এই টইতে এটাই আমার শেষ পোস্ট।
হুতো বলছেনঃ
"আইনের আলোচনায় এইসব স্লিপ পুরো জিনিসটার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়"। --অবশ্যই। কিন্তু স্লিপকে আদালত স্লিপ হিসেবেই দেখে (টাইপিং, ভুল আইনের প্রয়োগ, ভুল যুক্তি ইত্যাদি), যদি কোন পার্টি সেই স্লিপকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করে।
আদালত অনুমতি দেয়--শুধরে নিয়ে ফের পিটিশন দাখিল কর। হাইকোর্ট সুপ্রীম কোর্ট সর্বত্র।
আবার বলছি, আইনে খালি টু দ্য লেটার নয়, ইন্টেন্ট ও কন্টেন্ট দুটোই দেখা হয়। তাই "ইন্টারপ্রিটেশন অফ ল" বলে আলাদা একটা পেপার পড়ানো হয়। আইনের আক্ষরিক ব্যাখ্যা অন্যতম ব্যাখ্যা মাত্র, একমাত্র নয়।
কাজেই প্রেক্ষিত এবং ইন্টেট থেকে আলাদা করে শুধু আক্ষরিক ভাবে দেখলে ইউসিসিকে বোঝা যাবে না।
যেমন, সি এ এ আইনে মুসলিমদের নিয়ে কোন কথা বলা হয় নি। অথচ, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, ক্রিশ্চান সবাইকে নিয়ে বলা আছে। বুঝ লোক যে জান সন্ধান।
তাই খেয়াল করি না যে শ্রীলংকা থেকে আসা তামিল হিন্দু শরণার্থীদের সংখ্যা কত, কীভাবে আছে।
২ আমি হু 'কে চাড্ডি বলে দেগে দেয়ার তীব্র প্রতিবাদ করছি। শুধু ওনাকে নয়, সবাইকেও লেবেল লাগিয়ে দেয়ার আমি বিরুদ্ধে। সমালোচনা হোক 'বক্তব্য' নিয়ে, 'ব্যক্তি'কে নিয়ে নয়। ওনার কোন যুক্তি যদি কোন দলের বক্তব্যের সংগে মিলেও যায়, তাতেই বা কি? সবাইকে কি এক সুরে হুক্কা হুয়া করতে হবে?
--খেয়াল করুন, উনি বক্তব্য রেখেছেন--কাউকে গালিগালাজ করেন নি। নানারকম চিন্তা বা বক্তব্য রাখার স্পেস না থাকলে আলোচনার মানে কী? শুধু দীক্ষিতদের মধ্যে কথা বলা?
পারলে ওনার বক্তব্যকে তথ্য এবং যুক্তি দিয়ে কাউন্টার হোক, লেবেল লাগিয়ে নয়।
হু আমার মাইন্ডসেট ও ইন্টেনশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমি সাফাই দিচ্ছি না, শুধু বিনীত ভাবে বলছি-- লিখতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় স্বামীর সম্পত্তি পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গেছে। এটা ভুল। এটা ইন্টেশনাল নয় বা আমার ব্যক্তিগত বিলিফ সেটের অনুরূপ নয়।
আমার কথিত 'রিগ্রেসিভ মাইন্ডসেট; নিয়ে আপনার বক্তব্যটি দাঁড়াত যদি আমি ১৯৫৬ সালের সংস্কারের, আমার কৃত ভুল ব্যাখ্যাকে নৈতিক ভাবে সমর্থন যোগ্য বলতাম।
এনিয়ে আমার আর কিছুই বলার নেই।
৩ উত্তর ও মধ্য ভারতে আমার অভিজ্ঞতার সবকিছু আমি এখানে লিখতে পারব না। কারণ, চোখে দেখা মাত্র, কোন ডকু নেই।
তাই আমি মাত্র ১১টি উদাহরণ দেব যা পাবলিক ডোমেইনে, ছাপার অক্ষরে আছে, যা ভেরিফায়েবল।
১ ঝারখন্ডে তবেরজ আন্সারিকে সাইকেল চোর সন্দেহে জনতা গাছের গায়ে বেঁধে পেটাতে থাকে এবং জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়। চারদিন পরে ও হাসপাতালে মারা যায়।
২ দিল্লির গলিতে গণেশ পুজোয় কলা প্রসাদ খাওয়ার অভিযোগে ২২ বছরের মুহম্মদ ঈশাককে খুঁটিতে বেঁধে সারারাত পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। ওর নোখ ভেঙে দেয়া হয়েছিল, আঙুল কাটা হয়েছিল। চারদিন পরে মারা যায়।
৩ কানপুরে এক মুসলিম রিকশাওলাকে পেটাতে পেটাতে রাস্তায় ঘোরানো হয়। জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করা হয়। বললেও মার থামে না। ওর বাচ্চা মেয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে আর বলে--আর মেরো না বাবাকে। পুলিশ এসে বাঁচায়, তিনজনকে ধরে নিয়ে যায়। ওরা পরের দিন ছাড়া পেয়ে যায়।
৪
ইন্দোরে পাঁচ-ছজনের দল একজন মুসলিম চুড়িওলাকে ঠেঙিয়ে ওর টাকা, মোবাইল সব কেড়ে নিয়ে বলা হয়--খব্ররদার! হিন্দু পাড়ায় চুড়ি বেচতে ঢুকবে না। ও থানায় যায়। নালিশ করে। পরের দিন পুলিশ চুড়িওলাকেই গ্রেফতার করে। কারণ অভিযুক্তদের একজনের বাচ্চা মেয়ে ওর বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেয়ার নালিশ করেছে।
কিন্তু ভিডিও তে তোলা সাক্ষ্যে দেখা যায় চুড়িওলাই ঠিক।
৫ গাজিয়াবাদে একটি মন্দিরে জল খেতে ঢোকায় এক ১৪ বছরের মুসলিম ছেলেকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়।
৬ ফয়জল নামের ১৮ বছরের মুসলিম সব্জিওলাকে কারফিউয়ের সময় তরকারি বেচার অপরাধে থানায় নিয়ে পেটান হয়। ছেলেটি মারা যায়।
৭ ২০২১ সালের নভেম্বর। উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জের পুলিশ স্টেশনে ২২ বছরের আলতাফ নাকি বাথরুমে কল থেকে জ্যাকেটের ফিতে গলায় বেঁধে ঝুলে পড়ে আত্মহত্যা করে। মুশকিল হচ্ছে কলের উচ্চতা মেরেকেটে আড়াই বা তিন ফুট। ওর নীচে দাঁড়ানো কঠিন।
৮ দুবচ্ছর আগে উত্তরাখন্ডে টানেল ধ্বসে পড়ায় ৪১ জন মজদূর ১৭ দিনের মত আটকে পড়ে। আমেরিকান মেশিন, জার্মান কোম্পানি সবাই উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। তখন দিল্লির একটি কোম্পানির ১২ জন লোক দেশি কায়দায় (র্যাট হোল পদ্ধতি) ছেনি শাবল হাতুড়ি দিয়ে কদিন উদয়াস্ত কাজ করে ভেতরে ঢুকে ওদের উদ্ধার করে। দলের নেতা হঠাৎ রাষ্ট্রীয় বীর হলেন।
কিন্তু তিন মাসের মাথায় ওর ছোট একতলা বাড়ি পুলিশ এনে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হল। ও তখন ঘরে ছিল না। ভিডিও দেখাচ্ছে ওর নাবালিক ছেলেমেয়েকে পুলিশ পিটিয়ে ঘরের বাইরে আনছে।
প্রশাসনের বক্তব্যঃ সরকারি জমিতে বে-আইনি ভাবে তৈরি, নোটিসে কর্ণপাত করেনি, তাই ভাঙা হল। বাড়ির মালিক বলছে-- কোন নোটিস দেয়া হয় নি। বে-আইনি নয়, সব কাগজ আছে। এমনকি ইলেক্ট্রিক মিটার বিল সব আমার নামে। আর এই রাস্তায় লাইন দিয়ে সারি সারি বাড়ি। আমারও একই লাইনে। যদি জমি সরকারি হয় তাহলে বেছে বেছে আমার বাড়ি কেন ভাঙা হোল?
৯ বেশ কয়েকটি কেসে পশু বিক্রেতাদের রসিদ দেখালেও পিটিয়ে মারা হয়েছে।
১০ গুজরাতে কয়েকটি গ্রামের প্রবেশ পথে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে-- এ কেবল হিন্দুদের গ্রাম। দিল্লিতেও রাজনৈতিক নেতা সভা করে নির্দেশ দিচ্ছেন, প্রস্তাব পাশ করাচ্ছেন--মুসলিমদের দোকান থেকে জিনিস কেনা হবে না।
১১ বিলকিস বানোর গণধর্ষণ, শিশুকে পাথরে আছড়ে মেরে হত্যা, পরিবারের বাকিদের হত্যা করা অপরাধের সিবি আই তদন্ত হয় এবং সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে বিশেষ আদালত এদের আজীবন কারাবাসের সাজা দেয়। স্থানীয় বিধায়কের মতে বিচার ভুল। কারণ -এরা "সংস্কারী ব্রাহ্মণ", এমন কাজ করতেই পারে না।
১২ দাদরি কাণ্ডের সন্দেহের বশে আখলাক হত্যার কেস চলছে ঢিকিয়ে ঢিকিয়ে। এখন সরকার বলছে--এই কেস চালিয়ে কোন লাভ নেই। আদালত তুলে নিতে অনুমতি দিক। আখলাকের মেয়ে প্রতিবাদ করে।
আদালত সরকারের বক্তব্য খারিজ করেছে।
এখন হু যদি মনে করেন এই ঘটনাগুলো যে একের পর এক ঘটছে তার জন্যে রিপোর্ট করতে থাকা সাংবাদিকেরা বা আমি অথবা আমার মত এগুলো নিয়ে কথা বলা লোকেরা দায়ী-- তাহলে আমার কিছুই বলার নেই।
খালি সবিনয়ে একটা কথা বলব--কোন কিছু একদিনে ঘটে না। শুরু হয় ছোট ছোট ঘটনা দিয়ে। এনিয়ে অনেক ডকু ও কেস স্টাডি আছে।
এই টইতে আমার আর কিছুই বলার নেই। আমার ভুলের জন্য আবারও ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।