


বিকেন্দ্রিকৃত সামাজিক মাধ্যমের কি কোন নিয়ে দু চার কথা। সাম্প্রতিক আরশোলা বিপ্লব বিশেষ করে তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইনস্টাগ্রামের প্রতি ফতোয়া জারি নিয়ে যারা বিচলিত, তাদের জন্য সুখবর যে অন্য রকম ব্যবস্থাও আছে। তাই নিয়ে লেখা। ... ...

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নীতি, আদর্শ ও দর্শন বিস্তারের ক্ষেত্রে যে স্বল্পপঠিত বইটি এক গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে, সেই বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে দুচার কথা ... ...


সম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদের রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদের চ্যালারা ক্ষমতা দখল করার পরে তাঁদের স্বপ্নপূরণের কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা উল্লেখ করেছেন শ্যামাপ্রসাদের সেই বিখ্যাত উক্তি: “কংগ্রেস ভারত-বিভাজন করেছিল আর আমি করেছিলাম পাকিস্তান-বিভাজন।” অর্থাৎ তাঁদের দাবি অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদই বাংলা ভাগ করে পাকিস্তান থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ছিনিয়ে আনেন। সেই অর্থে তিনিই হলেন পশ্চিমবঙ্গের স্থপতি তথা সৃষ্টিকর্তা। এই দাবির সত্যতা অনুসন্ধানের একটি সামান্য প্রয়াস রইল এই লেখায় ... ...

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ২.২ কোটি মহিলাকে প্রতি মাসে ১,০০০-১,২০০ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর এই প্রকল্প বন্ধ করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হচ্ছে যাতে মাসিক অনুদান বেড়ে দাঁড়াবে ৩,০০০ টাকা। এই লেখায় ১৯ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি, ১১ পাতার আবেদন ফর্ম এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের ফেসবুক বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে নতুন প্রকল্পের যোগ্যতার মানদণ্ড কতজন প্রকৃত সুবিধাভোগীকে বাদ দিতে পারে। ... ...

এই ছকে জনতাকে সাবধান করে দেওয়া হয় – যে সংবাদমাধ্যম তাদের সমালোচনা করছে, তাদের সত্য ও তথ্যের প্রতি দায়বদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে, তারা সবাই ফেক নিউজ়, তাদের হয় মুছে দেওয়া, নয় নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিচারব্যবস্থায় যেসব স্বাধীনচেতা বিচারক তাদের দায়ী করতে পারে, এ ছকের শুরুতেই তাদের সরিয়ে, কথা শুনবে বা স্বার্থ চরিতার্থ করবে – এমন অনুগতদের দিয়ে আদালত ভরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তারপর একে একে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান—সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, আয়কর বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ, সেনাবাহিনী—দখল করা বা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা তাদের লক্ষ্য হয়, যাতে এদের অস্ত্র বানিয়ে বিরোধীদের উপর প্রয়োগ করা যায়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রটিকে অধিকার করা যায় আর নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাদার সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, ছাত্র সংগঠন, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী পর্যন্ত সমস্ত স্তরকে নিজেদের তাঁবে রাখা যায় ... ...


সহজ করে বলতে গেলে, ১৯৭১-এর পরে যে রাজ্যগুলির, বা যে অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে, তাদের সিটের ভাগ অর্থাৎ রিপ্রেজেন্টেশন বাড়বে, আবার ঠিক উল্টোদিকে যে রাজ্যগুলি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাদের সিটের ভাগ, অর্থাৎ ক্ষমতা কমবে। আরও ভোঁতাভাবে বলতে গেলে, উত্তরের রাজ্যগুলির, বিশেষতঃ গোবলয়ের আসন-সংখ্যা বাড়বে, যে বাড়ার মাশুল দেবে ভারতের বাদবাকি রাজ্যগুলি। ভেবে দেখুন, ভারতের জনসংখ্যা এখন সবার থেকে উপরে, সাধারণ মানুষের সামান্য সামাজিক সুরক্ষা নেই, ন্যূনতম মানবাধিকারও তাদের কাছে স্বপ্ন – অথচ, এই পরিস্থিতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শাস্তিই বিধেয়, পুরস্কার নয়। কতোটা বাড়বে সেটাও সহজেই কষে ফেলা যায় জনবৃদ্ধির হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট) ও সাম্প্রতিক জনঘনত্বের তথ্য-উপাত্ত থেকে। সরকার বলছে, সব রাজ্যেরই আসন বাড়বে। কেউ হারবে না। কিন্তু অঙ্কটা একটু ভালো করে দেখা দরকার। ২০১১ সালের সেন্সাসের ভিত্তিতে ৮৫০ আসন বণ্টন করলে: •হিন্দিবলয়ের আসন ৩৩% থেকে বেড়ে হবে ৩৮%, গোটা হিন্দিবলয় ধরলে মোট ১৩৩টি নতুন আসন। •সমস্ত পাঁচটি দক্ষিণী রাজ্য মিলিয়ে পাবে মাত্র ৪৪টি নতুন আসন। •উত্তরপ্রদেশ একাই পাবে ৫৮টি নতুন আসন, গুণতিতে পুরো দক্ষিণের চেয়েও বেশি। •দক্ষিণের মোট আসন শেয়ার ২৪% থেকে কমে হবে ২১%। •এমনকি গোয়া ২টি আসন থেকে কমে ১টি হয়ে যাবে। ... ...
সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করেছিলেন, "শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এতো অশান্তি, অসুবিধে কেন?" এর উত্তর সহজ। পশ্চিমবঙ্গের বিচারাধীন তালিকায় যে সাম্প্রদায়িক ঝোঁক স্পষ্ট দেখা যায়, সেই এক-ই প্যাটার্ন অন্য রাজ্যে নেই। এই কথা আমরা ও অন্য বিশ্লেষকরা শুরুর দিন থেকেই বহুবার বলেছেন এবং বলেই যাচ্ছেন, এবং তথ্যও সেই এক-ই দিকনির্দেশ দেয়। সঙ্গের ছবিতে দেখুন, তামিলনাড়ুর জেলাভিত্তিক বাদ পড়ার হার ও মুসলিম জনঘনত্বের মানচিত্র। দুই মানচিত্রের মধ্যে কোনো সাযুজ্য নেই। যেমনটা ছিলো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে, বিচারাধীনের হার ও মুসলিম জনঘনত্বের মধ্যে। ... ...

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় বেশ কিছু পুরোনো লব্জ ঘোরাফেরা করছে, যেমন কেন্দ্র রাজ্য বঞ্চনা, ভাতা বনাম চাকরি, উন্নয়ন বনাম ধার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ইত্যাদি প্রভৃতি। এই সব গুলিই তাদের নিজস্ব পরিসরে যথেষ্ট গুরুত্ত্ব রাখছে বা রাখবে নিশ্চিত। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বাঙলার সামাজিক মানচিত্রের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও শ্রেণিগত ফাটল দানা বাঁধছে, যা হয়তো এই নির্বাচনের জনমতের অভিমুখ নির্ধারণে অনুঘটকের কাজ করতে পারে, সর্বোপরি এই প্রবণতা আমাদের বর্তমান সময়ের নিরিখে খুব জরুরি একটি পর্যবেক্ষণ। কাজেই সেই বিষয়টি দিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক। মূলত গ্রাম শহর যে বিভাজনটি বঙ্গ রাজনীতিতে বরাবরই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং বলতে পারা যায় যে একটি নিয়ামক হয়ে এসেছে, সেখানে একটি রূপান্তরের আভাস পাওয়া যাচ্ছে পরিষ্কারভাবে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক বিশাল 'অ্যাসপিরেশনাল ক্লাস' বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজ, যারা এখন আর কেবল মহানগর-কেন্দ্রিক বা গ্রাম কেন্দ্রিক নয়, বরং বিস্তৃত হয়েছে জেলা-সদর বা মহকুমা স্তরের বর্ধিষ্ণু গ্রামগুলোতেও ... ...

এই বছরের শুরুতে একটা প্রায় জ্যোতিষী অমৃতলালের স্টাইলে ভবিষ্যদবাণী করেছিলাম, “ফলিবেই ফলিবে”, তার দুই নম্বরটা ছিল এইরকম, “পঞ্চাশটা কোডোপাইরিন মার্কা হিন্দি সিনেমা বেরোবে যার মধ্যে ছাপ্পান্নটা যুদ্ধু কিংবা দেশপ্রেম নিয়ে। পাঁচে পাঁচ না দিলে সমালোচকদের মুণ্ডু নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, বিবেক অগ্নিহোত্রী একাই আরো খান তিনেক ফাইলস রিলিজ করবেন। বাংলার বামঘেঁষা শিল্পীদের তাতে দেখা গেলেও আপনি বিশ্বাস করবেন ওঁরা এসব কিছুই জানতেন না।“ সেটা ফলতে চলেছে কি না সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বৃথা, তবে, গত বছর যখন ধরণীধর সমাদ্দার বেশে রণবীর-২ ক্যালাকেলি কচ্চিলেন, তখন আমি আমার বন্ধুবান্ধুবদের বলে-টলে, এবং কিছুটা নিজে-নিজেই একটা মেইনস্ট্রিম বলিউডি সিনিমার লিস্ট বানাতে শুরু করি – ২০১৪ থেকে ’২৫, লিস্টে আছে শুধু এমন সিনেমা যেগুলো হয় প্রোপাগাণ্ডা, না হলে যুদ্ধবাজ, না হলে রিভিশনিস্ট হিস্ট্রি এইরকম, ক্যাটেগরিগুলো মোটামুটি – মাসকুলার ন্যাশনালিজ়ম, পাকিস্তান-বিরোধী ও যুদ্ধজিগির, মুসলিম-ইতিহাস-বিদ্বেষী, সরাসরি হিন্দুত্ব প্রোপাগাণ্ডা এবং বিজেপিনেতাদের জীবনী বা পলিসি। বলাই বাহুল্য, এই লিস্ট আংশিক, এবং বেশিরভাগ-ই লোকের মুখের ঝাল খেয়ে বা রিপোর্ট অথবা উইকি পড়ে লেখা, আমি ছাভাও দেখি নাই, বেঙ্গল কী কাশ্মীর ফাইলস কী উড়ি (নাকি উরি?) – কিস্যু দেখি নাই। এমন কী, শৈশবের ঈশ্বর শারুক্ষানের পাঠানজোয়ান ইত্যাদিও না। কিছুই দেখিনি বললে অবশ্য মিথ্যে বলা হবে – হোমবাউণ্ড তো হিন্দিই বটে, তবে এই লিস্টে তার ঢোকার দুর্ভাগ্য হয়নি। তারপর সেই লিস্ট নিয়ে এ-আই দিয়ে ওয়েব স্ক্রেপ করে বক্স অফিসের হিট/ফ্লপ ইত্যাদি নামালাম, আর কয়েকটা ছোট্টো সহজ প্লট-ও করে ফেললাম আরে (অর্থাৎ, R-এ।) সোজাসাপ্টা ছবি – কোন বছরে কোন ক্যাটিগরিতে কটা, সেই সংখ্যা কী ভোটের আগে বাড়ে? আর এই সমস্ত ক্যাটিগরির মধ্যে কোন ফরমুলায় কত পারসেন্ট সিনেমা “হিট”? এ ছাড়াও, বক্স অফিসে কোন ক্যাটিগরির সিনেমা কত কোটী টাকা কামিয়েছে, তাদের মধ্যে আউটলায়ার-ই বা কারা? ... ...

নির্বাচন বা ভোট ব্যবস্থার জন্ম হয় প্রাচীন গ্রীসের অ্যাথেন্স শহরে, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে। অনেক ঐতিহাসিক এই সময়টিকেই গণতন্ত্রের জন্মকাল বলেছেন। তখনকার অ্যাথেন্সে এই ভোট ব্যবস্থা সর্বজনীন ছিলো না, কেবলমাত্র পুরুষ নাগরিকরা ভোটে অংশগ্রহণ করতেন। এটিকে বলা হতো — ‘সরাসরি গণতন্ত্র’। সেই সময় ভোটের জন্য পাথর, ধাতব চাকতি বা কখনো টুকরো মাটির পাত্র ব্যবহার করা হতো, যা ছিল এক ধরনের প্রাচীন ব্যালট। আধুনিক গণতন্ত্রের জন্ম হয় প্রথম শিল্প বিপ্লবের কোলে — জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম, একজাতি রাষ্ট্র গঠন, সামন্ততন্ত্রকে দেশীয় পুঁজিপতিদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করবার মধ্য দিয়ে। ... ...

সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার সেদিনই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যেদিন মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মাতৃভাষা মাধ্যম না হলে শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। ... ...

এর ফলে বিধানভার ফলাফল কী হতে পারে? তৃণমূলের আসনসংখ্যা হতে পারে, ১৫৬ ( সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে সামান্য বেশি)। বিজেপির ১৩৩ (সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে সামান্য কম)। সেই ছবিও দেওয়া আছে। (খেয়াল করে দেখবেন, তৃণমূল কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ধারেকাছেই থাকছে, এবার দল ভেঙে সরকার গড়লে কারো কিছু বলার থাকেনা - মেটিকিউলাস ডিজাইন একেই বলে) অবশ্য এটা প্রোজেকশন, নিখুঁত হিসেব না। এর মধ্যে পূর্বানুমান আছে, ১। ভোটের প্যাটার্ন ২১ থেকে অক্ষত আছে। ২। "বিচারাধীন"রা সবাই তৃণমূলের ভোটার। দুটোই হিসেবের স্বার্থে করা। কিন্তু খুব অকেজো পূর্বানুমান নয়। বিচরাধীনরা মুর্শিদাবাদ-মালদা-দিনাজপুরে মোটামুটিভাবে তৃণমূল ভোটার, এটা আন্দাজ করা যায়। কারণ সেখানে যাঁরা বাদ গেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠই সংখ্যালঘু। সেখানে সোজাসাপ্টা হিসেব। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণে এলে বর্ধমান ছাড়ালেই প্যাটার্ন বদলাচ্ছে, লিস্টি থেকেই দেখতে পাবেন। সেটা কী, এই নিয়ে কাজ চলছে। হলে আবার লিখব। কিন্তু কোন ছকে কাজ চলছে, এটা এই তালিকা থেকে পরিষ্কার। এবং, মনে রাখতে হবে, "বিচারাধীন" এদের তূণে একটা অস্ত্র মাত্র। এছাড়াও "বাদ" আছে, বহিরাগত ভোটার "যোগ" আছে, অনাবিষ্কৃত আরও নানা পন্থা আছে। সেগুলো এই হিসেবে ধরা হয়নি। কিন্তু সেগুলো ভুলে গেলে হবেনা। ... ...

নথি কখনও নাগরিকত্বের পরিচয় হতে পারে না ... ...
