
ক্ষর ও অক্ষর এই দুইধরনের পুরুষ জগতে প্রসিদ্ধ। বিনাশী বিকার থেকে উৎপন্ন সমস্ত ভূতকে ক্ষর পুরুষ এবং কূটস্থ নির্বিকার পুরুষকে অক্ষর বলে। এই দুই পুরুষ ছাড়া আরেক জন শ্রেষ্ঠ পুরুষ আছেন, তিনিই পুরুষোত্তম নামে অভিহিত হন। ভূঃ, ভুবঃ আর স্বঃ -এই তিন ভুবনের মধ্যে অবস্থান ক’রে, তিনিই অব্যয় ঈশ্বররূপে সকলকে পালন করেন। [ক্ষর কথার অর্থ যার ক্ষরণ বা ক্ষয় হয় - অর্থাৎ বিনাশী, নশ্বর। আর অক্ষর হল তার বিপরীত, অর্থাৎ অবিনাশী, অব্যয়, অবিনশ্বর] ... ...

আপনিও কি রাজা বেণের প্রভাবে অধর্মে বিশ্বাসী হলেন? আপনি বৃদ্ধ, আপনি প্রজ্ঞাবান্ - আপনি কি জানেন না, ঈশ্বরের অবতারকেও আবাহন করে আনতে হয়? আর্তজনের আগ্রহেই তিনি ধরিত্রীতে অবতীর্ণ হন। ভক্তদের আন্তরিক ও একনিষ্ঠ আরাধনায় বিচলিত হয়েই তিনি এর আগেও এসেছেন, - চরম বিপন্ন সাহায্যপ্রার্থী দেবতা এবং নরকুলকে রক্ষা করতে! ... ...

হে কুন্তীপুত্র অর্জুন, দেব, পিতৃ, মানুষ, পশু ইত্যাদি যে কোন যোনিতেই যে দেহ জন্ম নিক না কেন, মহৎব্রহ্ম প্রকৃতি তাদের মাতা আর আমিই চৈতন্যস্বরূপ বীজপ্রদ পিতা। ... ...

মহর্ষি ভৃগু ভললেন, “এই মন্ত্রণা কক্ষে আসার পথে মহামন্ত্রী বিমোহনভদ্রর মুখে একটি বার্তা শুনলাম! এই রাজ্যে অনেকের বিশ্বাস রাজাবেণের এই অসুস্থতার কারণ, বিষপ্রয়োগ এবং আমিই সেই বিষপ্রয়োগের ষড়যন্ত্রী! তখন শুনে মনে ক্ষোভের উদ্রেক হয়েছিল, কিন্তু...”। ... ...

[দেহ হল কার্য; দশ ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি, মন ও প্রাণ হল করণ। জীব দেহধারণের সঙ্গে সঙ্গে ভূত ও বিষয় গ্রহণ করে। একই সঙ্গে করণের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সুখ, দুঃখ ইত্যাদি প্রকৃতিজাত মোহ। পুরুষ তার চেতনা দিয়ে ভোগ করে সুখদুঃখ, শোকতাপ ইত্যাদি মোহ। প্রকৃতির কার্যকরণের কর্তৃত্বে আর ভোক্তা পুরুষের চেতনার সংযোগে গড়ে ওঠে এই সংসার।] ... ...

রাজমাতা স্বয়ং আমাকে সবিশেষ অনুরোধ করেছেন। রাজ্য শাসনের এই গুরু দায়িত্ব থেকে তিনি অব্যাহতি চেয়েছেন। সমস্ত মাতৃহৃদয় দিয়ে, তিনি পুত্রের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। ... ...

যে ব্যক্তি অন্য কারো উদ্বেগের কারণ হন না এবং নিজেও কোন কারণেই উদ্বিগ্ন হন না। সকল আনন্দ, অমর্ষ, ভয় এবং উদ্বেগ থেকে মুক্ত যাঁর মন, তিনিও আমার অত্যন্ত প্রিয়। [অভিলাষের বস্তু না পাওয়ার যে দুঃখ, তাকেই বলে অমর্ষ।] ... ...

তবে কি ফাঁস হয়ে গেছে মহর্ষি ভৃগুর সব ষড়যন্ত্র? ... ...

"পতঙ্গ যেমন মরবার জন্যেই জ্বলন্ত আগুনের দিকে প্রবল বেগে দৌড়ে যায়, সেইরকম এই লোকগুলিও মৃত্যুর কারণেই আপনার মুখ গহ্বরের দিকে তীব্রগতিতে ধাবমান"। ... ...

"...আমার কাছে এই বর্ণবিচার জরুরি নয়। শূদ্র হয়েও সে যদি যোগ্য হয়, আমি সাগ্রহে তাকে রাজার সম্মান দিতে প্রস্তুত। আমি তাকে বলেছি, তার সমস্ত অতীত তাকে ভুলতে হবে। তার গ্রাম, পিতামাতা, আত্মীয় পরিজন সকলকেই ত্যাগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে এই বর্ণভেদের পিছুটান তার থাকবে না, সে হবে একক, মৌলিক এবং স্বয়ম্ভূ। সে এখন যাই হোক, সফল রাজার যোগ্যতায় সে ক্ষত্রিয়ত্ব অর্জন করবে। আমার কাছে সেটাই বড়ো কথা" ... ...

আমার জন্ম নেই, আমি অনাদি এবং সর্বলোকের আমিই ঈশ্বর, এই তত্ত্ব যিনি জানেন, তিনি এই পৃথিবীর সমস্ত মোহ ত্যাগ করে, সমস্ত পাপ থেকেই মুক্ত হন। ... ...

আমার ঐশ্বরিক মাহাত্ম্য তুমি লক্ষ করো, অর্জুন, আমার আত্মা থেকেই এই সকল ভূতের সৃষ্টি, আমার আত্মাই এই ভূতের ধারক, কিন্তু আমার আত্মা এই ভূতগণের মধ্যে অবস্থান করেন না। ... ...

মহর্ষি ভৃগু নটীবিদ্যুল্লতার মাথায় হাত রাখলেন, বললেন, “ওভাবে, নিজেকে ছোট করিস না, মা। তোর এইটুকু শঠতা, তোর নিজের স্বার্থে নয়; পুরো এই রাজ্যবাসীর মঙ্গলের জন্যে। বহু মানুষ আছে, যারা শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের জন্যে সারাজীবন শঠতা করে চলেছে। ... ...

হে নরশ্রেষ্ঠ অর্জুন, বিনাশশীল সমস্ত পদার্থই অধিভূত, পরমপুরুষ ব্রহ্ম অধিদেবতা, আর আমিই এই দেহে অবস্থিত অধিযজ্ঞ। ... ...

আলো আমাকে আর আনন্দে উদ্ভাসিত করতে পারে না। আলো আমার এই নির্মম পরিণতির উন্মোচন করে। আমি আলো চাই না, অন্ধকারের মধ্যে আমাকে আত্মগোপন করতে দে। ... ...

এই জগতের সবার ঊর্ধ্বে কোন চেতনা কখন এবং কেন ঈশ্বর হয়ে ওঠেন - তারই রহস্য উন্মোচনের সূচনা এই পর্বে। ... ...

নীতির বিরুদ্ধে নীতিগত লড়াইটা জরুরি হতে পারে, কিন্তু নীতিহীনতার বিরুদ্ধে নীতিহীন হলে, আমাদের বিবেকের দংশন হলেও, অনৈতিক হয়তো হয় না। ... ...

যুদ্ধ করাও এক সম্যক কর্ম - ধ্যান কর্মও বটে। ... ...

সন্ন্যাস নেওয়া মানেই পরগাছা হয়ে নির্দায়-বিন্দাস জীবন কাটানো যাবে? সে গুড়ে বালি - গীতায় ভগবান বলছেন, সন্ন্যাস নিয়েও দায়িত্ব সহ নিষ্কাম কর্ম করে যেতেই হবে। ... ...

তোমার জন্ম অনেক পরে আর সূর্যের জন্ম তোমার অনেক আগে। কাজেই সৃষ্টির শুরুতে তুমি সূর্যকে কর্মযোগের কথা শুনিয়েছিলে, তা কী করে জানব? ... ...