এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • সমান নাগরিক সংহিতাঃ বিতর্ক হোক

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০৬৭৪ বার পঠিত
  • সমান নাগরিক সংহিতাঃ বিতর্ক হোক

    নান্দীমুখ

    গত ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ বিজেপি সাংসদ কিরোড়ী লাল মীণা রাজ্যসভায় একটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিলে পেশ করেছেন যার সার কথা হল দেশে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা সমান আচার সংহিতা জারি করার উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করা হোক।

    ব্যস, যাকে বলে একেবারে হল্লা বোল শুরু হয়ে গেল। সমস্ত বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের এক রায় — বিজেপি গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের পর একজন সাংসদকে দিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিল পেশ করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জল মাপছে।

    কারণ, তার আগে একবছর ধরে কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা, ত্রিপুরার মত ৯টি বিধানসভা নির্বাচন এবং একগাদা পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে।

    বিজেপির নেতারা মুখ ভার করে বলছেন — এসব কী? সংবিধান সভা দেশকে যে কথা দিয়েছিলেন – যা এতদিন কেউ রাখে নি — আমরা তো সেটাকেই আইনের চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র।

    আরএসএসের লোকেরা ব্যক্তিগত স্তরে বলছেন — আমরা তো কবে থেকে বলছি যে এক জাতি, এক রাষ্ট্রভাষা, এক আচার সংহিতা দেশ এবং রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করে, সুদৃঢ় করে।

    এই শব্দকল্পদ্রুমের পরিবেশে বর্তমান প্রবন্ধে নিচের বিন্দুগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করছি। মোদ্দা কথা -- ইউনিফর্ম সিভিল কোড ব্যাপারটা কী - খায় না মাথায় দেয়? সংবিধান সভা এ নিয়ে ৩ নভেম্বর ১৯৪৮ এবং ১৯৪৯ সালে কী বলেছিল?

    এবং, এটা যদি সবার জন্যে উইন-উইন গেম হয় তাহলে আপত্তির কারণ কী? এ নিয়ে কতদূর চেষ্টা করা হয়েছে এবং কোথায় আটকাচ্ছে?

    একটা ডিসক্লেমার দিয়ে রাখি — এই আলোচনার জন্যে আমি ঠিক যোগ্য ব্যক্তি নই। আমি খালি বিতর্কের মুখ খুলে দিচ্ছি, সুস্থ তথ্যসমৃদ্ধ বিতর্ক চলুক।

    আমার একটাই যোগ্যতা — যখন ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে ২২তম ল’ কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত জাস্টিস বি এস চোপরা ইউনিফর্ম সিভিল কোডের ব্যাপারে আমজনতার মতামত জানতে চেয়ে মিডিয়ায় এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১৬ পয়েন্ট প্রশ্নাবলী জারি করেছিলেন এবং নভেম্বর মাসের মধ্যেই প্রায় ১০,০০০ উত্তর পেয়েছিলেন তার মধ্যে একটা সেট আমারও ছিল। স্বল্পবুদ্ধিতে যা মনে হয়েছিল তাই উত্তরের খোপে ভরে দিয়েছিলাম।

    সিভিল ও ক্রিমিনাল কোড

    যে কোন দেশের আইনকানুনকে মোটামুটি দুটো ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

    এক, ক্রিমিনাল কোড – যা রাষ্ট্র এবং সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ; এর আওতায় আসবে চুরি-ডাকাতি, খুনজখম, শারীরিক আক্রমণ, ধর্ষণ ইত্যাদি।

    দুই, সিভিল কোড – যার ভিত্তি হল এক দেশ বা সমাজে বাস করার আচরণ বিধির সামাজিক কন্ট্র্যাক্ট। এতে রয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান পদ্ধতি, বিচ্ছেদ, এবং সম্পত্তির কেনাবেচা, ব্যবসার নিয়ম, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেয়ার নিয়ম কানুন ইত্যদি।

    ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা সমান নাগরিক আচার সংহিতাঃ

    এইখানে এসে কি একটু গুলিয়ে যাচ্ছে?

    এক, ক্রিমিনাল কোড তো জাতিধর্ম নির্বিশেষে দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্যে সমান। খুন-চুরি-ডাকাতির অপরাধে শাস্তি দেবার সময় আইন বা রাষ্ট্র নাগরিকের জাতধর্ম দেখে না, একই আইনে একই শাস্তি দেয়। তাহলে সিভিল কোড এক হবে না কেন?

    -- আরে সিভিল কোডের অনেকগুলো তো মূলতঃ সবার জন্যেই সমান!

    ব্যবসা করতে কন্ট্র্যাক্টের নিয়ম ও আইন, সেলস্‌ অফ গুডস অ্যাক্টের আইন, জি এস টি, ইনকাম ট্যাক্স, রেজিস্ট্রির নিয়ম, জমি বাড়ি সম্পত্তি কেনাবেচার আইন, মর্টগেজ বা সম্পত্তি বন্ধক রাখার আইন – সবই তো হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-জৈন-পারসিক-মুসলমান-খ্রিস্টানী সবার জন্যে এক। তাহলে?

    -- আছে, তফাৎ আছে। ভারতবর্ষে সিভিল কোডের অন্তর্গত কিছু বিষয় বিভিন্ন ধার্মিক এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যে আলাদা। সেগুলো হল মুখ্যতঃ তিনটি -- বিয়ের অনুষ্ঠান পদ্ধতি এবং বিচ্ছেদ; সম্পত্তির উত্তরাধিকার; এবং দত্তক নেয়ার নিয়ম কানুন।

    সমান নাগরিক আচার সংহিতার সমর্থকেরা চাইছেন - ওই তিনটে ব্যাপারেও বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের লোকজনের জন্যে আলাদা আলাদা নিয়ম বন্ধ হোক। সব ধুয়ে মুছে এক হয়ে যাক, ঠিক স্কুল ইউনিফর্মের মত।

    ধুয়ো উঠছেঃ এক হউক, এক হউক, এক হউক, হে ভগবান!

    আমরা সংক্ষেপে আলোচনার সুবিধের জন্যে দেশের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মভিত্তিক সম্প্রদায়ের (হিন্দু ও মুসলিম) কোড বিল নিয়ে আলোচনা করব।

    হিন্দু কোড বিলের অন্তর্গত রয়েছে তিনটে আইন — হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫; হিন্দু সাকসেসন অ্যাক্ট; হিন্দু মাইনরিটি অ্যান্ড গার্ডিয়ানশিপ অ্যাক্ট এবং হিন্দু অ্যাডপশন (দত্তক নেয়া) এবং মেইন্টেন্যান্স (খোরপোষ) অ্যাক্ট।

    এইসব তৈরি হয়েছে ইংরেজ আমলে কিছু টুলো পণ্ডিত ডেকে বিভিন্ন স্মৃতি বা সংহিতা (মনু, যাজ্ঞবল্ক্য, পরাশর ইত্যাদি) ঘেঁটে। এ নিয়ে বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে গুরুর পাতায় গত বছর আমাদের এলেবেলে (দেবোত্তম চক্রবর্তী) চমৎকার আলোচনা করেছিলেন।

    তেমনই ভারতের মুসলিমদের রয়েছে মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাক্ট ১৯৩৭। এতে বিয়ে, তালাক, খোরপোষ, দান-দক্ষিণা সব কিছুর ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে মুসলিম জীবনযাপন পদ্ধতির নির্দেশের ব্যাপারে চারটি উৎসকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলঃ কুরআন, সুন্না বা অহল-এ-হাদিস (হজরত মহম্মদের নিজের আচরণে যা সিদ্ধ), কিয়াস (ব্যাখ্যা টীকা ভাষ্য ইত্যাদি) এবং ইজমা (বিদ্বানদের সর্বসম্মত ব্যাখ্যা)।  

    এখন ইউনিফর্ম সিভিল কোড মানে — ওইসব বিভিন্ন আইন বাতিল করে সবার জন্য কোন ধার্মিক রেফারেন্স ছাড়া একটাই আইন চালু করা।

    আচ্ছা, তাতে অসুবিধা কী? বেশ আধুনিক এবং প্রগতিশীল শোনাচ্ছে।

    ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিক ভারতে এরকমটা হওয়ারই কথা তো! অসুবিধেটা কোথায়?

    সংবিধান সভার আর্টিকল ৪৪ এ নেহরুজি এমনই কিছু বলেছিলেন কিনা?

    -- বলেছিলেন বটে, কিন্তু অসুবিধেটাও তখনই স্পষ্ট হয়েছিল। কন্সটিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি বা সংবিধান প্রণয়ন সভার ২৩ নভেম্বর, ১৯৪৮ এর বিতর্কটি দেখলেই বোঝা যাবে।

    বোম্বাই থেকে কংগ্রেসের নির্বাচিত প্রতিনিধি স্বাধীন দেশের জন্যে ধর্মের অনুশাসনের উর্দ্ধে উঠে একটি সমান নাগরিকতার পক্ষে যুক্তি দেন। বিরুদ্ধে মাদ্রাজ এবং বিহারের প্রতিনিধিরা বলেন – এতে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিবিধতা নষ্ট হবে। ঐক্য এবং একরূপতা এক কথা নয়।

    ওঁরা উদাহরণ দিয়ে বললেন — বিশাল দেশ ভারতবর্ষে ভৌগলিক এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। পূবে আসামে এত বৃষ্টি হয়, কিন্তু পশ্চিমে রাজস্থানে খটখটে মরুভূমি। উত্তরে বরফ পড়ে, হাড়কঁপানো শীত। কিন্তু দক্ষিণে শীত সেভাবে টের পাওয়া যায় না।

    শেষে একবছর পরে ১৪ নভেম্বর, ১৯৪৯ সালে সংবিধান সভার এই বিষয়ে বিতর্ক সমাপ্ত করে নেহরু বললেন — তাড়াহুড়ো না করে এই প্রগতি জনতার উপর চাপিয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে জনতার মধ্যে চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে ওদের সম্মতি নিয়ে ট্র্যাডিশনে পরিবর্তন আনতে হবে। এবং, ওঁর পরামর্শ মত ইউনিফর্ম সিভিল কোডের ধারণাটিকে সংবিধানের ডায়রেক্টিভ প্রিন্সিপলের (মার্গদর্শী সিদ্ধান্ত) অধীনে আর্টিকল ৪৪ এ নিচের শব্দে বাঁধা হলঃ

    Article 44. Uniform civil code for the citizens.
    The State shall endeavour to secure for the citizens a uniform civil code throughout the territory of India.

    ঠিক আছে, কিন্তু করে ফেলতে কিসের অসুবিধে? সত্তর বছর হয়ে গেল যে!

    -- দেখুন, হিন্দুদের স্মৃতিশাস্ত্রে বিহিত আট রকমের বিয়ের মধ্যে শুধু ‘প্রাজাপত্য’ই আজকাল চলছে। এতে বাবা বা তাঁর অবর্তমানে পরিবারের কোন গুরুজন ‘কন্যাদান’ করে। আর বিয়ের কার্ডে প্রজাপতির ছবি এঁকে ‘প্রজাপতয়ে নমঃ’ লেখা থাকে। প্রজাপতির নির্বন্ধে ডিভোর্সের কথাই ওঠে না, জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধনে হাঁসফাস করলেও।

    অবশ্য আজকাল যেটাকে লাভ ম্যারেজ বলা হয় সেটা মনু’র গান্ধর্ব বিবাহের (বর কনে নিজেদের সম্মতি বা পছন্দের হিসেবে) আধুনিক রূপ মাত্র।

    তবে ইদানীং হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে কিছু সংশোধন হয়েছে। তাই সময়ের দাবিতে কিছু শর্ত সাপেক্ষে ডিভোর্সের সুযোগ রয়েছে। এই বিয়ের অনুষ্ঠানে সপ্তপদী গমন এবং যজ্ঞ একটি আবশ্যিক অনুষ্ঠান। আর রয়েছে (হিন্দি বলয়ে) সাতটি শপথ (সাতোঁ বচন) নেওয়ার কথা, যেমন পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা, ভাত-কাপড়ের দায়িত্ব নেওয়া, ইত্যাদি।

    কিন্তু মুসলিম বিয়ে হল পিওর কন্ট্র্যাক্ট। বিয়ে মসজিদে না হয়ে কারও বাড়িতে (কন্যার ঘরে) হয়। পুরোহিতের স্থানে কাজি বসেন বটে, তবে পাঁচ জন সাক্ষী রেখে কন্যাকে বসিয়ে তিনবার জিজ্ঞেস করা হয় — আপনি কি অমুককে কবুলনামায় লেখা শর্ত অনুযায়ী জীবনসঙ্গী হিসেবে স্বীকার করতে রাজি? 

    কন্যা তিনবার ‘কবুল’ বললে একই কন্ট্র্যাক্টের পাঁচ কপিতে ওরা দুজন, কাজি এবং সাক্ষীদের সইসাবুদ হয়ে গেলে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ওদের দুজন এবং সাক্ষীদের কাছেও একটি করে ওই নিকাহ্‌নামা বা চুক্তির কপি থাকে। তাতে কন্যার সিকিউরিটি হিসেবে পূর্বনির্ধারিত ‘দেনমোহর’ কত টাকা তার উল্লেখ থাকে।

    আমি এক মুসলিম কলিগের ছোট ভাইয়ের বিয়েতে সাক্ষী একজন কম পড়ে যাওয়ায় এন্ট্রি পেয়েছিলাম এবং সই করার পরে এক কপি (বেশ রঙীন কাগজে) পেয়েছিলাম।

    চুক্তি বলেই মুসলিম ম্যারেজ অ্যাক্টে তিন রকমের তালাকের প্রথা রয়েছে — আহসান, হাসান, এবং বিদ্যৎ। 

    ভাববার সময় না দিয়ে যখন মর্জি তখন তিনবার ‘তালাক’ বলে স্ত্রীকে ঘরের বাইরে করে দিলাম - এটাই ওই বিদ্যৎ তালাক। এটা প্রথাসিদ্ধ কিন্তু শরিয়ত অনুমোদিত নয়, তাই অধিকাংশ মুসলিম দেশে এই রকম তালাক উঠে গেছে।

    ভারতেও সুপ্রীম কোর্টের রায় মেনে আইন করে শুধু ওই তালাক-এ-বিদ্যৎ নিষিদ্ধ হয়েছে, বাকি নিয়ম যথাবৎ আছে।

    স্বামী তালাক দিলে ওই দেনমোহর বিবিকে ফেরত দিতে হবে। বাস্তবে কী হয় সেটা অন্য প্রসংগ।

    একটা কথা; ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মুসলিম মেয়ে কোন অন্য ধর্মের ছেলেকে বিয়ে করতে পারে না। তবে মুসলিম ছেলে একেশ্বরবাদী ধর্মের (ক্রিশ্চান ও ইহুদী) মেয়েকে বিয়ে করতে পারে, কিন্তু কোন বহুদেববাদী ধর্মের ( হিন্দু) মেয়েকে নয় (কুর্‌আন, সুরা ৫.৫)।

    ক্রীশ্চান ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স অ্যাক্টের (১৮৭২) অনুষ্ঠান চার্চে হতেই হবে। কিন্তু ইসলাম ও ক্রিশ্চানিটি দুটোই আব্রাহামিক ধর্ম, তাই অনুষ্ঠানে কিছুটা মিল রয়েছে। পাদ্রী সবার সামনে ব্রাইডকে তিনবার জিজ্ঞেস করে সম্মতি পেলে পরমপিতা পরমেশ্বরের আশীর্বাদে বা দৈব ইচ্ছায় ওই জোড়াকে তখন বিধিসম্মত স্বামী-স্ত্রী বলে ঘোষণা করেন। তারপর বলেন – এখন তোমরা একে অপরকে চুমো খেতে পার।

    তখন ওরা সবার সামনে একে অপরকে চুমো খায়, ব্যস্‌।

    হিন্দুদে্র শুধু মালাবদল হয়, সবার সামনে চুমো-টুমো খাওয়ার সুযোগ নেই।

    এবার বলুন, এই তিনরকমের বিয়ের আইন তুলে দিয়ে কী করতে চান? কেমন কোড আনতে চান?

    চুমো খাওয়া তুলে দেবেন? নাকি সবাইকেই ভবিষ্যতে আইন মেনে চুমো খেতে হবে?

    সাক্ষীসাবুদ-দেনমোহর করে রীতিমত চুক্তিপত্রে সই করে বিয়ে দেওয়া তুলে দেবেন? নাকি সবাইকেই ওইরকম করতে হবে?

    সপ্তপদী, যজ্ঞ, অরুন্ধতী নক্ষত্র দেখানো তুলে দেবেন? নাকি সবাইকেই তাই করতে হবে?

    আরও আছে। হিন্দু তেলুগু সম্প্রদায়ে মামাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে সবচেয়ে উত্তম সম্বন্ধ ধরা হয়। আমার এক কলিগ তিন ভাই। ওরা ওদের আপন মামার মেয়েদের বিয়ে করেছে।

    এটা কি বাদ যাবে? নাকি সবাইকে মামাতো পিসতুতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে করতে হবে?

    মুসলমানদের মধ্যেও তুতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে করার চল আছে। ওদের হয়তো অসুবিধে হবে না? কিন্তু আমাদের?

    মৈত্রী কড়ার (Friendship Contract):

    সত্তরের দশকের গুজরাতে কোন এক প্রাচীন ট্র্যাডিশনের ধুয়ো তুলে ঊচ্চবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে শুরু হল মৈত্রী কড়ার। এর মানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে গিয়ে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে এগ্রিমেন্ট বানিয়ে একসঙ্গে লিভ টুগেদার করতে পারে — আশা এই যে ওরা কিছুদিন পরে বিয়ে করবে।

    হিন্দু কোডে কোথাও এমন কোন টেম্পোরারি বিয়ের কথা বলা নেই। কিন্তু আইন এর প্রতিবন্ধক নয়। শুধু ছ’বছর আগে দুই ছোটবেলার সাথী (ছেলে মুসলিম, মেয়ে হিন্দু) ওই কড়ার করে বাধা পেয়ে শেষে গুজরাতের হাইকোর্টে গিয়ে ২৫ নভেম্বর, ২০১৬ রায়ে অনুমোদন আদায় করায় গুজরাতে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের টনক নড়ল। শেষে কি আমাদের ঘরের মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি গিয়ে মাছ-মাংস রান্না করতে বাধ্য হবে? [1]

    আজকে সমান আচার সংহিতা শুরু হলে মৈত্রী কড়ার বন্ধ হবে নাকি?

    তারপর অ্যান্থ্রোপলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার হিসেবে ভারতে ৪৬০০ আদিবাসী সম্প্রদায় আছে যাদের পূজার্চনা এবং বিবাহ সংস্কারের নিয়ম আমাদের থেকে ভিন্ন। ওদের সংস্কৃতিকেও কি দুরমুশ করে আমাদের মত করতে হবে?

    -- ভাল জ্বালা! তার চেয়ে বিয়ের জন্যে এমন একটা আইন করা যায় না যাতে দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ে, নিজেদের জাত ধর্ম বাবা-মার অনুমতির তোয়াক্কা না করে ধর্মের দোহাই না দিয়ে বিয়ে করতে পারে? তাহলেই তো ল্যাটা চুকে যায়।

    সে আইন তো কবেই হয়ে গেছে — স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৪। অর্থাৎ হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের (১৯৫৫) একবছর আগে। তাতে শুধু ছেলের বয়েস ২১ হতে হবে, আর মেয়ের ১৮। তবে প্রধানমন্ত্রী বলছেন শিগগিরই মেয়েদের বয়েসও আইন করে বাড়িয়ে ২১ করে দেওয়া হবে, ভাল কথা।

    তফাৎ হল — হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে আগে বিয়ে, পরে রেজিস্ট্রি। স্পেশ্যাল অ্যাক্টে আগে দরখাস্ত দিলে রেজিস্ট্রার দেবে একমাসের নোটিস, তারপরও যদি মিয়া-বিবি রাজি থাকে, তবে একই সঙ্গে রেজিস্ট্রি এবং বিয়ে।

    তাহলে আর হৈ চৈ কিসের?

    কারণটা রাজনৈতিক, পরে আসছি। আগে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে বলি।

    হিন্দু ও মুসলিম কোডে মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার

    হিন্দু কোড বিলে আগো মেয়েদের পৈতৃক সম্পত্তিতে কোন অধিকার ছিল না। প্রথমে সংশোধিত হয়ে মেয়েদের বসবাসের অধিকার স্বীকৃত হল, কিন্তু মালিকানা হক নয়। পরে ২০০৫ সালের সংশোধনে ভাই এবং বোনের সমান অধিকার স্বীকৃত হল। তারপর ২০২২ সালের একটি রায়ে সুপ্রীম কোর্ট বললেন যে বিবাহিত মেয়েরাও ভাইয়ের সমান অংশীদার, সমান ভাগ পাবে।[2]

    মুসলিম কোডে কিন্তু প্রাচীন কাল থেকেই সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের পৈতৃক এবং স্বোপার্জিত সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার স্বীকৃত, সে বিবাহিত হলেও।  তবে সবসময় সেটা ছেলেদের সমান ভাগ নয়, কখনও ১/২, কখনও ১/৪।

    ব্যাপারটা বেশ জটিল। যখন আইনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষায় বসেছিলাম তখন আমরা সবাই ভয় পেতাম মুসলিম সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারার প্রশ্নকে। তাতে খেয়াল করে ভগ্নাংশের অংক কষতে হত।

    -- যাকগে, এসব জটিল ব্যাপারে আপনার আমার মত হরিদাস পালেদের মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। এর জন্যে উপযুক্ত সংস্থা হল ল’ কমিশন। ওদের দিয়েই এসব আইন ও ট্র্যাডিশনের প্যাঁচ খুলে একটি আধুনিক সিভিল কোডের খসড়া বানানো হোক। মিঃ আম্বেদকর, নেহেরুজী, প্যাটেলজী – সবার আত্মা শান্তি পাক। অসমাপ্ত কাজ পুরো করা হোক।

    ল’ কমিশন

    গোড়াতেই বলা দরকার যে ল’ কমিশন কোন সাংবিধানিক (constitutional) অথবা বৈধানিক (statutory) সংস্থা (body) নয়। এটি বিশুদ্ধ প্রশাসনিক (executive) সংস্থা যা ভারত সরকারের নির্দেশে কোন নিশ্চিত ইস্যুতে এবং নির্ধারিত সময়ের (tenure) জন্য গঠিত হয়।

    এর দায়িত্ব হল আইনের সংস্কারের ব্যাপারে রিসার্চ করে সরকার চাইলে বা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে (suo moto) পরামর্শ দেওয়া।

    বর্তমান ভারত সরকার ইউসিসি’র বিষয়ে ২০১৬ সালে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জাস্টিস বি এস চৌহানের অধ্যক্ষতায় ২১ তম ল’ কমিশন গঠন করে।

    উনি এ’ব্যাপারে আম-নাগরিক এবং সিভিল সোসাইটির অভিমত এবং পরামর্শ জানতে চেয়ে ৩/১০/২০১৬ তারিখে এক ১৬ বিন্দু প্রশ্নাবলী  সম্প্রচারিত করেন। নভেম্বর মাসের মধ্যে প্রায় দশ হাজার উত্তর এবং মতামত পেয়ে বেজায় খুশি হয়ে প্রেসকে জানিয়েও দেন।

    কিন্তু বুঝতে পারছিলেন যে ব্যাপারটা এত সোজা হবে না। তারপর জাস্টিস চৌহান ২০১৮ তে কোন রিপোর্ট পেশ না করেই অবসর নেন।
      
    তারপর গত চার বছর ধরে কমিশনের কোন চেয়ারম্যান না থাকায় ব্যাপারটা ন যযৌ ন তস্থৌ হয়ে থেমে ছিল।

    অবশেষে ভারত সরকার গত ৮/১১/২২  তারিখে কর্ণাটক হাইকোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত চিফ জাস্টিস ঋতুরাজ অবস্থী-র অধ্যক্ষতায় ২২তম ল’ কমিশন গঠন করেছে। জাস্টিস অবস্থী কর্ণাটকের বিবাদিত হিজাব মামলার রায়দাতা।

    আশা করা যাচ্ছে আগামী মার্চ ২০২৩ নাগাদ ল’ কমিশন ইউসিসি ইস্যুতে তাঁদের রেকমেন্ডেশন বা সুপারিশ ভারত সরকারকে জানিয়ে দেবেন।

    কিন্তু তাই যদি হয় তাহলে আমরা মার্চ অব্দি অপেক্ষা না করে এখন থেকেই চেঁচামেচি করছি কেন? উত্তরটাও সহজ, রাজনীতি।

    সমান নাগরিক আচার সংহিতা বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) ও রাজনীতি

    আসলে সমান আচার সংহিতা নিয়ে এত আগ্রহের পেছনে রয়েছে আরেকটি ইস্যু – মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ।

    মোদীজি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বিজেপি ও আরএসএসের ঘোষিত তিনটে এজেন্ডা ছিল – রাম মন্দির নির্মাণ, সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোড। এর জন্যে দরকার ছিল বড় মাপের সংখ্যাগরিষ্ঠতার। সেটা পাওয়া গেল ২০১৯ সালের মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে।

    ব্যস্‌, ব্রুট মেজরিটির জোরে ৫ অগাস্ট ২০১৯ সালে বাতিল হল আর্টিকল ৩৭০, অবশ্য নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ইত্যাদির আলাদা আইন, আলাদা পতাকা নিয়ে আর্টিকল ৩৭১ আগের মতই রয়ে গেল।

    তারপর ৯ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে অযোধ্যা মামলার রায় বেরোল। ৫ অগাস্ট ২০২০তে সংসদে মন্দির নির্মাণের জন্য বিশেষ ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা হল।

    বাকি রইল একটাই— সমান নাগরিক আচার সংহিতা, ইউনিফর্ম সিভিল কোড।

    এতসব চেঁচামেচির একটাই লক্ষ্য — মুসলিম আইনে যে চারটে বিয়ের অনুমোদন রয়েছে সেটা বাতিল করে সবাইকে এক পত্নীব্রতে থাকতে বাধ্য করা। বাকি সম্পত্তির অধিকার-টার যাক চুলোয়।

    ওদের যুক্তিঃ বেশি পত্নী মানেই বেশি সন্তান; এর মানে মুসলিমদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি। তার মানে কোন এক ভবিষ্যতে ওরা মেজরিটি হবে এবং আমাদের দেশকে ফের ভাগ করবে।

    এটা খোলাখুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হয় এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতারা এটাকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মোড়কে গম্ভীর মুখে বলে থাকেন।

    বিজেপি সাংসদ এবং আরএসএসের তাত্ত্বিক নেতা রাকেশ সিনহা সংসদে জুলাই ২০১৯ সালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিল পেশ করলেন।
     
    প্রধানমন্ত্রী সে’ বছর স্বাধীনতা দিবসের অভিভাষণে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বের কথা বলে এটাকে ‘a form of patriotism’ আখ্যা দেন। [3] অর্থাৎ যাদের সন্তান বেশি তারা দেশকে ভালবাসে না।

    উনি সেটা বলতেই পারেন।

    মোদীজির ভাষণের একই দিনে ১৫ই অগাস্ট, ২০১৯শের  স্বাধীনতা দিবসে আসাম সরকার ঘোষণা করে দিল যে যাদের দুটোর বেশি সন্তান রয়েছে তারা সরকারি চাকরি পাবে না এবং স্থানীয় স্তরে কোন নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে না। [4]

    অবশ্য এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে এসে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার স্বাধীনতা দিবসের অভিভাষণে বলেছেন যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন নতুন আইনের দরকার নেই। ওঁর একটিই সন্তান।

    এদিকে প্রাক্তন মন্ত্রী এবং ইউপির মুজফফরনগর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত সাংসদ সঞ্জীব বালিয়ান সেই ২০১৯ থেকে নিয়মিত সংসদে বলছেন ভারতে জনসংখ্যা যে হারে বেড়ে চলেছে যে রিসোর্সে টান পড়ছে, করদাতাদের উপর বোঝা বাড়ছে, এখনই ১৩৫ কোটি ছাড়িয়ে গেছে, ভবিষ্যতে কী হবে? ওঁর আবেদনে ১২৫ জন সাংসদের সই ছিল।
     
    তবে  ডঃ রাকেশ সিনহার (আরএসএস বুদ্ধিজীবি এবং রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য) তিনবছর আগে পেশ করা বিলটিকে এ’বছর এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মনসুখ মণ্ডাভিয়া অপ্রয়োজনীর বলে মতপ্রকাশ করেন।

    ওনার মতে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির দর আশংকাজনক নয়। জোর করে প্রতি পরিবার দুই সন্তানের লক্ষণরেখা টেনে দেওয়ার দরকার নেই। সরকারের প্রচেষ্টায় জনতা এখন অনেক জাগরুক, বাকিটুকু শিক্ষার আরও প্রসার হলেই হয়ে যাবে।

    তখন রাকেশ সিনহা বিলটি প্রত্যাহার করে নেন। [5]

    কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকার দুই সন্তানকে বাধ্যতামূলক করার খসড়া বিল জুলাই ২০২১ এ বিধানসভায় পেশ করে।

    তবে গত বছর জুলাই মাসে সংসদে  দুই বিজেপি এমপির প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী  জানিয়েছিলেন যে NFHS III(2005-06) সার্ভে হিসেবে TFR 2.7 ছিল, তারপর NFHS IV (2015-16) [6] অনুযায়ী কমে 2.2 হয়ে গেছে। কাজেই আইন করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার দরকার নেই।

    তারপর এ’বছর জুন মাসে এক সাংবাদিককে স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকে জানানো হয় যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মণ্ডাভিয়া কোনরকম জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল আনার কথা ভাবছেন না যেহেতু NFHS V অনুযায়ী ভারতের টোটাল ফার্টিলিটি রেশিও স্থায়িত্ব দর ২.১ থেকে কমে ২.০ হয়ে গেছে। [7]

    অথচ এ’বছর গত ৯ ডিসেম্বর তারিখে দু’জন বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে এবং রবিকিষণ লোকসভায়  প্রাইভেট মেম্বার্স পপুলেশন কন্ট্রোল বিল পেশ করেছেন। রবিকিষণ, ভোজপুরি লোকগায়ক এবং গোরখপুরের বিজেপি এমপি, ওঁর তিন মেয়ে এক ছেলে।

    এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উনি বলছেন এর জন্যে কংগ্রেস দায়ি। [8] ওরা যদি আগেই এই বিল আনত তাহলে নাকি  রবিকিষণ আগের থেকে সতর্ক হয়ে যেতেন।

    মুশকিলে পড়লাম, কে ঠিক বলছেন?

    প্রধানমন্ত্রী না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কে ঠিক?

    দুই বিপরীত মেরুর বক্তব্য বুঝতে হলে কিছু সরকারী ডেটা দেখুন। প্রথমে বিগত ২০১১ সালের সেন্সাস অনুয়ায়ী আমাদের দেশে ধর্মভিত্তিক নাগরিকদের  সংখ্যা ও অনুপাতঃ   

    তালিকা -১  

    সম্প্রদায়জনসংখ্যার প্রতিশত
    হিন্দু৭৯.৮০
    ইসলাম১৪.২৩
    খ্রীস্টান২.৩০
    শিখ১.৭২
    অন্যান্য১.৯৫
    মোট১০০.০০

    National Family Health Survey (NFHS-5) অনুযায়ী ভারতের গড় ফার্টিলিটি রেশিও ২.২ থেকে কমে ২.০ হয়েছে। আন্তর্জাতিক রিপ্লেসমেন্ট রেশিও হল ২.১। অর্থাৎ যে অনুপাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি (নতুন জন্ম-নতুন মৃত্যুর সংখ্যা কাটাকুটি করে যা পাওয়া যায়) স্থির থাকে। তার মানে এখন ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আশংকাজনক নয়।

    মাত্র পাঁচটি স্টেটের টিএফআর ন্যাশনাল অ্যাভারেজের এবং রিপ্লেসমেন্ট রেশিওর থেকে বেশি। তারা হল—

    বিহার (২.৯৮), মেঘালয় (২.৯১), উত্তরপ্রদেশ (২.৩৫), ঝাড়খণ্ড (২.২৬) এবং মনিপুর (২.১৭)। [9]

    এর কোনটিই মুসলিম বহুল রাজ্য নয়। অথচ, মুসলিম প্রধান জম্মু-কাশ্মীর (১.৩) এবং বঙ্গে (১.৬) টিএফআর ন্যাশনাল গড়ের থেকে অনেক কম।

    তার মানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির দর ধর্ম নির্ভর নয়, বরং শিক্ষার হার এবং জীবনযাপনের স্তরের উপর নির্ভরশীল।

    এবার ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমস্ত জনগোষ্ঠীতে সন্তানোৎপাদনক্ষম বয়সের মহিলার সন্তান সংখ্যা কত নিচের তালিকায় দেখুন।

    তালিকা-২

    Total Fertility Rate (TFR) by Religion, average number of children by woman of reproductive age

    ReligionAverage number of children
    Hindu1.94
    Muslim2.36
    Christian1.88
    Sikh1.61
    Buddhist1.39
    Jain1.66
    Others2.15

    সূত্রঃ National Family Health Survey (NFHS-5)

    সিদ্ধান্তের ভার পাঠকের উপর ছেড়ে দিলাম। আমি অংকে কাঁচা। তালিকা একের জনসংখ্যাকে মূলধন এবং TFR  কে সূদের হার ধরে কম্পাউণ্ড ইন্টারেস্টের ফর্মূলা লাগিয়ে আঁক কষে বলুন তো এভাবে চললে কত বছর পরে মুসলিম জনসংখ্যা হিন্দুদের ছাড়িয়ে যাবে?

    শেষপাতেঃ

    বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো বসে নেই। বিশেষ করে যেখানে একের পর এক নির্বাচন। উত্তরাখণ্ডে রিটায়ার্ড জাস্টিস রঞ্জনা দেশাইকে অধ্যক্ষ করে রাজ্য ল’ কমিশন কাজ শুরু করে দিয়েছে। হিমাচলের বিজেপি সরকার দু’মাস আগে বলেছিল – নির্বাচনে জিতলে ওরা রাজ্যে ইউসিসি চালু করবে। চিঁড়ে ভেজে নি। গুজরাতে মহারাস্ট্রে মধ্যপ্রদেশে এবং গুজরাতে শোনা যাচ্ছে ইউসিসি নিয়ে কমিটির কথা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেরও।

    কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট সঞ্জয় হেগড়ে বলছেন — ভিন্ন রাজ্যের ভিন্ন সংস্কৃতি। তাহলে তো কোন প্রথা, ধরুণ বিয়ে এক রাজ্যে বৈধ হবে তো অন্য রাজ্যে অবৈধ। কিন্তু এটি তো গোটা দেশের জন্যে ‘ইউনিফর্ম’ হওয়ার কথা।

    নিন্দুকে বলছে — আরে এগুলো ইলেকশনের আগে জিগির তোলা। হবে সেই মার্চে কেন্দ্রীয় ল’ কমিশনের রিপোর্ট এলে।

    দিন গুণছি।

    =======================================================================
    [1] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬।
    [2]  সুপ্রীম কোর্ট,অরুণাচল গৌন্ডার বনাম পন্নুস্বামী, জানুয়ারি ২০২২।
    [3]  দি স্টেটস্‌ম্যান, ১৬ অগাস্ট, ২০১৯।  
    [4]  দি হিন্দু, ১৬ অগাস্ট, ২০১৯।
    [5] ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ২ এপ্রিল, ২০২২।
    [6] হিন্দুস্থান টাইমস্‌ ২৪ জুলাই, ২০২১।
    [7] টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ৯ জুন, ২০২২।
    [8] ঐ, ৯ ডিসেম্বর, ২০২২।
    [9]  টাইমস্‌ অফ ইণ্ডিয়া, ৬ মে, ২০২২।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০৬৭৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ২৮ জুন ২০২৬ ১২:০৮741483
  • আইন থাকে, আইনের ফাঁক থাকে, সেই ফাঁক দিয়ে স্টেট থেকে শুরু করে পুলিস, উকিল সবাই ঢুকে পড়ে। ইউসিসি আইনের সেসব ফাঁক আছে, vague কথা লেখা আছে যাতে একই আইন বিজেপি সাপোর্টার ও অ-বিজেপি সাপোর্টার দু - পক্ষকেই খুশী করতে পারে, বিশেষ করে প্রোগ্রেসিভরা 'ভাল' কিছু খুঁজে পায়। বিজেপির পলিটিক্সটাই এই, দক্ষতার সঙ্গে করে, রাম মন্দির, কাশ্মীর, ইউসিসি, pet বিষয় যেগুলো সেগুলো এমনভাবে আনা হয় যে প্রচুর তর্ক উঠবে। সবাই দোল খাবে। আর ইউসিসিতে তো বহুবিবাহ, সম্পত্তি এসবই প্রধাণ ইস্যু বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এ নিয়ে এত তর্কেরই বা কী, বিল আনা আগেই তো জানা যে ভাল বিল হবে। তবে হ্যাঁ, দেখার যে অসব বা গুজরাটের বিল কিন্তু এখনো আইনের পরিণত হয়নি, রাষ্ট্রপতির কাছে পড়ে আছে, আশা করা যায় যে সময় বুঝে ছাড়া হবে।
  • হেঁয়ালি | ২৮ জুন ২০২৬ ১২:২২741484
  • হ্যাঁ শাসকের আইন। পবতেও পাশ করিয়ে ফেলে রাখা হবে। বলা হবে সংকল্প পত্রে ছিল করে দিয়েছি।
     
    দেওয়ানি বিধি জিনিসটা ডিস্পিউটের সময় কাজে দেয়। এমনিতে কেউ মারা গেলে লিগ্যাল ভাই বোন নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিলে দেওয়ানি বিধির কোনো ভূমিকা নেই। কেউ একজন অন্যকে বাদ দিতে চাইলে তখনই জিনিসটা কাজে লাগে। বা একজন যুগল একত্রে থাকলেও কিছু না। দেওয়ানি বিধি আসবে যদি সেরকম কেউ লিভ ইন পার্টনারের সম্পত্তি দাবি করে মামলা করে।
  • . | ২৮ জুন ২০২৬ ১২:৩৩741485
  • The Goa Civil Code is not strictly a uniform civil code, as it has specific provisions for certain communities. For example:[7][10]
    • The Hindu men have the right to bigamy under specific circumstances mentioned in Codes of Usages and Customs of Gentile Hindus of Goa (if the wife fails to deliver a child by the age of 25, or if she fails to deliver a male child by the age of 30). For other communities, the law prohibits bigamy.
    • The Roman Catholics can solemnize their marriages in church after obtaining a No Objection Certificate from the Civil Registrar. For others, only a civil registration of the marriage is accepted as a proof of marriage. The Catholics marrying in the church are excluded from divorce provisions under the civil law.
    • For Hindus, divorce is permitted only on the grounds of adultery by the wife.
    • The law has inequalities in case of adopted and illegitimate children.
  • | ২৮ জুন ২০২৬ ১২:৪৬741488
  • ইউসিস মনে হয় না শুধুই ডিসপিউটকেন্দ্রিক। ঘটনার আদি থেকেই ধরা হয়েছে। একটার বেশী বিয়ে করলে, লিভইন রেজিস্ট্রেশন না করলে কেস খাবে। সম্পত্তির ক্ষেত্রে হয়ত ডিসপিউট কেন্দ্রিক।

    আর দেখলাম, গুজরাটের বিল গত মার্চে পাশ হয়েছে, তিন মাস হয়েছে আইনে পরিণত হয়নি। কিন্তু এর মধ্যে তো কত মেয়ের ক্ষতি হয়ে গেল অথবা বিশেষ ধর্মের কত পুরুষ বহুবিবাহের সুবিধে নিয়ে নিল। সাম্য, সমানাধিকার, সমভাব ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার জন্য ৩ মাস কি বেশী না কম সময় ? এ তো আবার ডবল ইঞ্জিন রাজ্য, তাই কেন পড়ে থাকে বিল ?
  • | ২৮ জুন ২০২৬ ১৩:০০741489
  • অ - বিজেপি রাজ্যে পাশ হওয়া বিল রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিচ্ছেন না, এ নিয়ে কয়েক মাস আগে সুপ্রীম কোর্টে যে কেস হল সেখানে মনে হয় কোর্ট বলেছিল ৩ মাসের মধ্যে সম্মতি দিতে হবে। তারপর তো রাষ্ট্রপতির দিক থেকে আপত্তি উঠল যে কোর্ট ওরকম সময় বেঁধে দিতে পারে না, তারপর মনে হয় রায় বদল হয়, ঐ লিমিট তুলে নেওয়া হয়।

    কিন্তু মনে হয় যেন ৩ মাস অনেক সময় রাজ্যের বিল আইনে পরিণত হওয়ার জন্য। গুজরাটে হয়নি, অসমেও ঐ মার্চ নাগাদই বিল পাশ হয়, ভোট ছিল এপ্রিলে, পলিগামি ল, অনুপ্রবেশ ইত্যাদি ছিল ভোটের ইস্যু, ভোট জেতা হয়ে গেছে, তিন মাসও কেটে গেছে। তাহলে সাম্য প্রতিষ্ঠার কী হবে ?
  • হেঁয়ালি | ২৮ জুন ২০২৬ ১৩:০৯741490
  • ইউএপিএ বা গুন্ডাদমন বিল যেটা আনা হচ্ছে অনেক বেশি গোলমেলে। কারণ ওসব ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই ইডি বা পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে এক বছর জেলে রেখে দিতে পারে। কেজরিওয়ালের সঙ্গে যেরকম হল। কিন্ত একটা ফ্ল্যাটে প্রাপ্তবয়স্ক যুগল একসঙ্গে থাকে, উল্টোদিকের ফ্ল্যাটের কেউ গিয়ে থানায় অভিযোগ করল, একটু দেখুন তো এরা লিগ্যাল যুগল কিনা, পুলিশ নতুন দেওয়ানি বিধিতে সেই কেস নেবে? বা সেন্সাসের মত নিজেরাই স্বতঃপ্রণোদিত ঘরে ঘরে গিয়ে দেখবে কার লিগ্যাল লিভ ইনের বা বিয়ের কাগজ আছে? সেটা হলে অবশ্যই গোলমেলে ব্যাপার।
  • . | ২৮ জুন ২০২৬ ১৩:২৬741492
  • কেন? রেজিস্ট্রেশন করতে সমস্যা কেন?
  • হেঁয়ালি | ২৮ জুন ২০২৬ ১৩:৩১741494
  • পুলিশ তখনই একটা জিনিসে ঢুকতে পারে যদি অপরাধ সংঘটিত হয়। এখন দেখা যাচ্ছে অপরাধ না হলেও চলবে, 'সন্দেহ' কাউকে ধরার জন্য যথেষ্ট। মানে প্রিএম্পটিভ মেজার।
     
    গুজরাটে এটা চালু হলে উনিজিও সমস্যায় পড়বেন সেজন্য চালু হয়নি। ওনার লিগ্যালি বিয়ে হয়েছিল না হয়নি? বিয়ে হয়ে থাকলে লিগ্যালি ডিভোর্স হয়েছিল না হয়নি ? ওনার কিছু হলে ওনার 'স্ত্রী' সম্পত্তির ভাগ পাবেন?
  • . | ২৮ জুন ২০২৬ ১৩:৪২741495
  • "পুলিশ তখনই একটা জিনিসে ঢুকতে পারে যদি অপরাধ সংঘটিত হয়। এখন দেখা যাচ্ছে অপরাধ না হলেও চলবে, 'সন্দেহ' কাউকে ধরার জন্য যথেষ্ট। মানে প্রিএম্পটিভ মেজার।"
     
    এটা কি বিলে আছে? পুলিশ ঢুকবে কেন? এত ভয়ের কী আছে?
     
    কিন্তু লিভ ইনের সময়ে খুন মারধোর ডোমস্টিক ভায়োলেন্স হলে তো পুলিশ ঢুকবে। ভারতের পুরুষরা মেয়েদের নিজেদের সম্পত্তি বা ভোগ‍্যবস্তু ভাবে অনেকেই। হয়তো সকলে না। কিন্তু ট্র‍্যাক রেকর্ড বড্ড খারাপ। তারপরে মেয়েটির গর্ভে সন্তান এলে লিভ ইনের পুরুষ সঙ্গীর পালিয়ে যাবার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। লিভ ইনের উভয় পার্টনারের অন‍্য কোথাও বিবাহ হয়ে থাকলে সেই স্ত্রী/ স্বামীর ও অধিকার বর্তায় এই ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদের দিকে যাবার।
    মনে পড়ে কি প্রজ্ঞাদীপা হালদার কীভাবে মারা গেলেন? এরকম অনেক ঘটনাই ঘটে।
  • . | ২৮ জুন ২০২৬ ১৩:৪৭741496
  • শুধু তাই ই নয়, আন্ডারএজ হলে লিভ ইনে সমস‍্যা হয়ে যাবে। তখন সেটা পকসো আইনে পড়বে, যেটা সিভিল কোড নয় — ক্রিমিনাল কোড।
  • hu | ২৮ জুন ২০২৬ ১৯:৪৬741503
  • "ঠিক কী হলে বলা যাবে যে তালিবানি শাসন এ দেশে চলছে ? সব হিন্দু মেয়েদের আধ হাত ঘোমটা দিয়ে চলবে হবে ? কিন্তু সেরকম তো বাস্তবে হবে না, ডিস্টোপিয়া গল্পে হতে পারে। "
     
    হবে না বলে যে কিছু হয় না সেটা ইরান দেখিয়ে দিয়েছে। হিন্দু মেয়েদের আধ হাত ঘোমটা দিয়ে চলা, বা রঞ্জনদার কল্পনামত বিধবা মেয়ে পুনর্বিবাহ করলে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া, বা বিধবাদের পুনর্বিবাহের অধিকারই না থাকা, এমনকি পুড়িয়ে মারা - হিন্দুদের রত্নখচিত ইতিহাসে উদাহরণ তো কম নেই। এসব আর কোনোদিন ফিরবে না এমন কথা জোর দিয়ে বলি কি করে? উদাহরণ তো ঘরের আশেপাশেই আছে। "তালিবান" শব্দটিকে সেইদিনের জন্য তুলে রেখেছি। তার মানে এই নয় যে এখন যা চলছে তাকে অন্যায় মনে করছি না।
     
    তো এই অবস্থায় টলারেন্স ছাড়া আর কোনো প্র‍্যাক্টিকাল সমাধান আমার জানা নেই। ভারতীয় সভ্যতায় প্রচুর ভালো জিনিস আছে। সেগুলো কেন উগ্র ন্যাশনালিস্টদের হাতে চলে যেতে দেবো? আমি অন্তত ব্যাক্তিগতভাবে প্রতিটা ভালো জিনিসকে আগে ক্রেডিট দিয়ে তারপর স্কোপ ফর ইমপ্রুভমেন্টের কথা বলবো। তার বদলে সর্বক্ষণ গালাগালি দিলে বা বেটার দ্যান দাউ এটিচুড নিয়ে চললে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার দিকেই এগোতে হবে। এবং সেই ফাঁকটা ভরাট করবে তারা যারা অর্গানাইজড রিলিজিয়নের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে চায়। আমার জীবদ্দশায় সেইদিন এলে, আর কারোর কথা জানি না, আমায় অন্তত জীবন্মৃত হয়ে থাকতে হবে।
  • r2h | ২৮ জুন ২০২৬ ২০:০২741504
    • | ২৮ জুন ২০২৬ ০৯:৫৮
    • ...
     
    ফিক্শন একরকম বড়জোর কী হবে, লোকে ভাববে ঢপ। ননফিক্শন, সটীক, তথ্যসূত্র কণ্টকিত প্রবন্ধ অন্য জিনিস। আর মর্মপীড়ের কৃপায় গুরুর পাঠকও তো এক্কেবারে নেহাত কম না। সেখানে এমন বড় বড় ছ্যাঁদাওলা প্রবন্ধ ভালোর থেকে মন্দ বেশি করে।

    দেশের লোক তো ছেড়ে দাও, অনেক দূরের ব্যাপার। বিপক্ষ, বাম ঘেঁষা, উদারবাদী - ইত্যাদি দলগুলি তো বিপক্ষ দল, পরিকল্পনা, তাদের ভবিষ্যত ভাবনা - কিছুই বোঝে না। নাহলে শুরু থেকে এসআইআর এনারসি সিএএ-র বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাতো।

    আর তালিবান আরেসেস নাৎসি ফ্যাসিস্ট অ্যান্টি সেমেটিক জায়নিস্ট সব এক হলে অত আলাদা আলাদা নাম দেওয়ারই বা কী মানে। তালিবানদের মুসলমান আরএসএস বললেও হয়। মনোভাব উদ্দেশ্য - সবেতে একই এরা- কেউ সুযোগ পেয়েছে, কেউ পায়নি এখনও, কেউ ফান্ডিং পেয়েছে, কেউ এখনও অপেক্ষায়। কিন্তু সেগুলিকে আলাদা রাখার প্রস্তাব দিলে তাতে দোষ দেওয়া যায় না। এমনকি জামাত আর তালিবানকেও তো লোকে এক করে না।

    তো এই ইউসিস খুবই ভয়ানক জিনিসের প্রস্তুতি, সবচে বড় জিনিস হল ইউসিসি আসলে ইউনিফর্ম না, এর উদ্দেশ্য ইনভেসিভ ও পুলিশ স্টেটের প্রস্তুতি, ব্যক্তি স্বাতন্ত্রের ধারনাকে মূলসহ বিনাশ করে একটা প্রচণ্ড কনফর্মিস্ট প্রজন্ম তৈরি করা, গোবলয়ের মিসোজিনিস্ট রিগ্রেসিভ সংস্কৃতিকে গোটা দেশে চাপানো। এবার সেসবের কাউন্টার করার পথ খুরের মত ধারালৈ হবে।

    আর এসবের কাউন্টার শুধু দেশে না, দেশের বাইরেও। আশেপাশে শাইনিং এনারাইদের দেখি এসবের উদ্বাহু সমর্থনে- নিজেরা পশ্চিমের যাবতীয় সুবিধা ও দখিনা পবনের আশ্রয়ে নিজের দেশে যাবতীয় দমন পীড়নের সমর্থনে যা করেন তা একেবারে ঐ হোয়াইট ম্যান'স বার্ডেনের প্রতিধ্বনি।

    ২০১১ পরবর্তী সিপিএমের মধ্যে দেখেছিলাম বন্ধুদের শত্রু ঠাউরানোর প্রবণতা ও আরও একা হতে থাকা। এই জিনিস ছড়িয়ে পড়ছে আরকি।
  • r2h | ২৮ জুন ২০২৬ ২০:১৬741505
  • হুঁ ডিস্টোপিয়া কিছুই না। এসব হবে। মানে হরিয়ানা টরিয়ানার গাঁ গঞ্জে মেয়েরা ইচ্ছেমত পোষাক পত্র পরতে পারে? তো ঐ এক বিধান এক নিশান - এইসবই লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্যের পথে কোন বাধা বন্ধ চোখে পড়ছে না।
     
    এই তো সেদিন কলকাতায় এক মহিলা ভিক্টোরিয়ায় যুগলকে চমকে ভিডিও ভাইরাল করেছে। নাকি এসব কলকাতার ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে। চিরটাকাল শুনে এলাম লোকে ভিক্টোরিয়ায় প্রেম করতে যায়।
    (প্রসঙ্গত, এ জিনিস নতুন না, পুলিশ, পাড়ার ছেলে ও মাসিমা কাকিমা ইত্যাদিরা হামেশা চিরাচরিত ও অহরহ করে থাকে, শুধু তাই না, জাদুকর পিসি সরকারও ঐ জিনিস করতো। ঢাকুরিয়া লেকে ফগ লাইট ওলা গাড়ি নিয়ে যুগল দেখে তাক করে আচমকা লাইট জালিয়ে দেওয়া। নিজেই লিখেছিল। এবার পিডিএর সীমা ইত্যাদি আলাদা তর্ক, কিন্তু ব্যক্তির পরিসরে জোর খাটিয়ে ঢুকে পড়াটা নর্মালাইজড হয়ে যাওয়া একটা সূচনা)
  • Ranjan Roy | ২৮ জুন ২০২৬ ২০:৩৩741506
  • এই টইতে এটাই আমার শেষ পোস্ট।
     
     
    হুতো বলছেনঃ
    "আইনের আলোচনায় এইসব স্লিপ পুরো জিনিসটার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়"।
     
    --অবশ্যই। কিন্তু স্লিপকে আদালত স্লিপ হিসেবেই দেখে (টাইপিং, ভুল আইনের প্রয়োগ, ভুল যুক্তি ইত্যাদি), যদি কোন পার্টি সেই স্লিপকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করে।
    আদালত অনুমতি দেয়--শুধরে নিয়ে ফের পিটিশন দাখিল কর। হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্ট সর্বত্র।
     
    আবার বলছি, আইনে খালি টু দ্য লেটার নয়, ইন্টেন্ট ও কন্টেন্ট দুটোই দেখা হয়। তাই "ইন্টারপ্রিটেশন অফ ল" বলে আলাদা একটা পেপার পড়ানো হয়। আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যা অন্যতম ব্যাখ্যা মাত্র, একমাত্র নয়।
    কাজেই প্রেক্ষিত এবং ইন্টেট থেকে আলাদা করে শুধু আক্ষরিক ভাবে দেখলে ইউসিসিকে বোঝা যাবে না।
    যেমন, সি এ এ আইনে মুসলিমদের নিয়ে কোন কথা বলা হয় নি। অথচ, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, ক্রিশ্চান সবাইকে নিয়ে বলা আছে। বুঝ লোক যে জান সন্ধান।
    তাই খেয়াল করি না যে শ্রীলংকা থেকে আসা তামিল হিন্দু শরণার্থীদের সংখ্যা কত, কীভাবে আছে।
     
    ২ আমি হু 'কে চাড্ডি বলে দেগে দেয়ার তীব্র প্রতিবাদ করছি। শুধু ওনাকে নয়, সবাইকেও লেবেল লাগিয়ে দেয়ার আমি বিরুদ্ধে। সমালোচনা হোক 'বক্তব্য' নিয়ে, 'ব্যক্তি'কে নিয়ে নয়। ওনার কোন যুক্তি যদি কোন দলের বক্তব্যের সংগে মিলেও যায়, তাতেই বা কি? সবাইকে কি এক সুরে হুক্কা হুয়া করতে হবে?
    --খেয়াল করুন, উনি বক্তব্য রেখেছেন--কাউকে গালিগালাজ করেন নি। নানারকম চিন্তা বা বক্তব্য রাখার স্পেস না থাকলে আলোচনার মানে কী? শুধু দীক্ষিতদের মধ্যে কথা বলা?
    পারলে ওনার বক্তব্যকে তথ্য এবং যুক্তি দিয়ে কাউন্টার হোক, লেবেল লাগিয়ে নয়।
     
    হু আমার মাইন্ডসেট ও ইন্টেনশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমি সাফাই দিচ্ছি না, শুধু বিনীত ভাবে বলছি-- লিখতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় স্বামীর সম্পত্তি পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গেছে। এটা ভুল। এটা ইন্টেশনাল নয় বা আমার ব্যক্তিগত বিলিফ সেটের অনুরূপ নয়।
    আমার কথিত 'রিগ্রেসিভ মাইন্ডসেট; নিয়ে আপনার বক্তব্যটি দাঁড়াত যদি আমি ১৯৫৬ সালের সংস্কারের, আমার কৃত ভুল ব্যাখ্যাকে নৈতিক ভাবে সমর্থন যোগ্য বলতাম।
     
    এনিয়ে আমার আর কিছুই বলার নেই।
     
    ৩ উত্তর ও মধ্য ভারতে আমার অভিজ্ঞতার সবকিছু আমি এখানে লিখতে পারব না। কারণ, চোখে দেখা মাত্র, কোন ডকু নেই।
     
    তাই আমি মাত্র ১১টি উদাহরণ দেব যা পাবলিক ডোমেইনে, ছাপার অক্ষরে আছে, যা ভেরিফায়েবল।
     
    ১ ঝারখন্ডে তবেরজ আন্সারিকে সাইকেল চোর সন্দেহে জনতা গাছের গায়ে বেঁধে পেটাতে থাকে এবং জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়। চারদিন পরে ও হাসপাতালে মারা যায়।
     
    ২ দিল্লির গলিতে গণেশ পুজোয় কলা প্রসাদ খাওয়ার অভিযোগে ২২ বছরের মুহম্মদ ঈশাককে খুঁটিতে বেঁধে সারারাত পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। ওর নোখ ভেঙে দেয়া হয়েছিল, আঙুল কাটা হয়েছিল। চারদিন পরে মারা যায়।
     
    ৩ কানপুরে এক মুসলিম রিকশাওলাকে পেটাতে পেটাতে রাস্তায় ঘোরানো হয়। জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়। বললেও মার থামে না। ওর বাচ্চা মেয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে আর বলে--আর মেরো না বাবাকে। পুলিশ এসে বাঁচায়, তিনজনকে ধরে নিয়ে যায়। ওরা পরের দিন ছাড়া পেয়ে যায়।
    ইন্দোরে পাঁচ-ছজনের দল একজন মুসলিম চুড়িওলাকে ঠেঙিয়ে ওর টাকা, মোবাইল সব কেড়ে নিয়ে বলা হয়--খব্ররদার! হিন্দু পাড়ায় চুড়ি বেচতে ঢুকবে না। ও থানায় যায়। নালিশ করে। পরের দিন পুলিশ চুড়িওলাকেই গ্রেফতার করে। কারণ অভিযুক্তদের একজনের বাচ্চা মেয়ে ওর বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেয়ার নালিশ করেছে।
    কিন্তু ভিডিও তে তোলা সাক্ষ্যে দেখা যায় চুড়িওলাই ঠিক।
     
    ৫ গাজিয়াবাদে একটি মন্দিরে জল খেতে ঢোকায় এক ১৪ বছরের মুসলিম ছেলেকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়।
    ৬ ফয়জল নামের ১৮ বছরের মুসলিম সব্জিওলাকে কারফিউয়ের সময় তরকারি বেচার অপরাধে থানায় নিয়ে পেটান হয়। ছেলেটি মারা যায়।
    ৭ ২০২১ সালের নভেম্বর। উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জের পুলিশ স্টেশনে ২২ বছরের আলতাফ নাকি বাথরুমে কল থেকে জ্যাকেটের ফিতে গলায় বেঁধে ঝুলে পড়ে আত্মহত্যা করে। মুশকিল হচ্ছে কলের উচ্চতা মেরেকেটে আড়াই বা তিন ফুট। ওর নীচে দাঁড়ানো কঠিন।
    ৮ দুবচ্ছর আগে উত্তরাখন্ডে টানেল ধ্বসে পড়ায় ৪১ জন মজদূর ১৭ দিনের মত আটকে পড়ে। আমেরিকান মেশিন, জার্মান কোম্পানি সবাই উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। তখন দিল্লির একটি কোম্পানির ১২ জন লোক দেশি কায়দায় (র‍্যাট হোল পদ্ধতি) ছেনি শাবল হাতুড়ি দিয়ে কদিন উদয়াস্ত কাজ করে ভেতরে ঢুকে ওদের উদ্ধার করে। দলের নেতা হঠাৎ রাষ্ট্রীয় বীর হলেন।
    কিন্তু তিন মাসের মাথায় ওর ছোট একতলা বাড়ি পুলিশ এনে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হল। ও তখন ঘরে ছিল না। ভিডিও দেখাচ্ছে ওর নাবালিক ছেলেমেয়েকে পুলিশ পিটিয়ে ঘরের বাইরে আনছে।
     
    প্রশাসনের বক্তব্যঃ সরকারি জমিতে বে-আইনি ভাবে তৈরি, নোটিসে কর্ণপাত করেনি, তাই ভাঙা হল। বাড়ির মালিক বলছে-- কোন নোটিস দেয়া হয় নি। বে-আইনি নয়, সব কাগজ আছে। এমনকি ইলেক্ট্রিক মিটার বিল সব আমার নামে। আর এই রাস্তায় লাইন দিয়ে সারি সারি বাড়ি। আমারও একই লাইনে। যদি জমি সরকারি হয় তাহলে বেছে বেছে আমার বাড়ি কেন ভাঙা হোল?
     
    ৯ বেশ কয়েকটি কেসে পশু বিক্রেতাদের রসিদ দেখালেও পিটিয়ে মারা হয়েছে।
    ১০ গুজরাতে কয়েকটি গ্রামের প্রবেশ পথে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে-- এ কেবল হিন্দুদের গ্রাম। দিল্লিতেও রাজনৈতিক নেতা সভা করে নির্দেশ দিচ্ছেন, প্রস্তাব পাশ করাচ্ছেন--মুসলিমদের দোকান থেকে জিনিস কেনা হবে না।
    ১১ বিলকিস বানোর গণধর্ষণ, শিশুকে পাথরে আছড়ে মেরে হত্যা, পরিবারের বাকিদের হত্যা করা অপরাধের সিবি আই তদন্ত হয় এবং সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ আদালত এদের আজীবন কারাবাসের সাজা দেয়। স্থানীয় বিধায়কের মতে বিচার ভুল। কারণ -এরা "সংস্কারী ব্রাহ্মণ", এমন কাজ করতেই পারে না।
     
    ১২ দাদরি কাণ্ডের সন্দেহের বশে আখলাক হত্যার কেস চলছে ঢিকিয়ে ঢিকিয়ে। এখন সরকার বলছে--এই কেস চালিয়ে কোন লাভ নেই। আদালত তুলে নিতে অনুমতি দিক। আখলাকের মেয়ে প্রতিবাদ করে।
     
    আদালত সরকারের বক্তব্য খারিজ করেছে।
     
    এখন হু যদি মনে করেন এই ঘটনাগুলো যে একের পর এক ঘটছে তার জন্যে রিপোর্ট করতে থাকা সাংবাদিকেরা বা আমি অথবা আমার মত এগুলো নিয়ে কথা বলা লোকেরা দায়ী-- তাহলে আমার কিছুই বলার নেই।
    খালি সবিনয়ে একটা কথা বলব--কোন কিছু একদিনে ঘটে না। শুরু হয় ছোট ছোট ঘটনা দিয়ে। এনিয়ে অনেক ডকু ও কেস স্টাডি আছে।
     
    এই টইতে আমার আর কিছুই বলার নেই। আমার ভুলের জন্য আবারও ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
  • r2h | ২৯ জুন ২০২৬ ০৭:২৪741516
  • বারবার ভাবছি রূঢ় কথা বলছি, অন্যায় হচ্ছে, মার্জনা চেয়ে ক্ষান্তি দিই। কিন্তু বিরক্তি বাড়ছে।

    সমাজমাধ্যমে লিখিত রেকর্ড থেকে যায়, বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়, আজকের বাজারে এসবের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আইনে কী দেখা হয়, আদালতে কী হয় - সেসব একটা জিনিস, আর ইন্টারেনেটে হোয়া ইউনির বাজারে একটা রচনা থেকে কী হয়, তাতে বামমনস্ক, উদার বা মুক্তমনা রচনার বিচ্যুতিগুলি থেকে কী হয় তা একেবারে আলাদা ব্যাপার।

    আর এইসব তর্কে রঞ্জনদা বারবার বিজেপি কত খারাপ তার ফিরিস্তি দিচ্ছেন। সেটা একটা সময়ের পর উৎকট পেট্রনাইজিং বলে মনে হচ্ছে- বিজেপি কতটা খারাপ তা আমরা অনেকেই জানি এবং সেই কারনেই ঐ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা তর্ক যুক্তির রসদ খোঁজার চেষ্টা করি। তা করতে গিয়ে এইসব পেলে বিরক্তি ও হতাশার উদ্রেক হয়।
    তো জিনিসটা খারাপ- তা নিয়ে তর্ক নেই। খারাপের খারাপত্ব নির্দেশ করতে গিয়ে সেটাকে লঘু করে দেওয়া হচ্চ্ছে- তা নিয়ে সমস্যা। এবং এইসব আজকের বাজারে সুলভ হয়েছে- এটা হতাশাজনক।

    যাগ্গে, আমিও কাটলাম, রঞ্জনদার কাছে মার্জনা চাই। অনেক রূঢ় কথা বললাম, এই পুরো জিনিসপত্র নিয়েই অতিশয় হতাশ, আর কোন আশা আছে বলেও মনে হয় না। আমরা এক সংকীর্ন অন্ধকারের উত্তরাধিকার বহন করছি, হয়তো তাই দিয়ে যাবো পরের প্রজন্মকেও। সুদিন নিকটে নেই।
  • hu | ২৯ জুন ২০২৬ ২২:৪৭741533
  • রঞ্জনদাকে বলছি, বিধবা মেয়ের সম্পত্তির ব্যাপারটায় "." দুবার খোঁচানোর পরে আপনি যে রেফারেন্স দিলেন তার সম্পূর্ণই অন্য মানে হয়। তার আগেও আপনি কিছু তথ্য দিয়েছিলেন যেগুলো ক্রসচেক করতে গিয়ে ভুল বেরোলো। এইক্ষেত্রে স্বভাবতই মনে হতে পারে আপনি আগে একটা হাইপোথিসিস খাড়া করে তার স্বপক্ষে মনগড়া তথ্য সাজাচ্ছেন। আপনি যখন বলছেন পুরোটাই অনিচ্ছাকৃত তখন সেটা মেনে নিলাম।
     
    আপনি উত্তর ও মধ্য ভারতের যে উদাহরণগুলো দিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে বলি, উত্তর ও মধ্য ভারতকে আমি চিনি না। কিন্তু বাঙালীকে একটু একটু চিনি। বাংলায় যে শেষ পর্যন্ত বিজেপি এল তারজন্য বামমনস্কদের অপরিণামদর্শী লেখাজোখা এবং আচরণের একটা বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করি। বিশ্বাসযোগ্যতা একবার হারালে সেটা ফিরে পাওয়া শক্ত। বিশেষ করে অশিক্ষিত লোক ভুল বোঝালে তবু উপেক্ষা করা যায়, কিন্তু শিক্ষিত লোক ভুল বোঝালে সেটা বাঙালীর পক্ষে ক্ষমা করা কঠিন। আপনারা আমার কথা মানতে পারবেন না। কাজেই কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। ভালো থাকবেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন