
কার্বি আংলং এবং বোড়োল্যান্ড—উভয় ক্ষেত্রেই দাবি ছিল স্বায়ত্তশাসন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণের। কিন্তু এই দাবিগুলি কখনোই বিচ্ছিন্ন নয়; বরং বৃহত্তর উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজনৈতিক-সামাজিক পরিসরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। নাগা, মিজো, কুকি প্রভৃতি জাতিসত্তার দীর্ঘ আন্দোলনের ঐতিহাসিক ছায়া যেমন এই দাবিগুলিকে প্রভাবিত করেছে, তেমনি অসমের অভ্যন্তরীণ ভাষা ও ভূমি-রাজনীতিও এগুলির রূপ নির্ধারণ করেছে। ... ...



যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল কোর্টে জমা থাকা নথির কিছু অংশ প্রকাশের পরপরই সংবাদমাধ্যম, টেলিভিশন স্টুডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একযোগে যে আলোড়ন দেখা গেছে, তা শুধু অপরাধের ভয়াবহতার জন্য নয়; বরং সংবাদ-ফ্রেমিংয়ের কৌশলগত নির্বাচনের কারণেও আলাদা উল্লেখের দাবি রাখে। শিরোনামগুলি প্রায় সর্বত্র মূলতঃ কিছু বাঁধা লব্জ ভিত্তিক —“Epstein Files”, “Pedophilia Network”, “Elite Abuse Ring”—যেখানে কেন্দ্রবিন্দুতে একক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এপস্টাইন-কে স্থাপন করা হচ্ছে।এই ব্যক্তিকেন্দ্রিকীকরণ এমনভাবে নির্মিত যে, বৃহত্তর ক্ষমতাবলয়, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা, আন্তর্জাতিক চলাচলের অবকাঠামো, এবং রাজনৈতিক-ব্যবসায়িক সম্পর্কের জটিল নেটওয়ার্কটি আড়ালে পড়ে যায়। ... ...

অনুপ্রবেশকারী মুসলমান খুঁজে না পেয়ে এরপর আমরা তাই আরেকটা অনুসন্ধান করি। বাঙালি (হিন্দু এবং মুসলমান) নাম নিয়ে। অনুসন্ধানের কায়দাটা পরে লিখছি। কিন্তু আগে ফলাফল। ২০০২ সালে বেলগাছিয়া কেন্দ্রে বাঙালি নামের ভোটার ছিলঃ ৬২.৮২ % ২০২৫ সালে বিধানগর কেন্দ্রের বাঙালি নামের ভোটারঃ ৫৭.৫০ % এইবার দেখুন, আসল জনবিন্যাস বদলটা ঠিক কী হয়েছে। শহর কলকাতা সন্নিহিত অঞ্চলে একলাফে ৫% বাঙালি কমে গেছে। এটাই জনবিন্যাস বদলের চরিত্র। ... ...

হায়দ্রাবাদ নিয়ে ধারাবাহিক লেখার আজই অন্তিম পর্ব। এতটা পথ অতিক্রম করতে পারবো বলে শুরুতে কখনও মনে হয়নি। তবে ধীরে ধীরে ডানা মেলে উড়ানের পর্ব শুরু করতেই ডানায় ভর করে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এলাম। লেখাটা লিখতে পেরে বেশ ভালো লেগেছে। এখন পাঠকদের নেক নজর পড়লে তবেই স্বস্তি পাবো। মনে রাখবেন এখানে হায়দ্রাবাদ একটি প্রতীক। তার আয়নায় অন্যদের দেখার আয়োজন। ... ...

হায়দ্রাবাদ নিয়ে তৃতীয় পর্ব লিখতে বসে বেশ উত্তেজনা বোধ করছি । হায়দ্রাবাদের নগর পরিসর যত বাড়ছে ততই বাড়ছে তার পরিবেশের অবনমনের আশঙ্কা। এই মুহূর্তে এই বিষয়ে হায়দ্রাবাদের আম আদমি খুব একটা চিন্তিত বলে মনে হয়নি। সবটাই তাঁদের কাছে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু এই অবস্থা খুব বেশিদিন স্থায়ী হবেনা। তখনই শুরু হবে আসল লড়াই। ... ...

২০০২ সালে বনগাঁয় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৩.৯৭ শতাংশ। ২০২৫ এর তালিকায় সংখ্যা কমে হয়েছে ২৩.১৮ শতাংশ। জনবিন্যাস বদলেছে বটে, কিন্তু সংখ্যালঘু কমেছে। ২০২৬ এর খসড়া তালিকায় জনবিন্যাস আরও বদলেছে। কয়েক মাসের মধ্যে দুম করে প্রায় ২ শতাংশ কমে হয়েছে ২১.৬২। ... ...

প্রোতাগোরাস ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অ্যাবডেরায় (সেই শহর, যা দেমোক্রিতোস-এরও জন্মভূমি) জন্মেছিলেন। তিনি এথেন্সে এসেছিলেন দু-বার, দ্বিতীয় ভ্রমণটি নিশ্চিতভাবে ৪৩২ খ্রিপূ-এর আগে। ৪৪৪-৪৪৩ খ্রিপূ নাগাদ তিনি থুরিয়াই নগরীর জন্যে একটি আইনসংহিতা প্রণয়ন করেন। চলতি গল্প আছে, যে, তাঁকে অধর্মাচরণের জন্যে অভিযুক্ত করা হয়, তবে সম্ভবত গল্পটি কাল্পনিক; যদিও তাঁর লেখা ‘দেবতাদের সম্পর্কে’ নামের বইটির শুরু এইরকম: ‘দেবতাদের সম্পর্কে বলতে গেলে, তাঁদের অস্তিত্ব আছে না নেই, থাকলেও তাঁদের কেমন দেখতে – এ সব নিয়ে আমি মোটেই নিশ্চিত নই; কারণ, বিষয়ের দুর্বোধ্যতা থেকে শুরু করে মানুষের আয়ুর সীমাবদ্ধতা – নিশ্চিত জ্ঞানার্জনের পথে বাধা অনেক।’ ... ...

এমন ধরনের ভয় পাওয়ানোর প্রয়াস বিগত কয়েক বছরে জুতো ছোঁড়ার মধ্য দিয়েও চলছে। বছর চারেক আগে, নাগপুরের এক সভায় যখন কানহাইয়া কুমারকে জুতো ছোঁড়া হয়েছিল, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কানহাইয়া কুমারের তেমন কোন প্রতিবাদ ছিল না যা সমাজের চোখে দাগ কাটতে পারে, ভয়ের বিপরীতে সাহসের বার্তা বয়ে আনে। এবারে নিম্নবর্ণ-বিচারপতিকে জুতো ছোঁড়ার পরও সেই একই ভঙ্গি দেখা গেলো সর্বত্র দিক থেকে। ফলে অভিযুক্তেরা বুক বাজিয়ে তাদের বর্ণ-বিদ্বেষপূর্ণ, জাতি হিংস্রতার প্রচার ও প্রসার করে চলেছেন, প্রথমে জুতো ছুঁড়ে, পরে ঢিল মেরে, ঢিলের পরে প্রাণঘাতী বুলেট মারার আওয়াজ দিচ্ছেন। ... ...

ইচ্ছে ছিলো জমিয়ে একটা ভ্রমণ কাহিনি লিখবো কিন্তু কলম চলল একেবারে উল্টো পথে। পরিবেশ নিয়ে লেখালেখির একটা মজা যেমন আছে, তেমনি আছে যন্ত্রণা। এই মুহূর্তে সেই মনখারাপি বিষয়গুলো আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে শুধু নয়, এক গভীর শূন্যতার অনুভূতি মনটাকে বিদ্ধ করছে তীক্ষ্ণ শরের মতো। শহরের এই ইতিকথা সব শহরের ক্ষেত্রেই সমান ভাবে প্রযোজ্য, সমান প্রাসঙ্গিক। পড়ুন, মতামত দিন মনখুলে। ... ...

হায়দ্রাবাদের কথা নিয়ে আরও একবার হাজির হলাম। আমার মনে হয়েছে যে হায়দ্রাবাদের সমস্যা নিছকই সেই নগরীর সমস্যা নয়, দেশের যেকোনো প্রান্তে থাকা উদীয়মান নগরীর সমস্যা। ঝা চকচকে নগরীর আড়ালে লুকিয়ে আছে অনেক অনেক কান্না, অনেক অন্ধকার, অনেক অনেক হারানোর আকুল আর্তি। এই পর্বের লেখাটিও এক আত্মার অনুসন্ধান -- নগরীর অন্দরমহলের কথা। ... ...

আসলে মমতা ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবার পরর্বতী সময় জুড়ে অবাধে লগ্নিপুঁজির চলাচল পেয়েছেন, বিশেষত, ২০১৭-১৮ সালের পর থেকে। এটিকে কাজে লাগিয়ে এ রাজ্যে এক ধরনের নতুন উদীয়মান লুম্পেন ফাটকা, কালোবাজারি, সুদখোর ব্যবসাদার গোষ্ঠীর জন্ম দিতে পেরেছেন — জমি লুঠ, প্রমোটিং, সিন্ডিকেট ও শেয়ারবাজার প্রভৃতির মাধ্যমে। প্রধানত, এই গোষ্ঠীগুলোর দ্বারাই তিনি নিজের রাজনৈতিক আবৃত্ত পরিপূর্ণ করে তুলেছেন। এই গোষ্ঠীগুলো গ্রামের সাথে শহরের সংযোগ স্থাপন করেছে, এর মধ্য থেকে গ্রামের ফড়ে, আধা-শহর ও শহরের সর্বক্ষেত্রে ঠিকাদার গড়ে উঠছে, বেড়ে চলেছে। এই গোষ্ঠীগুলো দেশী-বিদেশী বৃহৎ পুঁজিপতি গোষ্ঠীগুলোর সাথে এ রাজ্যের ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন করেছে। ... ...

কথায় বলে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও নাকি ধান ভাঙে, আমারও বুঝিবা তেমনই দশা। বেড়াতে গিয়ে লোকজন কী করে? খায় দায় স্ফূর্তি করে। এভাবেই দিন কয়েক কাটাবো বলেই সপরিবারে গিয়েছিলাম সাবেক নিজামের খাসমহলে। সেখানে গিয়ে তার হৃদয়ের চাপা বিপর্যয়ের কথা নিয়েই ভাবতে শুরু করে দিলাম। এই লেখা তারই ফল। লেখাটি আমার প্রিয় ছাত্র পরাশর পালও তাঁর সহধর্মিণী অর্পিতাকে উৎসর্গ করলাম। পড়ে মতামত দিন হাতখুলে। ... ...

আধুনিক পদার্থবিদরা পদার্থের পারমাণবিক ধর্মে এখনো কিছুটা বিশ্বাস করলেও, ‘ফাঁকা’ স্পেস-এ বিশ্বাস করেন না। যেখানে পদার্থ নেই, সেখানেও ‘কিছু’ আছে, বিশেষ করে আলোকতরঙ্গ। পার্মেনিদিসের যুক্তিজাল থেকে দর্শনে পদার্থ যে উচ্চ-মর্যাদা পেয়েছিল, তা আর নেই। ‘বস্তু’ আর অপরিবর্তনীয় নয়, নেহাতই 'ঘটনা'র বিশেষ গুচ্ছ। কিছু ঘটনা পড়ে পদার্থের গুচ্ছে, কিছু—যেমন আলোক-তরঙ্গ—সে দলে পড়ে না। জগত তৈরি হয় এইসব ‘ঘটনা’ দিয়েই, যার প্রতিটি ঘটে অতি অল্প সময়ের জন্যে। এইদিক থেকে দেখলে, বর্তমান পদার্থবিদ্যা হেরাক্লিতোসের পক্ষে যতটা, ততটাই পার্মেনিদিস-বিরোধী। অথচ, আইনস্টাইন ও কোয়ান্টাম তত্ত্বের আগে অবধি ফিজ়িক্স কিন্তু পার্মেনিদিস-এর পক্ষেই ছিল। ... ...

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির আশি বছর পরেও আমাদের আগ্রহের বিষয় দুটি। প্রথমত নেতাজী সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুরহস্য এবং দ্বিতীয়ত নেতাজীকে নিয়ে কম্যুনিস্ট পার্টির তৎকালীন অবস্থান ।নেহেরু বলেছিলেন মার্কসবাদ আর ফ্যাসিবাদের মাঝখানে কোনো জায়গা থাকতে পারে না। সুভাষ কিন্তু ঠিক সেটিতেই বিশ্বাস করতে আরম্ভ করলেন। নেতাজীর নাৎসীদের প্রতি অবস্থান ছিল রাজনৈতিক ভাবে এক হিমালয়প্রতিম ভুল। পরে জাপ সাম্রাজ্যবাদ অক্ষশক্তির সঙ্গে যোগ দেওয়ায় এবং তাদের সাহায্য গ্রহণে সুভাষচন্দ্র বাধ্য হওয়ায় এই ভুল তার পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। ... ...

পৃথিবী ক্রমশই অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। বাড়ছে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা। স্বাভাবিকতার অনেক ওপরেই তার অবস্থান। অবস্থাটা যে মোটেই স্বস্তিদায়ক নয় তা ভূক্ত ভোগীদের অজানা নয়।এই মুহূর্তে একদিকে যেমন ঠাণ্ডায় প্রকম্পিত আমরা তেমনই অন্যদিকে, পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে চলছে তাপদাহের প্রকোপ। ঠাণ্ডা বা গরম - কোনো কিছুর বাড়তি আয়োজন আমাদের পক্ষে সহনীয় নয়। ২০২৫ সাল ছিল সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম বছর।এর প্রভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রুটি রুজির প্রয়োজনে পথেঘাটে থাকতে বাধ্য হওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষ আজ সংকটাপন্ন। এই নিবন্ধ তাঁদের সমস্যা নিয়েই। পড়ুন,পড়ান মতামত দিন। ... ...

পেরিক্লিস যখন বার্ধক্যের মুখে, সেই সময় তাঁর বিরোধীরা তাঁর বন্ধুস্থানীয়দের ওপর আক্রমণ করা শুরু করে, যার মূল লক্ষ্য আসলে ছিলেন পেরিক্লিস। ভাস্কর ফিদিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি নাকি মূর্তির জন্যে বরাদ্দ তহবিল তছরুপ করেছেন। যাঁরা ধর্মাচরণ করেন না এবং 'মাথার উপরের বিষয়' নিয়ে তত্ত্বশিক্ষা দেন, তাঁদের যাতে অভিশংসিত করার জন্যে এরা আইন পাশ করে। আনাক্সাগোরাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি নাকি শেখাচ্ছেন, যে সূর্য এক আগুনে গরম পাথরের গোলা আর চাঁদ মাটি দিয়ে তৈরি। ঠিক কী কী যে ঘটেছিল, তা পরিষ্কার নয়, তবে আনাক্সাগোরাসকে এর ফলে এথেন্স ত্যাগ করতে হয়েছিল। সম্ভবত পেরিক্লিস তাঁকে কয়েদখানা থেকে মুক্ত করে নিরাপদে পালানোর ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। তিনি আয়োনিয়ায় ফিরে যান আর একটি বিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উইল অনুসারে, ইশকুলের পড়ুয়ারা তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ছুটি পেত। ... ...

সিনেমার দৃশ্যটা মনে ধরে আছে। কারণ এখনো মাঝে মাঝেই যখন দেখতে পাই সেই খেলার ভিডিও হাইলাইটস। বাইরে থেকে খেলোয়াড় এসেছিলেন এলিতেলি নয় বড় মাপের কৈলাস বিজয় বর্গী। তিনি দেখেই বুঝে যেতেন কে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। কারণ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা চিঁড়ে মুড়ি খায়। বুঝতে পারতেন, কারণ তার ওপরওয়ালা জমিদার মশাই মোদিজি লুঙ্গি পাজামা দেখে বুঝে যান কারা মুসলমান, অর্থাৎ জঙ্গি। সেবারে দুই বেলা জমিদার ও তার সর্দার অমিত শাহ এরোপ্লেনে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করতেন। তবুও বিশেষ ফল হলো না। মনে আছে জমিদার কলকাতা টিমের খেলোয়ারদের খাবারে জোলাপ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। কলকাতার খেলোয়াড়রা সব পেট খারাপ নিয়ে দিশেহারা। তাদের বাঁ হাতের জল কিছুতেই শুকাচ্ছে না। এ রাজ্যেও শত খানেক তৃণমূলের নেতা বিধায়ক এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সিবিআই ইডির ভয় দেখিয়ে, দল ভাঙিয়ে, বিজেপিতে আনা হলো। তারাও এলো, কারণ স্লোগান ছিল "অব কি বার, দোশো পার"। বলতে পারেন সরকারটা প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল। শপথ নেওয়াই খালি বাকি ছিল। লাভের লাভ হয়নি কিছু, পৌনে একশোর গণ্ডিতে আটকে যেতেই দলছুট দল বদলুরা অনেকেই আবার ফিরে এলো। আর যারা দলে ঘাপটি মেরে ছিল, সময় সুযোগ মতো দল বদলাবে বলে, তারা সুবোধ বালক হয়ে ফের অনুগত "অনুপ্রাণিত" হয়ে থেকে গেল । ... ...

সুধীরের সিভিতে আরও বড় বড় জিনিস আছে অবশ্য। তিনি বার দুই জেল খেটেছেন। একবার ফেক নিউজের জন্য। ২০০৮ সালে, তখনও সত্যযুগ আসেনি। কাজ করতেন লাইভ ইন্ডিয়া বলে একটা চ্যানেলে, বড়কর্তা হিসেবে। একটা 'স্টিং' অপারেশন করে সেই চ্যানেল। সেখানে দেখানো হয় উমা খুরানা নামের এক মহিলা স্কুলশিক্ষিকা দেহব্যবসার চক্র চালাচ্ছেন। মহিলার চাকরি যায়, হেনস্থা হতে হয়, তিনি পাল্টা মামলা করেন। সেখানে দেখা যায়, পুরোটাই ভুয়ো। যাকে দেহব্যবসা চক্রের শিকার বলে দেখানো হচ্ছিল, সে আসলে একজন সংবাদব্যবসায়ী (পুরোটাই নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট থেকে লিখলাম)। তাঁর চ্যানেলের এই কান্ডের সুধীর চৌধুরি গ্রেপ্তার হন, এবং পরে ছাড়াও পান। ... ...