
পেরিক্লিস যখন বার্ধক্যের মুখে, সেই সময় তাঁর বিরোধীরা তাঁর বন্ধুস্থানীয়দের ওপর আক্রমণ করা শুরু করে, যার মূল লক্ষ্য আসলে ছিলেন পেরিক্লিস। ভাস্কর ফিদিয়াসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি নাকি মূর্তির জন্যে বরাদ্দ তহবিল তছরুপ করেছেন। যাঁরা ধর্মাচরণ করেন না এবং 'মাথার উপরের বিষয়' নিয়ে তত্ত্বশিক্ষা দেন, তাঁদের যাতে অভিশংসিত করার জন্যে এরা আইন পাশ করে। আনাক্সাগোরাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি নাকি শেখাচ্ছেন, যে সূর্য এক আগুনে গরম পাথরের গোলা আর চাঁদ মাটি দিয়ে তৈরি। ঠিক কী কী যে ঘটেছিল, তা পরিষ্কার নয়, তবে আনাক্সাগোরাসকে এর ফলে এথেন্স ত্যাগ করতে হয়েছিল। সম্ভবত পেরিক্লিস তাঁকে কয়েদখানা থেকে মুক্ত করে নিরাপদে পালানোর ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন। তিনি আয়োনিয়ায় ফিরে যান আর একটি বিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর উইল অনুসারে, ইশকুলের পড়ুয়ারা তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে ছুটি পেত। ... ...

সিনেমার দৃশ্যটা মনে ধরে আছে। কারণ এখনো মাঝে মাঝেই যখন দেখতে পাই সেই খেলার ভিডিও হাইলাইটস। বাইরে থেকে খেলোয়াড় এসেছিলেন এলিতেলি নয় বড় মাপের কৈলাস বিজয় বর্গী। তিনি দেখেই বুঝে যেতেন কে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। কারণ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা চিঁড়ে মুড়ি খায়। বুঝতে পারতেন, কারণ তার ওপরওয়ালা জমিদার মশাই মোদিজি লুঙ্গি পাজামা দেখে বুঝে যান কারা মুসলমান, অর্থাৎ জঙ্গি। সেবারে দুই বেলা জমিদার ও তার সর্দার অমিত শাহ এরোপ্লেনে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করতেন। তবুও বিশেষ ফল হলো না। মনে আছে জমিদার কলকাতা টিমের খেলোয়ারদের খাবারে জোলাপ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। কলকাতার খেলোয়াড়রা সব পেট খারাপ নিয়ে দিশেহারা। তাদের বাঁ হাতের জল কিছুতেই শুকাচ্ছে না। এ রাজ্যেও শত খানেক তৃণমূলের নেতা বিধায়ক এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সিবিআই ইডির ভয় দেখিয়ে, দল ভাঙিয়ে, বিজেপিতে আনা হলো। তারাও এলো, কারণ স্লোগান ছিল "অব কি বার, দোশো পার"। বলতে পারেন সরকারটা প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল। শপথ নেওয়াই খালি বাকি ছিল। লাভের লাভ হয়নি কিছু, পৌনে একশোর গণ্ডিতে আটকে যেতেই দলছুট দল বদলুরা অনেকেই আবার ফিরে এলো। আর যারা দলে ঘাপটি মেরে ছিল, সময় সুযোগ মতো দল বদলাবে বলে, তারা সুবোধ বালক হয়ে ফের অনুগত "অনুপ্রাণিত" হয়ে থেকে গেল । ... ...

সুধীরের সিভিতে আরও বড় বড় জিনিস আছে অবশ্য। তিনি বার দুই জেল খেটেছেন। একবার ফেক নিউজের জন্য। ২০০৮ সালে, তখনও সত্যযুগ আসেনি। কাজ করতেন লাইভ ইন্ডিয়া বলে একটা চ্যানেলে, বড়কর্তা হিসেবে। একটা 'স্টিং' অপারেশন করে সেই চ্যানেল। সেখানে দেখানো হয় উমা খুরানা নামের এক মহিলা স্কুলশিক্ষিকা দেহব্যবসার চক্র চালাচ্ছেন। মহিলার চাকরি যায়, হেনস্থা হতে হয়, তিনি পাল্টা মামলা করেন। সেখানে দেখা যায়, পুরোটাই ভুয়ো। যাকে দেহব্যবসা চক্রের শিকার বলে দেখানো হচ্ছিল, সে আসলে একজন সংবাদব্যবসায়ী (পুরোটাই নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট থেকে লিখলাম)। তাঁর চ্যানেলের এই কান্ডের সুধীর চৌধুরি গ্রেপ্তার হন, এবং পরে ছাড়াও পান। ... ...

কিছুদিন আগে আমার ব্লগে "ম্যাক্স ওয়েবার, প্রোটেস্ট্যান্ট নৈতিকতা এবং অ্যাড্যাম স্মিথ" শীর্ষক লেখা পোস্ট করেছিলাম। সেটি পড়ে পাঠকরা কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। এখানে তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম। ... ...

ঋত্বিক মার্কসবাদী হয়েও কোনো যান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদের দাসত্ব করেন নি। তিনি দেখেছিলেন যে মার্কসবাদী পরিভাষা দিয়ে বা শুধু শ্রেণীচেতনা দিয়ে মানুষের সব জটিলতাকে, তার অন্তর্জগতকে ধরা যায় না।নিজস্ব নন্দনতত্ত্বকে এভাবে গড়ে পিটে নেওয়ার কাজ আর কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্রকার করেছেন বলে আমার জানা নেই। ... ...

ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে, শহরতলীর মুসলমান পল্লী ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে এসআইআর এর ভয়ে, সীমান্তে কোটি-কোটি লোকের ভিড়, সব এসআইআরের ভয়ে পালাচ্ছে, এর সবকটা ভিত্তিহীন। চ্যানেলে চ্যানেলে যাঁরা এই গুলবাজি করছিলেন, প্রত্যেককে চোখে চোখে রেখে কথাগুলো বলা দরকার। কারণ, দেখা যাচ্ছে, মুসলমানের মধ্যে নিখোঁজ বা স্থানান্তরিত নেই বললেই চলে। এই নিয়ে নাগাড়ে যাঁরা গুলবাজি করে চলেছেন, তাঁদের ছেড়ে দেবার মানে নেই ... ...

দর্শনে এথেন্সের অবদান মাত্র দুটি নাম – সোক্রাতেস ও প্লেটো। প্লেটো অনেক পরবর্তী সময়ের মানুষ হলেও, সোক্রাতেস তাঁর যৌবন আর সাবালক জীবনের প্রথমদিকটি পেরিক্লিসের শাসনকালেই কাটিয়েছেন। দর্শনের প্রতি এথেনীয়দের উৎসাহ এতটাই ছিল, যে তাঁরা অন্য শহরের শিক্ষকদের কথাও সোৎসাহে শুনতেন। যে সব তরুণ বিতর্কের শিল্প শিখতে চাইতেন, তাঁদের কাছে সফিস্টদের বেশ কদর ছিল; প্রখ্যাত কোনো এক অতিথির কথা আকুল শিষ্যরা কেমন হাঁ করে শুনতেন – প্রোটাগোরাস বইয়ে প্লেটোর কল্পিত সোক্রাতেসের মুখে তার মজাদার বর্ণনা আছে। আমরা পরে দেখবো – পেরিক্লিস আমন্ত্রণ করে এনেছিলেন দার্শনিক আনাক্সাগোরাসকে, আর সোক্রাতেসের মতে, সৃষ্টির ক্ষেত্রে মনের প্রধান ভূমিকার কথা আনাক্সাগোরাসের থেকেই তিনি শিখেছিলেন। ... ...

আইনের রক্ষাকবচ - কথাটা একালে খুব ক্লিশে হয়ে পড়েছে। সরকারি বক্তব্যকে অনুসরণ করে দেশের উচ্চতম আদালত পাহাড়ের এক নতুন সংজ্ঞা দিয়েছেন গতমাসে।যাকে নিয়ে এতো কথা, এতো হৈচৈ, এতো সওয়াল জবাব সেই আরাবল্লি পর্বত এখন চিরকালের জন্য লোপাট হয়ে যাবার অপেক্ষায়। ভাবছেন তো কেন? পড়েই ফেলুন ঝটপট। ... ...


ন্যায়বিচার প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত মনের আনন্দে নিজের ইচ্ছেমতো উদ্ভাবন করতে পারে না। আদালত ‘সৌন্দর্য বা নৈতিকতার স্বকপোলকল্পিত আদর্শের সন্ধানে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়ানো এক নাইট’-এর ভূমিকাও নিতে পারে না। বরং সর্বদা আদালতের প্রত্যাশা থাকে যে তারা ‘পবিত্র নীতিমালা থেকে প্রেরণা নেবে।’ [দেখুন বেঞ্জামিন কার্ডোজো, The Nature of Judicial Process]। ... ...

এই ২০২৫ সালের দশ-দশটা বছর কক্ষপথে ঘুরে ২ বিলিয়ন জ্যোতিষ্কের ৩ ট্রিলিয়ন অবজার্ভেশন নেওয়ার পর, শেষমেশ সে অবসর নিয়েছে। ২০১৩ সালে গেইয়া উৎক্ষেপণের সময় লক্ষ ছিল, "টু ম্যাপ আ বিলিয়ন স্টার" - সেই লক্ষ্য যে পূরণ হয়েছে তাই না, এর মাঝে গেইয়ার ম্যাপে ধরা পড়েছে ব্রাউন ডোয়ার্ফ, এক্সোপ্ল্যানেট, কোয়াসার, মিল্কি ওয়ের স্যাটেলাইট গ্যালাক্সির ছোট্ট ছোট্ট তারার শহর (স্টেলার সিটি)। এমন কী কোন সুদূর অতীতের কোন কলিশনের ফলে আমাদের মিল্কি ওয়ের আকৃতি কেমন হয়েছে সেইসবের-ও আভাষ পাওয়া গেছে কিছু কিছু। আরও কত যে পাওয়া যাবে অনাগত ভবিষ্যতে, এক্ষুণি বলা ভারি শক্ত। পুরো সার্ভের বিপুল পরিমাণ ডেটা পাবলিক ডোমেইনে আসতে আসতে হয়তো আরও বছর কয়েক লেগেই যাবে। কিন্তু এই অ্যাস্ট্রোনমির গল্পে রাশিবিজ্ঞানের ভূমিকা কী? সেইটেই আমাদের আসল আগ্রহ। ... ...

এটা আক্ষরিক অর্থেই আনন্দ-সংবাদ, কারণ গোদি-মিডিয়া, হিন্দুত্ববাদী শক্তি আর সোসাল-মিডিয়া কীকরম ভয়ানক গাঁটছড়া বেঁধে কাজ করছে, তার প্রমাণ পেল গুরুচণ্ডালি এবং পেলাম ব্যক্তিগতভাবে আমি, গতকাল। এদের এই যৌথ গোয়ালঘরে যে আমরা সাফল্যমন্ডিত ভাবে ধোঁয়া দিতে পেরেছি, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ ব্যাটারা নিজেরাই দিয়ে গেছে গতকাল। গোদি মিডিয়া নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখে আসছি, ভিডিও করে আসছি। কাল ছিল "সীমান্তে বাংলাদেশীদের ভিড়" নামক গুলবাজির মুখোশ খোলার ভিডিও। সকালে উঠে দেখি অভাবনীয় ব্যাপার। ক্ষেপে গিয়ে এবিপি আনন্দ, তার মিডিয়া এজেন্টদের দিয়ে খুঁজে খুঁজে বার করেছে গুরুচণ্ডালির কোন কোন ভিডিওয় এবিপি আনন্দের ক্লিপ আছে। তারপর কপিরাইট ক্লেম করে অনেকগুলো নামিয়ে দিয়েছে। ফেসবুক এবং ইউটিউব জুড়ে। বেশি ভিউ যেগুলোর সেগুলো নামিয়েছে, সবকটা পারেনি, অত অধ্যবসায় থাকলে তো হয়েই যেত। ... ...

পৃথিবীজুড়ে আস্তিকদের ধর্মচর্চা, ঈশ্বরচর্চার পাশাপাশি চিরকালই বিপরীত স্রোত হিসেবে থেকেছে অবিশ্বাস এবং যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নাস্তিক্যবাদ। ক্রমশ পৃথিবীজুড়ে বেড়ে চলেছে ধর্মান্ধ, মৌলবাদী, জাত্যাভিমানী, স্বার্থপর মানুষের সংখ্যা। তৈরি হচ্ছে এক অদ্ভুত মনুষ্যমন যেখানে অন্য ধর্মের, অন্য মতের মানুষের কোনও ঠাঁই নেই। যুক্তি মন আর মুক্ত ভাবনাচিন্তার ভাঁটা কাটাতে ফের একজোট নিরীশ্বরবাদীরা। ... ...

সমস্ত আশঙ্কাকে সত্যি করে নিয়ম ভাঙাতেই আনন্দ খুঁজে পেল শহর কলকাতা থেকে মফস্বলের আধুনিক নাগরিক সমাজ। কালীপুজোর রাতে নাগারে ফাটল বিপুল শব্দবাজি, পুড়ল নীল-লাল-সবুজ-সাদা আলো ছড়ানো হাজারো আতসবাজি।... সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, পুলিশের তৎপরতা (যদিও অনেকের অভিযোগ পুলিশ ঠিক থাকলে এমনটা হতই না), বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের স্বেচ্ছাসেবীদের আবেদন, কিছুই কেন থামাতে পারল না নাগরিককুলকে? কেন বস্তির উঠোনের সঙ্গে একই ডেসিবেলে কেঁপে উঠল বহুতলের ছাদ? ... ...


পরিবার -এক অনন্য সামাজিক সংগঠন। পারিবারিক আবহেই একটু একটু করে ব্যক্তি মানুষের সামাজিক হয়ে ওঠা।একটি শিশু পরিবারের মধ্যেই অনেক অনেক ভালোবাসা আর নিরাপত্তাকে আশ্রয় করে বেড়ে ওঠে। একালে পরিবারের পরিসর অবশ্য আগের তুলনায় অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। যৌথ পরিবার ভেঙে ভেঙে অণুতম পরিবারে পরিবর্তিত হয়েছে হাল আমলে। এরফলে আমাদের পারিবারিক চাওয়া পাওয়ার স্তরেও এসেছে বড়ো পরিবর্তন। এই নিবন্ধ এমনই বদলে যাওয়া সম্পর্কের নব্য রসায়ন নিয়ে। ... ...

এই আত্মজীবনী একইসঙ্গে সাহসী, শৈল্পিক, সৎ, আন্তরিক। ভাষার বহুবর্ণিল প্রকাশধর্মীতা এবং স্বচ্ছতা যা তাঁর প্রথম উপন্যাসের পাঠককে মুগ্ধ করেছিল তা এখানেও অন্তর্লীন। সঙ্গে যোগ হয়েছে তাঁর সামাজিক কার্যাবলী এবং প্রতিরোধের অভিজ্ঞতাসঞ্জাত তীক্ষ্ণতা এবং শ্লেষ। কিন্তু তাঁর ভাষা এবং দৃষ্টিভঙ্গীকে মুড়ে রেখেছে মমত্ব এবং আত্মউদাসীনতার এক যুগলবন্দী যা আমাদের প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বইটির প্রতি অনুরক্ত রাখে। ... ...

অতিমারির ভয়ঙ্কর সময়টা হয়তো আমরা সবাই পার হয়ে এসেছি কিন্তু তার প্রভাব সবটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছি আমরা তা বোধহয় নয়। অতিমারি আমাদের জীবনের চেনা অভ্যস্ত ছন্দটাকেই বিলকুল বদলে দিয়েছে। মাস্ক, স্যানিটাইজার, সোশ্যাল ডিসটেন্সের পাশাপাশি কর্মজীবনের কাঠামোতেও বদল এসেছে। এই প্রবন্ধে সেই ফেলে আসা কালান্তক সময়ের কয়েকটি বিশেষ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মোহন মুদীর মতো মানুষ একটা কঠিন সময়ের প্রতীক। ... ...


কী হয়েছিল ১৬ ই আগস্ট ১৯৪৬ সালে? এর এক মাস আগে পর্যন্ত দাঙ্গা হাঙ্গামার কোনো আঁচ পাওয়া যায়নি। ক্যাবিনেট মিশন তখন ভারতকে টুকরো না করার শেষ চেষ্টা করছে। একটা ঢিলেঢালা ইউনিয়নের প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব মেনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মুসলিম লিগ অংশগ্রহণ করবে বলেছে। কিন্তু কংগ্রেস ক্রমাগত টালবাহানা করছে। শেষকালে জুলাইয়ের ১০ এ নেহরু জানালেন, যে, কংগ্রেস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকবে বটে, কিন্তু ক্যাবিনেট মিশনের একীকৃত ভারতবর্ষের পরিকল্পনা মেনে নেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জিন্না কংগ্রেসের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ডাক দিলেন ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডের। আর কিছু না, সেটা একটা দেশব্যাপী হরতালের ডাক। ... ...