
আজকের দিন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সরকার ঠিক কতটা ভীতসন্ত্রস্ত। রাষ্ট্র যতই পুলিশের হোক না কেন, দেশ জনসাধারণের। আর তাঁরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা আছেন দীপকে, নেহাদের সঙ্গেই। তাই আমি নিশ্চিত, এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবেই। শেষের শুরু হয়ে গেছে। ... ...

বিহারে প্রথম দফায় প্রায় ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ যায়। খেয়াল করার, এদের মধ্যে ৬০% মহিলা এবং প্রায় ২৫% মুসলিম। এইখানে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে এই সংশোধনে বাদ পড়ার হার কিছু গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বেশি। একটা যুক্তি আসতে পারে সামাজিক এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা লোকের কাছে যথাক্সথ তথ্য এবং পরিচিতির প্রমাণপ্ত্র নেই। প্রমানপত্র হিসাবে কী গ্রাহ্য হবে তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনামার উপর বারবার কোর্টকে হস্তক্ষেপও করতে হয়। ... ...

কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুঝতে-যুঝতে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান গরিব মানুষরা হঠাৎই কেবলমাত্র বাংলাভাষী মুসলমান হওয়ার কারণেই এক ভয়ঙ্কর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কবলে পড়েছেন এ রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী সরকার কায়েম হওয়ার পর থেকে। সুতি ব্লকের কিছু গ্রাম ঘুরে এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের যে নিদর্শন আমরা চাক্ষুষ করেছি এবার তার কথায় আসি। ... ...
আমরা দেখছি এই শতাংশটি এই ভোটে প্রায় কোথাওই সেইভাবে বেড়ে যাচ্ছে না। বড়োজোর এক থাকছে বা এক শতাংশ বাড়ছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কমছে, কিছু ক্ষেত্রে খুবই কমছে। কমে যাওয়ার সাধারণভাবে কারণ এস আই আরে বিদ্যমান বাসিন্দাদের নাম বাদ যাওয়া, যাদের নাম আগের ভোটে লিস্টে ছিল। ... ...
জনগণনা ২০১১ এর পরে আর হয় নি। অনেকেই মনে করেন রাজ্যে তৃণমূল আসার পরে ব্যাপক ভাবে অবৈধ ভোটার ঢোকানো হয়েছে। তাই আমি ২০১১ থেকে ২০১৬ এর মধ্যে বিধানসভা আসনে ভোটার বৃদ্ধির হারের সঙ্গে এসআইআরে নাম ডিলিটের একটি আন্তঃসম্পর্ক দেখার চেষ্টা করলাম। মনে রাখতে হবে, ভোটার সংখ্যা নানান স্বাভাবিক কারণে বাড়তে পারে। ... ...
এইবার আমরা সামশেরগঞ্জে এস আই আরে কতজনের নাম কাটা গেছে, দ্বিতীয় পর্বে বা লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সিজনিত বিচারের পর্বে, তা খেয়াল করি। সংখ্যাটা হল- ৭৪০০০ এর কিছু বেশি। এর ফলে, এই বিধানসভায় বর্তমানে ৪৯ হাজার হিন্দু এবং ১ লক্ষ বারো হাজার মুসলিম হয়েছে। এই সংখ্যাটি ২২শে এপ্রিলের টেলিগ্রাফ কাগজ থেকে গৃহীত। লক্ষ্য করবার যে যদি মুসলমান ভোট কংগ্রেস ও তৃণমূলে আড়াআড়ি ভাগ হয় এবং বিজেপি সমস্ত হিন্দুর ভোট পায়, তাহলেও এই আসনে সরল পাটগণিতের নিয়মে বিজেপির জয় হচ্ছে না। ... ...

মনোজ আগরওয়াল, যিনি নির্বাচন কমিশনের বাংলার সিইও, তিনি প্রাথমিকভাবে বললেন তাঁর কাছে নাকি তথ্যই নেই কত মানুষ বিচারাধীন অবস্থা থেকে মুক্তি পেলেন। পরে অবশ্য একটা গোল গোল হিসেব দিলেন, যা দেখে মনে হচ্ছে ঐ ৬০ লক্ষ মানুষের বেশীরভাগ মানুষের নামই বাদ যেতে চলেছে। আগের বাদ যাওয়া এবং শেষে বিচারাধীন অবস্থা থেকে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা যদি হিসেব করা যায় তাহলে ২০২৪ সাল থেকে প্রায় ১ কোটি মানুষের নাম বাদ যেতে চলেছে, যা ভারতের নির্বাচনী গণতন্ত্রের জন্য একটা কালো দাগ ছাড়া কিছু নয়। ... ...