এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • ভুলেভরানন্দের হিজিবিজি ভাবনা এলোমেলো কথা [ জীবন = কনফিউসন। মতামত দিতে ভুলবেন না ।]

    bhurbhura ashram লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ৬০ বার পঠিত
  • | | | | | | | | |
    নামের ইতিহাস (এটা ফেসবুকেও ছিল সেখান থেকে কপি করে দিলাম)
     
    আমার পোশাকী নাম ভুরভুরা। ভুরভুরা যে কিভাবে ভুলেভরা হয়ে গেল, সে এক কাহিনী। তবে আগে বলে নিই, আমি কিন্তু বাঙ্গালী, নিছকই মাছভাত খাওয়া পিওর বাঙ্গালী। আমার নাম ভুরভুরা কপাট। ছোটবেলায় মুখ দিয়ে ভুর্ রর ভুর্ রর…শব্দ করে আমি নাকি অন্যদের প্রভূত আনন্দ দিতাম। তাই আমার ডাকনাম হয়ে গেল ভুরভুরা। মুখেভাতের সময় নামকরণের চল তখনো চালু হয় নি। পোশাকী নামের প্রথম প্রয়োজন পড়ত স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময়। আমার স্কুলে ভর্তি হওয়ার দিন, বাবা গেলেন অফিসে। হেডস্যারের সামনে যাওয়ার সাহস আমার মায়ের ছিল না। অগত্যা ঠাকুর্দার হাত ধরেই প্রথম দিন স্কুলে গেলাম। হেড স্যার ঠাকুর্দার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ডাক্তারবাবু, (আমার দাদু ছিলেন ডাক্তার), নাতির নাম কি রাখা হল? আমি তখনও (সম্ভবতঃ গম্ভীর-মুখ হেডমাস্টারমশাই এর মনে পুলক জাগানোর উদ্দেশ্যে) মুখ দিয়ে ভুর্ রর ভুর্ রর…শব্দ করে যাচ্ছিলাম। ঠাকুর্দা আমার দিকে একবার তাকিয়ে বললেনঃ ওর নাম হল ভুরভুরা, ভুরভুরা কপাট। ব্যাস সেই আমার নাম হয়ে গেল ভুরভুরা। নামটা যে অদ্ভুত সেটা কখনও টের পাইনি। এরকম অদ্ভুত নাম তখন দেওয়া হত। আমার এক বন্ধুর নাম ছিল কংগ্রেস। আমাদের সঙ্গে পড়ত একটি মেয়ের নাম ছিল কুড়ানি। কতবার যে সে তার নামের বানান লিখেছে কুরাণী। আমাদের হেডস্যার তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেনঃ তুই কেন খারাপ রাণী হবি, তুই তো সুরাণী। তোর বাবা মা তোকে কুড়িয়ে পেয়েছিল তো, তাই তোর নাম রেখেছে কুড়ানি, ওটা ব-এ শূণ্য র নয় রে মা, ওটা ড-এ শূণ্য র। নাম নিয়ে কুড়ানির কোন অভিমান ছিল না। কিন্তু সে যে তার নিজের মায়ের পেট থেকে বেরোয়নি এটা সে কিছুতেই মানতে পারত না।ফোঁপাতে ফোঁপাতে সে বলতঃ আমি তবে কোন মায়ের পেট থেকে বেরিয়েছি তার কাছে নিয়ে চল। হেডস্যার কুড়ানিকে নিজের বৌএর কাছে নিয়ে বলত এই দেখ তোর আসল মা। তোকে হাসপাতাল থেকে যে ব্যাগে করে নিয়ে আসা হচ্ছিল, সেই ব্যাগে ছিল একটা ফুটো। সেই ফুটো দিয়ে তুই পড়ে গিয়েছিলি রাস্তায়। তোর এখনকার মা তোকে কুড়িয়ে পেয়ে আর ফেরৎ দেয়নি। কুড়ানির মা পাশের বাড়ি (হেডস্যারের বাড়ীর পাশের বাড়িই ছিল কুড়ানিদের বাড়ী) থেকে চেঁচিয়ে বলতঃ নিয়ে নাও মা ঠাকুরণ, নিয়ে নাও, দিয়ে দিলুম তোমাদের কুড়ানিকে। তবে মেয়ে আমার আহ্লাদী। আদর করে খেতে পরতে দিতে হবে কিন্তু। তা কুড়ানি শেষ পর্যন্ত রয়ে গেল হেডস্যারের বাড়ীতেই। হেডস্যারের ছেলে বিলু, তার সাথে বিয়ে হল কুড়ানির, না থুড়ি, শুধু রাণীর। ম্যাট্রিক পরীক্ষার সময় হেডস্যার কুড়ানির নাম পাল্টিয়ে করে দিয়েছিলেন রাণী। তবে বিলুর ধন্ধ এখনো কেটেছে কিনা জানিনা। বিলু ওর বিয়ের কয়েক দিন আগে আমার বাড়ী এসেছিল। আমাকে ছাদে ডেকে নিয়ে ফিসফিস করে বললঃ আচ্ছা ভুরভুরা, কুড়ানি যদি সত্যি সত্যি আমার মায়ের পেটের মেয়ে হয়, তাহলে তো ও আমার বোন। ওর সঙ্গে কি আমার বিয়ে হতে পারে? আমি বললামঃ সে কি রে ? তুই একথা বিশ্বাস করিস নাকি ? বিলু একটু লজ্জা পেল - না, তা ঠিক নয়। সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমার মা আমার থেকেও বেশী ভালবাসে কুড়ানিকে। আমি ওকে আশ্বস্ত করলামঃ ওটা স্নেহ।

    একা বিলু শুধু নয়, আমাদের সকলের জীবন আসলে ধন্ধে ভরা। ধন্ধ মানে ধাঁধা, কনফিউসন। গরীব, বড়লোক, বিদ্বান, মূর্খ, ধার্মিক, অধার্মিক আপনি যেমনই হোন না কেন, আপনার জীবনে কোন কনফিউসান নেই - এমনটা হতে পারে না। কারো হয়তো কম, কারো বেশী, কিন্তু শূন্য হতে পারেনা । খেয়াল করে দেখবেন আমি যে ছ’টা প্রজাতির কথা উপরে বললাম (গরীব, বড়লোক, বিদ্বান, মূর্খ, ধার্মিক, অধার্মিক), তাদের মধ্যে বড়লোক, বিদ্বান এবং ধার্মিক - এই তিন প্রজাতির মানুষদের মধ্যে কনফিউসানের হার অপেক্ষাকৃত বেশী তাদের বিপরীত প্রজাতির মানুষদের চেয়ে। লোকে যখন কোন সমস্যা নিয়ে সাধু সন্ন্যাসীদের কাছে সমাধান খুজঁতে আসে, তখন তারা যেটাকে সমস্যা বলেন সেটা আসলে কনফিউসান। কনফিউসনটা যে আসলে কনফিউসনই - সেটা বিলুই আমার কাছে প্রথম প্রতিভাত করে। তখন অবশ্য জানতাম না, তাই বিলুর কনফিউসনকে কনফিউসন হিসাবে চিনতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম যে ওটা একটা প্রশ্ন, তাই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটাই কাজ বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তাতে বিলুর আসল সমস্যার সমাধান কিছু হয়নি। কনফিউসন ব্যাপারটা যে কি তা নিয়ে পরবর্তীকালে অনেক ভেবে ভেবে একটা উত্তর পেয়েছি। সবাই তারসাথে একমত নাও হতে পারেন, তাতে ক্ষতি কিছু নেই, আলোচনা হতেই পারে। কনফিউসন নিরসন করার একটাই রাস্তা - ভাবতে থাকা এবং অনেক ভাবার পরেও যদি স্থিতাবস্থাই বজায় থাকে, তাহলে আলোচনা করা। আমি আমার ভাবনার কথাটা এখানে জানাইঃ আমাদের প্রত্যেকেরই একটা বিশ্বাসের জগৎ আছে, যাকে আমরা বলি আমাদের ফেইথ সিস্টেম (faith system)। সেই বিশ্বাসের জগৎ যখন ধাক্কা খায়, তখনই তৈরী হয় কনফিউসন। প্রত্যেকের বিশ্বাসের জগৎ বা ফেইথ সিস্টেম কিন্তু আলাদা আলাদা। দুটো মানুষের বিশ্বাসের জগৎ-এর মধ্যে কম বেশী ওভারল্যাপিং থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু একদম এক হতে পারেনা। বিলুর বিশ্বাসের জগতে ছিল কুড়ানি ওর বোন। সেটা ধাক্কা খেল যখন সে জানল কুড়ানির সাথে ওর বিয়ে হবে।

    হেডস্যার কংগ্রেসের নাম পালটে করে দিলেন সংগ্রাম। ম্যাট্রিকের আগে যখন নামের বানান, জন্ম তারিখ ঠিকঠাক করা হচ্ছে একদিন কংগ্রেসকে ডেকে বললেনঃ এখন তো সিপিএম এসে গেছে। কংগ্রেসদের জেলে পোরা হচ্ছে। তোর কিন্তু ঘোর বিপদ। কংগ্রেস করুণ মুখ করে বললঃ তাহলে স্যার আমার কি হবে? হেডস্যার বললেন তোর নাম বদলাতে হবে। তোর নাম করে দিলাম সংগ্রাম। গ, স আর অনুস্বর তিনটে বর্ণ একই রইল। শুধু ক-এর বদলে এল ম। সিপিএমের সাথে আর তোর কোন সমস্যা হবে না। হেডস্যারের কথা একেবারে ফলে গিয়েছিল। কংগ্রেস আমাদের জেলায় সিপিএমের বেশ প্রভাবশালী নেতা ছিল। অনেক মন্ত্রী এমএলএ র রাজনৈতিক উত্থানের পিছনে আসল অবদান ছিল সংগ্রামের অর্থাৎ কংগ্রেসের। কিন্তু কংগ্রেস কখনো ভোটে দাঁড়ায় নি। কারণ ওর নাম। নাম বদলালে কি হবে সংগ্রামকে লোকে কংগ্রেস বলেই চিনত। ওকে ভোটে দাঁড় করালে সিপিএম কে দেওয়ালে দেওয়ালে লিখতে হবে কংগ্রেস কে ভোট দিন। সেটা কি করে সম্ভব?

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    | | | | | | | | |
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Manali Moulik | ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৩০737580
  • দারুণ !  ফাটাফাটি! laugh
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ক্যাবাত বা দুচ্ছাই মতামত দিন