এই সাইটটি 37,596,369 বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ ৮

    Aniket Chattopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ০৬ অক্টোবর ২০১৯ | ২১৮১ বার পঠিত
  • #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ ৮

    CONUNDRUM বই এর একটা মজা হল গুজব, মিথ্যে আর মাঝে মধ্যে ইতিহাস বলার একটা ভনিতা কে বজায় রাখা। যেখানে গুমনামি বাবা বলছেন উনি হো চি মিন কে যুদ্ধ শেখাতে গিয়েছিলেন, তার পরেই বলা হচ্ছে কে কে কখন গুমনামিবাবা কে হ্যানয় এ দেখেছেন, এরকম কে কে রাশিয়া তে দেখেছেন তার কথা আছে, কে কে চীনে দেখেছেন সেই গল্পো আছে, কখন তাকে বাঙলাদেশে দেখা গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রমাণ করার চেষ্টা যে গুমনামি বাবা যা বলছেন তার কিছুটা হলেও সারবত্তা আছে। এবং এসব গুজব নতুন নয়। নেহেরুর শেষকৃত্যের সময় ইনি কে? এই শীর্ষকে ছবি ছাপা হয়েছে আগে বহুবার, হ্যানয়ে ইনি কী নেতাজী? এ ছবিও আমরা দেখেছি। সেসব জায়গায় দাড়িছাড়াই কোনো এক ভদ্রলোক, গোল চশমা বা গগলস পরা, মুখের আদল গোল। এদিকে গুমনামি বাবার তো লম্বা দাড়ি। কোন যাদুবলে বাইরে যাবার সময় দাড়ি খুলে যেতেন, এসে পরে নিতেন কে জানে। (মেক আপ নিয়ে দাড়ি লাগানো যায়, বড় করা যায়, কিন্তু দাড়ি কামানো তো আর যায় না) এদিকে বাড়িতে ২৪ X ৭ কেউ মেক আপ নিয়ে বসে থাকবে তাও তো হয়না। এবং বিদেশে গুমনামি বাবা ঘুরছেন, অপেরা দেখছেন, শাস্ত্রী বা নেহেরুর শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকছেন। কিন্তু দেশে নৈব নৈব চ। তিনি পর্দার অন্তরালে। কেন? সে প্রশ্নের উত্তর নেই। ভাবুন একবার মানুষটি মাও, হো চি মিন, মুজিবর, জেনারেল জয়ন্ত নাথ চৌধুরি, দালাই লামা র এপাশে ওপাশে ঘুরছেন, নিশ্চই মুখে ঢাকা দিয়ে ঘুরছেন না। কিন্তু দেশে কার হাত থেকে লুকিয়ে থাকার জন্য নিজের মুখ লুকোতে হচ্ছে। তাও আবার নেতাজী কে, ভারতবর্ষে।

    ওদিকে ৬৫ তে পাক ভারত যুদ্ধে জীপে করে জেনারেল জয়ন্ত নাথ চৌধুরি কে শালিমার বাগ ঘুরিয়ে দেখালেন গুমনামি বাবা। এদিকে শুরু হব হব বাঙলাদেশ এর মুক্তি যুদ্ধ। তো আগেভাগেই খবর পেয়ে গিয়েছিলেন (খবরের কাগজ, পত্রিকায় ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর থেকেই এই আলোচনা চলছে), তাই এক মুক্তিবাহিনী গড়ে তুলতে চাইলেন। যে মুক্তিবাহিনীতে থাকবেনা মুসলমান আর কমি রা মানে কমিউনিস্ট রা।(পাতা ৩৮৫-৩৮৬) কার মত শোনাচ্ছে বলুন তো? ঠিক ধরেছেন, একই বক্তব্য ছিল আর এস এস চিফ এম এস গোলওয়ালকরের এবং আর এস এস এর দর্শনই তো এটাই, হিটলারের ভাষায় ইহুদি আর কমিউনিস্ট, আর এস এস এর ভাষায় মুসলমান আর কমিউনিস্ট। কী আশ্চর্য্য গুমনামি ওরফে ভগবানজী ওরফে মহাকাল ওরফে নেতাজী এক্কেবারে একই কথাই বলছেন। সম্পুর্ণানন্দ থেকে প্রণব মুখার্জি, কংগ্রেসের বড়বড় নেতা, পৃথিবীর তাবড় তাবড় মহানায়কদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ (মনে রাখবেন ‘তুই তোকারির’ নয়) সম্পর্কের কথা এই বই তে ফলাও করে বলা হলেও একজনেরই মাত্র চিঠি ওনার ঘর থেকে পাওয়া গেছে। জানেন তার নাম কি? এম এস গোলওয়ালকর। আহারে বাকি চিঠিগুলো উনি ছিঁড়ে ফেলেছেন শুধু গুরু গোলওয়ালকরের টা যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন। গুমনামির রাজনৈতিক পরিচয় তো গোপন রাখা গেলনা। এবং আগেই বলেছি রামমন্দির আন্দোলনের মাথা কিভাবে জড়িয়ে আছে গুমনামি রহস্যের সঙ্গে।

    মুক্তিবাহিনীর ব্যাপারটা যে এগোয়নি তা বলাই বাহুল্য, হিন্দু মুসলমান নয় বাঙালি হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজাকারদের বিরুদ্ধে লড়ল, পাক ফৌজের বিরুদ্ধে লড়ল। লড়াই জারি। রণাঙ্গনে সটান চলে গেলেন গুমনামি বাবা। ওনার একটা গান বোট ছিল, সেটা কোথায় থাকত?? কে চালাত? উনি একলাই RAMBO র মত চালিয়ে নিয়ে যেতেন কিনা এসব প্রশ্ন করবেন না। মোদ্দা কথা হচ্ছে ছিল এবং ওটা নিয়ে চলে গেলেন উনি সটান বঙ্গোপসাগরে। সেই স্পিডবোট যাতে সবকিছু ছিল, বিভিন্নরকমের কাজ করতে পারত। বিরাট কিছু কে ধ্বংস করা, ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করা, বিভিন্ন আলোকরশ্মি যা ফেললে বাস্পিভূত মানে উবে যেত সামনের যা কিছু (প্রায় প্রফেসর শঙ্কু), এই বোটে ইলেক্ট্রম্যগনেটিক এবং গ্রাভিটেশনাল শক্তিকেও কাজে লাগানো হয়েছিল। এবং এটা খালবিল, নদী সমুদ্র সবখানে চলতো। (পাতা ৪২৬)

    এই হামবাগ লোকটাকে গুমনামিকে নেতাজী, বাংলার এক শ্রেষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে তুলনা করছেন যারা তাদের জন্য করুণা হয় ঘৃণা হয়। কাল বাঙলাদেশ যুদ্ধ নিয়ে গুমনামির আরও গুলগল্প।
    আজ ছবি রইল বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের, যেখানে হিন্দু নয় মুসলমান নয় বাঙালি লড়েছিল ভাষার দাবীতে, এক নতুন ভুখন্ডের দাবীতে, বাঙলাদেশ, আমার বাঙলা দেশ।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০৬ অক্টোবর ২০১৯ | ২১৮১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি 37,596,368 বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন