এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদ ও চাড্ডিদের নানা ধানাইপানাই 

    এলেবেলে লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২০ জুন ২০২৬ | ৯২৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • আজ অর্থাৎ ২০ জুন, আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাকে দু’টুকরো করা হয়েছিল। সৃষ্টি হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিমবঙ্গের। দেশভাগের এই অভিঘাতে সহসা বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন অগণিত মানুষ, সীমান্তের দুই পারে শরণার্থীদের আসা-যাওয়ার বেদনাবিধুর ঘটনাটি আজও পৃথিবীর বৃহত্তম অভিনিষ্ক্রমণ (largest exodus) হিসাবে অভিহিত। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের থেকে চোদ্দ হাত দূরে থাকা রাজনৈতিক দলটি লাখো লাখো নারী-পুরুষের ছিন্নমূল হওয়ার যাবতীয় যন্ত্রণা ও মৃত্যুকে তুচ্ছ করে এই দিনটিকে আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। এত দিন এই নিয়ে নানাবিধ ধানাইপানাই চলছিল, কিন্তু এবারে তারাসানাইটির সুর একেবারে সপ্তকে উঠেছে। এই সুবাদে দেখে নেওয়া যাক পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির পেছনে দল হিসাবে হিন্দু মহাসভা ও নেতা হিসাবে শ্যামাপ্রসাদের ঠিক কী ভূমিকা ছিল।
     
    হুমায়ুন কবীর কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনাটির উল্লেখ করে বলেছেন, ১৯৩৭ সালেই ফজলুল হক তাঁর প্রথম মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। তাঁর জন্য বরাদ্দ ছিল শিক্ষা দফতর। মনে রাখতে হবে, শ্যামাপ্রসাদ তখন কংগ্রেস থেকে আইনসভায় নির্বাচিত এবং তখনও পর্যন্ত সরকারে আসীন হওয়ার ব্যাপারে কংগ্রেস চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। শ্যামাপ্রসাদ যে মন্ত্রীত্ব নিতে গররাজি ছিলেন তেমনটা জানা যায় না, যদিও শেষ পর্যন্ত মুসলিম লিগের মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদের যোগ দেওয়ার ব্যাপারটি ঘটেনি। তবে ঘটলে তিনি হিন্দু মহাসভার সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়তেন কি না, সে প্রশ্নের উত্তর আজ আর মেলার সম্ভাবনা নেই।
     
    এই ঘটনার মাত্র দু’বছর পরে শ্যামাপ্রসাদ কেন হঠাৎই কংগ্রেস ছেড়ে দিয়ে হিন্দু মহাসভায় যোগ দিলেন, ‘যুক্তবঙ্গের স্মৃতি’ গ্রন্থে তার চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্নদাশঙ্কর রায়। কংগ্রেসের বদলে হিন্দু মহাসভায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে অন্নদাশঙ্কর তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে শ্যামাপ্রসাদ অকপটে স্বীকার করেন, “কংগ্রেসে আগে থেকে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা কি আমাকে এত সহজে এত উচ্চে উঠতে দিতেন?” হিন্দু মহাসভায় গিয়ে তিনি যে সঙ্গে সঙ্গে দলপতি হয়েছিলেন, সে কথা জানানোর পাশাপাশি অন্নদাশঙ্কর আরও লেখেন যে, কেবল সহজে নেতা হওয়ার জন্যই শ্যামাপ্রসাদের রাতারাতি দলবদল নয়। তিনি জানতেন “জেলে না গেলে, কেউ কংগ্রেস নেতা হয় না।” এই জেলযাত্রা এবং জেলে থেকে পচার বদলে তিনি হিন্দু মহাসভাকেই শ্রেয় বলে মনে করেন। অর্থাৎ হিন্দুদের স্বার্থরক্ষা নয়, তাঁদের জন্য আলাদা বাসস্থানের দাবি তোলাও নয় - শ্যামাপ্রসাদের হিন্দু মহাসভায় যোগদানের এক ও একমাত্র কারণ ছিল ব্যক্তিগত উচ্চাশা পূরণ।
     
    আরও একটা মজার কথা বলা যাক। ১৯৪৩ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত পাঞ্জাবের ক্যানেল কলোনির লায়ালপুরে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী এক সম্মেলনে শ্যামাপ্রসাদ তাঁর ভাষণে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন: “ভারত বিভাজন সাম্প্রদায়িক সমস্যার কোনও সমাধান নয়। আর্থিক ভাবে এটি অবাস্তব। অর্থনীতির দিক থেকে এটি বিপর্যয়কর। আর সামগ্রিক ভাবে ভারতের জন্য এটি সর্বনাশা।” হ্যাঁ, বর্তমানে হিন্দু বাঙালিদের মসিহা হিসাবে হাজির করা শ্যামাপ্রসাদ যে ১৯৪৩ সালেও অখণ্ড ভারতবর্ষের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন, এই ভাষণ তার প্রমাণ। প্রসঙ্গত মনে রাখা দরকার, তাঁর এই বক্তব্যের ৬ বছর আগে সাভারকর দ্বিজাতি তত্ত্বের অবতারণা করেন এবং ৩ বছর আগে পেশ হয় মুসলিম লিগের লাহোর প্রস্তাব।
     
    এবারে পাঞ্জাব থেকে বাংলায় আসা যাক। বাংলা যখন ভাগ হচ্ছে, তখন শ্যামাপ্রসাদ ও তাঁর দল হিন্দু মহাসভা কতটা শক্তিশালী? আমরা দেখতে পাই, ১৯৪৫-এর শেষের দিকে কেন্দ্রীয় আইনসভার নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০, ২১৬ এবং ‘অমিতবিক্রম’ শ্যামাপ্রসাদ পেয়েছিলেন মাত্র ৩৪৬টি ভোট। এমনকি ওই নির্বাচনে শ্যামাপ্রসাদ-সহ হিন্দু মহাসভার প্রতিটি প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। শুধু তা-ই নয়, ১৯৪৬-এর প্রথম দিকে প্রাদেশিক নির্বাচনেও চিত্রটা খুব বেশি আলাদা ছিল না। অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু মহাসভা ২৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, কিন্তু একটি ছাড়া সব ক’টি আসনে তাদের সমস্ত প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। একমাত্র শ্যামাপ্রসাদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। সাধারণ নির্বাচনী এলাকায় মহাসভা সাকুল্যে পায় শতকরা ২.৭ ভাগ ভোট। এই হচ্ছে নেতা হিসাবে শ্যামাপ্রসাদ ও দল হিসাবে হিন্দু মহাসভার প্রতি তদানীন্তন বাংলার মানুষের মনোভাব। বস্তুতপক্ষে ১৯৪৬-এর নির্বাচনে বাংলার হিন্দু ভোটাররা যে হিন্দু মহাসভার বদলে কংগ্রেসকে বেছে নিচ্ছেন, এ বিষয়ে আক্ষেপের বিষয়টা শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরির পাতায় পাতায় চোখে পড়ে।

    এহেন শ্যামাপ্রসাদ বাংলা বিভাজনের জন্য নেহরু-প্যাটেলের দ্বারস্থ হন। ১৯৪৭-এর ১১ মে প্যাটেলকে তিনি লেখেন: “ঘটনার চাপে মিঃ জিন্না যদি [ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনা] অবশেষে গ্রহণ করতে বাধ্য হন, তাহলে বাংলা ভাগের প্রশ্ন যেন পরিত্যক্ত না হয়, তা অনুগ্রহ করে দেখবেন। ...পাকিস্তান হোক আর না হোক, আমরা বর্তমান বাংলার সীমানার মধ্যে দুটো প্রদেশ গঠিত হোক, এই দাবি করি।” একই মর্মে তিনি নেহরুকেও একটি চিঠি পাঠান। আর এই দুই ঘটনার সামান্য আগে ১৯৪৭ সালের ২ মে, তিনি গোপনে ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের কাছে চিঠি লিখে ভারত অখণ্ড থাকলেও বাংলার বিভাজন দাবি করেন।
     
    এর উত্তরে প্রথমে নেহরু শ্যামাপ্রসাদকে লেখেন, “[ভারতীয়] ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন সার্বভৌম বাংলার ধারণা ব্যক্তিগতভাবে আমি মোটেই পছন্দ করি না। ...৩১ মে দিল্লিতে কংগ্রেস কাযনির্বাহী কমিটির বৈঠক হবে। ওই সময়ে আপনি দিল্লিতে উপস্থিত থাকলে সুবিধা হবে।” এর তিন দিন পরে অর্থাৎ ১৭ মে, শ্যামাপ্রসাদকে আশ্বস্ত করে প্যাটেল লেখেন: “কার্যকরী ও সুষ্ঠুভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য আপনি আমাদের ওপর নির্ভর করতে পারেন। বাংলার হিন্দুরা যতক্ষণ দৃঢ় থাকবেন এবং যে সাহায্য তাঁরা শুধু আমাদের দিতে পারেন সেই সাহায্য দেবেন, ততক্ষণ তাঁদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ নিরাপদ।”
     
    কিন্তু মজার কথা এই যে, প্যাটেল ও নেহরুকে শ্যামাপ্রসাদের চিঠি লেখার বহু আগে নেহরু-প্যাটেল জুটির বাংলা বিভাজনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সারা। ১৭ ফেব্রুয়ারি (ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ‘ক্ষমতা হস্তান্তর’-এর ঘোষণা করার তিন দিন আগে এবং লিয়াকত আলির বাজেট পেশ হওয়ার মাত্র ১১ দিন আগে) প্যাটেল ওয়াভেলকে জানান যে, তিনি মুসলমানদের— যদি তাঁরা যোগ দিতে ইচ্ছুক হন— পশ্চিম পাঞ্জাব, সিন্ধু, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ এবং পূর্ব বাংলা ছেড়ে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন। এহ বাহ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ অ্যাটলির ঘোষণার পরের দিনই নেহরুও প্যাটেলের মতোই ওয়াভেলকে বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাজনের কথা বলেন।
     
    অর্থাৎ বাংলা বিভাজনের জন্য শ্যামাপ্রসাদ যখন নেহরু ও প্যাটেলের দ্বারস্থ হচ্ছেন কিংবা গভর্নর বারোজ বা ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেনকে গোপনে চিঠি পাঠাচ্ছেন, তার অনেক আগে বাংলা ভাগের ব্যাপারে ভাইসরয় ও কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের চূড়ান্ত নীতি গৃহীত হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত, হিন্দু মহাসভা যখন ৪ থেকে ৬ এপ্রিল তারকেশ্বরে দ্বিখণ্ডিত বঙ্গের জন্য সভা করছে, তার প্রায় দেড় মাস আগে প্যাটেল ও নেহরু বাংলার ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলেছেন, এমনকি ওই সভার এক মাস আগে এ ব্যাপারে ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াটি পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। কাজেই লিয়াকত আলির বাজেট যেমন দেশভাগের সম্ভাব্য কারণ হিসাবে পরিগণিত হতে পারে না, ঠিক তেমনই শ্যামাপ্রসাদের চিঠিচাপাটি কিংবা সভা-সমিতি বাংলা বিভাজনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে বিবেচিত হতে পারে না।
     
    এবারে নির্দিষ্ট ভাবে ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের দিনটিতে আসা যাক। ওই বছরের ১০ জুন ভাইসরয় ঘোষণা করেন যে, দেশভাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যে ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভার অধিবেশন বসবে এবং এই অধিবেশনে মুসলিম ও অ-মুসলিম সদস্যরা পৃথক দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে ভোট দেবেন। সেই মোতাবেক ১২৬ জন সদস্য পাকিস্তানের নতুন গণপরিষদে যোগদানের পক্ষে এবং ৯০ জন সদস্য বিদ্যমান গণপরিষদে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দেন। পরবর্তীতে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোর সদস্যরা ৫৮ বনাম ২১ ভোটে দেশভাগের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা পরিবর্তনের দাবি ওঠে এবং প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে একটি নতুন হিন্দু মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এই গোটা কার্যক্রমে হিন্দু মহাসভার সবেধন নীলমণি ভোটারটি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। একটা মাত্র ভোট সম্বল করে পাকিস্তানের কবল থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ছিনিয়ে আনা ‘চাড্ডি’খানি ব্যাপার নয়!
     
    এখানেই শেষ হলে বাঁচা যেত। কিন্তু পিকচার আভি বাকি হ্যায়। ব্রিটিশ সরকারের তরফে ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ৩ জুন বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভাজন সম্পর্কিত যে বিবৃতি প্রকাশ করেন, তার সংযোজনী অংশে ১৯৪১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে এই দুটি প্রদেশের কোন জেলাগুলিকে মুসলিম-গরিষ্ঠ এলাকা হিসাবে গণ্য করা হবে, তার একটি তালিকা পেশ করা হয়। ৯ জুলাই সীমানা কমিশনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই সরকার কমিশনের প্রাথমিক কাজ চালানোর সুবিধার জন্য মুসলিম অধ্যুষিত ১৬টি জেলার তালিকা উল্লেখ করে ‘provisional boundary’ বা সাময়িক সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। ওই সরকারি তালিকায় ১৬টি জেলা ছিল চট্টগ্রাম ডিভিশনের চট্টগ্রাম, নোয়াখালি ও ত্রিপুরা; ঢাকা ডিভিশনের বাখরগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ; প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের যশোহর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া এবং রাজশাহী ডিভিশনের বগুড়া, দিনাজপুর, মালদহ, পাবনা, রাজশাহি ও রংপুর। এখানেও যে পরে নবগঠিত দুই দেশের মধ্য নদীয়া, যশোহর, দিনাজপুর, মালদহ ও জলপাইগুড়ি জেলা ভাগ হয়; সেখানে শ্যামাপ্রসাদের বিন্দুমাত্র ভূমিকা ছিল না। আর পরবর্তীকালে সংযোজিত কুচবিহার কিংবা পুরুলিয়ার উল্লেখ না করলেও চলে।
     
    আদতে সেই সময়ে শ্যামাপ্রসাদ কিংবা তাঁর হিন্দু মহাসভার অন্তহীন ব্রিটিশ চাটুকারিতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিকে বাংলার মানুষ ভালো চোখে দেখেননি। হিন্দু মহাসভা স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময়ে সারা বাংলায় কতটা শক্তিশালী ছিল, তার উল্লেখ আগেই করা হয়েছে। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও সেই মনোভাবে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি, আর আসেনি বলেই ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনে জনসংঘ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মাত্র ৪ শতাংশেরও কম আসনে জয়লাভ করে।

    এই শ্যামাপ্রসাদই এখন বাঙালির নতুন আইকন আর হুতোমের ভাষায় পশ্চিমবঙ্গ দিবস 'এই এক নতুন'!

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ২০ জুন ২০২৬ | ৯২৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | ২০ জুন ২০২৬ ২০:৫৭741321
  • এলেবেলে বোধায় বেশ কিছুদিন পর লিখলেন। চাড্ডিরা নানাভাবে চেষ্টা করছে ইতিহাস বিকৃত করে নিজেদের পছন্দের ইতিহাস চাপিয়ে দিতে, কাজেই আপনার এই লেখাগুলো এখন খুব দরকার।
     
    (একটু পরেই দীপচাড্ডি ঘোঁতঘোঁত করতে করতে এসে হাজির হবে, তার আগেই অভিনন্দন জানিয়ে রাখলাম আর কি :-))
  • দীপ | ২০ জুন ২০২৬ ২২:৫৩741323
  • ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় পাশ হওয়া তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে একটি ছিল— বাংলা ভাগ হবে এবং এর পশ্চিমাংশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবে। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার সদস্যদের ৫৮-২১ ভোটে এই প্রস্তাব পাশ হয়।
    যে ৫৮ জন সেদিন এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন:
    ১) গোবিন্দলাল ব্যানার্জি
    ২) প্রমথনাথ ব্যানার্জি
    ৩) শিবনাথ ব্যানার্জি
    ৪) সুশীলকুমার ব্যানার্জি
    ৫) সুরেশচন্দ্র ব্যানার্জি
    ৬) মোহিনীমোহন বর্মণ
    ৭) হেমন্তকুমার বসু
    ৮) জ্যোতি বসু
    ৯) চারুচন্দ্র ভাণ্ডারি
    ১০) সতীশচন্দ্র বসু
    ১১) রতনলাল ব্রাহ্মণ
    ১২) মিহিরলাল চট্টোপাধ্যায়
    ১৩) আনন্দপ্রসাদ চৌধুরী
    ১৪) বীণা দাস
    ১৫) রাধানাথ দাস
    ১৬) স্যার উদয়চাঁদ মহতাব
    ১৭) নিকুঞ্জবিহারী মাইতি
    ১৮) নিশাপতি মাঝি
    ১৯) ভূপতি মজুমদার
    ২০) ঈশ্বরচন্দ্র মাল
    ২১) আশুতোষ মল্লিক
    ২২) আনন্দপ্রসাদ মণ্ডল
    ২৩) বঙ্কুবিহারী মণ্ডল
    ২৪) কৃষ্ণপ্রসাদ মণ্ডল
    ২৫) শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি
    ২৬) ধীরেন্দ্রনারায়ণ মুখার্জি
    ২৭) কালীপদ মুখার্জি
    ২৮) মুকুন্দবিহারী মল্লিক
    ২৯) বাসন্তীলাল মুরারকা
    ৩০) খগেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত
    ৩১) কানাইলাল দাস
    ৩২) কানাইলাল দে
    ৩৩) হরেন্দ্রনাথ নাথ দোলুই
    ৩৪) সুকুমার দত্ত
    ৩৫) নীহারেন্দু দত্ত মজুমদার
    ৩৬) বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি
    ৩৭) অরবিন্দ গায়েন
    ৩৮) এ. কে. ঘোষ
    ৩৯) বিমলকুমার ঘোষ
    ৪০) ডি. গোমস
    ৪১) দাম্বের সিং গুরুং
    ৪২) ঈশ্বরদাস জালান
    ৪৩) দেবীপ্রসাদ খৈতান
    ৪৪) চারুচন্দ্র মোহান্তি
    ৪৫) অর্ধেন্দুশেখর নস্কর
    ৪৬) হেমচন্দ্র নস্কর
    ৪৭) যাদবেন্দ্রনাথ পাঁজা
    ৪৮) এল. আর. পেন্টনি
    ৪৯) আর. ই. প্ল্যাটেল
    ৫০) আনন্দীলাল পোদ্দার
    ৫১) রজনীকান্ত প্রামাণিক
    ৫২) কমলকৃষ্ণ রায়
    ৫৩) যজ্ঞেশ্বর রায়
    ৫৪) ই. এম. রিকেটস
    ৫৫) রাজেন্দ্রনাথ সরকার
    ৫৬) দেবেন্দ্রনাথ সেন
    ৫৭) বিমলচন্দ্র সিনহা
    ৫৮) জি. সি. ডি. উইলক্স
     
    যে ২১ জন প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন:
    ১) এইচ. এস. সোহরাবর্দি
    ২) আবদুল আহদ
    ৩) এ. এফ. এম. আবদুর রহমান
    ৪) আদুস সাবুর খান
    ৫) হুসেন আরা বেগম
    ৬) ইলিয়াস আলি মোল্লা
    ৭) এম. এ. এইচ ইস্পাহানি
    ৮) জসিমুদ্দিন আহমেদ
    ৯) মহম্মদ শরিফ খান
    ১০) মোহাম্মেল হোসেন
    ১১) মহম্মদ ইদ্রিশ
    ১২) মহম্মদ কামারউদ্দিন
    ১৩) মহম্মদ রফিক
    ১৪) সৈয়দ মহম্মদ সিদ্দিকি
    ১৫) মুশারফ হোসেন
    ১৬) কে. নুরউদ্দিন
    ১৭) সিরাজউদ্দিন আহমেদ
    ১৮) এ. এম. এ. জামান
    ১৯) আবদুল ওয়াহিদ সরকার
    ২০) মুদাসসির হোসেন
    ২১) আবদুল হাসেম
     
    এদিন প্রথম প্রস্তাবে জয়েন্ট সেশনে ‘অখণ্ড বাংলা’কে ভারত ভুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ৯০ জন। আর পাকিস্তান ভুক্ত করার পক্ষে ভোট দেন ১২৬ জন।
    দ্বিতীয় প্রস্তাবে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়, বাংলা কি ভাগ হবে? 'হ্যাঁ' ভোট পড়েছিল ৩৫ এবং 'না' ভোট পড়েছিল ১০৬।
     
    তথ্যসূত্র
  • এলেবেলে | ২৫ জুন ২০২৬ ২৩:৩৫741381
  • কী আচ্চোজ্জো ব্যাপার! ঘোঁত ঘোঁতও হয়নি, তথ্যসূত্রও পাওয়া যায়নি!!
  • ar | ২৬ জুন ২০২৬ ০২:৪৩741387
  • এ রাম! তথ্যসূত্র হল তথ্যসূত্র !! ওখানে লেখা আছে!!
    চাড্ডিদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করবেন না।
  • Bratin Das | ২৬ জুন ২০২৬ ০৮:৪৩741390
  • এলেবেলে দা ওয়েল কাম ব্যাক .
     
    লিখতে থাকো
  • ms | ২৬ জুন ২০২৬ ০৯:০৭741391
  • দেশ এবং বাংলা ভাগের কৃতিত্ব একান্তই কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের সেটা ঠিক। বাঙালির দুর্ভাগ্যের পেছনে হিন্দু মহাসভার ভূমিকা হিসেবেই আসে না।
    কিন্তু রন্টিকে কেউ এটুকু অন্তত শিখিয়ে দিক যে ইলেক্টোরাল বন্ড দু বছর আগে উঠে গেছে।
  • পাঠক | ২৬ জুন ২০২৬ ১৯:২৪741408
  • লেখাটার জন্যে এলেবেলেকে ধন্যবাদ। তবুও একটু হেল্প লাগবে - pointed help.
     
    এলেবেলে লিখেছেনঃ
    " সেই মোতাবেক ১২৬ জন সদস্য পাকিস্তানের নতুন গণপরিষদে যোগদানের পক্ষে এবং ৯০ জন সদস্য বিদ্যমান গণপরিষদে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দেন। পরবর্তীতে হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলোর সদস্যরা ৫৮ বনাম ২১ ভোটে দেশভাগের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন।"
     
    এই প্রসঙ্গে হোয়া ইউনি এইটি জনপ্রিয় করছেঃ
    Contrary to this popular belief mostly propagated by the left and congress, he was very shrewd and active.
    Why He Was Exceptional:
    1. Saw through the trap immediately: When Suhrawardy proposed a "united sovereign Bengal," Shyama Prasad instantly recognised it as a delayed merger with Pakistan. Gandhi and Sarat Bose were fooled. He wasn't.

    2. Neutralised Gandhi in 24 hours: Gandhi endorsed United Bengal on 12 May 1947. By 13 May, Shyama Prasad had briefed Nehru, Patel and Kripalani — and Congress rejected the plan the very next day.

    3. United rivals for one goal: He brought Hindu Mahasabha and Bengal Congress onto a single platform alongside Bidhan Chandra Roy and others. Political rivalry was set aside for strategic necessity.

    4. Changed the voting rules — the real masterstroke: The Muslim League held overall majority in Bengal's assembly. A straight vote meant all of Bengal goes to Pakistan. He personally convinced Mountbatten that a 41% Hindu minority couldn't be outvoted into a Muslim state — and secured separate voting for Hindu-majority legislators.

    5. The result — 20 June 1947: Joint session voted 126-90 against joining India. Bengal would have gone entirely to Pakistan. But Hindu-majority legislators voting separately chose partition 58-21. West Bengal was born.

    Same assembly. Same day. Completely different outcome — because he had rewritten the formula weeks earlier in Mountbatten's office.

    He identified the threat, neutralised opposition overnight, built unexpected alliances, and engineered the one constitutional mechanism that made victory possible. That is statecraft.
     
    বুঝতেই পারছেন হোয়া ইউনির সূত্র দেবার দায় নেই, সুতরাং তা হাতে নেই! তবু, বিশেষ করে চার নং পয়েন্ট কাউন্টার করার কোন সূত্র পাওয়া যায়?
     
    এলেবেলের টই বলে উনাকেই বলা, বক্তব্য যেকোন সূত্রশীল মানুষের জন্যে!
  • ar | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:৪৪741419
  • "Changed the voting rules — the real masterstroke:" টিপিক্যাল চাড্ডি হোয়া ভাষা।
    ব্রিটিশরা কখনও মহাসভাকে থ্রেট হিসাবে দেখেনি। বিজেপী পরিচলিত ইউনিগুলোতে স্বাধীনতা সংগ্রামে আরেসএসের অবদানের নামে ইতিহাস বিকৃতি (!!) ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। পঃবঃও পিছিয়ে থাকবে না। আসলে, আরেসএসের আর মহাসভা, দ্যে ওয়ের "সাবসার্ভিয়েন্ট" টু দ্য ক্রাউন!!
    ২৬শের নির্বাচনের প'রে শ্যামাপ্রসাদ, শিবাজী আর মারাঠি অস্মিতা এখন বাংলার নতুন আইকন। সেদিনই এই মারাঠি অস্মিতা নিয়ে গদগদ একজনের সাথে কথা হচ্ছিল। বল্লাম, ভাই তোমার বাড়ির নিকটবর্তী এক গলির নাম "মারাঠা ডিচ লেন"। পারলে তার ইতিহাসটা জেনে নাও!!

    মাপ চেয়ে নিলাম। যদিও প্রশ্নটা এলেবেলের উদ্দেশ্যে ছিল, অমি এইতালে একটু বাংলা লেখা প্র্যাকটিস করে নিলাম।
  • এলেবেলে | ২৭ জুন ২০২৬ ০০:৩৫741430
  • @ ডিসিজনাব ও ব্রতীন, ইদানীং বেশ অনিয়মিত হয়ে গেছি। হঠাৎই মনে হল এটা ডিজিটালি রেকর্ডেড থাকুক। তাই লেখা।
     
    @পাঠক, আপনার ১, ২ ও ৩ নম্বর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জানাই, ১৯৪৭-এর ২২ ফেব্রুয়ারি শ্যামাপ্রসাদ বাংলার গভর্নর স্যার ফ্রেডরিক ব্যারোজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি এক সাংবাদিক বিবৃতিতে বলেন যে, সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হলে বাংলাকেও সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে বিভক্ত করে বাংলার হিন্দুপ্রধান অঞ্চলে একটি পৃথক প্রদেশ গঠন করে তাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অথচ এর কিছুটা আগে যথাক্রমে ১৭ ও ২০ ফেব্রুয়ারি প্যাটেল ও নেহরুর বাংলা বিভাজনের ব্যাপারে মনস্থির করে ফেলা সারা। এর আগেও এ ব্যাপারে তাঁদের মনোভাব প্রতিফলিত হওয়ার উদাহরণ আছে এবং বিড়লার লাগাতার উস্কানি আছে।
     
    মনে রাখতে হবে, প্যাটেল ও নেহরু তাঁদের মনোভাব জানাচ্ছেন ভাইসরয় ওয়াভেলের কাছে, যে ওয়াভেল সিমলা সম্মেলনে হিন্দু মহাসভাকে ডাকারই প্রয়োজন বোধ করেননি। সেখানে বাংলার গভর্নর নেহাতই চুনোপুঁটি। শ্যামাপ্রসাদ মাউন্টব্যাটেনকে চিঠি লেখেন ঠিকই, কিন্তু মাউন্টব্যাটেন সেই চিঠির উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি।
     
    আপনার চার নম্বর পয়েন্টে যেটাকে মাস্টারস্ট্রোক বলা হচ্ছে এবং যার কৃতিত্ব শ্যামাপ্রসাদকে দেওয়া হচ্ছে, তা আদ্যন্ত ভুল ৎথ্য। প্রকৃত ঘটনা হল ১৯৪৭-এর ১০ জুন ভাইসরয় ঘোষণা করেন যে, দেশভাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যে ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভার অধিবেশন বসবে এবং এই অধিবেশনে মুসলিম ও অ-মুসলিম সদস্যরা পৃথক দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে ভোট দেবেন। গভর্নরের বিবৃতির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয় যে, প্রদেশ দুটির (বাংলা ও পাঞ্জাব) সদস্যেরা আইনসভার দুটি পৃথক কক্ষে সমবেত হয়ে প্রদেশ বিভাগ সম্পর্কে তাঁদের চূড়ান্ত অভিমত প্রকাশ করবেন। এই কক্ষ দুটির একটিতে থাকবেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলাগুলির প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অন্যটিতে থাকবেন অ-মুসলিম অধ্যুষিতঞ্জেলাগুলির প্রতিনিধিরা। বিবৃতিটির সংযোজনী অংশে বাংলা (ও পাঞ্জাবের) কোন জেলাগুলিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা হিসাবে গণ্য করা হবে, তার একটি তালিকাও পেশ করা হয়। এর ভিত্তি ছিল ১৯৪১ সালের আদমসুমারি।
     
    এই উপলক্ষে বঙ্গীয় আইনসভায় মোট তিনটি ভোট হয়। প্রথমে ১২৬-৯০ ভোটে ঠিক হয় যে অবিভক্ত বাংলা পাকিস্তানে যোগ দেবে। এরপর অ-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলার সদস্যরা ৫৮-২১ ভোটে পৃথক প্রদেশ হিসাবে ভারতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এবং সবশেষে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলার সদস্যরা ১০৭-৩৪ ভোটে সিদ্ধান্ত নেন যে অবিভক্ত বাংলা পাকিস্তানে যোগ দেবে। এই সিদ্ধান্ত মাউন্টব্যাটেনের, শ্যামাপ্রসাদের এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ভূমিকাও ছিল না।
     
    আমার নজরে পড়ার আগেই @ar অনেকটাই লিখেছেন এবং সেটাই বর্তমানের নতুন ন্যারেটিভ।
  • এলেবেলে | ২৭ জুন ২০২৬ ০০:৪৭741431
  • তবে হোঅ্যা ইউনি তাদের সর্বাধিক দক্ষতা দেখিয়েছে এই জায়গাটায় - Gandhi endorsed United Bengal on 12 May 1947. By 13 May, Shyama Prasad had briefed Nehru, Patel and Kripalani — and Congress rejected the plan the very next day.
     
    মজার কথা হচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী ২৬ এপ্রিল স্বাধীন সার্বভৌম বঙ্গের প্রস্তাব দেন মাউন্টব্যাটেনকে। এরপর শরৎ বসুর বাড়িতে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তারিখটা ছিল ১২ মে। এর ৮ দিন বাদে অর্থাৎ ২০ মে স্বাধীন সার্বভৌম বঙ্গের দলিল রচিত হয়। স্বাক্ষর করেন আবুল হাশিম ও শরৎ বসু। অথচ চাড্ডিদের ইতিহাস অনুযায়ী দলিল রচিত হওয়ার আগেই মানে ১৩ মে নাকি স্বাধীন সার্বভৌম বঙ্গের পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে! চমৎকার, সন্দেহ নেই।
  • পাঠক | ২৭ জুন ২০২৬ ০৭:১৮741437
  • আবারো ধন্যবাদ, শ্রদ্ধেয় এলেবেলে
  • শিবাংশু | ২৭ জুন ২০২৬ ১২:০৬741443
  • ধন্যবাদ এলেবেলে,
    এখানে আসা হয় না, তাই একটু দেরিতে পড়লুম।
    সংক্ষেপে হলেও মূল বিষয়গুলি প্রাঞ্জল ভাবে বর্ণনা করেছেন। শ্যামাবাবু তো একজন প্লেসহোল্ডার মাত্র। অন্য কোনও রামাবাবু থাকলেও ইতিহাসের ঘটনাক্রম একই রকম হতো। ঘটনা একটাই এবং তার মধ্যে কালাপানির বুলবুলদের কোনও ইতিবাচক ভূমিকা নেই। আমাদের প্রজন্মের দুর্ভাগ্য যে এই সব নিয়েও দেবতা গড়া দেখতে হয়। অত্যন্ত অতিষ্ঠ বোধ করলে যোগও দিতে হয়। কবি'র শরণে যাওয়া ছাড়া বিকল্প পাই না। কনউজিয়া পণ্ডিতদের গুরুমারা চেলা এতো বেড়ে গেছে দেশে,

    "...কী লয়ে বিচার,
    শুনিলে বলিতে পারি কথা দুই-চার,
    ব্যাখ্যায় করিতে পারি উলট-পালট।'
    সমস্বরে কহে সবে-- "হিং টিং ছট্‌।'
  • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় | ২৭ জুন ২০২৬ ২২:৩৩741453
  • দীর্ঘ লেখা। তবুও পুরোটা পড়ে ফেললাম। ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে ইতিহাস জানার আগ্রহে পড়ে ফেললাম। যথার্থ আলোচনা। প্রকৃত ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন। তবে একটা জায়গায় বোধহয় উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন। আপনি লিখেছেন, "পরে নবগঠিত দুই দেশের মধ্য নদীয়া, যশোহর, দিনাজপুর, মালদহ ও জলপাইগুড়ি জেলা ভাগ হয়"। ত্রিপুরার কথা উল্লেখ নেই। ত্রিপুরার কুমিল্লা অংশটি দুই ভাগে ভাগ হয়। আমি কি ঠিক বললাম? গোড়াতে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, ত্রিপুরা পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলেও বাংলাভাগের অনেক পরে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া জেলা হিসাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ত্রিপুরা পৃথক রাজ্য হিসাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
  • এলেবেলে | ২৮ জুন ২০২৬ ১১:১৭741480
  • @শিবাংশুবাবু, এই অকিঞ্চিৎকর লেখাটি যে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে, সেই কারণে কৃতজ্ঞতা জানবেন। হ্যাঁ, বড্ড হতাশা গ্রাস করেছিল। চোখের সামনে যেটা নয়, সেটাকে জোরেশোরে ঘটতে দেখছিলাম। তার ফলেই এই লেখা।
     
    @অনির্বাণবাবু, লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এই লেখার মূল ফোকাস অবিভক্ত বাংলা। তাই ত্রিপুরার কথা আসেনি, যেমন আসেনি পাঞ্জাব কিংবা সিলেটের কথাও।
     
    তবে গোড়াতে মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হলেও বাংলা ভাগের অনেক পরে মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলা হিসাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় - এটা খুব চালু ন্যারেটিভ এবং ভুল ন্যারেটিভ। জেলা হিসাবে বিভক্ত নদীয়া ও অবিভক্ত মুর্শিদাবাদ এক দিনের জন্যও পুর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং তা প্রশাসনিক উদ্যোগে ভারতে ফিরেও আসেনি। ১৯৪১-এর আদমসুমারি অনুযায়ী প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় মুসলমান জনসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৬১.৬৭ ও ৫৫.৫৬ শতাংশ। জেলাদুটি সরকার কর্তৃক সাময়িক সীমানা হিসাবে নির্ধারিত হলেও সেগুলি যে পূর্ব পাকিস্তানের ভাগেই পড়বে, এমন কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
     
    র‍্যাডক্লিফ ১২ অগস্ট তাঁর রোয়েদাদ লেখা শেষ করেন। পরের দিন তা বড়লাটের কাছে জমা পড়ে এবং মাউন্টব্যাটেনের ইচ্ছানুযায়ী ১৭ অগস্ট তা প্রকাশ্যে ঘোষণা হয়। বিভক্ত নদীয়ার মাথাভাঙা নদীর পশ্চিম তীরবর্তী সমস্ত থানা নিয়ে গোটা রানাঘাট ও কৃষ্ণনগর মহকুমা পশ্চিমবঙ্গের এবং মোট ১১টি থানা (খাকসা, কুমারখালি, মীরপুর, কুষ্টিয়া, আলমপুর, ভেড়ামারা, গাঙ্গীন, দামুরহুদা, চুয়াডাঙা, জীবননগর এবং মেহেরপুর) নিয়ে মাথাভাঙা নদীর পূর্ব তীরবর্তী দৌলতপুরের অংশবিশেষ পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে বরাদ্দ করা হয়। হিন্দুপ্রধান খুলনার সঙ্গে মুসলমানপ্রধান মুর্শিদাবাদের বিনিময়ের একটা গল্প অতি প্রচলিত বটে, কিন্তু তার পক্ষে ঐতিহাসিক সাক্ষ্যপ্রমাণ মেলে না।
  • শিবাংশু | ২৮ জুন ২০২৬ ১৩:১৯741491
  • @এলেবেলে,
    ভাই, যে কথাগুলো চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছে করে। ছাদের উপর চড়ে চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছে করে, কিন্তু প্রবৃত্তি হয় না। রুচিও না। আপনি সে কথা বলতে এগিয়ে এসেছেন। সেজন্যই ধন্যবাদ। একশো চল্লিশ বছর আগে গুরু তাঁর সখা প্রিয়নাথ সেন'কে যে কথা বলে শীতল হতে চেয়েছিলেন সেটা তো ইতিহাস। সেটা পড়লে বুঝতে পারি আমাদের সবারই তো জীবনে 'প্রিয়নাথ সেনে'র প্রয়োজন আছে। তখন তো কালাপানির বুলবুল বা শ্যামাপোকার পঙ্গপাল জন্মও নেয়নি এদেশে। তবু 'প্রিয়নাথ'-এর প্রয়োজন হতো !! বাঙালি এরকমই ছিলো, আছেও,
     
    '....খুদে খুদে "আর্য' গুলো ঘাসের মতো গজিয়ে ওঠে,
    ছুঁচোলো সব জিবের ডগা কাঁটার মতো পায়ে ফোটে।
    তাঁরা বলেন, "আমি কল্কি" গাঁজার কল্কি হবে বুঝি!
    অবতারে ভরে গেল যত রাজ্যের গলিঘুঁজি।

    ......আমারি নয় হার হয়েছে, তোমারি নয় জিৎ--
    খাবি খাচ্ছি ডাঙায় পড়ে, হয়ে পড়ে চিৎ।
    আর কেন ভাই, ঘরে চলো, ছিপ গুটিয়ে নাও,
    "রবীন্দ্রনাথ পড়ল ধরা' ঢাক পিটিয়ে দাও।'
  • dc | ২৮ জুন ২০২৬ ১৪:১৫741497
  • "এই প্রসঙ্গে হোয়া ইউনি এইটি জনপ্রিয় করছেঃ"
     
    পাঠক আর এলেবেলে, দুজনকেই বলতে চাই ঐ ইংরেজি পোস্টটা ২০০% এলএলএম (বা এআই এর) লেখা, ওটা একেবারে টিপিকাল এ আই ল্যাংগুয়েজ, কিন্তু তারপর হিউম্যানাইজার চালানো হয়েছে। কাজেই ওটা কাউন্টার করাও পন্ডশ্রম, স্রেফ বলে দিন যে ওটা এআই জেনারেটেড, ওর কোন মূল্য নেই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন