
আমি আমার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি যা তিনি অনিয়মিতভাবে লিখতেন এবং যা Leaves from a diary নামে প্রকাশিত সেটাকেই কেন্দ্রীয় ফোকাসে রেখেছি। কারণ একজন ব্যক্তির মতাদর্শ, পছন্দ অপছন্দ, স্ববিরোধিতা সবকিছু ডায়েরিতে অন্তরঙ্গভাবে ধরা পড়ে যা মানুষটিকে চিনতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিপ্রেক্ষিত ব্যাখ্যা করার জন্য আমি জয়া চ্যাটার্জীর দুটি বই যা বামপন্থীদের কাছে প্রশংসিত এবং বিপরীত শিবিরের কাছে নিন্দিত – সে দুটির সাহায্য নিয়েছি। ... ...

আপাতত, এই সার্ভের অনেকগুলি সূচক থেকে বাছাই করে শুধু স্বাস্থ্য, এবং নারী এবং শিশুকল্যাণের কয়েকটি সূচকের জন্য পশ্চিমবঙ্গ আর গোটা দেশের সার্বিক গড়ের তুলনা করবো। একশো-একটা ইন্ডিকেটর থেকে বেছে গোটা দশেক বের করা কঠিন কাজ, এবং কিছু একদেশদর্শিতা থেকেই যাবে। তার আগে খুব ছোট্ট করে বলতে গেলে, রাজ্য জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলায় যতটা দক্ষ হয়ে উঠেছে, সামাজিক পরিবর্তনে ততটাই ধীরে এগিয়েছে। একদিকে যেমন স্বাস্থ্যবিমা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং অ্যান্টিনেটাল কেয়ার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, অন্যদিকে চাইল্ড ম্যারেজ, মহিলাদের শিক্ষার নিম্ন হার এবং এনসিডির বর্ধনশীল বোঝা একই গতিতে এগোয়নি। দুটো ধারা পাশাপাশি রাখলে যা বোঝা যায়, তা হলো: কল্যাণ প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার কাঠামো যত দ্রুত তৈরি হয়েছে, সামাজিক পরিবর্তন (অথবা প্রগতি) তার সাথে তাল রাখতে পারেনি। ... ...

জলবায়ুর পরিবর্তন আজ আর গল্পকথা নয়, নিদারুণ সত্য, নির্মম বাস্তবতা। বাতাবরণের এমন বদলের হাত ধরেই বদল আসছে আমাদের এতোদিনের চেনা রুটিনে। পাল্টে যাচ্ছে সব, বলা ভালো পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। এই আকস্মিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে গভীর সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আমাদের শিশুদের।তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। অথচ কি অনিশ্চয়তায় ভরা তাদের মহার্ঘ্য শৈশবকাল। এই অনিশ্চিয়তার কারণ ও প্রভাব নিয়েই এই নিবন্ধ। পড়ে মতামত জানান। আমি মন্থনে বিশ্বাস করি। ... ...

সম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদের রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদের চ্যালারা ক্ষমতা দখল করার পরে তাঁদের স্বপ্নপূরণের কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁরা উল্লেখ করেছেন শ্যামাপ্রসাদের সেই বিখ্যাত উক্তি: “কংগ্রেস ভারত-বিভাজন করেছিল আর আমি করেছিলাম পাকিস্তান-বিভাজন।” অর্থাৎ তাঁদের দাবি অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদই বাংলা ভাগ করে পাকিস্তান থেকে পশ্চিমবঙ্গকে ছিনিয়ে আনেন। সেই অর্থে তিনিই হলেন পশ্চিমবঙ্গের স্থপতি তথা সৃষ্টিকর্তা। এই দাবির সত্যতা অনুসন্ধানের একটি সামান্য প্রয়াস রইল এই লেখায় ... ...

এই আলোচনায় রয়েছে স্মৃতিচারণ, রয়েছে বিজ্ঞান আর রয়েছে নির্ভেজাল আড্ডার ছলে গপ্পো। সেই অর্থে এটি একের মধ্যে তিনের মেজাজ। এই নিবন্ধটি গুরুর অন্যতম বরিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব শ্রী রঞ্জন রায় মহাশয়কে উৎসর্গ করা হলো ... ...

আজ ৫ জুন ২০২৬। আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই নিবন্ধটি প্রকাশ করা হলো। বিশ্বের আবহাওয়া মণ্ডলের ভারসাম্যের পরিবর্তন আমাদের অস্তিত্বের সংকটকে আরো ঘনীভূত করছে। আমাদের জীবন যাপনের ছন্দে পরিবেশানুগ ভাবনার সংযোজন আজ খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। লেখাটা পড়ে আপনাদের মতামত জানাতে দ্বিধা করবেন না। পারস্পরিক মতামতের মন্থনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আগামী পৃথিবীর স্বপ্নগুলো। ভালো থাকবেন। ... ...



লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ২.২ কোটি মহিলাকে প্রতি মাসে ১,০০০-১,২০০ টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দিয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর এই প্রকল্প বন্ধ করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হচ্ছে যাতে মাসিক অনুদান বেড়ে দাঁড়াবে ৩,০০০ টাকা। এই লেখায় ১৯ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি, ১১ পাতার আবেদন ফর্ম এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের ফেসবুক বক্তব্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে নতুন প্রকল্পের যোগ্যতার মানদণ্ড কতজন প্রকৃত সুবিধাভোগীকে বাদ দিতে পারে। ... ...

সেই কমিউন গড়লেন কারা? মূলত হাউসমান শহর থেকে উচ্ছেদ করেছিলেন যাদের, যাদের পাড়া ভেঙে বুলেভার্ড হয়েছিল, যারা সেই উজ্জ্বল সিটি অফ লাইটসের রোশনাইয়ে-চাকচিক্যের কোনো অংশ পাননি। ১৮৪৮-এর স্মৃতি বেঁচে ছিলো তাদের মধ্যে, যেমন স্মৃতি রয়ে যায় ক্ষমতান্ধ আর ক্ষমতাহীনের মাঝে। সামাজিক প্রজাতন্ত্রের স্মৃতি অথবা স্বপ্ন যা দমন হয়েছিল, কিন্তু উবে যায় নি, হয়তো মাটি চাপা পড়েছিল বীজের মত। তার সাথে অনুঘটকের কাজ করলো হাউসমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। পারী কমিউনের মানুষ তাদের শহর ফিরে পেতে চেয়েছিলেন বই কী। ইতিহাস আমরা জানি - কমিউন মাত্র ৭২ দিন টিকেছিল। ভার্সাই থেকে আসা সরকারি বাহিনী রক্তে ডুবিয়ে কমিউনের শেষ প্রহর লিখলো। কিন্তু সেই ৭২ দিনে যা ঘটেছিল, সেই শ্রমিকদের স্বশাসন, নারীদের অংশগ্রহণ, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বনাম বিকেন্দ্রীভূত গণতন্ত্রের বিতর্ক - পরবর্তী দেড়শো বছরের বামপন্থী রাজনীতির ভাষা গড়ে দিয়েছে। ... ...

আর এই জন্যেই তিনি তৈরি ক'রে নিয়েছেন তাঁর নিজস্ব এক 'প্রতি-কবিতা,' 'অ্যান্টিপোয়েম'—কাব্যকবিতার সব কৌশলকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যা একান্তভাবেই নগ্ন, কৃশকায়, ও অসহায় আর নির্মমভাবে সৎ; এই প্রতি-কবিতার অব্যবহিত দাবি ও আঘাত আর আভান্তরীণ হিংস্রতা কেবল এক অসংবরণীয় দয়া ও মায়া দিয়েই শামাল দেয়া। এই বিশৃঙ্খলা ও দুর্বিপাকের মধ্যেও কী ক'রে লোক তথাকথিত সহজ স্বাভাবিক জীবনযাপন করে—এটাই তাঁর আঘাতের লক্ষ্য—অর্থাৎ তথাকথিত সভ্যতাই তাঁর দ্বারা অভিযুক্ত, দায়রায় সোপর্দ। ... ...

তিনি সোক্রাতিসের ছাত্র ছিলেন – সোক্রাতিসের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা ছিল; আর সোক্রাতিসকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল গণতন্ত্র। তাই, নিজের আদর্শ সাধারণতন্ত্রের রেখচিত্র হিসেবে তিনি যে স্পার্টাকে বেছে নিয়েছিলেন – এ খুব আশ্চর্যের নয়। নিজের (সংকীর্ণ না হলেও) অনুদার প্রস্তাবগুলোকে এমন মোড়ক দেওয়ার শৈল্পিক দক্ষতা তাঁর ছিল, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্মদের চোখে ধুলো দেওয়া যায়, যাতে তারা ‘প্রজাতন্ত্র’ বইটির প্রস্তাবে আদতে ঠিক কী আছে না জেনেই—বইটিকে শ্রদ্ধা করতে পারে। প্লেটোকে বুঝি, না বুঝি, তাঁর প্রশংসা করতে হবে – এই-ই মোদ্দা কথা ছিল সর্বদা। মহান মানুষদের এইটেই ভবিতব্য, ঠিকই, কিন্তু আমার লক্ষ্য উলটো। আমি তাঁকে অবশ্যই বুঝতে চাই, কিন্তু আমার সমসাময়িক কোনো ইংরেজ বা মার্কিন সর্বগ্রাসীবাদ/একচ্ছত্রবাদের সমর্থকের জন্যে যতটুকু সম্ভ্রম বরাদ্দ রাখবো, প্লেটোর জন্যেও থাকবে মাত্র ততটুকুই ... ...


এই ছকে জনতাকে সাবধান করে দেওয়া হয় – যে সংবাদমাধ্যম তাদের সমালোচনা করছে, তাদের সত্য ও তথ্যের প্রতি দায়বদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে, তারা সবাই ফেক নিউজ়, তাদের হয় মুছে দেওয়া, নয় নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিচারব্যবস্থায় যেসব স্বাধীনচেতা বিচারক তাদের দায়ী করতে পারে, এ ছকের শুরুতেই তাদের সরিয়ে, কথা শুনবে বা স্বার্থ চরিতার্থ করবে – এমন অনুগতদের দিয়ে আদালত ভরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তারপর একে একে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান—সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, আয়কর বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ, সেনাবাহিনী—দখল করা বা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা তাদের লক্ষ্য হয়, যাতে এদের অস্ত্র বানিয়ে বিরোধীদের উপর প্রয়োগ করা যায়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রটিকে অধিকার করা যায় আর নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাদার সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, ছাত্র সংগঠন, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী পর্যন্ত সমস্ত স্তরকে নিজেদের তাঁবে রাখা যায় ... ...




আত্ম-ঔদাসীন্য একটা মহৎ গুণ যা অহং ও স্বার্থপরতা কমাতে সাহায্য করে। নশ্বরতাবোধও তাই। কার্ল মার্কস কথিত হৃদয়হীন জগত আর আত্মাহীন পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে মানুষের নিজের মানবত্ব বাঁচিয়ে রাখার লড়াই আধ্যাত্মিকতা ছাড়া আর কি ? ফলে বৌদ্ধধর্মের প্রাসঙ্গিকতা প্রতিদিন বাড়ছে মোহ, রূপ, রহস্য আর মুগ্ধতার ধারাবাহিক হন্তারক এই পৃথিবীতে। একজন আধুনিক যুক্তিবাদী মানুষ কীভাবে দেখবেন এই ধর্মকে? ... ...


জীবনের বিভিন্ন দুঃসময়ে মাঝে মাঝে এই লাইনটা মনে পড়ে, প্রাচীন বৃক্ষের গায়ে খুদাই করা লিপির মত কেউ যেন লিখেছে কোথাও, And worse I may be yet: the worst is not so long as we can say “This is the worst.” ... ... ...