এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • অ্যান্টি পং ঃ (উপন্যাস ঃ পর্ব - ৩) 

    নির্ঘাৎপাগল লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১০ বার পঠিত
  • | |
    “আহ। তুলবেন তুলবেন না। আমার থেকে নিন …। বাঁ-হাত দিয়ে দিলাম কিন্তু…”, হুই একটা আধছেঁড়া কচুরি তরকারি সমেত মুখে পুড়ে চিবোতে থাকে। বলে, “আপনাকে তো এফ.বি.আই., ওদিকে কাকে ই.ডি., কাকে আবার এ.পি.ডি. ডাক দিয়েছে…। জানেন তো?”

    “এ.পি.ডি. আবার কারা!!” চেয়ারম্যান চেবানো থামিয়ে দিলেন।

    “অ্যান্টিপটি ডিপার্টমেন্ট! শোনেন নি? কেন্দ্র সরকার নতুন এটা খুলেছেন। বেঁধে দেওয়া পরিমাণের থেকে বেশি পটি করলেই ট্যাক্স দিতে হবে। পটি-ট্যাক্স! ওই অনেকটা জি.এস.টি.-এর মতো আরকি…”

    “খুব খারাপ খবর; খূব। কারণ যাদের ডায়রিয়া, আমাশা আর IBS আছে তাদের তো সাড়ে সর্বোনাশ। ওরাই আবার এই কান্ডটা ঘটালো নাকি?”

    “তদন্ত চলছে ম্যাডাম। কিন্তু আপনার এফ.বি.আই.-এর কথাটা তো বললেন না?”

    “সেসব মিটে কী আর যায়?”

    “আমার পোস্টিংটা একটু দেখবেন ম্যাডাম। এখানে একদম হাঁফ ধরে গেল। আজ এক্সট্রা ম্যারাইটাল তো কাল মদ খেয়ে মারামারি নয়তো পরশু প্রতারণা। নেহাত আপনি কচুরি খাওয়ালেন, নয়তো সকালে গিন্নির করে দেওয়া পরোটা আর মাংস ছেড়ে্‌…, ভাবুন একবার। গিন্নির রাগ হওয়া স্বাভাবিক না? জানিনা আজ কপালে উচ্ছে না করলা, কী যে নাচছে। নয়তো বাসনও মাজাতে পারে”।

    “আপনার বউ বুঝি রাগী?”

    “আপনি রেগে যান না?”

    “যাই। কর্তা যখন আমাকে উর্বশী রওতেলা বলে না তখন…”। চেয়ারম্যানের খাওয়া প্রায় শেষ। বললেন, “এখানে আমারও আর ভালো লাগছে না, জানেন তো? এতো হুজ্জুতি…”।

    “চীনে চলে যান না…”।

    “চীনে! সেখানে আবার কী?”

    “ওখানে আবার চেয়ারম্যান কম পড়েছে কীনা। দারুণ ডেভেলপড কান্ট্রি; হেভি! তাই বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাক্তন, হাফ অথবা কর্মরত চেয়ারম্যানদের চাকরিতে নিচ্ছে ওরা। কোনও ঝুট ঝামেলা নেই। খাও দাও আর চেয়ারম্যানগিরি করো। হ্যাঁ, তবে ট্যাঁ ফো করলেই কিন্তু হাপিস করে দেবে”। ওসি পাশের বোতল থেকে এক ঢোক জল খেলেন। বললেন, “এই তো, আমাদের পাশের মিউনিসিপ্যালিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান, গতকাল দিব্যি চীনে চলে গেলেন”।

    “তাই নাকি! আচ্ছা। কেমনভাবে অ্যাপ্লাই করবো?”

    “ওসব নিয়ে একদম চিন্তা করবেন না। আমার ঝিঙ্কুসোনা আপনাকে সব বুঝিয়ে দেবে…”।

    “ঝিঙ্কু!”

    “ইয়ে, আমার টরেটক্কা”। খানিকটা লজ্জা পেলেন ওসি হুই।

    “বেশ। ইয়ে, হ্যাঁ। কী যেন বলছিলেন। কীসব যেন আরও সব পোস্টিয়েছে… ফেসবুকে?”

    “সব দুষ্টু পোলাপানের দল। সঙ্গে মিষ্টি মেয়েরাও আছে। আহা! একজন পোষ্ট দিয়েছে, ‘কম খান; কম পটি পাবে আর জল বেশি করে খান আর দেদার মুতুন’। আর একজন লিখেছে ‘জল আর প্যান কম ব্যবহার করুন। প্রতিবেশী বা প্রতিবেশিনীর সঙ্গে একসঙ্গে পটি করুন…”।

    “অসভ্য!”

    “আর কারা যেন আবার ‘পটির বাস্পীয় মেশিন’ বের করেছে”

    “‘বাস্পীয় পটি’!”

    “হ্যাঁ ম্যাডাম। ওই মেশিনে বসে পটি করলে সেটা বাস্প হয়ে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যাবে। সঙ্গে প্রয়োজন মতো নানান ফুলের গন্ধ চাইলে মিক্স করে নিতে পারেন”।

    “অসভ্য…কোথাকারের!”

    “অ্যাঁ… হ্যাঁ। কিন্তু হিউমার অফ সেন্স আছে বলতে হবে…। বাহ! বাহ! বাহ!, কচুরিগুলো কিন্তু পুরো ব্যাপক”।

    **************************************

    এদিকে ঠিক সেই সময় মার্লিনস্পাইক মিউনিসিপ্যালিটির ঠিক পাশের পঞ্চায়েতের একটা চা দোকানে বেশ কিছু লোক জমায়েত হয়েছেন। পঞ্চায়েতের নাম গ্লিনহখিং। আর চা দোকানীর নাম লক্ষ্মণ। মার্লিনস্পাইক মিউনিসিপ্যাল এলাকার থেকেও কিছু লোক আবার চা আর হ্যাজানোর জন্য তক্কে তক্কে এসে হাজির হয়েছেন সেখানে। কারুর শ্বশুরবাড়ি; কারুর বা বন্ধুর বাড়ি। তারাও এসেছেন চলে। কারণ এক, এখানে নিশ্চিন্ত হয়ে পটি করা যাবে আর দুই, সঙ্গে আজকের ঘটনা নিয়েও যাবে গ্যাঁজানো।

    এলাকার বৃদ্ধ বড় জগাই একবার সবাইকে দেখে নিয়ে বললেন, “উফফ! কালে কালে কী যে সব হচ্ছে…। এই চর্মচক্ষে আর যে কদ সইতে হবে ভগমান। প্রথমে আতা চোর, বাসন চোর, গয়না চোর, তারপর টাকা চোর, ব্যাং ফাঁক করে চোর, কয়লা চোর, ময়লা চোর, রেশন চোর, চাকরী চোর…, আবার পায়খানার প্যান চোর…। বলি দেশটা কি চোরেদের হাতেই শেষমেশ চলে গেল নাকি?”

    ছোটো জগাই আবার বড়র থেকে কয়েক বছরের ছোটো। একটা বিড়ি ধরিয়ে সুখটান দিলেন। বললেন, “হ্যাঁ। এমন কোতাও শুনিনি কিন্তুক বাপু!! পায়খানার প্যানও চুরি করে নিলি? হতভাগা, এমনি তে তো একটুও শান্তি নেই কোতাও। মান্সের একটা শান্তির জায়গা… পায়খানা! তাও করতে দিপি না?”

    “সব জেনে নেব। ভড়ে পড়ে না সব জেনে নেব”, বলেই পটলের মা হাতে একভাঁড় চা নিয়ে সবাইকে মেপে নিয়ে চুমুক দিল।

    “উহ, বললেই হল? এ কি জি.পি.এস. নাকি? যে টাওয়ার লোকেশন দেখে দেখে জেনে নেবে? শুনেছি কোনও সিসিটিভি ফুটেজ নেইকো…”, বুলবুল ফোঁড়ন কাটল।

    “কেন? ফুটেজ কী হাওয়া?”, বড় জগাই জানতে চাইল।

    “আজ্ঞে না। শুনলুম যে যে ফ্ল্যাট বা বাড়ির প্যান হাওয়া হয়েছে বা ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে কেউ ঢোকেও নি …, আবার কেউ বেরোয়ও নেই”

    “সেকি! তাহলে অশরীরী নাকি? কি গা ছোট জগাই?”

    “হতি পারে। ঘোর কলি কীনা”। বিড়িটা শেষ টান দিয়ে ফেলে দিল ছোট জগাই। বলল, “ভুতে যদি মাছ খাতি পারে, মাংস খাতি পারে, তাহলে নিজেদের হাগার জন্য হয়তো প্যানগুলানও নিয়ে গেছে। ওদেরও তো পটি টটি পায়, না কি?”

    “যত্তসব বুজরুকি”। এবার বলে উঠল অঙ্কন চাকলাদার। কালো আর বেঁটে করে। কানটা খাটাশের মতো খাড়া আর গলাটা ভারী। সে আবার থানার খোঁচরদের ক্যাপ্টেন। সেটা আবার সবাই জানে কিন্তু সবাই যে সেই কথাটা জানে সেটা আবার চাকলাদার নিজেই জানে না। সে বলতে থাকে, “এই তো ছোট জগাইদা, তোমাদের দল একবার বলল অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা ঢুকে যাবে, বছরে ২ লাখ কর্ম সংস্থান হবে, নোটবন্দী করে জাল টাকা থাকবে না, ব্যাঙ্কগুলোর থেকে যারা টাকা নিয়ে পালাল, কই তাদের ধরতে পারলি? খালি বড় বড় কথা। ‘মন কী আলিয়া ভাট’! ব্যাঙ্কগুলোকে পর্যন্ত মেরাজ করে দিলি, এখন কেস্টমার সব কী করবে শুনি?”

    “সব মাছের মতো খাবি খাচ্ছে। পেরায় ২০টা লোক ব্যাঙ্কের ইয়ে মেরে বাইরে মস্তি করছে…”, বুলবুল আবার ফোঁড়ন কাটল।

    “আরে থাম থাম, মেলা বকিস না। বলি তোর সরকার কী করছে? গরু, কয়লা, রেশনের চাল কিছুই তো আর বাকি রাখলি না? শেষে মান্সের চাকরি আটকে সেখানেও টাকা খাওয়া হয়েছে দেগছি? স্বাধীনতার পর বলি কোন নেতার বাড়ি থেকে এদগুলো টাকা বেরিয়েছে শুনি? ফারদা আর মারদা …, মানে আর কত যে দাদা আছে কে জানে?”, ছোট জগাই কোমর বেঁধে ঝগড়ায় অবতীর্ন হল।বলল, “তারপর লোটাসভ্যালি, সেম.পি.এস.…, পুরসভার টেন্ডার, চাকরি চুরি!”

    “লক ডাউনের সময় তো দেগলাম। কেমন সব থালা বাজালো আর মোমবাতি জ্বালালো। হুঁ। তোমাদের নেতাদেরও দেখা আছে। দেশের লোক খাতি পাচ্ছে না। সরকারি লাভজনক কাজের জায়গাগুলো সব বন্ধ করে দিল; বেচে দিল। আর বলছে লাড্ডু ফুটা, লাড্ডু ফুটা…, তারপর এত টাকার জামা পরে ফুটানি দিচ্ছে…”।

    “নাহ, মানে ইয়ে, উনি আগে তো এইসব পরেন নি, তাই পরছেন আর কী?”

    “তোদের কী? অ্যাঁ? দু'চারটে ছাড়া তোদের নেতাদের পেটে পরমাণু বোমা চার্জ করলেও কিচ্ছু বেরোবে না…”

    “তুমি কবতে লেখ গিয়ে। এপাং ওপাং ঝপাং / আমরা করি ড্যাং ড্যাং”।

    “হ্যাট…”।

    “আরে হ্যাট”।

    “আরে হ্যাট! হ্যাট! হ্যাট!”।

    “আরে তুই হ্যাট!”।

    “আমরা কি সব কুকুর-ছাগল হয়ে গেলাম নাকি রে?”, বুলবুল আবার ফোঁড়ন কাটল। সে আবার এলাকায় সায়েন্সের টিউশনি করায়।

    “তুই থাম। তা আগের লোকই ভালা ছেল, কি বলো?”, বড় জগাই জানতে চাইলেন।

    “রাখ তোমার আগের লোক। ওরা আবার ছ্যায়েন্টিফিক্যালি চুরি করত। স্লিপের রঙ আলাদা। লোকে বোঝার উপায় নেইকো। সঙ্গে এক গাদা এনজিও। লোকের ব্যাক্তিগত ব্যাপারে নাক গলিয়ে ফেলা…। জায়গায় জায়গায় নিজেদের লোক বসিয়ে ফেলা…কনিলায়ন। তবে টাকা নিয়ে কিন্তু চাকরি দেয় নি। হোল টাইমারদের…”, ছোট জগাই বলে উঠল।

    “একেবারে অ্যানায়ন আর ক্যাটায়ন”, ফুট কাটল বুলবুল। “কিন্তু লোকে বলছে এটা নাকি ওদেরই কারসাজি। কী সব যেন বলে ওরা…, পং– অ্যান্টি পং- সিন্থেপং”।

    “কি!”

    “হ্যাঁ গো। ওই হেগেল বলে কে যেন বলেছিলেন…”।

    “তিনি কি আবার হাগতেন না নাকি! কী জানি বাবা! ওই রকম একটা নাম বাপ-মা দিতে পারল লোকটার? যেন হেগেল তো নয়, ‘হেগে এল’”

    “এইডা তুই কী বললি? কী বললি তুই?”

    “কেন? রাস্তাঘাট, সরকারি হাসপাতাল সব কেমন ছিল? ওয়ার্ক কালচার কেমন ছিল? ফাঁকিবাজে তো গাঁ শহর উজাড়। হ্যাঁ, তবে কিছু ঠিক ছেল। একটা সমালোচনার পরিসর ছেল।একটা মাত্রায় গণতান্ত্রিক পরিসর ছেল…। সরকারি পরীক্ষা ছেল, ভুমি সংস্কার ছেল, জিনিসের দাম কম ছেল, সেচ ছেল, মাছ ছেল।লোক সংখ্যা কম ছেল।”

    “আরও আরও ভালো করা উচিৎ ছেল। দেওয়ালে কি এই লেখা পড়ত না, যে মোতিবাবুর দুই কন্যা / খরা ও বন্যা? তারপর লোডশেডিং?”।

    “আহ! কতার মাঝখানে কতা বলে ফোলোটা নষ্ট করে দিস না তো পুঙ্গিরপুত। কিন্তু ওই যে নিলুক্লিয়াস না কী য্যান… সমর্থন তুললি কেন? কেন তুললি বল?”

    “নিলুক্লিয়াস না, নিউক্লিয়াস? সে তো আমাদের জীববিজ্ঞান বইতে আছে”, দশম শ্রেণির অদ্বয় বলে উঠল।

    “হ্যাঁ, ওই তো, একদম ঠিক বলেছিস। নিলুক্লিয়াস নিয়ে টানাটানি করলে সব জীবেরা যাবে কোতায় শুনি?”, ছোট জগাই বলল।

    “ধ্যাত। যা বলছিলাম শোন। কারণ অন্যদিকে তখন ছিল কোরাপশন। একেবারে শনশন। গ্যাট, খ্যাট। তারপর চপার স্ক্যাম, সি.ডবলু.জি. স্ক্যাম, আদর্শ স্ক্যাম, সত্যম স্ক্যাম, কয়লা ব্লক স্ক্যাম, ডিস্ট্রিবিউশন স্ক্যাম, টুজি স্পেক্ট্রাম স্ক্যাম … কত চাই? একেবারে ‘স্ক্যামে স্ক্যামায়িত ভুবন’! যেন সেই গানটার কথা মনে পড়ে গেল।.. ”

    “কোনটা?”

    “সত্য সুন্দর স্ক্যামময় তুমি / ধ্রুবজ্যোতি তুমি অন্ধকারে!”।

    সবাই হেসে উঠল।

    “আর এই এখনকার সরকার তো এমনভাবে সব চালাচ্ছে যেন ওরাই দেশের রাজা। আইনকানুন নিজের ইচ্ছেমতো পাল্টাচ্ছে।আর পাল্টাচ্ছে। পাল্টাচ্ছে আর পাল্টাচ্ছে। যা খুশি তাই করছে…। অর্থনীতির হোগা তো মেরে দিল একেবারে।”

    “কারণ দেশের বেশিরভাগ লোক নির্জীব হয়ে পড়ে আছে বলে”, এবার বলে উঠল বিক্রম। সুবীরবাবুর ছেলে। এদিকে তার বন্ধুর বাড়ি বলে ভাই-বোনে মিলে দুজনেই চলে এসেছে এখানে। রাইও এসেছে ভাইয়ের সঙ্গে চায়ের দোকানে। বিক্রম বলে চলল, “আরে ওটা নিউক্লিয়াস না, নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি…”।

    “কি! পলিদের ফাঁক করে রেশন!! চাল-ডাল দেয় না, টিটি খেলে?”, বড় জগাই জানতে চাইল।

    “আরে কে এরা?”, একবার নাক সিটকালো বিক্রম। বলল, “সোজা কথায় অ্যামেরিকার সঙ্গে একটা ডিল, যেখানে ওশিয়ানিয়া বা অন্যান্য নিউক্লিয়ার শক্তি সম্পন্ন দেশ তাদের নিউক্লিয়ার টেকনোলজি আর নোহাউ বাইরে বেচবে না। আর বোমা বানাতে পারবে না। কিন্তু নিউক্লিয়ার রি-অ্যাক্টর বানিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারবে। পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করবে। কিন্তু লেফটফ্রন্টের উচিৎ ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে সমর্থন না তুলে ব্যাপারটা নিয়ে জনমানসে আন্দোলন করা”।

    রাই চটপট উত্তর দিলো। বলল, “একে স্ক্যামে স্ক্যামাইত ভুবন, তারপর যেই সমর্থন তুলল, অমনি ওরা ঝুঁকল অন্যদিকে। আসলে রাজনীতিটাই হয়ে গেছে খাওয়া-খাওয়ির; ধান্দাবাজির। মিঙ্গুর, বন্দীগ্রাম। জোর করে জমি নেওয়া…”।

    “অপারেশন বর্গা কে করল? কে করল বল? ত্রিস্তর পঞ্চায়েত কে করল বল? রেশনে একসময় মিনিকিট দেওয়া হত। তার থেকে ভালো চাল রেশনে কারা দিতে শুরু করল? মাষ্টারদের মাইনে কারা বাড়াল? এই যে পি.এস.সি., এস.এস.সি. কারা করল? শ্রমিকদের ন্যায্য পাওয়া আর বিভিন্ন সোশ্যাল সেক্টরের ডেভেলপমেন্ট কে করল বল? রাজ্যের চাষবাসের অবস্থা কেমন ছিল? সেচ? ওয়েস্ট মেঙ্গল মাইনরিটি ডেভেলপমেন্ট ফাইনান্স কর্পোরেশন কাদের স্কীম?”

    “হ্যাঁ। তারপর ধাচার কমিশনের রিপোর্টে কী দেখা গেল চাঁদু? ফাশিস্ত সব কোম্পানি…, ডাও না খাও…, লোকে ভয় পাবে না? কেমিক্যাল পাব না হাবা!”

    “সেন্টার টাকা না দিলে কী করে সব হবে, দাদু?

    “হ্যাঁ। খালি কেন্দ্রের দোষ; খাআআলি। বলি ‘দোষ দিয়ে কি আর মোষ ঢাকা যায়?’ তারপর যে জমি সেচ করে তিন ফসলি করে ফেলা হল, সেখানেই বলা হল কারখানা হবে। মানেটা কী? বলি মানেটা কী? কোথাকার কোন এক ফাশিস্ত, তাকে ধরে এনে বলা হল সে নাকি কেমিক্যাল হাব করবে। কোথায়? কেন? এখানে আগ্রো-বেইসড কিছু করা যেত না? কো-অপারেটিভ আরও বাড়ানো যেত না? কালচার আর এগ্রি-কালচার – আর সেই নিয়েই ইন্ড্রাস্ট্রি হত। আহা! কত ভালো হত।”

    “আর এখনকার সরকার তো ভ্যাট তুলে দিয়ে জিএসটির, আহা! কী এমন ম্যাষ্টর এলেন দেখি… সঙ্গে শুনছি পটির ওপরও ট্যাক্স বসাবে। আবার শত শত আইন পাল্টে ফেললেন, যেন ‘উত্তর-আধুনিক হামুরাবি’!”, অঙ্কন বলল।

    (আগামী সংখ্যায়)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | |
  • ধারাবাহিক | ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ১১০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • albert banerjee | ১৮ আগস্ট ২০২৬ ২০:১০742306
  • এনকোর এনকোর yes
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন