
এই ছকে জনতাকে সাবধান করে দেওয়া হয় – যে সংবাদমাধ্যম তাদের সমালোচনা করছে, তাদের সত্য ও তথ্যের প্রতি দায়বদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে, তারা সবাই ফেক নিউজ়, তাদের হয় মুছে দেওয়া, নয় নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিচারব্যবস্থায় যেসব স্বাধীনচেতা বিচারক তাদের দায়ী করতে পারে, এ ছকের শুরুতেই তাদের সরিয়ে, কথা শুনবে বা স্বার্থ চরিতার্থ করবে – এমন অনুগতদের দিয়ে আদালত ভরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তারপর একে একে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান—সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, আয়কর বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ, সেনাবাহিনী—দখল করা বা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা তাদের লক্ষ্য হয়, যাতে এদের অস্ত্র বানিয়ে বিরোধীদের উপর প্রয়োগ করা যায়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রটিকে অধিকার করা যায় আর নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাদার সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, ছাত্র সংগঠন, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী পর্যন্ত সমস্ত স্তরকে নিজেদের তাঁবে রাখা যায় ... ...




আত্ম-ঔদাসীন্য একটা মহৎ গুণ যা অহং ও স্বার্থপরতা কমাতে সাহায্য করে। নশ্বরতাবোধও তাই। কার্ল মার্কস কথিত হৃদয়হীন জগত আর আত্মাহীন পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে মানুষের নিজের মানবত্ব বাঁচিয়ে রাখার লড়াই আধ্যাত্মিকতা ছাড়া আর কি ? ফলে বৌদ্ধধর্মের প্রাসঙ্গিকতা প্রতিদিন বাড়ছে মোহ, রূপ, রহস্য আর মুগ্ধতার ধারাবাহিক হন্তারক এই পৃথিবীতে। একজন আধুনিক যুক্তিবাদী মানুষ কীভাবে দেখবেন এই ধর্মকে? ... ...


জীবনের বিভিন্ন দুঃসময়ে মাঝে মাঝে এই লাইনটা মনে পড়ে, প্রাচীন বৃক্ষের গায়ে খুদাই করা লিপির মত কেউ যেন লিখেছে কোথাও, And worse I may be yet: the worst is not so long as we can say “This is the worst.” ... ... ...

কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘খাদ’ সিনেমায় অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া একটি গান অনেকবার শুনেছি। গানটির শুরুতে কোরাসে উপনিষদের একটি শ্লোক উচ্চারিত হয় - অসতো মা সদ্গময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়, মৃত্যোর্মামৃতং গময় - শান্তি শান্তি ওম। এটি অজ্ঞতা, মোহ ও অশুভ থেকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও আলোর পথে পরিচালিত হওয়ার একটি প্রার্থনা। তারপর অরিজিতের ঐশ্বরীক গায়কীতে মন্ত্রোচ্চারণের মতো শোনা যায় - দেখো আলোয় আলো আকাশ…। এই আত্মজীবনীটির অন্তিম অংশটি পড়ে এই গানটি শোনার মতো অনুভূতি হোলো। ... ...

সহজ করে বলতে গেলে, ১৯৭১-এর পরে যে রাজ্যগুলির, বা যে অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হয়েছে, তাদের সিটের ভাগ অর্থাৎ রিপ্রেজেন্টেশন বাড়বে, আবার ঠিক উল্টোদিকে যে রাজ্যগুলি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাদের সিটের ভাগ, অর্থাৎ ক্ষমতা কমবে। আরও ভোঁতাভাবে বলতে গেলে, উত্তরের রাজ্যগুলির, বিশেষতঃ গোবলয়ের আসন-সংখ্যা বাড়বে, যে বাড়ার মাশুল দেবে ভারতের বাদবাকি রাজ্যগুলি। ভেবে দেখুন, ভারতের জনসংখ্যা এখন সবার থেকে উপরে, সাধারণ মানুষের সামান্য সামাজিক সুরক্ষা নেই, ন্যূনতম মানবাধিকারও তাদের কাছে স্বপ্ন – অথচ, এই পরিস্থিতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শাস্তিই বিধেয়, পুরস্কার নয়। কতোটা বাড়বে সেটাও সহজেই কষে ফেলা যায় জনবৃদ্ধির হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট) ও সাম্প্রতিক জনঘনত্বের তথ্য-উপাত্ত থেকে। সরকার বলছে, সব রাজ্যেরই আসন বাড়বে। কেউ হারবে না। কিন্তু অঙ্কটা একটু ভালো করে দেখা দরকার। ২০১১ সালের সেন্সাসের ভিত্তিতে ৮৫০ আসন বণ্টন করলে: •হিন্দিবলয়ের আসন ৩৩% থেকে বেড়ে হবে ৩৮%, গোটা হিন্দিবলয় ধরলে মোট ১৩৩টি নতুন আসন। •সমস্ত পাঁচটি দক্ষিণী রাজ্য মিলিয়ে পাবে মাত্র ৪৪টি নতুন আসন। •উত্তরপ্রদেশ একাই পাবে ৫৮টি নতুন আসন, গুণতিতে পুরো দক্ষিণের চেয়েও বেশি। •দক্ষিণের মোট আসন শেয়ার ২৪% থেকে কমে হবে ২১%। •এমনকি গোয়া ২টি আসন থেকে কমে ১টি হয়ে যাবে। ... ...

কেউ কেউ বলেন আম্বেদকর কল্যাণকর পুঁজিবাদের ( Welfare Capitalism) পক্ষপাতী ছিলেন। জানিনা, এরকম ধারণার ভিত্তি কি। একথা ঠিক, তিনি রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের আগে সামাজিক সংস্কারের পক্ষপাতী ছিলেন যেটা বুঝতে তৎকালীন কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ভুল করেছিলেন। আমাদের দেশের বামপন্থী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দও একই ভুল করেছিলেন। আমাদের প্রশ্ন, দুই ধরনের সংগ্রাম একসঙ্গে চলার কী অসুবিধা ছিল বা এখনই বা কী আছে ? দ্বিতীয়ত,আম্বেদকর আজ বেঁচে থাকলে দেখতে পেতেন আধুনিকতা আর নাগরিকতার মধ্যে দলিতদের যে মুক্তিসন্ধান তিনি করেছিলেন তার চালিকাশক্তি থেকে দলিতরা আজও শত যোজন দূরে। তার কারণ আধুনিকতার গোটা ব্যবস্থাটা কিন্তু শেষপর্যন্ত বড় পুঁজির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ... ...
সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করেছিলেন, "শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এতো অশান্তি, অসুবিধে কেন?" এর উত্তর সহজ। পশ্চিমবঙ্গের বিচারাধীন তালিকায় যে সাম্প্রদায়িক ঝোঁক স্পষ্ট দেখা যায়, সেই এক-ই প্যাটার্ন অন্য রাজ্যে নেই। এই কথা আমরা ও অন্য বিশ্লেষকরা শুরুর দিন থেকেই বহুবার বলেছেন এবং বলেই যাচ্ছেন, এবং তথ্যও সেই এক-ই দিকনির্দেশ দেয়। সঙ্গের ছবিতে দেখুন, তামিলনাড়ুর জেলাভিত্তিক বাদ পড়ার হার ও মুসলিম জনঘনত্বের মানচিত্র। দুই মানচিত্রের মধ্যে কোনো সাযুজ্য নেই। যেমনটা ছিলো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে, বিচারাধীনের হার ও মুসলিম জনঘনত্বের মধ্যে। ... ...

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় বেশ কিছু পুরোনো লব্জ ঘোরাফেরা করছে, যেমন কেন্দ্র রাজ্য বঞ্চনা, ভাতা বনাম চাকরি, উন্নয়ন বনাম ধার, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ইত্যাদি প্রভৃতি। এই সব গুলিই তাদের নিজস্ব পরিসরে যথেষ্ট গুরুত্ত্ব রাখছে বা রাখবে নিশ্চিত। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বাঙলার সামাজিক মানচিত্রের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও শ্রেণিগত ফাটল দানা বাঁধছে, যা হয়তো এই নির্বাচনের জনমতের অভিমুখ নির্ধারণে অনুঘটকের কাজ করতে পারে, সর্বোপরি এই প্রবণতা আমাদের বর্তমান সময়ের নিরিখে খুব জরুরি একটি পর্যবেক্ষণ। কাজেই সেই বিষয়টি দিয়ে আলোচনা শুরু করা যাক। মূলত গ্রাম শহর যে বিভাজনটি বঙ্গ রাজনীতিতে বরাবরই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং বলতে পারা যায় যে একটি নিয়ামক হয়ে এসেছে, সেখানে একটি রূপান্তরের আভাস পাওয়া যাচ্ছে পরিষ্কারভাবে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক বিশাল 'অ্যাসপিরেশনাল ক্লাস' বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজ, যারা এখন আর কেবল মহানগর-কেন্দ্রিক বা গ্রাম কেন্দ্রিক নয়, বরং বিস্তৃত হয়েছে জেলা-সদর বা মহকুমা স্তরের বর্ধিষ্ণু গ্রামগুলোতেও ... ...
এই লেখায় কিছু পরিসংখ্যানগত পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখার চেষ্টা করেছি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনীর কারণে কোন ধরনের বিধানসভা আসনে নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ... ...

গ্রিক জনপদগুলির নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ নিয়ে খেয়োখেয়ি বা যুদ্ধের বৃত্তান্তগুলিকে কোনো ঐতিহাসিকই গুরুত্ব দেন না। বরং, এইসব যখন থামতো, সেই সময়টুকুর স্মৃতি মানুষ কীভাবে বহন করেছিল, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল্পস পর্বতের গা বেয়ে ওঠার সময় সারাদিনের ঝড় আর তুষারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর পর্বতশীর্ষে চোখ-ধাঁধানো সূর্যোদয়ের স্মৃতি যেভাবে পর্বতারোহীর মনে গেঁথে যায়, এ স্মৃতি অনেকটা সেইরকম। সময়ের সঙ্গে স্মৃতি ক্রমাগত ফিকে হতে থাকার সময়, ঊষার আলোয় উদ্ভাসিত কিছু বিশেষ চূড়ার ছবি মানুষের মনে থেকে যায়, তার সঙ্গে বেঁচে থাকে এই জ্ঞানটুকু – মেঘের আড়ালেও এক মনোরম শোভা বর্তমান, আর যে কোনো সময় মেঘ সরে গিয়ে তা নজরে পড়বে। প্লেটো ছিলেন শুরুর দিকের খ্রিস্টধর্মের কাছে এমনই এক আলোকোজ্জ্বল শীর্ষ, আরিস্তোতলও তা-ই ছিলেন মধ্যযুগের চার্চের চোখে; কিন্তু নবজাগরণের পর মানুষ যখন রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে, তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় প্লুতার্কে। অষ্টাদশ শতকের ইংরেজ ও ফরাসী প্রগতিশীলদের ওপর যেমন, তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতাদের ওপরও তাঁর অসামান্য প্রভাব ছিল; জার্মানির রোম্যান্টিক আন্দোলনে তো তাঁর প্রভাব ছিলই, পরোক্ষভাবে তিনি আধুনিক জার্মান চিন্তাধারাকেও (অনুবাদক: চল্লিশের দশকের) প্রভাবিত করেছেন। ... ...

তুঘলক যুগের অবসানের পর দিল্লি সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়লে উত্তরভারতে সায়্যিদ ও লোদী বংশের অধীনে এক নতুন কিন্তু তুলনামূলকভাবে দুর্বল রাজনৈতিক বিন্যাস গড়ে ওঠে, এবং এই সময় বঙ্গের স্বায়ত্ত প্রবণতা আরও সুস্পষ্ট ও সুসংহত রূপ লাভ করে। ১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৈমুর-এর দিল্লি আক্রমণের ফলে তুঘলক শাসনের অবকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে; এর পরবর্তী পর্যায়ে খিজির খান ১৪১৪ খ্রিস্টাব্দে সায়্যিদ বংশ প্রতিষ্ঠা করলেও তাঁর কর্তৃত্ব মূলত দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সময় বঙ্গ ইতিমধ্যেই ইলিয়াস শাহী শাসনের অধীনে একটি স্বাধীন সুলতানি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যেখানে সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ-এর উত্তরসূরিরা—বিশেষত সিকান্দর শাহ ও পরবর্তীকালে গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ—গৌড় ও পান্ডুয়া কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক পরিসর নির্মাণ করেন। ... ...

এই বছরের শুরুতে একটা প্রায় জ্যোতিষী অমৃতলালের স্টাইলে ভবিষ্যদবাণী করেছিলাম, “ফলিবেই ফলিবে”, তার দুই নম্বরটা ছিল এইরকম, “পঞ্চাশটা কোডোপাইরিন মার্কা হিন্দি সিনেমা বেরোবে যার মধ্যে ছাপ্পান্নটা যুদ্ধু কিংবা দেশপ্রেম নিয়ে। পাঁচে পাঁচ না দিলে সমালোচকদের মুণ্ডু নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, বিবেক অগ্নিহোত্রী একাই আরো খান তিনেক ফাইলস রিলিজ করবেন। বাংলার বামঘেঁষা শিল্পীদের তাতে দেখা গেলেও আপনি বিশ্বাস করবেন ওঁরা এসব কিছুই জানতেন না।“ সেটা ফলতে চলেছে কি না সে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বৃথা, তবে, গত বছর যখন ধরণীধর সমাদ্দার বেশে রণবীর-২ ক্যালাকেলি কচ্চিলেন, তখন আমি আমার বন্ধুবান্ধুবদের বলে-টলে, এবং কিছুটা নিজে-নিজেই একটা মেইনস্ট্রিম বলিউডি সিনিমার লিস্ট বানাতে শুরু করি – ২০১৪ থেকে ’২৫, লিস্টে আছে শুধু এমন সিনেমা যেগুলো হয় প্রোপাগাণ্ডা, না হলে যুদ্ধবাজ, না হলে রিভিশনিস্ট হিস্ট্রি এইরকম, ক্যাটেগরিগুলো মোটামুটি – মাসকুলার ন্যাশনালিজ়ম, পাকিস্তান-বিরোধী ও যুদ্ধজিগির, মুসলিম-ইতিহাস-বিদ্বেষী, সরাসরি হিন্দুত্ব প্রোপাগাণ্ডা এবং বিজেপিনেতাদের জীবনী বা পলিসি। বলাই বাহুল্য, এই লিস্ট আংশিক, এবং বেশিরভাগ-ই লোকের মুখের ঝাল খেয়ে বা রিপোর্ট অথবা উইকি পড়ে লেখা, আমি ছাভাও দেখি নাই, বেঙ্গল কী কাশ্মীর ফাইলস কী উড়ি (নাকি উরি?) – কিস্যু দেখি নাই। এমন কী, শৈশবের ঈশ্বর শারুক্ষানের পাঠানজোয়ান ইত্যাদিও না। কিছুই দেখিনি বললে অবশ্য মিথ্যে বলা হবে – হোমবাউণ্ড তো হিন্দিই বটে, তবে এই লিস্টে তার ঢোকার দুর্ভাগ্য হয়নি। তারপর সেই লিস্ট নিয়ে এ-আই দিয়ে ওয়েব স্ক্রেপ করে বক্স অফিসের হিট/ফ্লপ ইত্যাদি নামালাম, আর কয়েকটা ছোট্টো সহজ প্লট-ও করে ফেললাম আরে (অর্থাৎ, R-এ।) সোজাসাপ্টা ছবি – কোন বছরে কোন ক্যাটিগরিতে কটা, সেই সংখ্যা কী ভোটের আগে বাড়ে? আর এই সমস্ত ক্যাটিগরির মধ্যে কোন ফরমুলায় কত পারসেন্ট সিনেমা “হিট”? এ ছাড়াও, বক্স অফিসে কোন ক্যাটিগরির সিনেমা কত কোটী টাকা কামিয়েছে, তাদের মধ্যে আউটলায়ার-ই বা কারা? ... ...

ত্রয়োদশ শতাব্দীর সূচনায় বঙ্গ অঞ্চল সেনবংশীয় কর্তৃত্বের অধীন থাকলেও তা কোনও সমন্বিত কেন্দ্রীভূত শাসন-যন্ত্র ছিল না। লক্ষ্মণসেনের সময় (শাসনকাল আনু. ১১৭৮–১২০৬) প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মূলত পশ্চিম ও মধ্য বঙ্গের নগর-নিবিড় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল; পূর্ববঙ্গ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় ভূস্বামী, সামন্ত ও আঞ্চলিক প্রধানদের শক্তি প্রবল ছিল। অর্থাৎ, বাহ্যিকভাবে একটি রাজবংশীয় ধারাবাহিকতা থাকলেও অন্তর্গত কাঠামো ছিল বহুস্তরবিশিষ্ট—বরেন্দ্র, রাঢ়, বঙ্গ, সমতট প্রভৃতি আঞ্চলিক এককগুলির ঐতিহাসিক স্মৃতি তখনও সক্রিয়। ... ...

