এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • মৃত শহরের পথে

    Somnath লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮ বার পঠিত
  • | |
    উল্টোদিকে রাস্তার ওপরই সেই চমৎকার ফোয়ারাটা ছিল। ঐটা যে ফোয়ারাই ছিল, তা এখনও বেশ বোঝা যাচ্ছে। এর চারপাশে সুন্দর করে পাথরের আসন বসানো অনেকগুলো। অর্কুটে শমিতার অ্যালবামে একটা ছবি ছিল, মনে হয় এই পাথরের চেয়ারেই বসা, মায়ের সঙ্গে কোন-আইসক্রিম খাচ্ছে। সে দেখেছিল যে শমিতার চুলের ওপর দিয়ে একটা রৌদ্রের রেখা পড়েছিল সেই ছবিতে, এখনও ওখানে এক চিলতে রোদ এসে পড়েছে বাসস্ট্যান্ডের শেডটার ওপার থেকে, রাস্তা পেরিয়ে। এই ফোয়ারাটা যদি চলমান থাকত, এইখানে শমিতাকে নিয়ে সে আসত। যে জিনিসগুলো এনেছিল তা ওর হাতে দেওয়ার শ্রেষ্ঠ জায়গা ছিল এইটা। উপহার বলতে অবশ্য দামি কিছু সে সঙ্গে আনেনি। একটা বই এনেছে, অভিনন্দনের লেখা। অভিনন্দন তার ছোটোবেলার বন্ধু। তাদের একসঙ্গে অনেক দুষ্টুমি ছিল, যেসবের গল্প সে শমিতার কাছে করেছিল। তখনও অভিনন্দন বিখ্যাত হয়নি, তবে আজ সে নামজাদা লেখক। বন্ধুর লেখা একটা উপন্যাস সে নিয়ে এসেছে আজ শমিতার জন্যে। দূরে দূরে থাকা দুটো ছেলেমেয়ের প্রেম নিয়ে এই উপন্যাস, যদিও মিলনান্তক। আর, এনেছে একটা পেন ড্রাইভ। তাতে সুমনের গান আছে। সুমনের এই অনুষ্ঠানটা বিরাটিতে হয়েছিল, কালচার মোড়ে। সে পকেটে ছোটো টেপ রেকর্ডার লুকিয়ে নিয়ে গিয়ে রেকর্ড করেছিল। এইটার গল্পও শমিতা জানে। কিন্তু গানগুলো তো তখন শোনানো হয়নি। সে একবার এগিয়ে দেখে ঐ আসনটা, যেটায় বসে শমিতার ছবি ছিল। বর্ষার শেওলা শুকিয়ে আছে এখানেও। বসতে গেলে তার আস্তরণ উঠে আসবে হয়তো। অর্কুট উঠে গেছে কবে! শমিতার ফেসবুক প্রোফাইল ছিল, তাও বহুবছর ডিলিটেড। সে অন্য প্রোফাইল থেকে ঘুরে এসে দেখেছে, প্রোফাইলটাই নেই, তাকে ব্লক করে রেখেছে এমন না। শমিতার দাদা সোশাল মিডিয়ায় আসত না, ওর মায়ের একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ছিল। তাতেও ২০১৮-র পর কোনও পোস্ট নেই। সেখানে অবশ্য পোস্ট বলতে ওই গুড মর্নিং, গোলাপ বা পাহাড়ের ছবি থাকত।
    এইখানে আরেকটা ম্যাপবোর্ড আছে, পড়া যাচ্ছে না ভালো, তবে আগের বোর্ডে যা দেখেছিল, এইবার বাঁদিকের রাস্তায় বেঁকে যেতে হবে। ডানদিকে গেলে মার্টিনের মূল ফ্যাক্টরিটা ছিল। সোজা গেলে আরও কিছু অফিস টফিস, ছোটো কারখানাও আছে মনে হয়- শেড দেখা যাচ্ছে দূর থেকে। কোনও লোকজনের চলাফেরাও কি আছে? একটু থমকে দেখবার চেষ্টা করল সে। বাঁদিকের রাস্তার মুখে একটা চার্চ। এই ফ্যাক্টরির শুরুর দিনগুলিতে প্রচুর ইউরোপীয় কর্মচারী ছিলেন। একদম প্রাইম জায়গায় তাঁরা চার্চ বানিয়ে রেখেছিলেন। রবিবার সকালে গমগম করত এই চার্চ। পরেও নিশ্চয়ই বাঙালি খ্রিশ্চানরা এই চার্চে আসতেন, কিংবা অখ্রিস্টান বাকিদের আকৃষ্ট করতে চার্চের দেওয়ালে বাংলায় বাইবেল থেকে যিশুর বাণী লেখা- ‘আমিই জীবন ও পুনরুত্থান‘। একযুগ পরে তার আজ শমিতার সঙ্গে দেখা হবে। শমিতার এই অনুরোধ অলঙ্ঘ্যনীয় হবে তা তারা দুজনেই জানত- আরও একযুগ অপেক্ষা করলেও তা হত। শমিতাকে কেমন লাগবে তার এখন? হিসেব মতন শমিতার বয়স এখন প্রাক-চল্লিশ। তুষারমৌলি পাহাড়চূড়া কিম্বা সূর্যাস্তের সমুদ্র দেখলে, কিম্বা মালভূমির পথে টানা ড্রাইভ করে যেতে যেতে হঠাৎ পলাশের বন চলে এলে- সেই নিঃসঙ্গ সৌন্দর্য একটা ভয় ধরিয়ে দেয় না? তারও কি সেরকম ভয় করবে না শমিতাকে দেখলে? ভয় কি ঢেউয়ের মতন- আলোকতরঙ্গের মতন, ঘটনার একটু আগেই উপকূলে বয়ে আসে?
    বাঁদিকের রাস্তায় বি ব্লকের ঠিকানা। সে কিন্তু তখনই সেদিকে গেল না। উলটো দিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে গেল ফ্যাক্টরির দিকে। এককালে খুব নামডাক ছিল এই ফ্যাক্টরির। কয়েক হাজার লোক কাজ করত। সারাদেশের ভারী গাড়ির সারাইয়ের বাজার নির্ভর করত এই ফ্যাক্টরির ওপর শোনা যায়। মালিক শ্রমিক দ্বন্দ্ব লেগেই ছিল, কিন্তু আরও বড়ো সমস্যা হয় যখন বিদেশ থেকে সরাসরি পার্টসগুলো এখানে আসতে শুরু করে, আমদানি শুল্ক উঠে যাওয়ায় তাদের দাম অনেকটা কম হয়। মালিক চাইছিল অন্য ব্যাবসায় টাকাটা লাগিয়ে দিতে। কারখানা মাঝেমাঝেই লক আউট হতে শুরু করে তখন থেকে। আর, এখন তো সবই শুনশান হয়ে পড়ে আছে। টিনের বেড়ার ওপারে দেখা যাচ্ছে উৎপাদনক্ষেত্র ঢেকে আছে ঘাসে। বিরাট বিরাট ক্রেনের ওপর লতাপাতা ছেয়ে গেছে। এই প্রথম কিছু পাখির ওড়াউড়ি চোখে পড়ল তার। বেড়ার কিছুটা টিনের, তারপর কাঁটাতার, কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে মাটিতে ডাঁই করে রাখা আছে চাটাইয়ে লাগানো পোস্টার, কাগজের ছিন্নাবশেষ এখনও কিছু লেগে আছে তাতে। একটা লম্বা রড আছে, পতাকা টাঙানো হত হয়তো এটায়, দেখলে মনে হবে দুমড়ে ভেঙে দিয়েছিল কেউ। অন্ধকার অন্ধকার ঘরের মধ্যে লেদগুলো ঠহর করা যাচ্ছে দূর থেকে। কতকাল যে এই সব লেদের স্পিন্ডল ঘোরেনি! সে উল্টোমুখে ফিরতে শুরু করে। চারমাথার মোড়টার আগে তার চোখে পড়ে একটা বাড়ি, হেলথ সেন্টার ছিল সেইটা। বাইরে চাকা ফেঁসে যাওয়া একটা অ্যাম্বুলেন্স এখনও দাঁড়িয়ে আছে। অ্যাম্বুলেন্সের পেছন থেকে কেউ ইট ছুঁড়েছিল, পেছনের দরকার কাচটা সেইভাবে ভাঙা। মোড় থেকে সে বি-ব্লকের দিকে হাঁটতে থাকে, চার্চটা পড়েছে তার ডান হাতে, সেখানে দেওয়ালে যিশুর উক্তিরবাকিটা পড়া যাচ্ছে- যে আমাতে বিশ্বাস রাখে সে মৃত্যুর পরেও জীবিত থাকে।
    লকআউটের দিনে শ্রমিক কর্মচারীরা যখন কারখানার গেটে আসত, তাদের পরিবার এইসবে বিশ্বাস রাখত কি? তারা কি বিশ্বাস করত কারখানা আবার খুলে যাবে একদিন? আবার একদিন মাইনের দিনে রাস্তায় পসরা নিয়ে আসবে বাইরের ফিরিওলারা। একটু বেশি মাইনের চাকরি যাদের, তাদের মেয়েরা আবার শপিং কমপ্লেক্সে যাবে নতুন অন্তর্বাস কিনতে, মায়ের সঙ্গে আইসক্রিম হাতে পোজ দেবে অর্কুটের তোলার জন্য। এইসব বিশ্বাস কতদিন টিকে থাকে? তারপর একদিন কফিনের শীতলতা নেমে আসে সেইসব বিশ্বাসের ওপর। একটা কমলা পাথর রাস্তার ধারে গাছতলায়, হনুমানজি নিশ্চয়ই, এইখানে তারা পুজো দিত হয়তো কারখানা খোলার প্রার্থনায়। এখন এক নিঃস্তব্ধ জনপদের মধ্যে দিয়ে সে এগিয়ে যাচ্ছে। বাজার মতন একটা এলাকা পড়ল। উঁচু উঁচু চাতাল করা আছে, কয়েকটা দোকানঘর। গ্রামের হাট ভেঙে যাওয়ার পরে বিকেলে এরকম ফাঁকা বাজার পড়ে থাকে। কিছু প্রাচীন আবর্জনা ডাঁই করে রাখা আছে তার মধ্যে মধ্যে। শমিতা যখন দেখা করতে ডেকেছে, ও নিশ্চিতভাবেই এখানে আছে, এইসব নিঃস্তব্ধতা ঠেলে ওকে ঠিক পাওয়া যাবে এই ঠিকানায়- ২২০ থার্ড লেন, বি ব্লক, মার্টিন নগর। এই তো, এ-ব্লক পেরিয়ে আর কয়েকশ মিটার গিয়ে বি ব্লক শুরু। এ ব্লকটা মনে হয় লেবারদের কলোনি ছিল, এখানে সব সারবাঁধা এক দেওয়ালের বাড়ি। এক একটা ঘরের মুখে গ্রিলের দরজা, অ্যাসবেস্টাসের ছাদ। দরজা নেইও অনেক ঘরের। মনে হয় বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সময়ে তারা সবকিছুই নিয়ে গেছে। কোনও বিড়াল কুকুরও নেই এই তল্লাটে। স্বাভাবিক, মানুষ না থাকলে বিড়াল কুকুর থেকে করবেটা কী? পাথরের ওপর পাথর দিয়ে উইকেট সাজানো আছে একটা উঠোনে। বাচ্চারা খেলত তখন, কারখানার শিফট শেষে বাবারা এসে পড়লে তারা দৌড়ে ঘরে ঢুকে পড়তে বসত।এখন সেই বাচ্চারা আর এখানে নেই। তারা মনে হয় বাচ্চাও নেই আর। নাইলনের দড়ি টাঙানো আছে কিছু বাড়ির সামনে। কী আশ্চর্য, বাড়ির ছাদে জামাকাপড় মেলার দড়ি তো কয়েকমাসেই ছিঁড়ে যায়। এখানে ঝড় জল রৌদ্র সয়েও দড়িগুলো ছেঁড়েনি। নাকি এখনও রোদের নীচে কেউ ঠিক এসে কাপড় শুকোতে দেয়?
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। সুচিন্তিত মতামত দিন