
আমার ঐশ্বরিক মাহাত্ম্য তুমি লক্ষ করো, অর্জুন, আমার আত্মা থেকেই এই সকল ভূতের সৃষ্টি, আমার আত্মাই এই ভূতের ধারক, কিন্তু আমার আত্মা এই ভূতগণের মধ্যে অবস্থান করেন না। ... ...

মহর্ষি ভৃগু নটীবিদ্যুল্লতার মাথায় হাত রাখলেন, বললেন, “ওভাবে, নিজেকে ছোট করিস না, মা। তোর এইটুকু শঠতা, তোর নিজের স্বার্থে নয়; পুরো এই রাজ্যবাসীর মঙ্গলের জন্যে। বহু মানুষ আছে, যারা শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের জন্যে সারাজীবন শঠতা করে চলেছে। ... ...

হে নরশ্রেষ্ঠ অর্জুন, বিনাশশীল সমস্ত পদার্থই অধিভূত, পরমপুরুষ ব্রহ্ম অধিদেবতা, আর আমিই এই দেহে অবস্থিত অধিযজ্ঞ। ... ...

আলো আমাকে আর আনন্দে উদ্ভাসিত করতে পারে না। আলো আমার এই নির্মম পরিণতির উন্মোচন করে। আমি আলো চাই না, অন্ধকারের মধ্যে আমাকে আত্মগোপন করতে দে। ... ...

এই জগতের সবার ঊর্ধ্বে কোন চেতনা কখন এবং কেন ঈশ্বর হয়ে ওঠেন - তারই রহস্য উন্মোচনের সূচনা এই পর্বে। ... ...

নীতির বিরুদ্ধে নীতিগত লড়াইটা জরুরি হতে পারে, কিন্তু নীতিহীনতার বিরুদ্ধে নীতিহীন হলে, আমাদের বিবেকের দংশন হলেও, অনৈতিক হয়তো হয় না। ... ...

যুদ্ধ করাও এক সম্যক কর্ম - ধ্যান কর্মও বটে। ... ...

সন্ন্যাস নেওয়া মানেই পরগাছা হয়ে নির্দায়-বিন্দাস জীবন কাটানো যাবে? সে গুড়ে বালি - গীতায় ভগবান বলছেন, সন্ন্যাস নিয়েও দায়িত্ব সহ নিষ্কাম কর্ম করে যেতেই হবে। ... ...

তোমার জন্ম অনেক পরে আর সূর্যের জন্ম তোমার অনেক আগে। কাজেই সৃষ্টির শুরুতে তুমি সূর্যকে কর্মযোগের কথা শুনিয়েছিলে, তা কী করে জানব? ... ...

"... তোমার বিচার আসলে নিজের স্বার্থরক্ষা। তুমি দুর্বলের উপর অত্যাচারী এবং সবলের অনুগত। তুমি বিলক্ষণ জানো নটী বিদ্যুল্লতা যে রাজার পালিতা কন্যা ও যে রাজ্যের নাগরিকা, তার কিছু হলে, তাঁরা তোমার রাজত্ব বিপন্ন করে তুলবেন। আর সেই কারণেই তুমি এই দুশ্চরিত্রা নটীকে রক্ষা করবে, আর দুশ্চরিত্রা নয় বুঝেও তুমি দুর্বল ব্রাহ্মণকন্যার কোন বিচার করবে না ... ...

দুই পাশে যুযুধান দুই পক্ষ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে, এই বুঝি যুদ্ধ শুরু হয় হয় ! কিন্তু দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে, শ্রীকৃষ্ণ আগের পর্বে সাংখ্যযোগ বুঝিয়েছিলেন অর্জুনকে, আর এই পর্বে বোঝাচ্ছেন কর্মযোগ। কী হবে এসব বুঝে? ... ...

বিষয়-কামনা ছাড়া গড়ে ওঠে আমাদের অস্তিত্বসংকট, কিন্তু বিষয়-কামনা ঠিক কখন বিষ হয়ে ওঠে - বিষাক্ত করে তোলে আমাদের ভাবনা-চিন্তা-জীবনযাত্রা... ... ...

নিজের আচার্য, পিতামহ, জ্যেঠতুতো দাদা ও ভাইদের এবং আরও বহু আত্মীয়-বন্ধুকে যে যুদ্ধে হত্যা করতে হবে - সে যুদ্ধের পরিণতির কথা চিন্তা করেছেন অর্জুন। তিনি বিষণ্ণ হয়েছেন, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েছেন, হতাশায় আচ্ছন্ন হয়েছেন। ... ...

দেবীও প্রসন্ন আননে কল্পতরুর মতোই পূর্ণ করলেন সকলের অভিলাষ (না করে উপায়ই বা কি - মর্তের মানুষ মনোমত বরাশীর্বাদ না পেলে দেবীর পুজোই বন্ধ হয়ে যাবে যে)। আগামী নির্বাচনে ভোট মিলবে না একটিও। ... ...

সেনাপতিদের মৃত্যুতে দুই অসুর ভাই শুম্ভ ও নিশুম্ভ ভয়ানক রাগে জ্বলে উঠল, তারা ঠিক করল এবার নিজেরাই যাবে দেবীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে। প্রথমে এল নিশুম্ভ...দুই ভাই কিন্তু একসঙ্গে এল না - কেন কে জানে? হয়তো জানে পুরাণকার এবং অসুর ভ্রাতৃদ্বয়। সে যাই হোক দুই ভাই কি পারল, দেবীকে পরাস্ত করতে? ... ...

দেবীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে শুম্ভ-নিশুম্ভের দূতের মাথা গরম হয়ে গেল। সে ফিরে গিয়ে প্রভুদের কাছে দেবীর স্পর্ধিত উত্তর নিবেদন করতেই ক্রোধে উন্মাদ হয়ে উঠল দুই অসুর ভাই। তারা একে একে তাদের মহাবীর সেনাপতিদের পাঠাল দেবীকে জোর করে ধরে আনার জন্যে - যেমন ধূম্রলোচন, চণ্ডমুণ্ড, রক্তবীজ । দেবী কি সামলাতে পেরেছিলেন এই মহাবীর অসুর সেনাপতিদের প্রবল পরাক্রম? ... ...

কিন্তু অন্যদিকে আরেক বিপদ উপস্থিত হল স্বয়ং দেবীর কাছেই! শুম্ভ-নিশুম্ভ নামে প্রবল-পরাক্রমী দুই অসুর ভাই দেবী দুর্গার কাছে দূত পাঠাল - তাদের দুজনের কোন এক ভাইকে পতিরূপে বরণ করতেই হবে আদ্যাশক্তি মহামায়াকে এবং দূতের কথায় রাজি না হলে দেবীকে চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবে শুম্ভ ও নিশুম্ভ। দেবী এখন কী করবেন? দূতের কথায় রাজি হবেন নাকি দূতকে কড়া কথায় তাড়িয়ে দিয়ে বলবেন - তোর প্রভু মুখপোড়া ওই অসুরের বাচ্চা দুটোকে বলে দিস...আমিও "ঈশানী পাড়ার নন্দিন.."। ... ...



চলছে পিতৃপক্ষ - আগামী রবিবার মহালয়া - দেবীপক্ষের শুরু। মহালয়া মানেই ওই দিন ভোরের চণ্ডীপাঠ - সেই চণ্ডী নিয়েই শুরু হচ্ছে আজকের আলোচনা। ... ...