এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  কাব্য

  • ঘেমে ওঠা পিঠে রবিবারের সকাল এসেছে

    সুকান্ত ঘোষ লেখকের গ্রাহক হোন
    কাব্য | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০৮ বার পঠিত
  • ঘেমে ওঠা পিঠে রবিবারের সকাল এসেছে      
     
    রেডিও গান খানি রেখে যেতে বলে
    রবিবারের সকালে টোষ্টারের ধোঁয়া থেকে উড়তে থাকে রুটির গল্প,
    পাশ ফেরা খোলা পিঠ ঝলমলে চাঁদ মেখে
    ঝকঝকে ছুরি আর কালচে লাল স্ট্রবেরীর অপেক্ষা করে
    ভিতর থেকে উঠে এসে কেউ সজোরে
    শাড়ি ভালোবাসার গল্প শোনাবে অনেক বছর পিছনের
    আমি শেফের মত জড়িয়ে নেব ধবধবে সাদা কাপড়ের আলিঙ্গন
    ঘেমে গেলে সেই সাদা কাপড়েই মুছে নেব
    চাঁদের হালকা ধূসর দাগগুলো
    তোমার পিঠের থেকে চলকে গিয়ে স্ট্রবেরী মোহময়
    ভ্রু তুলে টোষ্টারের গন্ধ শুঁকে বুঝে নেবে
    কার চুড়ির শব্দ শুনে উঠে এসেছিল এক ক্লান্ত ময়ূর
    পেখম মেলে নেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে

    চর্বিবিহীন সেই ময়ূর একের পর এক পালক খুলতে থাকে
    তবু কেউ সম্মতির পাতা ফেলে না চোখের
    বরং সেই গাঢ় বাদামী গভীরে চাঁদের ছায়া নিভে গিয়ে
    ঘেমে ওঠা পিঠে রবিবারের সকাল এসে গেছে বলে ফিসফাস করে

    আরো একটু বেলা বাড়লে সাদা চাদর সরিয়ে
    ময়ূরের পালক গুলি গুটিগুটি পায়ে লাল স্ট্রবেরীর দিকে এগিয়ে যাবে -
     
     
     
    কত সহজেই অতীত হওয়া যায়     
     
    মেয়েটি বারবার ছাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়ে থাকে
    ঝুঁকে দ্যাখে, শ্যাওলা ধরা কংক্রীটে বসে বিশ্রাম নেয়
    আর ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা ভাবে
    চারপাশে লাল ছিটিয়ে কেমন অতীত হওয়া যায়
    কফিতে চুমুক থামিয়ে পার্ক করা গাড়ির কথা
    হেডফোন কান থেকে খুলে না শুনতে পাওয়া শব্দের উৎস  
    খুঁজতে খুঁজতে কেউ উপরের দিকে তাকিয়ে দেখবে
    মেয়েটি কমলা ফিতে খুলে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিচ্ছে   
    মুখের সামনে সবুজে রাঙানো চুল আলগোছে সরিয়ে
    শহরের দিকে আরো একবার অপলক  -
    কত সহজেই অতীত হওয়া যায় এই ব্যস্ততায়!  
    ছেড়ে যাওয়া চটি জোড়ার কি হবে?
    এখনো লেগে আছে সোনালী বালুকণা
    সেদিনের হাঁটতে হাঁটতে গভীর জলের দিকে চলে যাওয়া
    কেউই ডাকেনি সেদিন পিছু থেকে –
    আজও কেউ নেই এই শূন্য ছাদে
    খবরের কাগজ বিক্রীর লোকটা এখনো বসে আছে রাস্তার কোণে
    এত বেলায় কারা কেনে আর!
    সে কি অবাক হবার সময় পাবে? যদি শোনে
    কোন এক পাতায় কাল জায়গা করে নেবে তার চেনা কেউ!

    প্রিয় জুতোটা ঘরে ছেড়ে আসতে মেয়েটি উঠে দাঁড়ায়
    পশ্চিম থেকে হঠাৎ তখনি দমকা হাওয়া চলে এসে
    মেয়েটির শরীরটিকে ব্যস্ত শহরের কাছাকাছি হবার সুযোগ করে দেয়    

     
     
    এক অলস দুপুর, এক অলস ওড়না
      
    একসময়ে ফরাসীরা এসেছিল এই পথে
    তাদেরই কেউ কেউ এখনো বাইকে চেপে
    মাথার থেকে সাদা ওড়নাটি সরিয়ে দেখে নেয় ঝোলা বারান্দা
    একসময় সমুদ্র দেখত চেয়ারখানি, আর  
    সবুজ লতানো পাতাগুলো উঠে এসে কখনো জড়িয়ে ধরত অলস হাত 
    এখন দেশে ফেরে শুধু প্রায় মুছে আসা মেহেন্দী লাগানো আঙুলগুলি

    বোগেনভোলিয়ায় ঢাকা গোলাপী দরজার সামনে ছবি ওঠে
    আমাকে জিজ্ঞেস করে একটু দাঁড়াবার সময় হলে
    মুখে রোদ লাগার মুহুর্তটি সাথে নিয়ে যেতে চায় সে
    কেউ ঘুরে দ্যাখে, কেউ দাঁড়ায় পাশে সময় লেখা ফলকের পাশে
    ছবি তুলে দিই অনেক – আলোছায়া রাস্তায়
    হাতে রাখা ওড়ানাটি রঙ বদলায় ঢেউয়ের শব্দের সাথে 
    তার সারা গায়ে লেগে থাকা সূর্যের ছাপ মনে করায়
    এইভাবেই একসময় উঁচু সিলিংয়ের নীচে আশ্রয় নিত কত দুপুর

    বাঁপায়ে ঠাকুমার রেখে যাওয়া রুপোর নূপুর
    দেখিয়ে বলে কালো সুতো খুলে রেখেছি ব্যাগে
    রুমের চাবির সাথে সেই সুতো জড়িয়ে যাওয়ার ফাঁকে
    কফি খাওয়া হয় – আমার পিছনের দেওয়ালে আঁকা গাছটার দিকে তাকিয়ে
    সে চুমুক দেয় ঠাকুমার ফিসফিসেয়ে বলা শেষ কিছু ইচ্ছায়

    এক অলস দুপুর, এক অলস ওড়নার উড়ে যাওয়া      
      
     


    মুখ ভরা আঙুরের সুবাস 
            
    আঁধারে বসে থাকি, সামনের উজ্জ্বল রাস্তায় হেঁটে যায় কত স্বপ্ন
    ভাবি একবার মোবাইলে তাদের ধরে রাখি
    তখনি পাথরের গায়ে ধাক্কা খেয়ে ঢেউ ভিজিয়ে দেয়
    স্বপ্ন দেখতে বসা সারি সারি আমাদের –
    পাশের একজনকে বলি, আমার হাতটা ধরবে?
    তাহলে দুইজনে একসাথে স্বপ্ন দেখা যেত!
    সে অবাক হয়ে বলে, আমার নখে তো রঙ লাগানো
    বলি, এসো না তাহলে রঙীন স্বপ্নই দেখি
    অন্ধকারে সে বলে আমার ঠোঁট কিন্তু গাঢ় বাদামী
    তা হোক, এঁকে দেব না হয় আঁধার সরলে তাতে বরফের ছাপ  
    চাঁদ বেরিয়ে আসে – দেখি তার মুখ ভরা আঙুরের সুবাস
    স্বপ্নের সাথে কখন যেন মিশিয়ে দিয়েছে শীত শেষের গল্প।    
     
    বাতাসের সাথে জলকণা উড়ে আসে এদিকে
    সে বলে হাতদুটো এবার এখানে রাখবে?
    ভিজে হাতে তখনো লেগে আছে বিকেল - 
    বালি, সবুজ নারকেল, হলুদ তোয়ালের ফেলে আসা

    আমরা স্বপ্ন দেখি – ওপাশে বসা তাদের বলি তোমরাও স্বপ্ন দেখো
    সবাই পাশে সরিয়ে রাখে মোবাইল  - দুই হাত ভরে স্বপ্ন দ্যাখে
    দুচোখ ভরে দ্যাখে কত স্বপ্ন হেঁটে যায়
    চাঁদ সবাইকে আর একটু সময় দেয় -  


     
    রায় মশাইয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা
     
    বিছানায় ছড়িয়ে আছে কত বই, আজ কত দিন ধরে
    পাশাপাশি শুয়ে আছে সুফী সাধক, তান্ত্রিক, রায় মশাইয়ের মতমত
    হাত দেখা কেন বিজ্ঞান নয় তারই পুনরাবৃত্তি নিয়ে খোলা কিছু পুস্তিকা
    কিন্তু এদের কারো থেকেই চাঁপা ফুলের গন্ধ ভেসে আসে না
    অথচ আমি এতদিন ভেবেছিলাম ওটা বিছানারই গন্ধ, নয়ত খোলা বইয়ের –

    পরের দিন নক্সা করা বাক্সটার ভিতরে রয়ে যাওয়া ডাইরিটা বিছানায় রাখি
    ভোর রাতে কাঁঠালি চাঁপার গন্ধে ঘর ভরে যায়
    কারো পালকের স্পর্শে ঘুম ভেঙে গেলে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করি
    এটা কি মরুদেশের স্বপ্ন? সে দেশে তো চাঁপা ফুল ফুটতো না
    বরং পারস্যের গোলাপের পাপড়ি মাখানো ফিনফিনে ওড়নার এলোমেলো ছড়িয়ে থাকা
    বিশ্বাস করায় তোতাপাখির ঠোঁট দিয়ে তুলে নেওয়া রঙীন তাসখানি

    যে তাসের পিছনে লেখা আছে একদিন এমনই ভোরে
    বালির ভিতরে তলিয়ে যেতে যেতে আবার ঘুম ফিরে আসবে
    কেউ চুলের কাঁটা খুলে নিয়ে ঝুঁকে এসে চোখের পাতায় হাত বুলিয়ে বলবে
    রায় মশাইয়ের প্রথম রঙীন ছবি কাঞ্চনজঙ্ঘা

    ডাইরির কোন এক পাতার ফাঁকের সাদা কাশ ফুল
    তখন অভিমানে উড়ে যাবে খোলা জানালার দিকে
    তোতাপাখি গন্ধ চেনে না – তাই মনে রাখে নি
    কাশ ফুলের দিনগুলি
    কাঁঠালি চাঁপার গন্ধও ভুলে ঠোঁট দিয়ে তুলে নেয় অন্য তাস
    যার পিছনে লেখা আছে সম্পূর্ণ এক অন্য গল্প।         
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • কাব্য | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    সাডেন ওয়াক - c
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন