ঘেমে ওঠা পিঠে রবিবারের সকাল এসেছে
রেডিও গান খানি রেখে যেতে বলে
রবিবারের সকালে টোষ্টারের ধোঁয়া থেকে উড়তে থাকে রুটির গল্প,
পাশ ফেরা খোলা পিঠ ঝলমলে চাঁদ মেখে
ঝকঝকে ছুরি আর কালচে লাল স্ট্রবেরীর অপেক্ষা করে
ভিতর থেকে উঠে এসে কেউ সজোরে
শাড়ি ভালোবাসার গল্প শোনাবে অনেক বছর পিছনের
আমি শেফের মত জড়িয়ে নেব ধবধবে সাদা কাপড়ের আলিঙ্গন
ঘেমে গেলে সেই সাদা কাপড়েই মুছে নেব
চাঁদের হালকা ধূসর দাগগুলো
তোমার পিঠের থেকে চলকে গিয়ে স্ট্রবেরী মোহময়
ভ্রু তুলে টোষ্টারের গন্ধ শুঁকে বুঝে নেবে
কার চুড়ির শব্দ শুনে উঠে এসেছিল এক ক্লান্ত ময়ূর
পেখম মেলে নেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে
চর্বিবিহীন সেই ময়ূর একের পর এক পালক খুলতে থাকে
তবু কেউ সম্মতির পাতা ফেলে না চোখের
বরং সেই গাঢ় বাদামী গভীরে চাঁদের ছায়া নিভে গিয়ে
ঘেমে ওঠা পিঠে রবিবারের সকাল এসে গেছে বলে ফিসফাস করে
আরো একটু বেলা বাড়লে সাদা চাদর সরিয়ে
ময়ূরের পালক গুলি গুটিগুটি পায়ে লাল স্ট্রবেরীর দিকে এগিয়ে যাবে -
কত সহজেই অতীত হওয়া যায়
মেয়েটি বারবার ছাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়ে থাকে
ঝুঁকে দ্যাখে, শ্যাওলা ধরা কংক্রীটে বসে বিশ্রাম নেয়
আর ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা ভাবে
চারপাশে লাল ছিটিয়ে কেমন অতীত হওয়া যায়
কফিতে চুমুক থামিয়ে পার্ক করা গাড়ির কথা
হেডফোন কান থেকে খুলে না শুনতে পাওয়া শব্দের উৎস
খুঁজতে খুঁজতে কেউ উপরের দিকে তাকিয়ে দেখবে
মেয়েটি কমলা ফিতে খুলে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিচ্ছে
মুখের সামনে সবুজে রাঙানো চুল আলগোছে সরিয়ে
শহরের দিকে আরো একবার অপলক -
কত সহজেই অতীত হওয়া যায় এই ব্যস্ততায়!
ছেড়ে যাওয়া চটি জোড়ার কি হবে?
এখনো লেগে আছে সোনালী বালুকণা
সেদিনের হাঁটতে হাঁটতে গভীর জলের দিকে চলে যাওয়া
কেউই ডাকেনি সেদিন পিছু থেকে –
আজও কেউ নেই এই শূন্য ছাদে
খবরের কাগজ বিক্রীর লোকটা এখনো বসে আছে রাস্তার কোণে
এত বেলায় কারা কেনে আর!
সে কি অবাক হবার সময় পাবে? যদি শোনে
কোন এক পাতায় কাল জায়গা করে নেবে তার চেনা কেউ!
প্রিয় জুতোটা ঘরে ছেড়ে আসতে মেয়েটি উঠে দাঁড়ায়
পশ্চিম থেকে হঠাৎ তখনি দমকা হাওয়া চলে এসে
মেয়েটির শরীরটিকে ব্যস্ত শহরের কাছাকাছি হবার সুযোগ করে দেয়
এক অলস দুপুর, এক অলস ওড়না
একসময়ে ফরাসীরা এসেছিল এই পথে
তাদেরই কেউ কেউ এখনো বাইকে চেপে
মাথার থেকে সাদা ওড়নাটি সরিয়ে দেখে নেয় ঝোলা বারান্দা
একসময় সমুদ্র দেখত চেয়ারখানি, আর
সবুজ লতানো পাতাগুলো উঠে এসে কখনো জড়িয়ে ধরত অলস হাত
এখন দেশে ফেরে শুধু প্রায় মুছে আসা মেহেন্দী লাগানো আঙুলগুলি
বোগেনভোলিয়ায় ঢাকা গোলাপী দরজার সামনে ছবি ওঠে
আমাকে জিজ্ঞেস করে একটু দাঁড়াবার সময় হলে
মুখে রোদ লাগার মুহুর্তটি সাথে নিয়ে যেতে চায় সে
কেউ ঘুরে দ্যাখে, কেউ দাঁড়ায় পাশে সময় লেখা ফলকের পাশে
ছবি তুলে দিই অনেক – আলোছায়া রাস্তায়
হাতে রাখা ওড়ানাটি রঙ বদলায় ঢেউয়ের শব্দের সাথে
তার সারা গায়ে লেগে থাকা সূর্যের ছাপ মনে করায়
এইভাবেই একসময় উঁচু সিলিংয়ের নীচে আশ্রয় নিত কত দুপুর
বাঁপায়ে ঠাকুমার রেখে যাওয়া রুপোর নূপুর
দেখিয়ে বলে কালো সুতো খুলে রেখেছি ব্যাগে
রুমের চাবির সাথে সেই সুতো জড়িয়ে যাওয়ার ফাঁকে
কফি খাওয়া হয় – আমার পিছনের দেওয়ালে আঁকা গাছটার দিকে তাকিয়ে
সে চুমুক দেয় ঠাকুমার ফিসফিসেয়ে বলা শেষ কিছু ইচ্ছায়
এক অলস দুপুর, এক অলস ওড়নার উড়ে যাওয়া
মুখ ভরা আঙুরের সুবাস
আঁধারে বসে থাকি, সামনের উজ্জ্বল রাস্তায় হেঁটে যায় কত স্বপ্ন
ভাবি একবার মোবাইলে তাদের ধরে রাখি
তখনি পাথরের গায়ে ধাক্কা খেয়ে ঢেউ ভিজিয়ে দেয়
স্বপ্ন দেখতে বসা সারি সারি আমাদের –
পাশের একজনকে বলি, আমার হাতটা ধরবে?
তাহলে দুইজনে একসাথে স্বপ্ন দেখা যেত!
সে অবাক হয়ে বলে, আমার নখে তো রঙ লাগানো
বলি, এসো না তাহলে রঙীন স্বপ্নই দেখি
অন্ধকারে সে বলে আমার ঠোঁট কিন্তু গাঢ় বাদামী
তা হোক, এঁকে দেব না হয় আঁধার সরলে তাতে বরফের ছাপ
চাঁদ বেরিয়ে আসে – দেখি তার মুখ ভরা আঙুরের সুবাস
স্বপ্নের সাথে কখন যেন মিশিয়ে দিয়েছে শীত শেষের গল্প।
বাতাসের সাথে জলকণা উড়ে আসে এদিকে
সে বলে হাতদুটো এবার এখানে রাখবে?
ভিজে হাতে তখনো লেগে আছে বিকেল -
বালি, সবুজ নারকেল, হলুদ তোয়ালের ফেলে আসা
আমরা স্বপ্ন দেখি – ওপাশে বসা তাদের বলি তোমরাও স্বপ্ন দেখো
সবাই পাশে সরিয়ে রাখে মোবাইল - দুই হাত ভরে স্বপ্ন দ্যাখে
দুচোখ ভরে দ্যাখে কত স্বপ্ন হেঁটে যায়
চাঁদ সবাইকে আর একটু সময় দেয় -
রায় মশাইয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা
বিছানায় ছড়িয়ে আছে কত বই, আজ কত দিন ধরে
পাশাপাশি শুয়ে আছে সুফী সাধক, তান্ত্রিক, রায় মশাইয়ের মতমত
হাত দেখা কেন বিজ্ঞান নয় তারই পুনরাবৃত্তি নিয়ে খোলা কিছু পুস্তিকা
কিন্তু এদের কারো থেকেই চাঁপা ফুলের গন্ধ ভেসে আসে না
অথচ আমি এতদিন ভেবেছিলাম ওটা বিছানারই গন্ধ, নয়ত খোলা বইয়ের –
পরের দিন নক্সা করা বাক্সটার ভিতরে রয়ে যাওয়া ডাইরিটা বিছানায় রাখি
ভোর রাতে কাঁঠালি চাঁপার গন্ধে ঘর ভরে যায়
কারো পালকের স্পর্শে ঘুম ভেঙে গেলে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করি
এটা কি মরুদেশের স্বপ্ন? সে দেশে তো চাঁপা ফুল ফুটতো না
বরং পারস্যের গোলাপের পাপড়ি মাখানো ফিনফিনে ওড়নার এলোমেলো ছড়িয়ে থাকা
বিশ্বাস করায় তোতাপাখির ঠোঁট দিয়ে তুলে নেওয়া রঙীন তাসখানি
যে তাসের পিছনে লেখা আছে একদিন এমনই ভোরে
বালির ভিতরে তলিয়ে যেতে যেতে আবার ঘুম ফিরে আসবে
কেউ চুলের কাঁটা খুলে নিয়ে ঝুঁকে এসে চোখের পাতায় হাত বুলিয়ে বলবে
রায় মশাইয়ের প্রথম রঙীন ছবি কাঞ্চনজঙ্ঘা
ডাইরির কোন এক পাতার ফাঁকের সাদা কাশ ফুল
তখন অভিমানে উড়ে যাবে খোলা জানালার দিকে
তোতাপাখি গন্ধ চেনে না – তাই মনে রাখে নি
কাশ ফুলের দিনগুলি
কাঁঠালি চাঁপার গন্ধও ভুলে ঠোঁট দিয়ে তুলে নেয় অন্য তাস
যার পিছনে লেখা আছে সম্পূর্ণ এক অন্য গল্প।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।