এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হিন্দুত্বের আখ্যান নির্মাণ - ২

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৯ মে ২০২৬ | ৩১৭ বার পঠিত
  • আর এস এসের স্কুল - ঘৃণার মন্দির | সঙ্ঘ পরিবারের নারীপ্রতিমা নির্মাণের কিস্‌সা | প্রকৃত ইতিহাস ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণ

     
    যে কথাটা কালও বলেছিলাম — ফাইনাল লড়াইয়ের সময় এসে গেছে। সেখানে আপনাকে জানতে হবে আপনার শত্রু কে।

    আরএসএসের মতাদর্শ নিয়ে কথা বলব, অথচ মেয়েদের সম্পর্কে মনুবাদী সঙ্ঘ পরিবারের ধ্যানধারণার কথা বলব না তা তো হয় না। বিশেষ করে রেপিস্টদের ফুল মালা দিয়ে বরণ করাটা যাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ তারা  সেই  বিজেপি তিলোত্তমার বিচার দেবে বলে দাবী করে, নারী সুরক্ষা নিয়ে বাণী দেয় তখন বাস্তবটা সামনে আনতেই হয়। তো তাই, হিন্দুত্ব আখ্যান তৈরী  সিরিজে এবারে রইলো —

    সঙ্ঘ পরিবারের নারীপ্রতিমা নির্মাণের কিস্‌সা
    খুব বেশিদিন আগের ঘটনা নয়, কাজেই আপনাদের মনে আছে আশা করি,  ভারতের সেরা মহিলা কুস্তিগীরদের কথা;  কেউ অলিম্পিকে পদকজয়ী, কেউ বা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, তারা দিল্লীর রাজপথে ধর্ণায় বসেছিল বিচার চেয়ে। সকলেরই অভিযোগ ছিল ভারতের কুস্তি ফেডারেশনের কর্তা, বিজেপির বাহুবলী সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিং এর নামে। যৌন হেনস্থার অভিযোগ। দেশ উত্তাল হয়েছিল। কিন্তু মেয়েগুলো কী পেয়েছিল? তাদেরই ফেডারেশন তাদের দাগিয়ে দিয়েছিল মিথ্যেবাদী বলে। এক মন্ত্রী তাদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিল রাজনৈতিক যাত্রাপালা বলে। সঙ্ঘ পরিবারের ট্রোল বাহিনী আর পোষা মিডিয়া তাদের 'বিদেশী এজেন্ট', 'দেশদ্রোহী', 'পাকিস্তানের পুতুল' ইত্যাদি কিছুই বলতে বাকি রাখেনি। এক কুস্তিগীরকে বলা হয়েছিল "খারাপ মা"। আরেকজনকে বলা হয়েছিল যে সে নাকি পৃথিবীর সামনে দেশের নাম ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। এই মেয়েগুলোর জিতে আনা মেডেল, তাদের চোখের জল, তাদের পরিশ্রম আর সাহস  কিছুরই দাম দেয়নি  তাদেরই দেশের একটা বড় অংশের মানুষ। কারণ, এই মানুষগুলোর কাছে, এদের হিন্দুত্বের আদর্শের সামনে, যে মেয়েটা তার অধিকারের কথা বলে গলা তুলে, সে ভিক্টিম নয়। সে একটা জলজ্যান্ত সমস্যা, যাকে চুপ করানো দরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা মেয়েকে অধিকারের কথা বলতে দেখলে, কনসেন্টের কথা বলতে দেখলে, এমনকি চুলে রঙ বা হাতে ট্যাটু করা ছবি পোস্ট করতে দেখলেও এই একই লোকগুলো ঝাঁপিয়ে পড়ে  মেয়েটাকে চুপ করাতে। তার চেহারা, গায়ের রঙ, চুলের স্টাইল, পোশাক, তার পরিবার, ব্যাকগ্রাউন্ড — কিছুই বাদ যায় না এদের কুৎসিত আক্রমণ থেকে...সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিজ্ঞতা কমবেশী আমাদের অনেকেরই আছে।

    একে শুধুমাত্র মিসোজিনি বলা ভুল হবে। কারণ, এর কোনো কিছুই র‍্যান্ডম নয়। পুরোটাই একটা সিস্টেমের অংশ। যে সিস্টেমের ম্যানুয়াল লেখা হয়েছে অনেক বছর আগে। যে সিস্টেম শেখায় মনুবাদী পিতৃতন্ত্র আর বর্ণব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে কথা বলবে, তাকে চুপ করাতে হবে।

    কাজেই, সেই সঙ্ঘ পরিবার যখন নারী সুরক্ষার কথা বলে, উন্নাও-হাথরস-কাঠুয়া-মণিপুর-বিলকিস বানুর ধর্ষকদের মুখে অভয়ার বিচারে দাবী শুনে যখন আপনি বিশ্বাসও করে ফেলেন, তখন এই সিস্টেমের শেকড়ের দিকে একবার ফিরে তাকানো জরুরী হয়ে ওঠে। "হিন্দুত্ব আখ্যানে " তৈরীর ইতিহাসের এই দিকটা দেখি চলুন আজ। 

    এই লেখাটা মূলত: তনিকা সরকারের লেখা "Hindu Nationalism in India" বইটার তৃতীয় চ্যাপ্টার "Pragmatics of the Hindu Right: The Politics of Women’s Organisations" আর ঊর্বশী বুটালিয়া এবং তনিকা সরকার সম্পাদিত "Women and the Hindu Right" নামের প্রবন্ধ কালেকশনের বিভিন্ন রচনার ওপর ভিত্তি করে তৈরী।

    আদর্শগত শেকড়: সাভারকর ও ধর্ষণের লেজিটিমাইজেশন

    হিন্দুত্বের এই দর্শনের ভিত খুঁজে পাওয়া যায় সাভারকরের লেখায়। পুরুষোত্তম আগরওয়াল লিখছেন যে "দ্য সিক্স গ্লোরিয়াস ইপকস অফ ইন্ডিয়ান হিস্টরি" বইয়ে সাভারকর শিবাজীর কড়া সমালোচনা করেছিলেন এই বলে যে "he had a perverse notion of virtue in respecting the chastity of even the Muslim women", এবং সাভারকরের মত অনুযায়ী শিবাজীর উচিত ছিল বন্দিনী মুসলমান মহিলাদের ধর্ষণ করে হাজার বছরের মুসলমানী অত্যাচারের প্রতিশোধ নেওয়া: "The souls of those millions of aggrieved [Hindu] women," Savarkar imagined, would have pleaded with Shivaji: "Do not forget the unutterable atrocities and outrage committed on us... Let the future Muslim conquerors never dare to think of such molestation of Hindu women." 

    সাভারকর এই প্রসঙ্গ শেষ করছেন এই বলে যে মেয়েদের প্রতি হিন্দুদের আত্মঘাতী "শৌর্য্যবীর্য্যের ধারণা"-ই মুসলমান মেয়েদের বাঁচিয়ে দিয়েছিল। নইলে, সাভারকরের মতে ধর্ষণ অপরাধ নয়, বরং মুসলমানদের বিরুদ্ধে হাজার বছরব্যাপী যুদ্ধে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক অস্ত্র।

    [ইনসিডেন্টালি, এই আইডিয়াটা যে শুধু হিন্দুত্বের একচেটিয়া, এমনটা নয়। সংখ্যাগুরু তার ক্ষমতার আস্ফালনের জন্যে মেয়েদের শরীরকেই বেছে নিয়েছে এমন নিদর্শন ইতিহাসে অগুণতি। সে ধর্মের জন্যেই হোক বা জাতিগত হিংসার কারণেই হোক। পার্টিশনের ওরাল হিস্টরি যদি পড়েন — ঊর্বশী বুটালিয়ার "দ্য আদার সাইড অফ সাইলেন্স" বা রীতু মেনন এবং কমলা ভাসিনের "বর্ডারস অ্যান্ড বাউন্ডারিজ", বা অন্যান্য জাতিগত হিংসার ইতিহাস, প্যালেস্টাইন বলুন নাৎসিদের ইতিহাস,  বেসিক থিওরিটা সেই একই থেকে গেছে। মেয়েদের শরীরই সংখ্যাগুরুর ক্ষমতার আস্ফালন আর বদলার ক্ষেত্র। ভারতে সঙ্ঘ, পাকিস্তান বা বাংলাদেশে জামাত, আফগানিস্তানে তালিবান।]

    তবে বিধর্মীর দ্বারা ধর্ষিতা মহিলাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গীতে হিন্দু ও মুসলমানে একটা বড় ফারাক আছে।  পার্টিশানের সময় যে সব মহিলারা ধর্ষিতা ও অপহৃতা হয়েছিলেন তাদের নিজ নিজ আত্মীয়ের কাছে ফেরাতে ১৯৪৯ সালে Abducted Person's Recovery & Restoration Act চালু করে ভারত সরকার এবং পাকিস্তান সরকার তাতে সম্পূর্ণ সহায়তা করার আশ্বাস দেয়। এই সময় দুইদেশেই পুলিশ গিয়ে বিধর্মী অপহৃতা মহিলাকে তার আত্মীয়দের কাছে অন্য দেশে ফেরত পাঠায়। বহুক্ষেত্রে জোর করেই। প্রায় সকলেই ততদিনে বিবাহিত, কেউ কেউ একটি সন্তানের জননী। 

    মৃদুলা সারাভাই, সুভদ্রা যোশী, আনিস কিদওয়াইরা দেখছেন অপহৃতা হিন্দু মহিলাদের পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনার পরেও তাকে নিজগৃহে ঠাঁই দিতে নারাজ অধিকাংশ পরিবার। ফলত এই মহিলারা একরকম সমাজের বোঝাস্বরূপ হয়ে দাঁড়ান। এঁরা জানতেন এঁদের পরিবার এঁদের ফেরত নেবে না। ওঁদের  অপহরণকারীরা বিবাহ করে নেয় এবং ওঁরা পরিবারে   স্ত্রীর মর্যাদায় ছিলেন, আসতে চান নি। কিন্তু ওই যে হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না, তাই ওঁদের টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসা হয়।  ওদিকে ধর্ষিতা ও অপহৃতা মুসলিম মহিলাদের ফেরত পাঠানোর পরে তাঁরা মোটামুটি  তাঁদের পরিবারে গৃহীত হন। খুব সাদরে নয়,  কিন্তু নিতে অস্বীকার করা বা রাস্তায় বসিয়ে দিয়ে আসার মত নয়। 

    যা লিখলাম ওপরে, তার কোনোটাই প্রাচীন ইতিহাস নয়। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে এই আদর্শের প্র‍্যাক্টিকাল পরীক্ষা হয়েছিল সুরাটের রাস্তায় — ফ্লাডলাইটের আলোয় মুসলমান মেয়েদের গণধর্ষণের মাধ্যমে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহিলা নেত্রী কৃষ্ণা শর্মার ভাষায় — "হিন্দুদের এমন অবস্থা তৈরী করতে হবে যাতে বাকিরা ভয় পেতে শুরু করে। আমাদের নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে হবে। ওরা যদি আমাদের দশ বা পনেরোজনকে ধর্ষণ করে, আমাদেরও ওদের মহিলাদের ওপর একই কাজ করে বুঝিয়ে দিতে হবে যে আমরাও কম যাই না"। কৃষ্ণা শর্মা এই কথাগুলো বলেছিলেন কলেজের কিছু ছাত্রীর সামনেই...

    সাক্ষী মালিক, ভিনেশ ফোগটের মত যে কুস্তিগিররা পথে নেমেছিলেন, তাঁরা কেউ সেদিন সাম্প্রদায়িক হিংসার কথা বলেননি, তাঁরা প্রতিবাদ করেছিলেন তাঁদেরই জগতের এক প্রভাবশালী কর্তার বিরুদ্ধে — যিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদী একটা দলের প্রতিনিধি। আর, সেদিন আমাদের সিস্টেম ঠিক একইভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল ঘটনা অস্বীকার করে, প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে, আর মেয়েগুলোকে মিথ্যাবাদী, নাটুকে বা "খারাপ মা" বলে দাগিয়ে দিয়ে। ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সকলেই ছিল এতে, কারণ সাভারকরের ওই কথাগুলো হিন্দুত্ব সিস্টেমের সমস্ত স্তরে ছড়িয়ে আছে, এমনকী মেয়েদের সংগঠন রাষ্ট্রসেবিকা সমিতির মধ্যেও...

    ঘৃণার জন্যে ক্ষমতায়ন, ঘরে নির্বাক দাসত্ব

    তনিকা সরকার একটা সময়ে বড়সড় ফিল্ড ওয়ার্ক করেছিলেন আরএসএসের মহিলা সংগঠন রাষ্ট্রসেবিকা সমিতির ওপরে। ১৯৯৯ সালে, আরএসএসের এক মহিলা নেত্রী এই ফিল্ড ওয়ার্কের সময়েই এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন -  "আমরা মেয়েদের শেখাই আত্মত্যাগ করতে, যাতে পরিবার এক সুতোয় বাঁধা থাকে। অধিকারের কথা থিওরি হিসেবেই শুনতে ঠিক লাগে; অধিকারের দাবীতে লড়াই ভুল।"

    পদ্ধতিটা খেয়াল করবেন একবার। সমিতি মেয়েদের ফিজিকাল ট্রেনিং দেয় - মার্শাল আর্ট, যোগাসন, তরোয়াল চালানো, জুডো, এমনকি বন্দুক চালানোতেও। সমিতির প্রকাশনায় লেখা আছেল "স্বসংরক্ষণক্ষম নারী কি সমাজমে অধিক প্রতিষ্ঠা হোতি হ্যায়", মানে "আত্মরক্ষায় সক্ষম নারীর সামাজিক প্রতিষ্ঠা বেশি"। কিন্তু আত্মরক্ষা কার থেকে? পণের দাবী করা লোভী বউপেটানো স্বামীর হাত থেকে নয়। নিজের সম্প্রদায়ের ধর্ষকের হাত থেকেও নয়। এই প্রশিক্ষণের এক ও একমাত্র লক্ষ্য হল মুসলমানদের সঙ্গে লড়াই। যুদ্ধ। দিল্লীর রাষ্ট্রসেবিকা সমিতির সংগঠক আশা শর্মার নিজের মুখেই স্বীকার করেন যে যুদ্ধ বলতে তাঁরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধের কথাই বলতে চান।

    সমিতির উৎপত্তির গল্পটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অফিশিয়াল ভার্সনে বলা হয় যে সমিতি তৈরী করা হয়েছিল হিন্দুত্বের আদর্শকে জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে। কথিত ইতিহাস — সমিতির প্রচারিকাদের মুখে যেটা শোনা যায়, সেটা সামান্য আলাদা। তাঁরা বলেন যে সমিতির প্রতিষ্ঠাতা লক্ষ্মীবাঈ কেলকার, এক অল্পবয়সী মেয়েকে তার নির্বিকার হিন্দু স্বামীর সামনেই হিন্দু গুন্ডাদের হাতে ধর্ষিতা হতে দেখে ঠিক করেছিলেন যে হিন্দু পুরুষরা যেহেতু তাদের পরিবারের মেয়েদের রক্ষার দায়িত্ব নিতে অক্ষম, তাই মেয়েদেরই আত্মরক্ষার ভার নিতে হবে। লক্ষ্মীবাঈ কেলকারের হাতে সমিতির শুরু এর পরেই। কিন্তু, হিন্দু পুরুষদের হিংস্রতার এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়। সমিতি প্রকাশ্যে কখনোই হিন্দু উচ্চবর্ণ পুরুষের সমালোচনা করে না। সমস্ত রাগ এবং আক্রোশের লক্ষ্য মূলত  মুসলমান ও দলিত সম্প্রদায়। তাই আজও দলিত ছেলের সাথে ব্রাহ্মণ মেয়ের প্রেম হলে ছেলেটির প্রাণ যায়, অনেকক্ষেত্রে মেয়েটিরও। এতে মেয়ের মায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে। 

    আজও আমরা ঠিক একই ঘটনা দেখি। টার্গেট বদলে দেওয়া। সাক্ষী বা ভিনেশরা যখন এক বাহুবলী হিন্দু পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তখন হিন্দুত্বের নেতানেত্রীরা বা ট্রোল বাহিনী পিতৃতন্ত্রকে খালাস দিয়ে অভিযোগকারিনীদেরই রাষ্ট্রবিরোধী পাকিস্তানপ্রেমী বানিয়ে দেয়। হিন্দুত্বের সংজ্ঞায় শত্রু কখনোই পরিবারের ভিতরে থাকে না; সে সর্বদাই বাইরের শক্তি; আর সে থাকে মুসলমানের বেশে।

    গেরুয়া শাড়ির আড়ালে নখদাঁত বের করা পিতৃতন্ত্র

    এবার বলি সঙ্ঘের এই "এমপাওয়ার্ড" মহিলারা অ্যাকচুয়ালি কীসে বিশ্বাস করেন। তনিকা সরকারের ফিল্ডওয়ার্কের সময় বিজেপি মহিলা মোর্চা নেত্রীরা আর রাষ্ট্রসেবিকা সমিতির প্রচারিকারা যা বলেছিলেন, তার জিস্ট:

    ▪️সতী সম্পর্কে: আশা শর্মার বক্তব্য ছিল — সতী আসলে নিজের পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে মেয়েদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ইচ্ছা। রূপ কানোয়ারের ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে সেটা স্বেচ্ছায় সতী হওয়ার ঘটনা ছিল না, এবং এই জন্যেই সঙ্ঘ মেয়েদের শারীরিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়। ঘুরিয়ে বললে এর মানে দাঁড়ায় যে খাঁটি হিন্দু মহিলা অন্য কারো কথায় নয়, বরং স্বেচ্ছায় সতী হওয়াকে গর্বের মনে করেন।
    ▪️বধূ নির্যাতন সম্পর্কে: মেয়েদের উদ্দেশ্যে ভিএইচপির নেত্রী কৃষ্ণা শর্মার উপদেশ ছিল যে তাদের শিখতে হবে কীভাবে নিজের গলার আওয়াজকে, নিজের চিৎকারকে নিজের গলার মধ্যেই চেপে রাখতে হয়, যাতে ব্যাপারটা ঘরের চৌহদ্দির মধ্যেই থেকে যায়। মারধোর চলতেই থাকলে সেই মেয়েটির উচিত নিজের "বিরাদরি", মানে সম্প্রদায়ের গুরুজনদের সঙ্গে কথা বলা। আইনী ব্যবস্থা একদম শেষ পন্থা। ডিভোর্স হিন্দু মহিলার কাছে বাস্তবোচিত নয় কারণ একজন নারী একা থাকতে পারে না, আর স্বামীও বদল করতে পারে না।
    ▪️মেয়েদের শিক্ষা বনাম ছেলেদের শিক্ষা সম্পর্কে: কৃষ্ণা শর্মাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে পরিবার যদি মাত্র একজনেরই শিক্ষার খরচ বইতে সমর্থ হয়, তাহলে কাকে স্কুলে পাঠানো উচিত, ছেলেকে না মেয়েকে? কৃষ্ণা শর্মা উত্তরে বলেন যে চাকরি করে পরিবার চালানো পুরুষেরই দায়িত্ব, কাজেই এক্ষেত্রে ছেলের শিক্ষাই বেশি জরুরী।
    ▪️ম্যারিটাল রেপ প্রসঙ্গে: কৃষ্ণা শর্মা এই আইডিয়াটাকেই পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছিলেন "এলিয়েন কালচার" বলে। আরো বলেছিলেন যে মেয়েটি যদি শারীরিক এবং মানসিকভাবে শক্ত হয়, তাহলে তার নিজের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার কথা। বেসিকালি, গেরুয়ার ছদ্মবেশে ভিক্টিম ব্লেমিং।
    ▪️ভিন্ন সম্প্রদায়ে প্রেম বা বিয়ে প্রসঙ্গে: সঙ্ঘের যে নেতারা মুসলমান মেয়েদের মুক্ত করার স্বার্থে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের নামে মুখে রক্ত তোলেন, তাঁরাই আবার বলেন হিন্দু মেয়েদের বাপমায়ের কথাই শোনা উচিত, তাঁরাই ভালো বোঝেন, এবং তাঁদের কথার প্রতিবাদ করা মানে অশান্তি ডেকে আনা।

    একে নারীর ক্ষমতায়ন বলবেন? নাকি গেরুয়া পতাকায় সাজানো খাঁচায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড বলবেন?

    এই কনট্রাডিকশনের আরো উদাহরণ পাওয়া যায় সঙ্ঘের মহিলা নেত্রীদের কথাবার্তায়। অমৃতা বসু, তাঁর "ফেমিনিজম ইনভার্টেড" লেখায় এইধরণের কনট্রাডিকশনের বেশ কয়েকটা চোখধাঁধানো উদাহরণ দিয়েছেন। সঙ্ঘের সবচেয়ে খ্যাতনামা মহিলা নেত্রীরা  উমা ভারতী, সাধ্বী ঋতম্ভরা, বিজয়রাজে সিন্ধিয়া — প্রত্যেকেই সঙ্ঘের ভাষায় ব্রহ্মচারিণী। ঋতম্ভরা আর উমা ভারতী দুজনেই সন্ন্যাসিনী (সাধ্বী আর সন্ন্যাসিনীর মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও এখানে একার্থে ব্যবহার করলে বিশেষ তারতম্য হবে না), আর বিজয়রাজে সিন্ধিয়া বিধবা। এঁদের এই ত্যাগের জীবন বা রিনান্সিয়েশন থেকে এঁদের মধ্যে একধরণের মরাল অথরিটি আসে, যার ফলে এঁরা নিজেদের কথার মধ্যে তীব্র আক্রোশ বা ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারেন স্বচ্ছন্দে। আবার যে ভাষায় এঁরা কথা বলেন, সেই একই ভাষা ব্যবহার করলে একজন সাধারণ মেয়েকে অনায়াসেই "মন্দ মেয়ে" বলা হত। 

    কিন্তু এই ক'জনা এক্সেপশন। ব্যতিক্রম। এঁদের উগ্র, আক্রমণাত্মক এমনকি অশালীন ভাষা ব্যবহার করারও ছাড় রয়েছে। কারণ? তথাকথিত ত্যাগের সূত্রে পাওয়া ওই মরাল অথরিটি। কিন্তু সাধারণ হিন্দু মেয়ের কাছে সঙ্ঘের এক্সপেক্টেশন আবার আলাদা। বিশেষ করে সেই মেয়েরা যদি কোনো ঘরের বউ হয় বা ছেলেমেয়ের মা হয়। সেক্ষেত্রে সঙ্ঘ তাকে শেখায় মানিয়ে চলতে, আপোষ করতে, নিজেদের চিৎকারকে বুকের ভিতরে চেপে রাখতে। নেতৃত্বে যাঁরা থাকেন তাঁরা ব্রহ্মচারী; সাধারণ কর্মীরা একান্ত অনুগত সৈনিক। এই সিস্টেমটাকে সফলভাবে চালাতে অল্প কয়েকজনই আগ্রাসী নারীমূর্তির দরকার পড়ে,  যাঁরা দরকারে জনতাকে উত্তেজিত করে তুলতে পারবেন; বাকি বিশাল সংখ্যক সাধারণ মেয়েরা থাকবে শান্তশিষ্ট অনুগত গোবেচারা গৃহপালিত প্রাণীর মত।

    এই ডুয়ালিজম বা হিপোক্রিসিটা খেয়াল করবেন...একদিকে বিজেপি মেয়েদের ভোটে দাঁড় করায়। লকেট চ্যাটার্জী, পাপিয়া অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পল, বিহারে মৈথিলী ঠাকুর ইত্যাদি। কিন্তু মেয়েদের নিত্যদিনের সমস্যা নিয়ে এদের গলা তুলতে দেখবেন না কখনো। সমকাজে সমবেতন, কনসেন্ট, গার্হ্যস্থ হিংসা, ম্যারিটাল রেপ, প্রজননের চয়েজ এইসব  নিয়ে লকেট অগ্নিমিত্রারা উচ্চবাচ্য করেন না। গ্রাসরুট মহিলা সংগঠনকে ঠেলে দেওয়া হয় ঘরোয়া আচার অনুষ্ঠানের গন্ডির মধ্যে। কড়ওয়া চওথ, গোপালের পরিচর্যা, শিবরাত্রি, আরো হাজারো ব্রত...স্বামী, সন্তান, পরিবারের মঙ্গলকামনার নানান উপাচার।

    মঞ্চে থাকেন নারী নেত্রীরা। মঞ্চের আড়ালে নিয়ন্ত্রিত হয় নারী শরীর।

    নারীর অধিকার আর নারীসুরক্ষার ফাঁকা স্লোগান

    একদিকে আমরা দেখি বিজেপি অভয়ার বিচার চেয়ে চিৎকার করে গলা ফাটায়। আবার অন্যদিকে দেখি উন্নাও-কাঠুয়া-হাথরসের ঘটনা। দেখি বিলকিস বানুর ধর্ষকদের ছেড়ে দিতে চায় বিজেপির সরকার। দেখি ধর্ষণে অভিযুক্তকে মালা পরিয়ে স্টেজে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। এই কাল না পরশুই প্রমাণিত ধর্ষক আসারাম বাপুর প্যারোলের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।  আরেক প্রমাণিত ধর্ষক রাম-রহিম বাবা প্রায় সারা বছই প্যারোলে বাইরে থাকে। একই সঙ্গে দেখি বাস্তবে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের মতামত ব্যক্ত করা মেয়েদের ওপর অকথ্য ভাষায় আক্রমণ। দেখি মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে জঘন্য একটা মীম।

    তখন সিরিয়াসলি আপনাদের একবারও মনে হয় না যে এই দক্ষিণপন্থী নেতানেত্রীরা যখন মেয়েদের সুরক্ষার দাবীতে বা ক্ষমতায়নের দাবীতে স্লোগান দেয়, তখন পাল্টা প্রশ্ন করি যে ক্ষমতায়ন কোন কাজটা করার জন্য?

    আরএসএসের নিজস্ব প্লেবুক অনুযায়ী, 
    ▪️মেয়েরা আত্মরক্ষার টেকনিক শিখতে পারে, তবে শুধু মুসলমানদের সঙ্গে লড়াই করার জন্যে, নিজের ঘরে তার ওপর হওয়া অত্যাচার ঠেকাতে নয়।
    ▪️মেয়েরা চাকরি করতে পারে,  তবে শুধুমাত্র পরিবারের যদি একান্তই দরকার পড়ে, তবেই; নইলে সেটা বিলাসিতা।
    ▪️একটা মেয়ে পাব্লিকলি গলা তুলে কথা বলতেই পারে,  তবে সেটা বিদ্বেষ ছড়িয়ে লোককে উত্তেজিত করতে, ইক্যুয়াল মাইনে বা রিপ্রোডাক্টিভ চয়েজের অধিকার চেয়ে নয়। সেগুলো অবাধ্যতা। ভারতীয় সংস্কৃতি নয়।
    ▪️ধর্ষণ আলোচিত হতেই পারে, তবে কেবল পশ্চিমী সংস্কৃতি আর অশ্লীল গণমাধ্যমকে দোষারোপ করার জন্য, আর নয়তো "ওদের" বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে, প্রতিশোধে উস্কানি দিতে। হিন্দু পরিবারের অন্দরে চলে আসা পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ করার উদ্দেশ্যে কখনোই নয়।

    লাভ জিহাদ আর মুসলমান ধর্ষকদের নিয়ে গলা ফাটান যে নেতানেত্রীরা, তাঁরাই আবার নিজের দলের সাংসদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনা মেয়েদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। হিন্দু মেয়েদের সুরক্ষার দাবী করে যে অনলাইন ট্রোলরা, তারাই আবার নিজস্ব মতামত প্রকাশের দায়ে মহিলা কুস্তিগির, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এমনকি আমাদের মত নিতান্ত সাধারণ বিরুদ্ধ মতাবলম্বীদের ওপর চড়াও হয়।

    ফ্লাভিয়া অ্যাগ্নেস — একজন আইনজীবী এবং ফেমিনিস্ট অ্যাক্টিভিস্ট, তাঁর একটা লেখায় লিখেছেন যে "হাম ভারত কি নারী হ্যায়, ফুল নহি চিঙ্গারি হ্যায়" বলে নারী আন্দোলনের যে স্লোগান আমরা শুনে অভ্যস্ত, সেই স্লোগানকে আত্মসাৎ করে শিবসেনা আর বিজেপির মহিলা শাখাগুলো মুসলমানদের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কারে বদলে নিয়েছে। পণপ্রথা, যৌতুক, বৈবাহিক হিংসা বা বৈবাহিক ধর্ষণের বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে ভারতের নারী আন্দোলন সংগঠনগুলো দশকের পর দশক ধরে যে চেষ্টা চালিয়েছিল, চিঙ্গারি হ্যায়ের মত স্লোগান সেই নারী আন্দোলনেরই প্রতীক। নারী আন্দোলনের স্লোগানগুলোকে চুরি করে নিয়ে তাদের ভিতরের আসল নারীবাদী অংশ মুছে ফেলে হিন্দুত্ববাদীরা সেগুলোকে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের অস্ত্রে পরিণত করেছে।

    উপসংহার

    তনিকা সরকারের লেখা শেষ হচ্ছে একটা ওয়ার্নিং দিয়ে। সেটা ভার্বাটিম তুলে দিই। 

    "The point is not that these women are being conned into belief, for the same applies to men. The point is to assess the nature of the issues they assent to."

    একটা কথা মাথায় রাখা দরকার — হিন্দু দক্ষিণপন্থার ভেতরের মেয়েদের সিম্পলি "false consciousness" বলে খারিজ করে দেওয়া যায় না। এই মেয়েরা ওই রিগ্রেসিভ পরিবেশের মধ্যেও একটা সীমিত ক্ষমতায়ন খুঁজে পেয়েছে — শারীরিক শিক্ষা, জনপরিসরে ভূমিকা - সে মাউথপীস হিসেবে হলেও, এগুলো এদের কাছে দামী। এদের সঙ্ঘের রিগ্রেসিভ আদর্শ থেকে বের করে আনতে গেলে আরো শক্তিশালী আদর্শের প্রয়োজন। শুধু আইনি অধিকার নয়, বরং ইক্যুইটি এবং ইক্যুয়ালিটি  যাতে একটা অল্প বয়সী মেয়ে গর্বের সঙ্গে তার জবরদস্তি-করা স্বামীর চাহিদা খারিজ করে দিতে পারে একটা মাত্র শব্দে; এমন একটা সিস্টেম যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা শুধু সংবিধানে লেখা একটা শব্দ হয়ে থাকবে না, বরং প্রতিদিনের বেঁচে থাকার সঙ্গী হয়ে উঠবে  স্কুলে, কলেজে, কলে, কারখানায়, অফিসে, বাড়িতে, মহল্লায়।

    তবে এই হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শকে তার পাওনাগন্ডা বুঝিয়ে দিতেই হবে। সাভারকরের রেপ-অ্যাপোলজিয়া জাস্ট একটা কথার কথা নয়; যে লোকগুলো নিজেদের হিন্দু মেয়েদের একমাত্র রক্ষক বলে দাবী করে, তাদের ফিলোজফি এইটা।

    সাক্ষী মালিক, ভিনেশ ফোগাটদের মত কুস্তিগীর, বা অন্য যারা গলা তুলেছে অভিনেত্রী, রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মী, সাংবাদিক, আমার আপনার পরিচিত অনেক মেয়ে যারা সমাজ মাধ্যমে নিজের কথা বলার চেষ্টা করেছে এদের প্রত্যেককে যে বিজেপি নেতারা নানান কুকথায় চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে, যে ট্রোলেরা অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করে, তারা সকলেই হিন্দুত্বের এই ট্র‍্যাডিশনেরই ফলোয়ার যার শেকড়ের শুরু আগের শতকে। নাগপুরে লেখা ম্যানুয়াল মেনে একই ঘটনা ঘটে চলেছে বছরের পর বছর। 

    যারা পালটা জবাব দেয়, এই সিস্টেম দাঁতনখ বের করে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমন উদাহরণ ক'টা দেখতে চান?

    একটা অ্যানেকডোট দিয়ে শেষ করি। ১৯৯৯-২০০০ সালের কথা। আমি তখন দিল্লীতে চাকরি করি, লাজপৎ নগরের অমর কলোনীতে ভাড়া থাকি এক বৃদ্ধ সর্দারজী আঙ্কল আর আন্টির বাড়ির তিনতলায়। একদিন সন্ধ্যেবেলা বাড়িতে দুজন মহিলা এলেন — একজন অল্পবয়সী, কুড়ি-বাইশ বছরের হবে, অন্যজন একটু সিনিয়র। তাঁরা রামজন্মভূমি আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে চাইলেন আমাদের সঙ্গে, বিশেষ করে আমার বউয়ের সঙ্গে। কথায়বার্তায় বোঝা গেল তাঁরা সঙ্ঘ পরিবারের লোক। আর আমরা সকলেই ঘোর বামপন্থী। আমরা পাত্তা দেব না, ওনারাও ছাড়বেন না। ঘন্টাখানেক পরে যদিও ওনাদের মুখ চুণ করে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। তনিকা সরকারের বইয়ে পড়ছিলাম — ওই সময় সাউথ দিল্লী চত্ত্বরের দায়িত্বে ছিলেন পুনম গুপ্তা আর আশা শর্মা। ওনাদের কাজ ছিল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদের রাষ্ট্রসেবিকা আদর্শে দীক্ষিত করা। বইয়ে লেখা বয়স, টাইমলাইন এবং কথাবার্তার বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে এই দুজনই এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে। 

    #হিন্দু_খতরে_মে_হ্যায় 
    #হিন্দুত্ববাদ 
    #ন্যারেটিভ_বিল্ডিং

    সূত্র:
    (১) Hindu Nationalism in India, Tanika Sarkar, Hurst & Company, London
    (২) Women and the Hindu Right - a Collection of Essays, eds Tanika Sarkar, Urvashi Butalia, Zubaan, New Delhi

    মূলত Arijit Mukherjeeর লেখা। আমি অল্প  কিছু  সংযোজন করেছি।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    আর এস এসের স্কুল - ঘৃণার মন্দির | সঙ্ঘ পরিবারের নারীপ্রতিমা নির্মাণের কিস্‌সা | প্রকৃত ইতিহাস ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণ
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | ১৯ মে ২০২৬ ২১:৫৯740724
  • এগুলো সবই জানা কথা। নতুন কিছু পেলাম না। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তো বটেই অধার্মিকেরাও এর ব‍্যতিক্রম না। সব সমান। প্রতিনিয়ত দেখছি, দেখে চলেছি।
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৯ মে ২০২৬ ২২:০৭740725
  • "তার চেহারা, গায়ের রঙ, চুলের স্টাইল, পোশাক, তার পরিবার, ব্যাকগ্রাউন্ড — কিছুই বাদ যায় না এদের কুৎসিত আক্রমণ থেকে...সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিজ্ঞতা কমবেশী আমাদের অনেকেরই আছে"
     
    চাড্ডিদের এই আদর্শ বা সনাতনী হিন্দু নারী নির্মান অ্যাজেন্ডা নিয়ে খানিক আগেই ভাটে লিখলাম। এসব হয়তো এবার পবতেও শুরু হবে, মেয়েদের শেখানো হবে করোয়া চৌতে উপোষ করতে আর শিবরাত্রি পালন করতে। আদর্শ বাঙালি হিন্দু নারীরা ঢোকলা আর আচার বানানো শিখবে।
  • ডট চাড্ডি অ্যাপোলজিস্ট | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ১৯ মে ২০২৬ ২২:৩০740727
  • লাফাতে লাফাতে এসেছে কথাগুলোকে লঘু করে দিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল করার জন্য।
  • . | ১৯ মে ২০২৬ ২৩:৫৮740729
  • একদম মিলে গেল।
  • | ২১ মে ২০২৬ ২০:৩৯740768
  • ডিসি, হ্যাঁ ওসব তো হচ্ছেই। আপনি বোধহয় জানেন না লোকে মানে মহিলারা কি পরিমাণ গোপাল নিয়ে ন্যাকামি করে। তারপরে আরো নানা গোঁড়ামি। এগুলো বেশ কিছুদিনই শুরু হয়েছে। আরো বাড়বে আর কি। একদম স্কুল লেভেল থেকে শুরু না করলে এই পাঁক সরানোর কোন উপায় দেখি না।
     
    বিন্দুবাসিনী,
    না একেবারেই সমান নয়। আর এস এস বিজেপী একমাত্র যারা প্রমাণিত ধর্ষকদের মালা পরায়, যারা বলে ব্রাহ্মমণ ধর্ষণ করে নাকি? বিলকিস বানোর কেসটা একটু দেখে নেবেন।
    মমতা ব্যানার্জীর যোণি এঁকে একটা রেপ পর্ন এঁকে বাজারে ছড়ানো বিজেপী সমর্থকদের বিজেপী ইকোসিস্টেম থেকে একজনও একটুও আপত্তি পর্যন্ত জানায় নি। ইকোসিস্টেম বলতে সরব ও নীরব সমর্থকেরাও পড়ে তার মধ্যে। অনিল বসু বা বিনয় কোঙারের বক্তব্যের প্রতিবাদ সিপিএমের সমর্থকদের মধ্যে থেকেই এসেছে। কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও আগে দেখেছি দলের মধ্যে থেকেই প্রতিবাদ আসে।
     
    আর এস এস বিজেপী একমাত্র দল যারা রেপ ওয়েপনাইজ করাটাকে থিওরি দিয়ে পোক্ত করে। দলিত মেয়েরা সবাই ভোগ্যা, মুসলমান মেয়েরা সবাই ভোগ্যা এ জিনিষ কেউ বলে উঠতে পারে নি আর এস এস ছাড়া।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন