


অনুপ্রবেশকারী মুসলমান খুঁজে না পেয়ে এরপর আমরা তাই আরেকটা অনুসন্ধান করি। বাঙালি (হিন্দু এবং মুসলমান) নাম নিয়ে। অনুসন্ধানের কায়দাটা পরে লিখছি। কিন্তু আগে ফলাফল। ২০০২ সালে বেলগাছিয়া কেন্দ্রে বাঙালি নামের ভোটার ছিলঃ ৬২.৮২ % ২০২৫ সালে বিধানগর কেন্দ্রের বাঙালি নামের ভোটারঃ ৫৭.৫০ % এইবার দেখুন, আসল জনবিন্যাস বদলটা ঠিক কী হয়েছে। শহর কলকাতা সন্নিহিত অঞ্চলে একলাফে ৫% বাঙালি কমে গেছে। এটাই জনবিন্যাস বদলের চরিত্র। ... ...

২০০২ সালে বনগাঁয় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৩.৯৭ শতাংশ। ২০২৫ এর তালিকায় সংখ্যা কমে হয়েছে ২৩.১৮ শতাংশ। জনবিন্যাস বদলেছে বটে, কিন্তু সংখ্যালঘু কমেছে। ২০২৬ এর খসড়া তালিকায় জনবিন্যাস আরও বদলেছে। কয়েক মাসের মধ্যে দুম করে প্রায় ২ শতাংশ কমে হয়েছে ২১.৬২। ... ...

এমন ধরনের ভয় পাওয়ানোর প্রয়াস বিগত কয়েক বছরে জুতো ছোঁড়ার মধ্য দিয়েও চলছে। বছর চারেক আগে, নাগপুরের এক সভায় যখন কানহাইয়া কুমারকে জুতো ছোঁড়া হয়েছিল, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কানহাইয়া কুমারের তেমন কোন প্রতিবাদ ছিল না যা সমাজের চোখে দাগ কাটতে পারে, ভয়ের বিপরীতে সাহসের বার্তা বয়ে আনে। এবারে নিম্নবর্ণ-বিচারপতিকে জুতো ছোঁড়ার পরও সেই একই ভঙ্গি দেখা গেলো সর্বত্র দিক থেকে। ফলে অভিযুক্তেরা বুক বাজিয়ে তাদের বর্ণ-বিদ্বেষপূর্ণ, জাতি হিংস্রতার প্রচার ও প্রসার করে চলেছেন, প্রথমে জুতো ছুঁড়ে, পরে ঢিল মেরে, ঢিলের পরে প্রাণঘাতী বুলেট মারার আওয়াজ দিচ্ছেন। ... ...

আসলে মমতা ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবার পরর্বতী সময় জুড়ে অবাধে লগ্নিপুঁজির চলাচল পেয়েছেন, বিশেষত, ২০১৭-১৮ সালের পর থেকে। এটিকে কাজে লাগিয়ে এ রাজ্যে এক ধরনের নতুন উদীয়মান লুম্পেন ফাটকা, কালোবাজারি, সুদখোর ব্যবসাদার গোষ্ঠীর জন্ম দিতে পেরেছেন — জমি লুঠ, প্রমোটিং, সিন্ডিকেট ও শেয়ারবাজার প্রভৃতির মাধ্যমে। প্রধানত, এই গোষ্ঠীগুলোর দ্বারাই তিনি নিজের রাজনৈতিক আবৃত্ত পরিপূর্ণ করে তুলেছেন। এই গোষ্ঠীগুলো গ্রামের সাথে শহরের সংযোগ স্থাপন করেছে, এর মধ্য থেকে গ্রামের ফড়ে, আধা-শহর ও শহরের সর্বক্ষেত্রে ঠিকাদার গড়ে উঠছে, বেড়ে চলেছে। এই গোষ্ঠীগুলো দেশী-বিদেশী বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠীগুলোর সাথে এ রাজ্যের ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন করেছে। ... ...

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির আশি বছর পরেও আমাদের আগ্রহের বিষয় দুটি। প্রথমত নেতাজী সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুরহস্য এবং দ্বিতীয়ত নেতাজীকে নিয়ে কম্যুনিস্ট পার্টির তৎকালীন অবস্থান ।নেহেরু বলেছিলেন মার্কসবাদ আর ফ্যাসিবাদের মাঝখানে কোনো জায়গা থাকতে পারে না। সুভাষ কিন্তু ঠিক সেটিতেই বিশ্বাস করতে আরম্ভ করলেন। নেতাজীর নাৎসীদের প্রতি অবস্থান ছিল রাজনৈতিক ভাবে এক হিমালয়প্রতিম ভুল। পরে জাপ সাম্রাজ্যবাদ অক্ষশক্তির সঙ্গে যোগ দেওয়ায় এবং তাদের সাহায্য গ্রহণে সুভাষচন্দ্র বাধ্য হওয়ায় এই ভুল তার পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। ... ...

সিনেমার দৃশ্যটা মনে ধরে আছে। কারণ এখনো মাঝে মাঝেই যখন দেখতে পাই সেই খেলার ভিডিও হাইলাইটস। বাইরে থেকে খেলোয়াড় এসেছিলেন এলিতেলি নয় বড় মাপের কৈলাস বিজয় বর্গী। তিনি দেখেই বুঝে যেতেন কে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। কারণ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা চিঁড়ে মুড়ি খায়। বুঝতে পারতেন, কারণ তার ওপরওয়ালা জমিদার মশাই মোদিজি লুঙ্গি পাজামা দেখে বুঝে যান কারা মুসলমান, অর্থাৎ জঙ্গি। সেবারে দুই বেলা জমিদার ও তার সর্দার অমিত শাহ এরোপ্লেনে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করতেন। তবুও বিশেষ ফল হলো না। মনে আছে জমিদার কলকাতা টিমের খেলোয়ারদের খাবারে জোলাপ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। কলকাতার খেলোয়াড়রা সব পেট খারাপ নিয়ে দিশেহারা। তাদের বাঁ হাতের জল কিছুতেই শুকাচ্ছে না। এ রাজ্যেও শত খানেক তৃণমূলের নেতা বিধায়ক এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সিবিআই ইডির ভয় দেখিয়ে, দল ভাঙিয়ে, বিজেপিতে আনা হলো। তারাও এলো, কারণ স্লোগান ছিল "অব কি বার, দোশো পার"। বলতে পারেন সরকারটা প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল। শপথ নেওয়াই খালি বাকি ছিল। লাভের লাভ হয়নি কিছু, পৌনে একশোর গণ্ডিতে আটকে যেতেই দলছুট দল বদলুরা অনেকেই আবার ফিরে এলো। আর যারা দলে ঘাপটি মেরে ছিল, সময় সুযোগ মতো দল বদলাবে বলে, তারা সুবোধ বালক হয়ে ফের অনুগত "অনুপ্রাণিত" হয়ে থেকে গেল । ... ...

সুধীরের সিভিতে আরও বড় বড় জিনিস আছে অবশ্য। তিনি বার দুই জেল খেটেছেন। একবার ফেক নিউজের জন্য। ২০০৮ সালে, তখনও সত্যযুগ আসেনি। কাজ করতেন লাইভ ইন্ডিয়া বলে একটা চ্যানেলে, বড়কর্তা হিসেবে। একটা 'স্টিং' অপারেশন করে সেই চ্যানেল। সেখানে দেখানো হয় উমা খুরানা নামের এক মহিলা স্কুলশিক্ষিকা দেহব্যবসার চক্র চালাচ্ছেন। মহিলার চাকরি যায়, হেনস্থা হতে হয়, তিনি পাল্টা মামলা করেন। সেখানে দেখা যায়, পুরোটাই ভুয়ো। যাকে দেহব্যবসা চক্রের শিকার বলে দেখানো হচ্ছিল, সে আসলে একজন সংবাদব্যবসায়ী (পুরোটাই নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট থেকে লিখলাম)। তাঁর চ্যানেলের এই কান্ডের সুধীর চৌধুরি গ্রেপ্তার হন, এবং পরে ছাড়াও পান। ... ...

ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে, শহরতলীর মুসলমান পল্লী ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে এসআইআর এর ভয়ে, সীমান্তে কোটি-কোটি লোকের ভিড়, সব এসআইআরের ভয়ে পালাচ্ছে, এর সবকটা ভিত্তিহীন। চ্যানেলে চ্যানেলে যাঁরা এই গুলবাজি করছিলেন, প্রত্যেককে চোখে চোখে রেখে কথাগুলো বলা দরকার। কারণ, দেখা যাচ্ছে, মুসলমানের মধ্যে নিখোঁজ বা স্থানান্তরিত নেই বললেই চলে। এই নিয়ে নাগাড়ে যাঁরা গুলবাজি করে চলেছেন, তাঁদের ছেড়ে দেবার মানে নেই ... ...


ন্যায়বিচার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত মনের আনন্দে নিজের ইচ্ছেমতো উদ্ভাবন করতে পারে না। আদালত ‘সৌন্দর্য বা নৈতিকতার স্বকপোলকল্পিত আদর্শের সন্ধানে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানো এক নাইট’-এর ভূমিকাও নিতে পারে না। বরং সর্বদা আদালতের প্রত্যাশা থাকে যে তারা ‘পবিত্র নীতিমালা থেকে প্রেরণা নেবে।’ [দেখুন বেঞ্জামিন কার্ডোজো, The Nature of Judicial Process]। ... ...

এটা আক্ষরিক অর্থেই আনন্দ-সংবাদ, কারণ গোদি-মিডিয়া, হিন্দুত্ববাদী শক্তি আর সোসাল-মিডিয়া কীকরম ভয়ানক গাঁটছড়া বেঁধে কাজ করছে, তার প্রমাণ পেল গুরুচণ্ডালি এবং পেলাম ব্যক্তিগতভাবে আমি, গতকাল। এদের এই যৌথ গোয়ালঘরে যে আমরা সাফল্যমন্ডিত ভাবে ধোঁয়া দিতে পেরেছি, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ ব্যাটারা নিজেরাই দিয়ে গেছে গতকাল। গোদি মিডিয়া নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখে আসছি, ভিডিও করে আসছি। কাল ছিল "সীমান্তে বাংলাদেশীদের ভিড়" নামক গুলবাজির মুখোশ খোলার ভিডিও। সকালে উঠে দেখি অভাবনীয় ব্যাপার। ক্ষেপে গিয়ে এবিপি আনন্দ, তার মিডিয়া এজেন্টদের দিয়ে খুঁজে খুঁজে বার করেছে গুরুচণ্ডালির কোন কোন ভিডিওয় এবিপি আনন্দের ক্লিপ আছে। তারপর কপিরাইট ক্লেম করে অনেকগুলো নামিয়ে দিয়েছে। ফেসবুক এবং ইউটিউব জুড়ে। বেশি ভিউ যেগুলোর সেগুলো নামিয়েছে, সবকটা পারেনি, অত অধ্যবসায় থাকলে তো হয়েই যেত। ... ...


অতিমারির ভয়ঙ্কর সময়টা হয়তো আমরা সবাই পার হয়ে এসেছি কিন্তু তার প্রভাব সবটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছি আমরা তা বোধহয় নয়। অতিমারি আমাদের জীবনের চেনা অভ্যস্ত ছন্দটাকেই বিলকুল বদলে দিয়েছে। মাস্ক, স্যানিটাইজার, সোশ্যাল ডিসটেন্সের পাশাপাশি কর্মজীবনের কাঠামোতেও বদল এসেছে। এই প্রবন্ধে সেই ফেলে আসা কালান্তক সময়ের কয়েকটি বিশেষ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মোহন মুদীর মতো মানুষ একটা কঠিন সময়ের প্রতীক। ... ...




সমস্ত ইতিহাসের মধ্যে এই একুশে জুলাইয়ের ইতিহাসটাই একদম স্মৃতি থেকে বলতে পারি। তখন ৯৩ সাল। এক বছর আগে বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়ে গেছে, দাঙ্গা-টাঙ্গাও, হয়েছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কোথায় বিজেপি? লোকে বলত, ওসব তো গোবলয়ের অসভ্য কাণ্ডকারখানা, এখানে শুধু সিপিএম-কংগ্রেস। সিপিএম তখনও ৭২-৭৭ এর কংগ্রেসি গুণ্ডামি আর ১১০০ কর্মী খুন হবার কথা নিয়ে ব্যস্ত। এখন যেমন ৩৪ বছর, তখন ছিল ৭২-৭৭। আর কংগ্রেস ভাবত, এত খুন-জখম-ধর্ষণ-টর্ষনের পরেও, এই সিপিএম ব্যাটারা জেতে কীকরে। গনিখান সোজাসাপ্টা লোক ছিলেন। ভোট-টোটের চক্করে না গিয়ে স্টেনগান হাতে নিয়ে সিপিএমকে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে বলেছিলেন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের ধারণা ছিল লোকে ভোট দিতে পারলেই তিনি জিতবেন। ওইজন্যই ৯৩ সালে বাধ্যতামূলক ভোটার কার্ডের দাবীতে মিছিল ডেকেছিলেন ২১ জুলাই। ... ...
