পশ্চিমবঙ্গ। এই দুইয়ের মাঝে পড়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলতে বাধ্য হয়েছেন ভারতবর্ষের সবচেয়ে পোলারাইজড রাজ্য এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ।
প্রবল বিরোধিতা পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের তরফে এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রায়শই তর্ক, সাক্ষাৎকারে "গেট লস্ট" হয়ে যাওয়ার ঘটনা, নির্বাচন শুরু থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের সমস্ত আধিকারিকদের অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন করার চেষ্টা নির্বাচন কমিশনের তরফে এই রণংদেহি মেজাজেরই প্রতিফলন। নির্বাচন কমিশন যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে ব্যাট করছে না বা তার তথাকথিত নিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখছে না, সে সম্পর্কে সন্দিহান সব পক্ষই। আসলে এখন পর্যন্ত এসআইআর হয়ে যাওয়া সমস্ত রাজ্যগুলিতে বিজেপির বিপুল বিজয় আসলে এস আই আর তাদের পক্ষে কাজ করছে এই ধারণা শাসক শিবিরে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মাটি বিগত ১০-১২ বছরে যথেষ্ট পরিমাণে উর্বর হয়েছে গেরুয়া শিবিরের জন্য। সেই উর্বর মাটিতে ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটে যাতে নিজেদের সম্পূর্ণ দখল করা যায় তার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মেরুকরণ এর রাজনীতি আমরা দেখছি দীর্ঘদিন ধরে। এরই মাঝে এই এস আই আর এবং প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া, প্রায় ২৭ লক্ষ নাগরিক তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া, স্বাধীন ভারতের সংবিধানে একটা অন্যতম ঘটনা। আগামী দিনে ভারতের গণতন্ত্রের পক্ষে এ শুভ প্রতিফলন নয়।