

আসলে এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক,প্রযোজক, শিল্পী কলাকুশলীরা একটা গভীর সত্যকে তুলে ধরেছেন আমাদের সকলের কাছে – মানুষের লোভ আজ আমাদের মনুষ্যত্বকে ছাপিয়ে যাচ্ছে অবলীলাক্রমে। এই চলচ্চিত্র আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে অনিয়ন্ত্রিত লোভ আর মুনাফা অর্জনের তাগিদ তিল তিল করে মানুষের মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে নষ্ট করে ফেলেছে, কীভাবে আমরা সমস্ত নীতি নৈতিকতা আর মানুষী অনুভূতিগুলোকে হেলায় দূরে সরিয়ে রেখে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছি। ... ...

টুইটার এবং তাকে কেন্দ্র করে এবারের লেখা, সামাজিক মাধ্যম ওয়েব আশ্রয়ী ঠিকই কিন্তু ওয়েব যে কারণে মুক্ত এবং সার্বজনীন তাকে সে বেঁধে ফেলেছে কারাগারের মতন করে | এই ব্যাপারটা যারা ব্যবহার করেন তাঁদের দৃষ্টিগোচর হয় কি হয় না জানি না, বা হলেও তাঁরা হয়তো মানিয়ে নেন | এই পর্ব আমরা শুরু করব টুইটার কে নিয়ে এবং শেষ করব পরবর্তী পর্বে আসার আগে উন্মুক্ত সার্বজনীন মাধ্যমের সূত্রপাত করে ... ...


বিকেন্দ্রিকৃত সামাজিক মাধ্যমের কি কোন নিয়ে দু চার কথা। সাম্প্রতিক আরশোলা বিপ্লব বিশেষ করে তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইনস্টাগ্রামের প্রতি ফতোয়া জারি নিয়ে যারা বিচলিত, তাদের জন্য সুখবর যে অন্য রকম ব্যবস্থাও আছে। তাই নিয়ে লেখা। ... ...


রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নীতি, আদর্শ ও দর্শন বিস্তারের ক্ষেত্রে যে স্বল্পপঠিত বইটি এক গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে, সেই বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে দুচার কথা ... ...


রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন শুধু সংসদ বা বিধানসভার আসনের হিসাবে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রকৃত আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় সুপারস্ট্রাকচার-এর মধ্য দিয়ে: বিশ্ববিদ্যালয়, পাঠ্যপুস্তক, বুদ্ধিজীবী সমাজ, সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠান এবং দৈনন্দিন সাধারণ মানুষের চেতনায়। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামশিয়ান কৌশল সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। কেন্দ্রে ক্ষমতায় থেকে তারা আইসিএআর, ইউজিসি, এনসিইআরটি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য নিয়োগ পর্যন্ত — প্রতিটি স্তরে একটি সুচিন্তিত সাংস্কৃতিক হেজেমনি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প চালিয়ে গেছে এবং সামাজিক গণমাধ্যমে নিজস্ব বয়ান নির্মাণকে একটি অন্য স্তরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ... ...


আমি আমার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি যা তিনি অনিয়মিতভাবে লিখতেন এবং যা Leaves from a diary নামে প্রকাশিত সেটাকেই কেন্দ্রীয় ফোকাসে রেখেছি। কারণ একজন ব্যক্তির মতাদর্শ, পছন্দ অপছন্দ, স্ববিরোধিতা সবকিছু ডায়েরিতে অন্তরঙ্গভাবে ধরা পড়ে যা মানুষটিকে চিনতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিপ্রেক্ষিত ব্যাখ্যা করার জন্য আমি জয়া চ্যাটার্জীর দুটি বই যা বামপন্থীদের কাছে প্রশংসিত এবং বিপরীত শিবিরের কাছে নিন্দিত – সে দুটির সাহায্য নিয়েছি। ... ...

আপাতত, এই সার্ভের অনেকগুলি সূচক থেকে বাছাই করে শুধু স্বাস্থ্য, এবং নারী এবং শিশুকল্যাণের কয়েকটি সূচকের জন্য পশ্চিমবঙ্গ আর গোটা দেশের সার্বিক গড়ের তুলনা করবো। একশো-একটা ইন্ডিকেটর থেকে বেছে গোটা দশেক বের করা কঠিন কাজ, এবং কিছু একদেশদর্শিতা থেকেই যাবে। তার আগে খুব ছোট্ট করে বলতে গেলে, রাজ্য জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলায় যতটা দক্ষ হয়ে উঠেছে, সামাজিক পরিবর্তনে ততটাই ধীরে এগিয়েছে। একদিকে যেমন স্বাস্থ্যবিমা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অ্যান্টিনেটাল কেয়ার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, অন্যদিকে চাইল্ড ম্যারেজ, মহিলাদের শিক্ষার নিম্ন হার এবং এনসিডির বর্ধনশীল বোঝা একই গতিতে এগোয়নি। দুটো ধারা পাশাপাশি রাখলে যা বোঝা যায়, তা হলো: কল্যাণ প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার কাঠামো যত দ্রুত তৈরি হয়েছে, সামাজিক পরিবর্তন (অথবা প্রগতি) তার সাথে তাল রাখতে পারেনি। ... ...

জলবায়ুর পরিবর্তন আজ আর গল্পকথা নয়, নিদারুণ সত্য, নির্মম বাস্তবতা। বাতাবরণের এমন বদলের হাত ধরেই বদল আসছে আমাদের এতোদিনের চেনা রুটিনে। পাল্টে যাচ্ছে সব, বলা ভালো পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। এই আকস্মিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে গভীর সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের শিশুদের।তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। অথচ কি অনিশ্চয়তায় ভরা তাদের মহার্ঘ্য শৈশবকাল। এই অনিশ্চিয়তার কারণ ও প্রভাব নিয়েই এই নিবন্ধ। পড়ে মতামত জানান। আমি মন্থনে বিশ্বাস করি। ... ...

সম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদের রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদের চ্যালারা ক্ষমতা দখল করার পরে তাঁদের স্বপ্নপূরণের কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা উল্লেখ করেছেন শ্যামাপ্রসাদের সেই বিখ্যাত উক্তি: “কংগ্রেস ভারত-বিভাজন করেছিল আর আমি করেছিলাম পাকিস্তান-বিভাজন।” অর্থাৎ তাঁদের দাবি অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদই বাংলা ভাগ করে পাকিস্তান থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ছিনিয়ে আনেন। সেই অর্থে তিনিই হলেন পশ্চিমবঙ্গের স্থপতি তথা সৃষ্টিকর্তা। এই দাবির সত্যতা অনুসন্ধানের একটি সামান্য প্রয়াস রইল এই লেখায় ... ...

এই আলোচনায় রয়েছে স্মৃতিচারণ, রয়েছে বিজ্ঞান আর রয়েছে নির্ভেজাল আড্ডার ছলে গপ্পো। সেই অর্থে এটি একের মধ্যে তিনের মেজাজ। এই নিবন্ধটি গুরুর অন্যতম বরিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব শ্রী রঞ্জন রায় মহাশয়কে উৎসর্গ করা হলো ... ...

আজ ৫ জুন ২০২৬। আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই নিবন্ধটি প্রকাশ করা হলো। বিশ্বের আবহাওয়া মণ্ডলের ভারসাম্যের পরিবর্তন আমাদের অস্তিত্বের সংকটকে আরো ঘনীভূত করছে। আমাদের জীবন যাপনের ছন্দে পরিবেশানুগ ভাবনার সংযোজন আজ খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। লেখাটা পড়ে আপনাদের মতামত জানাতে দ্বিধা করবেন না। পারস্পরিক মতামতের মন্থনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আগামী পৃথিবীর স্বপ্নগুলো। ভালো থাকবেন। ... ...



লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ২.২ কোটি মহিলাকে প্রতি মাসে ১,০০০-১,২০০ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর এই প্রকল্প বন্ধ করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হচ্ছে যাতে মাসিক অনুদান বেড়ে দাঁড়াবে ৩,০০০ টাকা। এই লেখায় ১৯ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি, ১১ পাতার আবেদন ফর্ম এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের ফেসবুক বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে নতুন প্রকল্পের যোগ্যতার মানদণ্ড কতজন প্রকৃত সুবিধাভোগীকে বাদ দিতে পারে। ... ...

সেই কমিউন গড়লেন কারা? মূলত হাউসমান শহর থেকে উচ্ছেদ করেছিলেন যাদের, যাদের পাড়া ভেঙে বুলেভার্ড হয়েছিল, যারা সেই উজ্জ্বল সিটি অফ লাইটসের রোশনাইয়ে-চাকচিক্যের কোনো অংশ পাননি। ১৮৪৮-এর স্মৃতি বেঁচে ছিলো তাদের মধ্যে, যেমন স্মৃতি রয়ে যায় ক্ষমতান্ধ আর ক্ষমতাহীনের মাঝে। সামাজিক প্রজাতন্ত্রের স্মৃতি অথবা স্বপ্ন যা দমন হয়েছিল, কিন্তু উবে যায় নি, হয়তো মাটি চাপা পড়েছিল বীজের মত। তার সাথে অনুঘটকের কাজ করলো হাউসমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। পারী কমিউনের মানুষ তাদের শহর ফিরে পেতে চেয়েছিলেন বই কী। ইতিহাস আমরা জানি - কমিউন মাত্র ৭২ দিন টিকেছিল। ভার্সাই থেকে আসা সরকারি বাহিনী রক্তে ডুবিয়ে কমিউনের শেষ প্রহর লিখলো। কিন্তু সেই ৭২ দিনে যা ঘটেছিল, সেই শ্রমিকদের স্বশাসন, নারীদের অংশগ্রহণ, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বনাম বিকেন্দ্রীভূত গণতন্ত্রের বিতর্ক - পরবর্তী দেড়শো বছরের বামপন্থী রাজনীতির ভাষা গড়ে দিয়েছে। ... ...