হীরেনদা,
ভাস্কর চরিত্রটি আমার আকর্ষণীয় লেগেছে পরের মুখে ঝাল খেয়ে। আপনি তাকে সরাসরি সশরীরে দেখেছেন। সে আপনাকে স্নেহ করতেন। তাই হয়তো ভাস্করের কিছু টুকরো দিয়ে পেশ করা এই কোলাজের সাথে রিলেট করতে পেরেছেন। ভালো লেগেছে।
রঞ্জনদা,
আপনার জন্যেও ডুব দিয়ে তুলে আনলাম - সুনীলের জবানীতে, আর একটি ভাস্কর টুকরো:-
রাত আড়াইটের সময় ট্রেন এসে দাঁড়ালো হাঙ্গেরি-রুমানিয়া সীমান্তে। তারপর শুরু হলো ইমিগ্রেশান-কাস্টমসের অত্যাচার। তিনজন ব্যক্তি আমাদের কিউবিক্সে এসে পাশপোর্ট নিয়ে নাড়াচাড়া করতে লাগলো, তাদের মধ্যে একজন ফরাসি ফ্রাংক ও ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যমান হিসেব কষতে হিমসিম খেয়ে গেল অন্য দু'জন আবদার ধরলো, আমাদের সুটকেস খুলে দেখবে। রাত্রির তৃতীয় প্রহরে, ঘুম চোখে এসব অত্যাচারের মতনই মনে হয়। সুটকেস খুলতে বাধ্য করে, তারা হাত দিয়ে অন্যমনস্কভাবে জামা-কাপড় উল্টে দেয়, আসলে তারা কিছুই দেখে না, সত্যিকারের গোপনীয় কোনো বস্তু থাকলে ওভাবে তা কিছুতেই বোঝা যাবে না, তবু নিছক লণ্ডভণ্ড করাতেই যেন তাদের আনন্দ।
হঠাৎ ভাস্করের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলো। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের লোকজনদের ওপর যে কখনো চোটপাট করা যায় না, এ বিবেচনা হারিয়ে ফেলে ভাস্কর রীতিমতন তর্জন-গর্জন শুরু করে দিল। মেজাজ খারাপ করে ধমক দিয়ে বলে উঠলো, এতক্ষণ ধরে তোমরা কী করছো? সামান্য পাউন্ড-ফ্রাংকের হিসেব জানো না, শুধু শুধু বিরক্ত করছো!
আমি আর বাদল ভাস্করকে থামাবার চেষ্টা করেও পারি না, তাকে টেনে নিয়ে গেলাম একপাশে। লোকগুলো ইংরিজি প্রায় বোঝেই না, তাই যা রক্ষে। প্রায় কুড়ি-পঁচিশ মিনিট পরে লোকগুলি বিদায় নিলে অসীম বললো, ভাস্কর, এটা তুমি কী করলে? বিপদে ফেলে দিচ্ছিলে সবাইকে! ভাস্কর বললো, তা বলে কি অসভ্যতা সহ্য করতে হবে রাত আড়াইটের সময়? বিপদ, বিপদ আবার কী? অসীম বললো, যদি আমাদের জেলে পুরে দিত? একটা কিছু ফল্স চার্জ দিয়ে দিলেই তো হলো। ভাস্কর বললো, জেলে দেবে, মামাবাড়ির আবদার? আমরা কি চুরি-জোচ্চুরি করেছি? আমাদের এমব্যাসিতে ফোন করতাম। বাদল বললো, জেলে না দিলেও এই শীতের রাতে আমাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে প্ল্যাটফর্মে বসিয়ে রাখতে তো পারতো! সে ক্ষমতা এদের আছে। তখন কী হতো?
এবার ভাস্কর কোনো উত্তর খুঁজে না পেয়ে টপ করে শুয়ে পড়ে পাশ ফিরে নাক ডাকতে লাগলো।