এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  প্রবন্ধ

  • শুধু, একমুঠো নুনের জন্য ......

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    প্রবন্ধ | ১০ জুন ২০২৬ | ৪৪৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • শুধু, একমুঠো নুনের জন্য ......

    বছর কয়েক আগের কথা। হাওড়া থেকে চলতে শুরু করা আমাদের যন্ত্র শকটটি ইস্পাতের বাঁধা পথ ধরে গড়াতে গড়াতে একেবারে ভোররাতে এসে থেমেছে চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে। সঙ্গে বিস্তর লটবহর, তার ওপর একেবারেই অচেনা নতুন জায়গা। লোকজনের ব্যস্ত ভিড়, কুলিদের হাকডাক, ঠেলাঠেলি - সবকিছু সামলে নিয়ে স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে আসি। সঙ্গে কন্যা। যাবে পুদুচেরি। উচ্চতর পাঠ নিতে। বাপ বেটিকে দেখে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসে অনেক মানুষ – কেউ অটোরিকশা চালক, কেউবা প্রাইভেট গাড়িচালক। সকলেই ব্যস্ত স‌ওয়ারি ধরতে। দেশের দক্ষিণে এলে মন খুলে কথা বলার ক্ষেত্রে ভাষা একটা বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। খানিকক্ষণ মূকাভিনয় করার পর জট ছাড়ানো গেল। বাপ বেটি দুজনে সমস্বরে কোয়াম্বাডু বাসস্ট্যান্ড যাবো বলাতে বেশ সুবিধা হয়। চেনা শব্দবন্ধের যাদুই যে এমন। খানিক সময় দরাদরি করে শেষমেশ এক অটোরিকশায় উঠে পড়ি দুজনে। ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছাড়ল।
     
    কোয়াম্বাডু থেকে আমরা পুদুচেরী যাবার বাস ধরবো। সুবিশাল বাসস্ট্যান্ড। সামান্য খোঁজাখুঁজি করে নির্দিষ্ট বাসে উঠে পড়ি। কন্ডাক্টরের সহযোগী মানুষটি বেশ যত্ন করে আমাদের মালপত্র বাসের খোলে ঢুকিয়ে দেন। আমরা স্বস্তিতে গদিয়ান হ‌ই। বাসের চাকা সচল হয়। খিড়কি গলে আমাদের নজর তখন বাইরের দৃশ্যপট নয়নবন্দি করতে শুরু করেছে।
     
    বাস মামাল্লাপুরম ছাড়তেই বাইরের ছবিটা বেমালুম বদলে যায়। দূরে সমুদ্রের উপস্থিতির আভাস মেলে। অগভীর জলা জমির ওপর ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধবধবে সাদা রঙের ছোট ছোট টিলা সহজেই নজর পড়ে – ওগুলো সব নুনের টিলা। সমুদ্রের জলকে উপকূলের অপেক্ষাকৃত উঁচু অংশে তুলে এনে ছোটো ছোটো আল বাঁধা জমিতে জমা করা হয়। সেই জল সূর্যের তাপে বাষ্পীভূত হলে, জলের সঙ্গে মিশে থাকা লবণ জমিতে বিছানো প্লাস্টিকের চাদরের ওপর থিতিয়ে পড়ে। সেই থিতিয়ে পড়া লবণকে পরিশোধন করার পর আমরা পাই ভক্ষ্য লবণ। কাজটা মোটেই সহজসাধ্য নয়, বরং অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। বর্ষার মাসগুলোকে‌ বাদ দিয়ে বাকি মাসগুলোতে চলে লবণ তৈরির কাজ। লবণ রোজকার খাবার পাতের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। লবণ ছাড়া আমাদের এক মুহুর্ত চলে না, অথচ এই সূক্ষ্ম দানাদার উপাদানটিকে আমাদের পাত অবধি পৌঁছে দেবার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের শ্রম, ঘাম,রক্ত,বঞ্চনা আর কান্না।
     
    কচ্ছের রন অঞ্চল – ভারতের বৃহত্তম লবণ উৎপাদন ক্ষেত্র। গুজরাটি শব্দ রন্ এবং সিন্ধ্রি শব্দ রিন্ – দুটির‌ই ব্যুৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ইরিন্ থেকে যার অর্থ হলো লবণাক্ত জলে ভরা অনুর্বর জমি। ঋগ্বেদ ও মহাভারতে এই সুবিস্তৃত জলাভূমির উল্লেখ পাওয়া যায়। অবস্থানগতভাবে উত্তরের বৃহৎ ভারতীয় মরুভূমি বা থর মরুভূমির দক্ষিণ সীমান্ত বরাবর অবস্থান করছে এই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অঞ্চলটি।
     
    গুজরাটের কচ্ছ জেলার প্রায় ২৬০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে রন্ অঞ্চলটি। বৃষ্টিহীন এই শুষ্ক অঞ্চলটিকে বিশেষজ্ঞরা পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ লবণাক্ত মরুভূমি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। গোটা এলাকাটিকে আবার দুটি অংশে ভাগ করা হয়েছে - বৃহৎ রন্ এর পরিসর ১০০০০বর্গ কিলোমিটার এবং প্রায় ৫০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বিশিষ্ট ক্ষুদ্র রন্ অঞ্চল। এই ক্ষুদ্র রনের লবণাক্ত জলাভূমিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ভারতের সবথেকে বড়ো লবণ উৎপাদক অঞ্চল। 
     
    রন্ অঞ্চলের উৎপত্তির ইতিহাস‌ও কম বৈচিত্র্যময় নয়। এই কাহিনির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘমেয়াদি ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন, জটিল ও প্রবল ভূকম্পনের ঘটনা এবং বদলে যাওয়া জলবায়ুর এক আশ্চর্য ইতিবৃত্ত। গবেষকরা জানিয়েছেন যে এক সময় বাণিজ্যপথ হিসেবে এই বৃহৎ ভূখণ্ডটিকে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা নিছকই একটি অনুর্বর বন্ধ্যা ভূমিতে পরিণত হয়েছে। জোয়ারের সময় ঢুকে পড়া সমুদ্রের লবণাক্ত জলকে ধরে রেখে তা থেকে উৎপাদন করা হয় আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লবণ। ভক্ষ্য লবণ সোডিয়াম ক্লোরাইডের পাশাপাশি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় আরও বেশ কিছু লবণের অন্যতম জোগানদার এই এলাকাটি। জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আরব সাগরের জোয়ারের জল গোটা রন্ অঞ্চলের সুবিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তার সাথে যুক্ত হয় বৃষ্টির জল। সেপ্টেম্বর মাসের পর দ্রুত জল নেমে যায়, গ্রীষ্মের চড়া রোদে জল বাষ্পীভূত হলে জলের দ্রবীভূত লবণ থিতিয়ে পড়ে। লবণের সূক্ষ্ম কেলাসের কণায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। এরপরের অংশটুকুতেই জড়িয়ে আছে এই এলাকার আবাসিক মানুষদের ঘাম রক্ত আর কঠোর কৃচ্ছতার কাহিনি।
     
    লবণের কথাই যখন এলো তখন ভারতবাসী হিসেবে পরাধীন ভারতে বিখ্যাত লবণ সত্যাগ্রহের কথা বিস্মৃত হ‌ই কী করে? ১৯৩০ সালে দমনমূলক বৃটিশ লবণ নীতির প্রতিবাদে গান্ধীজির নেতৃত্বে ৭৮ জন সত্যাগ্রহী পথযাত্রী এক ঐতিহাসিক পদযাত্রায় অংশ গ্রহণ করলেন। এক চিমটি লবণ ছাড়া যে খাবার মুখে রুচবেনা, অথচ তাকে নিয়েই এই অহেতুক আইন – ভারতীয়রা লবণ তৈরি করতে পারবে না। তাঁদের বৃটিশ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই লবণ কিনতে হবে। গর্জে উঠলেন গান্ধীজী। তিনি স্বয়ং প্রতিবাদে মুখর হলেন। সামিল হলেন এক প্রতিবাদী পদযাত্রায়।
     
    সবরমতী আশ্রম থেকে নভসারি বা ডান্ডি পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁরা পৌঁছলেন ডান্ডিতে। সেখানেই সমুদ্রের জল থেকে তৈরি করা হলো লবণ, ইংরেজ সরকারের ফরমানকে অস্বীকার করে। লবণের অধিকার ফিরে পাবার এই আন্দোলন পরবর্তী কালের বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল ; আর ঐতিহাসিক এই পদযাত্রা ইতিহাসে স্থায়ী আসন পেল ডান্ডি পদযাত্রা হিসেবে। প্রতিদিনের খাবার পাতে এক চিমটি লবণ পাওয়া যে আমাদের সকলের অধিকার, এই আন্দোলন তাকেই প্রতিষ্ঠিত করলো।
     
    এ বছর রোদ ভীষণ চড়া! এর মাঝেই কাজ করতে হয় লবণ তৈরির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের। কাজের চাপ এতোটাই যে ঘরে ঢুকে একটুখানি সময় জিরিয়ে নেবার জো নেই। বর্ষার আগে আগেই জমে থাকা লবণের বোঝা খালাস করতে না পারলে, পুরোটাই বরবাদ হয়ে যাবে। এমন গরমের দাপটকে এড়িয়ে কাজ করাই যে অসাধ্য। অথচ তাকে অস্বীকার করার উপায়ও যে নেই। তাই গরমের মধ্যেই মুখ বুজে কাজ করে যাওয়াটাই যেন দস্তুর। গুজরাটের এই বিজন এলাকায় আট মাস ধরে লাগাতার হাড়ভাঙা খাটুনির পর্ব চলে প্রায় ৫০০০০ আবাসিক শ্রমজীবী মানুষের। একেক সময় মনে হয় এ যেন দেশের বাইরের এক এলাকা – ইলেক্ট্রিসিটি নেই, স্বাস্থ্য সুরক্ষার ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা নেই,প্রখর রোদে শুকিয়ে যাওয়া গলায় দু ঢোঁক জল ঢালতে গেলেও মানুষগুলোকে প্রতিপদে ভাবতে হয় মিঠা জলের গাড়ি আসার পঁচিশ দিন পূর্ণ হতে আর কতদিন বাকি? জমানো জল যে বাড়ন্ত! লিটিল রনের তাপমাত্রা এখন‌ই ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমান্ত ছাড়িয়ে গেছে। পারদ চড়তে চড়তে শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আগাম আঁচ করা যে স্বয়ং বরুন দেবের পক্ষেও অসাধ্য।
     
     এ কেমন বৈপরীত্য! যে উষ্ণতাকে গায়ে মেখে দু দণ্ড তিষ্টনো দায় তাই হলো লবণ তৈরির জন্য একেবারেই আদর্শ। আর এই বিশেষ সুবিধার দৌলতে, গুজরাত রাজ্য দেশের তিন চতুর্থাংশ লবণ উৎপাদন করে। সূর্য ওঠার আগে থেকেই কাজ শুরু করতে হয়। দুপুরে খানিকক্ষণ বিরতি। আবার সূর্য দেব অস্ত গেলে জমিতে নেমে পড়া। নেহাৎ দেশের একেবারে পশ্চিমা এলাকা,তাই সূর্যাস্তের পরেও কাজ চালিয়ে যাবার মতো আলো মেলে। এই সুযোগটুকুই তাদের কাছে পরম আশীর্বাদের মতো মনে হয়।
     
    রোদ জ্বলা দিনের হাত থেকে একটু স্বস্তির জন্য নিজেরাই অবশ্য তৈরি করে নিয়েছে কতগুলো অস্থায়ী আস্তানা। চারটে খুঁটির ওপর মোটা, হাতে বোনা কাপড়ের এক চিলতে ছাউনি, গাধার মলের সঙ্গে মাটি মিশিয়ে গড়া হয় চারপাশের দেওয়াল –খানিকক্ষণ বিশ্রামের পক্ষে অবশ্য এগুলো একদম আদর্শ আস্তানা। বাইরের চাঁদি ফাটা রোদ্দুরে এটাকেই মনে হয় বাতানুকুল আবাস। এভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলছে ক্ষণিক স্বস্তি লাভের প্রচেষ্টা। ভাবনা, কাঞ্চন, পুর্নিমা কিংবা বাবুলালদের কাছে এটুকুই যে পরম পাওয়া। এর বেশি যে ওদের চাওয়ার নেই। 
     
    রৌদ্র দগ্ধ, লবণাক্ত মরুভূমি প্রায় এই জমিতে সবুজের প্রবেশের কোনো অধিকার নেই। থাকলে হয়তো অন্য এক স্বস্তি মিললেও মিলতে পারতো। সাদা লবণের চাদর থেকে ঠিকরে ওঠা আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেলেও যে নিস্তার নেই মানুষগুলোর। গরম থেকে বাঁচতে নিজেরাই কতক উপায় বেছে নিয়েছে – ভিজে মোটা কাপড়ে মোড়া জলের বোতলকে দড়ি দিয়ে বেঁধে সামনে ঝুলিয়ে রাখে। বাষ্পীভূত জলের ঠান্ডা আমেজ থেকে স্বস্তি বোধ করতে। এরফলে জলটাও বেশ ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কেউবা লিকার চা বানিয়ে পান করে যাতে খানিকটা গরমের অনুভূতি কম হয়, শরীরে বাড়তি স্ফূর্তি আসে।
     
    প্রাকৃতিক উপায়ে লবণাক্ত জল থেকে প্রয়োজনীয় লবণ তৈরির কাজটিও যে সহজে সেরে ফেলা যায় তেমন নয়। পাম্প চালিয়ে নোনা জল জমিতে ঢোকানো, তাকে রোদের তাপ আর বাতাসের স্পর্শে শুকিয়ে নেওয়া। লবণের কেলাসগুলোকে নেড়েচেড়ে সমানভাবে তৈরি হতে দেওয়া, তারপর সেই কেলাসিত উপকরণকে ঠিকমতো গুছিয়ে ছোট ছোট টিলার আকার দেওয়া। এরপর তাকে গাড়িতে করে কারখানায় পৌঁছনো – কাজ তো নেহাত কম নয়। আর এর সবটুকুই করতে হয় খোলা আকাশের নিচে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে। এই বছর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী তাপ প্রবাহের দাপট আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে, যার অর্থ আমাদের সবার পাতে এক চিমটি লবণ পৌঁছে দিতে আরও অনেক অনেক ঘাম ঝরাতে হবে রনের লবণ তৈরির মেহনতী শ্রমিকদের। 
     
    কিছুদিন আগে পর্যন্ত ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের সাহায্যে সমুদ্রের জল তুলে জমিতে ফেলা হতো। এখন সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে পাম্প চালিয়ে জল তোলা হয়। এরফলে খরচে সাশ্রয় হয়, পোড়া ডিজেলের গন্ধে বাতাস ভারী হয়না তবে এখন শ্রমিকদের কাজ করতে হয় অনেকটা বাড়তি সময় ধরে। বর্ষা আগমনে আর খুব বেশি দেরি নেই,তাই এখন নোনা জমির ফসল ঘরে তুলতে সকলের ব্যস্ততা একেবারে তুঙ্গে।
     
    একটানা ছয় মাসের‌ও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ প্রাণহর একটা পরিবেশে কাজ করার ফলে শ্রমিকদের শরীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই উপেক্ষিত থেকে যায়। বিরামহীনভাবে কাজের ফলে শরীরে বাসা বাঁধে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা, নানারকম প্রাণঘাতী রোগ। এসবের পরিণতিতে অকালে ঝরে যায় কত তরতাজা প্রাণ।
     
    সমীক্ষা সূত্রে জানা গেছে যে শ্রমিকরা ডিহাইড্রেশন, হিট স্ট্রেস্ থেকে শুরু করে কিডনির কার্যকারিতার সমস্যায় আক্রান্ত হয়। জ্বর হলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ছাড়া অন্য কোনো ওষুধের পরিষেবা পায়না এখানকার শ্রমিকরা। দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘন লবণের দ্রবণের মধ্যে থেকে কাজ করার ফলে শরীরের চামড়া শক্ত হয়ে গিয়ে ফেটে যায়, রক্ত বেরিয়ে আসে। আমাদের দেশে কর্মক্ষেত্রে তাপের সহনশীলতার সর্বোচ্চ মান বেঁধে দেবার ব্যবস্থা নেই, অর্থাৎ তাপমাত্রা কতটা হলে তা শ্রমিকদের শরীর স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে তার কোনো আইনি বিধিনিষেধ নেই। এই ফাঁকটাকে কাজে লাগিয়ে অনেক সময়ই শ্রমিকদের অসহনীয় পরিবেশে কাজ করতে হয়। এক চিমটে নুন আমাদের খাবার পাতে তুলে দিতে গিয়ে এমন‌ই লড়াই করতে হয় লবণ ভাঁটির শ্রমিকদের। এ জীবন নিঃশেষে ক্ষয়ে যাওয়া মানুষের।
     সকলের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে বেদনা বিধুর একদল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবন। দিন বদলে যায় কিন্তু এই মানুষগুলোর জীবন বদলায় না।

    অবস্থা দিনদিন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে অনেক সময় আকস্মিক আবহিক বিপর্যয়ের ফলে এই শিল্পের অস্তিত্বের সংকট বাড়ছে। হঠাৎ করে নেমে আসা বৃষ্টি বা ঝড়ের ফলে খোলা মাঠে জমিয়ে রাখা লবণ নষ্ট হয়ে গেলে লোকসানের মুখে পড়তে হয়, যার ঝাপটা এসে পড়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে। এই অনিশ্চয়তাকে সম্বল করেই বেঁচে থাকতে হয় দেশের লবণ শ্রমিকদের। প্রশ্ন করা হয়েছিল – এতো কষ্ট সয়ে আপনারা এই কাজ করেন কেন? অন্য কিছু করতে পারেন না? প্রশ্ন শুনে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে মানুষগুলো। বেশ কিছুটা সময় পরে শান্ত গলায় উত্তর দেয় – আমরা কাজ ছেড়ে দিলে আপনাদের খাবার যে বিস্বাদ লাগবে। আপনারা কি তাই চান? এবার নির্বাক হবার পালা আমাদের।
     
     
    নুন  উৎপাদনের ছবি দেখুন
     https://thedoctorsdialogue.com/just-for-a-handful-of-salt/
     
    সোমনাথ মুখোপাধ্যায়।
    মে ২৪, ২০২৬
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • প্রবন্ধ | ১০ জুন ২০২৬ | ৪৪৭ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    শাকিরা - Srimallar
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Ranjan Roy | ১০ জুন ২০২৬ ২০:২৬741135
  • সোমনাথ
    কী বলবো আপনাকে?
    এই লেখাটা আমাকে হতবাক করেছে llikhben
    কিছুই জানতাম না l
    ভেবেছিলাম নুন তৈরি করার শারীরিক পরিশ্রমের দিন गाँधीजीর সঙ্গে अतीत হয়ে গেছে l
     
    আপনার দরদী মন। তাই এরকম লেখা আরও লিখবেন সেই আশায় আছি l
  • Somnath mukhopadhyay | ১০ জুন ২০২৬ ২০:৫৯741136
  • রঞ্জন দা নমস্কার নেবেন। বিষয়টি অনেক দিন ধরেই ইচ্ছে হয়ে মনের মাঝারে ছিল। গরম বাড়তেই ওই মানুষদের কথা লিখে ফেলার তাগিদ নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। দুয়ে দুয়ে চার হতে যেটুকু সময় লাগে আর কি। খুব খুব ভালো থাকবেন দাদা।
  • আশীষ | ১০ জুন ২০২৬ ২১:৩১741138
  • আমাদের রাজ্যে কি এক চিমটি নুন উৎপাদন হয় না?
    দঃ ভারত ঘুরে কচ্ছের রনে যাওয়ার কি সত্যিই দরকার ছিল?
  • অরিন্দম | ১১ জুন ২০২৬ ০৫:৫২741147
  • আশীষ, আপনি নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের রাজ‍্যে কাঁথিতে salt pan রয়েছে এবং বহু শতাব্দী ধরে বাংলায় নুন প্রস্তুত হয়, তবে বাংলার নুন তৈরী গুজরাটের মত শুধু রোদে শুকিয়ে করা হত না, শুকানোর পর জল ফুটিয়ে নুন বার করা হত (পাঙ্গা), মলঙ্গীরা এই কাজটি করতেন। এই industry ইংরেজ নষ্ট করে।

    পশ্চিমবঙ্গের কাঁথিতে এখনো নুন উৎপাদন হয়, ম্যাপ দেখুন

    https://www.nrsc.gov.in/nrscnew/assets/pdf/atlas/Salt%20Atlas/SaltPanAtlasofIndia_NRSC_Website.pdf

    বাংলায়ও লবণ সত্যাগ্রহ হয়েছিল, আমরা অবশ‍্য ‍লবণ সত‍্যাগ্রহ বলতে গান্ধীকেই বুঝি, যাইহোক বাংলায় তার ইতিহাস

    https://www.ijfmr.com/papers/2025/5/57759.pdf

    যা বলছিলাম, মলঙ্গীদের নুন উৎপাদন করা ও তাকে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী কীভাবে নষ্ট করে দেখুন

    https://grokipedia.com/page/malangi-system
     
  • সৌমেন রায় | ১১ জুন ২০২৬ ০৭:৫৭741149
  • আমাদের নির্বাক হওয়ার পালা। শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা দিলে নুনের দাম বাড়বে নিশ্চিতরূপে। তখন আমরা নির্বাক কি থাকব ? মনে হয় না।
  • Somnath mukhopadhyay | ১১ জুন ২০২৬ ২২:০২741156
  • আমার মতো এক সামান্য কলমচির হাত গড়িয়ে পড়া এক চিমটি লবণ গোটা আলোচনাকে এমন স্বাদু করে তুলবে তা আগে ভাবিনি। শরীরে প্রখর রোদের তাপ সয়ে যে মানুষগুলো আমাদের প্রতিদিনের খাবারকে এমন স্বাদু, গ্রহণীয় করে তোলে তাঁদের অমানুষিক জীবনের কথা তুলে ধরাই ছিল এই নিবন্ধের একমাত্র উদ্দেশ্য। পৃথিবীর যে কোনো অঞ্চলের লবণ চাষীদের কথা বলিনা কেন এই কষ্টের কথা না বললে তা পূর্ণতা পাবে না।
    এখানে যাঁরা মতামত জানিয়েছেন, তাঁদের সকলকেই নমস্কার জানাই। মন্থনের কাজ চলছে চলুক পুরোদমে।
     
     
     
  • DrSouravM | ১২ জুন ২০২৬ ১৭:২৭741164
  • This is a great article thank you for writing it. Imagining the plight of those thousands of people working there gives pain.
    P.S.
    That politician though took advantage of the then sociopolitical situation for what we don't know. History says it was for the country and History always tells lies.
  • সুমিত মুখোপাধ্যায় | ১২ জুন ২০২৬ ১৮:৫৯741165
  • কচ্ছের আগারীয়া সম্প্রদায়ের দুরাবস্থা তুলে ধরার জন্যে লেখককে ধন্যবাদ। অন্যতম 'উন্নত' রাজ্য গুজরাটে ঐ মানুষগুলোর আর্থ সামাজিক অবস্থা একটা চরম বৈপরীত্যে প্রকাশ করে।
  • #+: | ১২ জুন ২০২৬ ২০:১৯741166
  • এমন নিবন্ধ লেখার জন্য এক সংবেদনশীল মনের প্রয়োজন হয় আর দরকার অন্তর্দৃষ্টি। সৌভাগ্যক্রমে এই দুটিই লেখকের মধ্যে মজুদ।তাই তাঁর এই নিবন্ধ মন ছুঁয়ে যায়। অনেক ধন্যবাদ জানাই তাঁকে।
  • Somnath mukhopadhyay | ১২ জুন ২০২৬ ২৩:৩৯741171
  • @ সৌরভ
    এক অসহনীয় প্রাকৃতিক পরিস্থিতির মধ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মানুষদের লড়াইয়ের প্রতি আপনি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।
     
    @ সুমিত মুখোপাধ্যায়
    আগারীয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরা পারিবারিক বৃত্তি সূত্রে লবণ তৈরি করছেন। এ বছরের তাপদাহের কথা মাথায় রেখেই তাঁদের কথকতা শোনাতে এই নিবন্ধের অবতারণা। পড়ে ভালো লাগার কৃতিত্ব ওই মানুষদের। আমি সেখানে নিমিত্ত মাত্র। আর প্রদীপের নিচেই তো অন্ধকারের আস্তানা।
     
    @ #+:
    ধন্যবাদ জানাই মতামত জানানোর জন্য। লেখাকে উত্তীর্ণ করতে সংবেদনশীল পাঠকের‌ও খুব প্রয়োজন।
  • পৌলমী | ১৩ জুন ২০২৬ ২২:০৯741184
  • লেখাটা পড়তে পড়তে মনে হলো সশরীরে হাজির হয়েছি রনের উষ্ণ ঊষর মরুভূমিতে। খুব প্রাঞ্জল ভাষায় সবকিছুর ছবি এঁকেছেন লেখক। কয়েকটা ছবি জুড়লে দারুন হতো। এমন নিবন্ধ আরও চাই।
  • শর্মিষ্ঠা লাহিড়ী | ১৪ জুন ২০২৬ ১৭:৪৬741205
  • সামান্য এক চিমটি লবণের উৎপাদনের পিছনে মানুষের এই ধরনের পরিশ্রমের কাহিনী জানতে পেরে নুনের মূল্য অনুভব করতে পারলাম।
  • Somnath mukhopadhyay | ১৪ জুন ২০২৬ ১৯:২৭741209
  • যাঁরা যাঁরা নুন খেয়েছেন ( পড়েছেন) তাঁদের তো লেখার গুণ গাইতেই হবে। পৌলমী ও শর্মিষ্ঠা - দুজনকেই ধন্যবাদ।
  • অভ্রদীপ | ১৪ জুন ২০২৬ ১৯:৩৬741210
  • ভারতীয় লবণ উৎপাদক শ্রমিকদের জীবন সম্পর্কে এই সবিস্তার মর্মস্পর্শী লেখা থেকে অনেক কিছুই জানতে পারলাম। আরও সমৃদ্ধ হলাম কমেন্টগুলো পড়ে। আবারও নাড়া দিয়ে গেলো স্বদেশীয় শ্রমিকদের অবহেলিত সুরক্ষার বিষয়টা। কেবল লবণ উৎপাদন না, সর্বক্ষেত্রেই। কয়েকটা উন্নত দেশে সীমিত ভ্রমণের সূত্রে দেখেছি কী পরিমাণ গুরুত্ব আরোপ করা হয় শ্রমিকদের সুরক্ষায়। সেখানে আমরা শত যোজন পিছিয়ে। এমনিতেই আমাদের দেশে শ্রম সস্তা। অন্তত শ্রমিকের জীবনের তো মূল্য দেওয়া হোক!
  • Somnath mukhopadhyay | ১৫ জুন ২০২৬ ২১:৫৭741253
  • @ অভ্রদীপ
    লেখা নিয়ে মন্থনের এই হলো মজা। যত আলোচনা করা হবে তত তা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। নুনের উৎপাদন এক অত্যন্ত শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম দেখাটা নিয়ে। যাইহোক একটা খাড়া করা গেছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন