এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মৃত শহরের পথে

    Somnath লেখকের গ্রাহক হোন
    ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৭৯ বার পঠিত
  • | | | | ৫ (শেষ)
    প্রত্নতাত্ত্বিক অবশেষের মত হয়ে থেকে গেছে এই বাড়িগুলো। পিছন ফিরে বাড়িগুলোর দিকে বারবার তাকাতে তাকাতে গলি থেকে বেরিয়ে এল সে। বাস স্ট্যান্ডের ঠিক উল্টোদিকের গলিটাই নয় হয়তো, পাশে আরও কোনও গলি তো থাকতে পারে। সেইটাই হয়তো থার্ড লেন, সেখানে আরও একটা ২১০ নম্বর বাড়ি আছে। ফেলে আসা গলির ভেতরে আরেকবার তাকিয়ে দেখল, একটা বাড়ির দোতলায় আলো জ্বলছে কি? নাঃ পড়ন্ত সূর্যের আলো ঠিকরে আসছে বাড়িটির জানলা থেকে। গুগল চ্যাটে শমিতার নামের আইকনের দিকে সে এরকমই তাকিয়ে থাকত, সবুজ বাতি কি জ্বলে উঠল সেখানে? সারারাত হয়তো সে জেগেই কাটিয়ে দিতো যতক্ষণ না মাঝরাতে ফোনে এস এম এস ঢুকত- আজ আর নেটে ঢুকতেই পারছি না, কানেকশন খুব খারাপ। নাবিলা আফরোজের চিঠিতে নিশ্চয়ই একটা ঠিকানা লেখা ছিল, বাড়ির নম্বরটা জানা যেত সেটা দেখলে। কত পুরোনো চিঠি, কিন্তু নাম যখন পড়তে পেরেছিল, ঠিকানাও পড়া যেত। আবার ঐ বাড়িটা খুঁজে দেখে আসলে হয়। গলির মধ্যে তাহলে আরেকবার ঢুকতে হবে তাকে। তখনই সে দেখল দূর থেকে একটা গাড়ি আসছে। বিকেলের কমে আসা আলোয় হেডলাইট জ্বলতে দেখা যাচ্ছে।

    গাড়িটা সত্যিই এলো তার কাছে, পুলিশের গাড়ি। তারা খবর পেয়েছে কোনও আগন্তুক মার্টিন নগরে ঢুকেছে, তাকে খুঁজতে এসেছে। পুলিশ প্রথমে তার নাম ঠিকানা জানতে চাইল, আধার কার্ড দেখল। সে বলল- এক পুরোনো বন্ধু, অনেকদিন ধরে যোগাযোগ করতে চাইছিল যার সঙ্গে, অবশেষে ডেকে পাঠিয়েছে। কিন্তু সে বাড়িটা লোকেট করতে পারছে না ঠিকানা থেকে। অফিসার বললেন, কীভাবে ডাকল? সে এস এম এস-টা বের করে দেখাল। অফিসার বললেন, দাঁড়ান নম্বরটা কোথাকার দেখি। কাউকে ফোন করে নম্বরটা বললেন উনি, ডিটেল চাইলেন। বললেন, এখানে এখন কেউই থাকে না। সম্ভবতঃ কিছু ভুল হয়েছে তার। তার বন্ধু হয়তো ভুল করে পুরোনো ঠিকানাটা পাঠিয়ে দিয়েছে। সে আঁতকে উঠল- এরকম যেন না হয়। শমিতা নিশ্চয়ই এখানে আছে, হয়তো অনেকদিন বাড়ির থেকে বেরোয় না, দিনের আলোয় বাইরে আসতে চায়নি এখন। একটু পরে সন্ধে হবে, ওর বাড়িতে আলো জ্বলে উঠবে, সে তখন ঠিক খুঁজে পাবে শমিতাকে। অফিসার বললেন- এখানে এখন কোনও মানুষ থাকে বলে আমরা জানিনা। অনেকদিনই লোকজন কমে আসছিল। ফ্যাক্টরিটা বন্ধ, বাকি ব্যাবসাগুলোও চলছে না, কে থাকবে? তাও বেশ কিছু ফ্যামিলি থেকে গেছিল এখানে। দুম করে মাথা গোঁজার জায়গাটা সবাই ছাড়তে পারেনি। এদিক ওদিক খুচরো কাজ করত। আমাদের কাছে খবর আসত বিভিন্নরকম। আসল ধাক্কাটা এল করোনার সময়ে। একটা মাস সুইসাইড হয়, আপনি দেখেননি? মিডিয়ায় হইচই হয়েছিল তো! ওই লকডাউনের প্রথমদিকের ঘটনা।
     
    সে মনে করতে পারল না, লকডাউনের সময় সে নিজেই ইতালিতে আটকে পড়েছিল বাজে ভাবে। বাংলার খবর সে ফলো করেনি। অফিসার বললেন- এই দিকেই কোনও একটা লেনে, জি এম বাংলোটা ছাড়িয়ে এসে- পরপর কয়েকটা বাড়ি মিলিয়ে একসঙ্গে ২৮ জন। খুব বিচ্ছিরি ব্যাপার। আমি অবশ্য তখন এই থানায় ছিলাম না। তারপর বাকিরাও এই টাউনশিপ ছেড়ে দেয়। লেবাররাও চলে যায় পাশের ব্লক থেকে। আরে, থাকবেই বা কার জন্যে? মালিকের সঙ্গে কেস চলছিল। মালিক মারা গেল, তার ছেলে বালি চুরির মামলায় ফেঁসে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এখন এই টাউনশিপ নিয়ে কোর্ট কিছু রায় দিলে যদি এর একটা হিল্লে হয়। আমরা দেখি অ্যান্টিসোশালরা যেন ডেন না বানায়। কেউ ঢুকেছে খবর পেলে তাই চলে আসি।
     
    ভদ্রলোকের ফোনে পিঁপ পিঁপ করে মেসেজ ঢুকল। পড়ে বললেন- কী নম্বর দিলেন মশাই! এ তো আধার লিংকডই নয়, মানে ইন-অ্যাক্টিভ। আপনি ফেঁসেছেন!

    অফিসার গাড়ির দিকে গেলেন, ড্রাইভারকে ডেকে উনি গাড়িতে উঠে পড়লেন। ড্রাইভার ছেলেটি নেমে বলল- স্যার, এখানে না মাঝেমাঝে লোকজন আসে, তাদের রিপোর্ট ভালো না। দুটো মিসিং কেস আছে জানেন, এখানেই ঢুকেছিল তারা। একজন তো জমির ওয়ারিশনের প্রবলেমে এসেছিল, এখানে আসার আগে থানাতেও এসেছিল, তারপর মিসিং। আমি বলি কি, আপনি ফিরে চলুন আমাদের সঙ্গে। আলাদা করে কোনও অর্ডার নেই, তাই সাহেব কিছু বললেন না আপনাকে, তবে আমার মনে হয় আর কাকেই বা খুঁজবেন- আসুন, গাড়িতে উঠুন।

    সে দেখল ঐ ফেলে আসা গলিতেই একটা বাদামি রঙের বেড়াল রাস্তা পেরিয়ে গেল। শমিতা বেড়াল ভালোবাসত। আর, মানুষ না থাকলে বেড়াল থাকবে কী করে? শমিতা তাহলে আছে, ঐ গলিতেই। হয়তো এখন ঘুমোচ্ছে, একটু পরে জেগে উঠবে। বা কোথাও বাইরে গেছে,অনেক রাত করে ফিরবে, কিম্বা রাত কেটে যাবে বাড়ি ফিরতে ফিরতে। সে বরং অপেক্ষা করুক। থানার ড্রাইভারকে সে বলল- নাঃ, থাক। আরেকটু দেখি খুঁজে-
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | | | | ৫ (শেষ)
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • tutul shree | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:১০742570
  • অদ্ভুদ লাগলো। কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন