এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  বই

  • অমলেন্দু বিশ্বাসের আত্মজীবনী প্রসঙ্গে 

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বই | ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৪৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • লেখ্য মাধ্যমে ভাব প্রকাশে সাবলীল মানুষের পরিণত বয়সে আত্মজীবনী লিখতে ইচ্ছে করে। যদি সে জীবনের চালচিত্র‌ হয় বৃহৎ, বর্ণময়, যদি সে লেখার বিষয়বস্তু নিজস্ব পরিসরের গণ্ডি ছাড়িয়ে সেই সময় ও সমাজের কিছু ছবি‌ তুলে ধরে, তাহলে তেমন আত্মজীবনী আত্মীয় পরিজনের পরিসর ছাড়িয়ে বৃহৎ পরিমণ্ডলে‌ও আদৃত হয়। তেমন আত্মজীবনীর ভবিষ্যতে‌র জন্য একটা রেফারেন্স ভ্যালু‌ও থেকে যায়।
     
    তেমন কিছু আত্মজীবনী পড়ে বেশ লেগেছিল। যেমন তপন রায়চৌধুরী‌র বাঙালনামা, অশোক মিত্র‌র তিন কুড়ি দশ, সলিল চৌধুরীর জীবন উজ্জীবন, তপন সিংহ‌র মনে পড়ে, মৃণাল সেনের তৃতীয় ভূবন, নারায়ণ সান্যালের পঞ্চাশোর্ধ্বে ও ষাট একষট্টি ইত্যাদি।
     
    বড় ক্যানভাসে লেখা অমলেন্দুবাবুর আত্মজীবনী‌তে‌ও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ছাড়া‌ও আরো অনেক উপাদান আছে। যেমন ইরাণের রাজনৈতিক পালাবদলের যুগসন্ধিক্ষণে তাঁর সেখানে অবস্থান, সত্তর থেকে নব্বই দশকে কম্পিউটারের বিবর্তন, লন্ডনে টেগোর সেন্টার সম্পর্কে নানা বিবরণ, কিছু বিশিষ্ট মানুষের কথা ইত্যাদি। এইসব উপাদান লেখাটিকে ব্যক্তিগত জীবনচরিতের বাইরে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
     
    এই আত্মজীবনীর ভূমিকা‌য় (পর্ব-১) লেখক বলেন - নিজের জন্য লেখা, যা বাক্সবন্দী থাকবে, তাতে যা মনে হয় তাই লেখা যায়। পাঠক যখন পুত্র ও উত্তরসূরিরা হতে পারে তখন লেখায় সেই লাগাম-ছাড়া ভাব থাকে না আর। তারপর প্রস্তাব এলো এটাকে ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করার। তার অর্থ আমার সকল কর্মকান্ড উন্মোচিত হয়ে যাবে পৃথিবীর আপামর জনতার কাছে। আমার জীবনের কথা আর ‘রবে না গোপনে’। আমার জীবনের খঁটিনাটি কেউ জানে না। আমার সমগ্র ‘আমি’কে একাধারে কেউ দেখেনি। জীবনের সব ঘটনা, সকল আলো অন্ধকারের দিনগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরা সহজ নয়। এটি কঠিন কর্ম --- প্রচুর সাহসের প্রয়োজন। আমার সে সাহস আছে কি?
     
    পাঠক হিসেবে এ লেখায় আমি লেখকের জীবনের তেমন কোনো ‘অন্ধকার’ নিদর্শন দেখিনি যা উন্মোচন করতে ‘প্রচুর সাহসের’ প্রয়োজন। তাহলে হয় লেখকের জীবনে তেমন কোন অন্ধকার উপাদান নেই অথবা থাকলেও তা এ লেখায় তা আসেনি।
     
    এই আত্মজীবনী‌ শুধু‌ই আলোয় ভরা। জীবনের বহু প্রতিকূলতা তিনি পেরিয়ে এসেছেন নিরলস পরিশ্রম ও নিয়মিত পড়াশোনায়। অভিযাত্রীক মানসিক‌তায় পেশাদার জীবনে বহুবার পেশা বদলানোর ঝুঁকি নিয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে‌ন, কিছু ক্ষেত্রে বিফলতা এসেছে। তবে ভেঙে না পড়ে আবার চরৈবেতি মন্ত্রে এগিয়ে গেছেন। এই উদ্যম ও লেগে থাকার মানসিকতা (Enthusiasm and perseverance) সত্যিই প্রশংসনীয়।
     
    জীবনের ‘অন্ধকার দিনগুলো’ লেখকের কাছে হয়তো বাস্তব সমস্যা‌য় জীবনের কঠিন সময়গুলি। আমার কাছে তা নয় - কারণ তা তো ভাগ্যের মার - তা লিখতে কোনো সাহসের প্রয়োজন হয় না। আমার ধারণায় জীবনের কিছু ‘অন্ধকার’ পর্ব হচ্ছে এমন কিছু ঘটনা যা সাময়িক আবেগ, উত্তেজনা, আবিস্কারের তাড়নায় মানুষ করে ফেলে, কিন্তু পরিণত বয়সে তার জন্য লজ্জা‌বোধ হয়, মুষ্টিমেয় ঘনিষ্ঠ সঙ্গে‌ও তা প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ হয় - ব‌ই হিসেবে প্রকাশ করা তো দূরের কথা।
     
    যেমন কিছুটা করেছেন লন্ডনে ঘরোয়া আড্ডায় শক্তি, শরত, ভাস্কর। মলয় রায়চৌধুরীর আত্মজীবনী‌মূলক লেখায় কিছু অংশ পড়ে থমকাতে হয়। তা যদি অকপট সত্যভাষণ হয় - প্রচুর সাহসের প্রয়োজন। তা যদি হয় সযত্নে নির্মিত ‘অন্ধকার’- পরিবেশনের গিমিক, তাহলে অবশ্য অন্য কথা। সুনীল, শক্তি‌, শরত, দীপক গোষ্ঠী‌র সন্দীপনের কিছু লেখাতে‌‌ও এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা লিখতে সাহসের প্রয়োজন। তেমন কিছু লেখা গল্পের মতো অন্য চরিত্র‌র নাম দিয়ে লিখলেও - বাস্তব প্রোটাগনিস্টকে পরিস্কার বোঝা যায়।
     
    তাহলে জীবনের ‘অন্ধকার’ দিক বলতে কি এমন কিছু পর্ব বা মানসিক অবস্থা যেখানে যৌনতার ভূমিকা‌ই মুখ্য? হতে পারে, কারণ প্রবল উন্মুক্ত‌মনা, দারুণ দুঃসাহসী মানুষের কথা বাদ দিলে, আপামরের কাছে যৌনতার কিছু hues and layers ট্যাবু বলে মনে হয়। তবু কিছু তির্যক প্রতিভাস (manifestation) সত্ত্বেও যৌনতা - তার এক‌ই অঙ্গে বহু রূপ নিয়ে - মানবজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য প্রবৃত্তি।
     
    তাহলে আরো কিছু অন্ধকার দিকগুলি হতে পারে - ইর্ষা - লোভ - শঠতা - সংকীর্ণতা - কৃতঘ্নতা - প্রতিহিংসা ইত্যাদি যা আদর্শ, মহান মানবচরিত্রে অবাঞ্ছিত ও নিন্দিত বলে পরিগণিত হয়।
     
    কিন্তু অমলেন্দু‌বাবুর লেখায় এসবের‌ও কোনো উল্লেখ নেই। বরং উন্মোচিত হয়েছে ঠিক তার উল্টো - মহানুভবতা।‌ তাই সহোদর ভাইয়ের অকল্পনীয় অকৃতজ্ঞতা, অচিন্তনীয় দুর্ব্যবহারে সাময়িক দুঃখ পেলেও তাঁর ভাইয়ের প্রতি ভ্রাতৃত্ব‌বোধ হারিয়ে যায় না।
     
    নানা মনীষী‌র উক্তি‌ লেখা তাঁর স্ত্রীর একটি একান্ত খাতার‌ প্রথম পাতায় লেখা - আমায় মনুষ্যত্ব দাও - আমায় মানুষ করো - শ্রী অরুন্ধতী। স্বামী হিসেবে লেখকের মতে ‘অনু সামগ্রিক অর্থে সত্যই একজন ‘মানুষ’ ছিল। ‘মানুষ’ হওয়ার জন্য এমন আকুলতা, এমন ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টা যে না দেখেছে সে কল্পনা করতে পারবে না। মনুষ্যত্বের এমন পূর্ণ আধার আমি আমার জীবনে খুব কম দেখেছি।’ (পর্ব-৩৩)।‌
     
    এমন স্ত্রীর দীর্ঘ সাহচর্যে অমলেন্দু‌বাবুর জীবনালেখ্য‌ও এক আদর্শ স্বামী, পিতা, ভ্রাতা, বন্ধু, পেশাদার কর্মী, সামাজিক মানুষের প্রতিচ্ছবি। সেখানে কোনো কারণে সাময়িক মনঃক্ষুন্ন‌তা থাকলেও দীর্ঘ‌স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব নেই।
     
    যৌবনে কলকাতার বন্ধুদের মধ্যে প্রেসিডেন্সিতে বাংলা সাহিত্যের ছাত্র হেমন্ত তার বন্ধু‌দের লেখার ক্ষেত্রে মনরাখা প্রতিক্রিয়া জানানোয় বিশ্বাসী নয়। সে ক্ষুরধার সমালোচক। অমলের কবিতা‌র ওপর হেমন্তের নৈর্ব্যক্তিক সমালোচনা শুনে কখনো অমলের চোখে জল আসত। বাড়ি ফিরে প্রতিজ্ঞা করতো আর কোনোদিন কবিতা লিখবে না। তাও দেশ ছাড়ার তিরিশ বছর পর প্রকাশিত হয় লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত অমলের কবিতা‌র ব‌ই “সংবেদন" - কারণ, অমলের মতে‌, কবিতা লেখার রোগ মরলেও যাবে না। সেই ব‌ইয়ের ওপর হেমন্তের ০৫.০২.৯৮তে লেখা চিঠি অমলের আত্মজীবনী‌তে এসেছে। (পর্ব-৯)
     
    বিদেশ, প্রবাস পর্বের কবিতাগুলোর আকর্ষণ অন্য দিক থেকে। তোমার জীবিকা ও জীবনের সংহতি, স্থিতি তোমার লেখার চেহারা পালটে দিয়েছে। “তিরাশির কলকাতা: আবার দেখা”-য় নস্টালজিক আবেগ-কল্পনার চেয়েও যে “আশাবাদ” তোমার উপর ভর করেছে তা কিন্তু যুদ্ধ-বিক্ষত তরুণের স্বপ্ন নয় বরং এস্টাবলিশমেন্ট-এর সুখী গৃহকোণের মিথ্যাচার। …. তোমার এই পর্বের কবিতায় সন্ধানের চেয়ে কখনো আত্মসমাহিত প্রাপ্তির সুখ, কখনো অবিচ্ছেদ নিজের দিকে তাকানোর চিহ্নই বেশি। …. কবিতা যাকে ছুঁতে পারেনি, ভালোবাসা যাকে লজ্জা দিলো, কী সেই অনুচ্চারিত কথা অমল যা তোমার কাছে আজও অধরা! একি কেবল রোমান্টিক অতৃপ্তি না অন্য কিছু? একি সেই বিপন্ন বিস্ময় যা আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে খেলা করে, আজও আমাদের ক্লান্ত করে! কিন্তু তুমি যে সেই হৃদয়ের সন্ধান পেয়ে গেছ সেখানে স্বর্গ এসে বাসা বেঁধেছে! এখানেই তোমার কাব্যে একটু খটকা রয়ে গেছে আমার। এত সব কিছুকে তুমি মেলাচ্ছ কী করে? বৈপরীত্যের ভিতর দিয়ে অগ্রগতির তত্ত্বে সম্ভবত এখনও বিশ্বাস তোমার যায়নি, তাই হৃদয়ের “সংবেদন“কে পুঁজি করে আজো কবিতা চর্চা। শখের কবিদের জীবন এতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তোমার কলমের কালি যেন শুকোয় না।
     
    হেমন্তের এই চিঠিটা ওনার আত্মজীবনী‌তে রেখে অমলেন্দু‌বাবু সাহসী উদারতার নিদর্শন দিয়েছেন।
     
    লেখায় দুটি জায়গা আমার গোল্ডেন মোমেন্ট বলে মনে হয়েছে। এক, যখন ইরানে পরিস্থিতি‌ ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও, সুযোগ পেয়েও অরুন্ধতী তার দুই সন্তান‌কে নিয়ে অমলেন্দু‌কে ছেড়ে কলকাতা যেতে রাজি হয় না। যা থাকে কপালে ভেবে থেকে যান একসাথে ইরানে। (পর্ব-১৬)
     
    দুই, শেয়ার বাজারে বিরাট মার খেয়ে যখন পিতা অমলেন্দু বিমর্ষ হয়ে রয়েছে‌ন, গৌতম এককথায় তার সঞ্চয় থেকে সত্তর হাজার পাউন্ড বাবার এ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেয়। (পর্ব-৩৩)
     
    বুবাই ও গৌতম - দুজনে‌ই পুত্র হিসেবে অনবদ্য - এবং মানুষ হিসেবে‌ও বেশ বিচিত্র - স্টিরিওটাইপের বাইরে চরিত্র - বিশেষ করে বুবাই। এমন সন্তানের জন্য গর্ববোধ করা ছাড়াও পিতামাতা নিজেদের সৌভাগ্যবান‌ও মনে করতে পারেন।
     
    এই আত্মজীবনী‌ একটি মানুষ এবং তার পেশা - পরিবার - বন্ধুবান্ধবের আখ্যান নয়। আগে উল্লেখিত কয়েকটি মনে রাখার মতো আত্মজীবনী‌র মতো - এটি‌ও বহমান সময়ের কিছু অংশের দলিল।
     
    অধ্যাবসায় ও অভিনিবেশ সহকারে ছিয়াশি বছর বয়সে দীর্ঘদিন ধরে এমন বিরাট পরিসরে এই আত্মজীবনী ধারাবাহিকভাবে লেখার জন্য লেখককে জানা‌ই অশেষ অভিনন্দন। যখন এটা প্রকাশিত হচ্ছিল তখন পড়া হয়নি। তাই প্রতি পর্বে মতামত জানাতে পারিনি। হালে কয়েক‌ সপ্তাহ ধরে একটানা পড়ে শেষ করে বুকমার্ক করে রাখলাম - পরে কখনো কোনো রেফারেন্সে‌র জন্য যাতে ফিরে যেতে পারি।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ৩৪৬ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নো  - albert banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • তপতী বিশ্বাস, সিংগাপুর। | 27.*.*.* | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০২740179
  • খুব ভালো লাগলো বিস্তারিত সমালোচনা। ..অনেক কিছুই আমরা উপলব্ধ করেছি কিন্তু ভাষায় প্রকাশ করতে পারিনি উনি সেটা আমাদের সবার হয়ে ব্যক্ত করেছেন!
    অনেক ধন্যবাদ!
    অমলেন্দুদার আরো লেখার অপেক্ষায় রইলাম।
    ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
  • অমলেন্দু বিশ্বাস | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১০740185
  • সমরেশবাবু
    একটি অনুশীলিত, বিচক্ষণ ও সংবেদশীল সমালোচনা পড়লাম। আপনার মত বিদগ্ধ লেখক যে আমার লেখা পড়েন তা দেখে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে। যে সব যশস্বী লেখকের আত্মজীবনীর সঙ্গে আমার 'সেই দিন সেই মন'কে একাসনে বসিয়েছেন তার জন্য আপনাকে অজস্র ধন্যবাদ।

    জীবনের সামগ্রিক অভিজ্ঞতায় আমার পরিচিত পৃথিবীকে, আমার সংস্পর্শে-আসা মানুষদের, আমার সম্পৃক্ত সমাজকে যে ভাবে দেখেছি সেই চিত্র আপনার মত পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি জেনে আমি আমার উদ্যোগকে সার্থক মনে করছি। আমি তৃপ্ত।

    আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে আমি অতি উৎসুক। আমি গুরুচণ্ডালীর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি আপনার টেলিফোন ও ইমেলের জন্য। আশাকরি আপনার সম্মতি থাকবে।
    শুভেচ্ছা জানবেন।
    ভবদীয়
    অমলেন্দু বিশ্বাস।
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪৭740189
  • অমলেন্দু‌বাবু
     
    আমার সঙ্গীত ভালো লাগে, কিন্তু প্রথাগত শিক্ষা নেই। তবে শুনেছি সঙ্গীতশিক্ষার (বিশেষত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত) প্রথম ধাপ - অন্য গুণী গায়কের সঙ্গীত শোনা, প্রচুর শুনে ‘সঙ্গীতের কান’ তৈরী করা। তেমনি ‘বিদগ্ধ লেখক’ হতে গেলেও প্রচুর পড়তে হয়। আর শুধু পড়লেই তো হোলো না তা অনুধাবন ও উপলব্ধি করে ধারণ‌ও তো করতে হয় (assimilate, imbibe, retention). আপনি যেমন টেমসের তীরে হাঁটতে হাঁটতে এক সন্ধ্যায় তপতীর কোনো কথায় শেষের কবিতার একটি কবিতা পুরোটা বলে যান - তা তো কেবল পরীক্ষার পড়া মুখস্থ করার মতো সম্ভব নয়। ভেতরে বসে না থাকলে এভাবে হঠাৎ বাইরে প্রকাশ পায় না। তাছাড়া আমার পড়ার গতি‌ও খুব ধীর, তাই পড়াশোনা‌ও পরিধি‌ও খুব সীমিত। আমি আমার সীমাবদ্ধতা জানি। তা নিয়ে বিশেষ আক্ষেপ‌ও কারণ একটি সত্য আমি আত্তীকরণ করে নিয়েছি - সব কিছু সবার জন্য নয়।
     
    একটি সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতার বলেছিলেন, তাঁর কাছে যখন হবু শ্যায়র এসে জানতে চান কীভাবে শ্যের শ্যায়রীতে হাত পাকাতে হবে, তাদের তিনি বলেন, প্রচুর শ্যের পড়তে হবে। যখন বিভিন্ন শ্যায়রের কয়েক হাজার (উনি ব্যাপার‌টা accentuate করতেই হয়তো ‘পঞ্চাশ হাজার’ বলেছিলেন) শ্যের ঠোটস্থ করে‌ও মনে হবে কোনো কিছু নিয়ে অন্য বহুজনের বহু ভাবে লেখা শ্যের থেকেও নিজের ভাব একটু অন্যভাবে প্রকাশ করতে পারছো - তখন ভাবতে পারো যে এই কলায় তুমি কিছুটা পারদর্শী হয়েছো।
     
    আমার সম্পর্কে আপনার মন্তব্যে “বিদগ্ধ লেখক" শব্দবন্ধ‌টি স্বীকার করতে তাই সবিনয়ে আমার অপারগতা জানালাম।‌ অনুগ্ৰহ করে কিছু মনে করবেন না। নিজে যাই লিখি বা অন্যের লেখার অপর পাঠানুভব জানানোর সময় - নিজের কাছে সর্বদা সৎ থাকতে চেয়েছি। কপট প্রশংসা অথবা উদ্দেশ্য‌প্রণোদিত নিন্দা - দুটিই লেখকের জন্য অবাঞ্ছিত। ক্ষতিকারক‌ও বটে।
     
    ভালো থাকবেন।
  • শঙ্কর প্রসাদ রায় | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৪740191
  • শ্রদ্ধেয় সমরেশবাবুর সংবেদনশীল গভীর আলোচনায় খুবই সমৃদ্ধ হলাম। প্রথমবার কৌতুহল বসত যে লেখাটা rapid reading করেছিলাম দ্বিতীয়বার পড়ার সময় আরও গভীরে ডুব দিতে পারবো।
    সমরেশবাবুকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা।
  • অমলেন্দু বিশ্বাস | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৪৩740197
  • সমরেশবাবু, অনুগ্রহ করে '"কপট প্রশংসা'" বলবেন না। আমি জীবনে কখনো কথায় বা কাজে 'কপটতা' করিনি।
    অভিধানে
    " বিদগ্ধ কথার অর্থ হলো পণ্ডিত, বিদ্বান, রসজ্ঞ, নিপুণ বা সংস্কৃতিবান ব্যক্তি [২, ৪]। এই শব্দটি সাধারণত এমন কাউকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় যিনি কোনো বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান রাখেন, বুদ্ধিমান এবং শিল্প বা সাহিত্যের রস আস্বাদনে দক্ষ [১, ৪]। এর সমার্থক শব্দ হলো বৈদগ্ধ্য, পণ্ডিতমহল, রসিক বা দক্ষ [২, ৪]। "
     
    গুরুতে আপনার কিছু লেখা আমি পড়েছি। আপনার রচনাশৈলী, পরিবেশন ও রসজান আমার ভাল লাগে। আপনি রসজ্ঞ, নিপুণ ও সাহিত্যের সমঝদার। আমার অভিধানে এমন মানুষ 'বিদগ্ধ'। আমি তাই 'বিদগ্ধ' শব্দটা ব্যবহার করেছি। বিরূপভাবে নেবেন না।
     
    আমার লেখা যাদের ভাল লাগে তারা সকলে আমার পরম প্রিয়। আমি তাদের সকলকে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। সব মরদেহের মানবাকৃতি প্রাণীর মত, সব স্রস্টা ও শিল্পীর মত ভাল কথা শুনলে আমারও ভাল লাগে। আপনার সুচিন্তিত, আন্তরিক, বিশ্লেষণে-ভরা ( ক্রিটিকাল এনালিসিস ) আলোচনা আমাকে নাড়া দিয়েছে। । আমার প্রতিবেদন ঊর্ধশ্বাস উচ্ছ্বাস নয়, স্বতঃস্ফুর্ত অভিব্যক্তি। কৃতজ্ঞতার অন্য নাম।
     
    শুভেচ্ছা নেবেন। কথা হবে।
     
    অমলেন্দু বিশ্বাস।
  • সমরেশ মুখার্জী | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১২740204
  • এ মা, ছি ছি, কী বলতে চাইলাম আর কী হয়ে গেল। বলতে চেয়েছি - অন্যের লেখার অপর পাঠানুভব জানানোর সময় - নিজের কাছে সর্বদা সৎ থাকতে চেয়েছি। কখনো কপট প্রশংসা অথবা উদ্দেশ্য‌প্রণোদিত নিন্দা - করিনি।
     
    আপনি আমার কপট প্রশংসা করেছেন - একথা মোটেও বলিনি। ভাবিওনি।
     
    বলতে চেয়েছি কখনো কেউ পরিচিতি‌র সুবাদে কপট প্রশংসা করে, কখনো ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ থেকে অযথা কটূ সমালোচনা করে। এটা কিছু ক্ষেত্রে উপলব্ধি করা যায়। করেওছি।
     
    আমাদের ক্ষেত্রে এটা মোটেও প্রযোজ্য নয় কারণ আমরা পরস্পরকে চিনি‌ই না তাই কপট প্রশংসা করার দায় অথবা অযথা নিন্দা করার‌ কোনো কারণ‌ই নেই।
     
    আপনার লেখার ওপর আমার অভিমত এক অপরিচিত পাঠকের নৈর্ব্যক্তিক অভিব্যক্তি। তা পড়ে আপনার‌ও যা মনে হয়েছে, আন্তরিক‌ভাবে‌ই তাই লিখেছেন - তা কপট কেন হবে?
     
    আমি শুধু নিজের সীমাবদ্ধতা জানি বলে ঐ একটি শব্দ - "বিদগ্ধ লেখক" দেখে অস্বস্তি বোধ করেছি। এটা আমার অযথা বিনয় নয়। Dispassionate self evaluation.
     
    আপনি বয়স, জীবন অভিজ্ঞতা‌য় আমার গুরুজন। অজান্তে মনোভাব প্রকাশে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে গেছে।
     
    আমি মার্জনা প্রার্থী
     
    ভালো থাকবেন।
     
     
     
  • অমলেন্দু বিশ্বাস | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৪৮740205
  • সমরেশবাবু
    ভুল বোঝাবুঝির পালা সারা। ভুল গুলো ভুলে যাওয়াই ভাল। এবার শান্তি।
     
    জানলাম আপনি গান ভালবাসেন। আমিও। আরো একটা যোগসূত্র পাওয়া গেল। আমার স্ত্রী গান গাইতেন। আমাদের বাড়িতে গান বাজনার চর্চা ছিল ও আছে। আমি নিজে গান লিখি। আমার কিছু গান ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। অরুন্ধতীরও। আপনাকে দুএকটা পাঠাচ্ছি। শুনলে খুশি হব। এবং মন্তব্য করলে উপকৃত হব। যদি মনে করেন আপনার ব্যক্তিগত সময়ে অনধিকার প্রবেশ করছি তা হলে অগ্রয্য করবেন। অতি উৎসাহের জন্য মার্জনা করবেন।
    আশা করি গুরুতে আমার ভবিষ্যৎ কর্মে আপনার সঙ্গ পাব। যোগাযোগ রাখবেন।
    অমলেন্দু বিশ্বাস
  • অমলেন্দু বিশ্বাস | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫১740240
  • সমরেশ,

    আশ্বাস পেয়ে ‘তুমি’ বলেই শুরু করছি। তোমার আন্তরিক মেসেজ পেয়ে খুব ভাল লাগল।

    আমার সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক জীবনে তুমি তৃতীয় সমরেশ। পূর্বতন দুজন ‘বসু’ ও ‘মজুমদার’ ; যাঁদের সাহচার্য অতীতে আমাকে প্রভূত আনন্দ ও সুখ দিয়েছিল। আশা করি সদ্য পরিচিত সমরেশ মুখার্জী তার ব্যতিক্রম হবে না। আমাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘস্থায়ী, সুস্থ ও সুখপ্রদ হোক --- এই কামনা করি।

    হীরেনকে আমি বহু দশক ধরে জানি। মূলতঃ হীরেনের জন্যই আমি গুরুতে লিখতে শুরু করি এবং সেই সূত্রে রঞ্জন রায়, শিবাংশু ও তোমার সংস্পর্শে আসা এবং অচিরে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গোড়ে উঠা। এটাই আমার শেষ জীবনের পরম পাওয়া। হীরেনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তোমাদের সকলকে ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানাই।

    রঞ্জন রায় এক কথায় ‘সেই দিন সেই মন’এর একটি অসাধারণ মুখবন্ধ লিখে আমাকে চিরঋণী করেছেন। আর তুমি অযাচিত ও স্বতস্ফুর্তঃ ভাবে অন্য এক দৃষ্টিকোন থেকে বিশ্লেষণ করে আমার আত্মজীবনীর মূল্যায়ন করেছ। তারজন্য আমি কৃতজ্ঞ। তোমাকে অজস্র ধন্যবাদ।

    একটা বিষয়ে ঔৎসুক্য আছে। তোমার বন্ধুবান্ধব ও জানাশোনা মহলে কেউ কি ‘সেই দিন সেই মন’ পড়েছেন ? আর পড়ে থাকলে তাঁদের মতামত কি ?

    ভালো থাকো এবং সঙ্গে থেকো।

    অমলেন্দুদা


     
  • নীলান্জনা কবিরাজ, নিউ ইয়র্ক, ১২ মে | 2a09:*:*:*:*:*:*:* | ১৩ মে ২০২৬ ০৪:১৩740627
  • অমলেন্দু বিশ্বাসের লেখা "সেই দিন সেই মন" পড়ে খুব ভালো লেগেছিল। আজ সেই বইয়ের এক সুন্দর বিদগ্ধ সমালোচনা পড়েও খুব আনন্স পেলাম। সব থেকে ভাল লেগেছে দেখে যে সমালোচক লেখকের ভিতরের মানুষটাকে খুঁজে দেখতে চেয়েছেন। তাতে মন্তব‍্য করেছেন "এই আত্ম জীবনী কেবলই আলোয় ভরা। " এই বক্তব‍্য যে কতটা সত‍্য তা অমলেন্দু বিশ্বাস ও তাঁর বিগত সহধর্মিনী অরুন্ধতী বিশ্বাসকে না চিনলে বোঝা যাবে না। আলো অন্ধকারের ভাগ সবার জীবনেই মেনে নিতে হয়। কিন্তু ওঁরা জীবনের অন্ধকার দিককে কখনও আলোকে ম্লান হতে দেন নি। সেটা ওঁদের চারিত্রিক গুণেই সম্ভব হয়েছিল। বাংলা সংস্কৃতির নান্দনিক দিক কে আঁকড়ে ওদের সারা জীবন কেটেছে। সংগীত ও সাহিত‍্য চর্চা ছিল ওঁদের জীবনের নিত‍্যকর্ম প্রায়। এবং সেই সব আসরের মাধ‍্যমে লণ্ডনের তৎকালীন বাংলী সমাজের অনেকেই অনেক আনন্দ পেয়েছেন। আমিও তার ভাগীদার ছিলাম। এমন লোকের আত্মজীবনী পড়া শুধু এই কারণেই আকর্ষণীয় হতে পারে। এই বই প্রকাশের জন‍্য গুরুচণ্ডালীকে আমার অসংখ‍্য ধন‍্যবাদ।
  • অমলেন্দু বিশ্বাস | ১৩ মে ২০২৬ ১৬:৫০740637
  • অজস্র ধন্যবাদ, নীলাঞ্জনা। সমরেশ মুখার্জীর বিদগ্ধ সমালোচনা ও নীলাঞ্জনার মন্তব্য পড়ে মনে হচ্ছে আমার 'সেই দিন সেই মন' লেখা সার্থক হয়েছে। এটাই আমার সব চেয়ে বড় পুরস্কার।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন