এই লেখায় কিছু পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখার চেষ্টা করেছি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর কারণে কোন ধরনের বিধানসভা আসনে নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ... ...

এই বছরের শুরুতে একটা প্রায় জ্যোতিষী অমৃতলালের স্টাইলে ভবিষ্যদবাণী করেছিলাম, “ফলিবেই ফলিবে”, তার দুই নম্বরটা ছিল এইরকম, “পঞ্চাশটা কোডোপাইরিন মার্কা হিন্দি সিনেমা বেরোবে যার মধ্যে ছাপ্পান্নটা যুদ্ধু কিংবা দেশপ্রেম নিয়ে। পাঁচে পাঁচ না দিলে সমালোচকদের মুণ্ডু নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, বিবেক অগ্নিহোত্রী একাই আরো খান তিনেক ফাইলস রিলিজ করবেন। বাংলার বামঘেঁষা শিল্পীদের তাতে দেখা গেলেও আপনি বিশ্বাস করবেন ওঁরা এসব কিছুই জানতেন না।“ সেটা ফলতে চলেছে কি না সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বৃথা, তবে, গত বছর যখন ধরণীধর সমাদ্দার বেশে রণবীর-২ ক্যালাকেলি কচ্চিলেন, তখন আমি আমার বন্ধুবান্ধুবদের বলে-টলে, এবং কিছুটা নিজে-নিজেই একটা মেইনস্ট্রিম বলিউডি সিনিমার লিস্ট বানাতে শুরু করি – ২০১৪ থেকে ’২৫, লিস্টে আছে শুধু এমন সিনেমা যেগুলো হয় প্রোপাগাণ্ডা, না হলে যুদ্ধবাজ, না হলে রিভিশনিস্ট হিস্ট্রি এইরকম, ক্যাটেগরিগুলো মোটামুটি – মাসকুলার ন্যাশনালিজ়ম, পাকিস্তান-বিরোধী ও যুদ্ধজিগির, মুসলিম-ইতিহাস-বিদ্বেষী, সরাসরি হিন্দুত্ব প্রোপাগাণ্ডা এবং বিজেপিনেতাদের জীবনী বা পলিসি। বলাই বাহুল্য, এই লিস্ট আংশিক, এবং বেশিরভাগ-ই লোকের মুখের ঝাল খেয়ে বা রিপোর্ট অথবা উইকি পড়ে লেখা, আমি ছাভাও দেখি নাই, বেঙ্গল কী কাশ্মীর ফাইলস কী উড়ি (নাকি উরি?) – কিস্যু দেখি নাই। এমন কী, শৈশবের ঈশ্বর শারুক্ষানের পাঠানজোয়ান ইত্যাদিও না। কিছুই দেখিনি বললে অবশ্য মিথ্যে বলা হবে – হোমবাউণ্ড তো হিন্দিই বটে, তবে এই লিস্টে তার ঢোকার দুর্ভাগ্য হয়নি। তারপর সেই লিস্ট নিয়ে এ-আই দিয়ে ওয়েব স্ক্রেপ করে বক্স অফিসের হিট/ফ্লপ ইত্যাদি নামালাম, আর কয়েকটা ছোট্টো সহজ প্লট-ও করে ফেললাম আরে (অর্থাৎ, R-এ।) সোজাসাপ্টা ছবি – কোন বছরে কোন ক্যাটিগরিতে কটা, সেই সংখ্যা কী ভোটের আগে বাড়ে? আর এই সমস্ত ক্যাটিগরির মধ্যে কোন ফরমুলায় কত পারসেন্ট সিনেমা “হিট”? এ ছাড়াও, বক্স অফিসে কোন ক্যাটিগরির সিনেমা কত কোটী টাকা কামিয়েছে, তাদের মধ্যে আউটলায়ার-ই বা কারা? ... ...

নির্বাচন বা ভোট ব্যবস্থার জন্ম হয় প্রাচীন গ্রীসের অ্যাথেন্স শহরে, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে। অনেক ঐতিহাসিক এই সময়টিকেই গণতন্ত্রের জন্মকাল বলেছেন। তখনকার অ্যাথেন্সে এই ভোট ব্যবস্থা সর্বজনীন ছিলো না, কেবলমাত্র পুরুষ নাগরিকরা ভোটে অংশগ্রহণ করতেন। এটিকে বলা হতো — ‘সরাসরি গণতন্ত্র’। সেই সময় ভোটের জন্য পাথর, ধাতব চাকতি বা কখনো টুকরো মাটির পাত্র ব্যবহার করা হতো, যা ছিল এক ধরনের প্রাচীন ব্যালট। আধুনিক গণতন্ত্রের জন্ম হয় প্রথম শিল্প বিপ্লবের কোলে — জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম, একজাতি রাষ্ট্র গঠন, সামন্ততন্ত্রকে দেশীয় পুঁজিপতিদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করবার মধ্য দিয়ে। ... ...

সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার সেদিনই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যেদিন মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মাতৃভাষা মাধ্যম না হলে শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। ... ...

এর ফলে বিধানভার ফলাফল কী হতে পারে? তৃণমূলের আসনসংখ্যা হতে পারে, ১৫৬ ( সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে সামান্য বেশি)। বিজেপির ১৩৩ (সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে সামান্য কম)। সেই ছবিও দেওয়া আছে। (খেয়াল করে দেখবেন, তৃণমূল কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ধারেকাছেই থাকছে, এবার দল ভেঙে সরকার গড়লে কারো কিছু বলার থাকেনা - মেটিকিউলাস ডিজাইন একেই বলে) অবশ্য এটা প্রোজেকশন, নিখুঁত হিসেব না। এর মধ্যে পূর্বানুমান আছে, ১। ভোটের প্যাটার্ন ২১ থেকে অক্ষত আছে। ২। "বিচারাধীন"রা সবাই তৃণমূলের ভোটার। দুটোই হিসেবের স্বার্থে করা। কিন্তু খুব অকেজো পূর্বানুমান নয়। বিচরাধীনরা মুর্শিদাবাদ-মালদা-দিনাজপুরে মোটামুটিভাবে তৃণমূল ভোটার, এটা আন্দাজ করা যায়। কারণ সেখানে যাঁরা বাদ গেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠই সংখ্যালঘু। সেখানে সোজাসাপ্টা হিসেব। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণে এলে বর্ধমান ছাড়ালেই প্যাটার্ন বদলাচ্ছে, লিস্টি থেকেই দেখতে পাবেন। সেটা কী, এই নিয়ে কাজ চলছে। হলে আবার লিখব। কিন্তু কোন ছকে কাজ চলছে, এটা এই তালিকা থেকে পরিষ্কার। এবং, মনে রাখতে হবে, "বিচারাধীন" এদের তূণে একটা অস্ত্র মাত্র। এছাড়াও "বাদ" আছে, বহিরাগত ভোটার "যোগ" আছে, অনাবিষ্কৃত আরও নানা পন্থা আছে। সেগুলো এই হিসেবে ধরা হয়নি। কিন্তু সেগুলো ভুলে গেলে হবেনা। ... ...

নথি কখনও নাগরিকত্বের পরিচয় হতে পারে না ... ...





অনুপ্রবেশকারী মুসলমান খুঁজে না পেয়ে এরপর আমরা তাই আরেকটা অনুসন্ধান করি। বাঙালি (হিন্দু এবং মুসলমান) নাম নিয়ে। অনুসন্ধানের কায়দাটা পরে লিখছি। কিন্তু আগে ফলাফল। ২০০২ সালে বেলগাছিয়া কেন্দ্রে বাঙালি নামের ভোটার ছিলঃ ৬২.৮২ % ২০২৫ সালে বিধানগর কেন্দ্রের বাঙালি নামের ভোটারঃ ৫৭.৫০ % এইবার দেখুন, আসল জনবিন্যাস বদলটা ঠিক কী হয়েছে। শহর কলকাতা সন্নিহিত অঞ্চলে একলাফে ৫% বাঙালি কমে গেছে। এটাই জনবিন্যাস বদলের চরিত্র। ... ...

২০০২ সালে বনগাঁয় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৩.৯৭ শতাংশ। ২০২৫ এর তালিকায় সংখ্যা কমে হয়েছে ২৩.১৮ শতাংশ। জনবিন্যাস বদলেছে বটে, কিন্তু সংখ্যালঘু কমেছে। ২০২৬ এর খসড়া তালিকায় জনবিন্যাস আরও বদলেছে। কয়েক মাসের মধ্যে দুম করে প্রায় ২ শতাংশ কমে হয়েছে ২১.৬২। ... ...

এমন ধরনের ভয় পাওয়ানোর প্রয়াস বিগত কয়েক বছরে জুতো ছোঁড়ার মধ্য দিয়েও চলছে। বছর চারেক আগে, নাগপুরের এক সভায় যখন কানহাইয়া কুমারকে জুতো ছোঁড়া হয়েছিল, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কানহাইয়া কুমারের তেমন কোন প্রতিবাদ ছিল না যা সমাজের চোখে দাগ কাটতে পারে, ভয়ের বিপরীতে সাহসের বার্তা বয়ে আনে। এবারে নিম্নবর্ণ-বিচারপতিকে জুতো ছোঁড়ার পরও সেই একই ভঙ্গি দেখা গেলো সর্বত্র দিক থেকে। ফলে অভিযুক্তেরা বুক বাজিয়ে তাদের বর্ণ-বিদ্বেষপূর্ণ, জাতি হিংস্রতার প্রচার ও প্রসার করে চলেছেন, প্রথমে জুতো ছুঁড়ে, পরে ঢিল মেরে, ঢিলের পরে প্রাণঘাতী বুলেট মারার আওয়াজ দিচ্ছেন। ... ...

আসলে মমতা ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবার পরর্বতী সময় জুড়ে অবাধে লগ্নিপুঁজির চলাচল পেয়েছেন, বিশেষত, ২০১৭-১৮ সালের পর থেকে। এটিকে কাজে লাগিয়ে এ রাজ্যে এক ধরনের নতুন উদীয়মান লুম্পেন ফাটকা, কালোবাজারি, সুদখোর ব্যবসাদার গোষ্ঠীর জন্ম দিতে পেরেছেন — জমি লুঠ, প্রমোটিং, সিন্ডিকেট ও শেয়ারবাজার প্রভৃতির মাধ্যমে। প্রধানত, এই গোষ্ঠীগুলোর দ্বারাই তিনি নিজের রাজনৈতিক আবৃত্ত পরিপূর্ণ করে তুলেছেন। এই গোষ্ঠীগুলো গ্রামের সাথে শহরের সংযোগ স্থাপন করেছে, এর মধ্য থেকে গ্রামের ফড়ে, আধা-শহর ও শহরের সর্বক্ষেত্রে ঠিকাদার গড়ে উঠছে, বেড়ে চলেছে। এই গোষ্ঠীগুলো দেশী-বিদেশী বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠীগুলোর সাথে এ রাজ্যের ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন করেছে। ... ...

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির আশি বছর পরেও আমাদের আগ্রহের বিষয় দুটি। প্রথমত নেতাজী সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুরহস্য এবং দ্বিতীয়ত নেতাজীকে নিয়ে কম্যুনিস্ট পার্টির তৎকালীন অবস্থান ।নেহেরু বলেছিলেন মার্কসবাদ আর ফ্যাসিবাদের মাঝখানে কোনো জায়গা থাকতে পারে না। সুভাষ কিন্তু ঠিক সেটিতেই বিশ্বাস করতে আরম্ভ করলেন। নেতাজীর নাৎসীদের প্রতি অবস্থান ছিল রাজনৈতিক ভাবে এক হিমালয়প্রতিম ভুল। পরে জাপ সাম্রাজ্যবাদ অক্ষশক্তির সঙ্গে যোগ দেওয়ায় এবং তাদের সাহায্য গ্রহণে সুভাষচন্দ্র বাধ্য হওয়ায় এই ভুল তার পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। ... ...

সিনেমার দৃশ্যটা মনে ধরে আছে। কারণ এখনো মাঝে মাঝেই যখন দেখতে পাই সেই খেলার ভিডিও হাইলাইটস। বাইরে থেকে খেলোয়াড় এসেছিলেন এলিতেলি নয় বড় মাপের কৈলাস বিজয় বর্গী। তিনি দেখেই বুঝে যেতেন কে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। কারণ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা চিঁড়ে মুড়ি খায়। বুঝতে পারতেন, কারণ তার ওপরওয়ালা জমিদার মশাই মোদিজি লুঙ্গি পাজামা দেখে বুঝে যান কারা মুসলমান, অর্থাৎ জঙ্গি। সেবারে দুই বেলা জমিদার ও তার সর্দার অমিত শাহ এরোপ্লেনে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করতেন। তবুও বিশেষ ফল হলো না। মনে আছে জমিদার কলকাতা টিমের খেলোয়ারদের খাবারে জোলাপ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। কলকাতার খেলোয়াড়রা সব পেট খারাপ নিয়ে দিশেহারা। তাদের বাঁ হাতের জল কিছুতেই শুকাচ্ছে না। এ রাজ্যেও শত খানেক তৃণমূলের নেতা বিধায়ক এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সিবিআই ইডির ভয় দেখিয়ে, দল ভাঙিয়ে, বিজেপিতে আনা হলো। তারাও এলো, কারণ স্লোগান ছিল "অব কি বার, দোশো পার"। বলতে পারেন সরকারটা প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল। শপথ নেওয়াই খালি বাকি ছিল। লাভের লাভ হয়নি কিছু, পৌনে একশোর গণ্ডিতে আটকে যেতেই দলছুট দল বদলুরা অনেকেই আবার ফিরে এলো। আর যারা দলে ঘাপটি মেরে ছিল, সময় সুযোগ মতো দল বদলাবে বলে, তারা সুবোধ বালক হয়ে ফের অনুগত "অনুপ্রাণিত" হয়ে থেকে গেল । ... ...

সুধীরের সিভিতে আরও বড় বড় জিনিস আছে অবশ্য। তিনি বার দুই জেল খেটেছেন। একবার ফেক নিউজের জন্য। ২০০৮ সালে, তখনও সত্যযুগ আসেনি। কাজ করতেন লাইভ ইন্ডিয়া বলে একটা চ্যানেলে, বড়কর্তা হিসেবে। একটা 'স্টিং' অপারেশন করে সেই চ্যানেল। সেখানে দেখানো হয় উমা খুরানা নামের এক মহিলা স্কুলশিক্ষিকা দেহব্যবসার চক্র চালাচ্ছেন। মহিলার চাকরি যায়, হেনস্থা হতে হয়, তিনি পাল্টা মামলা করেন। সেখানে দেখা যায়, পুরোটাই ভুয়ো। যাকে দেহব্যবসা চক্রের শিকার বলে দেখানো হচ্ছিল, সে আসলে একজন সংবাদব্যবসায়ী (পুরোটাই নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট থেকে লিখলাম)। তাঁর চ্যানেলের এই কান্ডের সুধীর চৌধুরি গ্রেপ্তার হন, এবং পরে ছাড়াও পান। ... ...

ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে, শহরতলীর মুসলমান পল্লী ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে এসআইআর এর ভয়ে, সীমান্তে কোটি-কোটি লোকের ভিড়, সব এসআইআরের ভয়ে পালাচ্ছে, এর সবকটা ভিত্তিহীন। চ্যানেলে চ্যানেলে যাঁরা এই গুলবাজি করছিলেন, প্রত্যেককে চোখে চোখে রেখে কথাগুলো বলা দরকার। কারণ, দেখা যাচ্ছে, মুসলমানের মধ্যে নিখোঁজ বা স্থানান্তরিত নেই বললেই চলে। এই নিয়ে নাগাড়ে যাঁরা গুলবাজি করে চলেছেন, তাঁদের ছেড়ে দেবার মানে নেই ... ...
