এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • সমান নাগরিক সংহিতাঃ বিতর্ক হোক

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০৬৮০ বার পঠিত
  • সমান নাগরিক সংহিতাঃ বিতর্ক হোক

    নান্দীমুখ

    গত ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ বিজেপি সাংসদ কিরোড়ী লাল মীণা রাজ্যসভায় একটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিলে পেশ করেছেন যার সার কথা হল দেশে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা সমান আচার সংহিতা জারি করার উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করা হোক।

    ব্যস, যাকে বলে একেবারে হল্লা বোল শুরু হয়ে গেল। সমস্ত বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের এক রায় — বিজেপি গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের পর একজন সাংসদকে দিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিল পেশ করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জল মাপছে।

    কারণ, তার আগে একবছর ধরে কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা, ত্রিপুরার মত ৯টি বিধানসভা নির্বাচন এবং একগাদা পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে।

    বিজেপির নেতারা মুখ ভার করে বলছেন — এসব কী? সংবিধান সভা দেশকে যে কথা দিয়েছিলেন – যা এতদিন কেউ রাখে নি — আমরা তো সেটাকেই আইনের চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র।

    আরএসএসের লোকেরা ব্যক্তিগত স্তরে বলছেন — আমরা তো কবে থেকে বলছি যে এক জাতি, এক রাষ্ট্রভাষা, এক আচার সংহিতা দেশ এবং রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করে, সুদৃঢ় করে।

    এই শব্দকল্পদ্রুমের পরিবেশে বর্তমান প্রবন্ধে নিচের বিন্দুগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করছি। মোদ্দা কথা -- ইউনিফর্ম সিভিল কোড ব্যাপারটা কী - খায় না মাথায় দেয়? সংবিধান সভা এ নিয়ে ৩ নভেম্বর ১৯৪৮ এবং ১৯৪৯ সালে কী বলেছিল?

    এবং, এটা যদি সবার জন্যে উইন-উইন গেম হয় তাহলে আপত্তির কারণ কী? এ নিয়ে কতদূর চেষ্টা করা হয়েছে এবং কোথায় আটকাচ্ছে?

    একটা ডিসক্লেমার দিয়ে রাখি — এই আলোচনার জন্যে আমি ঠিক যোগ্য ব্যক্তি নই। আমি খালি বিতর্কের মুখ খুলে দিচ্ছি, সুস্থ তথ্যসমৃদ্ধ বিতর্ক চলুক।

    আমার একটাই যোগ্যতা — যখন ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ২২তম ল’ কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত জাস্টিস বি এস চোপরা ইউনিফর্ম সিভিল কোডের ব্যাপারে আমজনতার মতামত জানতে চেয়ে মিডিয়ায় এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১৬ পয়েন্ট প্রশ্নাবলী জারি করেছিলেন এবং নভেম্বর মাসের মধ্যেই প্রায় ১০,০০০ উত্তর পেয়েছিলেন তার মধ্যে একটা সেট আমারও ছিল। স্বল্পবুদ্ধিতে যা মনে হয়েছিল তাই উত্তরের খোপে ভরে দিয়েছিলাম।

    সিভিল ও ক্রিমিনাল কোড

    যে কোন দেশের আইনকানুনকে মোটামুটি দুটো ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

    এক, ক্রিমিনাল কোড – যা রাষ্ট্র এবং সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ; এর আওতায় আসবে চুরি-ডাকাতি, খুনজখম, শারীরিক আক্রমণ, ধর্ষণ ইত্যাদি।

    দুই, সিভিল কোড – যার ভিত্তি হল এক দেশ বা সমাজে বাস করার আচরণ বিধির সামাজিক কন্ট্র্যাক্ট। এতে রয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান পদ্ধতি, বিচ্ছেদ, এবং সম্পত্তির কেনাবেচা, ব্যবসার নিয়ম, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেয়ার নিয়ম কানুন ইত্যদি।

    ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা সমান নাগরিক আচার সংহিতাঃ

    এইখানে এসে কি একটু গুলিয়ে যাচ্ছে?

    এক, ক্রিমিনাল কোড তো জাতিধর্ম নির্বিশেষে দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্যে সমান। খুন-চুরি-ডাকাতির অপরাধে শাস্তি দেবার সময় আইন বা রাষ্ট্র নাগরিকের জাতধর্ম দেখে না, একই আইনে একই শাস্তি দেয়। তাহলে সিভিল কোড এক হবে না কেন?

    -- আরে সিভিল কোডের অনেকগুলো তো মূলতঃ সবার জন্যেই সমান!

    ব্যবসা করতে কন্ট্র্যাক্টের নিয়ম ও আইন, সেলস্‌ অফ গুডস অ্যাক্টের আইন, জি এস টি, ইনকাম ট্যাক্স, রেজিস্ট্রির নিয়ম, জমি বাড়ি সম্পত্তি কেনাবেচার আইন, মর্টগেজ বা সম্পত্তি বন্ধক রাখার আইন – সবই তো হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-জৈন-পারসিক-মুসলমান-খ্রিস্টানী সবার জন্যে এক। তাহলে?

    -- আছে, তফাৎ আছে। ভারতবর্ষে সিভিল কোডের অন্তর্গত কিছু বিষয় বিভিন্ন ধার্মিক এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যে আলাদা। সেগুলো হল মুখ্যতঃ তিনটি -- বিয়ের অনুষ্ঠান পদ্ধতি এবং বিচ্ছেদ; সম্পত্তির উত্তরাধিকার; এবং দত্তক নেয়ার নিয়ম কানুন।

    সমান নাগরিক আচার সংহিতার সমর্থকেরা চাইছেন - ওই তিনটে ব্যাপারেও বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের লোকজনের জন্যে আলাদা আলাদা নিয়ম বন্ধ হোক। সব ধুয়ে মুছে এক হয়ে যাক, ঠিক স্কুল ইউনিফর্মের মত।

    ধুয়ো উঠছেঃ এক হউক, এক হউক, এক হউক, হে ভগবান!

    আমরা সংক্ষেপে আলোচনার সুবিধের জন্যে দেশের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মভিত্তিক সম্প্রদায়ের (হিন্দু ও মুসলিম) কোড বিল নিয়ে আলোচনা করব।

    হিন্দু কোড বিলের অন্তর্গত রয়েছে তিনটে আইন — হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫; হিন্দু সাকসেসন অ্যাক্ট; হিন্দু মাইনরিটি অ্যান্ড গার্ডিয়ানশিপ অ্যাক্ট এবং হিন্দু অ্যাডপশন (দত্তক নেয়া) এবং মেইন্টেন্যান্স (খোরপোষ) অ্যাক্ট।

    এইসব তৈরি হয়েছে ইংরেজ আমলে কিছু টুলো পণ্ডিত ডেকে বিভিন্ন স্মৃতি বা সংহিতা (মনু, যাজ্ঞবল্ক্য, পরাশর ইত্যাদি) ঘেঁটে। এ নিয়ে বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে গুরুর পাতায় গত বছর আমাদের এলেবেলে (দেবোত্তম চক্রবর্তী) চমৎকার আলোচনা করেছিলেন।

    তেমনই ভারতের মুসলিমদের রয়েছে মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাক্ট ১৯৩৭। এতে বিয়ে, তালাক, খোরপোষ, দান-দক্ষিণা সব কিছুর ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে মুসলিম জীবনযাপন পদ্ধতির নির্দেশের ব্যাপারে চারটি উৎসকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলঃ কুরআন, সুন্না বা অহল-এ-হাদিস (হজরত মহম্মদের নিজের আচরণে যা সিদ্ধ), কিয়াস (ব্যাখ্যা টীকা ভাষ্য ইত্যাদি) এবং ইজমা (বিদ্বানদের সর্বসম্মত ব্যাখ্যা)।  

    এখন ইউনিফর্ম সিভিল কোড মানে — ওইসব বিভিন্ন আইন বাতিল করে সবার জন্য কোন ধার্মিক রেফারেন্স ছাড়া একটাই আইন চালু করা।

    আচ্ছা, তাতে অসুবিধা কী? বেশ আধুনিক এবং প্রগতিশীল শোনাচ্ছে।

    ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক ভারতে এরকমটা হওয়ারই কথা তো! অসুবিধেটা কোথায়?

    সংবিধান সভার আর্টিকল ৪৪ এ নেহরুজি এমনই কিছু বলেছিলেন কিনা?

    -- বলেছিলেন বটে, কিন্তু অসুবিধেটাও তখনই স্পষ্ট হয়েছিল। কন্সটিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বা সংবিধান প্রণয়ন সভার ২৩ নভেম্বর, ১৯৪৮ এর বিতর্কটি দেখলেই বোঝা যাবে।

    বোম্বাই থেকে কংগ্রেসের নির্বাচিত প্রতিনিধি স্বাধীন দেশের জন্যে ধর্মের অনুশাসনের উর্দ্ধে উঠে একটি সমান নাগরিকতার পক্ষে যুক্তি দেন। বিরুদ্ধে মাদ্রাজ এবং বিহারের প্রতিনিধিরা বলেন – এতে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিবিধতা নষ্ট হবে। ঐক্য এবং একরূপতা এক কথা নয়।

    ওঁরা উদাহরণ দিয়ে বললেন — বিশাল দেশ ভারতবর্ষে ভৌগলিক এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। পূবে আসামে এত বৃষ্টি হয়, কিন্তু পশ্চিমে রাজস্থানে খটখটে মরুভূমি। উত্তরে বরফ পড়ে, হাড়কঁপানো শীত। কিন্তু দক্ষিণে শীত সেভাবে টের পাওয়া যায় না।

    শেষে একবছর পরে ১৪ নভেম্বর, ১৯৪৯ সালে সংবিধান সভার এই বিষয়ে বিতর্ক সমাপ্ত করে নেহরু বললেন — তাড়াহুড়ো না করে এই প্রগতি জনতার উপর চাপিয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে জনতার মধ্যে চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে ওদের সম্মতি নিয়ে ট্র্যাডিশনে পরিবর্তন আনতে হবে। এবং, ওঁর পরামর্শ মত ইউনিফর্ম সিভিল কোডের ধারণাটিকে সংবিধানের ডায়রেক্টিভ প্রিন্সিপলের (মার্গদর্শী সিদ্ধান্ত) অধীনে আর্টিকল ৪৪ এ নিচের শব্দে বাঁধা হলঃ

    Article 44. Uniform civil code for the citizens.
    The State shall endeavour to secure for the citizens a uniform civil code throughout the territory of India.

    ঠিক আছে, কিন্তু করে ফেলতে কিসের অসুবিধে? সত্তর বছর হয়ে গেল যে!

    -- দেখুন, হিন্দুদের স্মৃতিশাস্ত্রে বিহিত আট রকমের বিয়ের মধ্যে শুধু ‘প্রাজাপত্য’ই আজকাল চলছে। এতে বাবা বা তাঁর অবর্তমানে পরিবারের কোন গুরুজন ‘কন্যাদান’ করে। আর বিয়ের কার্ডে প্রজাপতির ছবি এঁকে ‘প্রজাপতয়ে নমঃ’ লেখা থাকে। প্রজাপতির নির্বন্ধে ডিভোর্সের কথাই ওঠে না, জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধনে হাঁসফাস করলেও।

    অবশ্য আজকাল যেটাকে লাভ ম্যারেজ বলা হয় সেটা মনু’র গান্ধর্ব বিবাহের (বর কনে নিজেদের সম্মতি বা পছন্দের হিসেবে) আধুনিক রূপ মাত্র।

    তবে ইদানীং হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে কিছু সংশোধন হয়েছে। তাই সময়ের দাবিতে কিছু শর্ত সাপেক্ষে ডিভোর্সের সুযোগ রয়েছে। এই বিয়ের অনুষ্ঠানে সপ্তপদী গমন এবং যজ্ঞ একটি আবশ্যিক অনুষ্ঠান। আর রয়েছে (হিন্দি বলয়ে) সাতটি শপথ (সাতোঁ বচন) নেওয়ার কথা, যেমন পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা, ভাত-কাপড়ের দায়িত্ব নেওয়া, ইত্যাদি।

    কিন্তু মুসলিম বিয়ে হল পিওর কন্ট্র্যাক্ট। বিয়ে মসজিদে না হয়ে কারও বাড়িতে (কন্যার ঘরে) হয়। পুরোহিতের স্থানে কাজি বসেন বটে, তবে পাঁচ জন সাক্ষী রেখে কন্যাকে বসিয়ে তিনবার জিজ্ঞেস করা হয় — আপনি কি অমুককে কবুলনামায় লেখা শর্ত অনুযায়ী জীবনসঙ্গী হিসেবে স্বীকার করতে রাজি? 

    কন্যা তিনবার ‘কবুল’ বললে একই কন্ট্র্যাক্টের পাঁচ কপিতে ওরা দুজন, কাজি এবং সাক্ষীদের সইসাবুদ হয়ে গেলে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ওদের দুজন এবং সাক্ষীদের কাছেও একটি করে ওই নিকাহ্‌নামা বা চুক্তির কপি থাকে। তাতে কন্যার সিকিউরিটি হিসেবে পূর্বনির্ধারিত ‘দেনমোহর’ কত টাকা তার উল্লেখ থাকে।

    আমি এক মুসলিম কলিগের ছোট ভাইয়ের বিয়েতে সাক্ষী একজন কম পড়ে যাওয়ায় এন্ট্রি পেয়েছিলাম এবং সই করার পরে এক কপি (বেশ রঙীন কাগজে) পেয়েছিলাম।

    চুক্তি বলেই মুসলিম ম্যারেজ অ্যাক্টে তিন রকমের তালাকের প্রথা রয়েছে — আহসান, হাসান, এবং বিদ্যৎ। 

    ভাববার সময় না দিয়ে যখন মর্জি তখন তিনবার ‘তালাক’ বলে স্ত্রীকে ঘরের বাইরে করে দিলাম - এটাই ওই বিদ্যৎ তালাক। এটা প্রথাসিদ্ধ কিন্তু শরিয়ত অনুমোদিত নয়, তাই অধিকাংশ মুসলিম দেশে এই রকম তালাক উঠে গেছে।

    ভারতেও সুপ্রীম কোর্টের রায় মেনে আইন করে শুধু ওই তালাক-এ-বিদ্যৎ নিষিদ্ধ হয়েছে, বাকি নিয়ম যথাবৎ আছে।

    স্বামী তালাক দিলে ওই দেনমোহর বিবিকে ফেরত দিতে হবে। বাস্তবে কী হয় সেটা অন্য প্রসংগ।

    একটা কথা; ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মুসলিম মেয়ে কোন অন্য ধর্মের ছেলেকে বিয়ে করতে পারে না। তবে মুসলিম ছেলে একেশ্বরবাদী ধর্মের (ক্রিশ্চান ও ইহুদী) মেয়েকে বিয়ে করতে পারে, কিন্তু কোন বহুদেববাদী ধর্মের ( হিন্দু) মেয়েকে নয় (কুর্‌আন, সুরা ৫.৫)।

    ক্রীশ্চান ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স অ্যাক্টের (১৮৭২) অনুষ্ঠান চার্চে হতেই হবে। কিন্তু ইসলাম ও ক্রিশ্চানিটি দুটোই আব্রাহামিক ধর্ম, তাই অনুষ্ঠানে কিছুটা মিল রয়েছে। পাদ্রী সবার সামনে ব্রাইডকে তিনবার জিজ্ঞেস করে সম্মতি পেলে পরমপিতা পরমেশ্বরের আশীর্বাদে বা দৈব ইচ্ছায় ওই জোড়াকে তখন বিধিসম্মত স্বামী-স্ত্রী বলে ঘোষণা করেন। তারপর বলেন – এখন তোমরা একে অপরকে চুমো খেতে পার।

    তখন ওরা সবার সামনে একে অপরকে চুমো খায়, ব্যস্‌।

    হিন্দুদে্র শুধু মালাবদল হয়, সবার সামনে চুমো-টুমো খাওয়ার সুযোগ নেই।

    এবার বলুন, এই তিনরকমের বিয়ের আইন তুলে দিয়ে কী করতে চান? কেমন কোড আনতে চান?

    চুমো খাওয়া তুলে দেবেন? নাকি সবাইকেই ভবিষ্যতে আইন মেনে চুমো খেতে হবে?

    সাক্ষীসাবুদ-দেনমোহর করে রীতিমত চুক্তিপত্রে সই করে বিয়ে দেওয়া তুলে দেবেন? নাকি সবাইকেই ওইরকম করতে হবে?

    সপ্তপদী, যজ্ঞ, অরুন্ধতী নক্ষত্র দেখানো তুলে দেবেন? নাকি সবাইকেই তাই করতে হবে?

    আরও আছে। হিন্দু তেলুগু সম্প্রদায়ে মামাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে সবচেয়ে উত্তম সম্বন্ধ ধরা হয়। আমার এক কলিগ তিন ভাই। ওরা ওদের আপন মামার মেয়েদের বিয়ে করেছে।

    এটা কি বাদ যাবে? নাকি সবাইকে মামাতো পিসতুতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে করতে হবে?

    মুসলমানদের মধ্যেও তুতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে করার চল আছে। ওদের হয়তো অসুবিধে হবে না? কিন্তু আমাদের?

    মৈত্রী কড়ার (Friendship Contract):

    সত্তরের দশকের গুজরাতে কোন এক প্রাচীন ট্র্যাডিশনের ধুয়ো তুলে ঊচ্চবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে শুরু হল মৈত্রী কড়ার। এর মানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে গিয়ে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে এগ্রিমেন্ট বানিয়ে একসঙ্গে লিভ টুগেদার করতে পারে — আশা এই যে ওরা কিছুদিন পরে বিয়ে করবে।

    হিন্দু কোডে কোথাও এমন কোন টেম্পোরারি বিয়ের কথা বলা নেই। কিন্তু আইন এর প্রতিবন্ধক নয়। শুধু ছ’বছর আগে দুই ছোটবেলার সাথী (ছেলে মুসলিম, মেয়ে হিন্দু) ওই কড়ার করে বাধা পেয়ে শেষে গুজরাতের হাইকোর্টে গিয়ে ২৫ নভেম্বর, ২০১৬ রায়ে অনুমোদন আদায় করায় গুজরাতে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের টনক নড়ল। শেষে কি আমাদের ঘরের মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি গিয়ে মাছ-মাংস রান্না করতে বাধ্য হবে? [1]

    আজকে সমান আচার সংহিতা শুরু হলে মৈত্রী কড়ার বন্ধ হবে নাকি?

    তারপর অ্যান্থ্রোপলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার হিসেবে ভারতে ৪৬০০ আদিবাসী সম্প্রদায় আছে যাদের পূজার্চনা এবং বিবাহ সংস্কারের নিয়ম আমাদের থেকে ভিন্ন। ওদের সংস্কৃতিকেও কি দুরমুশ করে আমাদের মত করতে হবে?

    -- ভাল জ্বালা! তার চেয়ে বিয়ের জন্যে এমন একটা আইন করা যায় না যাতে দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ে, নিজেদের জাত ধর্ম বাবা-মার অনুমতির তোয়াক্কা না করে ধর্মের দোহাই না দিয়ে বিয়ে করতে পারে? তাহলেই তো ল্যাটা চুকে যায়।

    সে আইন তো কবেই হয়ে গেছে — স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৪। অর্থাৎ হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের (১৯৫৫) একবছর আগে। তাতে শুধু ছেলের বয়েস ২১ হতে হবে, আর মেয়ের ১৮। তবে প্রধানমন্ত্রী বলছেন শিগগিরই মেয়েদের বয়েসও আইন করে বাড়িয়ে ২১ করে দেওয়া হবে, ভাল কথা।

    তফাৎ হল — হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে আগে বিয়ে, পরে রেজিস্ট্রি। স্পেশ্যাল অ্যাক্টে আগে দরখাস্ত দিলে রেজিস্ট্রার দেবে একমাসের নোটিস, তারপরও যদি মিয়া-বিবি রাজি থাকে, তবে একই সঙ্গে রেজিস্ট্রি এবং বিয়ে।

    তাহলে আর হৈ চৈ কিসের?

    কারণটা রাজনৈতিক, পরে আসছি। আগে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে বলি।

    হিন্দু ও মুসলিম কোডে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার

    হিন্দু কোড বিলে আগো মেয়েদের পৈতৃক সম্পত্তিতে কোন অধিকার ছিল না। প্রথমে সংশোধিত হয়ে মেয়েদের বসবাসের অধিকার স্বীকৃত হল, কিন্তু মালিকানা হক নয়। পরে ২০০৫ সালের সংশোধনে ভাই এবং বোনের সমান অধিকার স্বীকৃত হল। তারপর ২০২২ সালের একটি রায়ে সুপ্রীম কোর্ট বললেন যে বিবাহিত মেয়েরাও ভাইয়ের সমান অংশীদার, সমান ভাগ পাবে।[2]

    মুসলিম কোডে কিন্তু প্রাচীন কাল থেকেই সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের পৈতৃক এবং স্বোপার্জিত সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার স্বীকৃত, সে বিবাহিত হলেও।  তবে সবসময় সেটা ছেলেদের সমান ভাগ নয়, কখনও ১/২, কখনও ১/৪।

    ব্যাপারটা বেশ জটিল। যখন আইনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষায় বসেছিলাম তখন আমরা সবাই ভয় পেতাম মুসলিম সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারার প্রশ্নকে। তাতে খেয়াল করে ভগ্নাংশের অংক কষতে হত।

    -- যাকগে, এসব জটিল ব্যাপারে আপনার আমার মত হরিদাস পালেদের মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। এর জন্যে উপযুক্ত সংস্থা হল ল’ কমিশন। ওদের দিয়েই এসব আইন ও ট্র্যাডিশনের প্যাঁচ খুলে একটি আধুনিক সিভিল কোডের খসড়া বানানো হোক। মিঃ আম্বেদকর, নেহেরুজী, প্যাটেলজী – সবার আত্মা শান্তি পাক। অসমাপ্ত কাজ পুরো করা হোক।

    ল’ কমিশন

    গোড়াতেই বলা দরকার যে ল’ কমিশন কোন সাংবিধানিক (constitutional) অথবা বৈধানিক (statutory) সংস্থা (body) নয়। এটি বিশুদ্ধ প্রশাসনিক (executive) সংস্থা যা ভারত সরকারের নির্দেশে কোন নিশ্চিত ইস্যুতে এবং নির্ধারিত সময়ের (tenure) জন্য গঠিত হয়।

    এর দায়িত্ব হল আইনের সংস্কারের ব্যাপারে রিসার্চ করে সরকার চাইলে বা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে (suo moto) পরামর্শ দেওয়া।

    বর্তমান ভারত সরকার ইউসিসি’র বিষয়ে ২০১৬ সালে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জাস্টিস বি এস চৌহানের অধ্যক্ষতায় ২১ তম ল’ কমিশন গঠন করে।

    উনি এ’ব্যাপারে আম-নাগরিক এবং সিভিল সোসাইটির অভিমত এবং পরামর্শ জানতে চেয়ে ৩/১০/২০১৬ তারিখে এক ১৬ বিন্দু প্রশ্নাবলী  সম্প্রচারিত করেন। নভেম্বর মাসের মধ্যে প্রায় দশ হাজার উত্তর এবং মতামত পেয়ে বেজায় খুশি হয়ে প্রেসকে জানিয়েও দেন।

    কিন্তু বুঝতে পারছিলেন যে ব্যাপারটা এত সোজা হবে না। তারপর জাস্টিস চৌহান ২০১৮ তে কোন রিপোর্ট পেশ না করেই অবসর নেন।
      
    তারপর গত চার বছর ধরে কমিশনের কোন চেয়ারম্যান না থাকায় ব্যাপারটা ন যযৌ ন তস্থৌ হয়ে থেমে ছিল।

    অবশেষে ভারত সরকার গত ৮/১১/২২  তারিখে কর্ণাটক হাইকোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত চিফ জাস্টিস ঋতুরাজ অবস্থী-র অধ্যক্ষতায় ২২তম ল’ কমিশন গঠন করেছে। জাস্টিস অবস্থী কর্ণাটকের বিবাদিত হিজাব মামলার রায়দাতা।

    আশা করা যাচ্ছে আগামী মার্চ ২০২৩ নাগাদ ল’ কমিশন ইউসিসি ইস্যুতে তাঁদের রেকমেন্ডেশন বা সুপারিশ ভারত সরকারকে জানিয়ে দেবেন।

    কিন্তু তাই যদি হয় তাহলে আমরা মার্চ অব্দি অপেক্ষা না করে এখন থেকেই চেঁচামেচি করছি কেন? উত্তরটাও সহজ, রাজনীতি।

    সমান নাগরিক আচার সংহিতা বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) ও রাজনীতি

    আসলে সমান আচার সংহিতা নিয়ে এত আগ্রহের পেছনে রয়েছে আরেকটি ইস্যু – মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।

    মোদীজি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বিজেপি ও আরএসএসের ঘোষিত তিনটে এজেন্ডা ছিল – রাম মন্দির নির্মাণ, সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোড। এর জন্যে দরকার ছিল বড় মাপের সংখ্যাগরিষ্ঠতার। সেটা পাওয়া গেল ২০১৯ সালের মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে।

    ব্যস্‌, ব্রুট মেজরিটির জোরে ৫ অগাস্ট ২০১৯ সালে বাতিল হল আর্টিকল ৩৭০, অবশ্য নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ইত্যাদির আলাদা আইন, আলাদা পতাকা নিয়ে আর্টিকল ৩৭১ আগের মতই রয়ে গেল।

    তারপর ৯ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে অযোধ্যা মামলার রায় বেরোল। ৫ অগাস্ট ২০২০তে সংসদে মন্দির নির্মাণের জন্য বিশেষ ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা হল।

    বাকি রইল একটাই— সমান নাগরিক আচার সংহিতা, ইউনিফর্ম সিভিল কোড।

    এতসব চেঁচামেচির একটাই লক্ষ্য — মুসলিম আইনে যে চারটে বিয়ের অনুমোদন রয়েছে সেটা বাতিল করে সবাইকে এক পত্নীব্রতে থাকতে বাধ্য করা। বাকি সম্পত্তির অধিকার-টার যাক চুলোয়।

    ওদের যুক্তিঃ বেশি পত্নী মানেই বেশি সন্তান; এর মানে মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি। তার মানে কোন এক ভবিষ্যতে ওরা মেজরিটি হবে এবং আমাদের দেশকে ফের ভাগ করবে।

    এটা খোলাখুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতারা এটাকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মোড়কে গম্ভীর মুখে বলে থাকেন।

    বিজেপি সাংসদ এবং আরএসএসের তাত্ত্বিক নেতা রাকেশ সিনহা সংসদে জুলাই ২০১৯ সালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিল পেশ করলেন।
     
    প্রধানমন্ত্রী সে’ বছর স্বাধীনতা দিবসের অভিভাষণে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বের কথা বলে এটাকে ‘a form of patriotism’ আখ্যা দেন। [3] অর্থাৎ যাদের সন্তান বেশি তারা দেশকে ভালবাসে না।

    উনি সেটা বলতেই পারেন।

    মোদীজির ভাষণের একই দিনে ১৫ই অগাস্ট, ২০১৯শের  স্বাধীনতা দিবসে আসাম সরকার ঘোষণা করে দিল যে যাদের দুটোর বেশি সন্তান রয়েছে তারা সরকারি চাকরি পাবে না এবং স্থানীয় স্তরে কোন নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে না। [4]

    অবশ্য এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে এসে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার স্বাধীনতা দিবসের অভিভাষণে বলেছেন যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন নতুন আইনের দরকার নেই। ওঁর একটিই সন্তান।

    এদিকে প্রাক্তন মন্ত্রী এবং ইউপির মুজফফরনগর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত সাংসদ সঞ্জীব বালিয়ান সেই ২০১৯ থেকে নিয়মিত সংসদে বলছেন ভারতে জনসংখ্যা যে হারে বেড়ে চলেছে যে রিসোর্সে টান পড়ছে, করদাতাদের উপর বোঝা বাড়ছে, এখনই ১৩৫ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, ভবিষ্যতে কী হবে? ওঁর আবেদনে ১২৫ জন সাংসদের সই ছিল।
     
    তবে  ডঃ রাকেশ সিনহার (আরএসএস বুদ্ধিজীবি এবং রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য) তিনবছর আগে পেশ করা বিলটিকে এ’বছর এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মনসুখ মণ্ডাভিয়া অপ্রয়োজনীর বলে মতপ্রকাশ করেন।

    ওনার মতে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির দর আশংকাজনক নয়। জোর করে প্রতি পরিবার দুই সন্তানের লক্ষণরেখা টেনে দেওয়ার দরকার নেই। সরকারের প্রচেষ্টায় জনতা এখন অনেক জাগরুক, বাকিটুকু শিক্ষার আরও প্রসার হলেই হয়ে যাবে।

    তখন রাকেশ সিনহা বিলটি প্রত্যাহার করে নেন। [5]

    কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকার দুই সন্তানকে বাধ্যতামূলক করার খসড়া বিল জুলাই ২০২১ এ বিধানসভায় পেশ করে।

    তবে গত বছর জুলাই মাসে সংসদে  দুই বিজেপি এমপির প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী  জানিয়েছিলেন যে NFHS III(2005-06) সার্ভে হিসেবে TFR 2.7 ছিল, তারপর NFHS IV (2015-16) [6] অনুযায়ী কমে 2.2 হয়ে গেছে। কাজেই আইন করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার দরকার নেই।

    তারপর এ’বছর জুন মাসে এক সাংবাদিককে স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকে জানানো হয় যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মণ্ডাভিয়া কোনরকম জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল আনার কথা ভাবছেন না যেহেতু NFHS V অনুযায়ী ভারতের টোটাল ফার্টিলিটি রেশিও স্থায়িত্ব দর ২.১ থেকে কমে ২.০ হয়ে গেছে। [7]

    অথচ এ’বছর গত ৯ ডিসেম্বর তারিখে দু’জন বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে এবং রবিকিষণ লোকসভায়  প্রাইভেট মেম্বার্স পপুলেশন কন্ট্রোল বিল পেশ করেছেন। রবিকিষণ, ভোজপুরি লোকগায়ক এবং গোরখপুরের বিজেপি এমপি, ওঁর তিন মেয়ে এক ছেলে।

    এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উনি বলছেন এর জন্যে কংগ্রেস দায়ি। [8] ওরা যদি আগেই এই বিল আনত তাহলে নাকি  রবিকিষণ আগের থেকে সতর্ক হয়ে যেতেন।

    মুশকিলে পড়লাম, কে ঠিক বলছেন?

    প্রধানমন্ত্রী না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কে ঠিক?

    দুই বিপরীত মেরুর বক্তব্য বুঝতে হলে কিছু সরকারী ডেটা দেখুন। প্রথমে বিগত ২০১১ সালের সেন্সাস অনুয়ায়ী আমাদের দেশে ধর্মভিত্তিক নাগরিকদের  সংখ্যা ও অনুপাতঃ   

    তালিকা -১  

    সম্প্রদায়জনসংখ্যার প্রতিশত
    হিন্দু৭৯.৮০
    ইসলাম১৪.২৩
    খ্রীস্টান২.৩০
    শিখ১.৭২
    অন্যান্য১.৯৫
    মোট১০০.০০

    National Family Health Survey (NFHS-5) অনুযায়ী ভারতের গড় ফার্টিলিটি রেশিও ২.২ থেকে কমে ২.০ হয়েছে। আন্তর্জাতিক রিপ্লেসমেন্ট রেশিও হল ২.১। অর্থাৎ যে অনুপাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি (নতুন জন্ম-নতুন মৃত্যুর সংখ্যা কাটাকুটি করে যা পাওয়া যায়) স্থির থাকে। তার মানে এখন ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আশংকাজনক নয়।

    মাত্র পাঁচটি স্টেটের টিএফআর ন্যাশনাল অ্যাভারেজের এবং রিপ্লেসমেন্ট রেশিওর থেকে বেশি। তারা হল—

    বিহার (২.৯৮), মেঘালয় (২.৯১), উত্তরপ্রদেশ (২.৩৫), ঝাড়খণ্ড (২.২৬) এবং মনিপুর (২.১৭)। [9]

    এর কোনটিই মুসলিম বহুল রাজ্য নয়। অথচ, মুসলিম প্রধান জম্মু-কাশ্মীর (১.৩) এবং বঙ্গে (১.৬) টিএফআর ন্যাশনাল গড়ের থেকে অনেক কম।

    তার মানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির দর ধর্ম নির্ভর নয়, বরং শিক্ষার হার এবং জীবনযাপনের স্তরের উপর নির্ভরশীল।

    এবার ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমস্ত জনগোষ্ঠীতে সন্তানোৎপাদনক্ষম বয়সের মহিলার সন্তান সংখ্যা কত নিচের তালিকায় দেখুন।

    তালিকা-২

    Total Fertility Rate (TFR) by Religion, average number of children by woman of reproductive age

    ReligionAverage number of children
    Hindu1.94
    Muslim2.36
    Christian1.88
    Sikh1.61
    Buddhist1.39
    Jain1.66
    Others2.15

    সূত্রঃ National Family Health Survey (NFHS-5)

    সিদ্ধান্তের ভার পাঠকের উপর ছেড়ে দিলাম। আমি অংকে কাঁচা। তালিকা একের জনসংখ্যাকে মূলধন এবং TFR  কে সূদের হার ধরে কম্পাউণ্ড ইন্টারেস্টের ফর্মূলা লাগিয়ে আঁক কষে বলুন তো এভাবে চললে কত বছর পরে মুসলিম জনসংখ্যা হিন্দুদের ছাড়িয়ে যাবে?

    শেষপাতেঃ

    বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো বসে নেই। বিশেষ করে যেখানে একের পর এক নির্বাচন। উত্তরাখণ্ডে রিটায়ার্ড জাস্টিস রঞ্জনা দেশাইকে অধ্যক্ষ করে রাজ্য ল’ কমিশন কাজ শুরু করে দিয়েছে। হিমাচলের বিজেপি সরকার দু’মাস আগে বলেছিল – নির্বাচনে জিতলে ওরা রাজ্যে ইউসিসি চালু করবে। চিঁড়ে ভেজে নি। গুজরাতে মহারাস্ট্রে মধ্যপ্রদেশে এবং গুজরাতে শোনা যাচ্ছে ইউসিসি নিয়ে কমিটির কথা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেরও।

    কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট সঞ্জয় হেগড়ে বলছেন — ভিন্ন রাজ্যের ভিন্ন সংস্কৃতি। তাহলে তো কোন প্রথা, ধরুণ বিয়ে এক রাজ্যে বৈধ হবে তো অন্য রাজ্যে অবৈধ। কিন্তু এটি তো গোটা দেশের জন্যে ‘ইউনিফর্ম’ হওয়ার কথা।

    নিন্দুকে বলছে — আরে এগুলো ইলেকশনের আগে জিগির তোলা। হবে সেই মার্চে কেন্দ্রীয় ল’ কমিশনের রিপোর্ট এলে।

    দিন গুণছি।

    =======================================================================
    [1] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬।
    [2]  সুপ্রীম কোর্ট,অরুণাচল গৌন্ডার বনাম পন্নুস্বামী, জানুয়ারি ২০২২।
    [3]  দি স্টেটস্‌ম্যান, ১৬ অগাস্ট, ২০১৯।  
    [4]  দি হিন্দু, ১৬ অগাস্ট, ২০১৯।
    [5] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২ এপ্রিল, ২০২২।
    [6] হিন্দুস্থান টাইমস্‌ ২৪ জুলাই, ২০২১।
    [7] টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ৯ জুন, ২০২২।
    [8] ঐ, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২।
    [9]  টাইমস্‌ অফ ইণ্ডিয়া, ৬ মে, ২০২২।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০৬৮০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • hu | ২৬ জুন ২০২৬ ০৯:৪১741394
  • মুসলিম মেয়েদের সম্পত্তিতে অধিকারের ব্যাপারটাও চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করলাম।
     
    Rights of Muslim women under Islamic inheritance law
    Unlike the Hindu coparcenary system, Muslim law does not recognize a concept of ancestral or coparcenary property.

    Instead:
    • Every person's property belongs exclusively to that person.
    • No child acquires ownership by birth.
    • Inheritance rights arise only when the owner dies.

    This means:
    • Sons do not get a birthright.
    • Daughters do not get a birthright.
    • The estate is divided only after death according to prescribed shares.
    This is a fundamental difference from Hindu law.

    Daughter's share

    If a Muslim dies leaving:
    one son and one daughter,
    the daughter receives half the share of the son.

    Example:
    Estate = ₹90 lakh
    Heirs:
    Son
    Daughter
    Division:
    Son: ₹60 lakh
    Daughter: ₹30 lakh
    This follows the Quranic rules of inheritance that form part of Muslim personal law.

    If there is only one daughter and no son, she generally receives one-half of the estate. If there are two or more daughters and no sons, they generally share two-thirds of the estate equally. The remainder, where applicable, passes to other eligible heirs under Muslim inheritance rules.

    Wife's share

    If the husband dies:
    leaving children, the wife receives 1/8 of the estate.
    If there are no children,
    the wife receives 1/4.
    If there is more than one wife, that share is divided among them.
     
     
    Mother's share
    Generally:
    If the deceased leaves children, the mother receives 1/6.
    If there are no children (and subject to the presence of other heirs), she may receive 1/3.
     
    মুসলিম মেয়েদের অবস্থা তাহলে হিন্দু মেয়েদের চেয়ে ভালো কিছু ছিল না ১৯৫৬ র পর থেকে। অথচ রঞ্জনদার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে উল্টোটা।
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ১০:৩৭741395
  • "The remainder, where applicable, passes to other eligible heirs under Muslim inheritance rules."
     
    এই other eligible heirs এরা কারা?
     
     
  • hu | ২৬ জুন ২০২৬ ১২:১০741396
  • অন্য কোনো আত্মীয় - উদাহরণ : মৃত ব্যক্তির ভাই
     
    আমি কিন্তু আইন বিষয়ে খুবই অজ্ঞ। রঞ্জনদা যা লিখেছেন তার সাথে আমার নিজের চোখে দেখা ঘটনা মিলল না বলেই খটকা লাগলো। এসব বিষয়ে ভালো জানেন এমন কেউ একটা নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ লিখলে ভালো হয়।
     
    আমি যেটুকু পড়লাম তাতে দেখছি মুসলিম মেয়েদের অবস্থা হিন্দু মেয়েদের থেকে অনেকটাই খারাপ ছিল ১৯৫৬-র পর থেকে। সেটা স্পষ্ট ভাবে স্বীকার না করলে তো অবস্থার পরিবর্তন আসবে না। তাতে পিতৃতন্ত্র ছাড়া আর কার লাভ?
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ১৩:০৭741397
  • একজ‍্যাক্টলি! এটা আমিও দেখেছি আমার মুসলমান বান্ধবীদের মধ্যে। একটা প্রপার্টিকে এত বেশি ভগ্নাংশে ভাঙা হয় এবং মেয়েরা সবচেয়ে কম অংশ পায়, পুত্রের অর্ধেক। বিধবাও কম পায়। এটা নিয়ে কথা বললে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হবে কেন? একজন মুসলিম মহিলাও তো ইকুয়াল শেয়ার পাচ্ছেন না। তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন কারণ তিনি এই আইনের আওতায় আছেন।
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ১৩:১৭741398
  • Under Indian Muslim Law, the surviving wife receives a fixed 1/4 share of the property if there are no children, or a 1/8 share if they had children. The brother is a "residuary" and gets the remaining property(either 3/4 or 7/8). [1, 2, 3, 4, 5]
    The exact breakdown follows these principles:
    • Surviving Wife's Share: She is a primary "sharer." She is never completely excluded from inheritance.
      • She gets 1/4 of the estate if the deceased left no children.
      • She gets 1/8 of the estate if the deceased left children or grandchildren. [1, 2, 3]
    • Brother's Share: The brother is considered a "residuary" heir.
      • After the wife’s fixed share is distributed, the brother gets the entire remainder of the property.
      • Note: If there is more than one brother (e.g., a brother and a sister), they will share the remaining portion together based on the specific rules of the sect (Shia vs. Sunni). [1, 2, 3, 4, 5]

    Before any property is divided, funeral expenses and any outstanding debts of the deceased must be paid. Additionally, if the deceased leaves behind a parent (a mother or father) or children, it will significantly change these proportions. [1, 2, 3, 4]
    Could you tell me if the deceased also left behind any children, parents, or other siblings? Knowing this will help determine if other heirs are entitled to a share.
  • Ranjan Roy | ২৬ জুন ২০২৬ ১৬:১৬741399
  • হু
    আর একবার দেখুন।
     
    কোথাও বলি নি যে ১৯৫৬ সালের পর থেকে বা আজও সম্পত্তির ভাগাভাগিতে মুসলিম মেয়েরা হিন্দু মেয়েদের থেকে এগিয়ে।
     
    আমি যা বলেছিঃ
    হিন্দু আইনে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকারঃ
    ১ প্রাচীন কালে হিন্দু স্মৃতি শাস্ত্রমতে (মনু, পরাশর, যাজ্ঞবল্ক্য ইত্যাদি) মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার স্বীকৃত ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন সন্তানহীনা নারী বিধবা হলে) বেঁচে থাকা অব্দি ভোগ করার অধিকার ছিল। কিন্তু মালিকানা সত্ত্ব ছিল না।
    ২ হিন্দু কোড বিলে যখন মেয়েদের সম্পত্তিতে অধিকারের কথা নম নম করে বলা হোল, তাতেই শ্যামাপ্রসাদ এবং আরও অনেকে ধর্ম গেল গেল রব তুললেন।
    ৩ তারপরে ক্রমশঃ হিন্দু কোড বিলে বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকা্র, স্টেপ বাই স্টেপ, ছেলেদের সংগে সমান হওয়ার দিকে এগোল। আমি সালগুলোর উল্লেখ করেছি। ২০০৫ থেকেই ভাই বোনের সমানাধিকার স্বীকৃত হোল। ২০২২ সালে সুপ্রীম কোর্টের এক রায়ে বিবাহিত মেয়েরও পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অধিকার স্বীকৃত হোল।
     
    মুসলিম আইনে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকারঃ
    ১ মুসলিম ধর্মশাস্ত্রে গোড়া থেকেই মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার ছিল, যদিও হিন্দু মেয়েদের ছিল না।
    ২ কিন্তু সেই অধিকার কখনই ছেলেদের সমান ছিল না। নানান শর্তাধীন জটিল ভগ্নাংশের হিসেব, কখনই সমান নয়। আর আজও সেই একই ব্যবস্থা চলে আসছে।
     
    সিদ্ধান্তঃ
    ১ প্রাচীন সময়ে ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী হিন্দু মেয়েদের সম্পত্তিতে মালিকানা ছিল না। কিন্তু স্বাধীনতার পর সংশোধন হতে হতে বর্তমানে পৈতৃক সম্পত্তিতে ভাইবোনের সমানাধিকার।
    ২ প্রাচীন সময় থেকেই মুসলিম ধর্মশাস্ত্র অনুসারে মেয়েদের পৈতৃক সম্পত্তিতে অধিকার ছিল। কিন্তু কখনই সমান অধিকার ছিল না। সেই প্রথাই আজও চলে আসছে।
    প্রশ্নঃ এর থেকে কী করে ধারণা হোল যে আমার মতে ১৯৫৬ সালের পর মুসলিম মেয়েরা সম্পত্তির বিষয়ে হিন্দুদের থেকে এগিয়ে আছে?
  • Ranjan Roy | ২৬ জুন ২০২৬ ১৭:১৫741400
  • একটা পয়েন্ট বাদ পড়ে গেছে।
     
    ২০০৫ এর আগে মেয়েদের অধিকার থাকলেও ওরা কর্তা হতে পারত না, এবং জন্মসূত্রে সম্পত্তির অধিকার না পাওয়ায় কর্তা মানে ভাই রাজি না হলে সম্পত্তিতে ওর অংশ বিক্রি করতে পারত না। সেখানে সমান অংশে বাস করতে পারত।
     
    ২০০৫ এর সংশোধনে সেটা দূর হয়েছে। সার্বিক অর্থেই মেয়েরা ছেলেদের (বোনেরা ভাইদের) সমান অধিকারী;হ্যাঁ জন্মসূত্রেই।
     
    ২০০৫ এর আগে হু যা দেখেছেন-- বোনেরা নিজের ভাগ ছেড়ে দিচ্ছে বা দান পত্র লিখে ভাইকে দিচ্ছে-- তা এই কারণে। মেয়েদের অধিকার সমান হলেও সীমিত ছিল। অর্থাৎ ১০৫৬ সালের প্রাথমিক সংশোধনের পরও মেয়েদের অধিকার খানিক কাগজ পত্রেই ছিল।
    কোথাও কোথাও বোনেরা ভাইদের নামে দানপত্র করছে বা নিজেদের অধিকারের দাবি ছেড়ে দিচ্ছে কিছু টাকা নিয়ে। সেটা কোন দলিলে লেখা হয় না।
  • hu | ২৬ জুন ২০২৬ ১৭:২৪741401
  • রঞ্জনদা, আপনি এটা লিখেছিলেন :
     
    "হিন্দু ও মুসলিম কোডে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার

    হিন্দু কোড বিলে আগো মেয়েদের পৈতৃক সম্পত্তিতে কোন অধিকার ছিল না। প্রথমে সংশোধিত হয়ে মেয়েদের বসবাসের অধিকার স্বীকৃত হল, কিন্তু মালিকানা হক নয়। পরে ২০০৫ সালের সংশোধনে ভাই এবং বোনের সমান অধিকার স্বীকৃত হল। তারপর ২০২২ সালের একটি রায়ে সুপ্রীম কোর্ট বললেন যে বিবাহিত মেয়েরাও ভাইয়ের সমান অংশীদার, সমান ভাগ পাবে।[2]"
     
    আজ এটা লিখলেন:
     
    "হিন্দু কোড বিলে বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকা্র, স্টেপ বাই স্টেপ, ছেলেদের সংগে সমান হওয়ার দিকে এগোল। আমি সালগুলোর উল্লেখ করেছি। ২০০৫ থেকেই ভাই বোনের সমানাধিকার স্বীকৃত হোল। ২০২২ সালে সুপ্রীম কোর্টের এক রায়ে বিবাহিত মেয়েরও পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অধিকার স্বীকৃত হোল।"
     
    এদুটো তো এক নয়। প্রথমটিতে ১৯৫৬ সালের সংশোধনের কোনো উল্লেখ নেই। ওটা একটা মেজর রিফর্ম। আপনি যা লিখেছেন তাতে মনে হচ্ছে ২০০৫ সালের আগে পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের বসবাসের অধিকার ছিল শুধু। এর বেশি কিছু ছিল না। চ্যাটজিপিটি যা দিল সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে ১৯৫৬ সালের আইনে বসবাসের অধিকারের চেয়ে অনেকটা বেশিই ছিল। সত্যি বলতে কি আমাদের মত মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরে মা-বাবাদের তো তেমন কিছু সঞ্চয় থাকে না। বড়জোর একটা বাড়ি তাঁরা করে যান। বাবার মৃত্যুর পর সেই বাড়িতে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার ছিল দেখতে পাচ্ছি। এটা তো পুরোনো আইনের ওপর একটা বিরাট মডিফিকেশন। নিখুঁত সমানাধিকার হল না, কিন্তু সমানাধিকারের দিকে অনেকটা এগোনো হল। সেটাকে স্বীকৃতি না দিলে তো মনে হবে আপনি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে চেপে গেলেন।
  • hu | ২৬ জুন ২০২৬ ১৭:৩৭741402
  • "২০০৫ এর আগে মেয়েদের অধিকার থাকলেও ওরা কর্তা হতে পারত না, এবং জন্মসূত্রে সম্পত্তির অধিকার না পাওয়ায় কর্তা মানে ভাই রাজি না হলে সম্পত্তিতে ওর অংশ বিক্রি করতে পারত না। সেখানে সমান অংশে বাস করতে পারত।"
     
    আন্ডারলাইন অংশটা কি সঠিক? যদি সম্পত্তি ভাগাভাগি হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে মেয়েরা বিক্রি করতে পারতো। সম্পত্তি ভাগাভাগি না হয়ে থাকলে ভাইও বোনের সম্মতি ছাড়া বিক্রি করতে পারে না।
  • r2h | ২৬ জুন ২০২৬ ১৮:২৩741403
  • আগেও কিছু প্রশ্ন টশ্ন করেছিলাম, কনভিন্সড হতে পারিনি। এই লেখাটা পড়ে অন্তত ইউসিসি কেন খারাপ- তা বুঝতে পারিনি। বরং মনে হচ্ছে ভালোই তো।
    জন্ম মৃত্যু বিয়ের পঞ্জীকরণ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, দত্তক বিষয়ক আইন- সবার জন্য একরকমই হওয়া উচিত, এবং ধর্মীয় অনুশাসন- সে মনুই হোক কি শরীয়া, অপ্রাসঙ্গিক হওয়া উচিত।

    বিজেপির হাতে ইউসিসি হলে বড় বড় ঝুঁকি অবশ্যই আছে, যেমন আইন সংশোধন হতে হতে মনুবাদী নিয়ম কানুন চেপে বসা, হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্তান, ঐ এক নিশান এক বিধান - কী যেন সব, ঐগুলি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উচিত অধিকারগুলি ইউনিফর্মিটির অছিলায় হাওয়া হয়ে যাওয়া। সেসব বিজেপির দর্শন ও তাদের কাজকর্মের ইতিহাস বিচার করে নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

    কিন্তু পয়েন্ট ধরে বিচার করতে গেলে, এই লেখাটা পড়ে আমার বরং মনে হল ইউসিসি তো ভালোই। আমারই যখন এমন অবস্থা, যারা এটাকে সমর্থন করছে অলরেডি বা একটু হেলে আছে, তারা তো উদ্বাহু হবে।
  • r2h | ২৬ জুন ২০২৬ ১৮:৩৪741404
  • একটা খুব বড় প্রশ্ন যেমন- ইউসিসি সত্যিই ইউনিফর্ম কিনা। আসাম ও উত্তরাখণ্ডে যেমন জনজাতি সম্প্রদায় ইউসিসির আওতার বাইরে।

    তার থেকেতার থেকে আন্দাজ করে নেওয়া যায় যে ইউসিসির লক্ষ্য মুসলমানরা। তার মানে ইউনিফর্ম আসলে ঠিক ইউনিফর্ম না।
  • r2h | ২৬ জুন ২০২৬ ১৮:৫২741405
    • বিবেচক | ২২ ডিসেম্বর ২০২২ ১৩:১৩
    • ... ওদের তৈরি করে দেওয়া বিতর্কের প্রেমিসেই আমাদের যাবতীয় তর্ক বিতর্ক আবদ্ধ থেকে যাচ্ছে।
     
    দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটাই হচ্ছে আরকি। এর থেকে মুক্তির সন্ধানও দেখা যাচ্ছে না।
  • | ২৬ জুন ২০২৬ ১৯:০৮741406
  • উত্তরাখণ্ডের ইউসিসিতে তো লিভ - ইন কেও ঢুকিয়ে দিয়েছে। সে নিয়ে অনেক তর্ক আছে, প্রাইভেসি নিয়ে, ব্যক্তিমানুষের এজেন্সি নিয়ে। লিভ - ইন করা শুরু করলে ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি করাতে হবে, না করলে কেস খাবে, ফাইন বা জেল, অর্থাত ব্যাপারটাকে ক্রিমিনালাইজ করা, ঐ ৩০ দিনের বেসিসে, এবং বিয়ের থেকে যে ঐ সম্পর্ক চরিত্রগতভাবে আলাদা, সেটাই অস্বীকার করা। ব্যাপারটাকে বিয়ের মত একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছে, ইভেন এমন ডিক্লারেশনও দিতে হয় যে তরা সাধরণভাবে বিয়ে করতেই পারত, এবং এই জানানোটিও কোন ধর্মগুরু বা সমাজের মাথার থেকে আনতে হয়। বোঝাই যায় যে যাতে লিভ - ইন না হয়, সমাজ সুরক্ষিত থাকে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু সব জানালেও যে তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হবে সেও নয়, রেজিস্ট্রারের ওপর নির্ভর করে তাদের সম্পর্ক সায় পাবে কিনা এবং পুলিশটুলিশও যুক্ত হয় পড়ে। মনে হয় স্টেট কর্ত্রিক বেডরুমে উঁকি মারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব নিয়ে অনেক লেখাপত্তর আছে। তো উত্তরাখন্ডের ইউসিসি নিয়ে পড়েটড়ে মনে হয়েছিল স্টেটের বা কমিউনিটির নানারকমের ভয় আছে, সেসব এখানে জোড়াতালি দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল, ঐ, হিন্দু - মুসলমান বিয়ে ইত্যাদি দেখিয়ে। ব্যালেন্স করা হয়েছে, প্রোগ্রেসিভ আর রিগ্রেসিভ দুই দিকই রেখে। পঃবঃ এই লিভ - ইন সুদ্ধ পুরোটাই টোকা হবে কিনা জানা নেই। অসমে কী হয়েছে জানি না, তবে চোখে পড়ত ইউসিসি না বলে পলিগামি ল' বলে উল্লেখ করা হত, উদ্দেশ্যটা আর ইংগিতটা স্পষ্ট করে দেওয়া হত। এবং লিভ - ইন নিয়ে এত কর্গাকড়ি তো এইজন্যও যে হিন্দু - মুসলমান লিভ - ইন যাতে আঁটকানো যায়, ঐ যে জেহাদ থেকে মেয়েদের বাঁচাতে হবে সেটাই মনে হয় ঢুকে আছে।

    তো, সমাজ আর রাশ্ট্রের এত সব ভয় ইত্যাদি, সমাজের নানারকমের স্তরবিন্যাস, শ্রেণী - জাত - ধর্ম সব মিলিয়ে, কোন ইউনিফর্ম আইন দিয়ে ধরা যাবে, এ দেশে ? সেই জন্যই সারা দেশ জুড়ে এই আইন আনা হয় না, ফেটে যাবে সেই আইন বানাতে, তাই ভোটের লাগি রাজ্যে রাজ্যে।
  • | ২৬ জুন ২০২৬ ১৯:১৩741407
  • মানে, বুঝতে পারছেন তো, ভিন জাতে বিয়ে করতে গেলে খুন হয় যায়, তো লিভ - ইন করতে গেলেও সেও হবে না, সুযোগই পাবে না। তো এইটি হল প্রোগ্রেসিভিটির আড়ালে রিগ্রেসিভিটি, ধর্মভিত্তিক 'ওরা' কেন ভাল আইন মেনে নেবে না, এই কথা বলে, জাতভিত্তিক ক্রাইসিস বা কনফ্লিক্ট চাপা দেওয়ার চেষ্টা। এবং পুরো ব্যাপারটাকে বিবাহের মত sanctity ময় একটি পরিস্থিতি তৈরী করে। ঐ পাত থে ডিম তুলে নেওয়ার সাথে তুলনীয়, অকল সম্পর্ক হবে স্টেট নির্ধারিত নিরামিষ। এগুলো তো একটু বুঝতে হবে সবাইকে।
  • | ২৬ জুন ২০২৬ ১৯:৩৯741409
  • অসমের আইনে লিভ - ইন রেজিসট্রেশনের ব্যাপারটা আছে। তাহলে পঃবঃ এও নিশ্চয় থাকবে। কিন্তু গোয়ার আইনের কিন্তু সেটা নেই ! স্বাভাবিক, সেখানে তো সবই খোলামেলা, সেরকম দ্গাএঅণা। আবার গুজরাটের আইনের হয়ত থাকবে। আদিবাসীদের মধ্যে গেলে এসব হয়ত করা যাবে না। তাহলে ইউনিফর্মিটিটা কোথায়, শুধু ওদের ৪ টে বিয়ে বন্ধ করাতে ? ডিরেক্টিভ প্রিন্সিপালে বলা ছিল বলে, সেই নির্দেশকে এখন বিভিন্ন স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    অরণ্যবাবুর একটা কমেন্ট আছে যে খণ্ড খণ্ড করে ব্যাপারটা বুঝতে চান। সেসব বোঝা দুষ্কর, এ দেশের প্রেক্ষিতে, সেই জন্য বিজেপি নিজের মত করে আইন সাজায়। ইউসিসি হলে তো ভালঈ, পিতৃতন্ত্র হার মানল, ওসব প্রোগ্রেসিভিটি দেখিয়ে ঠিকই ঐ তন্ত্র নিজের ব্যবস্থা করে নেয়। রাষ্ট্রই ব্যবস্থা করে দেয়।

     
  • | ২৬ জুন ২০২৬ ১৯:৪০741410
  • ** সেখানে তো সবই খোলামেলা, সেরকমই ধারণা।
  • Ranjan Roy | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:০৯741411
  • হু
    আপনি ঠিক জায়গাটা ধরেছেন। শর্টকাটে লিখতে গিয়ে ভুল হয়েছে--মেনে নিচ্ছি।
    এবার পরিষ্কার করছিঃ হিন্দু কোড বিল ১৯৫৬ কী করল আর কী করেনি।
     
    ১ আসলে স্থাবর সম্পত্তি দু'রকম-- পৈতৃক অর্থাৎ যেটা বাবা তাঁর নিজস্ব আয়ে তৈরি করেছেন ; এবং ancestral property -- উত্তরাধিকার সূত্রে সন্তানের বাবার প্রাপ্ত 'পারিবারিক সম্পত্তি'।
     
    ২ ১৯৫৬ সালের কোড মেয়েদের-- বিবাহিত, অবিবাহিত এবং বিধবা মেয়েদের পিতার সম্পত্তিতে (পিতার স্বোপার্জিত) ছেলের সংগে সমান অধিকার দিল (জন্মসূত্রে নয়, পিতা উইল না করে মারা গেলে)। সেই সম্পত্তিতে নিজের অংশ মেয়ে দান বা বিক্রি বা ভোগ --সবই করতে পারবে।
     
    কিন্তু পারিবারিক সম্পত্তিতে সমান অধিকার দিল না। এমনকি বিধবা মেয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করলে পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকারও হারাবে।
     
    ২০০৫ সালের সংশোধন মেয়েদের সত্যিকারের সমানাধিকার দিল। অর্থাৎ মেয়ে পৈত্রিক ও পারিবারিক--দু'ধরণের সম্পত্তিতেই ছেলের সমান অধিকার পাবে--জন্মসূত্রে by birth. আগের মত পিতার মৃত্যুতে নয়। অর্থাৎ এখন মেয়ে সংযুক্ত হিন্দু পরিবারে ছেলেদের সংগে coparcenary মানে এজমালি সম্পত্তির শরিক হল।
     
    আশা করি, কুয়াশা কেটে গেছে।
    এর জন্য হু'কে আন্তরিক ধন্যবাদ।
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:১৩741412
  • "বিধবা মেয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করলে পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকারও হারাবে।"
    এটা কী কেস?
    তথ্যসূত্র চাই।
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:১৭741413
  • বিয়ের মিনিমাম এজ কত বিভিন্ন সিবিল কোডে?
    ডিভোর্সে অ‍্যালিমনি না দেন মোহর?
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:১৯741414
  • একাধিক স্ত্রী থাকলে পাসপোর্টে কোন স্ত্রীর নাম থাকবে/থাকতো?
    ভাবাবেগে আঘাত লাগতো না?
  • Ranjan Roy | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:২১741415
  • এই জন্যেই আমি কী খাব, কার সংগে থাকব, কীভাবে থাকব--এব্যাপারে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নাপসন্দ।
     
    হুতো
    এখানে ভ্যালিড পয়েন্ট হল --"অনেক কথা যাও যে বলে কোন কথা না বলি"!
     
    অনেক আগে লিখেছিলাম-- সি এ এ আলাদা করে বিশুদ্ধ লিগ্যালিস্ট চোখে দেখলে মনে হবে--কী ভালো! ধর্মের জন্য দেশছাড়া নিপীড়িত মানুষদের নাগরিকতা দেওয়া, আশ্রয় দেয়া-- ঠাকুর ভালো করবেন।
    কিন্তু সি এ এ খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যাবে যা বলা হয় নি সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
    তাই এই মানবিকতার ছোঁয়া শ্রীলংকা থেকে তাড়া খেয়ে আসা তামিল হিন্দুরা পাবে না। আফগানিস্তান বা পাকিস্তান থেকে ব্লাসফেমি আইনে গলা দেওয়ার ভয়ে পালিয়ে আসা বিভিন্ন মাইনরিটি মুসলিম সম্প্রদায় পাবে না।
     
    ইউ সি সি ঠিক তাই।
    ভারতে চাই-- এক কেন্দ্র, এক ভাষা, এক ধর্ম, এক নির্বাচন। একই সিভিল কোড।
     
    অরণ্য
     
    এমনকি ১৯৫৬ সালের হিন্দু কোড পাস করাতে কত কাঠখড় পোহাতে হয়েছিল দেখবেন। আম্বেদকরকে রিজাইন করতে হয়। এবং রিফর্মের পক্ষে বিভিন্ন হিন্দু মহিলা সংগঠন আওয়াজ তোলে।
    এভাবেই সমলিঙ্গে বিবাহ আইনী স্বীকৃতি পায়। কয়েক দশকের আন্দোলনের পর।
    তার আগে জেলে যেতে হত।
  • r2h | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:২৯741416
    • Ranjan Roy | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:২১
    • ... ভ্যালিড পয়েন্ট হল --"অনেক কথা যাও যে বলে কোন কথা না বলি"!...
     
    রঞ্জনদা, হ্যাঁ, বিজেপি দেশ ও দশ, বৈচিত্র, সাম্য ইত্যাদির খাতিরে কিছু করে না আমি জানি। আমার বক্তব্য হল মূল লেখার পরিসর থেকে সেটা বোঝা যাচ্ছে না, বরং মনে হচ্ছে বেশ, ভালৈ তো সবাই সমান হবে।
     
    • | ২৬ জুন ২০২৬ ১৯:০৮
    • উত্তরাখণ্ডের ইউসিসিতে তো লিভ - ইন কেও ঢুকিয়ে দিয়েছে। সে নিয়ে অনেক তর্ক আছে, প্রাইভেসি নিয়ে, ব্যক্তিমানুষের এজেন্সি নিয়ে। লিভ - ইন করা শুরু করলে ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি করাতে হবে, না করলে কেস খাবে, ... স্টেট কর্ত্রিক বেডরুমে উঁকি মারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব নিয়ে অনেক লেখাপত্তর আছে। ... জেহাদ থেকে মেয়েদের বাঁচাতে হবে সেটাই মনে হয় ঢুকে আছে।
     
    ক, হ্যাঁ, সেটাই, ইউনিফর্ম আসলে ইউনিফর্ম না, রাজ্যে রাজ্যে আলাদা হলে ইউনিফর্ম কিসে হল, আর ব্যক্তি পরিসরে হস্তক্ষেপ ইত্যাদি।
    তবে আইপিসি গিয়ে ন্যয় সংহিতা চলে এসেছে নট উইথ আ ব্যাং বাট আ হুইম্পার, তো, খুব কিছু আশা আর দেখি না। যাঁরা এখনও লড়ে যাচ্ছেন, বলে যাচ্ছে, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার শেষ নেই।
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:৪১741417
  • বিধবা মেয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করলে পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকারও হারাবে।"
    এটা কী কেস?
    তথ্যসূত্র চাই।
     
    এটার উত্তর পেলাম না। এটা কি আন্দাজে?
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:৪৪741418
  • Under Indian Hindu law, a daughter's marital or widow status does not strip her of her right to her father's property. Whether she remarries or not, she remains a legal heir and is equally entitled to an equal share of her father's assets. [1, 2]
    Key Legal Protections
    • Equal Status: Under the Hindu Succession Act, a daughter is considered a Class I legal heir, giving her the exact same rights to inherit her father's property as a son. [1, 2]
    • Irrelevance of Marriage: A daughter's marital status—whether she is married, unmarried, divorced, or a widow—does not impact her right to inherit. [1, 2]
    • Remarriage: The Hindu Succession Act does not contain provisions disinheriting a woman for remarrying. In fact, courts have firmly established that this modern succession law overrides older, outdated colonial laws (like the Hindu Widows' Remarriage Act of 1856) that previously attempted to enforce property forfeiture upon remarriage. [1, 2, 3]

    Crucial Exception: Date of Death
    Your claim to the property is tied to the date your father passed away: [1, 2]
    • If he died after September 9, 2005: The Hindu Succession (Amendment) Act applies. You are guaranteed an equal share alongside your siblings, regardless of when you were married.
    • If he died prior to 1956: Strict, older traditional property laws apply, which can be highly complex and may favor male heirs. [1, 2, 3, 4]
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:৪৬741420
  • "
    কিন্তু পারিবারিক সম্পত্তিতে সমান অধিকার দিল না।এমনকি বিধবা মেয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করলে পৈত্রিক সম্পত্তির অধিকারও হারাবে।

    ২০০৫ সালের সংশোধন মেয়েদের সত্যিকারের সমানাধিকার দিল। অর্থাৎ মেয়ে পৈত্রিক ও পারিবারিক--দু'ধরণের সম্পত্তিতেই ছেলের সমান অধিকার পাবে--জন্মসূত্রে by birth. আগের মত পিতার মৃত্যুতে নয়। অর্থাৎ এখন মেয়ে সংযুক্ত হিন্দু পরিবারে ছেলেদের সংগে coparcenary মানে এজমালি সম্পত্তির শরিক হল।"
     
    বিধবা মেয়ের দ্বিতীয় বিবাহের গল্পটা ঠিক নয়।
  • Ranjan Roy | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:৪৭741421
  • তথ্যসূত্র;
    cjp.org.in/the evolution of women's property rights under hindu succession act.
     
    এ নিয়ে গোটা তিনেক ভালো আইনের বই আছে l
    বাহুল্য বোধে উল্লেখ করলাম না l
  • . | ২৬ জুন ২০২৬ ২০:৫৩741422
  • না এটা ঠিক না।
    আমি ওপরে বাহুল্যবোধ না করেই সঠিক উত্তরটা লেপে দিয়েছি।
    গোটা বই পড়ব কেন? ঠিক জায়গাটা পোস্ট করে দিতেই পারতেন। কিন্তু তথ‍্যাটাই তো ভুল।
  • Ranjan Roy | ২৬ জুন ২০২৬ ২১:১৩741424
  • আমার পোস্ট ফের দেখুন: কথাটা 2005 এর সংশোধন নিয়ে নয় l
    1956 উত্তরাধিকার আইন নিয়ে l
    2005 সংশোধন সমস্ত বিন্দুতে মেয়েদের समानाधिकार দিল l
    1956 এর अपूर्णता শুধরে দিল l
     
    বিধবা কেস টা গল্প নয় l তথ্য সুত্র দিয়েছি l 1956 এ কী কী হয়েছে की হয় নি-- দেখে নিন l
  • Ranjan Roy | ২৬ জুন ২০২৬ ২২:৪৪741426
  • উপরের সিটিজেন্স ফর সোশ্যাল জাস্টিসের পাতা থেকে উদ্ধৃত করা অংশ বিশেষের শেষ বোল্ড করা লাইনটি দেখুন-- ১৯৫৬ সালের সংশোধনের সীমাবদ্ধতা বিষয়ে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন